Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

ভারতের চিকিৎসাবিজ্ঞানে ঐতিহাসিক মুহূর্ত অন্ধত্ব জয়ের পথে প্রথম সফল নিউরাল চিপ দিব্যদৃষ্টি প্রতিস্থাপন এবং দৃষ্টিহীনদের নতুন পৃথিবীর আলো দেখা

ভারতের চিকিৎসা গবেষণার ইতিহাসে আজ এক অবিস্মরণীয় দিন নতুন দিল্লির এইমস হাসপাতালে আজ সফলভাবে দেশের প্রথম নিউরাল চিপ বা বায়োনিক আই দিব্যদৃষ্টি এক দৃষ্টিহীন রোগীর মস্তিষ্কে প্রতিস্থাপন করা হলো আইআইটি মাদ্রাজ এবং এইমসের যৌথ উদ্যোগে তৈরি এই প্রযুক্তি জন্মান্ধ বা দুর্ঘটনায় দৃষ্টিশক্তি হারানো কোটি কোটি মানুষের জীবনে আশার এক নতুন সূর্যোদয় নিয়ে এল

মানব সভ্যতার ইতিহাসে চিকিৎসাবিজ্ঞানের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো অন্ধত্বকে জয় করা হাজার হাজার বছর ধরে মানুষ এই অন্ধকারের কাছে হার মেনে এসেছে কিন্তু আজ ভারতের মাটিতে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির এক অভূতপূর্ব মেলবন্ধনে সেই চিরন্তন অন্ধকার দূর হওয়ার পথে এক বিশাল পদক্ষেপ নেওয়া হলো আজ সকালে নতুন দিল্লির অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অফ মেডিকেল সায়েন্সেস বা এইমস এর নিউরোসার্জারি বিভাগে এক জটিল এবং দীর্ঘ অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে ভারতের প্রথম সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি নিউরাল ভিজ্যুয়াল প্রস্থেসিস বা সোজা কথায় বায়োনিক আই চিপ যার নাম দেওয়া হয়েছে দিব্যদৃষ্টি সফলভাবে এক চল্লিশ বছর বয়সী জন্মান্ধ রোগীর মস্তিষ্কে প্রতিস্থাপন করা হলো এই ঐতিহাসিক ঘটনা যখন ঘটছিল তখন অপারেশন থিয়েটারের বাইরে উৎকণ্ঠায় অপেক্ষা করছিলেন দেশের শীর্ষ বিজ্ঞানী চিকিৎসক এবং রোগীর পরিবারের সদস্যরা অস্ত্রোপচারের চার ঘণ্টা পর যখন প্রথমবারের মতো চিপটি সক্রিয় করা হয় এবং রোগী জানান যে তিনি আলোর ঝলকানি দেখতে পাচ্ছেন তখন এক আবেগঘন মুহূর্তের সৃষ্টি হয় এই সাফল্য প্রমাণ করল যে ভারত এখন আর কেবল উন্নত বিশ্বের চিকিৎসা প্রযুক্তি ব্যবহারকারী দেশ নয় বরং ভারত আজ জটিলতম মেডিকেল টেকনোলজির উদ্ভাবক এবং পথপ্রদর্শক

দিব্যদৃষ্টি প্রযুক্তির নেপথ্য কাহিনী এবং কার্যপদ্ধতি এই অসাধ্য সাধনের পেছনে রয়েছে আইআইটি মাদ্রাজের বায়োটেকনোলজি বিভাগ এবং এইমসের নিউরোসায়েন্স সেন্টারের বিজ্ঞানীদের দীর্ঘ বারো বছরের নিরলস গবেষণা এবং কঠোর পরিশ্রম তাদের মূল লক্ষ্য ছিল এমন একটি প্রযুক্তি তৈরি করা যা চোখের ক্ষতিগ্রস্ত অংশকে বাইপাস করে সরাসরি মস্তিষ্কে দৃশ্যমান সংকেত পাঠাতে পারে আমাদের দেখার প্রক্রিয়ায় চোখ হলো কেবল একটি ক্যামেরার মতো যা আলো গ্রহণ করে এবং রেটিনার মাধ্যমে তাকে বৈদ্যুতিক সংকেতে পরিণত করে অপটিক নার্ভের মাধ্যমে মস্তিষ্কের পেছনের অংশে থাকা ভিজ্যুয়াল কর্টেক্সে পাঠায় মস্তিষ্ক সেই সংকেত বিশ্লেষণ করলেই আমরা কোনো ছবি দেখতে পাই যারা বিভিন্ন রোগের কারণে বা দুর্ঘটনায় দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন তাদের বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই চোখ বা অপটিক নার্ভ ক্ষতিগ্রস্ত হয় কিন্তু মস্তিষ্কের ভিজ্যুয়াল কর্টেক্স সুস্থ থাকে দিব্যদৃষ্টি প্রযুক্তি ঠিক এই সুযোগটিকেই কাজে লাগিয়েছে

এই পুরো ব্যবস্থাটি তিনটি প্রধান অংশে বিভক্ত প্রথমটি হলো একটি বিশেষ ধরনের স্মার্ট চশমা যা রোগী পরেন এই চশমার ফ্রেমে একটি অতি ক্ষুদ্র কিন্তু শক্তিশালী হাই ডেফিনিশন ক্যামেরা লাগানো থাকে যা রোগীর সামনের দৃশ্য রেকর্ড করে দ্বিতীয় অংশটি হলো একটি ছোট পোর্টেবল প্রসেসর ইউনিট যা রোগী তার পকেটে বা বেল্টে রাখতে পারেন চশমার ক্যামেরা থেকে আসা ভিডিও সংকেত তারবিহীন পদ্ধতিতে এই প্রসেসরে যায় যেখানে জটিল অ্যালগরিদমের মাধ্যমে সেই ভিডিওকে মস্তিষ্কের বোঝার উপযোগী ডিজিটাল বৈদ্যুতিক সংকেতে রূপান্তরিত করা হয় তৃতীয় এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশটি হলো মস্তিষ্কের ভেতরে বসানো নিউরাল চিপ এই চিপটি মানুষের চুলের চেয়েও সরু হাজার হাজার ইলেকট্রোড দিয়ে তৈরি যা সরাসরি মস্তিষ্কের ভিজ্যুয়াল কর্টেক্সের ওপর বসানো থাকে বাইরের প্রসেসর থেকে আসা ডিজিটাল সংকেত তারবিহীন পদ্ধতিতে এই চিপে পৌঁছায় এবং চিপটি সেই সংকেত অনুযায়ী মস্তিষ্কের নির্দিষ্ট নিউরনগুলোকে উদ্দীপিত করে এর ফলে রোগী তার বন্ধ চোখের সামনে আলোর বিন্দু বা প্যাটার্ন দেখতে পান এবং ধীরে ধীরে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সেই বিন্দুগুলো মিলিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ ছবি তৈরি করতে শেখেন

অস্ত্রোপচারের জটিলতা এবং রোবোটিক সহায়তা মস্তিষ্কের ভিজ্যুয়াল কর্টেক্সে এই সূক্ষ্ম চিপ বসানো বিশ্বের সবচেয়ে জটিল অস্ত্রোপচারগুলোর মধ্যে একটি কারণ সামান্য ভুলেই রোগীর মস্তিষ্কের স্থায়ী ক্ষতি হতে পারে বা তার প্রাণসংশয় হতে পারে এইমস এর অভিজ্ঞ নিউরোসার্জনদের একটি বিশেষ দল এই অস্ত্রোপচার পরিচালনা করেন এবং তাদের সাহায্য করার জন্য ব্যবহার করা হয় ভারতের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি অত্যাধুনিক সার্জিক্যাল রোবট সুশ্রুত এই রোবটের হাত মানুষের হাতের চেয়ে অনেক বেশি স্থির এবং নিখুঁত হওয়ায় মস্তিষ্কের নরম কলা কোষের কোনো ক্ষতি না করেই ইলেকট্রোডগুলো সঠিক স্থানে বসানো সম্ভব হয়েছে প্রায় আট ঘণ্টা ধরে চলা এই ম্যারাথন অস্ত্রোপচার সফল হওয়ার পর চিকিৎসকরা একে ভারতের মেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং এর এক বিশাল বিজয় বলে অভিহিত করেছেন

রোগীর অভিজ্ঞতা এবং নতুন করে দেখতে শেখার প্রক্রিয়া যিনি এই ঐতিহাসিক অস্ত্রোপচারের অংশ হলেন তিনি পশ্চিমবঙ্গের এক গ্রামের বাসিন্দা যিনি জন্ম থেকেই পৃথিবীর আলো দেখেননি চিপ সক্রিয় করার পর তার প্রথম প্রতিক্রিয়া ছিল অত্যন্ত আবেগপূর্ণ তিনি জানান প্রথমে তিনি কেবল কিছু এলোমেলো আলোর ঝলকানি দেখতে পাচ্ছিলেন কিন্তু কিছুক্ষণ পর যখন চিকিৎসকরা সিগন্যাল অ্যাডজাস্ট করেন তখন তিনি তার সামনে দাঁড়িয়ে থাকা ডাক্তারের সাদা অ্যাপ্রনের আবছা আকৃতি বুঝতে পারেন যদিও এই দেখা আমাদের স্বাভাবিক দেখার মতো পরিষ্কার নয় এটি অনেকটা পুরোনো দিনের সাদাকালো টেলিভিশনের ঝিরঝিরে ছবির মতো কিন্তু একজন মানুষ যিনি চল্লিশ বছর ধরে কেবল অন্ধকারের মধ্যে ছিলেন তার কাছে এই সামান্য আলোর অনুভূতি এক নতুন জন্মের মতো এখন তাকে দীর্ঘ কয়েক মাস ধরে রিহ্যাবিলিটেশন বা পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে যেতে হবে যেখানে বিশেষ প্রশিক্ষকরা এবং এআই সফটওয়্যার তাকে শেখাবে যে কীভাবে মস্তিষ্কে তৈরি হওয়া এই নতুন ধরনের ডিজিটাল সংকেতগুলো বিশ্লেষণ করে বিভিন্ন বস্তু মানুষ বা রাস্তাঘাট চিনতে হয় বিজ্ঞানীরা আশাবাদী যে আগামী এক বছরের মধ্যে তিনি স্বাধীনভাবে চলাফেরা করতে পারবেন এবং এমনকি বড় অক্ষরের লেখা পড়তেও পারবেন

অর্থনৈতিক প্রভাব এবং নতুন শিল্পের বিকাশ দিব্যদৃষ্টি প্রকল্পের এই সাফল্য ভারতের স্বাস্থ্য অর্থনীতিতে এক বিশাল এবং সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলবে ভারতে বর্তমানে প্রায় দেড় কোটি মানুষ সম্পূর্ণ দৃষ্টিহীন এবং আরও কয়েক কোটি মানুষ আংশিক দৃষ্টিহীন এই বিপুল সংখ্যক মানুষকে যদি এই প্রযুক্তির মাধ্যমে আবার কর্মক্ষম করে তোলা যায় তবে তা দেশের জিডিপিতে বিশাল অবদান রাখবে এতদিন এই ধরনের বায়োনিক আই এর জন্য আমেরিকার মতো দেশের ওপর নির্ভর করতে হতো এবং তার খরচ পড়ত প্রায় দুই থেকে তিন কোটি টাকা যা সাধারণ মানুষের ধরাছোঁয়ার বাইরে ছিল কিন্তু সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি হওয়ার ফলে দিব্যদৃষ্টির খরচ তার দশ ভাগের এক ভাগে নেমে আসবে সরকার জানিয়েছে আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের অধীনে গরিব মানুষদের এই চিকিৎসা বিনামূল্যে বা অত্যন্ত কম খরচে দেওয়া হবে এটি ভারতের মেডিকেল ট্যুরিজম শিল্পেও এক বিশাল জোয়ার আনবে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে দৃষ্টিহীন মানুষরা এখন কম খরচে এই উন্নত চিকিৎসা পাওয়ার জন্য ভারতে আসবেন যা দেশের অর্থনীতিতে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ে আসবে

news image
আরও খবর

এই নতুন প্রযুক্তিকে কেন্দ্র করে দেশে সম্পূর্ণ নতুন ধরনের সহায়ক শিল্পের বিকাশ ঘটছে নিউরাল চিপ তৈরি করা উচ্চ মানের মেডিকেল গ্রেড সিলিকন উৎপাদন করা এবং অত্যাধুনিক সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্টের জন্য নতুন নতুন স্টার্টআপ কোম্পানি তৈরি হচ্ছে এই কোম্পানিগুলোতে কাজের জন্য এক নতুন ধরনের পেশাদার শ্রেণীর চাহিদা তৈরি হয়েছে যাদের বলা হচ্ছে নিউরাল টেকনিশিয়ান এবং বায়োমেডিকেল ডেটা অ্যানালিস্ট এই তরুণ পেশাদাররা মস্তিষ্কের জটিল সংকেত বিশ্লেষণ করা এবং চিপের রক্ষণাবেক্ষণ করার কাজ করবেন এছাড়াও রোগীদের পুনর্বাসনের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নিউরো রিহ্যাবিলিটেশন স্পেশালিস্ট এর প্রয়োজন হচ্ছে যা চিকিৎসা ক্ষেত্রে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দিচ্ছে

সামাজিক মাধ্যম এবং কন্টেন্ট ক্রিয়েশনে নতুন দিগন্ত একজন জন্মান্ধ মানুষের প্রথমবার পৃথিবী দেখার এই আবেগঘন মুহূর্ত এবং বিজ্ঞানের এই জয়যাত্রা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং ডিজিটাল কন্টেন্ট ক্রিয়েশনের জগতে এক বিশাল আলোড়ন সৃষ্টি করেছে বিভিন্ন ডিজিটাল মিডিয়া হাউস এবং স্বাধীন কন্টেন্ট ক্রিয়েটররা এই বিষয় নিয়ে তথ্যবহুল ভিডিও এবং ডকুমেন্টারি তৈরি করছেন যা নিমেষের মধ্যে ভাইরাল হয়ে যাচ্ছে বিশেষ করে ফেসবুক এবং ইউটিউবে এই ধরনের অনুপ্রেরণামূলক গল্পের চাহিদা আকাশছোঁয়া স্বাস্থ্য প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করা কোম্পানিগুলো এখন তাদের ব্র্যান্ডিং এবং প্রচারের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া বিশেষ করে ফেসবুক পেজ এবং ভিডিও কন্টেন্টের ওপর জোর দিচ্ছে তারা এমন তরুণ কন্টেন্ট ক্রিয়েটরদের খুঁজছে যারা এই জটিল প্রযুক্তিকে সহজ ভাষায় এবং আবেগের সাথে সাধারণ মানুষের কাছে তুলে ধরতে পারে এবং আকর্ষণীয় ইউজিসি অ্যাডস বা ইউজার জেনারেটেড কন্টেন্ট তৈরি করতে পারে এর ফলে যারা প্রযুক্তিবিদ নন কিন্তু সৃজনশীল গল্প বলতে পারেন তারাও এই বিশাল পরিবর্তনের অংশীদার হতে পারছেন এবং ঘরে বসেই এই কোম্পানিগুলোর হয়ে কাজ করে ভালো অর্থ উপার্জন করছেন

নৈতিকতা এবং ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ যেকোনো বৈপ্লবিক প্রযুক্তির মতো দিব্যদৃষ্টি নিয়েও কিছু নৈতিক প্রশ্ন এবং ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ রয়েছে সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হলো সাইবার নিরাপত্তা যেহেতু এই চিপটি তারবিহীন পদ্ধতিতে বাইরের ডিভাইসের সাথে যুক্ত থাকে তাই হ্যাকাররা কি এই ডিভাইস হ্যাক করে রোগীর মস্তিষ্কে ভুল দৃশ্য বা তথ্য পাঠিয়ে তাকে বিভ্রান্ত করতে পারে এই প্রশ্নের উত্তরে আইআইটি মাদ্রাজের সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন যে দিব্যদৃষ্টিতে বিশ্বের সবচেয়ে উন্নত কোয়ান্টাম এনক্রিপশন প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে যা ভাঙা প্রায় অসম্ভব এছাড়াও ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ হলো এই প্রযুক্তিকে আরও উন্নত করা যাতে রোগীরা রঙিন এবং আরও স্পষ্ট ছবি দেখতে পান বিজ্ঞানীরা এখন ন্যানোটেকনোলজি ব্যবহার করে আরও ক্ষুদ্র এবং শক্তিশালী ইলেকট্রোড তৈরির কাজ করছেন যা ভবিষ্যতে মানুষের দৃষ্টিশক্তিকে স্বাভাবিকের চেয়েও বহুগুণ বাড়িয়ে দিতে পারে বা সুপারহিউম্যান ভিশন তৈরি করতে পারে

আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া এবং ভারতের অবস্থান ভারতের এই অভাবনীয় সাফল্য আন্তর্জাতিক চিকিৎসা বিজ্ঞান মহলে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বা ডব্লিউএইচও ভারতের এই উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেছে এবং একে অন্ধত্ব দূরীকরণের লড়াইয়ে এক গেম চেঞ্জার বলে অভিহিত করেছে আমেরিকা ইউরোপ এবং জাপানের মতো উন্নত দেশগুলো যারা এই প্রযুক্তি নিয়ে গবেষণা করছিল তারা আজ ভারতের সাফল্য দেখে বিস্মিত অনেক বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয় এবং গবেষণা প্রতিষ্ঠান এখন আইআইটি এবং এইমসের সাথে যৌথভাবে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে এটি ভারতের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সক্ষমতাকে বিশ্ব দরবারে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে এবং প্রমাণ করেছে যে ভারত এখন আর কেবল ফলোয়ার নয় বরং লিডার

উপসংহার ২০২৬ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি দিনটি প্রমাণ করল যে মানুষের অদম্য ইচ্ছাশক্তি এবং বিজ্ঞানের সাধনা যেকোনো শারীরিক সীমাবদ্ধতাকে জয় করতে পারে যে চোখ একসময় কেবল অন্ধকার দেখত আজ বিজ্ঞানের স্পর্শে তা আলোর সন্ধান পেল দিব্যদৃষ্টি কেবল একটি চিপ বা যন্ত্র নয় এটি হলো কোটি কোটি মানুষের হারানো আশা ফিরে পাওয়ার এক চাবিকাঠি এইমস এবং আইআইটির বিজ্ঞানীরা আজ যে প্রদীপ জ্বালালেন তা আগামী দিনে বিশ্বের প্রতিটি কোণায় ছড়িয়ে থাকা দৃষ্টিহীন মানুষের জীবনকে আলোকিত করবে আমরা এখন এমন এক যুগে প্রবেশ করলাম যেখানে শারীরিক প্রতিবন্ধকতা আর মানুষের স্বপ্ন পূরণের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াবে না ভারত আজ বিশ্বকে দেখিয়ে দিল যে প্রযুক্তি যখন মানবতার কল্যাণে ব্যবহৃত হয় তখন তা সত্যিকারের অলৌকিক ঘটনা ঘটাতে পারে জয় বিজ্ঞান জয় চিকিৎসা প্রযুক্তি জয় ভারত

Preview image