দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে ২৪৯ রানের বড় পুঁজি নিয়েও ওয়েস্ট ইন্ডিজ়কে হারাতে পারেনি ভারত। ৯ বল বাকি থাকতেই লক্ষ্য ছুঁয়ে নেয় ক্যারিবিয়ান দল। ম্যাচের পর ভারতের হারের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে অতিরিক্ত শিশিরের প্রভাবের কথা জানিয়েছেন শ্রেয়স আয়ার। পাশাপাশি শাই হোপ ও শার্ফেন রাদারফোর্ডের দুরন্ত ব্যাটিংয়ের প্রশংসা করেছেন তিনি। তবে এই ব্যর্থতার জন্য কোনও সতীর্থকে আলাদা করে দায়ী করতে চাননি ভারতীয় দলের অধিনায়ক।
টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ২৪৯ রান নিঃসন্দেহে বড় পুঁজি। এমন রান তোলার পর সাধারণত জয়ের আশাই করেন যে কোনও দলের ক্রিকেটার ও সমর্থকেরা। কিন্তু দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে সেই আশাকে বাস্তবে পরিণত করতে পারল না ভারত। শুক্রবারের ম্যাচে ২৪৯ রান তুলেও ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের কাছে হারতে হয়েছে ভারতীয় দলকে। মাত্র ৯ বল বাকি থাকতেই লক্ষ্য ছুঁয়ে নেয় ক্যারিবিয়ানরা। ভারতের বড় রানও শেষ পর্যন্ত জয়ের জন্য যথেষ্ট হয়নি। ম্যাচের পর দলের এই ব্যর্থতা নিয়ে মুখ খুলেছেন শ্রেয়স আয়ার। তাঁর মতে, মাঠে অতিরিক্ত শিশির পড়ায় বোলারদের পক্ষে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছিল। একই সঙ্গে ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের দুই ব্যাটার শাই হোপ ও শার্ফেন রাদারফোর্ডের দুরন্ত পারফরম্যান্সের প্রশংসাও করেছেন তিনি।
টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে বড় রান তোলার পরেও ম্যাচের ফল নির্ভর করে একাধিক বিষয়ের উপর। পিচের চরিত্র, আবহাওয়া, বলের উপর নিয়ন্ত্রণ এবং বিপক্ষের ব্যাটিং—সব কিছুই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। ভারতের ক্ষেত্রেও তেমনই হয়েছে বলে মনে করছেন শ্রেয়স। তাঁর বক্তব্য, কত রান তুললে ম্যাচে জয় নিশ্চিত হবে, তা আগে থেকে বলা সম্ভব নয়। বিশেষ করে শিশিরের প্রভাব বেশি থাকলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে যায়।
ম্যাচের পর শ্রেয়স বলেন, ‘‘কত রান তুললে জয় নিশ্চিত হবে, তা বলা যায় না। বিশেষ করে মাঠে এত শিশির পড়লে পরিস্থিতি কঠিন হয়ে যায়। পরিস্থিতি এমনই ছিল যে, ওয়েস্ট ইন্ডিজ় প্রায় ২ ওভার হাতে রেখেই সফল ভাবে ২৪৯ রান তাড়া করে ফেলল। তা ছাড়া এই ধরনের পিচে ব্যাটারেরা ভুল করে না বললেই চলে। সামান্য ভুল হলেও বল গ্যালারিতে গিয়ে পড়তে পারে।’’
শ্রেয়সের বক্তব্য থেকে স্পষ্ট, শুধু বড় রান তোলাই জয়ের নিশ্চয়তা দেয় না। ম্যাচের পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়াও সমান গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর মতে, অতিরিক্ত শিশিরের কারণে বলের উপর বোলারদের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়েছিল। অন্য দিকে, ব্যাটারদের পক্ষে আক্রমণাত্মক শট খেলা তুলনামূলক সহজ হয়ে যায়। ফলে ভারতীয় বোলারদের পক্ষে ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের রান তোলার গতি আটকানো কঠিন হয়ে পড়ে।
টি-টোয়েন্টি ম্যাচে শিশির অনেক সময়েই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বিশেষ করে রাতের দিকে মাঠে শিশির জমলে বল ভিজে যেতে পারে। তাতে বোলারদের গ্রিপ ও বলের উপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে সমস্যা হতে পারে। স্পিনারদের ক্ষেত্রে বল ঘোরানো এবং পেসারদের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট জায়গায় বল ফেলা আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে। তবে এই ম্যাচে শিশিরের প্রকৃত প্রভাব কতটা ছিল, তা নিশ্চিতভাবে নির্ধারণ করতে বিস্তারিত ম্যাচ-পরিসংখ্যান প্রয়োজন।
শ্রেয়সের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, শুক্রবারের ম্যাচেও শিশিরের প্রভাব ভারতীয় দলের সমস্যাকে বাড়িয়ে দিয়েছিল। ২৪৯ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের ব্যাটারেরা শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে ছিলেন। বড় লক্ষ্য হওয়া সত্ত্বেও তাঁরা রান তোলার গতি কমতে দেননি। ফলে ভারতীয় বোলারদের উপর চাপ ক্রমশ বেড়েছে।
তবে শুধু শিশিরকেই হারের একমাত্র কারণ হিসেবে দেখলে ম্যাচের অন্য গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলি উপেক্ষা করা হবে। ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের ব্যাটারেরা যে ভাবে বড় শট খেলেছেন এবং ইনিংসের শেষ পর্যন্ত রান তোলার গতি বজায় রেখেছেন, তাতেও ম্যাচের ফল নির্ধারিত হয়েছে। শ্রেয়স নিজেও প্রতিপক্ষের ক্রিকেটারদের কৃতিত্ব দিতে দ্বিধা করেননি।
ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের জয়ের অন্যতম প্রধান কারিগর ছিলেন শাই হোপ ও শার্ফেন রাদারফোর্ড। দুই ব্যাটারের আক্রমণাত্মক ইনিংস ভারতীয় বোলারদের উপর প্রবল চাপ তৈরি করে। হোপ ৪৫ বলে অপরাজিত ১০২ রান করেন। অন্য দিকে, রাদারফোর্ড ৩৭ বলে ৮৪ রানের ইনিংস খেলেন। তাঁদের এই দুই ইনিংসের দৌলতেই ২৪৯ রানের বড় লক্ষ্য তাড়া করে জয় তুলে নেয় ওয়েস্ট ইন্ডিজ়।
হোপের শতরান ছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের ইনিংসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক। অন্য দিকে, রাদারফোর্ডের দ্রুত রান তোলার ক্ষমতা রান তাড়াকে আরও গতিশীল করে তোলে। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে বড় লক্ষ্য তাড়া করার সময় প্রয়োজনীয় রানরেটের চাপ সামলানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেই পরিস্থিতিতে দুই ব্যাটারের ধারাবাহিক আক্রমণ ভারতীয় বোলারদের ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ কমিয়ে দেয়।
প্রতিপক্ষের দুই ব্যাটারের পারফরম্যান্সের প্রশংসা করে শ্রেয়স বলেন, ‘‘শাই হোপ এবং শার্ফেন রাদারফোর্ড দুর্দান্ত ফর্মে রয়েছে। প্রতি ম্যাচেই অসাধারণ ব্যাট করছে। ওদের কৃতিত্বকে কুর্নিশ করা ছাড়া উপায় নেই।’’
শ্রেয়সের এই মন্তব্যে প্রতিপক্ষের পারফরম্যান্সের প্রতি সম্মান যেমন রয়েছে, তেমনই রয়েছে ম্যাচের বাস্তব পরিস্থিতির স্বীকৃতিও। বড় রান তোলার পরেও ওয়েস্ট ইন্ডিজ়কে আটকে রাখা যায়নি, কারণ তাদের ব্যাটারেরা চাপের মুখেও কার্যকর ব্যাটিং করেছেন।
ম্যাচ হেরে গেলেও ভারতীয় দলের কয়েক জন ক্রিকেটারের পারফরম্যান্সে ইতিবাচক দিক খুঁজে পেয়েছেন শ্রেয়স। সঞ্জু স্যামসন ও ময়ঙ্ক যাদবের পারফরম্যান্সের প্রশংসা করেছেন তিনি। পাশাপাশি অভিষেক শর্মার ভাল শুরুর কথাও উল্লেখ করেছেন ভারতীয় দলের অধিনায়ক।
শ্রেয়স বলেন, ‘‘আমাদেরও সঞ্জু স্যামসন, ময়ঙ্ক যাদব ভাল পারফর্ম করেছে। অভিষেক শর্মাও শুরুটা ভালই করেছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আমরা পারিনি।’’
এই বক্তব্য থেকে বোঝা যায়, দলের কয়েক জন ক্রিকেটার ভাল খেললেও সেই পারফরম্যান্সকে সামগ্রিক জয়ে পরিণত করা সম্ভব হয়নি। ক্রিকেটে ব্যাটিং ও বোলিংয়ের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বড় রান তোলার পর বিপক্ষের রান তাড়া আটকাতে বোলারদের কার্যকর ভূমিকা নিতে হয়। শুক্রবারের ম্যাচে ভারত সেই লক্ষ্য পূরণ করতে পারেনি।
তবে নির্দিষ্ট কোনও ক্রিকেটারের পারফরম্যান্সকে হারের জন্য দায়ী করেননি শ্রেয়স। বরং দলের সামগ্রিক পারফরম্যান্সের দিকেই নজর দিয়েছেন তিনি।
একটি ম্যাচে জয় বা পরাজয়ের পিছনে সাধারণত একাধিক কারণ কাজ করে। কখনও ব্যাটিংয়ের ব্যর্থতা, কখনও বোলিংয়ের দুর্বলতা, আবার কখনও প্রতিপক্ষের অসাধারণ পারফরম্যান্স ম্যাচের ফল নির্ধারণ করে দেয়। শ্রেয়সের মতে, ক্রিকেট দলগত খেলা। তাই কোনও একটি ব্যর্থতার জন্য একজন ক্রিকেটারকে আলাদা করে দায়ী করা ঠিক নয়।
দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে ভারত ২৪৯ রান তুললেও সেই রান রক্ষা করতে পারেনি। কিন্তু তার জন্য কোনও সতীর্থকে দোষারোপ করতে চাননি অধিনায়ক। তাঁর বক্তব্যে দলের সম্মিলিত দায়িত্বের বিষয়টিই গুরুত্ব পেয়েছে। সঞ্জু স্যামসন, ময়ঙ্ক যাদব ও অভিষেক শর্মার ইতিবাচক পারফরম্যান্সের উল্লেখ করে তিনি বুঝিয়ে দিয়েছেন, ব্যক্তিগত সাফল্য থাকলেও শেষ পর্যন্ত দলগত ফলই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
শুক্রবারের ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের ব্যাটিংয়ের ধার, শিশিরের প্রভাব এবং ভারতের রান রক্ষা করতে না পারা—সব মিলিয়েই তৈরি হয়েছে পরাজয়ের ছবি। শ্রেয়সের ব্যাখ্যায় শিশির একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হলেও প্রতিপক্ষের দুই ব্যাটারের অসাধারণ পারফরম্যান্সও যে ম্যাচের ফল বদলে দিয়েছে, তা স্পষ্ট।
দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টির হার ভারতীয় দলের কাছে নিঃসন্দেহে হতাশার। ২৪৯ রানের মতো বড় স্কোর করেও জয় না পাওয়ায় ব্যাটিংয়ের ভাল পারফরম্যান্স কাজে লাগানো যায়নি। এমন পরিস্থিতিতে পরের ম্যাচে দলকে আরও কার্যকর পরিকল্পনা নিয়ে নামতে হবে। বিশেষ করে শিশিরের সম্ভাব্য প্রভাব, বোলিংয়ের কৌশল এবং প্রতিপক্ষের আক্রমণাত্মক ব্যাটিং সামলানোর দিকে নজর দিতে হবে।
তবে পরবর্তী ম্যাচে ভারত কী পরিকল্পনা করবে, সে বিষয়ে শ্রেয়স নির্দিষ্ট করে কিছু জানিয়েছেন বলে প্রদত্ত তথ্যে উল্লেখ নেই। আপাতত তাঁর বক্তব্যে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে দলের সম্মিলিত দায়িত্ব এবং প্রতিপক্ষের পারফরম্যান্সকে স্বীকার করে নেওয়ার বিষয়টি।
সব মিলিয়ে, দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে ভারতের পরাজয় শুধু বড় রান তুলেও হারার ঘটনা নয়। এই ম্যাচ দেখিয়েছে, টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে রান করার পাশাপাশি পরিস্থিতি অনুযায়ী বোলিংয়ের পরিকল্পনা বদলানোও কতটা জরুরি। অতিরিক্ত শিশিরের কথা উল্লেখ করে শ্রেয়স হারের একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যাখ্যা দিয়েছেন। একই সঙ্গে শাই হোপ ও শার্ফেন রাদারফোর্ডের ইনিংসকে কৃতিত্ব দিয়ে তিনি স্পষ্ট করেছেন, এই পরাজয়ের দায় কোনও এক সতীর্থের উপর চাপিয়ে দিতে চান না।