JLL এর সাম্প্রতিক এক বিস্তৃত প্রতিবেদনে গুৱাহাটীকে উত্তর–পূর্ব ভারতের উদীয়মান Commercial Powerhouse হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ভারতের আট রাজ্যের দরজা হিসেবে পরিচিত এই শহর কয়েক বছরে অবকাঠামো, বাণিজ্যিক রিয়েল এস্টেট, লজিস্টিক্স, শিক্ষা, কর্মসংস্থান এবং সরকারি নীতির সমন্বয়ে এক উল্লেখযোগ্য অর্থনৈতিক কেন্দ্র হিসেবে উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গুৱাহাটী আর শুধু অসমের রাজধানী শহর নয় এটি এখন উত্তর পূর্ব অঞ্চলের প্রধান ব্যবসায়িক কেন্দ্র এবং ভবিষ্যৎ বিনিয়োগকারীদের কাছে অন্যতম আকর্ষণীয় বাজার।
উত্তর–পূর্ব ভারতের প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত গুয়াহাটি এখন দেশের অন্যতম দ্রুতবর্ধনশীল বাণিজ্যিক শহর হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করছে। সাম্প্রতিক একটি বিস্তৃত প্রতিবেদন—যা রিয়েল এস্টেট ও বিনিয়োগ পরামর্শদাতা সংস্থা JLL প্রকাশ করেছে—তাতে গুয়াহাটিকে "Northeast India’s Commercial Powerhouse" হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে শহরের দ্রুত নগরায়ণ, অবকাঠামোর ব্যাপক উন্নয়ন, বাড়তে থাকা কর্মসংস্থান, আন্তর্জাতিক সংযোগ, ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ এবং রিয়েল এস্টেট বিনিয়োগ বৃদ্ধির বিশদ বিশ্লেষণ প্রকাশ পেয়েছে। এই সমগ্র রিপোর্ট আলোচনায় এনে আমরা উপস্থাপন করছি ৪০০০ শব্দের সম্পূর্ণ বাংলা নিউজ প্রতিবেদন, যা পাঠকদের সামনে তুলে ধরবে—কীভাবে গুয়াহাটি মাত্র কয়েক বছরে উত্তর–পূর্ব ভারতের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক কেন্দ্র হয়ে উঠল।
রিপোর্ট অনুযায়ী, শহরের অফিস রিয়েল এস্টেট দ্রুত বিস্তার লাভ করছে। বর্তমানে যেখানে প্রায় ২০ লক্ষ বর্গফুট অফিস স্পেস রয়েছে, ২০২৭ সালের মধ্যে তা বেড়ে ৩৬ লক্ষ বর্গফুট–এ পৌঁছাবে। IT/ITES, ব্যাংকিং, ফাইন্যান্স, স্টার্টআপ এবং রিটেইল সেক্টরের প্রবল চাহিদা এই বৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করছে। একইসঙ্গে ৯৩ কিলোমিটারের রিং রোড প্রকল্প, ব্রহ্মপুত্রের উপর ৬–লেনের নতুন সেতু এবং গুৱাহাটী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সম্প্রসারণ—এসবই শহরটিকে আঞ্চলিক লজিস্টিক হাবে রূপান্তরিত করছে।
শিক্ষাক্ষেত্রে IIT Guwahati, Gauhati University, Cotton University–এর মতো প্রতিষ্ঠানের উপস্থিতি শহরের মানবসম্পদকে আরও শক্তিশালী করেছে। ফলে বহু নতুন কর্পোরেট কোম্পানি ও স্টার্টআপ গুৱাহাটীকে তাদের অফিস স্থাপনের জন্য বেছে নিচ্ছে। কর্মসংস্থান, প্রযুক্তি উদ্ভাবন এবং বাণিজ্যিক উন্নয়নে এই প্রবণতা আগামী বছরগুলিতে আরও তীব্র হবে বলে ধারণা করছে বিশেষজ্ঞমহল।
রিটেইল, গুদামজাতকরণ এবং ই-কমার্সের বিস্তারও গুৱাহাটীর বাণিজ্য প্রবৃদ্ধিকে গতিশীল করছে। Amazon, Flipkart, BigBasket-সহ একাধিক লজিস্টিক প্রতিষ্ঠান তাদের নর্থ-ইস্ট অপারেশন গুৱাহাটী থেকেই পরিচালনা করছে। Ease of Doing Business–এ উন্নতি, স্বচ্ছ নীতি, দ্রুত অনুমোদন, এবং শিল্প-বান্ধব পরিবেশও বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধি করছে।
সব মিলিয়ে, JLL–এর প্রতিবেদনে গুৱাহাটীকে শুধু একটি শহর নয়, বরং উত্তর–পূর্ব ভারতের উন্নয়নযাত্রার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। অবকাঠামো উন্নয়ন, কর্পোরেট সম্প্রসারণ এবং ব্যবসায়িক পরিবেশ বিবেচনায় গুৱাহাটী আগামী দশকে একটি শক্তিশালী বাণিজ্যিক রাজধানীতে পরিণত হবে—এমনটাই মনে করছে বিশেষজ্ঞরা।
JLL–এর সাম্প্রতিক এক বিস্তৃত প্রতিবেদনে গুৱাহাটীকে উত্তর–পূর্ব ভারতের উদীয়মান Commercial Powerhouse হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ভারতের আট রাজ্যের দরজা হিসেবে পরিচিত এই শহর কয়েক বছরে অবকাঠামো, বাণিজ্যিক রিয়েল এস্টেট, লজিস্টিক্স, শিক্ষা, কর্মসংস্থান এবং সরকারি নীতির সমন্বয়ে এক উল্লেখযোগ্য অর্থনৈতিক কেন্দ্র হিসেবে উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গুৱাহাটী আর শুধু অসমের রাজধানী শহর নয়—এটি এখন উত্তর–পূর্ব অঞ্চলের প্রধান ব্যবসায়িক কেন্দ্র এবং ভবিষ্যৎ বিনিয়োগকারীদের কাছে অন্যতম আকর্ষণীয় বাজার।
গুয়াহাটিকে বহুদিন ধরেই বলা হয় “Gateway to the Northeast”। ভারতের আটটি উত্তর–পূর্ব রাজ্য—অসম, ত্রিপুরা, মিজোরাম, মণিপুর, মেঘালয়, নাগাল্যান্ড, অরুণাচল প্রদেশ ও সিকিমের জন্য গুয়াহাটি হল সংযোগের মূল কেন্দ্র। রাস্তাঘাট, রেল, বিমান, লজিস্টিক পরিষেবা—সবকিছুতেই শহরটির রয়েছে বিশেষ সুবিধা। এই ভৌগোলিক অবস্থানই এটিকে একটি আঞ্চলিক হাব হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছে।
JLL–এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাজ্যগুলির সাথে সংযোগ, কম খরচে ব্যবসা করার পরিবেশ, এবং দ্রুত পরিবর্তনশীল অবকাঠামো গুয়াহাটিকে ভারতের উদীয়মান Tier-2 শহরগুলোর প্রথম সারিতে নিয়ে এসেছে।
JLL–এর সর্বশেষ প্রতিবেদনে গoweitিতে উত্তর–পূর্ব ভারতের উদীয়মান বাণিজ্যিক শক্তিকেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। দ্রুত অবকাঠামো উন্নয়ন, ৯৩ কিমি রিং রোড প্রকল্প, ব্রহ্মপুত্রের উপর ৬–লেন সেতু এবং গুৱাহাটী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সম্প্রসারণ শহরটিকে আঞ্চলিক লজিস্টিক ও ব্যবসায়িক হাবে পরিণত করছে। ২০২৭ সালের মধ্যে অফিস স্পেস ২০ লক্ষ থেকে ৩৬ লক্ষ বর্গফুটে পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে, যা IT/ITES, ব্যাংকিং, রিটেল, স্টার্টআপ ও পরিষেবা খাতে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে। IIT Guwahati, Gauhati University–সহ শক্তিশালী শিক্ষাব্যবস্থা দক্ষ মানবসম্পদের জোগান বাড়িয়েছে। Ease of Doing Business–এ উন্নতি এবং বিনিয়োগ-বান্ধব নীতি গ নিয়োগকারীদের আস্থা বাড়াচ্ছে। প্রতিবেদনটি বলছে—গুৱাহাটীর বর্তমান গতি ও সম্ভাবনা শহরটিকে শীঘ্রই উত্তর–পূর্ব ভারতের বাণিজ্য ও উন্নয়নের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করবে।
গুয়াহাটিতে ৯৩ কিমির রিং রোড প্রকল্প ইতিমধ্যেই শহর উন্নয়নের গতি বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। এই রিং রোড সম্পূর্ণ হলে:
শহরের যানজট উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে
লজিস্টিকস ও পরিবহনে সুবিধা বাড়বে
শহরের বাইরের এলাকাগুলিতে দ্রুত রিয়েল এস্টেট উন্নয়ন ঘটবে
বাণিজ্য ও শিল্প বিনিয়োগের প্রসার ঘটবে
বিশেষজ্ঞদের মতে, রিং রোডের প্রভাব বেঙ্গালুরুর NICE Road বা দিল্লির কুন্ডলি–মানেসর–পালওয়াল এক্সপ্রেসওয়ের মতো হবে।
ব্রহ্মপুত্র নদীর উপর তৈরি হতে চলা ৬–লেনের মহাসেতুটি শহরের উত্তর–দক্ষিণ সংযোগকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে। এই সেতুর মাধ্যমে:
শিল্পাঞ্চলগুলির প্রবেশাধিকার উন্নত হবে
জমির মূল্য বাড়বে
নতুন শহরতলি গড়ে উঠবে
বাণিজ্যিক পরিবহন সময় কমে যাবে
Lokpriya Gopinath Bordoloi International Airport–এর পুনর্বিন্যাস ও সম্প্রসারণ চলছে দ্রুতগতিতে। লক্ষ্য:
যাত্রী ধারণক্ষমতা ১ কোটি অতিক্রম
অত্যাধুনিক টার্মিনাল
বড় বিমানের অবতরণ সক্ষমতা
আন্তর্জাতিক কার্গো হাব হিসেবে উন্নয়ন
এই উন্নয়ন শুধু পর্যটনকে নয়, আন্তর্জাতিক ব্যবসাকেও বাড়াবে।
JLL রিপোর্ট জানাচ্ছে যে গুয়াহাটির অফিস রিয়েল এস্টেট বাজার ২০২৪ সালের ২০ লাখ বর্গফুট স্টক থেকে বাড়িয়ে ২০২৭ সালের মধ্যে ৩৬ লাখ বর্গফুট হবে।
এটি প্রমাণ করে:
কর্পোরেট কোম্পানিগুলির উপস্থিতি বাড়ছে
BPO, IT/ITES, স্টার্টআপের সংখ্যা বাড়ছে
ব্যাংকিং, ফাইন্যান্স, রিটেইল ও রিয়েল এস্টেট খাতে নতুন বিনিয়োগ আসছে
নগরীর Beltola, Khanapara, Basistha, Maligaon এলাকাগুলো এখন বাণিজ্যিক হাবে পরিণত হচ্ছে।
গুয়াহাটিতে রয়েছে:
IIT Guwahati
Gauhati University
Assam Engineering College
Cotton University
Don Bosco University
এইসব প্রতিষ্ঠানে তৈরি হচ্ছে দক্ষ মানবসম্পদ, যা IT, গবেষণা, প্রযুক্তি ও পরিষেবা খাতে ব্যবসায়িক বিনিয়োগ আকর্ষণ করছে।
নগরীর অর্থনৈতিক উন্নয়ন রিটেইল সেক্টরে বিপুল বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি করেছে।
নতুন মল
ফুড কোর্ট
ব্র্যান্ড শোরুম
এন্টারটেইনমেন্ট সেন্টার
এসবের চাহিদা বাড়ছে।
গুয়াহাটি পূর্ব ভারতের অন্যতম দ্রুতবর্ধনশীল লজিস্টিক হাব হয়ে উঠছে কারণ:
ব্রহ্মপুত্রের জলপথ
রেল যোগাযোগ
স্থলপথে আট রাজ্যের সংযোগ
Amazon, Flipkart থেকে শুরু করে বহু লজিস্টিক কোম্পানি এখানে গুদাম তৈরি করেছে।
অসম সরকার “Ease of Doing Business” সূচকে উন্নতি করেছে।
দ্রুত লাইসেন্স অনুমোদন
জমি বরাদ্দ
রিয়েল এস্টেট স্বচ্ছতা
শিল্প নীতি
এসবই বিনিয়োগকারীদের জন্য ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি করেছে।
গুয়াহাটিতে এখন ৫০০+ স্টার্টআপ সক্রিয়।
মূল ক্ষেত্র:
এগ্রিটেক
ফিনটেক
ট্যুরিজম
হ্যান্ডলুম
হেলথটেক
ই–কমার্স
Startup Assam–এর নীতি বহু তরুণ উদ্যোক্তাকে উৎসাহ দিচ্ছে।
Office space বৃদ্ধি, মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানির আগমন, স্টার্টআপের বিস্তার—সব মিলিয়ে কর্মসংস্থান দ্রুত বাড়ছে।
IT jobs
Finance jobs
Retail management
Hospitality
Logistics
আগামী তিন বছরে ১ লক্ষেরও বেশি নতুন কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা রয়েছে।
কর্মসংস্থান বৃদ্ধির ফলে আবাসিক বাড়ির চাহিদা বেড়েছে।
বেলতলা, হেঙ্গরাবাড়ি, জয়ানগর, বামুনিমৈদাম—যেখানে নতুন ফ্ল্যাট, সোসাইটি প্রকল্প, ভিলা দ্রুত তৈরি হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে:
অবকাঠামো দ্রুত গড়ে উঠছে
কর্পোরেট উপস্থিতি বাড়ছে
কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পাচ্ছে
শিক্ষিত শ্রমশক্তি পাওয়া যাচ্ছে
সরকারের সহযোগিতা রয়েছে
ফলে গুয়াহতিকে ভবিষ্যতে “Eastern India’s Technology & Commercial Hub” হিসেবে গড়ে তোলার সম্ভাবনা প্রবল।
সব দিক বিবেচনায় গুয়াহাটি শুধু উত্তর–পূর্ব ভারতের বাণিজ্য কেন্দ্র নয়, বরং ভারতের দ্রুত বিকাশমান শহরগুলোর মধ্যে একটি। অবকাঠামো উন্নয়ন, লজিস্টিক্স সুবিধা, শিক্ষাগত শক্তি, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি ও ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ—এইসব মিলিয়ে শহরটি আগামী দশকে ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক ও প্রযুক্তিগত শক্তিকেন্দ্রে পরিণত হতে পারে।