Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

চোখে অস্বস্তি বা কিছু আটকে থাকার অনুভূতি কি চোখের ক্যানসারের সতর্ক সংকেত হতে পারে জানুন বিস্তারিত

চোখে কিছু আটকে থাকার অনুভূতি হালকা সমস্যা ভেবে এড়িয়ে যাবেন না এটি চোখের গুরুতর অসুখ এমনকি ক্যানসারের প্রাথমিক লক্ষণ হতে পারে সময়মতো সচেতন না হলে দৃষ্টিশক্তি হারানোর পাশাপাশি জীবন ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে তাই শিশু ও প্রাপ্তবয়স্ক সবারই এই লক্ষণগুলো সম্পর্কে জানা জরুরি

যখন আমরা ক্যানসারের কথা ভাবি তখন সাধারণত ফুসফুস স্তন বা পাকস্থলীর মতো অঙ্গগুলির কথাই প্রথমে মনে আসে কারণ এই ধরনের ক্যানসারের কথা আমরা বেশি শুনে থাকি এবং সচেতনতার প্রচারও তুলনামূলকভাবে বেশি হয় কিন্তু শরীরের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং সংবেদনশীল অঙ্গ চোখও ক্যানসারে আক্রান্ত হতে পারে এই বিষয়টি অনেকেই জানেন না অথবা গুরুত্ব দেন না অথচ চোখের ক্যানসার বিরল হলেও এটি অত্যন্ত বিপজ্জনক এবং অনেক ক্ষেত্রে জীবনহানির কারণও হতে পারে তাই এই বিষয়ে সচেতনতা থাকা অত্যন্ত জরুরি। 

চোখ আমাদের শরীরের এমন একটি অঙ্গ যার মাধ্যমে আমরা পৃথিবীকে দেখি অনুভব করি এবং প্রতিদিনের জীবনের সমস্ত কাজ পরিচালনা করি তাই এই অঙ্গের সামান্য সমস্যাও আমাদের জীবনে বড় প্রভাব ফেলে কিন্তু চোখের ক্যানসারের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো এটি অনেক সময় প্রাথমিক পর্যায়ে খুব স্পষ্ট লক্ষণ দেখায় না ফলে রোগটি ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে এবং রোগী বুঝতেই পারেন না কখন এটি গুরুতর পর্যায়ে পৌঁছে গেছে এই কারণেই একে অনেক সময় নীরব ঘাতক বলা হয়। 

চোখের ক্যানসার বলতে চোখের ভেতরের টিস্যু অথবা চোখের আশেপাশের অংশে অস্বাভাবিক কোষ বৃদ্ধিকে বোঝায় এই কোষগুলি নিয়ন্ত্রণহীনভাবে বৃদ্ধি পেয়ে টিউমার তৈরি করে যা পরবর্তীতে শরীরের অন্যান্য অংশেও ছড়িয়ে পড়তে পারে শিশুদের ক্ষেত্রে সবচেয়ে পরিচিত চোখের ক্যানসার হলো রেটিনোব্লাস্টোমা যা সাধারণত পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের মধ্যে দেখা যায় অন্যদিকে প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে ইউভিয়াল মেলানোমা বেশি দেখা যায়। 

প্রাথমিক পর্যায়ে এই রোগ শনাক্ত করা কঠিন হলেও কিছু নির্দিষ্ট লক্ষণ রয়েছে যা লক্ষ্য করলে সতর্ক হওয়া সম্ভব তাই এই লক্ষণগুলো সম্পর্কে জানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কারণ সময়মতো চিকিৎসা শুরু করলে এই রোগ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব এবং অনেক ক্ষেত্রেই জীবন বাঁচানো যায়। 

প্রথম লক্ষণ হিসেবে দৃষ্টিশক্তির পরিবর্তনকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত যদি হঠাৎ করে দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে যায় অথবা আগের মতো পরিষ্কার দেখা না যায় কিংবা একই জিনিস দুইবার দেখা যায় তাহলে এটিকে সাধারণ সমস্যা ভেবে এড়িয়ে যাওয়া উচিত নয় অনেক সময় মানুষ ভাবে চোখে পাওয়ার পরিবর্তন হয়েছে কিন্তু সব ক্ষেত্রে তা নয় এটি গুরুতর সমস্যার ইঙ্গিতও হতে পারে। 

দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ হলো আলোর ঝলকানি বা চোখের সামনে কালো বিন্দু ভাসতে দেখা অনেক সময় আমরা চোখের ক্লান্তি বা স্ক্রিন ব্যবহারের জন্য এই সমস্যাকে দায়ী করি কিন্তু যদি এটি বারবার হতে থাকে তাহলে সতর্ক হওয়া প্রয়োজন কারণ এটি চোখের ভেতরে কোনো অস্বাভাবিক পরিবর্তনের লক্ষণ হতে পারে। 

তৃতীয় লক্ষণটি বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে খুব গুরুত্বপূর্ণ ছবি তোলার সময় যদি চোখের মণি লাল না হয়ে সাদা দেখা যায় তাহলে সেটি রেটিনোব্লাস্টোমার একটি বড় লক্ষণ হতে পারে অনেক সময় অভিভাবকরা বিষয়টি খেয়াল করেন না কিন্তু এই ছোট লক্ষণই বড় বিপদের ইঙ্গিত দিতে পারে। 

চতুর্থ লক্ষণ হিসেবে চোখের রঙিন অংশে নতুন কালো দাগ দেখা দেওয়া অথবা আগে থেকে থাকা দাগের আকার বড় হয়ে যাওয়া লক্ষ্য করা যায় এটি অনেক সময় সাধারণ তিল বা দাগ ভেবে এড়িয়ে যাওয়া হয় কিন্তু যদি এর আকার বা রঙ পরিবর্তন হয় তাহলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। 

পঞ্চম লক্ষণ হলো চোখ সামান্য বাইরে বেরিয়ে আসা বা ফুলে ওঠা মনে হওয়া এটি সাধারণত টিউমারের কারণে চোখের ভেতরে চাপ সৃষ্টি হলে দেখা যায় এই লক্ষণটি কখনোই অবহেলা করা উচিত নয়। 

ষষ্ঠ লক্ষণ হিসেবে চোখে ব্যথা বা ফোলাভাব দেখা দিতে পারে তবে সব ক্ষেত্রে ব্যথা থাকে না অনেক সময় কোনো ব্যথা ছাড়াই সমস্যা বাড়তে থাকে তাই শুধুমাত্র ব্যথা না থাকলেই নিশ্চিন্ত হওয়া ঠিক নয়। 

সপ্তম লক্ষণ হলো চোখের আকৃতির পরিবর্তন বা চোখ নড়াতে অসুবিধা হওয়া যদি চোখের স্বাভাবিক নড়াচড়া বাধাগ্রস্ত হয় বা চোখের গঠন বদলে যেতে থাকে তাহলে তা গুরুতর সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে। 

চোখের ক্যানসারের কারণ বিভিন্ন হতে পারে এর মধ্যে অন্যতম হলো অতিবেগুনি রশ্মির প্রভাব দীর্ঘ সময় রোদে সুরক্ষা ছাড়া থাকলে চোখের কোষে ক্ষতি হতে পারে এবং তা ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায় এছাড়া পরিবারের কারও ক্যানসারের ইতিহাস থাকলে অন্যদের মধ্যেও এই রোগ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে এই ঝুঁকি আরও বাড়ে এবং ফর্সা ত্বকের মানুষের মধ্যে এই ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। 

news image
আরও খবর

জীবনযাত্রার কিছু অভ্যাসও এই রোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে যেমন দীর্ঘ সময় মোবাইল বা কম্পিউটার ব্যবহার পর্যাপ্ত বিশ্রামের অভাব এবং সঠিক পুষ্টির অভাব চোখের স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলে যদিও এগুলো সরাসরি ক্যানসারের কারণ নয় তবে চোখ দুর্বল করে এবং অন্যান্য সমস্যার ঝুঁকি বাড়ায়। 

প্রতিরোধের ক্ষেত্রে কিছু সহজ অভ্যাস খুবই কার্যকর হতে পারে যেমন রোদে বের হওয়ার সময় ভালো মানের ইউভি সুরক্ষাযুক্ত সানগ্লাস ব্যবহার করা এতে সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি থেকে চোখ সুরক্ষিত থাকে এছাড়া নিয়মিত চোখ পরীক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি বছরে অন্তত একবার চক্ষু বিশেষজ্ঞের কাছে গিয়ে চোখ পরীক্ষা করালে অনেক সমস্যা আগেই ধরা পড়ে। 

খাবারের দিকেও বিশেষ নজর দেওয়া প্রয়োজন ভিটামিন এ চোখের জন্য অত্যন্ত উপকারী যা গাজর মিষ্টি আলু এবং সবুজ শাকসবজিতে পাওয়া যায় ভিটামিন সি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় যা লেবু কমলা এবং আমলকিতে থাকে এছাড়া ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড চোখের স্বাস্থ্যের জন্য খুব ভালো যা মাছ বাদাম এবং বীজে পাওয়া যায়। 

শিশুদের ক্ষেত্রে অভিভাবকদের আরও বেশি সতর্ক থাকা উচিত কারণ তারা নিজের সমস্যা ঠিকভাবে বোঝাতে পারে না যদি শিশুর চোখে কোনো অস্বাভাবিকতা দেখা যায় যেমন চোখ কুঁচকে দেখা বারবার চোখ ঘষা বা আলোতে সমস্যা হওয়া তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়া উচিত। 

অনেক সময় মানুষ লজ্জা ভয় বা অবহেলার কারণে চিকিৎসকের কাছে যেতে দেরি করেন যা পরিস্থিতিকে আরও খারাপ করে তোলে তাই কোনো লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে দ্রুত বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত কারণ সময়মতো চিকিৎসাই এই রোগের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় অস্ত্র। চোখের ক্যানসার সম্পর্কে সচেতনতা শুধু একটি ব্যক্তিগত দায়িত্ব নয় বরং এটি একটি সামাজিক প্রয়োজন কারণ অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায় মানুষ প্রাথমিক লক্ষণগুলোকে গুরুত্ব দেয় না এবং দেরিতে চিকিৎসকের কাছে যায় যার ফলে রোগটি জটিল হয়ে ওঠে তাই প্রত্যেকের উচিত নিজের শরীরের ছোট ছোট পরিবর্তন লক্ষ্য করা এবং তা অবহেলা না করা চোখের ক্ষেত্রে এই বিষয়টি আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ কারণ চোখের সমস্যা অনেক সময় নীরবে বৃদ্ধি পায় এবং শেষ পর্যায়ে গিয়ে ধরা পড়ে। 

প্রতিদিনের জীবনে আমরা চোখকে সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করি কিন্তু যত্নের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি অবহেলাও করি দীর্ঘ সময় মোবাইল বা কম্পিউটারের সামনে বসে থাকা পর্যাপ্ত বিশ্রাম না নেওয়া অন্ধকারে স্ক্রিন ব্যবহার করা এই সব অভ্যাস চোখের ওপর চাপ সৃষ্টি করে এবং দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতি করতে পারে তাই কাজের ফাঁকে ফাঁকে চোখকে বিশ্রাম দেওয়া খুব প্রয়োজন প্রতি কুড়ি মিনিট পর পর কিছু সময়ের জন্য দূরে তাকানো এবং চোখ বন্ধ করে রাখা চোখকে স্বস্তি দেয়। 

এছাড়া চোখ পরিষ্কার রাখা খুবই জরুরি অনেকেই হাত না ধুয়ে চোখে হাত দেন যা সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ায় তাই সবসময় পরিষ্কার হাত দিয়ে চোখ স্পর্শ করা উচিত এবং প্রয়োজনে পরিষ্কার পানি দিয়ে চোখ ধোয়া যেতে পারে তবে অতিরিক্ত ঘষাঘষি করা উচিত নয় কারণ এতে চোখের ক্ষতি হতে পারে। 

চোখের সুরক্ষার জন্য সঠিক আলোর ব্যবহারও গুরুত্বপূর্ণ খুব বেশি উজ্জ্বল আলো বা খুব কম আলো দুটোই চোখের জন্য ক্ষতিকর তাই পড়াশোনা বা কাজ করার সময় সঠিক আলো ব্যবহার করা উচিত বাইরে বের হলে ধুলোবালি এবং রোদ থেকে চোখ বাঁচাতে সানগ্লাস ব্যবহার করা যেতে পারে যা চোখকে অনেকটাই সুরক্ষিত রাখে। 

স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস চোখের সুস্থতার জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় নিয়মিত ফলমূল শাকসবজি এবং পুষ্টিকর খাবার খেলে চোখের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে বিশেষ করে গাজর পালং শাক ডিম মাছ বাদাম এই ধরনের খাবার চোখের জন্য উপকারী পর্যাপ্ত পানি পান করাও জরুরি কারণ শরীরে পানির অভাব চোখকে শুষ্ক করে তোলে। 

পরিবারের মধ্যে যদি কারও চোখের গুরুতর সমস্যা বা ক্যানসারের ইতিহাস থাকে তাহলে অন্য সদস্যদের আরও বেশি সতর্ক থাকা প্রয়োজন নিয়মিত চেকআপ করলে অনেক সমস্যাই আগেই ধরা পড়ে এবং চিকিৎসা সহজ হয় শিশুদের ক্ষেত্রে এই বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ কারণ তারা নিজের সমস্যার কথা সবসময় বুঝতে পারে না তাই অভিভাবকদের উচিত তাদের আচরণ এবং চোখের পরিবর্তন লক্ষ্য করা। 

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ভয় না পেয়ে সচেতন হওয়া অনেকেই ক্যানসারের নাম শুনেই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন কিন্তু মনে রাখতে হবে সময়মতো শনাক্ত হলে অনেক ক্ষেত্রেই চিকিৎসা সম্ভব এবং স্বাভাবিক জীবনযাপন করা যায় তাই কোনো লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে দ্রুত বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত। 

সচেতনতা ছড়িয়ে দেওয়া আমাদের সবার দায়িত্ব পরিবারের সদস্য বন্ধু এবং সমাজের মানুষদের এই বিষয়ে জানানো দরকার যাতে সবাই সতর্ক থাকে একটি ছোট সচেতনতাই বড় বিপদ থেকে রক্ষা করতে পারে তাই নিজের যত্ন নিন অন্যদেরও সচেতন করুন তাহলেই আমরা একটি সুস্থ এবং নিরাপদ সমাজ গড়ে তুলতে পারব। 

Preview image