Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

? ৩১০০ টাকার টিকিটে হাউসফুল ধুরন্ধর ২ দেশজুড়ে কোথায় কত দাম এগিয়ে কোন শহর

পাঁচ ভাষায় মুক্তি পাওয়া ধুরন্ধর ২  প্রথম দিনেই বক্স অফিসে ঝড় তুলেছে উদ্বোধনী দিনে ৫০ কোটির ব্যবসা করে ছবিটি নজর কাড়ছে।

বহু প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে মুক্তি পেল ‘ধুরন্ধর ২’। ডিসেম্বরে মুক্তিপ্রাপ্ত প্রথম পর্ব ‘ধুরন্ধর’ যে ঝড় তুলেছিল বক্স অফিসে, তা এখনও দর্শকদের মনে টাটকা। সেই সাফল্যের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার প্রত্যাশা নিয়েই বৃহস্পতিবার প্রেক্ষাগৃহে আসে এই সিক্যুয়েল। আর মুক্তির প্রথম দিনেই প্রমাণ হয়ে গেল—প্রত্যাশা বৃথা যায়নি।

দেশজুড়ে সিনেমাহলে দর্শকদের উপচে পড়া ভিড়, আগাম বুকিংয়ে হাউসফুল শো, আর আকাশছোঁয়া টিকিটের দাম—সব মিলিয়ে ‘ধুরন্ধর ২’ এখন একেবারে টক অফ দ্য টাউন। এমনকি ৩০০০ টাকার বেশি টিকিট থাকলেও দর্শকদের আগ্রহে কোনও ভাঁটা পড়েনি। বরং বলা যায়, দাম যত বেশি, কৌতূহলও ততটাই তুঙ্গে।


? প্যান-ইন্ডিয়া মুক্তি, প্রথম দিনেই ৫০ কোটির ঝড়

‘ধুরন্ধর ২’ মুক্তি পেয়েছে পাঁচটি ভাষায়—হিন্দি, তেলুগু, তামিল, কন্নড় ও মলয়ালম। এই প্যান-ইন্ডিয়া স্ট্র্যাটেজিই ছবিটিকে আরও বড় দর্শকবৃত্তের কাছে পৌঁছে দিয়েছে।

প্রথম দিনের হিসাব অনুযায়ী, ছবিটি ইতিমধ্যেই ৫০ কোটি টাকার ব্যবসা করে ফেলেছে। যদিও এই অঙ্ক এখনও আনঅফিসিয়াল, তবুও ইন্ডাস্ট্রি মহলে এর প্রভাব স্পষ্ট।

মজার বিষয় হল, এই মোট আয়ের প্রায় ৪৯ শতাংশই এসেছে হিন্দি ভার্সন থেকে। অর্থাৎ, বলিউড মার্কেট এখনও এই ধরনের বড় বাজেটের ছবির জন্য সবচেয়ে শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম। অন্যদিকে, সবচেয়ে কম ব্যবসা হয়েছে মলয়ালম ভাষায়।


? দেশজুড়ে প্রায় ৯ হাজার শো

বর্তমানে সারা দেশে ‘ধুরন্ধর ২’-এর মোট ৮,৯২৮টি শো চলছে। এই বিপুল সংখ্যক শো থেকেই বোঝা যাচ্ছে, ছবির প্রতি ডিস্ট্রিবিউটর এবং হল মালিকদের আস্থা কতটা।

মাল্টিপ্লেক্স থেকে সিঙ্গল স্ক্রিন—সব জায়গাতেই ছবিটি সমানভাবে মুক্তি পেয়েছে। ফলে বিভিন্ন শ্রেণির দর্শকের কাছে পৌঁছতে পেরেছে এই ছবি।


? মুম্বই: ৩১০০ টাকার টিকিটেও হাউসফুল

টিকিটের দামের দিক থেকে সবচেয়ে চমকপ্রদ ছবি দেখা যাচ্ছে মুম্বইয়ে।

  • সর্বোচ্চ টিকিট মূল্য: ৩১০০ টাকা

  • লোকেশন: বোরিবলীর একটি মাল্টিপ্লেক্স

  • ফরম্যাট: IMAX 2D রিক্লাইনার সিট

এই বিলাসবহুল আসনের অভিজ্ঞতা পেতে দর্শকরা খরচ করছেন মোটা অঙ্ক। শুধু তাই নয়, মুম্বইয়ের আরও একটি মাল্টিপ্লেক্সে টিকিটের দাম ২৫০০ টাকা পর্যন্ত পৌঁছেছে।

তবে সাধারণ দর্শকদের জন্যও বিকল্প রয়েছে। IMAX 2D স্ক্রিনে সর্বনিম্ন টিকিটের দাম প্রায় ৪০০ টাকা থেকে শুরু।


?️ কলকাতা: দাম বেশি, তবু চাহিদা অটুট

কলকাতাতেও ‘ধুরন্ধর ২’ ঘিরে উন্মাদনা চোখে পড়ার মতো।

মাল্টিপ্লেক্সে:

  • সর্বোচ্চ দাম: ১৯০০ টাকা

  • অন্যান্য দাম: ১৮৮০ ও ১৪০০ টাকা

দাম তুলনামূলক বেশি হলেও বুকিংয়ের গতিতে তার কোনও প্রভাব পড়েনি।

সিঙ্গল স্ক্রিনে:

  • টিকিট মূল্য: ১০০ – ২০০ টাকা

সোনালি, বিজলী, নবীনার মতো সিনেমাহল এখনও মধ্যবিত্ত দর্শকদের জন্য বড় ভরসা।


?️ দিল্লি: বিলাসিতা বনাম সাশ্রয়—দুই-ই আছে

দিল্লিতে টিকিটের দামের মধ্যে বিশাল বৈচিত্র্য দেখা যাচ্ছে।

প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতা:

  • রিক্লাইনার সিট: ২৪০০ টাকা

  • অন্যান্য প্রিমিয়াম টিকিট: ২০০০ ও ১৮০০ টাকা

বাজেট অপশন:

  • আসফ আলি রোড: ৯৫ টাকা

  • অন্যান্য হল: ১৭০ – ২৫০ টাকা

অর্থাৎ, সব ধরনের দর্শকের জন্যই রয়েছে উপযুক্ত বিকল্প।


? বেঙ্গালুরু: ব্যবসায় এক নম্বরে

প্রথম দিনের ব্যবসার নিরিখে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে বেঙ্গালুরু।

টিকিটের দাম:

  • সর্বোচ্চ: ২৯০০ টাকা

  • প্রিমিয়াম রেঞ্জ: ২০০০ – ২৯০০ টাকা

  • সাধারণ হল: ২০০ – ৩০০ টাকা

হিন্দি ও কন্নড়—দুই ভাষাতেই ছবিটি ভালো সাড়া পেয়েছে।


? পুণে ও আহমেদাবাদ

পুণে:

  • সর্বোচ্চ দাম: ২০০০ – ১৪০০ টাকা

আহমেদাবাদ:

  • সর্বোচ্চ দাম: ১৫০০ টাকা

এই শহরগুলিতেও ছবিটি ভালো ব্যবসা করছে, যদিও টিকিটের দাম মুম্বই বা বেঙ্গালুরুর তুলনায় কিছুটা কম।


⚖️ হায়দরাবাদ ও তামিলনাড়ু: সরকারের নিয়ন্ত্রণে টিকিট মূল্য

অন্যান্য শহরের তুলনায় হায়দরাবাদে পরিস্থিতি একেবারেই আলাদা।

তেলঙ্গানা সরকারের নিয়ম:

  • সিঙ্গল স্ক্রিন: ১৫০ – ২৫০ টাকা

  • মাল্টিপ্লেক্স: ২৯৫ – ৩৫০ টাকা

এই একই নিয়ম ‘ধুরন্ধর ২’-এর ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হয়েছে।

তামিলনাড়ু:

  • টিকিট মূল্য: ১৬০ – ২১০ টাকা

সরকারি নিয়ন্ত্রণ থাকায় এখানে টিকিটের দাম তুলনামূলকভাবে অনেক কম।


? কোন শহর ব্যবসায় এগিয়ে?

প্রথম দিনের রিপোর্ট অনুযায়ী ব্যবসার ক্রম:

  1. বেঙ্গালুরু

  2. পুণে

  3. হায়দরাবাদ

  4. মুম্বই

  5. জয়পুর

  6. লখনউ

  7. দিল্লি

  8. চণ্ডীগড়

  9. ভোপাল

  10. কলকাতা

  11. আহমেদাবাদ

এই তালিকা থেকে স্পষ্ট—দক্ষিণ ভারতের শহরগুলিই ব্যবসার ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা নিচ্ছে।


? কেন এত জনপ্রিয় ‘ধুরন্ধর ২’?

এই ছবির সাফল্যের পিছনে একাধিক কারণ রয়েছে—

⭐ স্টার পাওয়ার

রণবীর সিংহের জনপ্রিয়তা ছবির বড় আকর্ষণ।

news image
আরও খবর

? প্রথম পর্বের সাফল্য

প্রথম ছবির সাফল্য দর্শকদের মধ্যে প্রত্যাশা বাড়িয়েছে।

? প্যান-ইন্ডিয়া স্ট্র্যাটেজি

একাধিক ভাষায় মুক্তি পাওয়ায় দর্শকসংখ্যা বেড়েছে।

? প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতা

IMAX, রিক্লাইনার সিট—সব মিলিয়ে সিনেমা দেখা এখন এক ধরনের বিলাসিতা।

বর্তমান সময়ে সিনেমা শিল্পে একটি বড় পরিবর্তন চোখে পড়ছে, আর ‘ধুরন্ধর ২’ সেই পরিবর্তনের এক উজ্জ্বল উদাহরণ। ৩০০০ টাকার টিকিট—কিছুদিন আগেও যা অবিশ্বাস্য মনে হতো—আজ সেটাই বাস্তব। প্রশ্ন উঠছে, এই উচ্চ মূল্য কি সিনেমাপ্রেমীদের জন্য সমস্যা তৈরি করছে, নাকি এটি এক নতুন সুযোগের দরজা খুলে দিচ্ছে?

প্রথমেই স্বীকার করতে হবে, ৩০০০ টাকার টিকিট নিঃসন্দেহে সাধারণ দর্শকদের নাগালের বাইরে। বিশেষ করে মধ্যবিত্ত বা নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য এই ধরনের খরচ করা সহজ নয়। সিনেমা একসময় ছিল সাপ্তাহিক বিনোদনের একটি সহজলভ্য মাধ্যম, যেখানে পরিবার বা বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানো যেত অল্প খরচেই। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে সিনেমা দেখতে যাওয়া অনেকটাই ‘লাক্সারি’ বা বিলাসিতার পর্যায়ে পৌঁছে যাচ্ছে।

তবে এই চিত্রের আর একটি দিকও রয়েছে, যা সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ।


? সিনেমা এখন শুধু বিনোদন নয়, এক সম্পূর্ণ অভিজ্ঞতা

বর্তমানে সিনেমা দেখা আর শুধুমাত্র একটি গল্প দেখার অভিজ্ঞতা নয়—এটি হয়ে উঠেছে একটি সম্পূর্ণ ‘এন্টারটেইনমেন্ট প্যাকেজ’। মাল্টিপ্লেক্সগুলিতে আধুনিক প্রযুক্তি, আরামদায়ক রিক্লাইনার আসন, ডলবি সাউন্ড, আইম্যাক্স স্ক্রিন—সব মিলিয়ে দর্শকদের জন্য তৈরি হচ্ছে এক অনন্য পরিবেশ।

এই পরিবর্তনের ফলে সিনেমা এখন অনেকটা থিম পার্ক বা লাইভ কনসার্টের মতো অভিজ্ঞতা হয়ে উঠেছে। দর্শকরা শুধু সিনেমা দেখতে যাচ্ছেন না, বরং একটি প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতার অংশ হতে যাচ্ছেন। এই কারণেই অনেক দর্শক উচ্চ টিকিট মূল্য থাকা সত্ত্বেও এই ধরনের শো বেছে নিচ্ছেন।

বিশেষ করে শহুরে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে এই প্রবণতা আরও বেশি দেখা যাচ্ছে। তারা ‘এক্সপেরিয়েন্স’-এর জন্য খরচ করতে আগ্রহী। সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে এই অভিজ্ঞতা শেয়ার করাও এক ধরনের ট্রেন্ড হয়ে দাঁড়িয়েছে।


? প্রিমিয়াম অডিয়েন্সের উত্থান

উচ্চ টিকিট মূল্যের ফলে সিনেমা ইন্ডাস্ট্রিতে একটি নতুন শ্রেণির দর্শক তৈরি হচ্ছে—যাদের বলা যেতে পারে ‘প্রিমিয়াম অডিয়েন্স’। এই দর্শকরা মূলত সেইসব মানুষ, যারা ভালো মানের অভিজ্ঞতার জন্য বেশি খরচ করতে প্রস্তুত।

এই শ্রেণির দর্শকদের চাহিদা অনুযায়ী মাল্টিপ্লেক্সগুলিও নিজেদের পরিষেবা উন্নত করছে। উন্নত মানের খাবার, ব্যক্তিগত পরিষেবা, বিলাসবহুল আসন—সব কিছুই এই অডিয়েন্সকে লক্ষ্য করে তৈরি করা হচ্ছে।

এর ফলে সিনেমা হলগুলির আয়ের একটি নতুন পথ তৈরি হয়েছে। আগে যেখানে বেশি সংখ্যক দর্শকের উপর নির্ভর করতে হতো, এখন তুলনামূলক কম দর্শক থেকেও বেশি আয় করা সম্ভব হচ্ছে।

তবে এর একটি ঝুঁকিও রয়েছে। যদি সিনেমার কনটেন্ট দর্শকদের প্রত্যাশা পূরণ করতে না পারে, তাহলে এই প্রিমিয়াম অডিয়েন্স খুব দ্রুত মুখ ফিরিয়ে নিতে পারে।


? মাল্টিপ্লেক্স সংস্কৃতির বিস্তার

উচ্চ টিকিট মূল্য এবং প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতার এই প্রবণতা মাল্টিপ্লেক্স সংস্কৃতিকে আরও শক্তিশালী করছে। বড় শহরগুলিতে ইতিমধ্যেই মাল্টিপ্লেক্সগুলি সিনেমা প্রদর্শনের প্রধান মাধ্যম হয়ে উঠেছে।

মাল্টিপ্লেক্সগুলির সুবিধা হল—

  • একাধিক স্ক্রিনে একসঙ্গে বিভিন্ন শো

  • উন্নত প্রযুক্তি

  • পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পরিবেশ

  • খাবার ও অন্যান্য পরিষেবা

এই সব কারণেই দর্শকরা মাল্টিপ্লেক্সের দিকে ঝুঁকছেন।

‘ধুরন্ধর ২’-এর মতো বড় বাজেটের ছবির ক্ষেত্রে মাল্টিপ্লেক্সগুলি বিশেষভাবে লাভবান হচ্ছে। কারণ এই ধরনের ছবির জন্য দর্শকরা বেশি দাম দিতে রাজি।


?️ সিঙ্গল স্ক্রিনের প্রাসঙ্গিকতা এখনও অটুট

তবে এই পুরো ছবির মধ্যে সিঙ্গল স্ক্রিন থিয়েটারগুলিকে একেবারেই বাদ দেওয়া যায় না। বরং বলা যায়, তারা এখনও সাধারণ দর্শকদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

সিঙ্গল স্ক্রিনের সবচেয়ে বড় শক্তি হল—

  • কম টিকিট মূল্য

  • স্থানীয় দর্শকদের সঙ্গে সংযোগ

  • সহজলভ্যতা

অনেক ছোট শহর বা মফস্বলে এখনও সিঙ্গল স্ক্রিনই সিনেমা দেখার প্রধান মাধ্যম। এমনকি বড় শহরগুলিতেও এমন অনেক দর্শক আছেন, যারা কম খরচে সিনেমা দেখতে চান।

‘ধুরন্ধর ২’-এর ক্ষেত্রেও দেখা যাচ্ছে, যেখানে মাল্টিপ্লেক্সে টিকিটের দাম আকাশছোঁয়া, সেখানে সিঙ্গল স্ক্রিনে ১০০-২০০ টাকায় সিনেমা দেখা সম্ভব। ফলে দুই ধরনের দর্শকই তাদের সুবিধামতো বিকল্প পাচ্ছেন।


⚖️ ভারসাম্যের প্রয়োজন

বর্তমান পরিস্থিতিতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল ভারসাম্য বজায় রাখা। একদিকে প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতা এবং উচ্চ টিকিট মূল্য, অন্যদিকে সাধারণ দর্শকদের নাগালের মধ্যে থাকা সাশ্রয়ী বিকল্প—এই দুইয়ের মধ্যে সঠিক সমন্বয় প্রয়োজন।

যদি সিনেমা শিল্প শুধুমাত্র প্রিমিয়াম অডিয়েন্সের উপর নির্ভর করে, তাহলে একটি বড় অংশের দর্শক বাদ পড়ে যাবে। আবার যদি শুধুমাত্র কম দামের উপর জোর দেওয়া হয়, তাহলে আধুনিক প্রযুক্তি ও উন্নত পরিষেবা দেওয়া কঠিন হয়ে পড়বে।

এই কারণেই মাল্টিপ্লেক্স ও সিঙ্গল স্ক্রিন—দু’টিকেই সমান গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।


? ‘ধুরন্ধর ২’—একটি ট্রেন্ড সেটার

সব দিক বিচার করলে ‘ধুরন্ধর ২’ শুধু একটি সফল সিনেমা নয়, এটি একটি ট্রেন্ড সেটার হিসেবেও উঠে আসছে। এই ছবির মাধ্যমে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় স্পষ্ট হয়ে উঠেছে—

  1. দর্শকরা ভালো কনটেন্টের জন্য বেশি দাম দিতে প্রস্তুত

  2. প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতার চাহিদা দ্রুত বাড়ছে

  3. প্যান-ইন্ডিয়া রিলিজ এখন একটি সফল কৌশল

  4. শহরভেদে টিকিটের দামের বৈচিত্র্য একটি বড় ফ্যাক্টর

এই ট্রেন্ড ভবিষ্যতে আরও অনেক ছবির ক্ষেত্রে অনুসরণ করা হতে পারে।


? প্যান-ইন্ডিয়া কনটেন্টের শক্তি

‘ধুরন্ধর ২’-এর আর একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল এর প্যান-ইন্ডিয়া রিলিজ। পাঁচটি ভাষায় মুক্তি পাওয়ার ফলে এটি দেশের বিভিন্ন প্রান্তের দর্শকদের কাছে পৌঁছতে পেরেছে।

এই ধরনের রিলিজ স্ট্র্যাটেজি এখন ক্রমশ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। কারণ এতে—

  • বাজারের পরিধি বৃদ্ধি পায়

  • আয়ের সম্ভাবনা বাড়ে

  • বিভিন্ন ভাষার দর্শকদের একসঙ্গে আকর্ষণ করা যায়

এই কারণেই ভবিষ্যতে আরও বেশি সিনেমা এই পথে হাঁটতে পারে।


? ভবিষ্যতের সম্ভাবনা

প্রথম দিনেই ৫০ কোটির ব্যবসা এবং দেশজুড়ে বিপুল চাহিদা দেখে একটাই প্রশ্ন স্বাভাবিকভাবে উঠে আসে—এই ছবির শেষ বক্স অফিস কালেকশন কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে?

যদি এই গতি বজায় থাকে, তাহলে ‘ধুরন্ধর ২’ সহজেই ৫০০ কোটির ক্লাবে পৌঁছে যেতে পারে। এমনকি তার থেকেও বেশি আয় করার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

তবে সব কিছু নির্ভর করবে কয়েকটি বিষয়ের উপর—

  • দর্শকদের রিভিউ

  • মুখে মুখে প্রচার

  • প্রতিযোগী ছবির উপস্থিতি

  • দ্বিতীয় সপ্তাহের পারফরম্যান্স


✨ উপসংহার

সব মিলিয়ে ‘ধুরন্ধর ২’ বর্তমান ভারতীয় সিনেমা ইন্ডাস্ট্রির একটি প্রতিচ্ছবি। এখানে যেমন রয়েছে আকাশছোঁয়া টিকিট মূল্য, তেমনই রয়েছে দর্শকদের অদম্য আগ্রহ। এখানে যেমন রয়েছে প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতার চাহিদা, তেমনই রয়েছে সাশ্রয়ী বিনোদনের প্রয়োজন।

এই ছবির সাফল্য প্রমাণ করে, ভালো কনটেন্ট, বড় স্কেল এবং সঠিক মার্কেটিং—এই তিনের সমন্বয় ঘটলে দর্শক সবসময় সাড়া দেন।

৩০০০ টাকার টিকিট হোক বা ১০০ টাকার—শেষ পর্যন্ত দর্শক হলের দরজায় পৌঁছনোর একটাই কারণ, আর তা হল ভালো সিনেমার প্রতি তাদের ভালোবাসা।

এখন দেখার, এই ভালোবাসা ‘ধুরন্ধর ২’-কে ঠিক কতদূর নিয়ে যেতে পারে।


 

Preview image