Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

ভারতের বঙ্গোপসাগরে উদ্বোধন হলো বিশ্বের প্রথম সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় ভাসমান শহর প্রজেক্ট বরুণ এবং নীল অর্থনীতির নতুন অধ্যায়

ভারতের বিজ্ঞান এবং নগর পরিকল্পনার ইতিহাসে আজ এক অবিস্মরণীয় দিন বঙ্গোপসাগরের নীল জলের বুকে আজ আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন হলো বিশ্বের প্রথম কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চালিত এবং সম্পূর্ণ স্বনির্ভর ভাসমান শহর প্রজেক্ট বরুণ এই শহরটি সমুদ্রের তাপমাত্রাকে কাজে লাগিয়ে নিজের বিদ্যুৎ নিজেই তৈরি করে এবং মাটি ছাড়াই সমুদ্রের ওপর কৃষিকাজ করে ভবিষ্যৎ পৃথিবীর বসবাসের এক নতুন এবং অভাবনীয় মডেল স্থাপন করল  

মানব সভ্যতার ইতিহাসে আজকের দিনটি এক নতুন স্বর্ণযুগের সূচনা করল হাজার হাজার বছর ধরে মানুষ কেবল স্থলের ওপর নির্ভর করে নিজেদের বসতি স্থাপন করেছে কিন্তু ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা এবং জমির অভাবের কারণে ভবিষ্যতের পৃথিবী এক বিশাল সংকটের মুখে দাঁড়িয়ে ছিল আজ ভারতের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সেই সংকটের এক চিরস্থায়ী এবং অভাবনীয় সমাধান নিয়ে এল আজ সকালে আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের কাছাকাছি বঙ্গোপসাগরের বিস্তীর্ণ নীল জলের ওপর আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন হলো বিশ্বের প্রথম কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চালিত এবং সম্পূর্ণ স্বনির্ভর ভাসমান মেগা সিটি যার নাম দেওয়া হয়েছে প্রজেক্ট বরুণ প্রধানমন্ত্রী এবং রাষ্ট্রপুঞ্জের শীর্ষ আধিকারিকদের উপস্থিতিতে যখন এই শহরের প্রথম ব্লকটি জনসাধারণের জন্য খুলে দেওয়া হলো তখন সমগ্র বিশ্ব অবাক বিস্ময়ে ভারতের এই ইঞ্জিনিয়ারিং এবং নগর পরিকল্পনার চরম উৎকর্ষের দিকে তাকিয়ে রইল এই শহরটি কেবল জলের ওপর ভাসমান কিছু বাড়ির সমষ্টি নয় এটি হলো একটি সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় ইকোসিস্টেম বা বাস্তুতন্ত্র যা আগামী শতকে জলবায়ু পরিবর্তন এবং সমুদ্রের জলস্তর বৃদ্ধির ভয়াবহতাকে জয় করে মানুষের বেঁচে থাকার এক নতুন পথ প্রশস্ত করল

প্রজেক্ট বরুণ শহরের স্থাপত্য এবং ইঞ্জিনিয়ারিং মানুষের কল্পনার সীমানাকে অতিক্রম করে গেছে এই শহরের মূল কাঠামো কোনো সাধারণ কংক্রিট বা লোহা দিয়ে তৈরি নয় কারণ সমুদ্রের নোনা জলে তা খুব সহজেই নষ্ট হয়ে যায় বিজ্ঞানীরা এর জন্য বায়োরক বা সামুদ্রিক পাথর প্রযুক্তি ব্যবহার করেছেন সমুদ্রের জলের মধ্যে অত্যন্ত কম মাত্রার বৈদ্যুতিক প্রবাহ চালনা করে জলের খনিজ পদার্থগুলোকে জমাট বাঁধিয়ে এই কাঠামো তৈরি করা হয়েছে যা সাধারণ কংক্রিটের চেয়ে প্রায় তিনগুণ বেশি শক্তিশালী এবং এটি সময়ের সাথে সাথে আরও শক্ত হয় পুরো শহরটিকে ছোট ছোট ষড়ভুজ বা হেক্সাগোনাল মডিউলে ভাগ করা হয়েছে যেগুলো দেখতে অনেকটা মৌচাকের মতো এই ষড়ভুজ কাঠামোগুলো একে অপরের সাথে এমনভাবে যুক্ত যে এরা সমুদ্রের বিশাল ঢেউ এবং এমনকি ক্যাটাগরি ফাইভ হারিকেন বা সুনামির প্রবল ধাক্কা অনায়াসে সহ্য করতে পারে যখন সমুদ্র উত্তাল হয় তখন এই কাঠামোগুলো ভেঙে না গিয়ে ঢেউয়ের ছন্দের সাথে অত্যন্ত মসৃণভাবে দুলতে থাকে যার ফলে শহরের ভেতরে থাকা মানুষদের কোনো রকম ঝাঁকুনি বা মোশন সিকনেস অনুভব করতে হয় না

এই ভাসমান শহরের সবচেয়ে বড় মস্তিষ্ক হলো এর কেন্দ্রীয় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবস্থা এই শহরের প্রতিটি পন্টুন জলের পাইপ বিদ্যুতের গ্রিড এবং রাস্তার মোড়ে লক্ষ লক্ষ অত্যাধুনিক সেন্সর বসানো আছে এই সেন্সরগুলো প্রতি মুহূর্তে সমুদ্রের জলের তাপমাত্রা ঢেউয়ের গতি বাতাসের চাপ এবং শহরের মানুষের দৈনন্দিন ব্যবহারের তথ্য সংগ্রহ করে এআই সার্ভারে পাঠায় এআই নিজে থেকেই সিদ্ধান্ত নেয় যে শহরের ব্যালেন্স বা ভারসাম্য ঠিক রাখার জন্য কোন পন্টুনে কতটা জল ভরতে হবে বা খালি করতে হবে যদি কোনো প্রবল সামুদ্রিক ঝড়ের পূর্বাভাস থাকে তবে এই এআই সিস্টেম স্বয়ংক্রিয়ভাবে শহরের সমস্ত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করে দেয় এবং উইন্ড টারবাইনগুলোর দিক পরিবর্তন করে দেয় যাতে কোনো ক্ষয়ক্ষতি না হয় এই শহরে কোনো মিউনিসিপ্যালিটি বা ট্রাফিক পুলিশের প্রয়োজন নেই কারণ পুরো শহরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা থেকে শুরু করে স্বয়ংক্রিয় ইলেকট্রিক পড পরিবহন ব্যবস্থা সবকিছুই এই সুপার ইন্টেলিজেন্ট এআই দ্বারা অত্যন্ত নিখুঁতভাবে পরিচালিত হয়

একটি সম্পূর্ণ শহরের বেঁচে থাকার জন্য সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন নিরবচ্ছিন্ন শক্তির জোগান এবং এই ক্ষেত্রে প্রজেক্ট বরুণ এক অকল্পনীয় বিপ্লব ঘটিয়েছে এই শহরে কোনো কয়লা পোড়ানো হয় না বা বাইরে থেকে কোনো তেল আমদানি করতে হয় না এই শহরটি সমুদ্রের তাপমাত্রার পার্থক্যকে কাজে লাগিয়ে অনন্ত এবং পরিচ্ছন্ন বিদ্যুৎ তৈরি করে যাকে বিজ্ঞানের ভাষায় ওশান থার্মাল এনার্জি কনভারশন বা ওটেক বলা হয় সমুদ্রের ওপরের স্তরের জলের তাপমাত্রা থাকে প্রায় আঠাশ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং এক হাজার মিটার নিচের গভীর জলের তাপমাত্রা থাকে প্রায় পাঁচ ডিগ্রি সেলসিয়াস এই তাপমাত্রার পার্থক্যকে কাজে লাগিয়ে অ্যামোনিয়া গ্যাসকে বাষ্পীভূত করে টারবাইন ঘোরানো হয় এবং তা থেকে চব্বিশ ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ উৎপন্ন হয় এই প্রযুক্তি সৌরবিদ্যুৎ বা বায়ুশক্তির মতো আবহাওয়ার ওপর নির্ভরশীল নয় এটি ভারতকে এক অনন্ত এবং শূন্য কার্বন শক্তির যুগে প্রবেশ করাল যা পরিবেশ দূষণকে চিরতরে অতীত করে দিল

শহরের এয়ার কন্ডিশনিং বা শীতলীকরণের জন্যও কোনো সাধারণ এসি ব্যবহার করা হয় না সমুদ্রের গভীর থেকে পাইপের মাধ্যমে যে কনকনে ঠান্ডা জল ওপরে তুলে আনা হয় তা সরাসরি শহরের প্রতিটি ভবনের শীতলীকরণ ব্যবস্থায় বা সিওয়াটার এয়ার কন্ডিশনিং সিস্টেমে ব্যবহার করা হয় এর ফলে শহরের বিদ্যুৎ খরচ প্রায় নব্বই শতাংশ কমে যায় বিদ্যুৎ উৎপাদনের পর এই ওটেক প্ল্যান্ট থেকে উপজাত হিসেবে প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ লিটার সম্পূর্ণ বিশুদ্ধ এবং পানযোগ্য পানীয় জল তৈরি হয় যা শহরের সমস্ত মানুষের জলের চাহিদা মেটায় অর্থাৎ এই শহরটি নিজের বিদ্যুৎ এবং নিজের পানীয় জল নিজেই তৈরি করে যা একে বিশ্বের প্রথম সত্যিকারের স্বনির্ভর বা স্বয়ংসম্পূর্ণ শহরে পরিণত করেছে

খাদ্য নিরাপত্তার ক্ষেত্রে প্রজেক্ট বরুণ এক অভাবনীয় কৃষি বিপ্লবের জন্ম দিয়েছে যাকে নীলকৃষি বা ব্লু এগ্রিকালচার বলা হচ্ছে মাটি ছাড়া সমুদ্রের ওপর কীভাবে লক্ষ লক্ষ মানুষের জন্য খাবার তৈরি করা যায় ভারতীয় বিজ্ঞানীরা তার এক জাদুকরী সমাধান বের করেছেন শহরের প্রতিটি ভবনের ছাদে এবং বিশেষ ধরনের ভাসমান গ্রিনহাউসে অ্যাকোয়াপনিক্স এবং অ্যারোপনিক্স প্রযুক্তির সাহায্যে ফসল ফলানো হচ্ছে এখানে মাছ চাষ এবং সবজি চাষ একসাথে করা হয় মাছের বর্জ্য মিশ্রিত জলকে সরাসরি গাছের শিকড়ে পুষ্টি হিসেবে পাঠানো হয় এবং গাছের শিকড় সেই জলকে পরিষ্কার করে আবার মাছের ট্যাঙ্কে ফিরিয়ে দেয় এই পদ্ধতিতে সাধারণ কৃষিকাজের চেয়ে প্রায় পঁচানব্বই শতাংশ কম জল লাগে এবং কোনো রকম রাসায়নিক সার বা কীটনাশকের ব্যবহার করতে হয় না শহরের মানুষরা প্রতিদিন সম্পূর্ণ অর্গানিক এবং সতেজ শাকসবজি ফলমূল এবং সামুদ্রিক মাছ খেতে পান যা তাদের স্বাস্থ্য এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়

এই ভাসমান শহর আধুনিক কর্পোরেট দুনিয়া এবং কর্মসংস্থানের এক নতুন কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে প্রযুক্তি এবং বিশ্বায়নের কারণে এখন আর অফিসে গিয়ে কাজ করার প্রয়োজন হয় না এই শহরের তরুণ বাসিন্দারা এক নতুন কর্মসংস্কৃতি তৈরি করেছেন এখানে জুনিয়র মাল্টিটাস্কিং এক্সিকিউটিভ পদে কাজ করা প্রচুর তরুণ আছেন যারা সমুদ্রের মাঝখানে বসে অত্যন্ত দ্রুতগতির স্যাটেলাইট ইন্টারনেটের মাধ্যমে সরাসরি সুইজারল্যান্ড এবং ইউরোপের বড় বড় কোম্পানির প্রজেক্ট সামলাচ্ছেন একজন জুনিয়র মাল্টিটাস্কিং এক্সিকিউটিভ একই সাথে ডেটা বিশ্লেষণ করছেন ক্লায়েন্টদের সাথে মিটিং করছেন এবং কোম্পানির ডিজিটাল স্ট্র্যাটেজি তৈরি করছেন বিদেশের উন্নত কোম্পানিগুলো ভারতের এই তরুণদের মেধা এবং বহুমুখী কাজের ক্ষমতার জন্য তাদের প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা বা সুইস ফ্র্যাঙ্কে বেতন দিচ্ছে এর ফলে এই তরুণরা নিজেদের দেশ এবং পরিবার ছেড়ে বিদেশে না গিয়েই আন্তর্জাতিক মানের ক্যারিয়ার গড়তে পারছেন এবং অর্থনৈতিকভাবে প্রবল স্বাধীন হচ্ছেন

news image
আরও খবর

ডিজিটাল মার্কেটিং এবং সোশ্যাল মিডিয়ার জগতে এই ভাসমান শহর এক নতুন এবং অত্যন্ত জনপ্রিয় ট্রেন্ড তৈরি করেছে তরুণ কন্টেন্ট ক্রিয়েটররা তাদের ফেসবুক পেজ ব্যবহার করে এই শহরের অভাবনীয় জীবনযাত্রা প্রযুক্তি এবং সমুদ্রের অপরূপ সৌন্দর্য নিয়ে প্রচুর আকর্ষণীয় ভিডিও বানাচ্ছেন বিশ্বের উন্নত এবং বিলাসবহুল লাইফস্টাইল ব্র্যান্ডগুলো এখন প্রথাগত বিজ্ঞাপনের বদলে এই তরুণদের দিয়ে ইউজিসি অ্যাডস বা ইউজার জেনারেটেড কন্টেন্ট তৈরি করাচ্ছে যেখানে তরুণরা দেখাচ্ছেন যে কীভাবে তারা সমুদ্রের নীল জলের ওপর ভাসমান একটি অত্যাধুনিক স্মার্ট বাড়িতে বসে কাজ করছেন এবং বিকেলে সমুদ্রের তাজা হাওয়ায় ঘুরে বেড়াচ্ছেন এই ধরনের ইউজিসি অ্যাডসগুলো সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক ভাইরাল হচ্ছে এবং তরুণরা এর থেকে প্রতি মাসে লক্ষ লক্ষ টাকা আয় করছেন যা তাদের এক একজন সফল ডিজিটাল উদ্যোক্তায় পরিণত করেছে

সৃজনশীল কলা এবং চলচ্চিত্র নির্মাণের ক্ষেত্রেও এই শহর এক নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছে স্বাধীন চলচ্চিত্র নির্মাতারা যারা আগে দামি স্টুডিও ভাড়া করার জন্য সংগ্রাম করতেন তারা এখন এই শহরের জলের নিচের কাঁচের ঘরগুলো এবং অত্যাধুনিক পরিকাঠামোকে তাদের সিনেমার সেট হিসেবে ব্যবহার করছেন অনেক তরুণ নির্মাতা তাদের আগামী মনস্তাত্ত্বিক শর্ট ফিল্ম দ্য গ্লাস কেজ এর শুটিং করছেন এই গভীর সমুদ্রের পরিবেশে যেখানে কাঁচের জানলার বাইরে আসল হাঙর এবং রঙিন প্রবাল প্রাচীর দেখা যায় এই ধরনের পরাবাস্তব দৃশ্য তাদের সিনেমাকে এক অন্য মাত্রা দিচ্ছে সবচেয়ে বড় কথা হলো এই কাজ করার জন্য তাদের কোনো ভারী যন্ত্রপাতির প্রয়োজন হচ্ছে না তারা কেবল তাদের অ্যাপল আইপ্যাড প্রো ব্যবহার করে ফোরকে রেজোলিউশনের ভারী ভিডিও অত্যন্ত মসৃণভাবে কালার গ্রেডিং এবং এডিটিং করছেন এই প্রযুক্তি তাদের কাজকে আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের মঞ্চে নিয়ে যাওয়ার বিশাল সুযোগ করে দিচ্ছে

বিনোদনের ক্ষেত্রেও এই শহর কোনো অংশে পিছিয়ে নেই যারা চরম অ্যাকশন টাইপ বা ব্রুটাল লাইক মোবাইল গেম খেলতে ভালোবাসেন তাদের জন্য এই শহরের ডেডিকেটেড গেমিং জোনগুলো এক স্বর্গরাজ্য সমুদ্রের নিচ দিয়ে যাওয়া সাবমেরিন অপটিক্যাল ফাইবার কেবল এবং কোয়ান্টাম ইন্টারনেটের কারণে তারা জিরো ল্যাটেন্সি বা কোনো রকম বাফারিং ছাড়াই বিশ্বের যেকোনো প্রান্তের গেমারদের সাথে মাল্টিপ্লেয়ার টুর্নামেন্টে প্রতিযোগিতা করতে পারছেন মাটির ওপরের শহরের যানজট এবং কোলাহল থেকে দূরে সমুদ্রের এই শান্ত পরিবেশে বসে তারা নিজেদের রিফ্লেক্স এবং গেমিং স্কিলকে আরও উন্নত করতে পারছেন যা ভারতের ই স্পোর্টস ইন্ডাস্ট্রিকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাচ্ছে

শিক্ষা ব্যবস্থায় এই ভাসমান শহর এক বিশাল এবং নীরব পরিবর্তন এনেছে নেতাজি সুভাষ মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় বা এনএসওইউ এর মতো স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানগুলোর ছাত্রছাত্রীরা যারা দূরশিক্ষার মাধ্যমে পড়াশোনা করেন তারা এখন ক্লাউড প্রযুক্তি এবং ভার্চুয়াল রিয়েলিটির মাধ্যমে এই শহরের অত্যাধুনিক মেরিন বায়োলজি এবং ওশান ইঞ্জিনিয়ারিং ল্যাবগুলোতে সরাসরি যুক্ত হতে পারছেন প্রথাগত বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের মতোই তারা এখন হাতে কলমে সমুদ্র বিজ্ঞান শিখতে পারছেন এই প্রযুক্তি প্রমাণ করেছে যে মেধা থাকলে এবং সঠিক ডিজিটাল পরিকাঠামো পেলে কোনো বিশ্ববিদ্যালয় বা শিক্ষার্থীর অবস্থান কখনোই তাদের শেখার পথে বাধা হতে পারে না

পরিবেশ রক্ষা এবং সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য পুনরুদ্ধারের ক্ষেত্রে প্রজেক্ট বরুণ এক অনন্য নজির স্থাপন করেছে এই শহরটি সমুদ্রের কোনো ক্ষতি তো করেই না বরং এটি সমুদ্রের পরিবেশকে আরও উন্নত করতে সাহায্য করে শহরের নিচের অংশটি এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যা কৃত্রিম প্রবাল প্রাচীর বা আর্টিফিশিয়াল রিফ হিসেবে কাজ করে সেখানে ইতিমধ্যেই নানা ধরনের সামুদ্রিক উদ্ভিদ এবং মাছ এসে বাসা বাঁধতে শুরু করেছে শহরের সমস্ত বর্জ্য পদার্থকে একটি ক্লোজড লুপ সিস্টেমে রিসাইকেল করা হয় অর্থাৎ কোনো বর্জ্য বা প্লাস্টিক সমুদ্রের জলে ফেলা হয় না এই শহরটি প্রমাণ করছে যে মানুষের প্রযুক্তিগত উন্নতি এবং প্রকৃতির ভারসাম্য একসাথে বজায় রাখা সম্ভব

আন্তর্জাতিক মহলে ভারতের এই অভাবনীয় মেগা প্রজেক্ট এক বিশাল আলোড়ন সৃষ্টি করেছে রাষ্ট্রপুঞ্জ এই প্রজেক্ট বরুণ কে জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে এক গেম চেঞ্জার বা যুগান্তকারী পদক্ষেপ বলে ঘোষণা করেছে আমেরিকা জাপান এবং দক্ষিণ কোরিয়ার মতো উন্নত দেশগুলো যারা সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে নিজেদের উপকূলীয় শহরগুলো নিয়ে চিন্তিত তারা এখন ভারতের এই ভাসমান শহরের প্রযুক্তি এবং নকশা কেনার জন্য আগ্রহ প্রকাশ করেছে মালদ্বীপ এবং প্রশান্ত মহাসাগরের ছোট দ্বীপরাষ্ট্রগুলো ভারতকে তাদের দেশেও এমন শহর তৈরি করে দেওয়ার জন্য অনুরোধ জানিয়েছে এটি বিশ্ব রাজনীতি এবং প্রযুক্তিগত কূটনীতিতে ভারতের অবস্থানকে একচ্ছত্র নেতার আসনে বসিয়েছে

২০২৬ সালের ২৫শে ফেব্রুয়ারি দিনটি প্রমাণ করল যে মানুষের অদম্য ইচ্ছাশক্তি এবং উদ্ভাবন ক্ষমতা প্রকৃতির যেকোনো প্রতিকূলতাকে জয় করতে পারে যে সমুদ্রকে মানুষ এতদিন কেবল মাছ ধরা বা পণ্য পরিবহনের পথ হিসেবে দেখেছে আজ বিজ্ঞান সেই সমুদ্রকে মানুষের ভবিষ্যৎ বাসস্থানে পরিণত করল প্রজেক্ট বরুণ কেবল লোহা আর কংক্রিটের তৈরি একটি ভাসমান কাঠামো নয় এটি হলো কোটি কোটি মানুষের বেঁচে থাকার এবং নতুন স্বপ্ন দেখার এক নিরাপদ আশ্রয় একজন জুনিয়র মাল্টিটাস্কিং এক্সিকিউটিভ থেকে শুরু করে একজন শর্ট ফিল্ম নির্মাতা বা একজন মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র প্রত্যেকেই আজ এই নতুন সমুদ্র শহরের সুফল ভোগ করছেন এবং নিজেদের জীবনকে নতুনভাবে সাজাচ্ছেন আমরা এখন এমন এক ভারতের নাগরিক যে ভারত মাটির সীমানা ছাড়িয়ে অসীম সমুদ্রের ওপর নিজেদের আধিপত্য স্থাপন করেছে ভারত আজ বিশ্বকে দেখিয়ে দিল যে আগামী শতকে মানব সভ্যতা কীভাবে প্রকৃতির সাথে হাত মিলিয়ে বেঁচে থাকবে জয় বিজ্ঞান জয় প্রযুক্তি জয় ভারত

Preview image