শিমলা, হিমাচল প্রদেশের একটি প্রাচীন ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরা শহর, বর্তমানে এক গভীর সংকটে রয়েছে। শহরের শত শত বাড়িতে একসাথে ফাটল ধরছে, যার ফলে বাসিন্দারা উদ্বিগ্ন। বিভিন্ন স্থানীয় সূত্রে জানা যাচ্ছে যে, এই সমস্যার পেছনে একাধিক কারণ থাকতে পারে। প্রথমত, শহরের ভূমির গঠন এবং পাহাড়ি পরিবেশ, যার কারণে মাটি ধসে পড়া এবং ভূমিধসের মতো সমস্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। দ্বিতীয়ত, নির্মাণ কাজের মানে কমতি এবং পুরোনো বাড়ির অবস্থা আরও খারাপ হচ্ছে। এছাড়া, জলবায়ু পরিবর্তনও ভূমিকা রাখছে, যার ফলে অতি বৃষ্টিপাত এবং ভূমিকম্পের ঝুঁকি বেড়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যদি অবিলম্বে পদক্ষেপ না নেওয়া হয়, তবে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে।
v2∙Latest
Copy
Publish
শিমলা, ভারতের হিমাচল প্রদেশের রাজধানী এবং একটি জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র। হিমালয়ের কোলে অবস্থিত এই মনোরম শহরটি সম্প্রতি এক ভয়াবহ সংকটের মুখোমুখি হয়েছে। একের পর এক বাড়িতে ফাটল ধরার খবরে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে শহরবাসী। হাড়হিম করা শীতের রাতে নিজেদের ঘর ছেড়ে রাস্তায় আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে শত শত পরিবার। এই বিপর্যয়ের পেছনে রয়েছে নানা প্রাকৃতিক এবং মানবসৃষ্ট কারণ যা শিমলাকে ধীরে ধীরে বিপদের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
শিমলার এই ভয়াবহ পরিস্থিতি হঠাৎ করে তৈরি হয়নি বরং দীর্ঘদিনের অপরিকল্পিত নগরায়ণ এবং পরিবেশগত ভারসাম্যহীনতার ফল। শিমলা একটি পাহাড়ি শহর যেখানে ভূমির স্থিতিশীলতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পাহাড়ের ঢালে নির্মিত এই শহরের ভূতাত্ত্বিক গঠন স্বাভাবিকভাবেই নাজুক এবং যেকোনো ধরনের অতিরিক্ত চাপ বা পরিবর্তন এখানে বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। গত কয়েক দশকে শিমলায় পর্যটন শিল্পের ব্যাপক বিকাশ হয়েছে এবং এর সাথে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে জনসংখ্যা ও অবকাঠামো। যে শহরটি মূলত কয়েক হাজার মানুষের জন্য পরিকল্পিত ছিল সেখানে এখন বাস করছে লাখের বেশি মানুষ। এই অনিয়ন্ত্রিত নগরায়ণ ভূমির উপর অসহনীয় চাপ সৃষ্টি করেছে।
শিমলার বাড়িগুলোতে ফাটল ধরার প্রধান কারণ হলো ভূমি ধসের ঝুঁকি বৃদ্ধি। পাহাড়ি এলাকায় মাটির স্তর স্বাভাবিকভাবেই অস্থিতিশীল এবং মাধ্যাকর্ষণ শক্তি সবসময় মাটিকে নিচের দিকে টানছে। যখন এই প্রাকৃতিক ভারসাম্য বিঘ্নিত হয় তখন ভূমিধস ঘটে এবং পাহাড়ের ঢালে অবস্থিত বাড়িঘরে ফাটল দেখা দেয়। শিমলায় বৃক্ষ নিধন একটি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। গাছের শেকড় মাটিকে আঁকড়ে ধরে রাখে এবং ভূমিক্ষয় রোধ করে। কিন্তু নির্মাণ কাজের জন্য ব্যাপক হারে গাছ কাটা হয়েছে যার ফলে মাটির স্থায়িত্ব মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বৃষ্টির পানি এখন মাটিকে সহজেই ধুয়ে নিয়ে যাচ্ছে এবং পাহাড়ের ঢাল আরও অস্থিতিশীল হয়ে উঠছে।
জলবায়ু পরিবর্তনও এই বিপর্যয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। হিমালয় অঞ্চলে গত কয়েক দশকে তাপমাত্রা বৃদ্ধির হার বৈশ্বিক গড়ের চেয়ে অনেক বেশি। এর ফলে বরফ গলার হার বেড়েছে এবং বৃষ্টিপাতের ধরন পরিবর্তিত হয়েছে। অনিয়মিত কিন্তু অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত মাটিকে পানিতে সিক্ত করে দুর্বল করে দিচ্ছে। শিমলায় সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মেঘভাঙা বৃষ্টির ঘটনা বেড়েছে যা পাহাড়ি এলাকার জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক। হঠাৎ প্রচুর পরিমাণ পানি মাটিতে প্রবেশ করলে তা মাটির স্তরকে নরম করে দেয় এবং ভূমিধসের সম্ভাবনা বাড়ায়।
শিমলার নির্মাণ পদ্ধতিও বড় একটি সমস্যা। পাহাড়ি এলাকায় নির্মাণের জন্য বিশেষ প্রযুক্তি এবং সতর্কতার প্রয়োজন হয় কিন্তু শিমলায় অনেক ক্ষেত্রেই তা অনুসরণ করা হয়নি। ঢালের উপর বাড়ি নির্মাণের সময় ভূমির স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। পাহাড়ে খনন করে সমতল জায়গা তৈরি করার সময় যদি সঠিক রিটেইনিং ওয়াল বা ধারক প্রাচীর না থাকে তাহলে মাটি ধীরে ধীরে সরে যেতে থাকে। শিমলার অনেক বাড়িতে এই ধরনের মৌলিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার অভাব রয়েছে। এছাড়া নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার এবং অপ্রশিক্ষিত শ্রমিক দিয়ে কাজ করানোর ফলে বাড়িগুলো কাঠামোগতভাবে দুর্বল হয়ে পড়ছে।
ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলন আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ। শিমলায় পানির ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে ব্যাপক হারে ভূগর্ভস্থ পানি তোলা হচ্ছে। এর ফলে মাটির নিচের পানির স্তর নেমে যাচ্ছে এবং মাটির স্তরগুলো তাদের প্রাকৃতিক সহায়তা হারাচ্ছে। যখন মাটির মধ্যে থাকা পানি শূন্যস্থান তৈরি করে তখন উপরের মাটি ও কাঠামো দেবে যায়। এই প্রক্রিয়াকে সাবসিডেন্স বা ভূমিধস বলা হয় এবং এটি বাড়িঘরে ফাটল সৃষ্টির একটি প্রধান কারণ। শিমলার কিছু এলাকায় এই সমস্যা এতটাই গুরুতর হয়েছে যে পুরো বহুতল ভবন হেলে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।
পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার অপর্যাপ্ততাও ভূমির স্থিতিশীলতা নষ্ট করছে। শিমলায় সঠিক নিকাশী ব্যবস্থা না থাকায় ব্যবহৃত পানি এবং নর্দমার পানি মাটিতে শোষিত হচ্ছে। এই দূষিত পানি মাটিকে ক্রমাগত ভেজা এবং দুর্বল করে দিচ্ছে। পাহাড়ি এলাকায় পানি নিষ্কাশন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কারণ জমে থাকা পানি মাটির ভার বাড়ায় এবং ঘর্ষণ কমিয়ে দেয় যার ফলে মাটি সহজেই পিছলে যায়। কিছু এলাকায় সেপটিক ট্যাংক থেকে ক্রমাগত পানি চুইয়ে মাটিতে যাচ্ছে যা ভূমির ভিত্তি দুর্বল করছে।
শিমলার ভূতাত্ত্বিক গঠন নিজেই একটি চ্যালেঞ্জ। এই অঞ্চলের পাহাড় মূলত পাললিক শিলা দিয়ে গঠিত যা অপেক্ষাকৃত নরম এবং ক্ষয়প্রবণ। শক্ত গ্রানাইট বা অন্যান্য রূপান্তরিত শিলার তুলনায় পাললিক শিলা সহজেই ভেঙে যায় এবং ক্ষয়প্রাপ্ত হয়। শিমলার মাটিতে কাদামাটির উপস্থিতিও উল্লেখযোগ্য এবং কাদামাটি পানির সংস্পর্শে এলে ফুলে ওঠে ও পিচ্ছিল হয়ে যায়। এই ভূতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্যের কারণে শিমলা স্বাভাবিকভাবেই ভূমিধসের ঝুঁকিতে রয়েছে এবং যেকোনো অতিরিক্ত চাপ এই ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।
ভূমিকম্প এই অঞ্চলের আরেকটি বড় হুমকি। হিমালয় একটি সক্রিয় ভূতাত্ত্বিক অঞ্চল যেখানে ভারতীয় প্লেট ইউরেশীয় প্লেটের সাথে সংঘর্ষে লিপ্ত। এর ফলে এই অঞ্চলে ভূমিকম্পের ঝুঁকি সবসময়ই থাকে। যদিও শিমলায় সাম্প্রতিক সময়ে বড় কোনো ভূমিকম্প হয়নি তবে ছোট ছোট কম্পন প্রায়ই অনুভূত হয়। এই মৃদু কম্পনগুলোও ইতিমধ্যে দুর্বল হয়ে পড়া বাড়িগুলোর ক্ষতি বাড়াচ্ছে এবং ফাটল সৃষ্টিতে সহায়ক হচ্ছে। ভূমিকম্প প্রতিরোধী নকশা অনুসরণ না করায় শিমলার অধিকাংশ পুরাতন বাড়ি ভূমিকম্পের ঝাঁকুনি সহ্য করার ক্ষমতা রাখে না।
রাস্তা নির্মাণ এবং অবকাঠামো উন্নয়নের নামে পাহাড় কাটার কাজও মারাত্মক প্রভাব ফেলছে। নতুন রাস্তা তৈরি করতে গিয়ে পাহাড়ের ঢাল কেটে ফেলা হচ্ছে যা পাহাড়ের স্বাভাবিক ভারসাম্য নষ্ট করছে। একটি পাহাড়ের প্রতিটি অংশ অন্য অংশকে সাপোর্ট দেয় এবং যখন একটি অংশ কেটে নেওয়া হয় তখন পুরো পাহাড়ের স্থিতিশীলতা প্রভাবিত হয়। কাটা পাহাড়ের অংশ থেকে পাথর এবং মাটি ধীরে ধীরে পড়তে থাকে এবং নিচের এলাকায় বাড়িঘরের ক্ষতি করে। সঠিক ঢাল ব্যবস্থাপনা এবং রিইনফোর্সমেন্ট ছাড়া এই ধরনের নির্মাণ কাজ অত্যন্ত বিপজ্জনক।
শিমলায় পর্যটকদের ভিড় এবং হোটেল শিল্পের বিকাশও পরোক্ষভাবে দায়ী। বছরজুড়ে লাখো পর্যটক শিমলায় আসেন এবং তাদের থাকার জন্য অসংখ্য হোটেল, রিসোর্ট গড়ে উঠেছে। এই বহুতল হোটেলগুলো পাহাড়ের উপর অতিরিক্ত ভার সৃষ্টি করছে। একটি বড় হোটেলের ওজন হাজার টন হতে পারে এবং এই বিশাল ভার পাহাড়ের মাটি সহ্য করতে পারছে না। এছাড়া পর্যটকদের জন্য পানি এবং অন্যান্য সুবিধা প্রদান করতে গিয়ে প্রাকৃতিক সম্পদের উপর অতিরিক্ত চাপ পড়ছে। পর্যটন মৌসুমে শিমলার জনসংখ্যা দ্বিগুণ বা তিনগুণ হয়ে যায় যা শহরের অবকাঠামোর সহ্যক্ষমতার বাইরে।
তাপমাত্রার চরম পরিবর্তনও ফাটল সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখে। শিমলায় দিনের বেলা তাপমাত্রা তুলনামূলকভাবে বেশি থাকে এবং রাতে হিমাঙ্কের নিচে নেমে যায়। এই তাপমাত্রার ব্যাপক তারতম্য নির্মাণ সামগ্রীতে প্রসারণ ও সংকোচন ঘটায়। দিনে কংক্রিট এবং ইট প্রসারিত হয় এবং রাতে সংকুচিত হয়। এই ক্রমাগত প্রক্রিয়া বছরের পর বছর চলতে থাকলে বাড়ির কাঠামোতে চাপ তৈরি হয় এবং ফাটল দেখা দেয়। শীতকালে বৃষ্টির পানি বা গলিত বরফের পানি বাড়ির ফাটলে ঢুকে রাতের বেলা জমে বরফ হয়ে যায়। পানি বরফ হলে আয়তনে প্রায় দশ শতাংশ বৃদ্ধি পায় এবং এই প্রসারণ ফাটলকে আরও বড় করে দেয়।
স্থানীয় প্রশাসনের দুর্বল পরিকল্পনা এবং নিয়ন্ত্রণের অভাব পরিস্থিতি আরও খারাপ করেছে। শিমলায় নির্মাণের জন্য যথাযথ অনুমতি এবং পরিদর্শন ব্যবস্থা অনেক ক্ষেত্রে মানা হয় না। অনেক বাড়ি এবং ভবন অবৈধভাবে এমন জায়গায় নির্মিত হয়েছে যেখানে নির্মাণ নিষিদ্ধ ছিল। বিল্ডিং কোড এবং নিরাপত্তা মান লঙ্ঘন করে নির্মাণ কাজ চলছে এবং দুর্নীতির কারণে এগুলো বন্ধ করা যাচ্ছে না। ভূমি ব্যবহার পরিকল্পনার অভাবে শিমলা অপরিকল্পিতভাবে বিস্তৃত হচ্ছে এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় মানুষ বসবাস করছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে যখন একের পর একা বাড়িতে ফাটল দেখা দিচ্ছে তখন স্থানীয় বাসিন্দারা চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। রাতের অন্ধকারে হঠাৎ দেয়ালে ফাটলের শব্দ শুনে পুরো পরিবার ঘুম থেকে জেগে উঠছে। ঘরের দেয়ালে চুলের মতো সরু ফাটল দ্রুত বড় হয়ে হাতের মতো চওড়া হয়ে যাচ্ছে। কেউ কেউ দেখছেন তাদের ঘরের মেঝে হেলে যাচ্ছে বা দরজা জানালা আর ঠিকমতো খোলা যাচ্ছে না। এই সব লক্ষণ দেখে মানুষ বুঝতে পারছেন যে তাদের ঘর যেকোনো সময় ভেঙে পড়তে পারে। ফলে প্রাণ বাঁচাতে হাড়হিম করা শীতের রাতেও তারা ঘর ছেড়ে বেরিয়ে আসছেন।
শিমলার রাস্তায় আশ্রয় নেওয়া পরিবারগুলোর দুর্দশা বর্ণনাতীত। শীতকালে শিমলার তাপমাত্রা হিমাঙ্কের নিচে নেমে যায় এবং তুষারপাত হয়। এমন প্রচণ্ড ঠান্ডায় খোলা আকাশের নিচে রাত কাটানো অত্যন্ত কষ্টকর এবং স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। শিশু এবং বয়স্কদের জন্য এই পরিস্থিতি আরও বিপজ্জনক। অনেক পরিবার তাদের সঞ্চিত সব জিনিসপত্র ঘরেই ফেলে আসতে বাধ্য হয়েছে। জীবনভর কষ্টে জমানো সম্পদ, স্মৃতি, গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র সব ঘরেই থাকছে এবং ঘর ভেঙে পড়লে সব হারিয়ে যাবে। কিছু পরিবার আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছে তবে অনেকেরই কোথাও যাওয়ার জায়গা নেই। তারা সরকারি ত্রাণ এবং সহায়তার অপেক্ষায় রয়েছেন।
স্থানীয় প্রশাসন জরুরি ভিত্তিতে কিছু ব্যবস্থা নিচ্ছে। বিপদগ্রস্ত বাড়িগুলো চিহ্নিত করে সেখান থেকে মানুষকে সরিয়ে নেওয়ার কাজ চলছে। ভূতত্ত্ববিদ এবং ইঞ্জিনিয়ারদের দল বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করে ঝুঁকি মূল্যায়ন করছেন। কিছু ক্ষেত্রে জরুরি মেরামত কাজ শুরু হয়েছে তবে সমস্যার ব্যাপকতা এত বেশি যে তাৎক্ষণিক সমাধান সম্ভব নয়। দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা এবং ব্যাপক সংস্কার কাজ প্রয়োজন যা সময়সাপেক্ষ এবং ব্যয়বহুল। শিমলাকে বাঁচাতে হলে পরিবেশ সংরক্ষণ, পরিকল্পিত নগরায়ণ এবং কঠোর নির্মাণ নিয়ন্ত্রণ প্রয়োজন। অন্যথায় এই সুন্দর পাহাড়ি শহর একদিন বিপর্যয়ের শিকার হতে পারে।