Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

ইচ্ছে হলেই দত্তক নিতে পারি কিন্তু জগতের সকলের মা হয়ে থাকতে চাই সারদাদেবীর মতো জয়া আহসান

তাঁর মতে, শিশুদের জন্য এই বিশ্ব নিরাপদ নয়। বিশ্ব জুড়ে শিশুদের উপর নানা নির্যাতন দেখে কোন ইচ্ছা প্রকাশ করলেন জয়া আহসান?


বাংলাদেশে সাধারণ নির্বাচন ঘিরে যখন রাজনৈতিক উত্তেজনা তুঙ্গে, ঠিক সেই সময় কলকাতায় উপস্থিত হলেন বাংলাদেশের জনপ্রিয় অভিনেত্রী জয়া আহসান। শহরের এক অভিজাত রেস্তরাঁয় আনন্দবাজার ডট কম-এর সঙ্গে দীর্ঘ আলাপচারিতায় তিনি তাঁর ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনের নানা দিক নিয়ে অকপটে কথা বলেন। এই সাক্ষাৎকারে উঠে আসে তাঁর আসন্ন ছবি ‘ওসিডি’, অভিনয় নিয়ে তাঁর নিজস্ব ভাবনা, মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে সচেতনতা, শিশুদের উপর নির্যাতন সংক্রান্ত বিশ্বব্যাপী উদ্বেগ, এবং মাতৃত্ব ও শৈশব বিষয়ে তাঁর গভীর চিন্তাভাবনা।

কলকাতায় বহুদিন পর আগমন প্রসঙ্গে জয়া জানান, সাম্প্রতিক সময়ে তিনি ঢাকাতেই বেশি সময় কাটাচ্ছিলেন। তবে তাঁর নতুন ছবি ‘ওসিডি’-র কাজের সূত্রেই কলকাতায় আসা। ছবিটি তাঁর অভিনীত অন্যতম প্রিয় কাজ বলে উল্লেখ করেন তিনি। এই মন্তব্য থেকেই বোঝা যায়, অভিনেত্রী হিসেবে তাঁর কাছে এই ছবিটির গুরুত্ব কতটা। ‘ওসিডি’ ছবিটি মানসিক রোগ ও মানবমনের গভীর জটিলতা নিয়ে নির্মিত একটি সংবেদনশীল কাজ, যেখানে অভিনেত্রীর জন্য চরিত্রে ডুবে যাওয়ার চ্যালেঞ্জ ছিল বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

‘ওসিডি’ শব্দটি সাধারণত অবসেসিভ কমপালসিভ ডিজ়অর্ডার বা অতিরিক্ত বাতিকগ্রস্ত আচরণকে বোঝায়। এই ছবিতে কাজ করতে গিয়ে জয়া নিজেই নিজের ভেতরের ‘বাতিক’ খুঁজে দেখার চেষ্টা করেন। তিনি বলেন, ছবির শুটিং চলাকালীন বারবার পরিচালককে প্রশ্ন করতেন, তাঁর নিজের মধ্যে ঠিক কোন ধরনের ‘ওসিডি’ রয়েছে। এই আত্মসমালোচনামূলক দৃষ্টিভঙ্গি একজন শিল্পীর আত্মবিশ্লেষণের পরিচয় দেয়। শেষ পর্যন্ত তিনি উপলব্ধি করেন, নিখুঁত অভিনয় করার প্রবণতাই তাঁর ‘ওসিডি’। তিনি মনে করেন, সব অভিনয় যেন এক রকম হয়ে যাচ্ছে—এই ভয় তাঁকে তাড়িয়ে বেড়ায়। ফলে নিজেকেই বারবার নতুন চ্যালেঞ্জ দেন, আবার নিজের উপর বিরক্তও হন। নিজের সীমাবদ্ধতা ও দুর্বলতা স্বীকার করে নেওয়ার এই সাহসী স্বীকারোক্তি একজন শিল্পীর মানসিক অবস্থার গভীর দিকটি প্রকাশ করে।

জয়া বলেন, তিনি মানুষ হলেও তাঁর মন সব সময় যুক্তি মানে না। বারবার মনে হয়, তিনি কি যথেষ্ট ভালো করতে পারছেন? এই চিন্তা করতে করতে মানসিক চাপ এতটাই বাড়ে যে, কখনও কখনও মানসিক অসুস্থতার কাছাকাছি চলে যান। নিখুঁত হওয়ার তাগিদ তাঁকে নিজের উপর অতিরিক্ত চাপ দিতে বাধ্য করে। এই বক্তব্য শিল্পীদের মধ্যে পারফেকশনিজ়ম বা অতিরিক্ত নিখুঁত হওয়ার প্রবণতা কতটা মানসিক চাপ সৃষ্টি করতে পারে, তার একটি বাস্তব চিত্র তুলে ধরে।

এই চাপ থেকে মুক্তির উপায় প্রসঙ্গে জয়া বলেন, পুরোপুরি মুক্তি পাওয়া সম্ভব নয়, তবে কোনও কাজ সুন্দরভাবে মন দিয়ে করলে চাপ কমানো যায়। এই দর্শন আসলে কাজের প্রতি তাঁর দৃষ্টিভঙ্গিকে স্পষ্ট করে—তিনি বিশ্বাস করেন, কাজের প্রতি মনোযোগ ও নিষ্ঠাই মানসিক প্রশান্তির অন্যতম উপায়।

কোনও চরিত্রে নিজেকে তৈরি করার ক্ষেত্রে জয়ার প্রস্তুতির ধরনও এই সাক্ষাৎকারে উঠে এসেছে। তিনি বলেন, যে বিষয়ে কাজ করেন, সেই বিষয় নিয়ে তিনি যথাসম্ভব পড়াশোনা করেন। ‘ওসিডি’ ছবিতে কাজ করার সময় ‘পিডোফিলিয়া’ বিষয়টি নিয়ে গভীরভাবে চর্চা করেছেন। শিশুদের প্রতি যৌন আকর্ষণ কোন ধরনের মানসিক অসুস্থতার লক্ষণ, কীভাবে এর উৎপত্তি হয়—এসব বিষয়ে তথ্য না জানলে এমন একটি স্পর্শকাতর বিষয় নিয়ে কাজ করা কঠিন বলে তিনি মনে করেন। এই মন্তব্য থেকে বোঝা যায়, একজন অভিনেত্রী হিসেবে তিনি চরিত্রের মনস্তাত্ত্বিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপট বোঝার ক্ষেত্রে কতটা গুরুত্ব দেন।

তিনি উল্লেখ করেন, এই ছবিটি সমাজের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করছে। যেখানে শিশুরা জড়িত, সেখানে দায়িত্ব অনেক বেড়ে যায়—এই উপলব্ধি তাঁর মধ্যে কাজ করেছে। শিশুদের নিরাপত্তা, শৈশবের ট্রমা, এবং তার দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব—এসব বিষয় নিয়ে কাজ করা যে কতটা সংবেদনশীল এবং দায়িত্বপূর্ণ, তা তিনি স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছেন।

সাক্ষাৎকারে বিশ্বব্যাপী আলোচিত ‘এপস্টিন ফাইল’ প্রসঙ্গও উঠে আসে। এই ফাইলে বিশ্বের বহু প্রভাবশালী ব্যক্তির নাম উঠে আসায় বিশ্বজুড়ে তীব্র বিতর্ক চলছে। এই প্রসঙ্গে জয়া বলেন, পিডোফিলিয়া একটি মানসিক ব্যাধি। সাধারণ মানুষের কাছে একটি শিশুকে দেখলে স্নেহ ও মায়া জন্মায়, কিন্তু কিছু মানুষের ক্ষেত্রে শিশুর প্রতি যৌন আকাঙ্ক্ষা জন্মায়—যা সম্পূর্ণরূপে বিকৃত ও অসুস্থ মানসিকতার পরিচায়ক। তিনি বলেন, এই বিষয়টি একটি গভীর মানসিক অসুস্থতা, যা সমাজে ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে।

বাংলা চলচ্চিত্রে এখনও পর্যন্ত পিডোফিলিয়া বিষয়টি নিয়ে কোনও উল্লেখযোগ্য কাজ হয়নি—এই বিষয়টিকে তিনি দুর্ভাগ্যজনক বলে উল্লেখ করেন। তাঁর মতে, সমাজের অন্ধকার দিকগুলিকে আলোয় আনা দরকার, যাতে মানুষ সচেতন হয় এবং এই ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে সামাজিক উদ্যোগ নেওয়া যায়।

শৈশবের সঙ্গে যুক্ত হিংসা ও যৌন নির্যাতনের বিষয় নিয়ে কাজ করতে গিয়ে তাঁর উপর মানসিক চাপ কতটা পড়েছে, সেই প্রশ্নের উত্তরে জয়া বলেন, ‘ওসিডি’ এবং পিডোফিলিয়া—দুটিই অত্যন্ত স্পর্শকাতর বিষয়। এই ছবিতে তাঁর চরিত্র শৈশবে যৌন শোষণের শিকার এবং সেই অভিজ্ঞতার ভয়াবহ পরিণতি কী হতে পারে, তা অভিনয় করতে গিয়ে তাঁকে সেই যন্ত্রণার ভেতর দিয়ে যেতে হয়েছে। অভিনয়ের জন্য তাঁকে সেই মানসিক অবস্থার গভীরে প্রবেশ করতে হয়েছে, যা স্বাভাবিকভাবেই মানসিক চাপ সৃষ্টি করেছে।

তিনি স্বীকার করেন, বাস্তব জীবনে তাঁর সঙ্গে এমন কোনও ঘটনা ঘটেনি, তবে তিনি শুনেছেন যে এই ধরনের যৌন শোষণের ঘটনা পরিবারের মধ্যেই বেশি ঘটে। এই ধরনের ঘটনা সাধারণত ঢাকাচাপা দিয়ে রাখা হয়, ফলে ভুক্তভোগীরা ন্যায়বিচার পায় না এবং সমাজের কাছে বিষয়টি অদৃশ্যই থেকে যায়। এই মন্তব্য সামাজিক বাস্তবতার একটি নির্মম চিত্র তুলে ধরে—যেখানে পরিবারের মধ্যেই সংঘটিত নির্যাতন অধিকাংশ সময় প্রকাশ্যে আসে না।

news image
আরও খবর

জয়া আরও বলেন, তিনি তাঁর অনেক ঘনিষ্ঠ মানুষের মধ্যে ‘ওসিডি’ বা বাতিকগ্রস্ত আচরণ দেখেছেন। এটি ইঙ্গিত করে যে মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা কতটা সাধারণ এবং কাছের মানুষের মধ্যেও কতটা বিস্তৃতভাবে উপস্থিত থাকতে পারে।

এই সাক্ষাৎকারে জয়া আহসানের ব্যক্তিগত অনুভূতি, একজন শিল্পী হিসেবে তাঁর দায়বদ্ধতা, এবং সমাজের অন্ধকার দিকগুলিকে তুলে ধরার প্রতি তাঁর আগ্রহ স্পষ্টভাবে প্রকাশ পেয়েছে। ‘ওসিডি’ ছবির মাধ্যমে তিনি মানসিক রোগ, শৈশবের ট্রমা, এবং যৌন নির্যাতনের মতো স্পর্শকাতর বিষয় নিয়ে কাজ করেছেন, যা বাংলা চলচ্চিত্রে তুলনামূলকভাবে কম আলোচিত। তাঁর বক্তব্য থেকে বোঝা যায়, অভিনয় শুধু বিনোদন নয়, বরং সমাজের সমস্যাগুলিকে সামনে আনার একটি শক্তিশালী মাধ্যম হিসেবেও তিনি দেখেন।

একই সঙ্গে এই সাক্ষাৎকারে তাঁর আত্মবিশ্লেষণ, নিখুঁত হওয়ার তাগিদ, মানসিক চাপ, এবং কাজের প্রতি তাঁর দর্শন—সব মিলিয়ে একজন সমসাময়িক অভিনেত্রীর মানসিক জগতের একটি গভীর ও মানবিক চিত্র ফুটে ওঠে

এই আলাপচারিতায় জয়া আহসানের বক্তব্য শুধু একজন অভিনেত্রীর কাজের অভিজ্ঞতার কথা নয়, বরং আধুনিক সমাজের মানসিক জটিলতা, শিল্পীর অন্তর্দ্বন্দ্ব, এবং শৈশব ও মানবিকতার গভীর প্রশ্নগুলোকে সামনে এনে দেয়। ‘ওসিডি’ ছবির মাধ্যমে তিনি যে বিষয়গুলো তুলে ধরতে চাইছেন, সেগুলি কেবল একটি সিনেমার গল্প নয়—বরং সমাজের সেইসব অন্ধকার অধ্যায়, যেগুলি নিয়ে কথা বলতে মানুষ এখনও অস্বস্তি বোধ করে। মানসিক অসুস্থতা, শৈশবের ট্রমা, যৌন শোষণ—এসব বিষয় সামাজিকভাবে স্পর্শকাতর হওয়ায় অনেক সময় আলোচনার বাইরে থেকে যায়। কিন্তু জয়া আহসানের মতো শিল্পীরা যখন এগুলি নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলেন, তখন তা সচেতনতার নতুন দরজা খুলে দেয়।

অভিনয় নিয়ে তাঁর ‘নিখুঁত হওয়ার বাতিক’ আসলে একজন শিল্পীর আত্মদ্বন্দ্বের প্রতিচ্ছবি। একজন অভিনেত্রী হিসেবে নিজের সীমা অতিক্রম করার তাগিদ, একই রকম হয়ে যাওয়ার ভয়, এবং নিজেকে বারবার নতুনভাবে আবিষ্কার করার চেষ্টা—এসবই একজন সৃজনশীল মানুষের ভেতরের অবিরাম লড়াইকে তুলে ধরে। এই লড়াই কখনও তাঁকে অনুপ্রাণিত করে, আবার কখনও মানসিক ক্লান্তির দিকে ঠেলে দেয়। তবু তিনি বিশ্বাস করেন, মন দিয়ে কাজ করলে চাপ অনেকটাই কমে যায়—এই দর্শন তাঁর জীবনবোধের প্রতিফলন।

‘ওসিডি’ ছবিতে শিশুদের উপর নির্যাতন ও পিডোফিলিয়ার মতো বিষয় নিয়ে তাঁর প্রস্তুতি ও গবেষণার কথা শোনা যায়, যা একজন দায়িত্বশীল শিল্পীর পরিচয় দেয়। তিনি বুঝেছেন, এই ধরনের বিষয় নিয়ে কাজ করা শুধুমাত্র অভিনয়ের চ্যালেঞ্জ নয়, বরং সামাজিক দায়িত্বও। শিশুদের সঙ্গে যুক্ত যে কোনও বিষয় অত্যন্ত সংবেদনশীল, এবং সেই সংবেদনশীলতাকে যথাযথভাবে পর্দায় তুলে ধরতে হলে গভীর বোঝাপড়া ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োজন—এই উপলব্ধি তাঁর কথায় স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে।

বিশ্বব্যাপী আলোচিত ‘এপস্টিন ফাইল’ প্রসঙ্গ টেনে এনে তিনি দেখিয়েছেন, পিডোফিলিয়া কেবল কোনও বিচ্ছিন্ন অপরাধ নয়, বরং একটি বৈশ্বিক সামাজিক ও মানসিক সমস্যা, যা ক্ষমতা, প্রভাব এবং নীরবতার আড়ালে লুকিয়ে থাকে। এই বিষয়ে বাংলা সিনেমায় এখনও পর্যাপ্ত কাজ না হওয়াকে তিনি দুর্ভাগ্যজনক বলে উল্লেখ করেছেন। তাঁর মতে, শিল্প ও সিনেমা সমাজের আয়না—সেই আয়নায় সমাজের কুৎসিত দিকও প্রতিফলিত হওয়া প্রয়োজন, যাতে মানুষ সচেতন হয় এবং পরিবর্তনের দাবি তোলে।

শৈশবের যৌন শোষণ নিয়ে তাঁর বক্তব্য সমাজের এক নির্মম বাস্তবতাকে সামনে আনে। পরিবারের মধ্যেই অনেক সময় এই ধরনের ঘটনা ঘটে এবং সামাজিক লজ্জা বা ভয়ের কারণে তা গোপন রাখা হয়—এই সত্যটি তিনি অকপটে স্বীকার করেছেন। তাঁর কথায় স্পষ্ট, এই নীরবতা ভুক্তভোগীদের আরও একা করে দেয় এবং অপরাধীদের সাহসী করে তোলে। তাই এই বিষয়ে কথা বলা, শিল্পের মাধ্যমে তুলে ধরা এবং সামাজিক সচেতনতা তৈরি করা অত্যন্ত জরুরি।

জয়া আহসানের এই সাক্ষাৎকার একজন অভিনেত্রীর আত্মকথন হয়েও তার চেয়েও বেশি কিছু—এটি একজন চিন্তাশীল নাগরিক, একজন দায়িত্বশীল শিল্পী এবং একজন সংবেদনশীল মানুষের উপলব্ধির প্রতিফলন। তাঁর কথায় যেমন নিজের মানসিক দ্বন্দ্বের কথা আছে, তেমনই আছে সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতার স্বর। তিনি দেখিয়েছেন, অভিনয় শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়, বরং সমাজকে প্রশ্ন করার, সচেতন করার এবং আলোচনার নতুন ক্ষেত্র তৈরি করার এক শক্তিশালী মাধ্যম।

এই আলাপচারিতা আমাদের মনে করিয়ে দেয়, সিনেমা ও শিল্প মানুষের অনুভূতি, স্মৃতি এবং সমাজের অদৃশ্য ক্ষতগুলিকে দৃশ্যমান করে তুলতে পারে। ‘ওসিডি’ ছবির মাধ্যমে জয়া আহসান যে বিষয়গুলো তুলে ধরতে চাইছেন, তা হয়তো দর্শকদের অস্বস্তিতে ফেলবে, ভাবাবে, প্রশ্ন তুলবে—কিন্তু ঠিক সেখানেই শিল্পের সার্থকতা। তাঁর বক্তব্য থেকে স্পষ্ট, একজন শিল্পী হিসেবে তিনি শুধু জনপ্রিয়তার দৌড়ে নেই, বরং এমন গল্প বলতে চান, যা সমাজকে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করে।

এই সাক্ষাৎকারে জয়া আহসানের ব্যক্তিত্বের বহুস্তর উন্মোচিত হয়েছে—একদিকে নিখুঁত অভিনয়ের খোঁজে থাকা একজন পারফেকশনিস্ট শিল্পী, অন্যদিকে মানসিক স্বাস্থ্য ও শৈশবের সুরক্ষা নিয়ে গভীরভাবে চিন্তিত একজন মানবিক মানুষ। তাঁর কথায় উঠে এসেছে শিল্পীর দায়িত্ব, সমাজের অন্ধকার দিক, এবং ব্যক্তিগত আত্মসমালোচনার এক বিরল সমন্বয়। এসব মিলিয়ে এই আলাপচারিতা শুধুমাত্র একটি তারকার সাক্ষাৎকার নয়, বরং সমকালীন সমাজ ও শিল্পের একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল হিসেবেও বিবেচিত হতে পারে।

Preview image