এক মাসের টানা লড়াই, বিশ্রামের সময় প্রায় নেই, আর প্রতিদিনের জয়-পরাজয়ের চাপ দাবা বিশ্বকাপ মানে শুধু কৌশলের লড়াই নয়, এক ভয়ঙ্কর মানসিক অগ্নিপরীক্ষা।
দাবা—যে খেলাকে অনেকেই “বুদ্ধির যুদ্ধ” বলেন, সেই খেলার বিশ্বকাপ যেন এখন এক কঠিন মানসিক যুদ্ধক্ষেত্র। FIDE World Cup চলাকালীন এক মাস ধরে প্রতিদিনই খেলোয়াড়দের জয়ের চাপ, হারার ভয় এবং বিশ্রামের ঘাটতি যেন জীবনের অংশ হয়ে ওঠে।
প্রতিটি দিন মানে নতুন প্রতিদ্বন্দ্বিতা, নতুন চাপ। এখানে হার মানে বিদায়। প্রতিযোগিতার নকআউট ফরম্যাটে খেলোয়াড়দের একটানা মনোযোগ ধরে রাখতে হয়—ক্লাসিকাল গেমে ড্র হলে র্যাপিড, ব্লিটজ, এমনকি অ্যার্মাগেডন পর্যন্ত লড়তে হয়। তাই মানসিক ও শারীরিক ক্লান্তি দ্রুত জমে যায়।
ভারতের অনেক তরুণ গ্র্যান্ডমাস্টার যেমন দি. গুকেশ ও বিদিত গুজরাঠি জানিয়েছেন, “চেস বিশ্বকাপ শুধুমাত্র মুভ ও স্ট্র্যাটেজির খেলা নয়, এটা মানসিক সহ্যের এক ভয়াবহ পরীক্ষা।” প্রতিদিন নতুন চ্যালেঞ্জে নিজেদের রিসেট করতে হয়, যা সাধারণ কোনো টুর্নামেন্টে দেখা যায় না।
অন্যদিকে, বিদেশি খেলোয়াড়রাও একমত—‘Winning every day for a month’ মানে হলো অবিরাম চাপ, ঘুমহীন রাত এবং ক্রমাগত আত্মসমালোচনার সময়। এখানেই একজন খেলোয়াড়ের আসল শক্তি দেখা যায়—কে মানসিকভাবে টিকে থাকতে পারেন আর কে ভেঙে পড়েন।
বিশ্লেষকদের মতে, চেস বিশ্বকাপ আজ এক “mental crucible”—যেখানে প্রতিটি চাল শুধু বোর্ডে নয়, মাথার ভেতরেও ঘটে। এখানে ভুলের জায়গা নেই, প্রতিদিনের ক্লান্তি সামলে নতুন করে যুদ্ধ শুরু করাই সবচেয়ে বড় সাফল্য।