Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

এশিয়াডে ভারত-পাক ক্রিকেট উত্তাপ! শ্রেয়স-ফারহান করমর্দন এড়ালেন, বৈভবকে আউট করে সাইমের বিদ্রুপ

এশিয়ান গেমসেও দেখা গেল ভারত-পাক ক্রিকেটীয় উত্তাপ। টসের পর ফারহানের সঙ্গে করমর্দন এড়ালেন শ্রেয়স আয়ার, বৈভব সূর্যবংশীকে আউট করে বিদ্রুপ করলেন সাইম আয়ুব।

এশিয়ান গেমসের মঞ্চে ভারত-পাকিস্তান দ্বৈরথ মানেই আলাদা উত্তেজনা। তবে নাগোয়া গেমসে দুই দেশের ক্রিকেট ম্যাচে সেই উত্তাপের সঙ্গে আরও একবার সামনে এল ভারত-পাক ক্রিকেটীয় সম্পর্কের দূরত্ব। ভলিবল, স্কোয়াশ, হকি-সহ অন্যান্য খেলায় দুই দেশের খেলোয়াড়দের মধ্যে সৌহার্দ্যের ছবি দেখা গেলেও ক্রিকেট মাঠে পরিস্থিতি ছিল সম্পূর্ণ আলাদা। শনিবার এশিয়ান গেমসের ক্রিকেট ফাইনালে টসের পর ভারতীয় অধিনায়ক শ্রেয়স আয়ার এবং পাকিস্তানের অধিনায়ক সাহিবজ়াদা ফারহানের মধ্যে করমর্দন হয়নি। ম্যাচের মধ্যেও দেখা গেল প্রতিদ্বন্দ্বিতার তীব্রতা।

টসের সময় থেকেই ভারত-পাক ক্রিকেট সম্পর্কের সাম্প্রতিক টানাপড়েনের প্রভাব যেন স্পষ্ট হয়ে ওঠে। টসের পর দুই অধিনায়কের মধ্যে সাধারণত যে করমর্দন বা সৌজন্য বিনিময়ের ছবি দেখা যায়, সেখানে শ্রেয়স আয়ার পাকিস্তানের অধিনায়ক সাহিবজ়াদা ফারহানের সঙ্গে হাত মেলাননি। এশিয়াডের একই মঞ্চে অন্য খেলাগুলিতে ভারত ও পাকিস্তানের প্রতিযোগীদের একে অপরকে শুভেচ্ছা জানাতে, করমর্দন করতে এবং হাসিমুখে ছবি তুলতে দেখা গেলেও ক্রিকেটে সেই সৌজন্যের ছবি দেখা যায়নি।

ভারত-পাক ক্রিকেটের এই দূরত্ব অবশ্য নতুন নয়। ২০২৫ সালের এশিয়া কাপ থেকেই দুই দেশের ক্রিকেটারদের মধ্যে সৌজন্য বিনিময় নিয়ে আলাদা আলোচনা তৈরি হয়েছে। পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলার পর ভারতীয় ক্রিকেটারদের অবস্থান এবং পাকিস্তানের ক্রিকেটারদের সঙ্গে দূরত্ব বজায় রাখার বিষয়টি সামনে আসে। সেই পরিস্থিতির ধারাবাহিকতা এশিয়ান গেমসের ক্রিকেট ম্যাচেও দেখা গেল বলে ম্যাচ ঘিরে আলোচনা তৈরি হয়েছে।

শুধু পুরুষদের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটেই যে এই দূরত্ব রয়েছে, তা নয়। সাম্প্রতিক সময়ে ভারত-পাকিস্তান ক্রিকেটের বিভিন্ন স্তরেও দুই দেশের ক্রিকেটারদের মধ্যে আগের মতো স্বাভাবিক সৌজন্য বিনিময় নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। মেয়েদের ক্রিকেট থেকে শুরু করে বয়সভিত্তিক ক্রিকেট—বিভিন্ন পর্যায়েই ভারত-পাকিস্তান ম্যাচকে ঘিরে মাঠের প্রতিদ্বন্দ্বিতার পাশাপাশি দুই দেশের ক্রিকেটীয় সম্পর্ক নিয়েও আলোচনা হয়ে থাকে।

এশিয়ান গেমসের ফাইনালে সেই আবহ আরও স্পষ্ট হয় বৈভব সূর্যবংশীকে কেন্দ্র করে একটি ঘটনায়। ভারতের তরুণ ব্যাটার বৈভবকে আউট করার পর পাকিস্তানের স্পিনার সাইম আয়ুব একটি বিশেষ অঙ্গভঙ্গির মাধ্যমে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। হাতের মুদ্রায় বাচ্চাকে দোলানোর মতো ভঙ্গি করতে দেখা যায় তাঁকে। সেই উদযাপনকে বৈভবকে বিদ্রুপ করার ইঙ্গিত হিসেবেই দেখা হয়েছে। ম্যাচের মুহূর্তটি দ্রুত আলোচনায় চলে আসে।

তবে ঘটনাটি মাঠের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। বৈভব সূর্যবংশী নিজে কোনও প্রতিক্রিয়া দেখাননি। পাকিস্তানের অন্য ক্রিকেটারদেরও ওই ঘটনার পরে অতিরিক্ত উত্তেজনায় জড়াতে দেখা যায়নি। ভারতের অন্য ওপেনার অভিষেক শর্মাও ছিলেন শান্ত। ফলে ম্যাচের উত্তেজনা থাকলেও বিষয়টি বড় কোনও বিতর্কে গড়ায়নি।

ম্যাচে অবশ্য বৈভব সূর্যবংশী নিজের স্বাভাবিক ছন্দে বড় ইনিংস খেলতে পারেননি। মাত্র ৯ বল খেলেন ভারতের ১৫ বছরের এই তরুণ ব্যাটার। তাঁর ব্যাট থেকে আসে ১৫ রান। ইনিংসে ছিল দুটি ছক্কা। কিন্তু সাইম আয়ুবের স্পিনের বিরুদ্ধে বড় শট খেলতে গিয়ে শেষ পর্যন্ত উইকেটরক্ষকের হাতে সহজ ক্যাচ দিয়ে ফিরে যেতে হয় তাঁকে। ফলে এশিয়ান গেমসের ফাইনালে বৈভবের কাছ থেকে যে বড় ইনিংসের প্রত্যাশা ছিল, তা পূরণ হয়নি।

বৈভবের আউটের ঘটনাটি ম্যাচের ক্রিকেটীয় দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ ছিল। তরুণ ভারতীয় ব্যাটার শুরুতেই আক্রমণাত্মক ক্রিকেট খেলতে চেয়েছিলেন। দুটি ছক্কায় নিজের ব্যাটিংয়ের ঝলকও দেখান তিনি। কিন্তু মাত্র ৯ বলের ইনিংসেই তাঁকে ফিরিয়ে দেন সাইম আয়ুব। পাকিস্তানের স্পিন আক্রমণের বিরুদ্ধে বৈভবের সেই উইকেট ভারতের ইনিংসের গতি বদলে দেয়।

তবে এই ম্যাচকে ঘিরে সবচেয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে ক্রিকেটীয় ফলাফলের পাশাপাশি ভারত-পাক ক্রিকেট সম্পর্ক নিয়ে। এশিয়ান গেমসের মতো আন্তর্জাতিক বহু-ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় একই দেশের প্রতিযোগীরা একাধিক খেলায় মুখোমুখি হন। সেখানে প্রতিদ্বন্দ্বিতার পাশাপাশি পারস্পরিক সৌজন্যও সাধারণত দেখা যায়। ভলিবল, স্কোয়াশ, হকি ইত্যাদি খেলায় ভারত ও পাকিস্তানের খেলোয়াড়দের হাসিমুখে করমর্দন করতে, আলিঙ্গন করতে কিংবা একসঙ্গে ছবি তুলতে দেখা গিয়েছে। কিন্তু ক্রিকেটে সেই চিত্র দেখা যায়নি।

এর ফলে স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন উঠছে, কেন ক্রিকেটেই ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের দূরত্ব এত বেশি চোখে পড়ছে? এর পিছনে রয়েছে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক পরিস্থিতির প্রভাব। ভারত-পাকিস্তান ক্রিকেট বহু বছর ধরেই দুই দেশের বৃহত্তর সম্পর্কের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। দুই দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক ক্রিকেট সিরিজ দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকায় ভারত-পাক ম্যাচ মূলত এশিয়া কাপ, বিশ্বকাপ কিংবা বহুদেশীয় প্রতিযোগিতার মঞ্চেই হয়ে থাকে। ফলে প্রতিটি ম্যাচ ঘিরেই বাড়তি আবেগ ও প্রত্যাশা তৈরি হয়।

২০২৫ সালের এশিয়া কাপের পর থেকে ভারতীয় ক্রিকেটারদের পাকিস্তানের ক্রিকেটারদের সঙ্গে সৌজন্য বিনিময় না করার বিষয়টি বিশেষভাবে আলোচিত হয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে এশিয়ান গেমসের ফাইনালে শ্রেয়স আয়ারের সঙ্গে সাহিবজ়াদা ফারহানের করমর্দন না হওয়ার ঘটনাটিও আলোচনায় এসেছে। মাঠে দুই দলের ক্রিকেটারদের মধ্যে সরাসরি সংঘাত হয়নি, কিন্তু সৌজন্য বিনিময়ের অনুপস্থিতি থেকেই দুই দেশের ক্রিকেটীয় সম্পর্কের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে।

news image
আরও খবর

এশিয়াডের ক্রিকেট ফাইনাল তাই শুধুমাত্র একটি ক্রিকেট ম্যাচ হিসেবে সীমাবদ্ধ থাকেনি। ম্যাচের আগে টসের সময় থেকেই দুই দলের মধ্যে দূরত্বের ছবি সামনে আসে। এরপর ম্যাচের মধ্যেও বৈভব সূর্যবংশীকে আউট করার পর সাইম আয়ুবের উদযাপন সেই উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে দেয়। যদিও ভারতীয় ব্যাটার কিংবা পাকিস্তানের অন্য ক্রিকেটাররা বিষয়টিকে আর এগিয়ে নিয়ে যাননি।

ক্রিকেট মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকা স্বাভাবিক। ভারত-পাকিস্তান ম্যাচে সেই প্রতিদ্বন্দ্বিতার মাত্রা বরাবরই বেশি। দুই দেশের সমর্থকদের আবেগও এই ম্যাচকে অন্য মাত্রা দেয়। কিন্তু মাঠের প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং ব্যক্তিগত সৌজন্যের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখার বিষয়টি সবসময়ই গুরুত্বপূর্ণ। এশিয়ান গেমসের অন্য খেলাগুলিতে সেই সৌজন্যের ছবি দেখা গেলেও ক্রিকেটে তা অনুপস্থিত থাকায় বিষয়টি আরও বেশি নজরে এসেছে।

ভারতের হয়ে তরুণ ক্রিকেটার বৈভব সূর্যবংশীর এশিয়াড ফাইনালে অভিষেকও ছিল আলোচনার অন্যতম বিষয়। অল্প বয়সেই বড় মঞ্চে খেলার সুযোগ পেয়েছেন তিনি। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ফাইনালের মতো গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে তাঁর কাছ থেকে বড় ইনিংসের প্রত্যাশা ছিল। শুরুতেই দুটি ছক্কা মেরে তিনি সেই সম্ভাবনার ইঙ্গিতও দেন। কিন্তু মাত্র ৯ বলে ১৫ রান করে আউট হয়ে যান। সাইম আয়ুবের বলে উইকেটরক্ষকের হাতে ক্যাচ দিয়ে তাঁর ইনিংস শেষ হয়।

বৈভবের এই ছোট ইনিংসের মধ্যেও তাঁর আক্রমণাত্মক ব্যাটিং নজর কেড়েছে। দুটি ছক্কা মেরে তিনি দেখিয়েছেন, বড় মঞ্চের চাপ সামলে দ্রুত রান করার ক্ষমতা তাঁর রয়েছে। তবে ফাইনালের মতো ম্যাচে আরও কিছুক্ষণ ক্রিজে থাকতে পারলে ভারতের ইনিংসে তাঁর অবদান আরও বড় হতে পারত। শেষ পর্যন্ত তা হয়নি।

অন্যদিকে সাইম আয়ুবের জন্যও বৈভবের উইকেট ছিল গুরুত্বপূর্ণ। একজন তরুণ ও আক্রমণাত্মক ভারতীয় ওপেনারকে দ্রুত ফিরিয়ে দিয়ে পাকিস্তানের বোলিং বিভাগকে স্বস্তি দেন তিনি। তবে উইকেট পাওয়ার পর তাঁর উদযাপনের ধরনই পরে আলোচনার কেন্দ্র হয়ে ওঠে। হাতের মুদ্রায় শিশুকে দোলানোর মতো অঙ্গভঙ্গি করার কারণে সেই মুহূর্তকে অনেকেই বিদ্রুপ হিসেবে দেখেছেন।

ম্যাচের পরিবেশে অবশ্য দুই দলের অন্যান্য ক্রিকেটাররা সংযত ছিলেন। বৈভবও কোনও পালটা প্রতিক্রিয়া দেননি। ফলে ব্যক্তিগত পর্যায়ে ঘটনাটি আর বাড়েনি। ক্রিকেটের মাঠে এমন উত্তেজনাপূর্ণ মুহূর্ত নতুন কিছু নয়, বিশেষ করে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচে। কিন্তু দুই দেশের বর্তমান ক্রিকেটীয় সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে এই ধরনের ঘটনাই দ্রুত আলোচনায় চলে আসে।

এশিয়ান গেমসের এই ম্যাচ আরও একবার দেখিয়ে দিল, ভারত-পাকিস্তান ক্রিকেট ম্যাচ শুধু মাঠের ২২ গজের লড়াই নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে দুই দেশের দীর্ঘদিনের প্রতিদ্বন্দ্বিতা, সমর্থকদের আবেগ এবং সাম্প্রতিক ঘটনাবলির প্রভাব। অন্য খেলাগুলিতে দুই দেশের খেলোয়াড়দের স্বাভাবিক সৌহার্দ্যপূর্ণ আচরণ দেখা গেলেও ক্রিকেটে পরিস্থিতি আলাদা হওয়ায় এই ম্যাচ ঘিরে আলোচনাও হয়েছে বেশি।

শ্রেয়স আয়ারের করমর্দন না করা থেকে শুরু করে বৈভব সূর্যবংশীকে আউট করার পর সাইম আয়ুবের উদযাপন—এশিয়াডের ক্রিকেট ফাইনালের একাধিক মুহূর্ত সামাজিক মাধ্যমে এবং ক্রিকেটমহলে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। একইসঙ্গে ম্যাচের ক্রিকেটীয় দিকও গুরুত্বপূর্ণ। বৈভব ১৫ রান করে ফিরে গেলেও ভারতের অন্য ব্যাটারদের উপর তখন বাড়তি দায়িত্ব চলে আসে। পাকিস্তানের বোলাররাও তরুণ ভারতীয় ব্যাটারকে দ্রুত ফেরাতে পেরে আত্মবিশ্বাস পায়।

সব মিলিয়ে এশিয়ান গেমসের ভারত-পাকিস্তান ক্রিকেট ম্যাচে মাঠের প্রতিদ্বন্দ্বিতা যেমন ছিল, তেমনই ছিল দুই দেশের ক্রিকেটীয় সম্পর্কের সাম্প্রতিক দূরত্বের প্রতিফলন। ভলিবল, স্কোয়াশ, হকি-সহ অন্যান্য খেলায় যেখানে সৌহার্দ্যের ছবি দেখা গিয়েছে, সেখানে ক্রিকেটে টসের সময় থেকেই আলাদা আবহ তৈরি হয়। শ্রেয়স আয়ার ও সাহিবজ়াদা ফারহানের করমর্দন না করা এবং বৈভব সূর্যবংশীকে আউট করার পর সাইম আয়ুবের অঙ্গভঙ্গি সেই আবহকেই আরও স্পষ্ট করে।

তবে ম্যাচের শেষ পর্যন্ত ভারত ও পাকিস্তানের অন্য ক্রিকেটাররা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের মধ্যেই রাখেন। বৈভব কোনও প্রতিক্রিয়া দেখাননি এবং অভিষেক শর্মাও শান্ত ছিলেন। ফলে উত্তেজনা থাকলেও তা বড় কোনও সংঘাতে পরিণত হয়নি। এশিয়াডের এই ম্যাচ তাই ক্রিকেটীয় প্রতিদ্বন্দ্বিতার পাশাপাশি ভারত-পাক ক্রিকেট সম্পর্কের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়েও নতুন করে আলোচনার জন্ম দিল।

Preview image