অস্ট্রেলিয়া শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে। সিডনিতে জয়ের ফলে চলতি বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে আটটির মধ্যে সাতটি টেস্ট জিতে তাদের পয়েন্ট শতাংশ দাঁড়িয়েছে ৮৭.৫। অন্যদিকে ইংল্যান্ডের হারে পয়েন্ট শতাংশ কমে ৩৫.১৯ থেকে নেমে এসেছে ৩১.৬৬-তে
সিডনিতে শেষ টেস্টে দাপুটে জয় তুলে নিয়ে ৪–১ ব্যবধানে অ্যাশেজ় সিরিজ় নিজেদের ঝুলিতে পুরে নিল অস্ট্রেলিয়া। এই জয়ের মধ্য দিয়ে শুধু ঐতিহ্যবাহী অ্যাশেজ়ে আধিপত্যই নয়, চলতি বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপেও নিজেদের অবস্থান আরও দৃঢ় করল অসিরা। সিরিজ়ের শেষ ম্যাচে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে প্যাট কামিন্সের নেতৃত্বাধীন অস্ট্রেলিয়া প্রমাণ করে দিল, লাল বলের ক্রিকেটে তারা এখনও বিশ্বের সবচেয়ে ধারাবাহিক ও শক্তিশালী দল।
অ্যাশেজ় মানেই শুধু দুই দলের লড়াই নয়, এটি টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও গর্বের প্রতীক। সেই মঞ্চে আবারও নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব দেখাল অস্ট্রেলিয়া। সিডনি টেস্টে জয় ছিল পরিকল্পিত, নিয়ন্ত্রিত এবং পেশাদারিত্বে ভরপুর। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ম্যাচের রাশ নিজেদের হাতে রেখে ইংল্যান্ডকে কার্যত কোনও সুযোগই দেয়নি তারা। ব্যাটিং, বোলিং এবং ফিল্ডিং—তিন বিভাগেই ইংল্যান্ডের থেকে অনেকটাই এগিয়ে ছিল অসিরা।
এই সিরিজ় জয়ের ফলে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট তালিকায় শীর্ষে নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করল অস্ট্রেলিয়া। চলতি চক্রে এখন পর্যন্ত আটটি টেস্ট খেলেছে তারা, যার মধ্যে সাতটিতেই জয় এসেছে। এই পারফরম্যান্স অস্ট্রেলিয়ার ধারাবাহিকতা ও মানসিক দৃঢ়তারই প্রমাণ। বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে মোট পয়েন্টের পাশাপাশি পয়েন্টের শতকরা হিসাবই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সূচক। সেই হিসেবে অস্ট্রেলিয়ার পয়েন্ট শতাংশ এখন ৮৭.৫, যা তাদের প্রতিদ্বন্দ্বীদের তুলনায় অনেকটাই এগিয়ে রেখেছে।
সিডনি টেস্টের আগে অস্ট্রেলিয়ার পয়েন্ট শতাংশ ছিল ৮৫.৭১। শেষ ম্যাচ জেতার ফলে সেই শতাংশ আরও বেড়েছে। এই সামান্য সংখ্যার পরিবর্তনই আসলে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের মতো প্রতিযোগিতায় বড় পার্থক্য গড়ে দেয়। কারণ সব দল সমান সংখ্যক ম্যাচ খেলে না। তাই পয়েন্ট শতাংশ যত বেশি হবে, ফাইনালে পৌঁছনোর সম্ভাবনাও তত বাড়বে। সেই দিক থেকে অস্ট্রেলিয়া এখন কার্যত নিরাপদ জায়গায় দাঁড়িয়ে।
অন্যদিকে, এই সিডনি টেস্ট ইংল্যান্ডের জন্য ছিল হতাশার। অ্যাশেজ় সিরিজ়ে একের পর এক সুযোগ হাতছাড়া করেছে তারা। কিছু ম্যাচে জয়ের সম্ভাবনা থাকলেও গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে ব্যাটিং ধস ও বোলিংয়ে ধারাবাহিকতার অভাব ইংল্যান্ডকে ভুগিয়েছে। এর ফলেই সিরিজ় শেষ হল ৪–১ ব্যবধানে। শুধু সিরিজ় হার নয়, বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট তালিকাতেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।
ইংল্যান্ডের পয়েন্ট শতাংশ এই হারের ফলে ৩৫.১৯ থেকে কমে দাঁড়িয়েছে ৩১.৬৬-এ। যদিও পয়েন্ট শতাংশ কমেছে, তবুও পয়েন্ট তালিকায় তাদের অবস্থান বদলায়নি। তারা আগের মতোই সপ্তম স্থানে রয়েছে। তবে এই সংখ্যা স্পষ্ট করে দিচ্ছে, বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের দৌড়ে ইংল্যান্ড অনেকটাই পিছিয়ে পড়েছে। ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন কার্যত কঠিন হয়ে উঠেছে তাদের জন্য।
এই পরিস্থিতিতে ভারতের দিকেও স্বাভাবিকভাবেই নজর পড়ছে। ইংল্যান্ড হারায় পয়েন্ট তালিকায় ভারতের সরাসরি কোনও স্থান পরিবর্তন হয়নি। তবে ইংল্যান্ডের সঙ্গে পয়েন্ট শতাংশের ব্যবধান বেড়েছে, যা ভারতের জন্য অবশ্যই ইতিবাচক। বর্তমানে ভারত রয়েছে ইংল্যান্ডের ঠিক উপরে। শুভমন গিলের নেতৃত্বে ভারতীয় দল নয়টি টেস্টের মধ্যে চারটিতে জয় পেয়েছে এবং একটি ম্যাচ ড্র করেছে। এর ভিত্তিতে ভারতের পয়েন্ট শতাংশ দাঁড়িয়েছে ৪৮.১৫।
যদিও ভারত ইংল্যান্ডের থেকে এগিয়ে রয়েছে, তবুও শীর্ষ চারে জায়গা করে নেওয়া এখনও সহজ নয়। শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তান ভারতের থেকে এগিয়ে রয়েছে। শ্রীলঙ্কা চতুর্থ স্থানে রয়েছে ৬৬.৬৭ শতাংশ পয়েন্ট নিয়ে এবং পাকিস্তান পঞ্চম স্থানে রয়েছে ৫০ শতাংশ পয়েন্ট নিয়ে। ফলে ভারতের সামনে এখনও কঠিন সমীকরণ অপেক্ষা করছে। বাকি ম্যাচগুলোতে ধারাবাহিক জয় না এলে ফাইনালের স্বপ্ন পূরণ করা কঠিন হবে।
অস্ট্রেলিয়ার পরে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে নিউ জ়িল্যান্ড। তাদের পয়েন্ট শতাংশ ৭৭.৭৮। তৃতীয় স্থানে রয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা, যাদের পয়েন্ট শতাংশ ৭৫। এই দুই দলও ফাইনালের দৌড়ে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী। তবে অস্ট্রেলিয়ার ধারাবাহিকতা ও আত্মবিশ্বাস তাদের বাকিদের থেকে এগিয়ে রেখেছে।
তালিকার নীচের দিকে তাকালে ছবিটা আরও স্পষ্ট হয়। বাংলাদেশ ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ় রয়েছে শেষ দু’টি স্থানে। বাংলাদেশের পয়েন্ট শতাংশ ১৬.৬৭ এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের মাত্র ৪.১৭। এই পরিসংখ্যানই বলে দেয়, চলতি বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে এই দুই দল কতটা সমস্যায় রয়েছে।
সব মিলিয়ে সিডনি টেস্ট ও অ্যাশেজ় সিরিজ়ের ফলাফল বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলেছে। অস্ট্রেলিয়া নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব আরও একবার প্রমাণ করেছে। ইংল্যান্ড পিছিয়ে পড়েছে। ভারত পরোক্ষভাবে কিছুটা সুবিধা পেয়েছে, যদিও পথ এখনও কঠিন। সামনে প্রতিটি টেস্ট ম্যাচই হয়ে উঠবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ সামান্য এক জয় বা হারই বদলে দিতে পারে পয়েন্ট তালিকার ছবি।
বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ যত এগোচ্ছে, ততই বাড়ছে উত্তেজনা। অস্ট্রেলিয়া এই মুহূর্তে শীর্ষে থাকলেও বাকি দলগুলির লড়াই এখনও শেষ হয়নি। আগামী মাসগুলোতে টেস্ট ক্রিকেটে যে আরও নাটকীয় মোড় আসতে চলেছে, তা বলাই বাহুল্য।
।
সিডনি টেস্টে জয় পাওয়ার আগেও বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট তালিকায় শীর্ষে ছিল অস্ট্রেলিয়া। তবে এই ম্যাচ জেতার ফলে সেই শীর্ষস্থান শুধু বজায় থাকল না, বরং ব্যবধান আরও স্পষ্ট হয়ে উঠল। চলতি বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ চক্রে এখন পর্যন্ত আটটি টেস্ট খেলেছে অস্ট্রেলিয়া, যার মধ্যে সাতটিতেই জয় এসেছে। একটি মাত্র ম্যাচে তারা জয় পায়নি। এই অসাধারণ পারফরম্যান্সের ফলেই তাদের মোট পয়েন্ট দাঁড়িয়েছে ৮৪। পয়েন্টের শতকরা হিসাব অনুযায়ী অস্ট্রেলিয়ার বর্তমান পয়েন্ট শতাংশ ৮৭.৫, যা সিডনি টেস্টের আগে ছিল ৮৫.৭১।
বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে পয়েন্ট শতাংশই মূল নির্ধারক। কারণ সব দল সমান সংখ্যক ম্যাচ খেলে না। এই পদ্ধতিতে প্রতিটি দলের প্রাপ্ত মোট পয়েন্টকে সম্ভাব্য সর্বোচ্চ পয়েন্ট দিয়ে ভাগ করে শতকরা হিসাব করা হয়। সেই হিসেবে অস্ট্রেলিয়া এখন অনেকটাই এগিয়ে রয়েছে অন্য সব দলের তুলনায়। শুধু জয়সংখ্যা নয়, জয়গুলির ধারাবাহিকতাই তাদের এই জায়গায় পৌঁছে দিয়েছে।
অন্যদিকে, এই সিডনি টেস্ট ইংল্যান্ডের কাছে শুধু একটি ম্যাচ হার নয়, বরং পয়েন্ট টেবিলে আরও পিছিয়ে পড়ার যন্ত্রণা বয়ে এনেছে। এই হারের ফলে ইংল্যান্ডের পয়েন্ট শতাংশ ৩৫.১৯ থেকে নেমে এসেছে ৩১.৬৬-এ। যদিও পয়েন্ট শতাংশ কমেছে, তবুও তাদের অবস্থানে কোনও পরিবর্তন হয়নি। ইংল্যান্ড আগের মতোই সপ্তম স্থানে রয়েছে। তবে এই পরিসংখ্যানই বলছে, চলতি বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে ইংল্যান্ড কতটা কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছে।
ইংল্যান্ডের টেস্ট ক্রিকেটে সাম্প্রতিক সময়ের ‘বাজবল’ দর্শন নিয়ে বহু আলোচনা হয়েছে। আক্রমণাত্মক ক্রিকেট, দ্রুত রান তোলার চেষ্টা এবং ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পরিকল্পনা—সব মিলিয়ে সাদা বলের মতো মানসিকতা লাল বলেও প্রয়োগ করার চেষ্টা করছে তারা। তবে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে সেই দর্শন যে পুরোপুরি সফল হয়নি, তা এই অ্যাশেজ় সিরিজ়ই প্রমাণ করে দিল। একের পর এক টেস্টে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে ভুল সিদ্ধান্ত ও ব্যাটিং ধস ইংল্যান্ডকে ভুগিয়েছে।
ইংল্যান্ডের এই হারের প্রভাব ভারতের দিকেও নজর কাড়ছে। অনেকেই আশা করেছিলেন, ইংল্যান্ড হারলে পয়েন্ট তালিকায় হয়তো ভারতের অবস্থানে কোনও সরাসরি সুবিধা হবে। বাস্তবে যদিও তা হয়নি। ইংল্যান্ড হারলেও পয়েন্ট তালিকায় ভারতের স্থান অপরিবর্তিত রয়েছে। তবুও এই হারের একটি বড় ইতিবাচক দিক রয়েছে ভারতের জন্য—ইংল্যান্ডের সঙ্গে পয়েন্ট শতাংশের ব্যবধান আরও বেড়েছে।
বর্তমানে ভারত রয়েছে ইংল্যান্ডের ঠিক উপরে। শুভমন গিলের নেতৃত্বে থাকা ভারতীয় দল এখনও পর্যন্ত নয়টি টেস্ট খেলেছে। তার মধ্যে চারটিতে জয় এসেছে, একটি ম্যাচ ড্র হয়েছে, আর বাকি ম্যাচগুলোতে হার স্বীকার করতে হয়েছে। এই পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে ভারতের পয়েন্ট শতাংশ দাঁড়িয়েছে ৪৮.১৫। ইংল্যান্ডের ৩১.৬৬ শতাংশের তুলনায় ভারত এখন অনেকটাই এগিয়ে। এই ব্যবধান ভবিষ্যতের ম্যাচগুলিতে ভারতের জন্য বড় সুবিধা হয়ে উঠতে পারে।
তবে বাস্তব চিত্র হল, ভারত এখনও পয়েন্ট তালিকার প্রথম তিন বা চার নম্বর জায়গায় নেই। ভারত রয়েছে শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তানেরও নীচে। শ্রীলঙ্কা এখন চতুর্থ স্থানে, তাদের পয়েন্ট শতাংশ ৬৬.৬৭। পাকিস্তান পঞ্চম স্থানে রয়েছে, পয়েন্ট শতাংশ ৫০। এই দুই দলই ধারাবাহিকভাবে ম্যাচ জিতে ভারতের থেকে এগিয়ে রয়েছে। ফলে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে পৌঁছতে হলে ভারতের সামনে এখনও কঠিন লড়াই বাকি।
অস্ট্রেলিয়ার ঠিক পরেই দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে নিউ জ়িল্যান্ড। কিউইদের পয়েন্ট শতাংশ ৭৭.৭৮। তুলনামূলকভাবে কম ম্যাচ খেলেও ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের কারণে তারা এখনও ফাইনালের দৌড়ে শক্ত জায়গায় রয়েছে। তৃতীয় স্থানে রয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা, যাদের পয়েন্ট শতাংশ ৭৫। দুই দলই অস্ট্রেলিয়ার কাছাকাছি থাকলেও ব্যবধান এখনও স্পষ্ট।
এই পয়েন্ট তালিকা দেখলে পরিষ্কার বোঝা যায়, বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ এখন মূলত তিনটি স্তরে ভাগ হয়ে গেছে। প্রথম স্তরে রয়েছে অস্ট্রেলিয়া, নিউ জ়িল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকা—যারা ফাইনালের প্রধান দাবিদার। দ্বিতীয় স্তরে রয়েছে শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তান ও ভারত—যারা এখনও সুযোগের দৌড়ে রয়েছে, তবে ধারাবাহিক জয় ছাড়া ফাইনালে পৌঁছনো কঠিন। তৃতীয় স্তরে রয়েছে ইংল্যান্ড, বাংলাদেশ ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ়—যারা কার্যত পিছিয়ে পড়েছে।
তালিকার শেষ দু’টি স্থানে রয়েছে বাংলাদেশ ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ়। বাংলাদেশের পয়েন্ট শতাংশ ১৬.৬৭ এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের মাত্র ৪.১৭। এই পরিসংখ্যানই বলে দেয়, চলতি চক্রে এই দুই দল কতটা সমস্যার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের অবস্থা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। একসময় টেস্ট ক্রিকেট শাসন করা দলটি এখন কার্যত প্রতিযোগিতার বাইরে।
এই পরিস্থিতিতে অস্ট্রেলিয়ার সাফল্য আরও উজ্জ্বল হয়ে উঠছে। তারা শুধু নিজেদের ম্যাচ জিতছে না, বরং অন্য দলের সমীকরণও বদলে দিচ্ছে। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে এই জয় তার সবচেয়ে বড় উদাহরণ। একদিকে অস্ট্রেলিয়া শীর্ষে নিজেদের জায়গা পাকা করছে, অন্যদিকে ইংল্যান্ডের মতো বড় দলকে আরও পিছনে ঠেলে দিচ্ছে।
ভারতের জন্য এই পরিস্থিতি দ্বিমুখী। একদিকে ইংল্যান্ডের হারে পয়েন্টের ব্যবধান বাড়া অবশ্যই ইতিবাচক। অন্যদিকে শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তানের মতো দলগুলির এগিয়ে থাকা ভারতের জন্য চিন্তার কারণ। সামনে ভারতের যেসব সিরিজ় রয়েছে, সেগুলোয় ধারাবাহিক জয় না এলে ফাইনালের স্বপ্ন অধরাই থেকে যেতে পারে।
বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের এই পর্যায়ে এসে প্রতিটি ম্যাচ, প্রতিটি সেশন, এমনকি প্রতিটি ইনিংসের গুরুত্ব বহুগুণ বেড়ে গেছে। অস্ট্রেলিয়া এই মুহূর্তে সবচেয়ে স্বচ্ছন্দ অবস্থানে থাকলেও অন্য দলগুলির মধ্যে লড়াই তীব্র। বিশেষ করে দ্বিতীয় থেকে পঞ্চম স্থানের দলগুলির মধ্যে ব্যবধান খুব বেশি নয়, যা ভবিষ্যতে নাটকীয় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
সব মিলিয়ে সিডনি টেস্ট শুধু একটি ম্যাচের ফল নয়, বরং বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট তালিকায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় এনে দিয়েছে। অস্ট্রেলিয়া নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব আরও একবার প্রমাণ করেছে। ইংল্যান্ড আরও পিছিয়ে পড়েছে। ভারত সরাসরি লাভ না পেলেও পরোক্ষ সুবিধা পেয়েছে। আর বাকি দলগুলির সামনে এখন একটাই লক্ষ্য—পরের ম্যাচগুলোতে সর্বোচ্চ পয়েন্ট তুলে নিয়ে শীর্ষে পৌঁছনোর লড়াইয়ে টিকে থাকা।
বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের এই উত্তেজনাপূর্ণ লড়াই আগামী দিনে আরও রোমাঞ্চ ছড়াবে বলেই মনে করছেন ক্রিকেট বিশেষজ্ঞরা। প্রতিটি টেস্ট ম্যাচই এখন বিশ্ব ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ সমীকরণ বদলে দিতে পারে।