Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

আঘাত দেওয়ার উদ্দেশ্য ছিল না ক্ষমা চাইলেন মেরি কম প্রাক্তন স্বামীকে বেকার বলায় বিতর্কে সাফাই ছয়বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নের

প্রাক্তন স্বামী কারুন অনলেরকে বেকার বলে মন্তব্য করে বিতর্কে জড়িয়ে পড়ার পর ভিডিওবার্তায় ক্ষমা চেয়েছেন ছয়বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন বক্সার মেরি কম।

বিতর্কের মধ্যেই অবশেষে মুখ খুললেন মেরি কম। প্রাক্তন স্বামীকারুন অনলেরকে নিয়ে করা মন্তব্য ঘিরে যে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছিল, তার প্রেক্ষিতেই সমাজমাধ্যমে একটি ভিডিওবার্তার মাধ্যমে ক্ষমা চাইলেন ছয়বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন এই বক্সার। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, কাউকে আঘাত করা বা সমাজে নেতিবাচক বার্তা ছড়ানো তাঁর উদ্দেশ্য ছিল না।

কয়েক দিন ধরেই মেরি কম এবং তাঁর প্রাক্তন স্বামীর ব্যক্তিগত জীবন ঘিরে প্রকাশ্যে চলে এসেছে একের পর এক অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগ। একে অপরের বিরুদ্ধে কাদা ছোড়ার এই পর্বে মেরির একটি মন্তব্য বিশেষ ভাবে বিতর্ক তৈরি করে। তিনি প্রাক্তন স্বামীকে বেকার বলে উল্লেখ করেন এবং বলেন যে অনলের কোনও রোজগার না করে গলিতে ফুটবল খেলে সময় কাটাতেন। এই মন্তব্য শুধু ব্যক্তিগত আক্রমণ হিসেবেই দেখা হয়নি, বরং ফুটবলপ্রেমী ও ক্রীড়াজগতের একাংশ তা অপমানজনক বলে মনে করেন। তার পর থেকেই সামাজিক মাধ্যমে মেরির বিরুদ্ধে সমালোচনার ঝড় ওঠে।

এই পরিস্থিতিতেই ইনস্টাগ্রামে প্রকাশিত ভিডিওবার্তায় নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন মেরি কম। তিনি বলেন, কাউকে আঘাত করা, সমাজে ভাঙন ধরানো বা কোনও ক্রীড়া সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে কথা বলা তাঁর উদ্দেশ্য ছিল না। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, তাঁর কথার ভুল ব্যাখ্যা করা হয়েছে এবং সেখান থেকেই এই বিতর্কের সূত্রপাত। যদি তাঁর মন্তব্যে কেউ কষ্ট পেয়ে থাকেন, সে জন্য তিনি আন্তরিক ভাবে ক্ষমাপ্রার্থী।

ভিডিওবার্তায় মেরি তাঁর ব্যক্তিগত জীবনের কথাও তুলে ধরেন। তিনি জানান, বিবাহের শুরুতে তাঁদের দাম্পত্য জীবনে তেমন কোনও সমস্যা ছিল না। প্রথম দিকের সময়টা ছিল স্বাভাবিক ও শান্ত। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নানা জটিলতা তৈরি হতে থাকে এবং ধীরে ধীরে সেই সমস্যা গভীর হয়। দীর্ঘ সময় ধরে সেই টানাপোড়েন চলার পরই তাঁরা একে অপরের জীবন থেকে সরে আসার সিদ্ধান্ত নেন।

মেরির বক্তব্যে উঠে আসে আর্থিক টানাপোড়েনের কথাও। তাঁর দাবি অনুযায়ী, সংসারের আর্থিক দায়িত্ব প্রথম দিকে তিনি নিজেই সামলালেও পরে অনেক কিছুই তাঁর অজান্তে ঘটে। তিনি বলেন, নিজের উপার্জনের উপর ভরসা রেখে তিনি স্বামীর হাতে আর্থিক দায়িত্ব তুলে দিয়েছিলেন। কিন্তু পরে জানতে পারেন যে তাঁর সম্পত্তি বন্ধক রেখে ঋণ নেওয়া হয়েছে এবং সেই ঋণ শোধ করা সম্ভব হয়নি। এর ফলেই তাঁর বহু সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত হয়ে যায় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

এই প্রসঙ্গেই তিনি প্রাক্তন স্বামীর বিরুদ্ধে রোজগার না করার অভিযোগ তুলেছিলেন। তবে পরে সেই মন্তব্য নিয়ে সমালোচনা শুরু হতেই তিনি স্পষ্ট করেন যে তাঁর বক্তব্য কোনও ভাবেই ফুটবল বা ফুটবল খেলোয়াড়দের অবমূল্যায়ন করার জন্য ছিল না। মেরি বলেন, ফুটবল যুবসমাজ ও ক্রীড়াবিদদের বিরুদ্ধে তাঁর কোনও অভিযোগ নেই। তিনি স্বীকার করেন, তাঁর কথার ভুল ব্যাখ্যা করা হয়েছে এবং সেই ব্যাখ্যার কারণেই অনেকে আহত হয়েছেন।

এই জায়গায় এসে মেরি বিশেষ ভাবে উল্লেখ করেন ভারতের ফুটবল জগতের দুই কিংবদন্তির নাম। তিনি বলেন, দেশের ফুটবলাররা আন্তর্জাতিক মঞ্চে বহু সম্মান এনে দিয়েছেন এবং তাঁদের সংগ্রাম ও সাফল্য অনস্বীকার্য। তাঁর কথায়, যাঁরা কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে উঠে এসে সফল হয়েছেন, তাঁদের প্রতি তাঁর সব সময় শ্রদ্ধা রয়েছে। এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি বোঝাতে চেয়েছেন যে তাঁর ব্যক্তিগত ক্ষোভ কোনও ক্রীড়া বা ক্রীড়াবিদদের বিরুদ্ধে নয়।

মেরি কম এবং কারুন অনলেরের দাম্পত্য জীবনের ইতি ঘটে দুই হাজার তেইশ সালের ডিসেম্বর মাসে। প্রায় আঠারো বছর একসঙ্গে সংসার করার পর তাঁদের বিচ্ছেদ হয়। বিচ্ছেদের পরেও বিষয়টি দীর্ঘ দিন প্রকাশ্যে আসেনি। তবে সাম্প্রতিক সময়ে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মেরির মন্তব্য থেকেই নতুন করে বিতর্কের সূত্রপাত।

মেরির বক্তব্যের পাল্টা প্রতিক্রিয়াও দিয়েছেন অনলের। তিনি মেরির বিরুদ্ধে পরকীয়ার অভিযোগ এনেছেন এবং দাবি করেছেন যে সন্তানদের কথা ভেবে তিনি আইনি লড়াইয়ে যেতে চান না। তবে তাঁর বক্তব্য, সম্পত্তি হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ তিনি মানবেন না। অনলের আরও দাবি করেছেন যে মেরির বিরুদ্ধে তাঁর কাছে প্রমাণ রয়েছে এবং যদি তাঁর বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ তোলা হয়, তবে তার প্রমাণ প্রকাশ করা হোক।

এই সমস্ত অভিযোগ পাল্টা অভিযোগের মাঝে মেরি কমের ক্ষমা প্রার্থনা একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় বলে মনে করছেন অনেকেই। একজন ক্রীড়া তারকা হিসেবে মেরির জনপ্রিয়তা এবং প্রভাব অত্যন্ত বেশি। তাঁর কথাবার্তা সমাজে বড় প্রভাব ফেলে। সেই কারণে তাঁর বক্তব্য নিয়ে বিতর্ক তৈরি হলে তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।

news image
আরও খবর

বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্যক্তিগত জীবনের সমস্যা যখন প্রকাশ্যে আসে, তখন তা সামলানো কঠিন হয়ে পড়ে। বিশেষ করে যাঁরা দীর্ঘ দিন ধরে আদর্শের প্রতীক হিসেবে পরিচিত, তাঁদের ক্ষেত্রে মানুষের প্রত্যাশাও অনেক বেশি থাকে। মেরি কমের ক্ষেত্রেও সেই প্রত্যাশা কাজ করেছে। তাঁর একটি মন্তব্যকে ঘিরে যে প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে, তা সেই কারণেই আরও তীব্র হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

সব মিলিয়ে এই ঘটনা শুধু একটি দাম্পত্য কলহের গল্প নয়। এটি একজন ক্রীড়া তারকার ব্যক্তিগত জীবন, সামাজিক দায়বদ্ধতা এবং জনমানসে তাঁর ভাবমূর্তি কীভাবে প্রভাবিত হয়, সেই বিষয়টিকেও সামনে নিয়ে এসেছে। মেরি কমের ক্ষমা চাওয়ার বার্তা হয়তো বিতর্কের উত্তাপ কিছুটা কমাতে পারে। তবে এই অধ্যায় এখানেই শেষ হবে নাকি আরও নতুন মোড় নেবে, সে দিকেই এখন নজর ক্রীড়ামহল ও সাধারণ মানুষের।

এই বিতর্ক ঘিরে ক্রীড়ামহল ও সাধারণ মানুষের প্রতিক্রিয়াও নানা রকম। অনেকেই মনে করছেন, ব্যক্তিগত জীবনের টানাপোড়েন প্রকাশ্যে এলে বিষয়টি আরও জটিল হয়ে ওঠে। একজন ক্রীড়া তারকার ব্যক্তিগত মন্তব্য সমাজে অনেক বড় প্রভাব ফেলে। সেই কারণেই মেরি কমের বক্তব্য নিয়ে এত আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে বলে মত পর্যবেক্ষকদের। তাঁদের মতে, জনপ্রিয় ব্যক্তিত্বদের ক্ষেত্রে আবেগের বশে দেওয়া মন্তব্য অনেক সময় অনাকাঙ্ক্ষিত বিতর্ক ডেকে আনে।

একাংশ আবার বলছেন, দীর্ঘ দিনের দাম্পত্য জীবনের টানাপোড়েন থেকে জন্ম নেওয়া ক্ষোভই এই পরিস্থিতির মূল কারণ। আঠারো বছর একসঙ্গে সংসার করার পর বিচ্ছেদ কোনও সহজ সিদ্ধান্ত নয়। সেই সময়ের মানসিক চাপ এবং হতাশা থেকেই এমন মন্তব্য বেরিয়ে আসতে পারে। তবে একই সঙ্গে তাঁরা এটাও মনে করছেন, ক্ষমা চাওয়ার মাধ্যমে মেরি কম বিষয়টি সামলানোর চেষ্টা করেছেন।

ক্রীড়া বিশ্লেষকদের মতে, মেরি কম শুধু একজন সফল বক্সার নন, তিনি বহু তরুণের অনুপ্রেরণা। বিশেষ করে মহিলা ক্রীড়াবিদদের কাছে তাঁর সংগ্রামের গল্প অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেই কারণেই তাঁর বক্তব্যে কোনও ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হলে তা দ্রুত পরিষ্কার করা প্রয়োজন ছিল। ভিডিওবার্তায় ক্ষমা চেয়ে তিনি সেই দায়িত্ব পালন করেছেন বলে মনে করছেন অনেকেই।

ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যেও এই বিষয়ে আলোচনা চলছে। অনেকে মনে করছেন, ফুটবলকে কেন্দ্র করে যে মন্তব্য নিয়ে বিতর্ক হয়েছে, তার ব্যাখ্যা দিয়ে মেরি কম একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে ফুটবল বা ফুটবলারদের প্রতি তাঁর কোনও বিরূপ মনোভাব নেই। বরং দেশের ক্রীড়াজগতের প্রতি তাঁর শ্রদ্ধা বরাবরের মতোই অটুট।

এই ঘটনার পর সমাজমাধ্যমে সমর্থন এবং সমালোচনা দুইই দেখা যাচ্ছে। কেউ কেউ মেরির পাশে দাঁড়িয়ে বলছেন, ব্যক্তিগত জীবনের সমস্যা নিয়ে তাঁকে আক্রমণ করা উচিত নয়। আবার কেউ কেউ মনে করছেন, জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব হিসেবে কথা বলার সময় আরও সতর্ক হওয়া প্রয়োজন ছিল। এই দ্বিমুখী প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছে, সমাজমাধ্যমে মত প্রকাশ কতটা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং কীভাবে তা জনমতকে প্রভাবিত করে।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এখনই আইনি পথে যাওয়ার সম্ভাবনা কম। দুই পক্ষই সন্তানদের কথা মাথায় রেখে বিষয়টি আদালতে না টানার ইঙ্গিত দিয়েছেন। তবে ভবিষ্যতে যদি সম্পত্তি বা মানহানির প্রশ্ন ওঠে, তখন আইনি জটিলতা বাড়তে পারে। আপাতত দুই পক্ষের বক্তব্য প্রকাশ্যে আসায় বিষয়টি আরও সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে।

সব মিলিয়ে এই অধ্যায় কেবল একটি ব্যক্তিগত বিরোধের গল্প নয়। এটি সমাজমাধ্যমের ভূমিকা, তারকা সংস্কৃতি এবং ব্যক্তিগত জীবনের সীমারেখা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে ধরেছে। মেরি কমের ক্ষমা প্রার্থনা হয়তো সাময়িক ভাবে বিতর্কের উত্তাপ কমাবে। তবে এই ঘটনা মনে করিয়ে দিল, জনজীবনের মানুষদের প্রতিটি শব্দ কতটা দায়িত্ব নিয়ে ব্যবহার করতে হয়। ভবিষ্যতে এই অভিজ্ঞতা থেকে কী শিক্ষা নেওয়া যায়, সেটাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হয়ে উঠেছে।

Preview image