Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

অবৈধ নির্মাণের বিরুদ্ধে উত্তর দমদম পৌরসভা এবং পুলিশের যুগান্তকারী যৌথ অভিযান জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করে প্রোমোটার ও জমি মাফিয়াদের কড়া বার্তা প্রশাসনের

পঁচিশে মে বিশ ছাব্বিশ উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শহর উত্তর দমদমে আজ অবৈধ নির্মাণ এবং জলাভূমি ভরাটের বিরুদ্ধে এক ঐতিহাসিক এবং কঠোর প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হলো উত্তর দমদম পৌরসভা এবং স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে প্রোমোটার রাজ এবং জমি মাফিয়াদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স বা শূন্য সহনশীলতার নীতি ঘোষণা করে এক অত্যন্ত কড়া বার্তা দেওয়া হয়েছে বেআইনিভাবে গড়ে ওঠা বহুতলগুলোর কাজ বন্ধ করে দেওয়া এবং জলাশয় দখলকারীদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করার এই বিশাল কর্মযজ্ঞ আধুনিক এবং সুপরিকল্পিত নগর উন্নয়নের এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে    

পশ্চিমবঙ্গের উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার একটি অত্যন্ত বর্ধিষ্ণু জনবহুল এবং বাণিজ্যিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এলাকা হলো উত্তর দমদম বিরাটি নিমতা বেলঘরিয়া এবং দুর্গানগর সংলগ্ন বিস্তীর্ণ এলাকা নিয়ে গঠিত এই উত্তর দমদম পৌরসভা গত কয়েক দশক ধরে চরম অপরিকল্পিত নগরায়ণ এবং বেআইনি নির্মাণের এক ভয়াবহ অভিশাপের শিকার হয়ে আসছিল কিন্তু আজ পঁচিশে মে বিশ ছাব্বিশ তারিখটি এই শহরের নাগরিক জীবন এবং নগর পরিকল্পনার ইতিহাসে এক সম্পূর্ণ নতুন এবং অত্যন্ত গৌরবময় অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে অবৈধ নির্মাণ এবং জলাভূমি ভরাটের বিরুদ্ধে আজ উত্তর দমদম পৌরসভা এবং স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে শুরু হয়েছে এক সুবিশাল ঐতিহাসিক এবং আপোষহীন অভিযান অবৈধ নির্মাণের বিরুদ্ধে কোনো রকম রেয়াত করা হবে না এই অত্যন্ত যুগান্তকারী এবং সময়োপযোগী কড়া বার্তাকে সামনে রেখে প্রশাসন আজ যে রুদ্রমূর্তি ধারণ করেছে তা শহরের সাধারণ এবং সৎ নাগরিকদের মনে এক বিশাল স্বস্তি এবং আইনের শাসনের প্রতি এক নতুন ভরসার জন্ম দিয়েছে

একটি আধুনিক উন্নত এবং সভ্য শহরের সবচেয়ে বড় পরিচয় হলো তার সুপরিকল্পিত রাস্তাঘাট উন্নত নিকাশি ব্যবস্থা এবং পর্যাপ্ত সবুজ ও জলাভূমি কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলো গত কয়েক বছরে রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাব এবং স্থানীয় কিছু অসাধু চক্রের মদতে উত্তর দমদম পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ডে ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে উঠছিল অসংখ্য বেআইনি বহুতল এবং বাণিজ্যিক নির্মাণ প্রোমোটার এবং জমি মাফিয়ারা পৌরসভার কোনো রকম বৈধ প্ল্যান বা নকশার অনুমোদন না নিয়েই দিনের পর দিন গায়ের জোরে নির্মাণ কাজ চালিয়ে যাচ্ছিলেন যেখানে দোতলা বা তিনতলা বাড়ি করার অনুমোদন রয়েছে সেখানে সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে পাঁচতলা বা ছয়তলা ইমারত খাড়া করে ফেলা হচ্ছিল অত্যন্ত নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার করে এবং সুরক্ষার কোনো রকম নিয়মকানুন না মেনে তৈরি করা এই বহুতলগুলো শহরের সাধারণ মানুষের জীবনের জন্য এক ভয়ানক ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল যেকোনো মুহূর্তে বড়সড় ভূমিকম্প বা প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে এই বেআইনি ইমারতগুলো তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে হাজার হাজার মানুষের প্রাণহানির কারণ হতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা বারবার সতর্ক করে আসছিলেন

বেআইনি নির্মাণের এই ভয়াবহ ব্যাধি কেবল ইমারত খাড়া করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না এর সবচেয়ে ভয়ানক প্রভাব পড়ছিল উত্তর দমদম এলাকার পরিবেশ এবং নিকাশি ব্যবস্থার ওপর এই এলাকার ভৌগোলিক অবস্থান অনুযায়ী এখানে প্রচুর বড় বড় পুকুর এবং জলাশয় ছিল যা বৃষ্টির জল ধরে রাখার প্রাকৃতিক আধার হিসেবে কাজ করত কিন্তু এই অসাধু প্রোমোটার চক্র রাতের অন্ধকারে অত্যন্ত সুকৌশলে শহরের এই মহামূল্যবান জলাশয় এবং পুকুরগুলো মাটি ও রাবিশ দিয়ে ভরাট করে সেখানে বিশাল বিশাল ফ্ল্যাটবাড়ি নির্মাণ করে ফেলছিল এর ফলে শহরের প্রাকৃতিক নিকাশি ব্যবস্থা বা ন্যাচারাল ড্রেনেজ সিস্টেম আক্ষরিক অর্থেই সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছিল বর্ষাকালে সামান্য কয়েক ঘণ্টার বৃষ্টিতেই বিরাটি এম বি রোড নিমতা এবং বেলঘরিয়ার বিস্তীর্ণ এলাকা সম্পূর্ণ জলমগ্ন হয়ে পড়ত নোংরা জল রাস্তায় উপচে পড়ে সাধারণ মানুষের বাড়ি এবং দোকানে ঢুকে গিয়ে জীবনকে চরম নরক যন্ত্রণায় পরিণত করত ডেঙ্গু এবং ম্যালেরিয়ার মতো মশাবাহিত রোগের প্রাদুর্ভাব এই এলাকায় এক চরম আকার ধারণ করেছিল সাধারণ মানুষ বারবার এই অবরুদ্ধ এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের বিরুদ্ধে পৌরসভার কাছে অভিযোগ জানালেও দীর্ঘ দিন ধরে এই জবরদখলকারীদের বিরুদ্ধে কোনো কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার সাহস প্রশাসন দেখাতে পারেনি

কিন্তু রাজ্যে এবং স্থানীয় প্রশাসনে প্রশাসনিক সমীকরণের পরিবর্তনের পর আজ উত্তর দমদমের দৃশ্যপট সম্পূর্ণ বদলে গেছে পৌরসভার চেয়ারম্যান এবং পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্তাদের মধ্যে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে একাধিক গোপন এবং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় যেখানে এই বেআইনি নির্মাণের বিরুদ্ধে এক চূড়ান্ত এবং কঠোর ব্লুপ্রিন্ট তৈরি করা হয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে শহরের বৃহত্তর স্বার্থে এবং সাধারণ মানুষের জীবনের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে এবার প্রোমোটার রাজের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা হবে আজ সকাল থেকেই উত্তর দমদম পৌরসভার বিল্ডিং ডিপার্টমেন্টের আধিকারিকরা এবং নিমতা ও বেলঘরিয়া থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী একযোগে শহরের বিভিন্ন ওয়ার্ডে অভিযান চালাতে শুরু করেন যে সমস্ত নির্মীয়মাণ বহুতলগুলোর বৈধ কাগজপত্র বা স্যাংশনড প্ল্যান নেই সেই সমস্ত সাইটগুলোতে গিয়ে কাজ তৎক্ষণাৎ বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং পৌরসভার তরফ থেকে লাল রঙের স্টপ ওয়ার্ক নোটিশ বা কাজ বন্ধের নির্দেশিকা ঝুলিয়ে দেওয়া হয় পুলিশ অত্যন্ত কঠোর ভাষায় প্রোমোটারদের হুঁশিয়ারি দিয়ে জানায় যে এই নির্দেশ অমান্য করে যদি রাতের অন্ধকারে বা লুকিয়ে কোনো রকম নির্মাণ কাজ চালানোর চেষ্টা করা হয় তবে তাদের বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য ধারায় এফআইআর দায়ের করে তৎক্ষণাৎ গ্রেপ্তার করা হবে

প্রশাসনের এই বিশাল এবং অতর্কিত অভিযানে প্রোমোটার এবং জমি মাফিয়াদের মধ্যে এক চরম আতঙ্ক এবং হুড়োহুড়ি পড়ে যায় যারা এতদিন নিজেদের ক্ষমতার দম্ভে এবং স্থানীয় কিছু প্রভাবশালীর ছত্রছায়ায় প্রশাসনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে আসছিলেন তারা আজ আইনের এই রুদ্রমূর্তি দেখে রীতিমতো দিশেহারা হয়ে পড়েন অনেক সাইট থেকে নির্মাণ সামগ্রী যেমন ইট বালি সিমেন্ট এবং লোহার রড পুলিশ বাজেয়াপ্ত করে নেয় পৌরসভার তরফ থেকে অত্যন্ত স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে বেআইনিভাবে তৈরি হওয়া ফ্লোর বা তলাগুলো প্রোমোটারদের নিজেদের খরচে ভেঙে ফেলতে হবে অন্যথায় পৌরসভা বুলডোজার এনে সেই অবৈধ নির্মাণ ভেঙে দেবে এবং ভাঙার সম্পূর্ণ খরচ প্রোমোটারদের কাছ থেকে আদায় করা হবে শুধু তাই নয় যে সমস্ত বেআইনি বহুতল ইতিমধ্যেই তৈরি হয়ে গেছে এবং মানুষ সেখানে বসবাস করতে শুরু করেছেন সেই সমস্ত বিল্ডিংয়ের ক্ষেত্রেও কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে এই সমস্ত অবৈধ বিল্ডিংগুলোতে বিদ্যুৎ এবং পানীয় জলের সংযোগ সম্পূর্ণভাবে ছিন্ন করে দেওয়ার জন্য রাজ্য বিদ্যুৎ বন্টন পর্ষদ এবং জনস্বাস্থ্য কারিগরি দপ্তরের কাছে পৌরসভার তরফ থেকে সরকারি চিঠি পাঠানো হয়েছে

তবে এই অবৈধ নির্মাণের বিরুদ্ধে অভিযানের সাথে জড়িয়ে রয়েছে সাধারণ এবং মধ্যবিত্ত ফ্ল্যাট ক্রেতাদের এক চরম হতাশা এবং আর্থিক অনিশ্চয়তার গল্প অনেক সাধারণ মানুষ যারা নিজেদের সারাজীবনের সঞ্চিত অর্থ দিয়ে অথবা ব্যাংক থেকে চড়া সুদে হোম লোন নিয়ে একটু শান্তিতে বসবাস করার জন্য এই ফ্ল্যাটগুলো কিনেছিলেন তারা আজ জানতে পারছেন যে তাদের স্বপ্নের বাড়িটি আসলে সম্পূর্ণ বেআইনি এই সাধারণ মানুষগুলো প্রোমোটারদের চটকদার বিজ্ঞাপন এবং মিথ্যা আশ্বাসে ভুলে গিয়ে কোনো রকম আইনি যাচাই না করেই ফ্ল্যাট কিনে চরম প্রতারণার শিকার হয়েছেন আজ যখন প্রশাসন এই বিল্ডিংগুলোতে নোটিশ ঝোলাচ্ছে তখন এই সাধারণ ক্রেতাদের মাথায় রীতিমতো আকাশ ভেঙে পড়েছে তারা বুঝতে পারছেন না যে তারা এখন কোথায় যাবেন এবং তাদের সারাজীবনের সঞ্চয় কীভাবে ফেরত পাবেন এই অসহায় মানুষগুলো আজ পৌরসভার সামনে এসে ভিড় জমাচ্ছেন এবং প্রশাসনের কাছে আবেদন করছেন যাতে তাদের ওপর কোনো রকম আইনি খাঁড়া নেমে না আসে

পৌরসভার আধিকারিকরা এই সাধারণ নাগরিকদের চরম দুর্দশার কথা অত্যন্ত সংবেদনশীলতার সাথে শুনছেন তবে তারা অত্যন্ত স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন যে বেআইনি কাজকে কোনোভাবেই বৈধতা দেওয়া সম্ভব নয় প্রশাসন সাধারণ মানুষকে বারবার সতর্ক করে দিয়েছে যে কোনো নতুন ফ্ল্যাট বা জমি কেনার আগে ক্রেতাদের অবশ্যই পৌরসভার বিল্ডিং ডিপার্টমেন্টে এসে সেই প্রজেক্টের স্যাংশনড প্ল্যান বৈধ নকশা এবং অন্যান্য আইনি ছাড়পত্র যাচাই করে নিতে হবে অন্ধভাবে কোনো প্রোমোটার বা দালালের কথায় বিশ্বাস করে নিজেদের কষ্টার্জিত টাকা বিনিয়োগ করাটা চরম বোকামি এবং আইনত অপরাধ প্রশাসন জানিয়েছে যে প্রতারিত ক্রেতারা ক্রেতা সুরক্ষা আদালত বা কনজিউমার ফোরামের দ্বারস্থ হয়ে প্রতারক প্রোমোটারদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করতে পারেন এবং পুলিশ এই বিষয়ে সাধারণ মানুষকে সম্পূর্ণ আইনি সহায়তা প্রদান করবে

news image
আরও খবর

এই বেআইনি নির্মাণ এবং পরিবেশ ধ্বংসের বিরুদ্ধে আধুনিক তরুণ সমাজ এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা অত্যন্ত গভীরভাবে চিন্তাভাবনা করছেন বর্তমান আধুনিক এবং পরিশ্রমী তরুণ সমাজ যারা শহরকে সুন্দর এবং সুপরিকল্পিত দেখতে চান তারা প্রশাসনের এই কড়া পদক্ষেপকে অত্যন্ত সাধুবাদ জানাচ্ছেন উত্তর দমদমের এক তরুণ বাসিন্দা যিনি একটি অত্যন্ত আধুনিক কর্পোরেট সংস্থায় কাজ করেন তিনি জানিয়েছেন যে দিনের পর দিন তার বাড়ির সামনের একটি সুন্দর পুকুরকে কীভাবে রাতের অন্ধকারে বুজিয়ে ফেলা হচ্ছিল তা দেখে তিনি অত্যন্ত ব্যথিত হতেন তিনি এবং তার বন্ধুরা মিলে স্থানীয় থানায় অভিযোগ জানিয়েছিলেন কিন্তু তখন কোনো কাজ হয়নি আজ যখন পুলিশ এবং পৌরসভা সেই ভরাট হওয়া পুকুরের ওপর তৈরি হওয়া অবৈধ নির্মাণ ভেঙে দিচ্ছে তখন তিনি এক বিশাল স্বস্তি অনুভব করছেন তিনি তার সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টে এই অভিযানের ছবি শেয়ার করে লিখেছেন যে একটি উন্নত শহর গড়তে হলে এই ধরনের কড়া সিদ্ধান্ত নেওয়া অত্যন্ত জরুরি পরিবেশ বাঁচলে তবেই মানুষ বাঁচবে

শিক্ষাব্যবস্থা এবং সামাজিক সচেতনতার দিক থেকেও এই ঘটনার এক সুদূরপ্রসারী প্রভাব রয়েছে অনেক তরুণ যারা বিভিন্ন সরকারি চাকরির প্রস্তুতি নিচ্ছেন তারা এই ঘটনা থেকে নগর পরিকল্পনা এবং আইনি কঠোরতার এক বিশাল পাঠ গ্রহণ করছেন তারা জানেন যে একটি দেশের অর্থনীতি এবং সামাজিক পরিকাঠামো কতটা সুদৃঢ় হবে তা নির্ভর করে সেই দেশের নগর পরিকল্পনার ওপর বেআইনি নির্মাণের ফলে শহরের জল সরবরাহ ব্যবস্থা বিদ্যুৎ পরিষেবা এবং নিকাশি ব্যবস্থার ওপর যে অতিরিক্ত এবং অন্যায্য চাপ সৃষ্টি হয় তা সমগ্র নাগরিক পরিষেবাকে পঙ্গু করে দেয় তাই প্রশাসন আজ যে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে তা এই তরুণদের মনে এক ইতিবাচক বার্তা দিচ্ছে যে সৎ পথে এবং আইন মেনে কাজ করলেই একটি সুন্দর সমাজ গঠন করা সম্ভব এই তরুণরা সোশ্যাল মিডিয়ায় অবৈধ নির্মাণ বন্ধ হোক এই হ্যাশট্যাগ দিয়ে ব্যাপক প্রচার চালাচ্ছেন এবং সাধারণ মানুষকে সচেতন করছেন

আইনি দিক থেকে বিচার করলে পশ্চিমবঙ্গ পৌর আইন বা ওয়েস্ট বেঙ্গল মিউনিসিপ্যাল অ্যাক্ট অনুযায়ী কোনো নির্মাণ কাজ শুরু করার আগে পৌরসভার অনুমোদন নেওয়া বাধ্যতামূলক যদি কেউ সেই নিয়ম লঙ্ঘন করে তবে পৌরসভার অধিকার রয়েছে সেই নির্মাণ কাজ বন্ধ করার এবং অবৈধ কাঠামো ভেঙে ফেলার সুপ্রিম কোর্ট এবং ন্যাশনাল গ্রিন ট্রাইব্যুনাল বা এনজিটি একাধিক রায়ে অত্যন্ত স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে জলাভূমি ভরাট করে কোনো রকম নির্মাণ কাজ করা সম্পূর্ণ বেআইনি এবং পরিবেশের জন্য এক ভয়ানক অপরাধ উত্তর দমদম পৌরসভা আজ সেই আইনেরই যথাযথ প্রয়োগ করে শহরের পরিবেশ এবং সাধারণ মানুষের অধিকার রক্ষা করার লড়াইয়ে অবতীর্ণ হয়েছে সাধারণ নাগরিকদেরও উচিত প্রশাসনের এই উদ্যোগকে পূর্ণ সমর্থন করা এবং নিজেদের এলাকায় কোনো রকম বেআইনি নির্মাণ বা জলাভূমি ভরাটের কাজ হতে দেখলে তৎক্ষণাৎ পৌরসভা বা পুলিশের কাছে অভিযোগ জানানো নাগরিক এবং প্রশাসনের যৌথ প্রচেষ্টাতেই এই মাফিয়া রাজের অবসান ঘটানো সম্ভব

এই বিশাল প্রশাসনিক অভিযানের পর উত্তর দমদম শহরের ট্রাফিক ব্যবস্থা এবং নিকাশি ব্যবস্থার উন্নয়নের জন্য এক বিশাল মাস্টার প্ল্যান তৈরি করার চিন্তাভাবনা শুরু হয়েছে বেআইনি নির্মাণগুলো ভেঙে ফেলার পর যে জমিগুলো উদ্ধার করা হবে সেখানে সাধারণ মানুষের জন্য চওড়া রাস্তা পার্ক এবং কমিউনিটি হল তৈরি করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে পৌরসভা যে সমস্ত পুকুর এবং জলাশয়গুলো আংশিকভাবে ভরাট করা হয়েছিল সেগুলোকে পুনরায় সংস্কার করে শহরের প্রাকৃতিক ভারসাম্য ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে এই মাস্টার প্ল্যান বাস্তবায়িত হলে উত্তর দমদম এলাকাটি কেবল বেআইনি নির্মাণ মুক্তই হবে না বরং এটি কলকাতার পার্শ্ববর্তী অন্যতম শ্রেষ্ঠ এবং আধুনিক বাসযোগ্য উপনগরীতে পরিণত হবে যেখানে প্রতিটি নাগরিক পর্যাপ্ত আলো বাতাস এবং উন্নত নাগরিক পরিষেবা ভোগ করতে পারবেন

ডিজিটাল মিডিয়া এবং সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটগুলোতে আজ সকাল থেকেই উত্তর দমদমের এই বিশাল অভিযানের ছবি এবং ভিডিও ব্যাপক ভাইরাল হয়েছে লেন্সপাদিয়া এর মতো আধুনিক ডিজিটাল নিউজ প্ল্যাটফর্মগুলো সরাসরি ঘটনাস্থল থেকে লাইভ ব্রডকাস্ট করে সাধারণ মানুষের সামনে এই ঐতিহাসিক ঘটনার প্রতিটি মুহূর্ত তুলে ধরেছে তরুণ কন্টেন্ট ক্রিয়েটররা নিজেদের স্মার্টফোনে লাল নোটিশ ঝোলানোর ভিডিও শেয়ার করে প্রশাসনের এই সাহসী উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করছেন নেটিজেনদের মধ্যে এই ঘটনা নিয়ে এক বিশাল আলোচনা এবং বিতর্ক শুরু হয়েছে অনেকেই লিখছেন যে অবশেষে প্রশাসনের ঘুম ভেঙেছে আবার অনেকেই দাবি করছেন যে যে সমস্ত সরকারি আধিকারিক এবং রাজনৈতিক নেতারা টাকার বিনিময়ে এই বেআইনি নির্মাণগুলোকে দিনের পর দিন প্রশ্রয় দিয়েছেন তাদের বিরুদ্ধেও অবিলম্বে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে প্রশাসন যদি দুর্নীতিগ্রস্ত আধিকারিকদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা না করে তবে এই অভিযান কেবল একটি লোকদেখানো চমক হিসেবেই থেকে যাবে বলে অনেক নাগরিক মনে করছেন

পরিশেষে এটা অত্যন্ত গর্বের এবং স্বস্তির সাথে বলতে হচ্ছে যে পঁচিশে মে তারিখের আজকের এই পুলিশ এবং উত্তর দমদম পৌরসভার যৌথ অভিযান শহরের ইতিহাসে এক অত্যন্ত যুগান্তকারী এবং সাহসী পদক্ষেপ হিসেবে চিরকাল স্মরণীয় হয়ে থাকবে অবৈধ নির্মাণ এবং জলাভূমি ভরাটের বিরুদ্ধে প্রশাসন আজ যে শূন্য সহনশীলতার নীতি গ্রহণ করেছে তা এক সুস্থ পরিবেশবান্ধব এবং আইন মান্যকারী সমাজ গঠনের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় একটি শহরের সৌন্দর্য কেবল তার বহুতল ভবনের ওপর নির্ভর করে না একটি শহরের আসল সৌন্দর্য হলো তার সুপরিকল্পিত রাস্তাঘাট উন্মুক্ত প্রাঙ্গণ এবং স্বচ্ছ প্রশাসন প্রশাসন আজ অত্যন্ত সফলভাবে মাফিয়াদের মেরুদণ্ড ভেঙে দিয়েছে কিন্তু এই সাফল্য ধরে রাখাটাই হলো সবচেয়ে বড় কাজ প্রশাসনকে অত্যন্ত সতর্ক থাকতে হবে যাতে এই ঘটনার পুনরাবৃত্তি না হয় নিয়মিত নজরদারি এবং আইনের কঠোর প্রয়োগের মাধ্যমেই এই সাফল্যকে স্থায়ী রূপ দেওয়া সম্ভব

আমরা লেন্সপাদিয়া পরিবারের পক্ষ থেকে উত্তর দমদম পৌরসভা এবং স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের এই ঐতিহাসিক ও নাগরিক অধিকার রক্ষার উদ্যোগকে আন্তরিকভাবে সাধুবাদ জানাই এবং আশা করি আগামী দিনেও শহরকে সুন্দর এবং মাফিয়া মুক্ত রাখার এই কড়া প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে আসুন আমরা সবাই মিলে এক প্রকৃত সুন্দর আধুনিক এবং দুর্নীতিমুক্ত শহরের স্বপ্ন বাস্তবায়িত করি যেখানে সাধারণ মানুষ শান্তিতে এবং অত্যন্ত সম্মানের সাথে বসবাস করতে পারবেন বিস্তারিত খবরের জন্য এবং এই অবৈধ নির্মাণ উচ্ছেদ অভিযানের লেটেস্ট গ্রাউন্ড রিপোর্ট ও সাধারণ মানুষের প্রতিক্রিয়া দেখতে কমেন্ট বক্সে থাকা লিঙ্কে এখনই ক্লিক করুন এবং সর্বদা চোখ রাখুন আমাদের ডিজিটাল পর্দায় সত্য এবং ন্যায়ের পক্ষে আমাদের এই সংবাদ পরিবেশনা অবিরাম চলতে থাকবে

Preview image