Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

আইসিসি-র মাসের সেরা শুভমন গিল! পঞ্চমবার পুরস্কার জিতে বিশ্বরেকর্ড ভারতীয় ব্যাটারের

ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের বিরুদ্ধে সেপ্টেম্বর মাসে তিন ম্যাচের সিরিজ়ে ৩৩৪ রান করে আইসিসি-র মাসের সেরা ক্রিকেটারের পুরস্কার জিতলেন শুভমন গিল। সিরিজ়ে দু’টি শতরান-সহ তাঁর সর্বোচ্চ স্কোর ছিল অপরাজিত ২২৩ রান। এই নিয়ে পঞ্চমবার এই সম্মান জিতে নজির গড়লেন ভারতীয় ব্যাটার।

পঞ্চমবার আইসিসি-র মাসের সেরা শুভমন গিল! নজির গড়ে ছাপিয়ে গেলেন সকলকে

আইসিসি-র সেপ্টেম্বর মাসের সেরা পুরুষ ক্রিকেটারের পুরস্কার জিতলেন ভারতীয় ব্যাটার শুভমন গিল। অভিষেক শর্মা ও সিকন্দর রাজ়াকে পিছনে ফেলে এই সম্মান পেয়েছেন তিনি। এই নিয়ে কেরিয়ারে পঞ্চমবার আইসিসি-র মাসের সেরা ক্রিকেটার নির্বাচিত হলেন শুভমন। এমন কৃতিত্ব আর কোনও ক্রিকেটারের নেই। ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের বিরুদ্ধে দুরন্ত ব্যাটিং, তিন ম্যাচে ৩৩৪ রান এবং অপরাজিত ২২৩ রানের ইনিংস তাঁকে এনে দিল এই বিশেষ স্বীকৃতি।

ভারতীয় ক্রিকেটে ধারাবাহিক সাফল্যের অন্যতম নাম শুভমন গিল। ব্যাট হাতে একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলে ইতিমধ্যেই নিজের জায়গা শক্ত করেছেন তিনি। কখনও দলের ইনিংসকে ভরসা দিয়েছেন, কখনও কঠিন পরিস্থিতিতে দায়িত্ব নিয়ে রান করেছেন, আবার কখনও বড় রান তাড়া করার পথে হয়ে উঠেছেন জয়ের অন্যতম নায়ক। এ বার তাঁর সেই পারফরম্যান্সের মুকুটে যোগ হল আরও একটি পালক। আইসিসি-র সেপ্টেম্বর মাসের সেরা পুরুষ ক্রিকেটারের পুরস্কার জিতে নতুন নজির গড়লেন ভারতীয় তারকা।

এই পুরস্কারের দৌড়ে শুভমনের সঙ্গে ছিলেন আরও দুই ক্রিকেটার—অভিষেক শর্মা ও সিকন্দর রাজ়া। তাঁদের পিছনে ফেলে সেরার সম্মান পেয়েছেন ভারতীয় ব্যাটার। তবে এই পুরস্কার তাঁর কাছে শুধু একটি মাসের পারফরম্যান্সের স্বীকৃতি নয়। কেরিয়ারে পঞ্চমবার এই সম্মান জিতে তিনি এমন একটি রেকর্ড গড়েছেন, যা এখনও পর্যন্ত অন্য কোনও ক্রিকেটারের নেই।

পঞ্চমবার মাসের সেরা ক্রিকেটার শুভমন

আইসিসি-র মাসের সেরা ক্রিকেটারের পুরস্কার ক্রিকেটারদের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি। নির্দিষ্ট মাসে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ধারাবাহিকতা, ব্যক্তিগত সাফল্য এবং দলের হয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের ভিত্তিতে এই পুরস্কারের জন্য ক্রিকেটারদের বিবেচনা করা হয়। সেই মঞ্চেই ফের নিজের দক্ষতার পরিচয় দিলেন শুভমন গিল।

এর আগে ২০২৩ সালের জানুয়ারি ও সেপ্টেম্বর মাসে এই পুরস্কার জিতেছিলেন শুভমন। তার পরে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি ও জুলাই মাসেও মাসের সেরা ক্রিকেটার নির্বাচিত হন তিনি। এ বার সেপ্টেম্বর মাসের পুরস্কার জিতে তাঁর ঝুলিতে জমা হল মোট পাঁচটি সম্মান।

একই ক্রিকেটারের বারবার এই পুরস্কার জেতা তাঁর ধারাবাহিকতারই পরিচায়ক। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রতিটি সিরিজ়ে ভালো পারফরম্যান্স করা সহজ নয়। প্রতিপক্ষের বোলিং, পিচের চরিত্র, ম্যাচের পরিস্থিতি এবং দলের প্রয়োজন—সব কিছুর সঙ্গে মানিয়ে নিতে হয় একজন ব্যাটারকে। তার উপর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রত্যাশার চাপও থাকে অনেক বেশি। সেই পরিস্থিতিতে বারবার নিজেকে প্রমাণ করে যাওয়া একজন ক্রিকেটারের বড় গুণ।

শুভমনের ক্ষেত্রে এই ধারাবাহিকতার গুরুত্ব আরও বেশি। তাঁর ব্যাটিংয়ের উপর ভারতীয় দলের প্রত্যাশা ক্রমশ বেড়েছে। ফলে প্রতিটি ভালো ইনিংসের সঙ্গে বাড়ছে তাঁর দায়িত্বও। সেপ্টেম্বর মাসে ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের বিরুদ্ধে তাঁর পারফরম্যান্স সেই দায়িত্ব পালনেরই একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ।

কীভাবে পিছনে ফেললেন অভিষেক শর্মা ও সিকন্দর রাজ়াকে?

সেপ্টেম্বর মাসের সেরা ক্রিকেটারের পুরস্কারের জন্য শুভমনের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন অভিষেক শর্মা ও সিকন্দর রাজ়া। অভিষেক ভারতের আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ের অন্যতম আলোচিত মুখ। অন্য দিকে, জ়িম্বাবোয়ের সিকন্দর রাজ়া দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিজের অলরাউন্ড দক্ষতার পরিচয় দিয়ে আসছেন।

এই দুই ক্রিকেটারকেও পিছনে ফেলে পুরস্কার জেতা শুভমনের সাফল্যকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করেছে। কারণ, মাসের সেরা ক্রিকেটার নির্বাচন কোনও একটি বড় ইনিংসের উপর নির্ভর করে না। সংশ্লিষ্ট সময়ের সামগ্রিক পারফরম্যান্সই সাধারণত এই স্বীকৃতির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

শুভমন সেপ্টেম্বর মাসে ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের বিরুদ্ধে যে ব্যাটিং করেছেন, তা তাঁকে এই দৌড়ে এগিয়ে দিয়েছে। তিন ম্যাচে ৩৩৪ রান, দু’টি শতরান এবং সর্বোচ্চ অপরাজিত ২২৩—এই পরিসংখ্যানই তাঁর ব্যাটিংয়ের প্রভাব বুঝিয়ে দেয়। বিশেষ করে বড় রান তাড়া করার সময়ে তাঁর অবদান ভারতের সাফল্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে বলে প্রকাশিত তথ্যে উল্লেখ রয়েছে।

এই পুরস্কার জয়ের ফলে শুভমনের ব্যক্তিগত সাফল্যের তালিকা আরও সমৃদ্ধ হল। একই সঙ্গে ভারতীয় ক্রিকেটের তরুণ প্রজন্মের মধ্যে তাঁর অবস্থানও আরও উজ্জ্বল হয়ে উঠল।

ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের বিরুদ্ধে ব্যাট হাতে দুরন্ত শুভমন

সেপ্টেম্বর মাসে ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের বিরুদ্ধে তিন ম্যাচে ৩৩৪ রান করেছেন শুভমন গিল। এই পরিসংখ্যানই বুঝিয়ে দেয়, সিরিজ়ে কতটা ধারাবাহিক ছিলেন তিনি। শুধু রানসংখ্যা নয়, তাঁর বড় ইনিংস খেলার ক্ষমতাও নজর কেড়েছে। সিরিজ়ে দু’টি শতরান করেছেন শুভমন। তাঁর সর্বোচ্চ স্কোর ছিল অপরাজিত ২২৩ রান।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে শতরান করা যে কোনও ব্যাটারের কাছেই বড় কৃতিত্ব। কিন্তু একাধিক শতরানের পাশাপাশি বড় রান তাড়া করার পরিস্থিতিতে দলের হয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেওয়া একজন ব্যাটারের দক্ষতাকে আরও স্পষ্ট করে। শুভমনের ইনিংসগুলির মূল্যও সেখানেই।

একজন ব্যাটারের সাফল্য বিচার করতে শুধু মোট রান দেখলেই হয় না। কোন পরিস্থিতিতে সেই রান এসেছে, কতটা চাপ সামলে তিনি ব্যাট করেছেন এবং দলের লক্ষ্যে পৌঁছতে তাঁর অবদান কতটা ছিল—এসব বিষয়ও সমান গুরুত্বপূর্ণ। শুভমনের ক্ষেত্রে ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের বিরুদ্ধে সিরিজ়ে এই একাধিক দিক উঠে এসেছে।

তিন ম্যাচে ৩৩৪ রান করার অর্থ, সিরিজ়ের ব্যাটিংয়ে তিনি ধারাবাহিকভাবে বড় অবদান রেখেছেন। দু’টি শতরান তাঁর ইনিংস গড়ার ক্ষমতার পরিচয় দিয়েছে। আর অপরাজিত ২২৩ রানের ইনিংস দেখিয়েছে, সুযোগ পেলে তিনি কতটা বড় স্কোরে পৌঁছতে পারেন।

এই পারফরম্যান্সের জন্যই সিরিজ়ের সেরা ক্রিকেটার নির্বাচিত হয়েছিলেন শুভমন। তার পর আইসিসি-র মাসের সেরা ক্রিকেটারের পুরস্কার জিতে তাঁর সাফল্যে যোগ হল আরও একটি বড় স্বীকৃতি।

৪০৬ রান তাড়া করে জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা

শুভমনের পারফরম্যান্সের অন্যতম উল্লেখযোগ্য দিক হল ৪০৬ রান তাড়া করে ভারতের জয়ের প্রসঙ্গ। ক্রিকেটে বড় লক্ষ্য তাড়া করার সময়ে ব্যাটারদের শুধু ভালো শট খেললেই চলে না। প্রয়োজন পরিস্থিতি বুঝে খেলার গতি নিয়ন্ত্রণ করা, উইকেট বাঁচিয়ে রাখা এবং প্রয়োজনের সময়ে রান তোলার গতি বাড়ানো।

বড় রান তাড়া করার সময়ে শুরুতেই উইকেট পড়ে গেলে দলের উপর চাপ বেড়ে যায়। আবার দ্রুত রান তুলতে গিয়ে একাধিক উইকেট হারালেও লক্ষ্য কঠিন হয়ে উঠতে পারে। তাই এই ধরনের ম্যাচে অভিজ্ঞতা, ধৈর্য এবং আক্রমণাত্মক মানসিকতার মধ্যে ভারসাম্য রাখা জরুরি।

শুভমনের ব্যাটিংয়ের ক্ষেত্রে এই ভারসাম্যই বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে। তাঁর বড় ইনিংস শুধু ব্যক্তিগত মাইলফলক নয়, দলের জয়ের সম্ভাবনাকেও শক্তিশালী করেছে। ৪০৬ রানের মতো বড় লক্ষ্য তাড়া করার প্রসঙ্গে তাঁর অবদান তাই আলাদা গুরুত্ব পেয়েছে।

তবে ক্রিকেটে কোনও জয়ই এক জনের কৃতিত্বে আসে না। ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি দলের অন্য ব্যাটারদের সহযোগিতা, পরিস্থিতি অনুযায়ী পরিকল্পনা এবং সামগ্রিক পারফরম্যান্সও গুরুত্বপূর্ণ। শুভমনের ইনিংস সেই দলগত প্রচেষ্টার একটি বড় অংশ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

এই জয়ের ফলে সিরিজ়ে ভারতের পারফরম্যান্স যেমন নজর কেড়েছে, তেমনই শুভমনের ব্যক্তিগত ফর্মও আলোচনার কেন্দ্রে এসেছে। তাঁর ব্যাটিংয়ের ধারাবাহিকতা শেষ পর্যন্ত তাঁকে সিরিজ়ের সেরা এবং মাসের সেরা ক্রিকেটারের স্বীকৃতি এনে দিয়েছে।

পুরস্কার জিতে কী বললেন শুভমন?

আইসিসি-র মাসের সেরা ক্রিকেটারের পুরস্কার পেয়ে আনন্দ প্রকাশ করেছেন শুভমন। তাঁর বক্তব্যে যেমন ব্যক্তিগত স্বীকৃতি পাওয়ার খুশি রয়েছে, তেমনই রয়েছে দেশের হয়ে রান করা এবং দলকে জেতানোর গুরুত্ব।

শুভমন বলেন, “খুব ভাল লাগছে। এটা আমার পঞ্চম পুরস্কার। যাঁরা আমাকে নির্বাচিত করেছেন তাঁদের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ। ভারতের হয়ে সব সময় রান করতে ভাল লাগে। সব সময় দলকে জেতাতে ভাল লাগে। তার পরে এই পুরস্কার আরও আনন্দের। আরও ভাল খেলার অনুপ্রেরণা পেলাম।”

এই বক্তব্যে স্পষ্ট, ব্যক্তিগত পুরস্কারকে তিনি ভবিষ্যতে আরও ভালো পারফরম্যান্স করার অনুপ্রেরণা হিসেবে দেখছেন। একজন ক্রিকেটারের কাছে ব্যক্তিগত সম্মান অবশ্যই আনন্দের। কিন্তু জাতীয় দলের হয়ে রান করা এবং দলের জয়ে অবদান রাখার গুরুত্ব তাঁর কাছে আরও বেশি—এমন বার্তাই উঠে এসেছে শুভমনের কথায়।

news image
আরও খবর

ক্রিকেটে ব্যক্তিগত পরিসংখ্যান একজন খেলোয়াড়ের পারফরম্যান্সের পরিচয় দেয়। কিন্তু দলের সাফল্যের সঙ্গে সেই পারফরম্যান্স যুক্ত হলে তার মূল্য আরও বেড়ে যায়। শুভমনের বক্তব্যেও সেই মানসিকতার প্রতিফলন রয়েছে।

পঞ্চমবার এই পুরস্কার জেতার পর তাঁর সামনে এখন আরও বড় চ্যালেঞ্জ ধারাবাহিকতা বজায় রাখা। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রতিপক্ষরা প্রত্যেক খেলোয়াড়ের শক্তি ও দুর্বলতা বিশ্লেষণ করে মাঠে নামে। ফলে একবার সাফল্য পাওয়ার পর সেই সাফল্য ধরে রাখতে নতুন করে প্রস্তুতি নিতে হয়। শুভমনের মতো ব্যাটারের ক্ষেত্রেও সেই চ্যালেঞ্জ রয়েছে।

ভারতের ক্রিকেটারদের মধ্যে শুভমনের নজির

আইসিসি-র মাসের সেরা পুরুষ ক্রিকেটারের পুরস্কার চালু হওয়ার পর থেকে ভারতীয় ক্রিকেটাররা একাধিকবার এই সম্মান পেয়েছেন। দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ভারতের ১১ জন পুরুষ ক্রিকেটার মোট ১৭ বার এই পুরস্কার জিতেছেন। তাঁদের মধ্যে একা শুভমনের ঝুলিতে রয়েছে পাঁচটি পুরস্কার।

এই পরিসংখ্যান তাঁকে ভারতীয় ক্রিকেটের অন্যতম সফল পুরস্কারজয়ী খেলোয়াড় হিসেবে তুলে ধরে। একই সঙ্গে বোঝায়, সাম্প্রতিক বছরগুলিতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ভারতীয় ক্রিকেটারদের পারফরম্যান্স কতটা নজর কেড়েছে।

চলতি বছরে শুভমন ছাড়াও ভারতীয় ক্রিকেটারদের মধ্যে সঞ্জু স্যামসন এই পুরস্কার পেয়েছেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। মার্চ মাসে সেরা ক্রিকেটার নির্বাচিত হয়েছিলেন সঞ্জু। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল ও ফাইনাল-সহ তিন ম্যাচে ভারতের জয়ে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য তাঁকে এই স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছিল বলে প্রকাশিত তথ্যে দাবি করা হয়েছে।

ভারতীয় ক্রিকেটে একাধিক ফরম্যাটে প্রতিভাবান খেলোয়াড় উঠে আসছেন। কেউ টেস্ট ক্রিকেটে বড় ইনিংস খেলছেন, কেউ এক দিনের ক্রিকেটে ধারাবাহিকতা দেখাচ্ছেন, আবার কেউ টি-টোয়েন্টিতে দ্রুত রান করে নজর কাড়ছেন। এই বৈচিত্র্যের মধ্যে শুভমনের মতো ব্যাটারের সাফল্য ভারতীয় ক্রিকেটের সামগ্রিক শক্তিকেও সামনে আনে।

শুভমনের ব্যাটিংয়ের বড় শক্তি ধারাবাহিকতা

একজন ভালো ব্যাটার এবং একজন ধারাবাহিক ব্যাটারের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। কোনও ক্রিকেটার এক ম্যাচে বড় রান করতেই পারেন। কিন্তু একাধিক ম্যাচে নিয়মিত রান করা, বড় ইনিংসকে শতরানে পরিণত করা এবং দলের প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যাটিং করা অনেক বেশি কঠিন।

শুভমনের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সে ধারাবাহিকতার বিষয়টি বিশেষভাবে আলোচিত হয়েছে। তিন ম্যাচে ৩৩৪ রান করার পাশাপাশি দু’টি শতরান তাঁর ব্যাটিংয়ের স্থিতিশীলতা তুলে ধরে। অপরাজিত ২২৩ রানের ইনিংস আবার তাঁর বড় স্কোর করার সামর্থ্যের প্রমাণ হিসেবে সামনে এসেছে।

আধুনিক ক্রিকেটে ব্যাটারদের উপর প্রত্যাশা অনেক বেশি। দ্রুত রান তোলার পাশাপাশি উইকেট ধরে রাখার দক্ষতাও প্রয়োজন। পরিস্থিতি অনুযায়ী কখন আক্রমণ করতে হবে এবং কখন ধৈর্য ধরতে হবে, সেই সিদ্ধান্তই অনেক সময় ম্যাচের ফল নির্ধারণ করে। শুভমনের ব্যাটিংয়ে এই দুই দিকের ভারসাম্য তাঁকে বিশেষ জায়গা দিয়েছে।

তবে কোনও খেলোয়াড়ের কেরিয়ার সব সময় একই রকম যায় না। ফর্মের ওঠানামা, চোট, প্রতিপক্ষের পরিকল্পনা এবং ম্যাচের পরিস্থিতি প্রত্যেক ক্রিকেটারের পারফরম্যান্সে প্রভাব ফেলে। তাই পঞ্চমবার পুরস্কার জয়ের পর শুভমনের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হবে নিজের প্রস্তুতি ও ধারাবাহিকতা বজায় রাখা।

সামনে আরও বড় প্রত্যাশা

পঞ্চমবার আইসিসি-র মাসের সেরা ক্রিকেটারের পুরস্কার জেতার পর শুভমন গিলকে ঘিরে প্রত্যাশা আরও বাড়বে। সমর্থকেরা চাইবেন, তিনি আগামী সিরিজ়গুলিতেও একইভাবে রান করুন এবং ভারতকে জেতাতে সাহায্য করুন। তবে প্রত্যাশার চাপ সামলে নিজের স্বাভাবিক খেলায় মন দেওয়া একজন ক্রিকেটারের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

শুভমনের নিজের বক্তব্যেও সেই দিকটি স্পষ্ট। পুরস্কারকে তিনি আরও ভালো খেলার অনুপ্রেরণা হিসেবে দেখছেন। অর্থাৎ, এই স্বীকৃতিকে সাফল্যের শেষ ধাপ নয়, বরং পরবর্তী লক্ষ্যের পথে উৎসাহ হিসেবে নিতে চান তিনি।

তাঁর সামনে এখন একাধিক চ্যালেঞ্জ থাকবে। ভিন্ন প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে খেলা, আলাদা ধরনের পিচে মানিয়ে নেওয়া এবং দলের প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যাটিং করা—সবই গুরুত্বপূর্ণ। বড় রান করার পাশাপাশি কঠিন পরিস্থিতিতে দায়িত্ব নেওয়ার ক্ষমতাও তাঁকে প্রমাণ করে যেতে হবে।

তবে সেপ্টেম্বর মাসে ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের বিরুদ্ধে তাঁর পারফরম্যান্স যে নজর কেড়েছে, তা স্পষ্ট। ৩৩৪ রান, দু’টি শতরান, অপরাজিত ২২৩ এবং দলের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা—সব মিলিয়ে মাসের সেরা ক্রিকেটারের পুরস্কার তাঁর কাছে যথার্থ স্বীকৃতি হয়ে উঠেছে।

এক নজরে শুভমনের সাফল্য

  • পুরস্কার: আইসিসি-র মাসের সেরা পুরুষ ক্রিকেটার

  • মাস: সেপ্টেম্বর

  • প্রতিদ্বন্দ্বী: অভিষেক শর্মা ও সিকন্দর রাজ়া

  • ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের বিরুদ্ধে রান: ৩৩৪

  • শতরান: ২টি

  • সর্বোচ্চ স্কোর: অপরাজিত ২২৩

  • মোট মাসসেরা পুরস্কার: ৫টি

  • আগের পুরস্কার: জানুয়ারি ২০২৩, সেপ্টেম্বর ২০২৩, ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ও জুলাই ২০২৫

সব মিলিয়ে, শুভমন গিলের পঞ্চমবার আইসিসি-র মাসের সেরা ক্রিকেটার হওয়া তাঁর কেরিয়ারের একটি উল্লেখযোগ্য অধ্যায়। ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের বিরুদ্ধে দুরন্ত ব্যাটিং তাঁকে ব্যক্তিগত সাফল্যের পাশাপাশি দলের জয়ের নায়ক হিসেবেও সামনে এনেছে। পাঁচবার এই পুরস্কার জিতে নতুন নজির গড়েছেন তিনি। এবার সেই সাফল্যের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে আগামী দিনেও ভারতীয় দলের হয়ে বড় অবদান রাখাই হবে তাঁর পরবর্তী লক্ষ্য।

Preview image