Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

পল্লীশ্রীতে শোকের ছায়া, ছন্দে ফিরলেও ‘বাবিন’ হারানোর বেদনা অমলিন—কদমতলায় রাহুলের নতুন বাইক

গত ৪৮ ঘণ্টায় বিজয়গড়ের ছিমছাম পল্লীশ্রী কলোনির উপর দিয়ে যেন ঝড় বয়ে গিয়েছে। তারকা থেকে নেতা—অনেকেই এসেছেন, ভিড় জমেছে পাড়ায়। তবু এক গভীর শূন্যতা রয়ে গেছে—ফিরে আসেনি পাড়ার ছেলে ‘বাবিন’। এই শোকের আবহে কেমন আছে অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাড়া

গত দু’টো দিন যেন ঝড়ের মতো কেটেছে বিজয়গড়ের পল্লীশ্রী কলোনিতে। যে পাড়া সাধারণত শান্ত, ছিমছাম আর চেনা ছন্দে অভ্যস্ত, সেই এলাকাই হঠাৎ করে পরিণত হয়েছিল এক অচেনা ভিড় আর উত্তেজনার কেন্দ্রে। দুঃসংবাদ, তার সঙ্গে নেতা-মন্ত্রী-তারকাদের লাগাতার আনাগোনা—সব মিলিয়ে গত ৪৮ ঘণ্টা পল্লীশ্রী যেন নিজের পরিচিত সত্তা হারিয়ে ফেলেছিল।

পাড়ার ছেলে ‘বাবিন’, যাঁকে বৃহত্তর দর্শক চেনে অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায় নামে—তাঁর আকস্মিক প্রয়াণের খবর ছড়িয়ে পড়তেই থমকে যায় গোটা এলাকা। শোক, অবিশ্বাস, ক্ষোভ আর হতাশার মিশ্র আবহ তৈরি হয় চারপাশে। পল্লীশ্রীর রাস্তাঘাট, গলিপথ, চায়ের দোকান—সব জায়গাতেই একটাই আলোচনা, একটাই নাম—‘বাবিন’।

রবিবার আর সোমবার পাড়ার চেনা ছবি যেন পুরোপুরি বদলে গিয়েছিল। রাহুলের বাড়ির সামনে ভিড়, সংবাদমাধ্যমের ক্যামেরা, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের আগমন—সব মিলিয়ে কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছিল এলাকা। এমনকি রানিকুঠী থেকে যাদবপুর ৮বি যাওয়ার অটোর রুট পর্যন্ত পরিবর্তন করতে হয়েছিল পরিস্থিতি সামাল দিতে। স্থানীয়দের কাছে এ এক অভূতপূর্ব অভিজ্ঞতা।

এই দুই দিনে পাড়ার অনেকেরই সময় কেটেছে রাহুলের বাড়ির আশপাশে। কেউ ঠিক করে খাওয়া-দাওয়াও করতে পারেননি। কারও কাছে তিনি ছিলেন নিজের ছেলের মতো, কারও কাছে ছোটবেলার বন্ধু, আবার কারও কাছে পরিচিত মুখ—যার সঙ্গে রোজ দেখা হতো। তাই এই শোক শুধু এক জন অভিনেতার মৃত্যু নয়, বরং পাড়ার এক আপনজনকে হারানোর বেদনা।

তবে মঙ্গলবার সকাল থেকে ধীরে ধীরে ছন্দে ফেরার চেষ্টা শুরু হয়েছে পল্লীশ্রীতে। অনন্যা আবাসনের নীচে যে দোকানগুলো গত দু’দিন ধরে বন্ধ ছিল, সেগুলির শাটার এক এক করে উঠতে শুরু করেছে। পাড়ার চায়ের দোকানে আবার ভাঁড়ে চা পড়ছে, যদিও আগের মতো হাসি-ঠাট্টা নেই। দোকানি এক কোণে চুপচাপ নিজের কাজ করছেন।

গাছের তলায় আবার জড়ো হচ্ছেন বয়স্করা, কিন্তু আলোচনার বিষয় একটাই—‘বাবিন’। স্মৃতিচারণে ভরে উঠছে আড্ডা। কেউ বলছেন ছোটবেলার দুষ্টুমি, কেউ বলছেন তাঁর সাফল্যের গল্প, আবার কেউ নিঃশব্দে বসে আছেন—কথা বলতে পারছেন না।

পাড়ার দেওয়ালে দেওয়ালে এখন ঝুলছে মালা দেওয়া ছবি। সেই ছবিগুলো যেন নীরবে জানিয়ে দিচ্ছে—পল্লীশ্রী আগের জায়গায় ফিরলেও, কিছু একটা চিরতরে বদলে গেছে। এই শূন্যতা সহজে পূরণ হওয়ার নয়।

ছন্দে ফেরার চেষ্টা চলছে ঠিকই, কিন্তু পাড়ার মানুষের মনে এখনও তাজা সেই আঘাত। স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার প্রয়াসের মাঝেও বারবার ফিরে আসছে স্মৃতি, প্রশ্ন আর না-পাওয়া উত্তর।

মঙ্গলবার সকালটা পল্লীশ্রীর কাছে যেন এক অদ্ভুত দ্বৈত অনুভূতি নিয়ে আসে। বাইরে থেকে দেখলে মনে হতে পারে, ধীরে ধীরে সব কিছু আবার আগের ছন্দে ফিরছে। কিন্তু একটু কাছে গেলেই বোঝা যায়—এই ফেরা পুরোপুরি স্বাভাবিক নয়, বরং শোককে বুকে নিয়েই বাঁচার চেষ্টা।

অনন্যা আবাসনের নীচে সারি সারি ছোট দোকান। গত দু’দিন যেগুলোর শাটার টানা ছিল, সেগুলো এক এক করে খুলতে শুরু করেছে। শাটার ওঠার শব্দ যেন নিস্তব্ধতার বুক চিরে উঠে আসা এক বাস্তবতার ঘোষণা—জীবন থেমে থাকে না। তবু দোকান খুললেও, ব্যবসার সেই চেনা গতি নেই। ক্রেতা কম, কথাবার্তা কম, আর নেই সেই স্বাভাবিক কোলাহল।

পাড়ার চায়ের দোকান, যা সাধারণ দিনে আড্ডার প্রাণকেন্দ্র হয়ে ওঠে, সেখানেও এখন এক অদ্ভুত নীরবতা। ভাঁড়ে চা পড়ছে ঠিকই, কিন্তু চায়ের কাপে ঠোকাঠুকির শব্দের সঙ্গে মিশে নেই হাসির রোল। দোকানি চুপচাপ নিজের কাজ করে যাচ্ছেন। মাঝেমধ্যে কেউ চা নিতে এসে থেমে যাচ্ছেন, যেন কিছু বলতে চান, কিন্তু শব্দ খুঁজে পাচ্ছেন না।

চায়ের দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা কয়েকজন যুবক—তাঁদের চোখেমুখে ক্লান্তি আর শূন্যতা। গত দু’দিনের দৌড়ঝাঁপ, ভিড়, আবেগ—সব মিলিয়ে যেন এক অদৃশ্য ভার নেমে এসেছে সবার উপর। কেউ ফিসফিস করে কথা বলছেন, কেউ আবার মোবাইলের স্ক্রিনে তাকিয়ে পুরনো ছবি বা ভিডিও দেখছেন—স্মৃতিকে ধরে রাখার এক ছোট্ট চেষ্টা।

পাড়ার গাছতলায় আবার বসতে শুরু করেছেন বয়স্করা। এই জায়গাটা বহুদিনের আড্ডার কেন্দ্র। কিন্তু আজকের আড্ডা অন্যরকম। রাজনৈতিক আলোচনা, বাজারদর বা দৈনন্দিন জীবনের গল্প—সব কিছুই যেন সরে গেছে। জায়গা করে নিয়েছে একটাই নাম—‘বাবিন’।

কেউ বলছেন, ছোটবেলায় কীভাবে দৌড়ঝাঁপ করত সে, কারও বাড়ির জানলায় বল মেরে কাচ ভেঙে ফেলত, আবার হাসতে হাসতে ক্ষমা চাইত। কেউ স্মরণ করছেন তার প্রথম অভিনয়ের দিনগুলো, কীভাবে ধীরে ধীরে নিজের জায়গা তৈরি করেছিল। কেউ বলছেন, এত সাফল্যের পরেও সে নাকি একই রকম সহজ-সরল ছিল, পাড়ায় এলেই সবার সঙ্গে কথা বলত।

তবে সব স্মৃতিচারণের মাঝেও রয়েছে এক গভীর নীরবতা। কিছু মানুষ আছেন, যারা কিছুই বলছেন না। শুধু বসে আছেন, হয়তো চোখের কোণে জল জমছে, হয়তো ভেতরে ভেতরে লড়াই চলছে এই আকস্মিক শূন্যতাকে মেনে নেওয়ার।

পল্লীশ্রীর দেওয়ালে দেওয়ালে এখন ঝুলছে মালা দেওয়া ছবি। ছবিগুলো নতুন, কিন্তু যাকে ঘিরে সেই ছবি—তিনি তো বহুদিনের চেনা। প্রতিটি ছবির সামনে কেউ না কেউ থেমে যাচ্ছেন, একবার তাকাচ্ছেন, কেউ প্রণাম করছেন, কেউ আবার নিঃশব্দে দাঁড়িয়ে থাকছেন কিছুক্ষণ।

এই ছবিগুলো যেন পাড়ার ইতিহাসের এক নতুন অধ্যায় লিখে দিচ্ছে—যেখানে আনন্দের স্মৃতি যেমন আছে, তেমনই আছে হঠাৎ থেমে যাওয়া এক জীবনের গল্প। যেন প্রতিটি দেওয়াল বলছে, “আমরা দেখেছি তাকে বড় হতে, আর আজ তাকেই বিদায় জানাচ্ছি।”

গত দু’দিনে পল্লীশ্রী যা দেখেছে, তা এই পাড়ার কাছে অভূতপূর্ব। সংবাদমাধ্যমের ভিড়, ক্যামেরার ফ্ল্যাশ, রাজনৈতিক নেতাদের উপস্থিতি—সব মিলিয়ে এক সময় যেন পাড়াটা নিজের পরিচয় হারিয়ে ফেলেছিল। যেসব রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন স্কুলে যায় বাচ্চারা, যেখান দিয়ে বাজার করতে যান গৃহিণীরা, সেই রাস্তাগুলোই হয়ে উঠেছিল নিয়ন্ত্রিত, ভিড়াক্রান্ত।

এমনকি যাতায়াতের স্বাভাবিক রুটও বদলে গিয়েছিল। অটো ঘুরিয়ে দেওয়া হয়েছিল অন্য পথে। স্থানীয়দের দৈনন্দিন জীবন থমকে গিয়েছিল এই হঠাৎ পরিস্থিতিতে। কিন্তু সেই ভিড়ের মাঝেও সবচেয়ে বড় হয়ে উঠেছিল একটাই অনুভূতি—হারানোর।

কারও কাছে ‘বাবিন’ ছিল নিজের সন্তানের মতো। ছোট থেকে বড় হতে দেখেছেন তাঁকে। তাঁর সাফল্যে গর্বিত হয়েছেন, আবার তাঁর ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও খোঁজখবর রেখেছেন। তাই এই মৃত্যু তাঁদের কাছে শুধু একটি খবর নয়, বরং ব্যক্তিগত ক্ষতি।

news image
আরও খবর

কারও কাছে তিনি বন্ধু—একসঙ্গে বড় হওয়া, একসঙ্গে খেলাধুলো, হাসি-ঠাট্টা, ঝগড়া—সব মিলিয়ে এক টুকরো শৈশব। সেই বন্ধুকে হঠাৎ হারিয়ে ফেলার যন্ত্রণা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন।

আবার নতুন প্রজন্মের কাছে তিনি একজন পরিচিত মুখ, একজন অভিনেতা, যাকে তারা টিভি বা সিনেমার পর্দায় দেখেছে। কিন্তু সেই মানুষটিই যে তাদের পাড়ার, তাদের চেনা রাস্তায় হেঁটেছেন—এই অনুভূতিটাই তাদের কাছে বিশেষ।

মঙ্গলবার থেকে ধীরে ধীরে সব কিছু খুলতে শুরু করলেও, সেই আগের স্বাভাবিকতা এখনও অনেক দূরে। মানুষজন কাজে বেরোচ্ছেন, দোকান খুলছে, চা বিক্রি হচ্ছে—সব কিছু চলছে, কিন্তু এক অদৃশ্য আবরণ যেন ঢেকে রেখেছে গোটা পাড়াকে।

এই শোক শুধু সময়ের সঙ্গে মুছে যাবে না—বরং রয়ে যাবে স্মৃতির মধ্যে, কথার মধ্যে, গল্পের মধ্যে। হয়তো কিছুদিন পর আবার হাসি ফিরবে, আড্ডা জমবে, পল্লীশ্রী আবার তার চেনা ছন্দে ফিরবে। কিন্তু তবুও, কোথাও না কোথাও একটা শূন্যতা থেকে যাবে।

কারণ, কিছু মানুষ চলে গেলেও, তাঁদের উপস্থিতি থেকে যায় চারপাশে—রাস্তায়, গাছের তলায়, চায়ের দোকানে, আর সবচেয়ে বেশি, মানুষের মনে।

পল্লীশ্রী এখন সেই উপস্থিতি নিয়েই বাঁচতে শিখছে—ধীরে ধীরে, নিঃশব্দে।

নতুন প্রজন্মের কাছে তিনি ছিলেন পরিচিত এক মুখ—টেলিভিশনের পর্দায় দেখা, সিনেমার গল্পে জড়িয়ে থাকা এক অভিনেতা। তাঁদের অনেকেই হয়তো প্রথমে তাঁকে চিনেছেন চরিত্রের মাধ্যমে, সংলাপের মাধ্যমে, কিংবা কোনও জনপ্রিয় দৃশ্যের ভিতর দিয়ে। কিন্তু খুব দ্রুতই সেই পর্দার মানুষটি বাস্তবের সঙ্গে মিশে গেছে—কারণ তিনি ছিলেন তাঁদেরই পাড়ার মানুষ, চেনা রাস্তায় হাঁটা, চেনা দোকানে দাঁড়ানো, চেনা মুখের সঙ্গে গল্প করা একজন।

এই মিশ্র অনুভূতিটাই নতুন প্রজন্মের কাছে তাঁকে আলাদা করে তুলেছিল। একদিকে তিনি ‘তারকা’, অন্যদিকে একেবারে ঘরের ছেলে। পাড়ার ছোটরা অনেকেই হয়তো দূর থেকে তাকিয়ে দেখেছে, কেউ সাহস করে এগিয়ে গিয়ে কথা বলেছে, কেউ আবার চুপচাপ দেখে মুগ্ধ হয়েছে। সেই ছোট ছোট স্মৃতিগুলোই এখন বড় হয়ে উঠছে—কারণ মানুষটা আর সামনে এসে দাঁড়াবেন না।

মঙ্গলবার থেকে পল্লীশ্রীতে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক জীবনের চাকা ঘুরতে শুরু করেছে। দু’দিনের অচলাবস্থার পর মানুষজন আবার কাজে বেরোচ্ছেন। দোকানের শাটার উঠছে, চায়ের কাপে ধোঁয়া উঠছে, রাস্তায় অটো চলছে—সব কিছু যেন আবার নিজের জায়গায় ফিরতে চাইছে। কিন্তু এই ফিরে আসা পুরোপুরি স্বাভাবিক নয়। যেন প্রতিটি কাজের মধ্যেই লেগে আছে এক অদৃশ্য ভার।

মানুষজন কথা বলছেন, কিন্তু আগের মতো স্বতঃস্ফূর্ত নয়। হাসি ফিরছে, কিন্তু তার মধ্যে একটা চাপা টান রয়েছে। চায়ের দোকানে আড্ডা বসছে, কিন্তু আলোচনার ফাঁকে ফাঁকেই ফিরে আসছে সেই একই নাম, একই স্মৃতি। যেন কেউ চাইলেও এই প্রসঙ্গ এড়িয়ে যেতে পারছেন না।

এই অনুভূতিটা অনেকটা এমন—সব কিছু চলছে, তবুও কিছু একটা থেমে আছে। চোখে পড়ে না, কিন্তু অনুভব করা যায়। পাড়ার বাতাসে যেন মিশে আছে এক অদ্ভুত নিস্তব্ধতা, যা শব্দের থেকেও বেশি জোরালো।

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে শোকের তীব্রতা কমে—এটাই স্বাভাবিক নিয়ম। কিন্তু কিছু শোক পুরোপুরি মুছে যায় না, বরং রয়ে যায় অন্য এক রূপে। পল্লীশ্রীর ক্ষেত্রেও যেন সেটাই হতে চলেছে। এই কয়েকটা দিন, এই হঠাৎ ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলো, এই ভিড়, এই কান্না—সব মিলিয়ে তৈরি হয়েছে এক স্মৃতি, যা সহজে মুছে যাওয়ার নয়।

হয়তো কিছুদিন পর আবার সব কিছু আগের মতো হয়ে যাবে। বাচ্চারা রাস্তায় খেলবে, বয়স্করা আড্ডা দেবেন, দোকানে ভিড় বাড়বে, উৎসবের সময় আলোয় ভরে উঠবে পাড়া। বাইরে থেকে দেখলে কেউ বুঝতেও পারবে না, এই পাড়া কোনও এক সময় এত বড় ধাক্কা সামলেছে।

কিন্তু ভেতরে ভেতরে একটা জায়গা খালি থেকেই যাবে। এমন এক শূন্যতা, যার কোনও দৃশ্যমান রূপ নেই, কিন্তু যার উপস্থিতি প্রতিদিন অনুভব করা যায়। কোনও চেনা মুখ হঠাৎ আর দেখা যাবে না, কোনও পরিচিত হাসি আর শোনা যাবে না—এই ছোট ছোট অনুপস্থিতিগুলোই বারবার মনে করিয়ে দেবে, কী হারিয়ে গেছে।

মানুষের জীবনে কিছু সম্পর্ক, কিছু উপস্থিতি এমন হয়, যা শুধুমাত্র ব্যক্তিগত নয়—সমষ্টিগত। ‘বাবিন’ তেমনই একজন হয়ে উঠেছিলেন এই পাড়ার কাছে। তাঁর সাফল্য যেমন পাড়ার গর্ব ছিল, তেমনই তাঁর সহজ-সরল ব্যবহার তাঁকে করে তুলেছিল সবার আপনজন।

তাই তাঁর অনুপস্থিতিও শুধুমাত্র একটি পরিবারের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি—তা ছড়িয়ে পড়েছে গোটা পাড়ায়। প্রত্যেকের জীবনে তাঁর উপস্থিতির ছাপ আলাদা আলাদা ভাবে রয়েছে, আর সেই কারণেই শোকটাও প্রত্যেকের কাছে আলাদা, ব্যক্তিগত।

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মানুষ মানিয়ে নিতে শেখে। পল্লীশ্রীও শিখবে। ধীরে ধীরে জীবনের ছন্দ আবার গতি পাবে। কিন্তু সেই ছন্দের ভিতরেই মিশে থাকবে কিছু থেমে যাওয়া মুহূর্ত, কিছু না-পাওয়া কথা, কিছু অপূর্ণ স্মৃতি।

কারণ, কিছু মানুষ চলে গেলেও, তাঁদের উপস্থিতি কখনও পুরোপুরি মুছে যায় না। তা থেকে যায় চারপাশে—একটা রাস্তায়, যেখানে তিনি হাঁটতেন; একটা গাছের তলায়, যেখানে তিনি বসতেন; একটা চায়ের দোকানে, যেখানে তিনি সময় কাটাতেন। আর সবচেয়ে বেশি, তা থেকে যায় মানুষের মনে—স্মৃতির ভিতরে, অনুভূতির ভিতরে।

পল্লীশ্রী এখন সেই উপস্থিতিকে নিয়েই বাঁচতে শিখছে। শোককে সঙ্গে নিয়েই স্বাভাবিকতার দিকে এগোচ্ছে। হয়তো এই যাত্রা সহজ নয়, কিন্তু এটাই বাস্তব।

ধীরে ধীরে, নিঃশব্দে, পল্লীশ্রী এগিয়ে চলেছে—এক নতুন বাস্তবতার দিকে, যেখানে ‘বাবিন’ নেই, তবুও তিনি আছেন, অন্য একভাবে, অন্য এক উপস্থিতিতে।

Preview image