মারণরোগ ক্যান্সার ধরা পড়ার পর জীবনের অপূর্ণ ইচ্ছা পূরণ করতে আন্টার্কটিকা ভ্রমণের সিদ্ধান্ত নেন চিনের ওয়াং ইং। প্রতিকূল পরিবেশ ও অনিশ্চয়তার মধ্যেও বরফে ঢাকা মহাদেশে পাড়ি দেন তিনি। ভ্রমণ শেষে ফিরে এসে জানতে পারেন, তাঁর সংক্রমিত টিউমারের আকার ছোট হয়েছে। ঘটনাটি ঘিরে তৈরি হয়েছে কৌতূহল। তবে ভ্রমণের কারণেই টিউমার ছোট হয়েছে কি না, তা চিকিৎসাবিজ্ঞানের নির্ভরযোগ্য তথ্য ছাড়া নিশ্চিত করে বলা যায় না।
জীবন কখন কোন মোড় নেবে, তা আগে থেকে বলা যায় না। কখনও একটি চিকিৎসা পরীক্ষার রিপোর্ট বদলে দেয় মানুষের ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবনাচিন্তা, কখনও আবার কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও নতুন করে বাঁচার অনুপ্রেরণা খুঁজে পান মানুষ। চিনের ওয়াং ইংয়ের আন্টার্কটিকা ভ্রমণের ঘটনা সেই ধরনেরই একটি অভিজ্ঞতা হিসেবে সামনে এসেছে। শরীরে ক্যান্সার ধরা পড়ার পরও তিনি জীবনের অপূর্ণ ইচ্ছাকে পিছনে ফেলে রাখতে চাননি। বরং অসুস্থতার কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড়িয়ে সিদ্ধান্ত নেন, বহুদিনের স্বপ্ন পূরণ করতে একবার অন্তত আন্টার্কটিকা ঘুরে আসবেন।
বরফে ঢাকা আন্টার্কটিকা পৃথিবীর অন্যতম দুর্গম অঞ্চল। সেখানে পৌঁছনো যেমন ব্যয়বহুল, তেমনই ভ্রমণের জন্য প্রয়োজন শারীরিক প্রস্তুতি, পরিকল্পনা এবং প্রতিকূল পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা। এমন একটি জায়গায় যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া যে কারও কাছেই বড় পদক্ষেপ। আর যখন সেই সিদ্ধান্তের পিছনে থাকে ক্যান্সারের মতো গুরুতর অসুস্থতার বাস্তবতা, তখন ঘটনাটি আরও বেশি করে মানুষের নজর কাড়ে।
প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, চিনের ওয়াং ইং ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার পর তাঁর দীর্ঘদিনের ইচ্ছা পূরণ করতে আন্টার্কটিকা যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। ভ্রমণ শেষে ফিরে এসে তিনি জানতে পারেন, তাঁর সংক্রমিত টিউমারের আকার আগের তুলনায় ছোট হয়েছে। এই খবর ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই আগ্রহ তৈরি হয়েছে। তবে টিউমার ছোট হওয়ার বিষয়টি চিকিৎসকের মূল্যায়ন, পরীক্ষার রিপোর্ট এবং চিকিৎসার সামগ্রিক প্রেক্ষাপটে বোঝা প্রয়োজন। শুধু ভ্রমণ করার কারণে টিউমার ছোট হয়েছে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছনোর মতো যথেষ্ট বৈজ্ঞানিক তথ্য এখানে নেই।
ক্যান্সার এমন একটি রোগ, যার নাম শুনলেই বহু মানুষের মনে ভয়, উদ্বেগ এবং অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। রোগ নির্ণয়ের পর রোগীকে শুধু শারীরিক সমস্যার মোকাবিলা করতে হয় না, মানসিকভাবেও তাঁকে নানা পরিবর্তনের মধ্যে দিয়ে যেতে হয়। ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তা, চিকিৎসার পরিকল্পনা, পরিবারের দায়িত্ব এবং দৈনন্দিন জীবনযাত্রার পরিবর্তন—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি অনেক সময় কঠিন হয়ে ওঠে।
এমন পরিস্থিতিতে মানুষের জীবনের অগ্রাধিকারও বদলে যেতে পারে। কেউ পরিবারের সঙ্গে আরও বেশি সময় কাটাতে চান, কেউ বহুদিনের অসমাপ্ত কাজ শেষ করতে উদ্যোগী হন, আবার কেউ জীবনে প্রথমবারের মতো কোনও স্বপ্ন পূরণের সিদ্ধান্ত নেন। ওয়াং ইংয়ের আন্টার্কটিকা ভ্রমণের সিদ্ধান্তকেও সেই দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা যেতে পারে।
দীর্ঘদিন ধরে কোনও জায়গায় যাওয়ার ইচ্ছা থাকলেও নানা কারণে তা পূরণ করা সম্ভব হয় না। কাজের ব্যস্ততা, আর্থিক সীমাবদ্ধতা, পারিবারিক দায়িত্ব কিংবা সময়ের অভাব সেই ইচ্ছাকে পিছিয়ে দেয়। কিন্তু গুরুতর অসুস্থতার মুখোমুখি হওয়ার পর কেউ কেউ বুঝতে পারেন, নিজের পছন্দের কাজগুলিকে অনির্দিষ্টকালের জন্য পিছিয়ে রাখা সব সময় সম্ভব নয়।
ওয়াং ইংয়ের ক্ষেত্রে আন্টার্কটিকা ভ্রমণ ছিল এমনই একটি অপূর্ণ ইচ্ছা পূরণের উদ্যোগ বলে জানা গিয়েছে। অসুস্থতার কারণে তিনি জীবনের সব আনন্দ থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে রাখেননি। বরং পরিস্থিতির সীমাবদ্ধতার মধ্যেই নিজের স্বপ্নের দিকে এগিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
আন্টার্কটিকা পৃথিবীর দক্ষিণতম মহাদেশ। বিশাল বরফের স্তর, হিমশীতল আবহাওয়া, হিমবাহ, তুষারাবৃত প্রান্তর এবং অনন্য বন্যপ্রাণীর জন্য এই অঞ্চল পরিচিত। পৃথিবীর অন্যান্য মহাদেশের তুলনায় এখানে মানুষের স্থায়ী বসতি নেই বললেই চলে। গবেষণা কেন্দ্র এবং নির্দিষ্ট পর্যটন ব্যবস্থার মাধ্যমে মানুষ এই অঞ্চলে পৌঁছন।
আন্টার্কটিকা ভ্রমণ সাধারণ কোনও পর্যটন সফরের মতো নয়। যাত্রাপথ, আবহাওয়া, নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যগত প্রস্তুতি এবং পরিবেশগত নিয়ম মেনে চলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পর্যটকদের অনেক ক্ষেত্রে জাহাজে করে বরফঘেরা অঞ্চলে পৌঁছতে হয়। আবহাওয়া খারাপ হলে যাত্রার পরিকল্পনায় পরিবর্তনও আসতে পারে।
এই কারণেই আন্টার্কটিকা বহু মানুষের কাছে স্বপ্নের গন্তব্য। পৃথিবীর এমন এক অঞ্চলে পৌঁছনোর আকাঙ্ক্ষা থাকে, যেখানে প্রকৃতির রূপ অন্যরকম এবং মানুষের দৈনন্দিন জীবন থেকে পরিবেশ সম্পূর্ণ আলাদা। বরফের বিশাল বিস্তার, নীরবতা এবং প্রকৃতির অনন্য সৌন্দর্য ভ্রমণপ্রেমীদের আকৃষ্ট করে।
কিন্তু গুরুতর অসুস্থতার ক্ষেত্রে এই ধরনের ভ্রমণ পরিকল্পনা আরও জটিল হয়ে ওঠে। ক্যান্সারের ধরন, রোগের পর্যায়, চলমান চিকিৎসা, রোগীর শারীরিক সক্ষমতা এবং জরুরি চিকিৎসার সুযোগ বিবেচনা করা প্রয়োজন। দূরবর্তী অঞ্চলে অসুস্থ হয়ে পড়লে দ্রুত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা পাওয়া কঠিন হতে পারে। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া এমন ভ্রমণের সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়।
ওয়াং ইংয়ের ঘটনা নিয়ে আগ্রহের অন্যতম কারণ হল, আন্টার্কটিকা থেকে ফিরে এসে তাঁর টিউমারের আকার ছোট হওয়ার খবর। ক্যান্সার বা টিউমারের ক্ষেত্রে আকারের পরিবর্তন চিকিৎসার মূল্যায়নে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। তবে একটি টিউমার ছোট হওয়া মানেই ক্যান্সার সম্পূর্ণ সেরে গিয়েছে, এমন নয়।
টিউমারের আকার নির্ধারণ করতে সাধারণত চিকিৎসকেরা রোগের ধরন অনুযায়ী বিভিন্ন পরীক্ষা ব্যবহার করেন। সিটি স্ক্যান, এমআরআই, আলট্রাসাউন্ড কিংবা অন্য কোনও উপযুক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে আগের রিপোর্টের সঙ্গে পরবর্তী রিপোর্টের তুলনা করা হতে পারে। কোন পরীক্ষা প্রয়োজন হবে, তা নির্ভর করে টিউমারের অবস্থান, ধরন এবং রোগীর চিকিৎসার পরিকল্পনার উপর।
কোনও পরীক্ষায় টিউমারের আকার ছোট দেখা গেলে তার সম্ভাব্য কারণ খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। চিকিৎসার প্রভাব, রোগের স্বাভাবিক পরিবর্তন, প্রদাহের হ্রাস কিংবা পরীক্ষার পদ্ধতিগত পার্থক্য—বিভিন্ন বিষয় ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে। রোগীর সম্পূর্ণ চিকিৎসা-ইতিহাস না জেনে কোনও একটি কারণকে নিশ্চিতভাবে দায়ী করা যায় না।
ওয়াং ইংয়ের ক্ষেত্রে টিউমার ছোট হওয়ার খবরটি আগ্রহ তৈরি করলেও, ভ্রমণের আগে ও পরে তাঁর চিকিৎসা কী ছিল, টিউমারের সুনির্দিষ্ট ধরন কী, কতটা পরিবর্তন হয়েছে এবং চিকিৎসকেরা কী ব্যাখ্যা দিয়েছেন—এসব তথ্য জানা জরুরি। এই তথ্যগুলি ছাড়া ঘটনাটির চিকিৎসাবৈজ্ঞানিক তাৎপর্য নির্ধারণ করা সম্ভব নয়।
টিউমার বলতে শরীরের কোষের অস্বাভাবিক বৃদ্ধির ফলে তৈরি হওয়া একটি গঠন বা পিণ্ডকে বোঝায়। সব টিউমার ক্যান্সার নয়। কিছু টিউমার বিনাইন বা অ-ক্যান্সারজনিত হতে পারে, আবার কিছু টিউমার ম্যালিগন্যান্ট বা ক্যান্সারজনিত হয়। কোন ধরনের টিউমার রয়েছে, তা নির্ধারণের জন্য চিকিৎসকের মূল্যায়ন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী পরীক্ষার প্রয়োজন হয়।
আবার শরীরে সংক্রমণ বা প্রদাহের কারণে কোনও অংশ ফুলে উঠতে পারে কিংবা টিস্যুর পরিবর্তন দেখা দিতে পারে। সেই পরিবর্তনকে টিউমার হিসেবে উল্লেখ করা হলে তার প্রকৃত অর্থ বোঝার জন্য চিকিৎসা-সংক্রান্ত তথ্য প্রয়োজন। তাই কোনও প্রতিবেদনে টিউমার, সংক্রমিত টিউমার বা ক্যান্সারের উল্লেখ থাকলেই সব ক্ষেত্রে একই ধরনের রোগ বোঝায় না।
ক্যান্সারের চিকিৎসা নির্ধারণ করা হয় রোগের ধরন, অবস্থান, পর্যায়, রোগীর শারীরিক অবস্থা এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের ভিত্তিতে। কারও ক্ষেত্রে অস্ত্রোপচার প্রয়োজন হতে পারে, কারও ক্ষেত্রে কেমোথেরাপি, রেডিয়েশন থেরাপি, ইমিউনোথেরাপি, টার্গেটেড থেরাপি কিংবা অন্য চিকিৎসাপদ্ধতি বিবেচনা করা হয়। কোন চিকিৎসা উপযুক্ত, তা সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকই নির্ধারণ করেন।
গুরুতর অসুস্থতার সময়ে মানসিক সুস্থতা রোগীর সামগ্রিক জীবনযাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। পরিবার ও বন্ধুদের সমর্থন, নিজের পছন্দের কাজে অংশ নেওয়া, পর্যাপ্ত বিশ্রাম এবং মানসিক চাপ সামলানোর উপায় রোগীকে কঠিন পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে সাহায্য করতে পারে।
ভ্রমণ অনেক মানুষের কাছে মানসিকভাবে নতুন অভিজ্ঞতা অর্জনের একটি মাধ্যম। পরিচিত পরিবেশ থেকে বেরিয়ে নতুন জায়গা দেখা, প্রকৃতির কাছাকাছি থাকা কিংবা বহুদিনের কোনও স্বপ্ন পূরণ করা আনন্দ ও তৃপ্তি দিতে পারে। তবে এই মানসিক অভিজ্ঞতা এবং ক্যান্সারের চিকিৎসাগত ফলাফলকে এক করে দেখা উচিত নয়।
ওয়াং ইংয়ের সিদ্ধান্তের মানবিক দিকটি এখানেই গুরুত্বপূর্ণ। ক্যান্সার ধরা পড়ার পরও তিনি নিজের জীবনের আকাঙ্ক্ষাকে গুরুত্ব দিয়েছেন। তাঁর ভ্রমণের অভিজ্ঞতা অন্যদের কাছে অনুপ্রেরণার বিষয় হতে পারে, কারণ এটি দেখায় যে গুরুতর অসুস্থতার মধ্যেও মানুষ নিজের ইচ্ছা, পরিচয় এবং আনন্দের জায়গাগুলিকে ধরে রাখতে চাইতে পারেন।
কিন্তু প্রত্যেক রোগীর পরিস্থিতি আলাদা। কারও শারীরিক অবস্থা ভ্রমণের উপযোগী হতে পারে, আবার কারও ক্ষেত্রে দীর্ঘ যাত্রা বিপজ্জনক হতে পারে। তাই কোনও একটি ব্যক্তির অভিজ্ঞতাকে সবার জন্য একইভাবে প্রযোজ্য বলে ধরে নেওয়া ঠিক নয়।
ক্যান্সারের চিকিৎসা চলাকালীন নিয়মিত পর্যবেক্ষণ রোগের অগ্রগতি বোঝার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। চিকিৎসকরা রোগীর উপসর্গ, শারীরিক অবস্থা, পরীক্ষার ফল এবং চিকিৎসার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বিবেচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণ করেন।
টিউমারের আকার ছোট হয়েছে কি না, তা জানার জন্য অনেক সময় নির্দিষ্ট ব্যবধানে স্ক্যান বা অন্যান্য পরীক্ষা করা হয়। আগের রিপোর্টের সঙ্গে তুলনা করে পরিবর্তনের পরিমাণ বোঝা যায়। শুধু বাহ্যিকভাবে ভালো লাগা বা কোনও একটি উপসর্গ কমে যাওয়া দিয়ে রোগের সম্পূর্ণ অবস্থা নির্ধারণ করা যায় না।
রোগীর চিকিৎসা-পরিকল্পনায় কোনও পরিবর্তন করার আগে চিকিৎসকের সঙ্গে আলোচনা করা জরুরি। টিউমারের আকার ছোট হলেও চিকিৎসা বন্ধ করা বা ওষুধের মাত্রা বদলানোর সিদ্ধান্ত নিজে থেকে নেওয়া বিপজ্জনক হতে পারে।
ওয়াং ইংয়ের ঘটনার ক্ষেত্রেও তাঁর টিউমার ছোট হওয়ার খবরের প্রকৃত তাৎপর্য বুঝতে চিকিৎসা-সংক্রান্ত নির্ভরযোগ্য তথ্য গুরুত্বপূর্ণ। ভ্রমণের অভিজ্ঞতা এবং চিকিৎসার ফলাফল একই সময়ে ঘটেছে বলেই একটিকে অন্যটির সরাসরি কারণ হিসেবে ধরে নেওয়া যায় না।
আন্টার্কটিকা ভ্রমণকে ক্যান্সারের চিকিৎসা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার মতো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। কোনও পর্যটন, নির্দিষ্ট আবহাওয়া বা ভৌগোলিক পরিবেশ ক্যান্সার সারিয়ে দিতে পারে—এমন দাবি করার জন্য নির্ভরযোগ্য চিকিৎসাবৈজ্ঞানিক গবেষণা প্রয়োজন।
ক্যান্সারের চিকিৎসা রোগের ধরন ও পর্যায় অনুযায়ী পরিকল্পনা করা হয়। আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানে অস্ত্রোপচার, ওষুধ, রেডিয়েশন এবং অন্যান্য পদ্ধতি রোগীর প্রয়োজন অনুসারে ব্যবহার করা হয়। ভ্রমণকে চিকিৎসার বিকল্প হিসেবে গ্রহণ করা উচিত নয়।
একই সঙ্গে, চিকিৎসকের অনুমতি নিয়ে উপযুক্ত পরিকল্পনায় ভ্রমণ করা কিছু রোগীর ক্ষেত্রে সম্ভব হতে পারে। এর জন্য চিকিৎসার সময়সূচি, ওষুধ, সংক্রমণের ঝুঁকি, জরুরি চিকিৎসার ব্যবস্থা, ভ্রমণ বিমা এবং গন্তব্যস্থলের চিকিৎসা-সুবিধা বিবেচনা করা প্রয়োজন।
ক্যান্সারের চিকিৎসা চলাকালীন রোগীর রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যেতে পারে, ক্লান্তি দেখা দিতে পারে কিংবা অন্য শারীরিক সমস্যা তৈরি হতে পারে। দীর্ঘ বিমানযাত্রা বা জাহাজযাত্রার সময় এসব বিষয় বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। তাই ভ্রমণের পরিকল্পনা করার আগে চিকিৎসকের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা প্রয়োজন।
ওয়াং ইংয়ের আন্টার্কটিকা ভ্রমণের ঘটনা থেকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হল, গুরুতর অসুস্থতার মধ্যেও মানুষের ব্যক্তিগত ইচ্ছা এবং মানসিক সুস্থতার মূল্য রয়েছে। রোগের চিকিৎসার পাশাপাশি রোগীর পছন্দ, পরিবার, সামাজিক সম্পর্ক এবং জীবনযাত্রার মানকেও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
তবে অনুপ্রেরণামূলক অভিজ্ঞতার সঙ্গে চিকিৎসাবিজ্ঞানের তথ্যের পার্থক্য বজায় রাখা জরুরি। কোনও ব্যক্তির টিউমার ছোট হওয়ার খবর শুনে অন্য রোগীরা যদি মনে করেন যে একই ধরনের ভ্রমণ করলে তাঁদেরও একই ফল হবে, তা ভুল প্রত্যাশা তৈরি করতে পারে।
রোগের ধরন ও চিকিৎসার ফলাফল প্রত্যেকের ক্ষেত্রে আলাদা। তাই অন্যের অভিজ্ঞতা থেকে মানসিক অনুপ্রেরণা নেওয়া যেতে পারে, কিন্তু চিকিৎসার সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নিজের চিকিৎসকের পরামর্শ এবং নির্ভরযোগ্য পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতে।
ক্যান্সার ধরা পড়লে অনেকেরই মনে হতে পারে, জীবনের পরিকল্পনা থেমে গিয়েছে। কিন্তু চিকিৎসার পাশাপাশি রোগীর পক্ষে যতটা সম্ভব স্বাভাবিক জীবন বজায় রাখার চেষ্টা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। অবশ্যই সেই পরিকল্পনা করতে হবে শারীরিক সক্ষমতা ও চিকিৎসাগত ঝুঁকি বিবেচনা করে।
কেউ কাছের কোনও জায়গায় বেড়াতে যেতে চান, কেউ পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাতে চান, আবার কেউ বহুদিনের স্বপ্ন পূরণের জন্য বিশেষ কোনও ভ্রমণের পরিকল্পনা করেন। সব ক্ষেত্রেই রোগীর ইচ্ছাকে সম্মান করার পাশাপাশি নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দেওয়া প্রয়োজন।
আন্টার্কটিকার মতো দুর্গম অঞ্চলে ভ্রমণের ক্ষেত্রে এই সতর্কতা আরও বেশি জরুরি। আবহাওয়া বা পরিবহণের সমস্যার কারণে দ্রুত ফিরে আসা সম্ভব নাও হতে পারে। ফলে চিকিৎসকের অনুমতি, প্রয়োজনীয় ওষুধ, চিকিৎসা-সংক্রান্ত নথি এবং জরুরি পরিকল্পনা ছাড়া যাত্রা করা উচিত নয়।
ক্যান্সার ধরা পড়ার পর জীবনের অপূর্ণ ইচ্ছা পূরণ করতে আন্টার্কটিকা ভ্রমণের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন চিনের ওয়াং ইং। ভ্রমণ শেষে ফিরে এসে তাঁর সংক্রমিত টিউমারের আকার ছোট হওয়ার খবর সামনে আসায় ঘটনাটি নিয়ে কৌতূহল তৈরি হয়েছে।
এই অভিজ্ঞতার একদিকে রয়েছে প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও নিজের স্বপ্ন পূরণের চেষ্টা, অন্যদিকে রয়েছে টিউমারের আকার পরিবর্তনের চিকিৎসাবৈজ্ঞানিক প্রশ্ন। টিউমার ছোট হওয়ার সঠিক কারণ জানতে চিকিৎসার ইতিহাস, পরীক্ষার রিপোর্ট এবং বিশেষজ্ঞদের মূল্যায়ন প্রয়োজন। কেবল ভ্রমণের সঙ্গে সময়গত মিল থাকলেই ভ্রমণকে টিউমার ছোট হওয়ার কারণ বলা যায় না।
ওয়াং ইংয়ের অভিজ্ঞতা থেকে অনুপ্রেরণা নেওয়া যেতে পারে, তবে ক্যান্সারের চিকিৎসা সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে বৈজ্ঞানিক তথ্য ও চিকিৎসকের পরামর্শই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। রোগের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের পাশাপাশি জীবনের আনন্দকে গুরুত্ব দেওয়া সম্ভব হতে পারে—কিন্তু তা করতে হবে নিরাপত্তা, বাস্তবতা এবং যথাযথ চিকিৎসার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে।