ভাইফোঁটার আনন্দ থাকলেও এবার জিতের দিন কাটল মায়ের অসুস্থতার কারণে চুপচাপ।একই শহরে থেকেও শুভশ্রীর ফোঁটা নেওয়া হল না—মায়ের অসুস্থতা ছড়ালো ভাবনা।পেশাগত বন্ধন ও মমতার স্মৃতিই এবার ভাইফোঁটার সান্ত্বনা।জিত এবার থাকলেন শুধুই অনুভবের সঙ্গে—দূরত্বে থেকেও সম্পর্কের উষ্ণতা বজায়।মায়ের অসুস্থতা ও পরিবারের যত্নের কারণে এবারের ভাইফোঁটা শান্ত, কিন্তু আবেগপূর্ণ।
ভাইফোঁটার দিন পশ্চিমবঙ্গের বাঙালি পরিবারে আনন্দ, উৎসব, ভালোবাসা এবং ঘনিষ্ঠতার প্রতীক। প্রতি বছরের এই দিনে ভাই-বোনেরা একে অপরকে ফোঁটা দিয়ে, মিষ্টি আর উপহার দিয়ে সম্পর্কের উষ্ণতা উদযাপন করে। যাদের জীবনে পেশাগত ব্যস্ততা এবং দূরত্ব রয়েছে, তাদের জন্যও ভাইফোঁটার দিন একটি বিশেষ মুহূর্ত। প্রতিবার এই দিনটিতে সঙ্গীত পরিচালক জিত গঙ্গোপাধ্যায়ের জীবনে একটি অঘোষিত রীতি হিসেবে আসে শুভশ্রীর বাড়িতে ফোঁটা দেওয়া। এই রীতি শুধু পেশাগত বন্ধনের পরিচায়ক নয়, ব্যক্তিগতভাবে জিত ও শুভশ্রীর মাঝে একটি প্রগাঢ় ‘বোন-ভাই’র সম্পর্কের প্রতীক।
তবে এবারের ভাইফোঁটা অন্যরকম হয়ে গেল। জিতের মা হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। ফুসফুসে অক্সিজেনের সরবরাহ কমে যাওয়ায় তাঁকে অবিলম্বে বাইপাস সংলগ্ন একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়। চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে ধীরে ধীরে তিনি সুস্থ হতে শুরু করেছেন, কিন্তু এই পরিস্থিতি জিতের মনকে গভীর চিন্তায় ফেলে। মায়ের অসুস্থতা ছাড়াও নিজে ভাইরাল জ্বরে আক্রান্ত ছিলেন জিত, আর পাশে স্ত্রী চন্দ্রাণীও একইভাবে অসুস্থ। ফলে পুরো পরিবার একসঙ্গে বিশ্রামে কাটাচ্ছে দিন।
জিতের কাছে ভাইফোঁটার দিন শুধু আনন্দের নয়; এটি একটি আবেগময় স্মৃতি। প্রতি বছর শুভশ্রীর হাতে ফোঁটা নিয়ে, একসঙ্গে ভুরিভোজে বসা যেন তার জন্য এক বিশেষ আয়োজন। ‘চ্যালেঞ্জ’, ‘রোমিও’, ‘বস’—অনেক হিট ছবির গান জিত ও শুভশ্রীর পেশাগত বন্ধনের সাক্ষী। তবে বন্ধনটি শুধুই পেশাগত নয়; শুভশ্রী জিতের কাছে কেবল একজন অভিনেত্রী নন, বরং নিজের মতো করে ‘বোন’। ভাইফোঁটার এই রীতিকে সে বছরের ছোট্ট উৎসব হিসেবেই পালন করে।
গত বছরও দুর্ঘটনার কারণে জিত উপস্থিত থাকতে পারেননি। ২০২১ সালে প্রথমবার ফোঁটা নেওয়ার পর তিনি বলেছেন, “বোনের ফোঁটা পেয়ে খুব ভালো লাগছে।” সেই স্মৃতি, সেই আনন্দই এবারও তাকে ভেতরে থেকে উৎসাহিত করছে। যদিও শারীরিকভাবে দূরে ছিলেন, হৃদয়ে আবেগের উষ্ণতা অটুট রয়েছে।
ভাইফোঁটার দিনটি সাধারণত মিষ্টি, উপহার, আনন্দ এবং পারিবারিক মিলনের জন্য পরিচিত। পরিবার এবং বন্ধুদের সঙ্গে কাটানো মুহূর্তগুলো মানসিক শান্তি এবং আবেগের শক্তি যোগায়। জিত ও শুভশ্রীর সম্পর্কও ঠিক সেই রকম। যেসব বছর তারা একসঙ্গে উৎসব উদযাপন করেছেন, সেই মুহূর্তগুলো শুধুমাত্র রীতিনীতির অংশ নয়, বরং সম্পর্কের গভীর বন্ধন তৈরির এক শক্ত ভিত্তি।
এবারও, যদিও ফোঁটা নেওয়া সম্ভব হয়নি, জিত ও শুভশ্রীর সম্পর্কের উষ্ণতা কমেনি। শুভশ্রীও জানেন, সম্পর্কের মজবুত বন্ধন ফোঁটার অভাবে শিথিল হয় না। বরং দূরত্বের মধ্যেও থাকে মমতার উষ্ণতা। এই দূরত্ব, অসুস্থতা এবং শারীরিক সীমাবদ্ধতা তাদের বন্ধনকে আরও শক্তিশালী করেছে।
জিতের জীবনে পরিবার এবং পেশাগত বন্ধন সর্বদা গুরুত্বপূর্ণ। মায়ের অসুস্থতা, নিজের জ্বর এবং স্ত্রী চন্দ্রাণীর অসুস্থতার মধ্যে দিয়ে তিনি শিখেছেন, কখনও কখনও জীবনের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলো ধৈর্য এবং সহমর্মিতার মাধ্যমে কাটাতে হয়। ভাইফোঁটার দিন এবারের জন্য চুপচাপ হলেও অনুভবে ভরা, যা সম্পর্কের মজবুত ভিত্তি হিসেবে কাজ করছে।
এই ধরনের পরিস্থিতি আমাদের শেখায় যে, উৎসব শুধুমাত্র বাহ্যিক আয়োজনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এটি অনুভূতি, সম্পর্ক এবং একে অপরের প্রতি যত্নের প্রতিফলনও। জিত ও শুভশ্রীর সম্পর্ক, যা দীর্ঘদিন ধরে পেশাগত এবং ব্যক্তিগত বন্ধনের মাধ্যমে গড়ে উঠেছে, তার প্রকৃত অর্থই ফুটে ওঠে এই মুহূর্তে।
অতীতের স্মৃতিগুলো, বিশেষত গত বছরের স্মৃতি, এখন জিতের কাছে সান্ত্বনার উৎস। ভাইফোঁটার আনন্দ, মিষ্টি, ফোঁটা এবং উপহার—সবকিছু এবার দূরে থাকলেও মনে রয়েছে। স্মৃতিগুলি একটি অভ্যন্তরীণ উৎসবের মতো, যা জিতকে উদ্দীপ্ত রাখছে। তিনি জানেন যে, দূরত্ব শুধুমাত্র শারীরিক, কিন্তু হৃদয়ে সম্পর্কের উষ্ণতা অটুট।
ফলে এবারের ভাইফোঁটা চুপচাপ হলেও তা সম্পূর্ণ অর্থবহ। সম্পর্কের গভীরতা, মমতা এবং পারিবারিক বন্ধনের শক্তি এই চুপচাপ মুহূর্তের মধ্যে ফুটে উঠেছে। জিত এবং শুভশ্রীর জন্য ভাইফোঁটার দিন শুধুই একটি উৎসব নয়; এটি একটি আবেগময় সংযোগের প্রতীক।
এভাবেই জীবন আমাদের শেখায় যে, কখনও কখনও দূরত্ব, অসুস্থতা বা পরিস্থিতির বাধা স্বাভাবিক আয়োজনকে থামাতে পারে, কিন্তু সত্যিকারের সম্পর্ক এবং মমতা কখনও ক্ষয় হয় না। সম্পর্কের মূল শক্তি অনুভূতিতে, স্মৃতিতে এবং পারস্পরিক যত্নে নিহিত। এবারের ভাইফোঁটা জিতের জীবনে সেই শক্তির পুনঃপ্রতিফলন ঘটিয়েছে।
এই ছোট্ট চুপচাপ দিনটি, যদিও বহিরাগত দৃষ্টিতে সাধারণ মনে হতে পারে, জিতের জন্য গভীর অর্থ বহন করছে। মায়ের সুস্থতা, পরিবারের যত্ন এবং শুভশ্রীর প্রতি গভীর ভালোবাসা—সবকিছু মিলিয়ে এবারের ভাইফোঁটা হয়ে উঠেছে অনুভূতির এক অনন্য অধ্যায়।
শেষে বলা যায়, জীবনের ছোট ছোট মুহূর্তগুলোই সবচেয়ে বড় শিক্ষা দেয়। সম্পর্কের শক্তি, অনুভূতির গভীরতা এবং পারিবারিক বন্ধনের মূল্য এই ধরনের পরিস্থিতিতে স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ভাইফোঁটার দিন, চুপচাপ হলেও, জিতের জীবনে আবেগ, ভালোবাসা এবং সম্পর্কের শক্তিকে আরও দৃঢ় করেছে।