রাজ্যে সরকারি চাকরিপ্রার্থীদের জন্য বড় স্বস্তি। মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকেই সরকারি চাকরির আবেদনের বয়সসীমা পাঁচ বছর বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিল শুভেন্দু সরকার। কর্মসংস্থান নিয়ে বিজেপির প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকারের প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠক থেকেই একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী Suvendu Adhikari। সোমবার নবান্নে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকের পর মুখ্যমন্ত্রী জানান, তাঁর সরকার “সুশাসন, স্বচ্ছতা এবং নিরাপত্তা”-র পথে চলবে। একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করেন, পশ্চিমবঙ্গেও এবার বিজেপিশাসিত রাজ্যগুলির মতো “ডবল ইঞ্জিন সরকার”-এর মডেল কার্যকর করা হবে। প্রথম বৈঠকেই চাকরির বয়সসীমা বৃদ্ধি, কেন্দ্রীয় প্রকল্প বাস্তবায়ন, সীমান্ত নিরাপত্তা, জনগণনা নির্দেশ কার্যকর এবং ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (বিএনএস) চালুর মতো একাধিক বড় পদক্ষেপের ঘোষণা ঘিরে রাজনৈতিক মহলে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে।
সোমবার দুপুর ১২টায় নবান্নে ডাকা হয়েছিল নতুন সরকারের প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠক। সেখানে উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ, অগ্নিমিত্রা পাল, অশোক কীর্তনিয়া, ক্ষুদিরাম টুডু এবং নিশীথ প্রামাণিক-সহ প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকেরা। বৈঠকের পরে সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু বলেন, এই সরকার “ফর দ্য পার্টি” নয়, বরং “বাই দ্য পিপল, অফ দ্য পিপল, ফর দ্য পিপল” নীতিতে চলবে। তিনি বাবাসাহেব B. R. Ambedkar-এর আদর্শের উল্লেখ করে জানান, সংবিধানকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েই প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
সরকারি চাকরিপ্রার্থীদের জন্য সবচেয়ে বড় ঘোষণা ছিল আবেদনের বয়সসীমা পাঁচ বছর বৃদ্ধি। মুখ্যমন্ত্রী জানান, ২০১৫ সালের পর থেকে পশ্চিমবঙ্গে কার্যত কোনও বড় নিয়োগ হয়নি। ফলে বহু শিক্ষিত যুবক-যুবতী চাকরির আবেদন করার আগেই বয়সসীমা পেরিয়ে গিয়েছেন। সেই পরিস্থিতি বিবেচনা করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, কর্মসংস্থান নিয়ে নির্বাচনী প্রচারে বিজেপি যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকেই তার বাস্তব প্রতিফলন দেখা গেল। এই ঘোষণায় দীর্ঘদিন ধরে চাকরির অপেক্ষায় থাকা হাজার হাজার পরীক্ষার্থীর মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে।
একই সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে দেন, পূর্বতন সরকারের আমলে চালু হওয়া কোনও সামাজিক প্রকল্প বন্ধ করা হবে না। তিনি জানান, বর্তমানে চলা সমস্ত জনকল্যাণমূলক প্রকল্প আগের মতোই চালু থাকবে, তবে সেগুলি আরও স্বচ্ছ ও নিয়ম মেনে পরিচালিত হবে। শুভেন্দুর কথায়, “সরকার মানুষের জন্য কাজ করবে, রাজনৈতিক স্বার্থে নয়।” ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল, নতুন সরকার আসার পরে বহু প্রকল্প বন্ধ হয়ে যেতে পারে— সেই জল্পনায় আপাতত ইতি টানার চেষ্টা করেছে নতুন প্রশাসন।
নির্বাচনী প্রচারে অনুপ্রবেশ ও সীমান্ত নিরাপত্তা ছিল বিজেপির অন্যতম বড় ইস্যু। ক্ষমতায় এসেই সেই বিষয়ে কড়া পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিল নতুন সরকার। মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেন, সীমান্তে কাঁটাতারের কাজ দ্রুত সম্পূর্ণ করার জন্য আগামী ৪৫ দিনের মধ্যে বিএসএফ-কে প্রয়োজনীয় জমি হস্তান্তর করা হবে। তিনি বলেন, “রাজ্যের জনবিন্যাস বদলে গিয়েছে। তাই সীমান্ত সুরক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।” এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে মুখ্যসচিব ও ভূমি-রাজস্ব সচিবকে। উল্লেখ্য, পূর্বতন রাজ্য সরকারের সঙ্গে এই জমি হস্তান্তর নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কেন্দ্রীয় সরকারের টানাপড়েন চলছিল। ফলে প্রথম বৈঠকেই এই সিদ্ধান্তকে রাজনৈতিক দিক থেকেও তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
কেন্দ্রীয় সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়ন নিয়েও বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে নতুন সরকার। এতদিন কেন্দ্রীয় প্রকল্পের নাম পরিবর্তন বা বাস্তবায়ন নিয়ে কেন্দ্র-রাজ্য সংঘাতের অভিযোগ উঠেছিল। এবার সেই পরিস্থিতি বদলানোর বার্তা দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেন, পশ্চিমবঙ্গকে আয়ুষ্মান ভারত প্রধানমন্ত্রী জন আরোগ্য যোজনার সঙ্গে যুক্ত করা হচ্ছে। তিনি জানান, স্বাস্থ্যসচিব, মুখ্যমন্ত্রীর দফতরের উপদেষ্টা এবং মুখ্যসচিব দ্রুত এই সংক্রান্ত সমস্ত প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবেন। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী ফসল বীমা যোজনা, পিএমশ্রী, বিশ্বকর্মা, বেটি বাঁচাও বেটি পড়াও, উজ্জ্বলা যোজনা-সহ একাধিক কেন্দ্রীয় প্রকল্পে রাজ্যকে সক্রিয়ভাবে যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসনকে দ্রুত কেন্দ্রীয় মন্ত্রকে প্রয়োজনীয় আবেদন পাঠানোর নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
আইন-শৃঙ্খলা এবং বিচারব্যবস্থার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, ভারতীয় ন্যায় সংহিতা বা বিএনএস এতদিন পশ্চিমবঙ্গে সঠিকভাবে কার্যকর হয়নি। সোমবার থেকেই তা রাজ্যে সম্পূর্ণভাবে চালু করা হচ্ছে। শুভেন্দুর অভিযোগ, পূর্বতন সরকার পুরনো আইপিসি ও সিআরপিসি ব্যবস্থা চালিয়ে রেখে সংবিধানের প্রতি অবহেলা করেছে। তাঁর কথায়, “আজ থেকে পশ্চিমবঙ্গ সম্পূর্ণভাবে বিএনএস-এ যুক্ত হল।” প্রশাসনিক মহলের মতে, এর ফলে রাজ্যের আইন প্রয়োগ ও বিচার প্রক্রিয়ায় বড় পরিবর্তন আসতে পারে।
প্রশাসনিক সংস্কারের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রাজ্যে কর্মরত আইএএস, আইপিএস, ডব্লিউবিসিএস এবং ডব্লিউবিপিএস আধিকারিকদের কেন্দ্রীয় প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ বাধ্যতামূলক করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, পূর্বতন সরকারের অলিখিত নির্দেশে বহু আধিকারিক কেন্দ্রীয় প্রশিক্ষণে অংশ নিতেন না। এবার অন্যান্য বিজেপিশাসিত রাজ্যের নিয়ম মেনেই আধিকারিকদের প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় যুক্ত সকলকে ধন্যবাদও জানান। ভোটার, নির্বাচন কমিশন, রাজ্য পুলিশ, কলকাতা পুলিশ, কেন্দ্রীয় বাহিনী, পর্যবেক্ষক এবং প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক দলের প্রার্থীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি। পাশাপাশি বিজেপির ৩২১ জন নিহত কর্মীর আত্মবলিদান স্মরণ করে শুভেন্দু জানান, তাঁদের পরিবারের পাশে থাকবে সরকার। তিনি বলেন, “যাঁরা আত্মবলিদান দিয়েছেন, তাঁদের পরিবারের বিচার ও সামাজিক সুরক্ষার দায় সরকার নেবে।”
এ দিনের বৈঠকে জনগণনা সংক্রান্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, কেন্দ্রীয় সরকার গত বছর জুন মাসে জনগণনা সংক্রান্ত নির্দেশ পাঠালেও পূর্বতন সরকার সেই ফাইল কার্যকর করেনি। তাঁর অভিযোগ, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে সেই প্রক্রিয়া আটকে রাখা হয়েছিল। সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠকেই সেই নির্দেশ কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। শুভেন্দুর দাবি, জনগণনা প্রক্রিয়া আটকে রাখার ফলে কেন্দ্রীয় বিভিন্ন সাংবিধানিক পদক্ষেপ, বিশেষত মহিলা সংরক্ষণ সংক্রান্ত পরিকল্পনা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছিল।
মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, এই সরকার কোনও ব্যক্তিকেন্দ্রিক প্রশাসনে বিশ্বাস করে না। তাঁর কথায়, “এই সরকার ‘আমিত্বে’ নয়, ‘আমরা’-নীতিতে চলবে।” তিনি দাবি করেন, সংবিধান, নিয়ম এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতাকেই অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। এমন কোনও সিদ্ধান্ত সরকার নেবে না, যা নিয়ে সাধারণ মানুষ বা সমালোচকেরা প্রশ্ন তুলতে পারেন।
সবশেষে শুভেন্দু জানান, আগামী সোমবার ফের মন্ত্রিসভার বৈঠক হবে। সেই বৈঠকে আরজি কর-কাণ্ড, নারী নির্যাতন, প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি, বেতন কমিশন এবং মহার্ঘ ভাতা (ডিএ) সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলি নিয়ে আলোচনা হবে। ফলে প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর থেকেই স্পষ্ট, নতুন সরকার প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক দুই ক্ষেত্রেই দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করতে চাইছে।
নতুন সরকারের প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে, কারণ সাধারণত কোনও সরকার ক্ষমতায় আসার পরে প্রথম বৈঠক থেকেই তাদের প্রশাসনিক অগ্রাধিকার স্পষ্ট হয়ে যায়। শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকারও প্রথম দিনেই কর্মসংস্থান, সীমান্ত নিরাপত্তা, কেন্দ্র-রাজ্য সম্পর্ক, প্রশাসনিক সংস্কার এবং জনকল্যাণমূলক প্রকল্প— এই পাঁচটি ক্ষেত্রকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে বলেই মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে সরকারি চাকরির বয়সসীমা পাঁচ বছর বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত বহু চাকরিপ্রার্থীর কাছে বড় স্বস্তির খবর হিসেবে দেখা হচ্ছে। দীর্ঘদিন নিয়োগ প্রক্রিয়া বন্ধ থাকায় বহু পরীক্ষার্থী চাকরির সুযোগ হারানোর আশঙ্কায় ছিলেন। নতুন সরকারের এই সিদ্ধান্ত সেই অসন্তোষ অনেকটাই কমাতে পারে বলেই রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের ধারণা।
একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলিকে দ্রুত কার্যকর করার সিদ্ধান্তও রাজনৈতিক ভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। পূর্বতন সরকারের বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় প্রকল্পে বাধা সৃষ্টি, নাম পরিবর্তন কিংবা বাস্তবায়নে দেরির অভিযোগ বহুবার উঠেছিল। নতুন সরকার সেই অভিযোগ থেকে বেরিয়ে এসে কেন্দ্রের সঙ্গে সমন্বয় রেখে উন্নয়নমূলক কাজ এগিয়ে নিতে চাইছে বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প চালুর সিদ্ধান্ত স্বাস্থ্য পরিষেবার ক্ষেত্রে বড় পরিবর্তন আনতে পারে বলে মনে করছেন প্রশাসনিক বিশেষজ্ঞদের একাংশ। কারণ, এই প্রকল্পের মাধ্যমে বহু সাধারণ মানুষ চিকিৎসা পরিষেবায় আর্থিক সুবিধা পেতে পারেন। পাশাপাশি উজ্জ্বলা যোজনা, ফসল বীমা ও বেটি বাঁচাও বেটি পড়াওয়ের মতো প্রকল্পগুলিকেও নতুন উদ্যমে চালু করার সিদ্ধান্তের ফলে গ্রামীণ এবং নিম্নবিত্ত পরিবারের মধ্যে ইতিবাচক বার্তা যেতে পারে।
সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে সরকারের কড়া অবস্থানও রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। নির্বাচনী প্রচারে অনুপ্রবেশ ইস্যুকে বড় করে তুলেছিল বিজেপি। ক্ষমতায় এসেই বিএসএফ-কে জমি দেওয়ার সিদ্ধান্ত সেই প্রতিশ্রুতির বাস্তব রূপ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। সীমান্ত এলাকায় কাঁটাতারের কাজ দ্রুত শেষ করার মাধ্যমে অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধ এবং নিরাপত্তা আরও জোরদার করার বার্তা দিতে চাইছে সরকার। একই সঙ্গে প্রশাসনিক আধিকারিকদের কেন্দ্রীয় প্রশিক্ষণের সিদ্ধান্তও গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর ফলে রাজ্যের প্রশাসনিক ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক ও কেন্দ্রীয় নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে মত বিশেষজ্ঞদের।
অন্যদিকে জনগণনা সংক্রান্ত কেন্দ্রীয় নির্দেশ কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নিয়েও রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী অভিযোগ করেছেন, পূর্বতন সরকার ইচ্ছাকৃতভাবে জনগণনা প্রক্রিয়া আটকে রেখেছিল। তাঁর দাবি, এর ফলে কেন্দ্রীয় বিভিন্ন নীতি বাস্তবায়ন ব্যাহত হচ্ছিল। বিশেষ করে মহিলা সংরক্ষণ কার্যকর করার ক্ষেত্রেও জনগণনার গুরুত্ব রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। যদিও বিরোধী শিবির ইতিমধ্যেই এই অভিযোগের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে।
প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকে বিজেপির নিহত কর্মীদের পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাসও আবেগঘন রাজনৈতিক বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। শুভেন্দু জানান, যাঁরা রাজনৈতিক সংঘর্ষে প্রাণ হারিয়েছেন, তাঁদের পরিবারের সামাজিক ও আর্থিক দায়িত্ব সরকার নেবে। এর মাধ্যমে দলীয় কর্মীদের প্রতি সরকারের দায়বদ্ধতার বার্তা তুলে ধরার চেষ্টা হয়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
সব মিলিয়ে, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকারের প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠক শুধুমাত্র প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি; বরং নতুন সরকারের রাজনৈতিক দর্শন, প্রশাসনিক রূপরেখা এবং আগামী দিনের অগ্রাধিকারের একটি স্পষ্ট ইঙ্গিতও তুলে ধরেছে। এখন নজর থাকবে আগামী বৈঠকগুলির দিকে, বিশেষ করে ডিএ, বেতন কমিশন, নারী নিরাপত্তা এবং দুর্নীতি সংক্রান্ত বিষয়ে সরকার কী সিদ্ধান্ত নেয়, তার উপর।