হেলথকেয়ার NFO: বিনিয়োগে নতুন সুযোগ না কি লুকিয়ে আছে ঝুঁকি? ভারতের মিউচুয়াল ফান্ড বাজারে এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হেলথকেয়ার থিমেটিক NFO (New Fund Offer)। একের পর এক ফান্ড হাউস যেমন ICICI Prudential, Kotak, Bandhan, Axis Mutual Fund, স্বাস্থ্য ও ওষুধভিত্তিক ফান্ড চালু করছে। লক্ষ্য—দেশের ক্রমবর্ধমান হেলথকেয়ার ইকোসিস্টেমে বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি করা। এই খাতে বিনিয়োগের মূল আকর্ষণ হলো এর প্রবৃদ্ধি সম্ভাবনা। ভারতের স্বাস্থ্যসেবা বাজার আগামী ২০২৫ সালের মধ্যে ৫০০ বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে। হাসপাতাল, ডায়াগনস্টিক চেইন, ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানি, বায়োটেক ও ডিজিটাল হেলথ—সব মিলিয়ে এই খাত ভারতের GDP-তে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ফান্ডগুলো দীর্ঘমেয়াদে ভালো রিটার্ন দিতে পারে, কারণ মানুষ এখন প্রতিরোধমূলক চিকিৎসা, ইনসুরেন্স ও টেকনোলজি-নির্ভর স্বাস্থ্যসেবায় আগ্রহী হচ্ছে। তবে সুযোগের পাশাপাশি ঝুঁকিও কম নয়। যেহেতু এই NFO-গুলো নতুন, তাই এদের পারফর্মেন্সের কোনো ইতিহাস নেই। এছাড়া ফার্মা ও বায়োটেক খাত অনেক সময় নিয়ন্ত্রক বাধা, গবেষণা ব্যর্থতা ও বাজারের অস্থিরতায় প্রভাবিত হয়। বাজার বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে দিচ্ছেন, “হেলথকেয়ার NFO-তে বিনিয়োগ করার আগে নিজের ঝুঁকি-ক্ষমতা ও বিনিয়োগকাল বিবেচনা করা জরুরি।” যারা ৫-৭ বছরের জন্য বিনিয়োগ করতে পারেন এবং স্বাস্থ্য খাতের দীর্ঘমেয়াদী সম্ভাবনায় বিশ্বাস করেন, তাঁদের জন্য এটি হতে পারে একটি যুক্তিসঙ্গত বিকল্প। তবে যারা স্বল্পমেয়াদে মুনাফা খোঁজেন, তাদের জন্য এই ফান্ড ততটা উপযুক্ত নয়। সবশেষে বলা যায়—হেলথকেয়ার NFO নতুন দিগন্ত খুলে দিচ্ছে, কিন্তু বিনিয়োগের আগে সচেতনতা, বিশ্লেষণ ও ধৈর্যই এখানে সাফল্যের চাবিকাঠি।
ভারতের মিউচুয়াল ফান্ড বাজারে এখন নতুন ধারা — হেলথকেয়ার থিমেটিক NFO (New Fund Offer)। একের পর এক ফান্ড হাউস স্বাস্থ্য ও ওষুধভিত্তিক নতুন স্কিম চালু করছে, যার লক্ষ্য দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্যখাতের প্রবৃদ্ধিতে অংশ নেওয়া।
CNBC-TV18-এর প্রতিবেদন বলছে, এটি বিনিয়োগকারীদের জন্য যেমন নতুন সুযোগ, তেমনি কিছু গুরুতর ঝুঁকিও বয়ে আনতে পারে।
NFO বা New Fund Offer মানে হচ্ছে একটি নতুন মিউচুয়াল ফান্ড স্কিমের সূচনা, যেখানে বিনিয়োগকারীরা প্রাথমিকভাবে অংশ নিতে পারেন।
হেলথকেয়ার NFO হলো সেই থিমেটিক ফান্ড, যা শুধুমাত্র স্বাস্থ্যসেবা, ফার্মাসিউটিক্যালস, বায়োটেকনোলজি, মেডিক্যাল ইকুইপমেন্ট, হাসপাতাল, ও হেলথ-টেক কোম্পানিতে বিনিয়োগ করে।
এই খাত বর্তমানে ভারতের অর্থনীতির অন্যতম দ্রুতবর্ধনশীল সেক্টর। অনুমান অনুযায়ী, ২০২৫ সালের মধ্যে ভারতীয় হেলথকেয়ার বাজারের আকার দাঁড়াবে প্রায় ৫০০ বিলিয়ন ডলার।
COVID-19 মহামারির পর স্বাস্থ্যসেবা খাতের গুরুত্ব বহুগুণে বেড়েছে। মানুষ এখন প্রতিরোধমূলক চিকিৎসা, ডায়াগনস্টিকস, ইনসুরেন্স ও ডিজিটাল হেলথ-সেবায় বেশি বিনিয়োগ করছে।
অন্যদিকে সরকারও জাতীয় স্বাস্থ্য মিশন, জন আয়ুষ্মান যোজনা, এবং মেডিকেল ইনফ্রাস্ট্রাকচার প্রকল্পে বিপুল অর্থ বরাদ্দ করছে।
এই প্রবণতার ফলে স্বাস্থ্যসেবা খাত শুধু চিকিৎসা নয় — বরং প্রযুক্তি, উদ্ভাবন ও বিনিয়োগের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে।
ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানি: জেনেরিক ওষুধ রপ্তানিতে ভারত বিশ্বে প্রথম সারিতে। Sun Pharma, Cipla, Dr. Reddy’s, Lupin-এর মতো কোম্পানি বিশ্ববাজারে ভালো রিটার্ন দিচ্ছে।
হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক চেইন: Apollo Hospitals, Fortis, Narayana Health, Dr. Lal PathLabs ইত্যাদি কোম্পানির ব্যবসা মহামারির পর দ্বিগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।
হেলথ-টেক ও বায়োটেক স্টার্টআপ: Practo, 1mg, PharmEasy, MapMyGenome-এর মতো প্রতিষ্ঠান স্বাস্থ্য প্রযুক্তি বিপ্লবে নেতৃত্ব দিচ্ছে।
ইনসুরেন্স ও ডেটা ম্যানেজমেন্ট: ডিজিটাল হেলথ আইডি ও বীমা পরিষেবা বৃদ্ধির ফলে নতুন ব্যবসায়িক সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
এই কারণেই ফান্ড হাউসগুলো (যেমন ICICI Prudential, Bandhan, Kotak, Axis ইত্যাদি) ধারাবাহিকভাবে হেলথকেয়ার NFO চালু করছে।
তবে এই খাতে বিনিয়োগ মানেই নিশ্চিন্ত মুনাফা নয়। কিছু মৌলিক ঝুঁকি মনে রাখা জরুরি—
নতুন ফান্ড মানেই ইতিহাস নেই: যেহেতু NFO নতুন, তাই এর কোনও পুরোনো পারফর্মেন্স রেকর্ড নেই। তাই ভবিষ্যৎ রিটার্ন অনুমান করা কঠিন।
সেক্টর নির্ভরতা: থিমেটিক ফান্ড সাধারণত এক খাতেই কেন্দ্রীভূত থাকে, ফলে অন্য খাত দুর্বল হলে বা নীতিগত পরিবর্তন এলে ক্ষতি হতে পারে।
বাজারের অস্থিরতা: স্বাস্থ্যসেবা সাধারণত "defensive sector" হলেও, ফার্মা নিয়ন্ত্রণনীতি, পেটেন্ট মামলা, বা রপ্তানি বিধিনিষেধের কারণে আকস্মিক পতন ঘটতে পারে।
বিনিয়োগ খরচ বেশি: নতুন থিমে এক্সপেন্স রেশিও (expense ratio) ও ফান্ড ম্যানেজমেন্ট ফি তুলনামূলক বেশি হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের থিমেটিক ফান্ডে বিনিয়োগের আগে তিনটি বিষয় ভেবে নেওয়া জরুরি:
দীর্ঘমেয়াদী দৃষ্টিভঙ্গি: এই ফান্ডে কমপক্ষে ৫–৭ বছরের বিনিয়োগকাল দরকার, যাতে বাজার চক্রের ওঠানামা সামাল দেওয়া যায়।
বৈচিত্র্য বজায় রাখা: একমাত্র হেলথকেয়ারে সীমাবদ্ধ না থেকে, অন্যান্য সেক্টর ফান্ড (IT, FMCG, Infra) মিলিয়ে পোর্টফোলিও সাজানো বাঞ্ছনীয়।
ফান্ড ম্যানেজার ও AMC-র ইতিহাস দেখা: ফান্ড হাউসের পূর্ববর্তী পারফর্মেন্স, পরিচালকের অভিজ্ঞতা ও পোর্টফোলিও নির্বাচন পদ্ধতি যাচাই করা উচিত।
Bandhan Mutual Fund-এর চিফ ইনভেস্টমেন্ট অফিসার বলেন —
“হেলথকেয়ার খাতে প্রবৃদ্ধি স্পষ্ট, কিন্তু এটি ধৈর্য ও সঠিক নির্বাচনের খেলা। বিনিয়োগকারীকে বোঝা দরকার — এই ফান্ডে প্রবেশ মানে দীর্ঘমেয়াদি প্রতিশ্রুতি।”
অন্যদিকে Kotak AMC-র বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন —
“NFO লঞ্চ মানেই নতুন সুযোগ, কিন্তু বাজারে ইতিমধ্যেই বিদ্যমান হেলথকেয়ার ফান্ডও আছে। তাই পুরোনো ফান্ডগুলির পারফর্মেন্সের সঙ্গে তুলনা করেই সিদ্ধান্ত নিন।”