Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

মমতা পদত্যাগ না করলে বিজেপির সামনে কী পথ খোলা জানাচ্ছেন সুপ্রিম কোর্টের প্রবীণ আইনজীবী

পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পদত্যাগ না করলে বিজেপির সামনে কী সাংবিধানিক ও আইনি পথ খোলা রয়েছে তা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ মতামত দিলেন সুপ্রিম কোর্টের এক প্রবীণ আইনজীবী। তাঁর বক্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে

পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে এক নতুন বিতর্ককে কেন্দ্র করে। নির্বাচন পরবর্তী পরিস্থিতি এবং রাজ্যের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ঘটনাবলিকে ঘিরে যখন শাসক ও বিরোধী দলের মধ্যে সংঘাত ক্রমশ বাড়ছে তখন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে নতুন রাজনৈতিক প্রশ্ন সামনে এসেছে। বিশেষ করে বিরোধী দল বিজেপির একাংশের দাবি রাজ্যের বর্তমান পরিস্থিতির নৈতিক দায় নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর পদত্যাগ করা উচিত। যদিও তৃণমূল কংগ্রেস এই দাবিকে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে উড়িয়ে দিয়েছে। এর মধ্যেই সুপ্রিম কোর্টের এক প্রবীণ আইনজীবীর মন্তব্য ঘিরে শুরু হয়েছে নতুন জল্পনা।

ওই আইনজীবী জানিয়েছেন ভারতের সংবিধানে মুখ্যমন্ত্রীর পদত্যাগ নিয়ে স্পষ্ট নিয়ম রয়েছে এবং শুধুমাত্র রাজনৈতিক চাপ তৈরি করলেই কোনও মুখ্যমন্ত্রীকে পদ থেকে সরানো যায় না। তবে যদি কোনও সাংবিধানিক সংকট তৈরি হয় বা সরকার সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারায় তাহলে রাজ্যপালের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী বিজেপির সামনে কয়েকটি আইনি ও সাংবিধানিক পথ খোলা রয়েছে যা তারা প্রয়োজনে ব্যবহার করতে পারে। তিনি ব্যাখ্যা করেন যে প্রথমত বিরোধী দল হিসেবে বিজেপি রাজ্যপালের কাছে অভিযোগ জানাতে পারে এবং দাবি করতে পারে যে রাজ্যে সাংবিধানিক যন্ত্র ভেঙে পড়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হোক। যদি রাজ্যপাল মনে করেন পরিস্থিতি গুরুতর তাহলে তিনি কেন্দ্রের কাছে রিপোর্ট পাঠাতে পারেন। সেই রিপোর্টের ভিত্তিতে রাষ্ট্রপতি শাসন জারির মতো বড় সিদ্ধান্ত নিয়েও আলোচনা হতে পারে। যদিও এই ধরনের পদক্ষেপ অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং আদালতের পর্যবেক্ষণের আওতায় থাকে।

আইনজীবীর মতে দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ পথ হল আদালতের দ্বারস্থ হওয়া। যদি বিরোধী দল মনে করে রাজ্যে প্রশাসনিক ব্যর্থতা বা আইনশৃঙ্খলার চরম অবনতি হয়েছে তাহলে তারা হাইকোর্ট বা সুপ্রিম কোর্টে জনস্বার্থ মামলা দায়ের করতে পারে। আদালত সেই মামলার ভিত্তিতে রাজ্য সরকারকে জবাবদিহির মুখে দাঁড় করাতে পারে এবং প্রয়োজন হলে কড়া পর্যবেক্ষণও করতে পারে। তবে আদালত সরাসরি কোনও নির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রীকে অপসারণ করে না বলেও তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন। এই মন্তব্য সামনে আসতেই রাজনৈতিক মহলে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। বিজেপির নেতারা দাবি করছেন রাজ্যের বর্তমান পরিস্থিতিতে মানুষের আস্থা নষ্ট হয়েছে এবং প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। তাদের বক্তব্য রাজ্যের মানুষ পরিবর্তন চাইছে এবং গণতন্ত্র রক্ষার স্বার্থে সাংবিধানিক পথেই লড়াই চালানো হবে। অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেসের বক্তব্য বিজেপি রাজনৈতিকভাবে ব্যর্থ হয়ে এখন আইনি পথকে হাতিয়ার করতে চাইছে।

রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করছেন এই বিতর্ক আগামী দিনে আরও বড় আকার নিতে পারে। কারণ পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি বর্তমানে অত্যন্ত উত্তেজনাপূর্ণ পর্যায়ে রয়েছে এবং প্রতিটি ঘটনা রাজনৈতিকভাবে ব্যাখ্যা করা হচ্ছে। শাসক এবং বিরোধী উভয় পক্ষই নিজেদের অবস্থানকে শক্তিশালী করতে চাইছে। ফলে আইনি এবং সাংবিধানিক প্রশ্নগুলোও এখন সাধারণ মানুষের আলোচনার কেন্দ্রে চলে এসেছে। বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন ভারতের গণতান্ত্রিক কাঠামোয় নির্বাচিত সরকারকে সরানোর জন্য নির্দিষ্ট সাংবিধানিক প্রক্রিয়া রয়েছে এবং সেই প্রক্রিয়ার বাইরে গিয়ে কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব নয়। তাই রাজনৈতিক চাপ যতই থাকুক শেষ পর্যন্ত সংবিধানের নিয়ম মেনেই সবকিছু চলবে। আদালত এবং সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলির ভূমিকা এই ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

সব মিলিয়ে বলা যায় পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি শুধুমাত্র রাজনৈতিক লড়াইয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই বরং তা এখন সাংবিধানিক বিতর্কের দিকেও এগোচ্ছে। সুপ্রিম কোর্টের প্রবীণ আইনজীবীর মন্তব্য সেই বিতর্ককে আরও উসকে দিয়েছে। আগামী দিনে বিজেপি কোন পথে এগোয় এবং রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয় সেদিকেই নজর থাকবে সকলের।

পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এখন এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যেখানে প্রতিটি ঘটনাই শুধুমাত্র রাজনৈতিক সংঘর্ষের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে না বরং তার সঙ্গে জড়িয়ে যাচ্ছে সাংবিধানিক ব্যাখ্যা আইনি বিতর্ক এবং প্রশাসনিক দায়বদ্ধতার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। রাজ্যের সাম্প্রতিক ঘটনাবলি নিয়ে বিরোধী দল বিজেপি যেমন লাগাতার সরব হয়েছে তেমনই শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসও পাল্টা আক্রমণে নেমেছে। এই পরিস্থিতির মধ্যেই সুপ্রিম কোর্টের এক প্রবীণ আইনজীবীর মন্তব্য নতুন করে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। তাঁর বক্তব্য ঘিরে এখন শুরু হয়েছে তীব্র আলোচনা কারণ তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে কোনও নির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রীকে সরানোর জন্য শুধুমাত্র রাজনৈতিক দাবি যথেষ্ট নয় বরং তার জন্য নির্দিষ্ট সাংবিধানিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়।

এই মন্তব্য সামনে আসার পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে বিজেপি আগামী দিনে কী কৌশল নিতে পারে। বিরোধী শিবিরের একাংশ মনে করছে রাজ্যের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে তাকে রাজনৈতিকভাবে আরও বড় আন্দোলনের রূপ দেওয়া হতে পারে। পাশাপাশি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলির দ্বারস্থ হওয়ার পথও খোলা রাখা হতে পারে। বিশেষ করে আইনশৃঙ্খলা প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা এবং নির্বাচন পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে বিজেপি ধারাবাহিকভাবে কেন্দ্রীয় সংস্থা আদালত এবং রাজ্যপালের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করতে পারে বলে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের ধারণা।

অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেসের বক্তব্য সম্পূর্ণ ভিন্ন। শাসক দলের নেতারা দাবি করছেন বিরোধীরা রাজনৈতিকভাবে মানুষের সমর্থন হারিয়ে এখন সাংবিধানিক বিতর্ক তৈরি করে অস্থিরতা বাড়ানোর চেষ্টা করছে। তাদের মতে নির্বাচনে জনগণ যে রায় দিয়েছে সেটাই গণতন্ত্রের সবচেয়ে বড় ভিত্তি এবং সেই রায়কে অস্বীকার করার কোনও সুযোগ নেই। তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি বিরোধীরা রাজনৈতিকভাবে সফল হতে না পেরে আদালত এবং সাংবিধানিক সংস্থাগুলিকে ব্যবহার করে চাপ তৈরির কৌশল নিচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের মধ্যেও কৌতূহল বাড়ছে সংবিধান অনুযায়ী কোনও মুখ্যমন্ত্রীকে অপসারণ করার প্রক্রিয়া আসলে কী। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন ভারতের গণতান্ত্রিক কাঠামোয় নির্বাচিত সরকারকে সরানোর জন্য নির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে। সরকার যদি সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারায় অথবা সাংবিধানিক সংকট তৈরি হয় তাহলে রাজ্যপাল হস্তক্ষেপ করতে পারেন। তবে সেই ক্ষেত্রেও আদালতের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ অতীতে একাধিক ঘটনায় সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানিয়েছে নির্বাচিত সরকারকে সরানোর প্রশ্নে সংবিধানের সীমারেখা কঠোরভাবে মানতে হবে।

এখানেই উঠে আসছে আদালতের ভূমিকার প্রসঙ্গ। যদি বিরোধী দল কোনও প্রশাসনিক ব্যর্থতা বা আইনশৃঙ্খলার অবনতির অভিযোগ তোলে তাহলে আদালত সেই বিষয়ে রিপোর্ট চাইতে পারে অথবা পর্যবেক্ষণ দিতে পারে। কিন্তু আদালত সরাসরি রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নেয় না। ফলে রাজনৈতিক চাপ এবং আইনি লড়াইয়ের মধ্যে একটা স্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের প্রবীণ আইনজীবীর বক্তব্য মূলত সেই দিকটাই সামনে এনেছে বলে মনে করছেন অনেকে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে বিজেপির সামনে রাজনৈতিক আন্দোলন আরও জোরদার করার সুযোগ যেমন রয়েছে তেমনই সাংবিধানিক পথেও চাপ তৈরির সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে রাজ্যপালের সঙ্গে সাক্ষাৎ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের কাছে রিপোর্ট পাঠানো আদালতে মামলা দায়ের অথবা নির্বাচন কমিশনের কাছে অভিযোগ জানানোর মতো পদক্ষেপ আগামী দিনে দেখা যেতে পারে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে বিজেপি এখন দ্বিমুখী কৌশল নিতে পারে একদিকে জনমত গঠন অন্যদিকে সাংবিধানিক প্রশ্ন তুলে প্রশাসনের উপর চাপ সৃষ্টি।

তবে এই পুরো পরিস্থিতিতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল সাধারণ মানুষের প্রতিক্রিয়া। কারণ শেষ পর্যন্ত গণতন্ত্রে জনমতই সবচেয়ে বড় শক্তি। রাজ্যের মানুষ কীভাবে বর্তমান পরিস্থিতিকে দেখছেন সেটাই আগামী রাজনৈতিক সমীকরণ নির্ধারণ করতে পারে। রাজনৈতিক উত্তেজনা যতই বাড়ুক সাধারণ মানুষ উন্নয়ন কর্মসংস্থান নিরাপত্তা এবং স্থিতিশীল প্রশাসনকেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়। ফলে রাজনৈতিক দলগুলিকে সেই বিষয়গুলির উপরও সমানভাবে নজর রাখতে হবে। বিশেষজ্ঞদের একাংশ আরও মনে করছেন পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি এখন এমন এক জায়গায় পৌঁছেছে যেখানে প্রতিটি ইস্যুই জাতীয় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হয়ে যাচ্ছে। তাই রাজ্যের কোনও রাজনৈতিক বিতর্ক শুধু রাজ্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে না বরং তা জাতীয় স্তরেও আলোচনার বিষয় হয়ে উঠছে। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবীর মন্তব্য সেই কারণেই আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে কারণ তা সরাসরি সাংবিধানিক কাঠামো এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রশ্নকে সামনে এনেছে।

সব মিলিয়ে পরিস্থিতি স্পষ্টভাবে ইঙ্গিত দিচ্ছে যে আগামী কয়েক সপ্তাহ বা কয়েক মাস পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে। বিরোধী দল বিজেপি কোন পথে এগোয় শাসক দল কীভাবে পাল্টা জবাব দেয় আদালত এবং সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলির ভূমিকা কী হয় এবং সবচেয়ে বড় কথা সাধারণ মানুষের প্রতিক্রিয়া কোন দিকে যায় তার উপরই নির্ভর করবে আগামী রাজনৈতিক সমীকরণ। রাজনৈতিক উত্তাপের মধ্যেও সংবিধানের সীমারেখা এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াই শেষ পর্যন্ত সবচেয়ে বড় নির্ধারক হয়ে উঠবে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

news image
আরও খবর

 

 

 

 

 

 

 

 

 

Preview image