Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

দিল্লির ১৩৫ বছরের লাইব্রেরি স্থানান্তরের পথে? ৮.৫ লক্ষ বই সংরক্ষণ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে শুনানি

সম্প্রতি সংবাদমাধ্যমের একাধিক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, নতুন করে সাজানো হবে সেন্ট্রাল ভিস্টা। সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে ভেঙে ফেলা হতে পারে লাইব্রেরির পুরনো ভবনটি। অভিযোগ, নতুন সেন্ট্রাল ভিস্টা পরিকল্পনায় ঐতিহ্যবাহী এই লাইব্রেরির জন্য কোনও নির্দিষ্ট জায়গা রাখা হয়নি। এমনকি কিছু প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল, ‘কর্তব্য ভবন-২’-এ লাইব্রেরির জন্য মাত্র দু’টি ঘর বরাদ্দ করা হয়েছে।

 

 

দিল্লির কেন্দ্রীয় সচিবালয়ের ১৩৫ বছরের পুরনো একটি ঐতিহ্যবাহী লাইব্রেরিকে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার বিষয়টি ঘিরে তৈরি হয়েছে জোর বিতর্ক। শাস্ত্রী ভবনে থাকা এই লাইব্রেরিতে রয়েছে প্রায় **৮ লক্ষ ৫০ হাজার বই**। সেন্ট্রাল ভিস্টা পুনর্নির্মাণের পরিকল্পনার জেরে লাইব্রেরির পুরনো ভবনটি ভেঙে ফেলা হতে পারে—এমন খবর প্রকাশ্যে আসার পরই উঠতে শুরু করে একাধিক প্রশ্ন। কোথায় সরানো হবে এত বিপুল সংখ্যক বই? নতুন জায়গায় পর্যাপ্ত পরিকাঠামো থাকবে তো? ঐতিহাসিক বই ও নথিপত্র যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে তো?

 

এই পরিস্থিতিতেই বিষয়টি নিয়ে স্বতঃপ্রণোদিত ভাবে হস্তক্ষেপ করার কথা জানিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। ৩ অক্টোবর এই সংক্রান্ত মামলা রুজু হয়েছে। মামলার প্রথম শুনানি হবে **৫ অক্টোবর, সোমবার**। বিচারপতি সঞ্জয় কুমার এবং বিচারপতি সঞ্জীব সচদেবকে নিয়ে গঠিত বেঞ্চে এই শুনানি হবে।

 

## ১৩৫ বছরের পুরনো লাইব্রেরি ঘিরে বিতর্ক

 

দিল্লির কেন্দ্রীয় সচিবালয়ের শাস্ত্রী ভবনে অবস্থিত এই লাইব্রেরির ইতিহাস দীর্ঘ ১৩৫ বছরের। দীর্ঘ সময় ধরে সরকারি কাজের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের পাশাপাশি পাঠক ও গবেষকদের কাছেও এই লাইব্রেরির গুরুত্ব রয়েছে। এত দীর্ঘ সময়ে লাইব্রেরিতে জমেছে বিপুল সংখ্যক বই ও বিভিন্ন ধরনের সংগ্রহ।

 

বর্তমানে লাইব্রেরিতে প্রায় **৮.৫ লক্ষ বই** রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। ফলে লাইব্রেরির ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই স্বাভাবিক ভাবে সামনে এসেছে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়—শুধু একটি ভবন স্থানান্তর করলেই কি এত বড় সংগ্রহকে নিরাপদে সরানো সম্ভব?

 

কারণ, কয়েক লক্ষ বইকে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় সরিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে শুধু জায়গার পরিমাণই গুরুত্বপূর্ণ নয়। বইগুলির তালিকাভুক্তি, শ্রেণিবিন্যাস, পরিবহণ, সংরক্ষণ এবং ভবিষ্যতে পাঠকদের ব্যবহারের উপযোগী করে রাখার মতো বিষয়গুলিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

 

## কেন সরানোর প্রশ্ন উঠল?

 

সম্প্রতি সংবাদমাধ্যমের কয়েকটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, দিল্লির **সেন্ট্রাল ভিস্টা পুনর্নির্মাণ** করা হবে। সেই পুনর্নির্মাণ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে শাস্ত্রী ভবনের পুরনো ভবনটি ভেঙে ফেলা হতে পারে বলেও রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছিল।

 

এই খবর প্রকাশ্যে আসার পরই লাইব্রেরির ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। কারণ, পুরনো ভবনটি ভেঙে ফেলা হলে সেখানে থাকা বিপুল বই ও অন্যান্য সংগ্রহ কোথায় নিয়ে যাওয়া হবে, সেই প্রশ্ন সামনে আসে।

 

আরও একটি বিষয় নিয়েও আলোচনা শুরু হয়। নতুন সেন্ট্রাল ভিস্টা পরিকল্পনায় এই লাইব্রেরির জন্য নির্দিষ্ট জায়গা রাখা হয়নি বলে কয়েকটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল।

 

অর্থাৎ, নতুন পরিকল্পনায় যদি লাইব্রেরির জন্য পর্যাপ্ত জায়গা না থাকে, তাহলে ৮ লক্ষ ৫০ হাজার বইয়ের মতো বিশাল সংগ্রহকে কোথায় এবং কীভাবে রাখা হবে—তা নিয়ে স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন তৈরি হয়।

 

## ‘কর্তব্য ভবন-২’-এ মাত্র দু’টি ঘর?

 

কিছু সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছিল, ‘কর্তব্য ভবন-২’-এ লাইব্রেরির জন্য মাত্র দু’টি ঘর নির্দিষ্ট করা হয়েছে।

 

এই দাবি সামনে আসার পরই বিতর্ক আরও বাড়ে। কারণ, ৮.৫ লক্ষ বইয়ের সংগ্রহের জন্য মাত্র দু’টি ঘর যথেষ্ট কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।

 

একটি লাইব্রেরির ক্ষেত্রে শুধু বই রাখার তাক থাকলেই হয় না। বই রাখার পাশাপাশি পাঠকদের বসার জায়গা, বই খোঁজার ব্যবস্থা, কর্মীদের কাজের জায়গা, পুরনো ও মূল্যবান বই সংরক্ষণের উপযুক্ত পরিবেশ, রেকর্ড রাখার ব্যবস্থা—একাধিক পরিকাঠামোর প্রয়োজন হয়।

 

বিশেষ করে দীর্ঘদিনের পুরনো সংগ্রহ থাকলে বইগুলির সুরক্ষা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

 

তাই ‘কর্তব্য ভবন-২’-এ যদি সত্যিই মাত্র দু’টি ঘর বরাদ্দ করা হয়ে থাকে, তাহলে সেখানে এত বড় সংগ্রহ কীভাবে রাখা হবে—এই প্রশ্নই উঠে আসে সংশ্লিষ্ট রিপোর্টগুলিতে।

 

## ৮.৫ লক্ষ বই কোথায় যাবে?

 

লাইব্রেরির সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলির একটি হতে পারে বইগুলির স্থানান্তর।

 

শাস্ত্রী ভবনের বর্তমান লাইব্রেরিতে থাকা প্রায় ৮ লক্ষ ৫০ হাজার বইকে অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে যেতে হলে একটি সুপরিকল্পিত ব্যবস্থা প্রয়োজন। কোন বই কোথায় রয়েছে, কোন বই কোন বিভাগে রাখা হবে, কীভাবে বইগুলির তালিকা তৈরি করা হবে এবং স্থানান্তরের পরে পাঠকরা কীভাবে সেগুলি খুঁজে পাবেন—সবকিছুর পরিকল্পনা প্রয়োজন।

 

একটি বই অন্য জায়গায় সরিয়ে রাখার অর্থ শুধু তাক থেকে তুলে অন্য তাকের উপর রাখা নয়। বইয়ের অবস্থান, নম্বর, বিষয়ভিত্তিক শ্রেণিবিন্যাস এবং রেকর্ডের সঙ্গে তার সম্পর্ক বজায় রাখাও জরুরি।

 

বিশেষ করে কোনও বই যদি বহু বছর ধরে লাইব্রেরির সংগ্রহে থাকে, তার সংরক্ষণ আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

 

## শুধু জায়গা নয়, প্রয়োজন উপযুক্ত পরিকাঠামো

 

লাইব্রেরি সরানোর ক্ষেত্রে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হল—নতুন জায়গাটি কেমন হবে?

 

বই রাখার জন্য পর্যাপ্ত জায়গা থাকা যেমন প্রয়োজন, তেমনই প্রয়োজন উপযুক্ত পরিবেশ। বই দীর্ঘদিন ভালো রাখতে তাপমাত্রা, আর্দ্রতা, আলো, ধুলো এবং অন্যান্য পরিবেশগত বিষয়ও বিবেচনা করতে হয়।

 

এ ছাড়া পুরনো ও মূল্যবান বই থাকলে সেগুলির জন্য আলাদা সংরক্ষণ ব্যবস্থা প্রয়োজন হতে পারে।

 

ফলে নতুন ভবনে লাইব্রেরি স্থানান্তরিত হলে শুধু ৮.৫ লক্ষ বই রাখার মতো জায়গা থাকলেই হবে না। সেই বইগুলির দীর্ঘমেয়াদি সংরক্ষণ এবং ব্যবহারযোগ্যতা নিশ্চিত করার মতো পরিকাঠামোও থাকতে হবে।

 

## উঠছে ঐতিহ্য রক্ষার প্রশ্নও

 

১৩৫ বছরের পুরনো কোনও লাইব্রেরির ক্ষেত্রে বিষয়টি শুধু বইয়ের সংখ্যা নিয়ে সীমাবদ্ধ নয়। এত বছরের ইতিহাসের সঙ্গে লাইব্রেরিটির নিজস্ব একটি ঐতিহ্যও জড়িয়ে রয়েছে।

 

বহু বছরের পুরনো সংগ্রহের মধ্যে এমন বই বা নথি থাকতে পারে, যেগুলির ঐতিহাসিক বা গবেষণামূলক গুরুত্ব রয়েছে। সেগুলিকে নতুন জায়গায় সরানোর সময় বিশেষ সতর্কতা প্রয়োজন।

 

এই কারণেই লাইব্রেরি সরানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে আলোচনায় শুধু ‘কোথায় সরানো হবে’ প্রশ্নটি নয়, বরং ‘কীভাবে সংরক্ষণ করা হবে’ প্রশ্নটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

 

## আবাসন মন্ত্রক ও CPWD কী বলছে?

 

সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, **আবাসন ও নগর বিষয়ক মন্ত্রক** এবং **কেন্দ্রীয় পূর্ত দফতর বা CPWD** লাইব্রেরির জন্য নতুন জায়গা খুঁজছে।

 

অর্থাৎ, লাইব্রেরির ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশাসনিক স্তরে কাজ চলছে বলেই ওই রিপোর্টগুলিতে উল্লেখ করা হয়েছিল।

 

তবে এর মধ্যেই আবাসন ও নগর বিষয়ক মন্ত্রকের তরফে ভিন্ন বক্তব্য সামনে এসেছে। মন্ত্রক জানিয়েছে, লাইব্রেরির জন্য জায়গা বরাদ্দ করা হয়েছে।

 

এই বক্তব্যের ফলে বিষয়টি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

 

## মন্ত্রকের দাবি, জায়গা বরাদ্দ হয়েছে

 

আবাসন ও নগর বিষয়ক মন্ত্রকের তরফে সমাজমাধ্যমে একটি পোস্ট করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, কেন্দ্রীয় সচিবালয়ের লাইব্রেরি পুনর্নির্মাণের জন্য **‘কর্তব্য পথ পুনর্নির্মাণ পরিকল্পনা’য় জায়গা বরাদ্দ করা হয়েছে**।

 

শুধু জায়গা বরাদ্দ নয়, লাইব্রেরি নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় নথিপত্র তৈরির কাজও শুরু হয়েছে বলে মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে।

 

অর্থাৎ, সংবাদমাধ্যমের কিছু প্রতিবেদনে যেখানে লাইব্রেরির জন্য জায়গা না থাকার কথা বলা হয়েছিল, সেখানে সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রক জানিয়েছে যে লাইব্রেরির জন্য জায়গা বরাদ্দ করা হয়েছে।

 

এই দুই ধরনের বক্তব্যের মধ্যে পার্থক্যই এখন বিষয়টিকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে।

 

## কেন সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপ?

 

লাইব্রেরি সরানোর বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন সামনে আসার পর সুপ্রিম কোর্ট স্বতঃপ্রণোদিত ভাবে হস্তক্ষেপ করবে বলে জানিয়েছে।

 

৩ অক্টোবর এই সংক্রান্ত মামলা রুজু হয়েছে। এরপর বিচারপতি সঞ্জয় কুমার এবং বিচারপতি সঞ্জীব সচদেবকে নিয়ে একটি বেঞ্চ গঠন করা হয়।

 

এই মামলার প্রথম শুনানি হবে ৫ অক্টোবর, সোমবার।

 

ফলে শুনানিতে মূলত কোন বিষয়গুলি উঠে আসে, আদালত কী জানতে চায় এবং লাইব্রেরির ভবিষ্যৎ নিয়ে কী নির্দেশ বা পর্যবেক্ষণ সামনে আসে, সেদিকেই এখন নজর রয়েছে।

 

## লাইব্রেরি সরানো হলেও কী হবে বইগুলির?

 

লাইব্রেরি অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হলে সবচেয়ে বড় দায়িত্ব হবে বইগুলির সুরক্ষা নিশ্চিত করা।

 

news image
আরও খবর

প্রায় ৮.৫ লক্ষ বইয়ের সংগ্রহকে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় নিয়ে যাওয়া অত্যন্ত বড় প্রশাসনিক ও প্রযুক্তিগত কাজ। বইগুলির যাতে কোনও ক্ষতি না হয়, কোনও বই যাতে হারিয়ে না যায় এবং পুরো সংগ্রহের তালিকা যাতে অক্ষুণ্ণ থাকে, তা নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ।

 

এর পাশাপাশি নতুন জায়গায় বইগুলি কীভাবে সাজানো হবে, তা নিয়েও পরিকল্পনা প্রয়োজন।

 

একটি বড় লাইব্রেরির ক্ষেত্রে বইয়ের শ্রেণিবিন্যাস পাঠকদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোনও বই নতুন জায়গায় গেলেও যদি সেটির অবস্থান বা রেকর্ড খুঁজে পাওয়া কঠিন হয়, তাহলে লাইব্রেরির কার্যকারিতা কমে যেতে পারে।

 

## পাঠকদের জন্য কী পরিবর্তন আসতে পারে?

 

লাইব্রেরি অন্যত্র সরানো হলে পাঠকদের জন্যও কিছু পরিবর্তন আসতে পারে। নতুন ভবনের অবস্থান, প্রবেশের ব্যবস্থা, বই খোঁজার পদ্ধতি এবং পাঠকক্ষের পরিকাঠামো—সবকিছুর উপর তার প্রভাব পড়তে পারে।

 

তবে নতুন ভবন যদি আধুনিক পরিকাঠামো দিয়ে তৈরি হয়, তাহলে ভবিষ্যতে লাইব্রেরির পরিষেবা আরও উন্নত করার সুযোগও থাকতে পারে।

 

সেক্ষেত্রে পুরনো ঐতিহ্য বজায় রাখার পাশাপাশি আধুনিক লাইব্রেরি ব্যবস্থার সুবিধা যুক্ত করা সম্ভব হতে পারে।

 

## সেন্ট্রাল ভিস্টা পুনর্নির্মাণের সঙ্গে লাইব্রেরির ভবিষ্যৎ

 

সেন্ট্রাল ভিস্টা পুনর্নির্মাণের পরিকল্পনা দিল্লির কেন্দ্রীয় প্রশাসনিক এলাকার পরিকাঠামোর সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। সেই পরিকল্পনার মধ্যে একাধিক সরকারি ভবন ও দফতরের ভবিষ্যৎ নিয়ে পরিবর্তনের বিষয় রয়েছে।

 

এই বৃহত্তর পুনর্নির্মাণ পরিকল্পনার মধ্যেই ১৩৫ বছরের পুরনো লাইব্রেরির ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

 

একদিকে রয়েছে আধুনিক প্রশাসনিক পরিকাঠামো তৈরির পরিকল্পনা, অন্যদিকে রয়েছে দীর্ঘদিনের একটি গুরুত্বপূর্ণ লাইব্রেরির সংগ্রহ ও ঐতিহ্য সংরক্ষণের প্রশ্ন।

 

তাই লাইব্রেরির ভবিষ্যৎ নিয়ে সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে দুই দিকের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

 

## ‘কর্তব্য পথ পুনর্নির্মাণ পরিকল্পনা’য় জায়গা থাকলে কী হবে?

 

আবাসন ও নগর বিষয়ক মন্ত্রকের বক্তব্য অনুযায়ী, ‘কর্তব্য পথ পুনর্নির্মাণ পরিকল্পনা’য় লাইব্রেরির পুনর্নির্মাণের জন্য জায়গা বরাদ্দ করা হয়েছে।

 

এই বক্তব্য সত্য হলে লাইব্রেরি পুরোপুরি হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা নেই। বরং নতুন জায়গায় লাইব্রেরিকে পুনর্গঠন করার পরিকল্পনা রয়েছে বলেই ধরে নেওয়া যায়।

 

তবে প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে—নতুন জায়গাটি কতটা বড়? সেখানে ৮.৫ লক্ষ বই রাখার মতো পরিকাঠামো থাকবে কি না? পুরনো বইগুলির জন্য বিশেষ সংরক্ষণ ব্যবস্থা থাকবে কি না? এবং নতুন লাইব্রেরিতে পাঠকদের জন্য পর্যাপ্ত জায়গা থাকবে কি না?

 

এই প্রশ্নগুলির উত্তরই আগামী দিনের পরিকল্পনার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।

 

## পুরনো ভবন বনাম নতুন লাইব্রেরি

 

পুরনো ভবন ভেঙে নতুন ভবন তৈরি হলে একটি ঐতিহাসিক স্থাপত্যের সঙ্গে লাইব্রেরির পুরনো ঠিকানার সম্পর্ক শেষ হতে পারে। কিন্তু লাইব্রেরির মূল সম্পদ হল তার বই এবং জ্ঞানভাণ্ডার।

 

তাই ভবন পরিবর্তন হলেও সংগ্রহের ধারাবাহিকতা যেন নষ্ট না হয়, সেটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

 

নতুন ভবন তৈরি হলে সেখানে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে বই সংরক্ষণ, ডিজিটাল ক্যাটালগ, উন্নত পাঠকক্ষ এবং আরও ভালো ব্যবস্থাপনার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

 

তবে সেই উন্নয়নের পাশাপাশি পুরনো সংগ্রহের ঐতিহাসিক মূল্যও সমান গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে।

 

## আদালতের শুনানির দিকে নজর

 

৩ অক্টোবর মামলা রুজু হওয়ার পর এখন ৫ অক্টোবরের শুনানির দিকে নজর রয়েছে। বিচারপতি সঞ্জয় কুমার এবং সঞ্জীব সচদেবের বেঞ্চে মামলাটির প্রথম শুনানি হবে।

 

এই শুনানিতে লাইব্রেরির স্থানান্তর, নতুন জায়গা, বই সংরক্ষণ এবং সংশ্লিষ্ট পরিকল্পনা নিয়ে কী আলোচনা হয়, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ।

 

আদালতের হস্তক্ষেপের ফলে বিষয়টি এখন আরও স্পষ্টভাবে আলোচনায় এসেছে। একদিকে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে লাইব্রেরির জন্য জায়গা নিয়ে উদ্বেগ, অন্যদিকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রক জানিয়েছে যে লাইব্রেরির পুনর্নির্মাণের জন্য জায়গা বরাদ্দ করা হয়েছে।

 

ফলে প্রকৃত পরিকল্পনা কী এবং ১৩৫ বছরের পুরনো এই লাইব্রেরির ভবিষ্যৎ কী হতে চলেছে, তা নিয়ে সোমবারের শুনানি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

 

## ৮.৫ লক্ষ বই—শুধু সংখ্যা নয়, এক দীর্ঘ ইতিহাস

 

এই পুরো বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে ৮ লক্ষ ৫০ হাজার বই। সংখ্যাটি নিছক একটি পরিসংখ্যান নয়। এই বিপুল সংগ্রহের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে দীর্ঘদিনের পাঠ, গবেষণা এবং সরকারি প্রশাসনের ইতিহাস।

 

একটি বইয়ের মূল্য শুধু তার পৃষ্ঠার সংখ্যায় নির্ধারিত হয় না। কোনও বই বহু বছর ধরে পাঠকের হাতে ঘুরেছে, কোনও বই হয়তো গবেষণার গুরুত্বপূর্ণ উৎস, আবার কোনও বইয়ের মূল্য তার পুরনো সংস্করণ বা ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে।

 

তাই এত বড় সংগ্রহের স্থানান্তরের ক্ষেত্রে প্রতিটি বইয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

 

## লাইব্রেরির ভবিষ্যৎ নিয়ে যে প্রশ্নগুলির উত্তর জরুরি

 

সুপ্রিম কোর্টে শুনানির আগে একাধিক প্রশ্ন সামনে রয়েছে—

 

* লাইব্রেরির নতুন ঠিকানা কোথায় হবে?

* নতুন ভবনের আয়তন কত হবে?

* ৮.৫ লক্ষ বই রাখার জন্য পর্যাপ্ত জায়গা থাকবে কি?

* পুরনো ও গুরুত্বপূর্ণ বই কীভাবে সংরক্ষণ করা হবে?

* স্থানান্তরের সময় বইয়ের ক্ষতি বা হারিয়ে যাওয়া ঠেকাতে কী ব্যবস্থা থাকবে?

* নতুন লাইব্রেরিতে পাঠকদের জন্য পর্যাপ্ত জায়গা থাকবে কি?

* পুরনো লাইব্রেরির সংগ্রহের ক্যাটালগ ও রেকর্ড কীভাবে সংরক্ষণ করা হবে?

* নতুন ভবনে আধুনিক লাইব্রেরি ব্যবস্থাপনা যুক্ত করা হবে কি?

* ‘কর্তব্য ভবন-২’-এ লাইব্রেরির জন্য নির্দিষ্ট জায়গা নিয়ে প্রকাশিত রিপোর্টগুলির বাস্তবতা কী?

* মন্ত্রকের দাবি অনুযায়ী ‘কর্তব্য পথ পুনর্নির্মাণ পরিকল্পনা’য় যে জায়গা বরাদ্দ হয়েছে, সেটি কতটা বড় এবং কী ধরনের?

 

এই প্রশ্নগুলির উত্তর পাওয়া গেলে লাইব্রেরির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে আরও পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যাবে।

 

## ঐতিহ্য ও আধুনিকতার মধ্যে ভারসাম্য

 

দিল্লির কেন্দ্রীয় সচিবালয়ের এই ১৩৫ বছরের পুরনো লাইব্রেরিকে ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্ক আসলে ঐতিহ্য এবং আধুনিকতার মধ্যে ভারসাম্য রাখার একটি বড় প্রশ্নও সামনে আনছে।

 

একদিকে নতুন প্রশাসনিক পরিকাঠামো তৈরি এবং সেন্ট্রাল ভিস্টার পুনর্নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। অন্যদিকে রয়েছে দীর্ঘদিনের পুরনো একটি লাইব্রেরি, যার সংগ্রহে রয়েছে প্রায় ৮.৫ লক্ষ বই।

 

আধুনিকীকরণের প্রয়োজন অস্বীকার করা যায় না। একই সঙ্গে ঐতিহাসিক সংগ্রহ সংরক্ষণের গুরুত্বও কম নয়। ফলে লাইব্রেরির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় দু’টি বিষয়কেই গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

 

## সোমবারের শুনানিই এখন নজরে

 

সব মিলিয়ে দিল্লির ১৩৫ বছরের পুরনো কেন্দ্রীয় সচিবালয়ের লাইব্রেরিকে ঘিরে পরিস্থিতি এখন গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে পৌঁছেছে।

 

শাস্ত্রী ভবনের পুরনো ভবন ভাঙা হলে লাইব্রেরি কোথায় যাবে, নতুন জায়গায় ৮.৫ লক্ষ বইয়ের জন্য পর্যাপ্ত ব্যবস্থা থাকবে কি না এবং ঐতিহাসিক সংগ্রহ কীভাবে সংরক্ষণ করা হবে—এই প্রশ্নগুলির পাশাপাশি সরকারের বক্তব্যও সামনে এসেছে।

 

আবাসন ও নগর বিষয়ক মন্ত্রক জানিয়েছে, লাইব্রেরির পুনর্নির্মাণের জন্য ‘কর্তব্য পথ পুনর্নির্মাণ পরিকল্পনা’য় জায়গা বরাদ্দ করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় নথিপত্র তৈরির কাজ শুরু হয়ে

ছে।

 

এখন আদালতের শুনানিতে বিষয়টি কোন দিকে এগোয়, সেটাই দেখার। **৫ অক্টোবর, সোমবার সুপ্রিম কোর্টের প্রথম শুনানির পর ১৩৫ বছরের পুরনো এই লাইব্রেরির ভবিষ্যৎ নিয়ে আরও স্পষ্ট ছবি সামনে আসতে পারে।**

Preview image