Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

২০২৫ সালে গাড়ি বিক্রিতে ইতিহাস গড়ল মারুতি সুজুকি, ডিসেম্বরে ১.৭৯ লক্ষ ইউনিট বিক্রি

ভারতীয় অটোমোবাইল শিল্পের জন্য ২০২৫ সাল ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও স্মরণীয়। এই বছর যাত্রীবাহী গাড়ির বাজারে যে স্থিতিশীলতা ও বৃদ্ধির ধারা দেখা গেছে, তার অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হয়ে উঠেছে Maruti Suzuki India Limited। ডিসেম্বার ২০২৫ মাসে সংস্থার গাড়ি বিক্রি পৌঁছেছে প্রায় ১.৭৯ লক্ষ ইউনিটে, আর গোটা ক্যালেন্ডার বছরে মোট বিক্রির সংখ্যা ছুঁয়েছে প্রায় ১৯.৫৫ লক্ষ ইউনিট। এই পরিসংখ্যান শুধু একটি কোম্পানির সাফল্য নয়, বরং ভারতের ক্রমবর্ধমান ভোক্তা আস্থা ও অর্থনৈতিক গতিশীলতার স্পষ্ট প্রতিফলন।

২০২৫ সালে ঐতিহাসিক সাফল্য: মারুতি সুজুকির বিক্রয়ে নতুন মাইলফলক

ডিসেম্বার মাসে দেড় লক্ষের বেশি গাড়ি বিক্রি, গোটা বছরে প্রায় ২০ লক্ষ ইউনিট — ভারতীয় অটোমোবাইল শিল্পে নতুন অধ্যায়

ভারতীয় অটোমোবাইল শিল্পের ইতিহাসে ২০২৫ সাল চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। এই বছর দেশীয় যাত্রীবাহী গাড়ির বাজারে যে অভূতপূর্ব উত্থান দেখা গেছে, তার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে Maruti Suzuki India Limited। ডিসেম্বার ২০২৫ মাসে সংস্থার বিক্রি পৌঁছেছে প্রায় ১.৭৯ লক্ষ ইউনিটে, আর গোটা ক্যালেন্ডার বছরে মোট বিক্রি ছুঁয়েছে প্রায় ১৯.৫৫ লক্ষ গাড়ি। এই পরিসংখ্যান শুধু একটি কোম্পানির সাফল্য নয়, বরং ভারতের উৎপাদন ক্ষমতা, ভোক্তা আস্থা ও বাজারের স্থিতিশীলতার প্রতিফলন।
 

ডিসেম্বার মাস বরাবরই গাড়ি বিক্রির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এই সময় উৎসবের মরশুম, বছরের শেষের ছাড় এবং নতুন বছরের আগে কেনাকাটার প্রবণতা একসঙ্গে কাজ করে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে সেই প্রবণতা আরও জোরালোভাবে দেখা যায়। ছোট ও কমপ্যাক্ট গাড়ির পাশাপাশি এসইউভি এবং ইউটিলিটি ভেহিকলের চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। শহরাঞ্চলের পাশাপাশি গ্রাম ও আধা-শহর এলাকাতেও বিক্রি বাড়ায় বাজারের বিস্তৃতি আরও পরিষ্কার হয়ে ওঠে।

২০২৫ সালের সামগ্রিক বিক্রির পরিসংখ্যান মারুতি সুজুকির ইতিহাসে সর্বোচ্চ। প্রায় ১৯.৫৫ লক্ষ গাড়ি বিক্রির মাধ্যমে সংস্থা আবারও প্রমাণ করেছে যে, ভারতীয় মধ্যবিত্ত ও উদীয়মান ভোক্তা শ্রেণির কাছে এই ব্র্যান্ড কতটা আস্থার প্রতীক। জ্বালানি সাশ্রয়, কম রক্ষণাবেক্ষণ খরচ এবং বিস্তৃত সার্ভিস নেটওয়ার্ক—এই তিনটি বিষয় গ্রাহকদের সিদ্ধান্তে বড় ভূমিকা রেখেছে।

এই বছরে এসইউভি সেগমেন্ট বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছে। গত কয়েক বছরে ভারতের গাড়ি বাজারে এসইউভির জনপ্রিয়তা দ্রুত বেড়েছে, আর ২০২৫ সালে সেই প্রবণতা আরও শক্তিশালী হয়েছে। বড় পরিবার, দীর্ঘ ভ্রমণ এবং আধুনিক ডিজাইনের চাহিদা এই সেগমেন্টকে এগিয়ে নিয়ে গেছে। একই সঙ্গে ছোট গাড়ির চাহিদাও স্থিতিশীল থেকেছে, যা শহুরে যাতায়াত ও প্রথমবার গাড়ি কেনা গ্রাহকদের মধ্যে জনপ্রিয়তা বজায় রেখেছে।

রপ্তানি ক্ষেত্রেও ২০২৫ সাল মারুতি সুজুকির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। দক্ষিণ এশিয়া, আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকার বিভিন্ন দেশে ভারতীয় তৈরি গাড়ির চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে ভারত আবারও বিশ্ববাজারে একটি শক্তিশালী গাড়ি রপ্তানিকারক দেশ হিসেবে নিজের অবস্থান মজবুত করেছে। ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ উদ্যোগের সাফল্য এখানেও স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।

এই সাফল্যের প্রভাব শুধু কোম্পানির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। ডিলার, সরবরাহকারী, পরিবহণ সংস্থা এবং পরিষেবা খাত—সব মিলিয়ে অটোমোবাইল ইকোসিস্টেমে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। টিয়ার-২ ও টিয়ার-৩ শহরে গাড়ি বিক্রি বাড়ায় স্থানীয় অর্থনীতিও চাঙা হয়েছে এবং নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০২৫ সালের এই রেকর্ড বিক্রি ভবিষ্যতের জন্য একটি শক্ত ভিত্তি গড়ে দিয়েছে। যদিও সামনে বৈদ্যুতিক গাড়ির প্রতিযোগিতা, পরিবেশ সংক্রান্ত নীতি এবং কাঁচামালের দামের মতো চ্যালেঞ্জ রয়েছে, তবুও প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন ও বাজার বোঝাপড়ার মাধ্যমে এই চ্যালেঞ্জকে সুযোগে রূপান্তর করার সম্ভাবনাও রয়েছে।

সব মিলিয়ে বলা যায়, ২০২৫ সাল মারুতি সুজুকির জন্য শুধু একটি সফল বছর নয়, বরং ভারতীয় অটোমোবাইল শিল্পের শক্ত ভিত ও সম্ভাবনার দিকনির্দেশক। ডিসেম্বারের শক্তিশালী বিক্রি এবং সারা বছরের রেকর্ড সংখ্যাই প্রমাণ করে, আগামী দিনেও এই ধারাবাহিক বৃদ্ধি বজায় থাকার ব্যাপারে শিল্পমহল আশাবাদী।


ডিসেম্বার ২০২৫: বছরের শেষেই বিক্রির বিস্ফোরণ

ডিসেম্বার মাস সাধারণত ভারতের অটোমোবাইল বাজারে উৎসব, ছাড় ও বছরের শেষের কেনাকাটার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে সেই প্রবণতা আরও শক্তিশালী হয়ে ওঠে। মারুতি সুজুকির মোট বিক্রি প্রায় ১.৭৯ লক্ষ ইউনিটে পৌঁছনো প্রমাণ করে যে, উচ্চ সুদের হার, জ্বালানির দামের ওঠানামা কিংবা বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যেও ভারতীয় গ্রাহকের গাড়ি কেনার আগ্রহ অটুট রয়েছে।

এই মাসে সংস্থার ছোট ও কমপ্যাক্ট গাড়ির পাশাপাশি এসইউভি ও মাল্টি-পারপাস ভেহিকলের চাহিদা চোখে পড়ার মতো ছিল। শহরাঞ্চলের পাশাপাশি গ্রাম ও আধা-শহর এলাকাতেও বিক্রি বেড়েছে। বিশেষ করে প্রথমবার গাড়ি কেনা গ্রাহক এবং পরিবারভিত্তিক ক্রেতাদের মধ্যে মারুতি সুজুকির জনপ্রিয়তা আরও মজবুত হয়েছে।


২০২৫: মারুতি সুজুকির ইতিহাসে সর্বোচ্চ বিক্রয়ের বছর

ডিসেম্বারের সাফল্য ছিল বছরের সামগ্রিক উত্থানের প্রতিফলন। ২০২৫ সালে মারুতি সুজুকি মোট প্রায় ১৯.৫৫ লক্ষ ইউনিট গাড়ি বিক্রি করেছে, যা সংস্থার ইতিহাসে সর্বোচ্চ। এই সংখ্যার মধ্যে দেশীয় বাজারে বিক্রি যেমন শক্তিশালী ছিল, তেমনই রপ্তানিতেও উল্লেখযোগ্য অবদান এসেছে।

এই বিপুল বিক্রি প্রমাণ করে যে, মারুতি সুজুকি শুধুমাত্র একটি গাড়ি নির্মাতা নয়, বরং ভারতের মধ্যবিত্ত ও উদীয়মান ভোক্তা শ্রেণির যাতায়াতের অন্যতম প্রধান ভরসা। ছোট হ্যাচব্যাক থেকে শুরু করে আধুনিক এসইউভি—সব শ্রেণির গাড়িতেই সংস্থার উপস্থিতি বাজারকে বিস্তৃত করেছে।


কোন সেগমেন্টে কতটা প্রভাব

২০২৫ সালে মারুতি সুজুকির সাফল্যের পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা নিয়েছে সেগমেন্টভিত্তিক সুষম বৃদ্ধি।

ছোট ও কমপ্যাক্ট গাড়ি:
এই সেগমেন্ট বহু বছর ধরেই মারুতি সুজুকির শক্ত ঘাঁটি। জ্বালানি সাশ্রয়, রক্ষণাবেক্ষণের কম খরচ ও শহরের রাস্তায় সহজ চলাচলের সুবিধা—এই তিন কারণে ছোট গাড়ির চাহিদা ২০২৫ সালেও বজায় ছিল।

এসইউভি ও ইউটিলিটি ভেহিকল:
গত কয়েক বছরে ভারতের গাড়ি বাজারে এসইউভির জনপ্রিয়তা ব্যাপকভাবে বেড়েছে। ২০২৫ সালে এই প্রবণতা আরও জোরালো হয়। পরিবারভিত্তিক ব্যবহার, দীর্ঘ ভ্রমণ ও আধুনিক ডিজাইনের কারণে এই সেগমেন্ট মারুতি সুজুকির মোট বিক্রিতে বড় অবদান রেখেছে।

ভ্যান ও মাল্টি-পারপাস গাড়ি:
ব্যবসায়িক ব্যবহার ও বড় পরিবারের প্রয়োজন মেটাতে এই গাড়িগুলির চাহিদাও স্থিতিশীল ছিল, যা সামগ্রিক বিক্রিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

news image
আরও খবর

রপ্তানি বাজারে ভারতের শক্ত অবস্থান

২০২৫ সালে মারুতি সুজুকির আরেকটি বড় সাফল্য ছিল রপ্তানি। দক্ষিণ এশিয়া, আফ্রিকা, লাতিন আমেরিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে সংস্থার তৈরি গাড়ির চাহিদা বেড়েছে। এর ফলে ভারত আবারও বিশ্ববাজারে একটি গুরুত্বপূর্ণ গাড়ি রপ্তানিকারক দেশ হিসেবে নিজের অবস্থান পোক্ত করেছে।

রপ্তানির এই সাফল্য কেবল আয় বৃদ্ধি নয়, বরং ভারতের উৎপাদন মান, প্রযুক্তি ও সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর আন্তর্জাতিক আস্থার প্রতিফলন। ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ উদ্যোগের সাফল্য এখানে স্পষ্টভাবে ধরা পড়ে।


ব্যবস্থাপনার বক্তব্য ও ভবিষ্যৎ দৃষ্টিভঙ্গি

সংস্থার শীর্ষ আধিকারিকরা এই সাফল্যকে গ্রাহক আস্থা, কর্মীদের পরিশ্রম এবং শক্তিশালী ডিলার নেটওয়ার্কের ফল বলে উল্লেখ করেছেন। তাঁদের মতে, ২০২৫ সালের এই রেকর্ড বিক্রি ভবিষ্যতের জন্য একটি মজবুত ভিত্তি তৈরি করেছে।

পরবর্তী বছরগুলিতে আরও পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি, বৈদ্যুতিক ও হাইব্রিড গাড়ির দিকে জোর দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে নিরাপত্তা ও ডিজাইনে নতুনত্ব আনাও সংস্থার অগ্রাধিকার।


ভারতীয় অটোমোবাইল শিল্পে প্রভাব

মারুতি সুজুকির এই সাফল্যের প্রভাব শুধু কোম্পানির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এর সঙ্গে যুক্ত রয়েছে হাজার হাজার সরবরাহকারী, ডিলার, পরিবহণ সংস্থা ও পরিষেবা খাত। ফলে ২০২৫ সালের এই রেকর্ড বিক্রি পুরো অটোমোবাইল ইকোসিস্টেমকে চাঙা করেছে।

চাকরি সৃষ্টি, প্রযুক্তিগত উন্নয়ন এবং স্থানীয় উৎপাদন—সব ক্ষেত্রেই এই সাফল্যের প্রভাব পড়েছে। বিশেষ করে টিয়ার-২ ও টিয়ার-৩ শহরে গাড়ি বিক্রি বাড়ায় স্থানীয় অর্থনীতিও লাভবান হয়েছে।


গ্রাহকের দৃষ্টিকোণ থেকে ২০২৫

২০২৫ সালে গ্রাহকদের গাড়ি কেনার সিদ্ধান্তে কয়েকটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ ছিল—

  • জ্বালানি দক্ষতা

  • নিরাপত্তা ফিচার

  • আধুনিক ডিজাইন

  • নির্ভরযোগ্য সার্ভিস নেটওয়ার্ক

এই সব ক্ষেত্রেই মারুতি সুজুকি দীর্ঘদিন ধরে শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে। ফলে নতুন ও পুরনো—দু’ধরনের গ্রাহকের কাছেই ব্র্যান্ডটি আস্থার প্রতীক হয়ে উঠেছে।


চ্যালেঞ্জ ও সুযোগ

যদিও ২০২৫ সাল ছিল সাফল্যের বছর, তবুও সামনে কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। বৈদ্যুতিক গাড়ির বাজারে প্রতিযোগিতা, কাঁচামালের দামের ওঠানামা এবং পরিবেশ সংক্রান্ত কড়াকড়ি—এই সব বিষয় ভবিষ্যতে কোম্পানিগুলির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।

তবে একই সঙ্গে এটি সুযোগও। প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন, নতুন বাজারে প্রবেশ এবং গ্রিন মোবিলিটির দিকে এগোনো—এই সব দিক মারুতি সুজুকির ভবিষ্যৎ বৃদ্ধিকে আরও শক্তিশালী করতে পারে।


উপসংহার

২০২৫ সাল নিঃসন্দেহে মারুতি সুজুকির জন্য এক ঐতিহাসিক বছর। ডিসেম্বরে প্রায় ১.৭৯ লক্ষ গাড়ি বিক্রি এবং গোটা বছরে প্রায় ১৯.৫৫ লক্ষ ইউনিটের রেকর্ড—এই সাফল্য ভারতীয় অটোমোবাইল শিল্পের শক্ত ভিতকে তুলে ধরেছে।

গ্রাহকের আস্থা, উৎপাদন দক্ষতা এবং বাজারের সঠিক বোঝাপড়া—এই তিনের সমন্বয়েই সম্ভব হয়েছে এই কীর্তি। ভবিষ্যতে নতুন প্রযুক্তি ও পরিবেশবান্ধব উদ্যোগের মাধ্যমে মারুতি সুজুকি যে আরও বড় মাইলফলকের দিকে এগোবে, সে বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে আশাবাদ প্রবল।

Preview image