দেশু ৭ এ অনির্বাণ আনন্দবাজারের খবরে সিলমোহর দিলেন দেব নিজেই।
বহু দিনের জল্পনার অবশেষে অবসান। টলিউডে দীর্ঘদিন ধরে যে প্রশ্ন ঘুরছিল—অভিনয়ে কবে ফিরছেন অনির্বাণ ভট্টাচার্য—তারই স্পষ্ট উত্তর দিলেন দেব। তাঁর আগামী ছবি ‘দেশু ৭’-এর মাধ্যমে ফের বড় পর্দায় দেখা যাবে অনির্বাণকে।
এই খবর প্রথম সামনে এনেছিল আনন্দবাজার পত্রিকা-র ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। যদিও তখন বিষয়টি নিয়ে কোনও নিশ্চিত বক্তব্য দেননি দেব। তবে শুক্রবার সমাজমাধ্যমে পোস্ট করে তিনি নিজেই সিলমোহর দিলেন এই খবরে। ফলে জল্পনার অবসান ঘটল অবশেষে।
এই ছবিতে দেবের সঙ্গে রয়েছেন তাঁর দীর্ঘদিনের সহ-অভিনেত্রী শুভশ্রী গঙ্গোপাধ্যায়। তবে এ বার শুধু অভিনয় নয়, পরিচালনার দায়িত্বও নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছেন দেব। ‘দেশু’ ফ্র্যাঞ্চাইজির জনপ্রিয়তা ধরে রাখা যে কতটা বড় চ্যালেঞ্জ, তা নিজেই স্বীকার করেছেন তিনি। তাঁর কথায়, এই ব্র্যান্ডকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সহজ নয়, বরং এটি এক বড় দায়িত্ব।
অনির্বাণের কাস্টিং নিয়ে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন ছিল তথাকথিত ‘ব্যান’ প্রসঙ্গ। গত কয়েক মাস ধরে টলিউডে ‘ব্যান কালচার’ নিয়ে নানা বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। সেই পরিস্থিতির মধ্যেই অনির্বাণের ভবিষ্যৎ নিয়ে সংশয় তৈরি হয়। তবে দেব স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন—“হ্যাঁ, ব্যান উঠে গেছে। এক জন নয়, সকলের উপর থেকেই।”
এই বক্তব্যের পরেই নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে টলিউড মহলে। বিশেষ করে ফেডারেশনের সঙ্গে সম্পর্কের বরফ গলেছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। যদিও ফেডারেশন সভাপতি স্বরূপ বিশ্বাস জানিয়েছেন, দেবের এই ঘোষণার বিষয়ে তাঁদের কাছে এখনও কোনও সরকারি তথ্য পৌঁছায়নি।
দেব আরও বলেন, তিনি নিজের প্রযোজনায় কাজ করছেন এবং এই ছবির জন্য অনির্বাণকে প্রয়োজন ছিল বলেই তাঁকে নেওয়া হয়েছে। কোনও ক্ষমতা প্রদর্শন বা চ্যালেঞ্জ জানানোর উদ্দেশ্যে নয়, বরং চরিত্রের প্রয়োজনেই এই সিদ্ধান্ত। তাঁর এই বক্তব্যে স্পষ্ট—কনটেন্ট এবং পারফরম্যান্সই তাঁর কাছে প্রাধান্য পাচ্ছে।
জানা গিয়েছে, জুন, জুলাই এবং অগস্ট—এই তিন মাস জুড়ে প্রায় ৫০ দিন ধরে চলবে ‘দেশু ৭’-এর শুটিং। বড় স্কেলের এই ছবির জন্য ইতিমধ্যেই প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছে। দেব নিজেই জানিয়েছেন, প্রায় ১০ হাজার টেকনিশিয়ান এই প্রজেক্টের সঙ্গে যুক্ত থাকবেন। এত বড় সংখ্যক মানুষের অংশগ্রহণ থেকেই স্পষ্ট, এটি কেবল একটি সাধারণ সিনেমা নয়, বরং বিশাল মাপের একটি প্রযোজনা হতে চলেছে।
বর্তমান সময়ে বাংলা চলচ্চিত্রে এই ধরনের বৃহৎ আয়োজন খুব একটা দেখা যায় না। সেই দিক থেকে ‘দেশু ৭’ ইতিমধ্যেই আলাদা করে নজর কাড়ছে। শুটিংয়ের সময়সীমা, টিমের পরিমাণ এবং প্রোডাকশনের পরিধি—সব মিলিয়ে এই ছবি যে টলিউডে নতুন মানদণ্ড তৈরি করতে পারে, তা বলাই বাহুল্য।
ছবিটি মুক্তি পাওয়ার কথা পুজোর সময়। দুর্গাপুজোকে কেন্দ্র করে বাংলা সিনেমার বাজার বরাবরই জমজমাট থাকে। প্রতি বছরই বড় বাজেটের একাধিক ছবি মুক্তি পায় এই সময়ে। ফলে ‘দেশু ৭’-কেও বক্স অফিসে কঠিন প্রতিযোগিতার মুখে পড়তে হবে। তবে দেবের জনপ্রিয়তা, ফ্র্যাঞ্চাইজির আগের সাফল্য এবং নতুন কাস্টিং—সব কিছু মিলিয়ে এই ছবিকে ঘিরে দর্শকদের আগ্রহ ইতিমধ্যেই তুঙ্গে।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, সম্প্রতি প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়-এর উদ্যোগে টলিউডে ‘ব্যান কালচার’ বন্ধ করার কথা সামনে আসে। দীর্ঘদিন ধরে এই বিষয়টি নিয়ে নানা বিতর্ক চলছিল। একাধিক শিল্পী এবং টেকনিশিয়ান কাজের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে। সেই প্রেক্ষিতে বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, ৭২ ঘণ্টার মধ্যে নিষিদ্ধ শিল্পীদের কাজে ফেরানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
এই পরিস্থিতিতেই ‘দেশু ৭’-এ অনির্বাণ ভট্টাচার্য-এর অন্তর্ভুক্তি আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কারণ, তাঁর নামও এই বিতর্কের সঙ্গে জড়িয়ে গিয়েছিল। ফলে দেবের এই ঘোষণা শুধুমাত্র একটি কাস্টিং আপডেট নয়, বরং টলিউডের বর্তমান পরিস্থিতিতে একটি বড় বার্তা হিসেবেও দেখা হচ্ছে।
দেব নিজেও স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, তিনি নিজের প্রযোজনায় কাজ করছেন এবং এই ছবির জন্য যাঁদের প্রয়োজন, তাঁদেরই নিচ্ছেন। তাঁর মতে, কোনও ধরনের ‘ব্যান’ সংস্কৃতি চলতে থাকলে ক্ষতি হয় মূলত টেকনিশিয়ানদের, যাঁদের জীবিকা এই কাজের উপর নির্ভরশীল। এই বক্তব্য টলিউডের অভ্যন্তরীণ বাস্তবতাকে আরও একবার সামনে নিয়ে এসেছে।
সব মিলিয়ে, ‘দেশু ৭’ শুধুমাত্র একটি সিনেমা নয়—এটি বর্তমান টলিউডের পরিস্থিতি, পরিবর্তন এবং বিতর্কের এক গুরুত্বপূর্ণ প্রতিফলন হয়ে উঠতে চলেছে। বাংলা চলচ্চিত্রের এই মুহূর্তে যেখানে একদিকে বড় বাজেটের প্রযোজনা কমে আসছে, সেখানে এই ছবির বিশাল আয়োজন নতুন করে আশার আলো দেখাচ্ছে। অন্যদিকে ‘ব্যান কালচার’ নিয়ে চলতে থাকা বিতর্কও এই প্রজেক্টকে আরও বেশি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এনে দিয়েছে।
এই ছবির মাধ্যমে দেব শুধু একজন অভিনেতা হিসেবেই নয়, একজন পরিচালক এবং প্রযোজক হিসেবেও নিজের দাপট দেখাতে প্রস্তুত। তাঁর এই সাহসী পদক্ষেপ—বিশেষ করে বিতর্কের মধ্যেই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া—টলিউডের জন্য এক নতুন বার্তা বহন করছে।
সবচেয়ে বড় আকর্ষণ অবশ্যই অনির্বাণ ভট্টাচার্য-এর সম্ভাব্য কামব্যাক। দীর্ঘদিন পর তাঁকে আবার বড় পর্দায় দেখার সম্ভাবনা দর্শকদের মধ্যে বাড়তি উত্তেজনা তৈরি করেছে। তাঁর অভিনয় দক্ষতা এবং চরিত্র বেছে নেওয়ার ক্ষমতা বরাবরই প্রশংসিত, তাই ‘দেশু ৭’-এ তাঁর উপস্থিতি ছবির গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
একই সঙ্গে ছবির মুক্তির সময় হিসেবে পুজোকে বেছে নেওয়া হয়েছে, যা বক্স অফিসের দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দুর্গাপুজোর সময়ে বাংলা ছবির বাজার সবচেয়ে বেশি জমজমাট থাকে, ফলে এই সময় মুক্তি মানেই বড় প্রতিযোগিতা। তবে সেই প্রতিযোগিতার মাঝেই নিজের জায়গা তৈরি করার লক্ষ্য নিয়েই এগোচ্ছে ‘দেশু ৭’।
এই প্রজেক্টে একদিকে যেমন বড় বাজেট এবং বিশাল টিম কাজ করছে, তেমনই অন্যদিকে রয়েছে ইন্ডাস্ট্রির ভেতরের নানা টানাপোড়েন, যা ‘দেশু ৭’-কে আরও বেশি প্রাসঙ্গিক করে তুলেছে। বর্তমানে টলিউড এমন এক সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে, যেখানে সৃজনশীলতা, অর্থনৈতিক চাপ এবং সংগঠনগত জটিলতা—সব কিছু একসঙ্গে প্রভাব ফেলছে চলচ্চিত্র নির্মাণে। সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে এই ছবির মতো বড় প্রযোজনা নিঃসন্দেহে এক সাহসী পদক্ষেপ।
দেব-এর নেতৃত্বে তৈরি হওয়া এই ছবিতে শুধুমাত্র বিনোদনের উপাদানই নয়, বরং ইন্ডাস্ট্রির বাস্তব পরিস্থিতির প্রতিফলনও উঠে আসতে পারে বলে মনে করছেন অনেকেই। কারণ, সাম্প্রতিক সময়ে ‘ব্যান কালচার’, কাজের সুযোগ নিয়ে টানাপোড়েন এবং শিল্পীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে যে আলোচনা শুরু হয়েছে, তা এই ছবির প্রেক্ষাপটকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে।
এই ধরনের পরিস্থিতিতে একটি বড় বাজেটের ছবি তৈরি করা মানেই শুধু দর্শকদের বিনোদন দেওয়া নয়, বরং ইন্ডাস্ট্রির ভিতরে একটি শক্ত বার্তাও পৌঁছে দেওয়া। বিশেষ করে যখন এই প্রজেক্টে যুক্ত রয়েছেন বহু শিল্পী ও টেকনিশিয়ান, তখন এটি কর্মসংস্থানের দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। ফলে ‘দেশু ৭’ একদিকে যেমন একটি বাণিজ্যিক সিনেমা, তেমনই অন্যদিকে এটি টলিউডের বর্তমান বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি হিসেবেও দেখা যেতে পারে।
সব দিক বিচার করলে বলা যায়, ‘দেশু ৭’ এখন শুধুমাত্র একটি সিনেমার নাম নয়—এটি একটি প্রত্যাশা, একটি বিতর্ক, এবং এক নতুন সূচনার প্রতীক। দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকা নানা সমস্যার মাঝেও কীভাবে একটি বড় প্রজেক্ট তৈরি হতে পারে, তারই উদাহরণ হতে চলেছে এই ছবি।
মুক্তির পর দর্শকদের প্রতিক্রিয়া কেমন হয়, সেটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। বক্স অফিসে সাফল্য যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনই এই ছবির প্রভাব ইন্ডাস্ট্রির উপর কতটা পড়ে, সেটাও নজর কাড়বে। যদি ‘দেশু ৭’ দর্শকদের মন জয় করতে পারে, তবে এটি ভবিষ্যতে আরও বড় প্রজেক্টের পথ খুলে দিতে পারে।
পাশাপাশি এটাও দেখার, এই ছবির মাধ্যমে টলিউডের চলমান পরিবর্তনের ধারা কতটা এগিয়ে যায়। নতুন করে কাজের সুযোগ, পুরনো বিতর্কের অবসান এবং ইন্ডাস্ট্রির সামগ্রিক উন্নতি—এই সব কিছুরই প্রতিফলন ঘটতে পারে এই একটি ছবির মাধ্যমে। সেই কারণেই ‘দেশু ৭’ এখন শুধুমাত্র একটি মুক্তির অপেক্ষায় থাকা সিনেমা নয়, বরং এটি টলিউডের ভবিষ্যতের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলস্টোন হয়ে উঠতে চলেছে। ?