নদীয়াজুড়ে তীব্র দাবদাহে কাহিল সাধারণ মানুষ শিশু থেকে বৃদ্ধ সকলেই গরমজনিত অসুস্থতায় ভুগছেন এই পরিস্থিতিতে কীভাবে নিজেকে সুস্থ রাখবেন গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিলেন প্রখ্যাত চিকিৎসক চিন্ময় রায়।
নদীয়াজুড়ে তীব্র দাবদাহে কার্যত নাজেহাল সাধারণ মানুষ। সকাল বাড়তেই রাস্তাঘাট প্রায় ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে। প্রচণ্ড গরম আর অস্বস্তিকর আবহাওয়ার কারণে মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় নেমে এসেছে বড়সড় পরিবর্তন। শিশু থেকে বৃদ্ধ, ছাত্রছাত্রী থেকে কর্মজীবী মানুষ— সকলেই এই গরমে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন। বিশেষ করে দুপুরের পর বাইরে বের হওয়া কার্যত দুঃসাধ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তাপমাত্রা প্রতিদিনই ঊর্ধ্বমুখী। মাঝে মধ্যে সামান্য বৃষ্টিপাত হলেও তাতে স্বস্তি মিলছে না বললেই চলে। বরং বৃষ্টির পর বাড়ছে ভ্যাপসা গরম ও আর্দ্রতার মাত্রা। ফলে মানুষ আরও বেশি অস্বস্তি অনুভব করছেন। জেলার বিভিন্ন এলাকায় দেখা যাচ্ছে রাস্তায় মানুষের চলাচল আগের তুলনায় অনেকটাই কমে গিয়েছে। বাজার হোক কিংবা বাসস্ট্যান্ড, দুপুরের সময় জনসমাগম কমে যাওয়াই এখন সাধারণ ছবি।
এই পরিস্থিতিতে রাজ্য সরকারও পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে স্কুলের সময়সূচিতে পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। প্রচণ্ড গরমের কথা মাথায় রেখে সকাল সকাল স্কুল করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কারণ এই দাবদাহে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়ছে কচিকাঁচা পড়ুয়ারা। স্কুল ইউনিফর্ম পরে দীর্ঘক্ষণ রোদে যাতায়াত করায় অনেক শিশুই অসুস্থ হয়ে পড়ছে। কেউ মাথা ঘোরা, কেউ বমি ভাব, আবার কেউ জ্বর ও পানিশূন্যতার সমস্যায় ভুগছে।
শুধু শিশু নয়, বৃদ্ধ-বৃদ্ধাদের ক্ষেত্রেও এই গরম অত্যন্ত বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে। যাঁদের আগে থেকেই হার্ট, সুগার, উচ্চ রক্তচাপ কিংবা শ্বাসকষ্টের সমস্যা রয়েছে, তাঁদের ঝুঁকি আরও বেড়ে যাচ্ছে। জেলার বিভিন্ন হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে প্রতিদিনই বাড়ছে গরমজনিত অসুস্থ রোগীর সংখ্যা। চিকিৎসকদের মতে, ডিহাইড্রেশন, হিট স্ট্রোক, পেটের সংক্রমণ, ডায়রিয়া, খাদ্যে বিষক্রিয়া এবং হার্টের সমস্যার মতো নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন বহু মানুষ।
এই পরিস্থিতিতে কীভাবে নিজেকে সুস্থ রাখা সম্ভব? কী কী সতর্কতা মেনে চলা উচিত? সেই বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিলেন প্রখ্যাত চিকিৎসক চিন্ময় রায়।
তিনি জানান, এই ধরনের তীব্র গরমে শরীরকে ঠান্ডা রাখা এবং পর্যাপ্ত পরিমাণে জল পান করা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। অনেকেই তেষ্টা না পেলেও শরীরের জল দ্রুত কমে যাচ্ছে। ফলে শরীরে পানিশূন্যতা তৈরি হচ্ছে এবং তার থেকেই নানা শারীরিক সমস্যা দেখা দিচ্ছে। তাই দিনে বারবার জল পান করার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
চিকিৎসক চিন্ময় রায় আরও বলেন, শুধু জল নয়, ওআরএস, ডাবের জল, লেবুর শরবত কিংবা ফলের রসও শরীরকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। বিশেষ করে যারা বাইরে কাজ করেন, তাঁদের প্রতি ঘণ্টায় অন্তত একবার জল বা তরল খাবার গ্রহণ করা উচিত।
খাবারের ক্ষেত্রেও বিশেষ সতর্কতা নেওয়ার কথা বলেছেন তিনি। রাস্তার কাটা ফল, বাসি খাবার কিংবা দীর্ঘক্ষণ বাইরে রাখা খাবার খেলে পেটের সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই বাড়িতে তৈরি হালকা ও সহজপাচ্য খাবার খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসক। অতিরিক্ত তেল-মশলাযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলারও নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
গরমে অনেকেই ঠান্ডা পানীয় বা আইসক্রিম বেশি পরিমাণে খেয়ে ফেলছেন। কিন্তু অতিরিক্ত ঠান্ডা খাবারও শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন চিকিৎসক। বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে এই বিষয়ে অভিভাবকদের সচেতন থাকার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
তিনি আরও জানান, সকাল ১১টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বের না হওয়াই ভালো। কারণ এই সময় সূর্যের তাপ সবচেয়ে বেশি থাকে। যদি খুব জরুরি কারণে বাইরে বের হতেই হয়, তাহলে ছাতা, টুপি বা গামছা ব্যবহার করা উচিত। হালকা রঙের সুতি পোশাক পরারও পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
শিশু ও বয়স্কদের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতার কথা উল্লেখ করে চিকিৎসক বলেন, তাঁদের শরীরে দ্রুত জলশূন্যতা তৈরি হয়। ফলে অল্প সময়ের মধ্যেই শরীর খারাপ হতে পারে। তাই বাড়ির প্রবীণ সদস্যদের নিয়মিত জল খাওয়ানো এবং শিশুদের রোদে খেলাধুলা কমানোর পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
এছাড়াও যাঁদের হার্টের সমস্যা রয়েছে, তাঁদের বিশেষভাবে সতর্ক থাকতে বলেছেন চিকিৎসক চিন্ময় রায়। কারণ অতিরিক্ত গরমে শরীরের উপর চাপ বেড়ে যায় এবং হার্টের রোগীদের ক্ষেত্রে তা বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে। শরীরে দুর্বল লাগা, অতিরিক্ত ঘাম, বুক ধড়ফড় করা বা শ্বাসকষ্টের মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার কথা বলেছেন তিনি।
এই দাবদাহের মধ্যে অনেকেই কাজের চাপে দিনের পর দিন রোদে বের হচ্ছেন। তবে চিকিৎসকদের মতে, নিজের শরীরের দিকে নজর দেওয়া এখন সবচেয়ে জরুরি। সামান্য অসাবধানতাও বড় বিপদের কারণ হতে পারে।
নদীয়াজুড়ে তীব্র দাবদাহে কার্যত অতিষ্ঠ সাধারণ মানুষ। সকাল থেকে শুরু হওয়া রোদের তাপ দুপুর গড়াতেই যেন আগুনের রূপ নিচ্ছে। রাস্তাঘাট, বাজার, বাসস্ট্যান্ড— সর্বত্রই এখন মানুষের আনাগোনা অনেকটাই কমে গিয়েছে। অত্যাবশ্যক কাজ ছাড়া অনেকেই বাড়ির বাইরে বের হচ্ছেন না। শিশু থেকে বৃদ্ধ, ছাত্রছাত্রী থেকে কর্মজীবী মানুষ— প্রত্যেকেই এই অসহনীয় গরমে নাজেহাল হয়ে পড়েছেন।
মাঝে মধ্যে হালকা বৃষ্টি হলেও তাতে মিলছে না স্বস্তি। বরং বৃষ্টির পর বেড়ে যাচ্ছে ভ্যাপসা গরম ও আর্দ্রতার মাত্রা। ফলে পরিস্থিতি আরও অস্বস্তিকর হয়ে উঠছে। আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী কয়েকদিন তাপমাত্রার খুব একটা পরিবর্তন হওয়ার সম্ভাবনা নেই। কোথাও কোথাও বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকলেও তাতে গরম থেকে বিশেষ স্বস্তি মিলবে না বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়ছেন শিশু ও বয়স্ক মানুষরা। রাজ্য সরকারও বিষয়টির গুরুত্ব বুঝে স্কুলের সময়সূচিতে পরিবর্তন করেছে। সকাল সকাল স্কুল করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যাতে পড়ুয়াদের তীব্র রোদে সমস্যায় পড়তে না হয়। কারণ এই দাবদাহে ছোট ছোট শিশুদের শরীরে দ্রুত পানিশূন্যতা তৈরি হচ্ছে। মাথা ঘোরা, বমি ভাব, দুর্বলতা, জ্বরের মতো নানা সমস্যা দেখা দিচ্ছে অনেকের মধ্যেই।
অন্যদিকে বয়স্কদের ক্ষেত্রেও বাড়ছে শারীরিক ঝুঁকি। যাঁদের আগে থেকেই হার্ট, সুগার, উচ্চ রক্তচাপ কিংবা শ্বাসকষ্টের সমস্যা রয়েছে, তাঁদের বিশেষভাবে সতর্ক থাকতে বলছেন চিকিৎসকরা। জেলার বিভিন্ন হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে প্রতিদিনই বাড়ছে গরমজনিত অসুস্থ রোগীর সংখ্যা। ডিহাইড্রেশন, হিট স্ট্রোক, পেটের সংক্রমণ, ডায়রিয়া ও হার্টের সমস্যায় বহু মানুষ চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এই পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্য পরামর্শ দিলেন প্রখ্যাত চিকিৎসক চিন্ময় রায়। তিনি জানান, গরমকে কোনওভাবেই হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়। এই সময় শরীরকে সুস্থ রাখতে হলে পর্যাপ্ত পরিমাণে জল পান করা অত্যন্ত জরুরি। অনেকেই শুধুমাত্র তেষ্টা পেলেই জল খান, কিন্তু এই তীব্র গরমে শরীর থেকে ঘামের মাধ্যমে প্রচুর পরিমাণে জল বেরিয়ে যাচ্ছে। ফলে অজান্তেই শরীরে পানিশূন্যতা তৈরি হচ্ছে।
চিকিৎসকের মতে, শুধুমাত্র জল নয়, ওআরএস, ডাবের জল, লেবুর শরবত ও ফলের রসও শরীরকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। বিশেষ করে যারা দীর্ঘ সময় বাইরে কাজ করেন, তাঁদের নিয়মিত বিরতি নিয়ে জল বা তরল খাবার খাওয়া উচিত।
খাবারের ক্ষেত্রেও সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। রাস্তার কাটা ফল, বাসি খাবার কিংবা দীর্ঘক্ষণ বাইরে রাখা খাবার খেলে পেটের সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই বাড়িতে তৈরি হালকা ও সহজপাচ্য খাবার খাওয়ার উপর জোর দিয়েছেন চিকিৎসক চিন্ময় রায়। অতিরিক্ত তেল-মশলাযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলার কথাও বলেছেন তিনি।
গরমের সময় দুপুর ১১টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত অকারণে বাইরে না বেরোনোর পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। কারণ এই সময় সূর্যের তাপ সবচেয়ে বেশি থাকে। যদি বাইরে বের হওয়া খুব জরুরি হয়, তাহলে ছাতা, টুপি বা গামছা ব্যবহার করা উচিত। পাশাপাশি হালকা রঙের সুতি পোশাক পরলে শরীর তুলনামূলক ঠান্ডা থাকে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
শিশু ও বৃদ্ধদের ক্ষেত্রে বাড়তি যত্ন নেওয়ার উপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন চিকিৎসক চিন্ময় রায়। তিনি বলেন, “বাড়ির প্রবীণ সদস্যদের নিয়মিত জল খাওয়ান। ছোট শিশুদের দীর্ঘক্ষণ রোদে খেলতে দেবেন না। শরীরে দুর্বল লাগা, অতিরিক্ত ঘাম, মাথা ঘোরা বা শ্বাসকষ্টের মতো সমস্যা দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।”
নদীয়ার বিভিন্ন এলাকায় এখন একটাই প্রশ্ন— কবে কমবে এই অসহ্য গরম? তবে আবহাওয়ার পূর্বাভাস খুব একটা স্বস্তির বার্তা দিচ্ছে না। তাই চিকিৎসকদের মতে, সচেতন থাকাই এখন একমাত্র উপায়। সামান্য অসাবধানতাও বড় বিপদের কারণ হতে পারে।
সাধারণ মানুষের উদ্দেশ্যে শেষবারের মতো বার্তা দিয়ে চিকিৎসক চিন্ময় রায় বলেন, “গরমকে অবহেলা করবেন না। শরীর খারাপ লাগলে সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। নিয়ম মেনে চলুন, পর্যাপ্ত জল পান করুন এবং সুস্থ থাকুন।”