২,০০০ টাকার বেশি অঙ্কের ইউপিআই লেনদেনে মাসুল বসতে পারে বলে একটি খবর সামনে এসেছে। দীপাবলির পর এই নিয়ম কার্যকর হওয়ার কথা বলা হলেও নির্দিষ্ট দিনক্ষণ পরে জানানো হবে বলে দাবি করা হয়েছে। তবে সরকারি ঘোষণা বা নির্ভরযোগ্য সূত্রে বিষয়টি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত খবরটিকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে তুলে ধরা উচিত নয়।
স্মার্টফোনে ইউপিআইয়ের মাধ্যমে টাকা পাঠানো বা পেমেন্ট করার জন্য আপাতত বাড়তি মাসুল দিতে হচ্ছে না। ২,০০০ টাকার বেশি ইউপিআই লেনদেনে মার্চেন্ট ডিসকাউন্ট রেট (এমডিআর) চালুর নির্ধারিত সময়সীমা পিছিয়ে দিল কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদী সরকার। মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ন্যাশনাল পেমেন্টস কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়া (এনপিসিআই) এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে। ফলে উৎসবের মরসুমে আপাতত স্বস্তি পেলেন খুচরো ব্যবসায়ীরা। তবে দীপাবলির পর ঠিক কবে থেকে এই মাসুল চালু হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
চলতি বছরের ১৫ অক্টোবর থেকে ইউপিআই লেনদেনে নতুন মাসুল ব্যবস্থা কার্যকর করার কথা জানানো হয়েছিল। প্রস্তাব অনুযায়ী, ২,০০০ টাকার বেশি লেনদেনের ক্ষেত্রে ০.৪ শতাংশ এমডিআর ধার্য করার কথা ছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের আগে সেই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হচ্ছে না। ইউপিআই ও পরিষেবা স্টিয়ারিং কমিটি মাসুল চালুর দিনক্ষণ পিছিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তে সিলমোহর দিয়েছে বলে জানিয়েছে এনপিসিআই। নতুন তারিখ পরে পৃথক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানানো হবে।
এই সিদ্ধান্ত ঘিরে সাধারণ গ্রাহক থেকে শুরু করে ব্যবসায়ী মহল—সব পক্ষেরই আগ্রহ রয়েছে। কারণ, দেশে ডিজিটাল পেমেন্টের ক্ষেত্রে ইউপিআই এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। ছোট দোকান, পাড়ার মুদি থেকে বড় বিপণি—বিভিন্ন জায়গায় স্মার্টফোনে কিউআর কোড স্ক্যান করে টাকা দেওয়ার অভ্যাস তৈরি হয়েছে। সেই ব্যবস্থায় নতুন মাসুল চালু হলে ব্যবসায়ীদের খরচের হিসাব বদলাতে পারে। যদিও কেন্দ্রের বক্তব্য অনুযায়ী, এই মাসুলের সরাসরি বোঝা সাধারণ গ্রাহকের উপর চাপানোর কথা নয়।
প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, ১৫ অক্টোবর থেকে ২,০০০ টাকার বেশি ইউপিআই লেনদেনে ০.৪ শতাংশ মার্চেন্ট ডিসকাউন্ট রেট চালু হওয়ার কথা ছিল। সেই ঘোষণা ঘিরেই গত কয়েক সপ্তাহ ধরে আলোচনা চলছিল। নতুন নিয়ম কার্যকর হলে নির্দিষ্ট অঙ্কের বেশি লেনদেনের ক্ষেত্রে মার্চেন্ট বা ব্যবসায়ীদের উপর অতিরিক্ত খরচের বোঝা পড়তে পারত।
তবে এখনই সেই ব্যবস্থা চালু হচ্ছে না। মঙ্গলবার এনপিসিআই জানায়, উৎসবের মরসুমের কথা মাথায় রেখে মাসুল চালুর সময়সীমা পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। দীপাবলির পর নতুন তারিখ ঘোষণা করা হবে বলে জানানো হলেও, নির্দিষ্ট দিনক্ষণ এখনও প্রকাশ করা হয়নি।
ফলে আপাতত ইউপিআইয়ের মাধ্যমে লেনদেনের ক্ষেত্রে নতুন এমডিআর ব্যবস্থা কার্যকর হচ্ছে না। তবে মাসুল চালুর সিদ্ধান্ত পুরোপুরি প্রত্যাহার করা হয়েছে, এমন কথাও এনপিসিআই জানায়নি। অর্থাৎ, সিদ্ধান্তটি বাতিল হওয়ার বদলে কার্যকর করার সময় পিছিয়েছে বলেই আপাতত ধরে নেওয়া হচ্ছে।
মার্চেন্ট ডিসকাউন্ট রেট বা এমডিআর হল এমন একটি চার্জ, যা ডিজিটাল পেমেন্ট গ্রহণের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে ব্যবসায়ীর উপর ধার্য হতে পারে। কোনও গ্রাহক কার্ড বা অন্য কোনও ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থায় টাকা দিলে সেই লেনদেন সম্পন্ন করার জন্য পেমেন্ট পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থা, ব্যাঙ্ক বা সংশ্লিষ্ট ব্যবস্থার বিভিন্ন পক্ষের ভূমিকা থাকে। এমডিআরের মাধ্যমে সেই পরিষেবার খরচের একটি অংশ মেটানো হয়।
তবে সব ধরনের ডিজিটাল লেনদেনে একই নিয়মে এমডিআর ধার্য হয় না। পেমেন্টের মাধ্যম, লেনদেনের ধরন এবং প্রযোজ্য নীতির উপর নির্ভর করে মাসুলের নিয়ম বদলাতে পারে। ইউপিআইয়ের ক্ষেত্রে প্রস্তাবিত নতুন ব্যবস্থা নিয়েই সাম্প্রতিক বিতর্কের সূত্রপাত।
প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২,০০০ টাকার বেশি ইউপিআই লেনদেনে ০.৪ শতাংশ এমডিআর চালুর কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু এই নিয়ম কোন কোন ধরনের লেনদেনে প্রযোজ্য হবে এবং তার বাস্তব প্রয়োগ কী ভাবে হবে, তা নিয়ে ব্যবসায়ী মহলে নানা প্রশ্ন উঠেছিল। সেই সঙ্গে মাসুলের আর্থিক প্রভাব নিয়েও আলোচনা শুরু হয়।
এমডিআর চালুর ঘোষণা সামনে আসতেই সাধারণ গ্রাহকদের একাংশের মধ্যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল, ইউপিআইয়ের মাধ্যমে টাকা পাঠাতে বা দোকানে পেমেন্ট করতে গেলে তাঁদেরও বাড়তি টাকা দিতে হতে পারে কি না। বিশেষত, বর্তমানে ছোট-বড় কেনাকাটা, খাবারের বিল মেটানো, যাতায়াতের খরচ কিংবা অনলাইন কেনাকাটার ক্ষেত্রে ইউপিআই বহুল ব্যবহৃত হওয়ায় এই প্রশ্ন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
কেন্দ্রের বক্তব্য অনুযায়ী, প্রস্তাবিত মাসুলের কারণে সাধারণ গ্রাহকের উপর অতিরিক্ত খরচ চাপানোর কথা নয়। মাসুলের ব্যয়ভার বহন করার কথা ব্যবসায়ীদের। অর্থাৎ, প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় নির্দিষ্ট শর্তে এমডিআর প্রযোজ্য হলে তা মার্চেন্ট বা বিক্রেতার খরচ হিসেবে বিবেচিত হওয়ার কথা।
তবে নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ার আগে তার চূড়ান্ত শর্তাবলি স্পষ্ট হওয়া জরুরি। কোন ধরনের লেনদেনের ক্ষেত্রে মাসুল প্রযোজ্য হবে, কী ভাবে তা হিসাব করা হবে এবং সংশ্লিষ্ট পেমেন্ট পরিষেবা সংস্থাগুলির ভূমিকা কী হবে—এই বিষয়গুলি নিয়ে চূড়ান্ত বিজ্ঞপ্তিতে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যেতে পারে।
এখানে একটি বিষয় মনে রাখা দরকার, এমডিআর চালুর প্রস্তাবের অর্থ এই নয় যে ইউপিআই ব্যবহার করলেই প্রত্যেক গ্রাহককে বাড়তি টাকা দিতে হবে। একই ভাবে, মাসুলের দিনক্ষণ পিছিয়ে যাওয়ার অর্থও এই নয় যে ভবিষ্যতে কোনও ধরনের এমডিআর কার্যকর হবে না। আপাতত সিদ্ধান্তের বাস্তবায়ন স্থগিত রয়েছে।
ভারতে অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়কে সাধারণত কেনাকাটা ও ব্যবসার গুরুত্বপূর্ণ মরসুম হিসেবে দেখা হয়। দুর্গাপুজো, দীপাবলি, ধনতেরস, বিয়ের মরসুম এবং বছরের শেষের নানা উৎসবকে কেন্দ্র করে খুচরো বাজারে কেনাকাটা বাড়ে। পোশাক, গয়না, ইলেকট্রনিক্স, গৃহস্থালির সামগ্রী থেকে শুরু করে খাবার ও উপহার—বিভিন্ন ক্ষেত্রেই এই সময় বিক্রির পরিমাণ বাড়তে পারে।
এই পরিস্থিতিতে ব্যবসায়ীদের কাছে প্রতিটি লেনদেনের খরচ গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে ছোট দোকান বা মাঝারি মাপের ব্যবসায়, যেখানে লাভের পরিমাণ সীমিত হতে পারে, সেখানে অতিরিক্ত পেমেন্ট চার্জ সামগ্রিক খরচের উপর প্রভাব ফেলতে পারে। নতুন মাসুল ব্যবস্থা কার্যকর হলে ব্যবসায়ীদের সেই খরচ কী ভাবে সামলাতে হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছিল।
এ কারণেই উৎসবের মরসুমের মধ্যে এমডিআর চালু না করার সিদ্ধান্ত ব্যবসায়ী মহলে স্বস্তি তৈরি করতে পারে। তবে ব্যবসায়ীদের প্রকৃত সাশ্রয় কতটা হবে, তা নির্ভর করবে ভবিষ্যতে ঘোষিত নিয়ম, লেনদেনের পরিমাণ এবং সংশ্লিষ্ট খরচের কাঠামোর উপর।
অর্থনীতির বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, উৎসবের মরসুমে ডিজিটাল পেমেন্টের পরিমাণ বাড়তে পারে। এই সময়ে নতুন চার্জ চালু হলে ব্যবসায়ীদের আর্থিক পরিকল্পনায় পরিবর্তন আনতে হতে পারে। সেই দিক থেকেও সময়সীমা পিছিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। যদিও এমডিআর চালুর সময় পিছোনোর পিছনে একাধিক কারণ কাজ করেছে কি না, তা নিয়ে চূড়ান্ত সরকারি ব্যাখ্যা সামনে আসা প্রয়োজন।
এমডিআর চালুর পরিকল্পনা সামনে আসার পর একাধিক বণিক সভা এই ব্যবস্থার বিরোধিতা করেছিল। তাদের বক্তব্য ছিল, নতুন মাসুল কার্যকর হলে ব্যবসায়ী এবং পেমেন্ট পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থাগুলির উপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে ছোট ব্যবসায়ীদের ক্ষেত্রে এই খরচ সামলানো কঠিন হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছিল।
অনেক ছোট দোকানদার বর্তমানে নগদ টাকার পাশাপাশি ইউপিআইয়ের উপর নির্ভর করেন। ক্রেতাদের কাছে কিউআর কোড স্ক্যান করে পেমেন্ট করা সহজ হওয়ায় এই ব্যবস্থা জনপ্রিয় হয়েছে। লেনদেনের জন্য অতিরিক্ত চার্জ চালু হলে ব্যবসায়ীদের আয়-ব্যয়ের হিসাব নতুন করে সাজাতে হতে পারে। সেই সঙ্গে পেমেন্ট পরিষেবা সংস্থাগুলির প্রযুক্তিগত ও পরিচালনগত প্রস্তুতির বিষয়টিও আলোচনায় উঠে আসে।
বণিক সভাগুলির আপত্তির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল, ইউপিআইয়ের মতো বহুল ব্যবহৃত পেমেন্ট ব্যবস্থায় নতুন চার্জ চালু করার আগে তার সম্ভাব্য প্রভাব খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। ছোট ও মাঝারি ব্যবসায়ীরা কতটা অতিরিক্ত খরচ বহন করতে পারবেন, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছিল।
তবে মাসুল চালুর সময় পিছিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তের সঙ্গে বণিক সভাগুলির আপত্তির সরাসরি সম্পর্ক কতটা, সে বিষয়ে বিস্তারিত সরকারি ব্যাখ্যা না পাওয়া পর্যন্ত নিশ্চিত করে কিছু বলা যায় না। আপাতত এনপিসিআইয়ের তরফে উৎসবের মরসুমের কথা মাথায় রাখার বিষয়টি সামনে আনা হয়েছে।
এমডিআর চালুর জন্য শুধু নীতিগত সিদ্ধান্ত নিলেই হয় না, সংশ্লিষ্ট পেমেন্ট ব্যবস্থার প্রযুক্তিগত পরিকাঠামোও প্রস্তুত থাকা প্রয়োজন হতে পারে। লেনদেনের ধরন শনাক্ত করা, প্রযোজ্য চার্জের হিসাব করা এবং পেমেন্ট পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থাগুলির মধ্যে প্রয়োজনীয় সমন্বয়—এই সব বিষয় বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।
প্রস্তাবিত মাসুল ব্যবস্থা কার্যকর করার আগে ইউপিআইয়ের প্রযুক্তিগত ব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। ফলে সময়সীমা পিছিয়ে দেওয়ার নেপথ্যে প্রযুক্তিগত প্রস্তুতির বিষয়টি একটি সম্ভাব্য কারণ হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে এটিকে আনুষ্ঠানিক ভাবে ঘোষিত কারণ হিসেবে ধরে নেওয়া ঠিক হবে না।
এনপিসিআইয়ের পরবর্তী বিজ্ঞপ্তিতে নতুন নিয়ম কার্যকর করার দিনক্ষণ এবং প্রযোজ্য শর্তাবলি স্পষ্ট হলে বিষয়টি আরও পরিষ্কার হবে। তত দিন পর্যন্ত ব্যবসায়ী ও গ্রাহকদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হল, ১৫ অক্টোবর থেকে প্রস্তাবিত নতুন এমডিআর ব্যবস্থা কার্যকর হচ্ছে না।
গত ১৫ সেপ্টেম্বর ইউপিআই লেনদেনে মাসুল চালুর পরিকল্পনা প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। প্রস্তাবিত নিয়মে ২,০০০ টাকার বেশি লেনদেনে ০.৪ শতাংশ এমডিআরের কথা বলা হয়েছিল। এর পরেই প্রশ্ন ওঠে, এই চার্জের বোঝা শেষ পর্যন্ত কার উপর পড়বে—গ্রাহক, না বিক্রেতা?
ইউপিআই এখন ভারতের ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থার একটি পরিচিত অংশ। মোবাইল ফোনের মাধ্যমে দ্রুত টাকা পাঠানো এবং দোকানে পেমেন্ট করার সুবিধার কারণে বিভিন্ন শ্রেণির মানুষ এই ব্যবস্থার উপর নির্ভর করেন। তাই ইউপিআইয়ের চার্জ কাঠামোয় পরিবর্তনের সম্ভাবনা সামনে আসতেই সাধারণ মানুষের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হওয়া স্বাভাবিক।
একই সঙ্গে ব্যবসায়ীদের কাছে বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ ডিজিটাল পেমেন্ট গ্রহণের খরচ তাঁদের ব্যবসার দৈনন্দিন হিসাবের অংশ। নতুন মাসুলের নিয়ম চালু হলে সেই খরচ কতটা বাড়বে এবং কী ভাবে তা সামলানো যাবে, তা নিয়ে তাঁদের উদ্বেগ ছিল।
এখন মাসুল চালুর দিনক্ষণ পিছিয়ে যাওয়ায় আপাতত সেই উদ্বেগের তাৎক্ষণিক চাপ কমতে পারে। কিন্তু ভবিষ্যতে কী নিয়ম কার্যকর হবে, তা এখনও নির্ভর করছে এনপিসিআইয়ের পরবর্তী ঘোষণার উপর।
সাধারণ গ্রাহকদের আপাতত নতুন এমডিআর চালু হওয়ার কারণে বাড়তি খরচের আশঙ্কায় ইউপিআই ব্যবহার বন্ধ করার প্রয়োজন নেই। তবে ভবিষ্যতে কোনও পরিবর্তন হলে তার প্রযোজ্য শর্তগুলি সরকারি বিজ্ঞপ্তি থেকে জেনে নেওয়াই ভাল।
অন্য দিকে, ব্যবসায়ীদেরও আপাতত নতুন মাসুলের দিনক্ষণ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষা করতে হবে। শুধু ঘোষিত প্রস্তাবের ভিত্তিতে লেনদেনের খরচ সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছনো ঠিক হবে না। এনপিসিআইয়ের পরবর্তী বিজ্ঞপ্তিতে চার্জের হার, কার্যকর হওয়ার তারিখ এবং কোন ধরনের লেনদেনে তা প্রযোজ্য হবে—এই তথ্যগুলি স্পষ্ট হওয়ার কথা।
সব মিলিয়ে, ইউপিআই লেনদেনে এমডিআর চালুর সিদ্ধান্ত আপাতত পিছিয়ে যাওয়ায় উৎসবের মরসুমে স্বস্তি পেলেন ব্যবসায়ীরা। ১৫ অক্টোবর থেকে মাসুল চালুর যে পরিকল্পনা ছিল, তা এখন কার্যকর হচ্ছে না। তবে দীপাবলির পর ঠিক কবে থেকে নতুন ব্যবস্থা চালু হবে, সেই প্রশ্নের উত্তর এখনও মেলেনি। পরবর্তী বিজ্ঞপ্তির দিকেই এখন নজর ব্যবসায়ী ও ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবহারকারীদের।