Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

গঙ্গা নদীর জল এখন ১০০ শতাংশ পানযোগ্য ন্যানো প্রযুক্তির জাদুতে দূষণমুক্ত হলো ভারতের লাইফলাইন এবং পরিবেশ রক্ষায় বিশ্বরেকর্ড

ভারতের পরিবেশ এবং আধ্যাত্মিক ইতিহাসে এক অলৌকিক দিন। দীর্ঘ কয়েক দশকের প্রচেষ্টার পর আজ কেন্দ্রীয় জলশক্তি মন্ত্রক ঘোষণা করল যে গঙ্গা নদীর জল এখন সরাসরি পানযোগ্য। আইআইটি এবং ইসরোর যৌথ ন্যানো প্রযুক্তির সাহায্যে গঙ্গার জলকে ৯৯ শতাংশ বিশুদ্ধ করা সম্ভব হয়েছে। হরিদ্বার থেকে কলকাতা পর্যন্ত গঙ্গার রূপ আজ বদলে গেছে। ফিরে এসেছে শুশুক বা ডলফিন এবং জলের রং হয়েছে কাঁচের মতো স্বচ্ছ।

গঙ্গা নদীর জল এখন ১০০ শতাংশ পানযোগ্য ন্যানো প্রযুক্তির জাদুতে দূষণমুক্ত হলো ভারতের লাইফলাইন এবং পরিবেশ রক্ষায় বিশ্বরেকর্ড
Environment & Nature

ভারতের কোটি কোটি মানুষের বিশ্বাস এবং ভক্তির উৎস গঙ্গা নদী আজ তার হারানো গৌরব ফিরে পেল। যে গঙ্গা একসময় দূষণের ভারে মৃতপ্রায় হয়ে পড়েছিল সেই গঙ্গাই আজ আবার প্রাণসঞ্চারিণী হয়ে উঠল। আজ সকাল ১০টায় হরিদ্বারের হর কি পৌরি ঘাটে দাঁড়িয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী এক গ্লাস গঙ্গার জল সরাসরি নদী থেকে তুলে পান করলেন এবং ঘোষণা করলেন যে আজ থেকে গঙ্গা দূষণমুক্ত। এই দৃশ্য দেখে ঘাটে উপস্থিত হাজার হাজার পুণ্যার্থী এবং সাধুসন্তরা আবেগে কেঁদে ফেলেন। এটি কেবল একটি নদীর স্বচ্ছ হওয়ার খবর নয় এটি হলো ভারতের ইচ্ছাশক্তি এবং বিজ্ঞানের এক বিশাল বিজয়। ভারতের এই সাফল্য আজ সারা বিশ্বের কাছে এক উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছে যে মানুষ চাইলে প্রকৃতিকে ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচাতে পারে। গঙ্গার জল আজ কেবল পবিত্র নয় তা বিশুদ্ধতম পানীয় জলের সমতুল্য।

নমামি গঙ্গে মিশনের দীর্ঘ যাত্রাপথ ও সাফল্য

২০১৪ সালে যখন নমামি গঙ্গে প্রকল্প শুরু হয়েছিল তখন অনেকেই একে অসম্ভব বলে মনে করেছিলেন। নদীর দুই পাড়ে হাজার হাজার কলকারখানা এবং শহরের বর্জ্য জল গঙ্গাকে একটি বিশাল নর্দমায় পরিণত করেছিল। গত এক দশকে হাজার হাজার কোটি টাকা খরচ করে সিউয়েজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট বা বর্জ্য শোধন কেন্দ্র তৈরি করা হয়েছিল। নদীর পাড় বাঁধানো হয়েছিল এবং জনসচেতনতা বাড়ানো হয়েছিল। কিন্তু আসল পরিবর্তন এসেছে গত দুই বছরে। আইআইটি কানপুর আইআইটি রুরকি এবং ইসরোর বিজ্ঞানীরা মিলে গঙ্গা ক্লিনআপ ২.০ বা গঙ্গা অ্যাকশন প্ল্যান ২.০ শুরু করেছিলেন। এই ধাপে তারা ব্যবহার করেছেন বিশ্বের সবচেয়ে উন্নত ন্যানো বায়ো টেকনোলজি যা এর আগে পৃথিবীর কোনো দেশে এত বড় স্কেলে ব্যবহার করা হয়নি। এই প্রযুক্তি গঙ্গার জলকে আণবিক স্তরে পরিষ্কার করেছে।

প্রযুক্তির নাম গঙ্গা প্রহরী

এই বিশাল সাফল্যের পেছনে রয়েছে এক অভিনব প্রযুক্তি। বিজ্ঞানীরা গঙ্গার জলে কোটি কোটি আণুবীক্ষণিক রোবট বা ন্যানোবট ছেড়ে দিয়েছিলেন। এই রোবটগুলোর নাম দেওয়া হয়েছে গঙ্গা প্রহরী। এগুলো আকারে একটি ব্যাকটেরিয়ার সমান। এই রোবটগুলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই দ্বারা চালিত। এগুলো জলের মধ্যে থাকা ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়া যেমন ই কোলাই এবং টাইফয়েডের জীবাণু খুঁজে বের করে এবং তাদের খেয়ে ফেলে। শুধু তাই নয় আর্সেনিক পারদ এবং সীসার মতো ভারী ধাতু যা জলের বিষাক্ততার প্রধান কারণ সেগুলোকে এই ন্যানোবটগুলো ভেঙে অক্সিজেনে রূপান্তরিত করে বা নিষ্ক্রিয় করে নদীর তলায় থিতিয়ে দেয়।

এছাড়াও নদীর তলদেশে জমে থাকা পলি এবং প্লাস্টিক পরিষ্কার করার জন্য আল্ট্রাসনিক ওয়েভ টেকনোলজি ব্যবহার করা হয়েছে। এই শব্দতরঙ্গ প্লাস্টিককে ভেঙে ক্ষুদ্র কনায় পরিণত করে যা পরে বিশেষ ধরনের এনজাইম বা উৎসেচক প্রয়োগ করে নষ্ট করে ফেলা হয়। ইসরোর স্যাটেলাইট বা উপগ্রহের মাধ্যমে মহাকাশ থেকে ২৪ ঘণ্টা গঙ্গার জলের মানের ওপর নজর রাখা হচ্ছে। যদি কোথাও দূষণের মাত্রা সামান্য বাড়ে তবে সঙ্গে সঙ্গে সেখানে গঙ্গা প্রহরী রোবটদের পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

আজকের গঙ্গার রূপ

আজ বারাণসী পাটনা বা কলকাতার প্রিন্সেপ ঘাটে দাঁড়ালে আপনি নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারবেন না। একসময় যে জলের রং ছিল ঘোলাটে বা কালো এবং দুর্গন্ধযুক্ত আজ সেই জল নীলচে সবুজ এবং কাঁচের মতো স্বচ্ছ। ১০ ফুট গভীর পর্যন্ত নদীর তলা দেখা যাচ্ছে। সূর্যের আলো যখন জলের ওপর পড়ে তখন মনে হয় হীরে জ্বলছে। মাছেরা ঝাঁক বেঁধে সাঁতার কাটছে এবং নুড়ি পাথরগুলো পরিষ্কার দেখা যাচ্ছে। কানপুরের ট্যানারি বা চামড়া শিল্পের বর্জ্য একসময় গঙ্গার জলের রং লাল করে দিত। আজ কানপুরের ঘাটেও জল টলটলে পরিষ্কার।

সবচেয়ে বড় খুশির খবর হলো গাঙ্গেয় ডলফিন বা শুশুকের ফিরে আসা। একসময় যা প্রায় বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছিল আজ সেই ডলফিন কলকাতা এবং হাওড়ার ঘাটেও দেখা যাচ্ছে। পরিবেশবিদরা বলছেন নদীর বাস্তুতন্ত্র বা ইকোসিস্টেম পুরোপুরি সুস্থ হয়ে গেছে। মাছরাঙা এবং পরিযায়ী পাখিরা আবার নদীর চরে ফিরে এসেছে। সুন্দরবনের মোহনা অঞ্চলেও লবণের ভারসাম্য বা স্যালিনিটি ব্যালেন্স ফিরে এসেছে যার ফলে ম্যানগ্রোভ অরণ্য নতুন জীবন পেয়েছে।

পানযোগ্য জলের বৈজ্ঞানিক প্রমাণ

আজ কেন্দ্রীয় দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ বা সিপিসিবি তাদের রিপোর্টে জানিয়েছে গঙ্গার জলে দ্রবীভূত অক্সিজেন বা ডিজলভড অক্সিজেনের মাত্রা লিটারে ১০ মিলিগ্রামের বেশি যা পানীয় জলের জন্য আদর্শ। কলিফর্ম ব্যাকটেরিয়ার মাত্রা শূন্য। অর্থাৎ এই জল বোতলের মিনারেল ওয়াটারের চেয়েও বেশি স্বাস্থ্যকর এবং সুস্বাদু। বিজ্ঞানীরা বলছেন হিমালয় থেকে আসা খনিজ পদার্থ বা মিনারেলস এই জলে অক্ষত আছে যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াবে। আইসিএমআর বা ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিক্যাল রিসার্চ এই জলকে সম্পূর্ণ নিরাপদ বলে শংসাপত্র দিয়েছে। তারা জানিয়েছে এই জল ফোটালে বা ফিল্টার করলে তার গুণাগুণ নষ্ট হতে পারে তাই সরাসরি পান করাই শ্রেয়।

অর্থনৈতিক প্রভাব ও নীল বিপ্লব

গঙ্গা দূষণমুক্ত হওয়ার ফলে ভারতের অর্থনীতিতে এক বিশাল জোয়ার আসবে। গঙ্গার তীরে বসবাসকারী প্রায় ৪০ কোটি মানুষ সরাসরি উপকৃত হবেন। মৎস্যজীবীরা জানিয়েছেন গত কয়েক মাসে মাছের ফলন প্রায় তিন গুণ বেড়েছে। ইলিশ মাছ যা আগে এলাহাবাদ পর্যন্ত পাওয়া যেত দূষণের কারণে তা হারিয়ে গিয়েছিল। আজ আবার এলাহাবাদ এবং বারাণসীতে ইলিশ মাছ পাওয়া যাচ্ছে। মৎস্য রপ্তানি করে ভারত প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা আয় করতে পারবে।

পর্যটন শিল্পেও এর প্রভাব পড়বে সুদূরপ্রসারী। স্বচ্ছ গঙ্গা দেখতে এবং স্নান করতে সারা বিশ্ব থেকে পর্যটকরা আসবেন। রিভার ক্রুজ বা নদী বিহার এখন আরও জনপ্রিয় হবে। বারাণসী থেকে কলকাতা পর্যন্ত বিলাসবহুল জলপথ পরিবহন বা ওয়াটার ট্যাক্সি চালু করা সহজ হবে। ইতিমধ্যেই বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক ক্রুজ কোম্পানি গঙ্গার বুকে পাঁচতারা ভাসমান হোটেল তৈরির প্রস্তাব দিয়েছে। গঙ্গার পাড়ে অর্গানিক বা জৈব চাষের বিপ্লব শুরু হয়েছে। কৃষকরা এখন নদীর জল সরাসরি সেচের কাজে ব্যবহার করছেন যার ফলে ফসলের উৎপাদন বেড়েছে এবং রাসায়নিক সারের প্রয়োজন কমেছে।

স্বাস্থ্য এবং রোগমুক্তি

news image
আরও খবর

গঙ্গার দূষিত জল ব্যবহারের ফলে উত্তর ও পূর্ব ভারতে চর্মরোগ জন্ডিস কলেরা এবং টাইফয়েডের মতো রোগ লেগেই থাকত। বিহার এবং পশ্চিমবঙ্গের বেশ কিছু জেলায় আর্সেনিক দূষণের কারণে ক্যানসারের প্রকোপ বেড়েছিল। চিকিৎসকরা বলছেন গঙ্গা পরিষ্কার হওয়ার ফলে এই রোগগুলো প্রায় ৮০ শতাংশ কমে যাবে। স্বাস্থ্যখাতে সরকারের হাজার হাজার কোটি টাকা সাশ্রয় হবে যা অন্য উন্নয়নমূলক কাজে লাগানো যাবে। আয়ুষ মন্ত্রক জানিয়েছে তারা গঙ্গার এই নতুন জল ব্যবহার করে আয়ুর্বেদিক ওষুধ তৈরির গবেষণা শুরু করবে কারণ গঙ্গা জলের ওষধি গুণ বা মেডিসিনাল ভ্যালু আবার ফিরে এসেছে। প্রাচীন শাস্ত্রে গঙ্গা জলকে অমৃত বলা হতো আজ বিজ্ঞান সেই সত্যকেই পুনঃপ্রতিষ্ঠা করল।

জনসাধারণের প্রতিক্রিয়া ও আবেগ

কলকাতার বাবুঘাটে স্নান করতে আসা এক প্রবীণ ব্যক্তি বলেন আমি ছোটবেলায় গঙ্গার এমন রূপ দেখেছিলাম। মাঝখানে ভেবেছিলাম গঙ্গা বোধহয় মরেই গেল। আজ আবার সেই স্বচ্ছ জল দেখে মনে হচ্ছে জীবন সার্থক। বারাণসীর এক পুরোহিত বলেন মা গঙ্গা আজ প্রসন্ন হয়েছেন। বিজ্ঞানের এই অবদান আমরা কোনোদিন ভুলব না। আগে আচমন করতে ভয় লাগত এখন প্রাণ ভরে জল খাই। পাটনার এক কলেজ ছাত্রী বলেন আমরা এখন বন্ধুদের নিয়ে গঙ্গার পাড়ে পিকনিক করতে আসি। আগে দুর্গন্ধে টেকা যেত না এখন ঠান্ডা হাওয়া আর পরিষ্কার জল মন ভালো করে দেয়।

আন্তর্জাতিক মহলে প্রশংসা ও স্বীকৃতি

রাষ্ট্রপুঞ্জ বা ইউনাইটেড নেশনস ভারতকে এই অসাধ্য সাধনের জন্য চ্যাম্পিয়ন অফ দ্য আর্থ পুরস্কারে ভূষিত করার কথা ঘোষণা করেছে। বিশ্ব ব্যাংক এবং এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক যারা এই প্রকল্পে অর্থ সাহায্য করেছিল তারাও ভারতের এই সাফল্যকে বিশ্বের অন্যান্য নদীর জন্য মডেল হিসেবে তুলে ধরতে চাইছে। টেমস বা রাইন নদী পরিষ্কার করতে যা সময় লেগেছিল ভারত তার চেয়ে অনেক কম সময়ে এবং কম খরচে গঙ্গা পরিষ্কার করে দেখাল। নাইল এবং আমাজন নদীর দূষণ রোধে ভারতের এই ন্যানো প্রযুক্তি ব্যবহার করার জন্য মিশর এবং ব্রাজিল সরকার আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

চ্যালেঞ্জ এবং ভবিষ্যতের সুরক্ষা

তবে এই সাফল্য ধরে রাখাটাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। সরকার কড়া আইন জারি করেছে। নদীতে কোনোভাবেই আর নর্দমার জল বা কারখানার বর্জ্য ফেলা যাবে না। প্রতিটি নালা বা ড্রেনের মুখে অত্যাধুনিক সেন্সর বসানো হয়েছে। যদি কোনো দূষিত জল নদীতে মেশার চেষ্টা করে তবে সঙ্গে সঙ্গে অ্যালার্ম বাজবে এবং সেই নালার মুখ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ হয়ে যাবে। এছাড়াও ড্রোন এবং স্যাটেলাইট দিয়ে ২৪ ঘণ্টা নদীর ওপর নজরদারি চালানো হচ্ছে। প্লাস্টিক ফেলা বা মূর্তিপূজার পর কাঠামো ফেলার ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে এবং বড় অংকের জরিমানার ব্যবস্থা করা হয়েছে। সরকার নদীর দুই পাড়ে বায়ো ডাইভারসিটি পার্ক তৈরি করেছে যা নদীর স্বাস্থ্যের সুরক্ষা কবচ হিসেবে কাজ করবে।

যমুনা এবং অন্যান্য নদীর পরিকল্পনা

গঙ্গার এই সাফল্য সরকারকে আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছে। জলশক্তি মন্ত্রক জানিয়েছে আগামী ৫ বছরের মধ্যে যমুনা নর্মদা গোদাবরী এবং কাবেরী নদীকেও একই প্রযুক্তিতে পরিষ্কার করা হবে। যমুনা অ্যাকশন প্ল্যান ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে। দিল্লি থেকে মথুরা পর্যন্ত যমুনার জলও আগামী ২ বছরের মধ্যে পানযোগ্য হয়ে উঠবে বলে আশা করা হচ্ছে। ভারতের লক্ষ্য হলো ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের প্রতিটি নদীকে দূষণমুক্ত করা।

আধ্যাত্মিক ও সাংস্কৃতিক পুনর্জাগরণ

গঙ্গা কেবল নদী নয় এটি ভারতের আত্মা। গঙ্গা পরিষ্কার হওয়ার সাথে সাথে ভারতের সাংস্কৃতিক পুনর্জাগরণও শুরু হলো। কুম্ভ মেলা বা গঙ্গা সাগর মেলার মতো বড় ধর্মীয় সমাবেশগুলোতে এখন পুণ্যার্থীরা নির্ভয়ে স্নান করতে পারবেন। আচমন করার সময় আর মনে দ্বিধা থাকবে না। বিজ্ঞান এবং ধর্ম এখানে এক বিন্দুতে এসে মিলেছে। বিজ্ঞানীরা যেমন প্রযুক্তির গর্ব করছেন সাধুরা তেমনি প্রকৃতির আশীর্বাদ দেখছেন। গঙ্গার মাহাত্ম্য কেবল পুরাণে সীমাবদ্ধ না থেকে তা বাস্তবেও প্রমাণিত হলো।

গঙ্গা আরতি এবং নতুন পর্যটন

সন্ধ্যায় গঙ্গা আরতির সময় এখন লেজার শো এবং ড্রোন শো এর আয়োজন করা হচ্ছে। স্বচ্ছ জলের ওপর আলোর প্রতিফলন এক স্বর্গীয় পরিবেশ তৈরি করছে। সরকার গঙ্গা রিভারফ্রন্ট ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্টের আওতায় নদীর দুই পাড়কে সাজিয়ে তুলেছে। সেখানে হাঁটার রাস্তা সাইকেল ট্র্যাক এবং যোগা সেন্টার তৈরি হয়েছে। মানুষ এখন বিকেলে নদীর পাড়ে সময় কাটাতে ভিড় করছেন। বারাণসীর ঘাটে এখন বিদেশি পর্যটকদের ভিড় উপচে পড়ছে যারা এই স্বচ্ছ নদী দেখার জন্য হাজার হাজার মাইল দূর থেকে আসছেন।

উপসংহার

২০২৬ সালের ৯ই ফেব্রুয়ারি দিনটি প্রমাণ করল যে মানুষ যদি চায় তবে সে প্রকৃতিকে ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচাতে পারে। গঙ্গা আজ মুক্ত গঙ্গা আজ শুদ্ধ। এই স্বচ্ছ জলধারা আমাদের পাপ ধোয়ার পাশাপাশি আমাদের মনের অন্ধকারও দূর করল। এটি আমাদের শেখাল যে আবর্জনা ফেলা সহজ কিন্তু পরিষ্কার করা কঠিন তবে অসম্ভব নয়। ভারতের লাইফলাইন আজ নতুন জীবন পেল। এই জল আমাদের তৃষ্ণা মেটাক আমাদের জমিকে উর্বর করুক এবং আমাদের সভ্যতাকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাক। গঙ্গার এই পুনর্জন্ম আগামী প্রজন্মের কাছে এক উপহার। তারা একটি সুস্থ এবং সুন্দর ভারত পাবে। আমরা আশা করব এই সচেতনতা এবং প্রযুক্তির ব্যবহার চিরকাল বজায় থাকবে। জয় গঙ্গে জয় ভারত।

Preview image