Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

হরমনপ্রীত কউর নেতৃত্ব ছাড়ার দিনেই নতুন দায়িত্বে স্মৃতি মন্ধানা ভারতীয় ক্রিকেটে বড় পরিবর্তন

হরমনপ্রীত কউর নেতৃত্ব ছাড়ার দিনেই ভারতীয় মহিলা ক্রিকেটে সামনে এল বড় পরিবর্তনের খবর। দীর্ঘদিন ধরে ভারতীয় দলের নেতৃত্বে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করা হরমনপ্রীতের অধ্যায়ের পর নতুন দায়িত্বের কেন্দ্রে উঠে এলেন স্মৃতি মন্ধানা। ব্যাট হাতে ইতিমধ্যেই ভারতীয় ক্রিকেটের অন্যতম নির্ভরযোগ্য মুখ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন স্মৃতি। এবার নেতৃত্বের দায়িত্বও তাঁর কাঁধে আসায় তাঁকে ঘিরে প্রত্যাশা আরও বাড়ল। হরমনপ্রীতের নেতৃত্বে ভারতীয় মহিলা ক্রিকেট একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ ও টুর্নামেন্টে সাফল্যের সাক্ষী হয়েছে। তাঁর আগ্রাসী নেতৃত্ব, অভিজ্ঞতা এবং বড় ম্যাচে পারফরম্যান্স দলের জন্য দীর্ঘদিন গুরুত্বপূর্ণ ছিল। সেই জায়গা থেকে স্মৃতির হাতে দায়িত্ব যাওয়ার ঘটনা ভারতীয় মহিলা ক্রিকেটে নতুন অধ্যায়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে। মাঠে শান্ত ও ইতিবাচক মানসিকতার জন্য পরিচিত স্মৃতি এবার নেতৃত্বের ক্ষেত্রেও নিজের ছাপ রাখতে চাইবেন। স্মৃতির নেতৃত্বে দলের কৌশল, তরুণ ক্রিকেটারদের সুযোগ এবং গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে সিদ্ধান্ত গ্রহণের দিকে নজর থাকবে ক্রিকেটপ্রেমীদের। তাঁর সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের সঙ্গে তরুণ প্রতিভাদের সমন্বয় তৈরি করে একটি শক্তিশালী দল গড়ে তোলা। একইসঙ্গে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি নেতৃত্বের অতিরিক্ত দায়িত্ব সামলে নিজের পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতা বজায় রাখাও গুরুত্বপূর্ণ হবে। হরমনপ্রীত থেকে স্মৃতির হাতে দায়িত্বের এই পরিবর্তন তাই শুধুমাত্র নেতৃত্ব বদল নয়, ভারতীয় মহিলা ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার দিক থেকেও তাৎপর্যপূর্ণ। নতুন অধিনায়কের অধীনে ভারতীয় দল কীভাবে এগোয়, কোন নতুন কৌশল দেখা যায় এবং আন্তর্জাতিক মঞ্চে দল কতটা সফল হয়, এখন সেদিকেই নজর থাকবে সমর্থকদের।

ভারতীয় মহিলা ক্রিকেটে আচমকাই বদলে গেল নেতৃত্বের ছবি। দীর্ঘ প্রায় এক দশক ধরে দলের নেতৃত্বের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে থাকা হরমনপ্রীত কউর এবার অধিনায়কত্ব থেকে সরে দাঁড়ালেন। আর তাঁর এই সিদ্ধান্তের পরেই ভারতীয় মহিলা ক্রিকেট দলের নতুন অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পেলেন স্মৃতি মন্ধানা। ৬ অক্টোবর ২০২৬-এ হরমনপ্রীত তিন ফরম্যাট থেকেই অধিনায়কত্ব ছাড়ার সিদ্ধান্ত জানান এবং একই দিন ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড স্মৃতিকে নতুন অধিনায়ক হিসেবে ঘোষণা করে। ফলে ভারতীয় মহিলা ক্রিকেটে শুরু হল এক নতুন অধ্যায়।

হরমনপ্রীতের নেতৃত্ব ছাড়ার খবর নিঃসন্দেহে ভারতীয় ক্রিকেট সমর্থকদের জন্য আবেগের। কারণ দীর্ঘ সময় ধরে ভারতীয় মহিলা দলের নেতৃত্বের সঙ্গে তাঁর নাম জড়িয়ে ছিল। ২০১৬ সালে টি-টোয়েন্টি দলের পূর্ণ সময়ের অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর ধীরে ধীরে তিনি ভারতীয় ক্রিকেটের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নেত্রী হয়ে ওঠেন। ২০২২ সালে মিতালি রাজ আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে সরে যাওয়ার পর ওয়ানডে ও টেস্ট দলের নেতৃত্বও তাঁর হাতে আসে। এরপর ২০২৩ সাল থেকে তিন ফরম্যাটেই ভারতীয় দলের পূর্ণ সময়ের অধিনায়ক ছিলেন তিনি।

তবে হরমনপ্রীতের নেতৃত্বের শেষ অধ্যায়টা শুধুই বিদায়ের গল্প নয়, বরং সাফল্যে ভরা একটি দীর্ঘ যাত্রারও সমাপ্তি। তাঁর অধিনায়কত্বে ভারতীয় মহিলা দল এমন কিছু সাফল্য পেয়েছে, যা দেশের মহিলা ক্রিকেটের ইতিহাসে বিশেষ জায়গা করে নিয়েছে। সবচেয়ে বড় সাফল্য আসে ২০২৫ সালের মহিলা ওয়ানডে বিশ্বকাপে। দেশের মাটিতে দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো মহিলা বিশ্বকাপ জেতে ভারত। সেই ঐতিহাসিক দলের নেতৃত্বে ছিলেন হরমনপ্রীত। সেই জয় ভারতীয় মহিলা ক্রিকেটের ইতিহাসে একটি নতুন মাইলফলক তৈরি করে।

শুধু বিশ্বকাপ নয়, হরমনপ্রীতের নেতৃত্বে ভারতীয় দল এশিয়া কাপেও সাফল্য পেয়েছে। এশিয়ান গেমসেও তাঁর অধিনায়কত্বে ভারতীয় দল সোনা জিতেছে। ২০২৬ সালের এশিয়ান গেমসে ভারত নিজেদের সোনার পদক ধরে রাখে এবং সেটিই অধিনায়ক হিসেবে হরমনপ্রীতের শেষ বড় দায়িত্বগুলির একটি হয়ে দাঁড়ায়। এভাবেই একটি সফল অধ্যায়ের শেষে তিনি নেতৃত্বের দায়িত্ব ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন।

হরমনপ্রীত নিজেই জানিয়েছেন, অধিনায়কত্ব ছেড়ে দেওয়া তাঁর জন্য সহজ সিদ্ধান্ত ছিল না। এত বছরের স্মৃতি, আবেগ, ত্যাগ এবং দলের সঙ্গে কাটানো অসংখ্য মুহূর্ত এই সিদ্ধান্তকে আরও কঠিন করে তুলেছিল। তবে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে ভারতীয় দলের সঙ্গে তাঁর পথচলা শেষ হচ্ছে না। তিনি ক্রিকেটার হিসেবে দলের হয়ে খেলা চালিয়ে যাবেন। অর্থাৎ ভারতীয় ক্রিকেট থেকে হরমনপ্রীতের বিদায় নয়, বরং তাঁর ভূমিকায় পরিবর্তন হচ্ছে।

এই জায়গাতেই সামনে চলে আসছে স্মৃতি মন্ধানার নাম। দীর্ঘদিন ধরে হরমনপ্রীতের ডেপুটি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন স্মৃতি। ফলে নেতৃত্বের পরিবেশ তাঁর কাছে একেবারেই নতুন নয়। ভারতীয় দলের হয়ে ইতিমধ্যেই একাধিক ম্যাচে অধিনায়কত্ব করার অভিজ্ঞতাও রয়েছে তাঁর। BCCI জানিয়েছে, স্মৃতি আগে ১৮টি টি টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক এবং চারটি ওয়ানডেতে ভারতকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। এবার সেই দায়িত্বই স্থায়ীভাবে তাঁর হাতে তুলে দেওয়া হল।

স্মৃতি মন্ধানা ভারতীয় মহিলা ক্রিকেটের অন্যতম পরিচিত মুখ। ২০১৩ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেকের পর থেকে তিনি ধারাবাহিকভাবে ভারতীয় দলের গুরুত্বপূর্ণ ব্যাটার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। বাঁহাতি এই ওপেনার শুধু নিজের ব্যাটিংয়ের জন্যই নয়, মাঠের বাইরে তাঁর শান্ত স্বভাব এবং দলকে একসঙ্গে রাখার ক্ষমতার জন্যও বিশেষভাবে পরিচিত। এবার সেই গুণগুলিই ভারতীয় দলের নেতৃত্বে কাজে লাগানোর সুযোগ পেলেন তিনি।

স্মৃতির নেতৃত্বের অভিজ্ঞতা শুধু আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সীমাবদ্ধ নয়। মহিলা প্রিমিয়ার লিগেও তিনি নেতৃত্ব দিয়েছেন রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুকে। তাঁর অধিনায়কত্বে RCB ২০২৪ এবং ২০২৬ সালে মহিলা প্রিমিয়ার লিগের শিরোপা জেতে। ফলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের পাশাপাশি ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটেও ট্রফি জেতার নেতৃত্বের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। BCCI র ঘোষণাতেও স্মৃতির এই নেতৃত্বের অভিজ্ঞতার কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

স্মৃতির সামনে এবার দায়িত্ব আরও বড়। কারণ ভারতীয় মহিলা দলের অধিনায়ক হওয়া মানে শুধু টস করতে নামা বা মাঠে সিদ্ধান্ত নেওয়া নয়। দলের পারফরম্যান্স, ক্রিকেটারদের আত্মবিশ্বাস, তরুণদের সুযোগ, সিনিয়রদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো এবং গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে কৌশল ঠিক করার মতো একাধিক দায়িত্ব তাঁর কাঁধে থাকবে। একজন ব্যাটার হিসেবে নিজের পারফরম্যান্স বজায় রাখার পাশাপাশি অধিনায়ক হিসেবে দলের প্রত্যাশা পূরণ করাও হবে তাঁর বড় চ্যালেঞ্জ।

তবে স্মৃতির সবচেয়ে বড় সুবিধা হল, তিনি দীর্ঘদিন ধরে দলের ভেতরের পরিবেশের সঙ্গে পরিচিত। হরমনপ্রীতের নেতৃত্বের সময় তিনি ডেপুটি হিসেবে কাজ করেছেন। ফলে দলের সিনিয়র ক্রিকেটার, তরুণ ক্রিকেটার, কোচিং স্টাফ এবং নির্বাচকদের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা তাঁর রয়েছে। হঠাৎ করে সম্পূর্ণ অপরিচিত একটি পরিবেশে তাঁকে নেতৃত্ব নিতে হচ্ছে না। বরং বহুদিনের অভিজ্ঞতার ওপর দাঁড়িয়েই তিনি নতুন দায়িত্ব শুরু করছেন।

স্মৃতি মন্ধানা দায়িত্ব পাওয়ার পর হরমনপ্রীত কউরের অবদানের কথাও স্বীকার করেছেন। নতুন অধিনায়ক হিসেবে তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট ছিল যে আগের অধিনায়কের অবদানকে তিনি যথেষ্ট সম্মান করেন। হরমনপ্রীতের নেতৃত্বে ভারতীয় ক্রিকেট যে জায়গায় পৌঁছেছে, সেখান থেকেই নতুন অধ্যায় শুরু করতে চাইছেন স্মৃতি। ফলে এটি কোনও বিচ্ছিন্ন পরিবর্তন নয়, বরং একটি নেতৃত্বের ধারাবাহিকতার মধ্যেই নতুন মুখের আগমন।

হরমনপ্রীতের নেতৃত্বের সময় ভারতীয় মহিলা ক্রিকেটে প্রত্যাশার মাত্রাও অনেক বেড়েছে। একসময় ভারতীয় মহিলা দলকে শুধু প্রতিযোগী হিসেবে দেখা হলেও এখন বিশ্ব ক্রিকেটে তারা শিরোপার অন্যতম দাবিদার। ২০২৫ সালের বিশ্বকাপ জয় সেই বিশ্বাসকে আরও শক্তিশালী করেছে। ফলে স্মৃতির হাতে দায়িত্ব আসার অর্থ হল এমন একটি দলের দায়িত্ব নেওয়া, যার কাছে সমর্থকরা এখন প্রতিটি বড় টুর্নামেন্টে সাফল্য আশা করেন।

এর পাশাপাশি নতুন অধিনায়কের সামনে রয়েছে ভবিষ্যতের ক্রিকেট পরিকল্পনা। ভারতীয় মহিলা ক্রিকেটে তরুণ ক্রিকেটারদের একটি নতুন প্রজন্ম উঠে আসছে। তাঁদের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রতিষ্ঠিত করার পাশাপাশি সিনিয়র ক্রিকেটারদের অভিজ্ঞতাকেও সঠিকভাবে ব্যবহার করতে হবে। স্মৃতিকে এমন একটি ভারসাম্য তৈরি করতে হবে, যাতে দলের অভিজ্ঞতা এবং তারুণ্য একসঙ্গে কাজ করতে পারে।

হরমনপ্রীত অধিনায়কত্ব ছেড়ে দিলেও তাঁর উপস্থিতি দলের জন্য বড় সম্পদ হতে পারে। কারণ একজন প্রাক্তন অধিনায়ক হিসেবে তাঁর দীর্ঘ আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা স্মৃতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। মাঠে বা ড্রেসিংরুমে গুরুত্বপূর্ণ পরিস্থিতিতে হরমনপ্রীতের পরামর্শ নতুন অধিনায়কের কাজে আসতে পারে। একই সঙ্গে হরমনপ্রীত নিজেও নেতৃত্বের চাপ ছাড়াই নিজের ব্যাটিংয়ে আরও মনোযোগ দেওয়ার সুযোগ পাবেন।

হরমনপ্রীতের নিজের বক্তব্যেও এই পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। তিনি জানিয়েছেন, অধিনায়কত্বের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে বহু সময় তাঁর নিজের খেলা ও ব্যক্তিগত লক্ষ্য পিছিয়ে দিতে হয়েছে। এখন খেলোয়াড় হিসেবে দলের হয়ে নিজের সেরাটা দেওয়ার দিকে আরও বেশি মনোযোগ দেওয়ার সুযোগ তাঁর সামনে রয়েছে। ফলে ভারতীয় দলের জন্যও এটি ইতিবাচক হতে পারে, কারণ অভিজ্ঞ এক ক্রিকেটার নেতৃত্বের চাপ ছাড়াই ব্যাটার হিসেবে অবদান রাখার সুযোগ পাবেন।

অন্যদিকে স্মৃতির দায়িত্ব নেওয়ার সময় ভারতীয় দলের সামনে রয়েছে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিরিজ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা। নতুন অধিনায়ক হিসেবে তাঁর প্রথম বড় দায়িত্বগুলির একটি হবে জিম্বাবোয়ের বিরুদ্ধে ঘরের মাঠে আসন্ন সিরিজ। ১৬ অক্টোবর থেকে শুরু হবে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ, এরপর তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজও রয়েছে। এই সিরিজে স্মৃতি প্রথমবারের মতো স্থায়ী অধিনায়ক হিসেবে ভারতকে নেতৃত্ব দেবেন।

জিম্বাবোয়ের বিরুদ্ধে সিরিজ তাই শুধু একটি দ্বিপাক্ষিক সিরিজ নয়, স্মৃতির নেতৃত্বের নতুন যুগের প্রথম পরীক্ষা হিসেবেও দেখা হচ্ছে। নতুন অধিনায়ক হিসেবে তিনি কীভাবে দল সাজান, কোন ক্রিকেটারদের ওপর বেশি আস্থা রাখেন, ব্যাটিং অর্ডারে কী পরিবর্তন করেন এবং গুরুত্বপূর্ণ সময়ে কী ধরনের সিদ্ধান্ত নেন, তা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই আগ্রহ থাকবে। যদিও একটি সিরিজ দিয়ে কোনও অধিনায়কের নেতৃত্বের বিচার করা সম্ভব নয়, তবুও শুরুটা কীভাবে হয়, তার দিকে নজর থাকবে।

স্মৃতির নেতৃত্বে ভারতীয় দলের ব্যাটিং পরিকল্পনাতেও কিছু নতুনত্ব দেখা যেতে পারে। নিজে একজন আক্রমণাত্মক ওপেনার হওয়ায় তিনি পাওয়ারপ্লেতে দ্রুত রান তোলার গুরুত্ব খুব ভালোভাবেই বোঝেন। তবে অধিনায়ক হিসেবে তাঁকে শুধু নিজের ব্যাটিং নয়, পুরো দলের ব্যাটিং পরিকল্পনা নিয়েও ভাবতে হবে। ওপেনিং জুটি থেকে মিডল অর্ডার, ফিনিশিং এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যাটিং গভীরতা সবকিছুতেই তাঁর সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

বোলিং বিভাগও কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। ভারতীয় মহিলা ক্রিকেটে স্পিন এবং পেস দুই বিভাগেই প্রতিভাবান ক্রিকেটার রয়েছেন। বিভিন্ন পরিস্থিতিতে কাকে কখন ব্যবহার করা হবে, কোন ম্যাচে কতটা আক্রমণাত্মক ফিল্ড সাজানো হবে এবং প্রতিপক্ষের ব্যাটারদের দুর্বলতা কীভাবে কাজে লাগানো হবে, সেসব সিদ্ধান্ত অধিনায়ক হিসেবে স্মৃতির নেতৃত্বের দক্ষতার পরীক্ষা নেবে।

তবে নেতৃত্বের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা আসে কঠিন পরিস্থিতিতে। ম্যাচ যখন হাতছাড়া হওয়ার পথে, তখন অধিনায়ক কীভাবে ক্রিকেটারদের শান্ত রাখছেন, কোথায় ঝুঁকি নিচ্ছেন এবং কখন রক্ষণাত্মক হচ্ছেন সেখানেই নেতৃত্বের আসল পরিচয় পাওয়া যায়। স্মৃতির আন্তর্জাতিক এবং ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের অভিজ্ঞতা তাঁকে এই জায়গায় সাহায্য করতে পারে। বিশেষ করে RCB-কে দুইবার WPL শিরোপা জেতানোর অভিজ্ঞতা তাঁর আত্মবিশ্বাস বাড়াতে পারে।

স্মৃতি নিজেও জানেন, ভারতীয় দলের অধিনায়কত্ব একটি অত্যন্ত বড় দায়িত্ব। ভারতকে নেতৃত্ব দেওয়া তাঁর কাছে সম্মানের বিষয় এমনটাই জানিয়েছেন তিনি। একইসঙ্গে তিনি হরমনপ্রীতের দীর্ঘ নেতৃত্বের অবদানের কথাও উল্লেখ করেছেন। তাঁর বক্তব্য থেকে বোঝা যায়, তিনি শুধু দায়িত্ব গ্রহণ করছেন না, বরং আগের অধিনায়কের তৈরি করা ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে দলকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে চান।

news image
আরও খবর

এখানে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল স্মৃতির বয়স ও ক্রিকেট অভিজ্ঞতার সমন্বয়। তিনি এখনও তুলনামূলকভাবে তরুণ, কিন্তু আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তাঁর অভিজ্ঞতা যথেষ্ট দীর্ঘ। ২০১৩ সালে আন্তর্জাতিক অভিষেকের পর এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি ভারতীয় দলের অংশ। ফলে নতুন প্রজন্মের ক্রিকেটারদের সঙ্গে যোগাযোগ করার পাশাপাশি সিনিয়র ক্রিকেটারদের সঙ্গেও তাঁর কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে।

ভারতীয় মহিলা ক্রিকেটে নেতৃত্বের এই পরিবর্তনকে তাই প্রজন্ম বদলের একটি স্বাভাবিক ধাপ হিসেবেও দেখা যেতে পারে। হরমনপ্রীত দীর্ঘ সময় ধরে নেতৃত্ব দিয়েছেন, আর এখন সেই দায়িত্বের পরবর্তী অধ্যায় শুরু করছেন স্মৃতি। তবে এই পরিবর্তনের অর্থ পুরনো প্রজন্মের সম্পূর্ণ বিদায় নয়। হরমনপ্রীত খেলোয়াড় হিসেবে থাকছেন, ফলে তাঁর অভিজ্ঞতা নতুন অধিনায়কের পাশে থাকবে। এটাই হয়তো ভারতীয় দলের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক।

হরমনপ্রীতের অধিনায়কত্বের সময় ভারত যে সাফল্য পেয়েছে, তার পুনরাবৃত্তি করা স্মৃতির জন্য সহজ হবে না। বিশ্বকাপ জয়, এশিয়ান গেমসের সোনা এবং এশিয়া কাপে সাফল্যের মতো বড় অর্জনের পর নতুন অধিনায়কের সামনে প্রত্যাশার চাপ থাকবেই। সমর্থকরা চাইবেন, স্মৃতির নেতৃত্বেও ভারতীয় দল বড় টুর্নামেন্টে ধারাবাহিকভাবে ভালো ফল করুক। কিন্তু তার জন্য সময়, পরিকল্পনা এবং একটি স্থিতিশীল দল গড়ে তোলা প্রয়োজন।

বিশেষ করে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ভারতীয় দলের সামনে আরও বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে। ছোট ফরম্যাটে প্রতিটি ম্যাচের পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যায়। একজন অধিনায়ককে খুব অল্প সময়ের মধ্যে সিদ্ধান্ত নিতে হয়। বোলার পরিবর্তন থেকে ফিল্ডিং সেটিং, ব্যাটিং অর্ডার থেকে রিভিউ প্রতিটি সিদ্ধান্ত ম্যাচের ফলাফল বদলে দিতে পারে। স্মৃতি ইতিমধ্যেই ১৮টি টি টোয়েন্টিতে ভারতকে নেতৃত্ব দিয়েছেন, ফলে এই ফরম্যাটের চাপ তাঁর কাছে সম্পূর্ণ নতুন নয়।

ওয়ানডে ক্রিকেটেও তাঁর সামনে বড় দায়িত্ব থাকবে। বিশ্বকাপের মতো দীর্ঘ টুর্নামেন্টে দলকে ধারাবাহিকভাবে ভালো খেলতে হলে পরিকল্পনা অনেক গভীর হতে হয়। প্রতিটি ম্যাচে আলাদা কৌশল, পিচ ও প্রতিপক্ষ অনুযায়ী দল নির্বাচন এবং ক্রিকেটারদের ফর্ম বিবেচনা করতে হয়। স্মৃতির নেতৃত্বে ভারতীয় দল কীভাবে এই দীর্ঘ ফরম্যাটে নিজেদের সাজায়, সেটিও দেখার বিষয়।

টেস্ট ক্রিকেটের ক্ষেত্রেও নেতৃত্বের পরিবর্তন নিয়ে আলাদা আলোচনা রয়েছে। BCCI র ঘোষণায় স্মৃতিকে দলের নেতৃত্বের নতুন মুখ হিসেবে সামনে আনা হলেও সাদা বলের ক্রিকেটে তাঁর পূর্ণ সময়ের অধিনায়কত্বের বিষয়টি বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। ভারতীয় মহিলা ক্রিকেটে টেস্টের গুরুত্বও বাড়ছে। ফলে ভবিষ্যতে দীর্ঘ ফরম্যাটে নেতৃত্বের কাঠামো কীভাবে এগোয়, সেটিও নজরে থাকবে।

হরমনপ্রীতের বিদায়ের সঙ্গে একটি যুগের সমাপ্তি হলেও তাঁর অবদান ভারতীয় ক্রিকেটে দীর্ঘদিন মনে রাখা হবে। ২০২৫ সালের বিশ্বকাপ জয় তাঁর অধিনায়কত্বের সবচেয়ে উজ্জ্বল অধ্যায়। সেই টুর্নামেন্টে ভারতীয় দল প্রথমবারের মতো মহিলা ওয়ানডে বিশ্বকাপ জেতে। এমন একটি সাফল্যের পর অধিনায়কত্ব ছাড়ার সিদ্ধান্ত আরও আবেগঘন হয়ে উঠেছে। হরমনপ্রীত এখন দলের একজন অভিজ্ঞ খেলোয়াড় হিসেবে নতুন ভূমিকায় নিজেকে মানিয়ে নেবেন।

একই সঙ্গে ভারতীয় ক্রিকেটে হরমনপ্রীতের নেতৃত্বের উত্তরাধিকারও গুরুত্বপূর্ণ। তিনি শুধু ট্রফি জেতাননি, ভারতীয় মহিলা ক্রিকেটকে আরও বেশি মানুষের আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে আসার সময় দলের নেতৃত্ব দিয়েছেন। তাঁর আগ্রাসী ক্রিকেট, বড় ম্যাচে সাহসী সিদ্ধান্ত এবং দলের প্রতি দায়বদ্ধতা ভারতীয় ক্রিকেটের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে থাকবে।

এখন সেই অধ্যায়ের পর নতুন গল্প লেখার দায়িত্ব স্মৃতি মন্ধানার। তাঁর সামনে রয়েছে নিজের পরিচয় তৈরি করার সুযোগ। হরমনপ্রীতের মতো নেতৃত্ব দেওয়ার চেষ্টা না করে নিজের নেতৃত্বের ধরন তৈরি করাই হতে পারে তাঁর জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। মাঠে তাঁর শান্ত স্বভাব, ব্যাটিংয়ের অভিজ্ঞতা এবং ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের নেতৃত্বের অভিজ্ঞতা তাঁকে নিজস্ব একটি পদ্ধতি গড়ে তুলতে সাহায্য করতে পারে।

ভারতীয় মহিলা ক্রিকেটে এই নেতৃত্ব পরিবর্তনের আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল দলের ভেতরে দায়িত্বের ভারসাম্য। স্মৃতির পাশে থাকবেন হরমনপ্রীত, দীপ্তি শর্মা এবং আরও একাধিক অভিজ্ঞ ক্রিকেটার। ফলে নতুন অধিনায়কের সামনে অভিজ্ঞতার অভাব হবে না। একজন অধিনায়ক হিসেবে স্মৃতির কাজ হবে এই অভিজ্ঞতাকে সঠিকভাবে কাজে লাগানো এবং তরুণ ক্রিকেটারদের আত্মবিশ্বাস বাড়ানো।

তরুণ ক্রিকেটারদের ক্ষেত্রে অধিনায়কের ভূমিকা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। নতুন কোনও ক্রিকেটার আন্তর্জাতিক মঞ্চে সুযোগ পাওয়ার পর প্রথম কয়েকটি ম্যাচে ভালো করতে না পারলে তাঁর আত্মবিশ্বাসে প্রভাব পড়তে পারে। সেই সময় অধিনায়ক এবং সিনিয়র ক্রিকেটারদের সমর্থন অত্যন্ত প্রয়োজন। স্মৃতি নিজেও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের দীর্ঘ পথ পেরিয়ে এসেছেন, তাই একজন তরুণ ক্রিকেটারের মানসিক চাপ বোঝার অভিজ্ঞতা তাঁর রয়েছে।

ভারতীয় মহিলা ক্রিকেটের জনপ্রিয়তা গত কয়েক বছরে দ্রুত বেড়েছে। বিশ্বকাপ জয়, মহিলা প্রিমিয়ার লিগের সাফল্য এবং আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের কারণে মহিলা ক্রিকেট এখন আগের তুলনায় অনেক বেশি আলোচিত। স্মৃতি মন্ধানা নিজেও এই জনপ্রিয়তার অন্যতম মুখ। ফলে তাঁর অধিনায়ক হওয়ার ফলে ভারতীয় মহিলা ক্রিকেটের প্রতি মানুষের আগ্রহ আরও বাড়তে পারে।

তবে জনপ্রিয়তার সঙ্গে আসে প্রত্যাশার চাপও। স্মৃতি যত বড় তারকা, অধিনায়ক হিসেবে তাঁর প্রতিটি সিদ্ধান্তও তত বেশি আলোচনায় আসবে। কোনও ম্যাচে ব্যাট হাতে ব্যর্থ হলে সেটিও আলোচনার বিষয় হতে পারে, আবার অধিনায়ক হিসেবে কোনও সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। এই দুই ধরনের চাপ সামলে নিজের ক্রিকেটে মনোযোগ রাখা হবে তাঁর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।

তবে ভারতীয় ক্রিকেটের ইতিহাসে এমন পরিবর্তন নতুন নয়। এক প্রজন্মের অধিনায়ক দায়িত্ব ছেড়ে দিলে পরবর্তী প্রজন্ম সেই জায়গা নেয়। সময়ের সঙ্গে দলের কৌশল, খেলোয়াড় এবং নেতৃত্বের ধরন বদলায়। গুরুত্বপূর্ণ হল, দল যেন সেই পরিবর্তনের সময় নিজেদের শক্তি ধরে রাখতে পারে। হরমনপ্রীতের অভিজ্ঞতা এবং স্মৃতির নেতৃত্ব এই দুইয়ের সমন্বয় ভারতীয় মহিলা ক্রিকেটকে একটি স্থিতিশীল পরিবর্তনের সুযোগ দিতে পারে।

স্মৃতির সামনে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হবে, তিনি কি হরমনপ্রীতের সাফল্যের ধারাকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবেন? এর উত্তর এখনই দেওয়া সম্ভব নয়। কারণ নেতৃত্বের মূল্যায়ন করতে সময় লাগে। তবে তাঁর হাতে রয়েছে অভিজ্ঞ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটারদের একটি দল, নিজের দীর্ঘ আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা এবং WPL এ সফল নেতৃত্বের রেকর্ড। এই তিনটি বিষয় তাঁকে শক্ত ভিতের ওপর দাঁড়িয়ে নতুন অধ্যায় শুরু করার সুযোগ দিচ্ছে।

আসন্ন জিম্বাবোয়ে সিরিজ থেকেই শুরু হবে স্মৃতি মন্ধানার নতুন পথচলা। ১৬ অক্টোবর থেকে রায়পুরে শুরু হবে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ। এরপর ২৩ অক্টোবর থেকে ওয়ানডে সিরিজের ম্যাচগুলি অনুষ্ঠিত হবে। ভারতীয় দলের নতুন অধিনায়ক হিসেবে স্মৃতির প্রথম সিরিজ হওয়ায় এই সফরের গুরুত্ব স্বাভাবিকভাবেই আলাদা।

এই সিরিজে ভারতীয় দলের ফলাফলের পাশাপাশি নজর থাকবে নেতৃত্বের ধরনে। স্মৃতি কীভাবে ফিল্ড সাজান, বোলারদের ব্যবহার করেন, কঠিন সময়ে কী সিদ্ধান্ত নেন এবং দলের তরুণ ক্রিকেটারদের কতটা সুযোগ দেন এসবই আলোচনার কেন্দ্রে থাকবে। একই সঙ্গে হরমনপ্রীত ক্রিকেটার হিসেবে কীভাবে পারফর্ম করেন, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

একজন অধিনায়ক হিসেবে স্মৃতির সামনে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব থাকবে দলের মধ্যে আত্মবিশ্বাস ধরে রাখা। বড় টুর্নামেন্টের আগে দলকে একসঙ্গে রাখা, হার থেকে শিক্ষা নেওয়া এবং জয়ের পর অতিরিক্ত আত্মতুষ্টি এড়ানো এসবই দীর্ঘমেয়াদি নেতৃত্বের অংশ। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ধারাবাহিকতা তৈরি করতে গেলে শুধু প্রতিভা নয়, মানসিক দৃঢ়তাও প্রয়োজন।

ভারতীয় মহিলা দলের নতুন যুগে তাই শুধু অধিনায়কের নাম বদলাচ্ছে না, বদলাচ্ছে দায়িত্বের কাঠামোও। হরমনপ্রীত এখন দলের একজন অত্যন্ত অভিজ্ঞ ক্রিকেটার হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারেন। স্মৃতি সামনে থেকে নেতৃত্ব দেবেন। তরুণ ক্রিকেটাররা আরও বড় ভূমিকা নিতে পারেন। আর কোচিং স্টাফের সঙ্গে নতুন অধিনায়কের সমন্বয়ও দলের ভবিষ্যৎ সাফল্যের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হবে।

সব মিলিয়ে হরমনপ্রীত কউরের নেতৃত্ব ছাড়ার দিনেই স্মৃতি মন্ধানার হাতে দায়িত্ব তুলে দেওয়া ভারতীয় মহিলা ক্রিকেটের একটি তাৎপর্যপূর্ণ পরিবর্তন। একদিকে শেষ হল দীর্ঘদিনের একটি সফল নেতৃত্বের অধ্যায়, অন্যদিকে শুরু হল নতুন এক যুগ। হরমনপ্রীতের নেতৃত্বে ভারত যে উচ্চতায় পৌঁছেছে, সেই জায়গা থেকেই এবার স্মৃতির যাত্রা শুরু হচ্ছে। তাঁর সামনে যেমন রয়েছে বড় দায়িত্ব, তেমনই রয়েছে নিজের নেতৃত্বের ইতিহাস তৈরি করার সুযোগ।

হরমনপ্রীত কউর ভারতীয় ক্রিকেটকে দিয়ে গেলেন একটি ঐতিহাসিক উত্তরাধিকার। বিশ্বকাপ জয় থেকে এশিয়ান গেমসের সোনা তাঁর নেতৃত্বের সময় একাধিক স্মরণীয় মুহূর্ত তৈরি হয়েছে। এবার সেই উত্তরাধিকারকে সঙ্গে নিয়েই সামনে এগোবেন স্মৃতি মন্ধানা। তিনি পারবেন কি না, তার উত্তর ভবিষ্যতের মাঠেই মিলবে। তবে একটি বিষয় নিশ্চিত, ভারতীয় মহিলা ক্রিকেটে নেতৃত্বের নতুন অধ্যায় শুরু হয়ে গিয়েছে। আর সেই অধ্যায়ের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন স্মৃতি মন্ধানা।

Preview image