জ়রীনকে দাহ করা হয়েছে, কবর দেওয়া হয়নি; ছেলে জ়ায়েদ খান মাকে কাঁধে করে শ্মশানে নিয়ে গেছেন।
সুজ়ানের খানের মা, প্রাক্তন অভিনেত্রী জ়রীন কত্রকের মৃত্যুতে গোটা বলিউড শোকমগ্ন। জয়া বচ্চন, হেমা মালিনী, ডিম্পল কপাডিয়া সহ অনেক বিশিষ্ট অভিনেতা-অভিনেত্রী শেষযাত্রায় উপস্থিত ছিলেন। তবে জ়রীনের শেষকৃত্য সংক্রান্ত কিছু বিশেষ বিষয় আলোচনায় এসেছে। একদা সুজ়ানের মা কবর দেওয়া হয়নি, বরং দাহ করা হয়েছে। ছেলে জ়ায়েদ খান নিজের হাতে মাকে কাঁধে করে শ্মশানে নিয়ে গিয়েছেন। বিশেষভাবে নজর কেড়েছে যে, এই শেষকৃত্য হিন্দু রীতি মেনে সম্পন্ন হয়েছে। জ়রীনের সিঁথিতে লাল সিঁদুর জ্বলজ্বল করছিল, যা বোঝাচ্ছে শেষকৃত্যের সময় হিন্দু ধর্মের প্রথা অনুসরণ করা হয়েছে।
জ়রীনের জীবনকথা একদিকে যেমন আলোড়ন সৃষ্টি করে, তেমনই তাঁর শেষকৃত্যও তা করেছে। জ়রীন ১৪ বছর বয়সে সুজ়ানের বাবা সঞ্জয় খানের সঙ্গে পরিচিত হন। পরবর্তীতে প্রেমের বন্ধনে আবদ্ধ হন এবং ১৯৬৬ সালে বিয়ে সম্পন্ন হয়। যদিও মুসলিম রীতিনীতি অনুযায়ী বিয়ে হয়, জন্মসূত্রে তিনি জিউ ছিলেন। বিয়ের পর তিনি ধর্মান্তরিত হন। তবে নিজের ইচ্ছে ছিল, শেষকৃত্য যেন জরাস্ট্রিয়ান রীতিতে সম্পন্ন হয়। তাঁর তিন সন্তান—সুজ়ান, জ়ায়েদ ও ফরাহ—মায়ের ইচ্ছা পূরণ করলেন এবং তাকে হিন্দু রীতি মেনে শেষ বিদায় জানালেন।
জ়রীন দীর্ঘ দিন ধরেই বার্ধক্যজনিত অসুস্থতায় ভুগছিলেন। শুক্রবার মুম্বইয়ের নিজ বাসভবনে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর মৃত্যুতে পরিবার, বন্ধুবান্ধব এবং শিল্পজগৎ শোকাহত। সুজ়ানের দুঃসময়ে পাশে ছিলেন প্রাক্তন স্বামী হৃতিক রোশন, হৃতিকের বর্তমান প্রেমিকা সাবা এবং সুজ়ানের প্রেমিক আরসালানও। জ়রীনের শেষকৃত্য শুধু একটি পরিবারের নয়, গোটা বলিউডের জন্য একটি আবেগঘন মুহূর্ত হয়ে রইল। এই প্রক্রিয়ায় সন্তানদের মায়ের প্রতি শ্রদ্ধা এবং তাঁর ইচ্ছার সম্মান রাখার দৃঢ় সংকল্প প্রকাশ পেয়েছে।
এই ঘটনা বলিউডের ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে, যেখানে ধর্মীয় প্রথা ও ব্যক্তিগত ইচ্ছার সমন্বয় ঘটিয়ে শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হয়েছে, যা দর্শকদের মনে এক অনন্য প্রভাব ফেলেছে।