Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

হোপের সেঞ্চুরিতে ভারতের বিরুদ্ধে ওয়েস্ট ইন্ডিজের দাপট! ২৪ রানে হার, সিরিজে সমতা, শনিবার নির্ণায়ক ম্যাচ

রাঁচিতে ২৫০ রানের লক্ষ্য সহজেই টপকে গিয়েছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ, কিন্তু নিজামের শহরে ২৪৮ রান তাড়া করতে নেমে ব্যর্থ ভারত। ক্যারিবিয়ানদের কাছে ২৪ রানে হেরে সিরিজে সমতা ফেরাল ওয়েস্ট ইন্ডিজ, ফলে শনিবারের ম্যাচই হতে চলেছে নির্ণায়ক।

হোপের সেঞ্চুরিতে ভারতের বিরুদ্ধে ওয়েস্ট ইন্ডিজের দাপট! ২৪ রানে হার, সিরিজে সমতা, শনিবার নির্ণায়ক ম্যাচ

ভারত ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের টি-২০ সিরিজ জমে উঠেছে চূড়ান্ত পর্যায়ে। রাঁচিতে ২৫০ রানের লক্ষ্য তাড়া করে অনায়াসে জয় তুলে নিয়েছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। কিন্তু পরের ম্যাচে ২৪৮ রানের লক্ষ্য সামনে রেখে ব্যাট করতে নেমে সেই প্রত্যাশিত লড়াই দেখাতে পারল না ভারত। বুধবার নিজামের শহরে ক্যারিবিয়ানদের কাছে ২৪ রানে হেরে পাঁচ ম্যাচের সিরিজে সমতা ফিরিয়ে আনল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। সিরিজের ফলাফল এখন ২-২। ফলে শনিবার বেঙ্গালুরুতে অনুষ্ঠিত হতে চলা শেষ ম্যাচই ঠিক করে দেবে সিরিজের চূড়ান্ত ভাগ্য।

একদিকে ওয়েস্ট ইন্ডিজ অধিনায়ক শাই হোপের দুরন্ত শতরান, অন্যদিকে কিমো পলের পাঁচ উইকেট— দুই ক্যারিবিয়ান ক্রিকেটারের পারফরম্যান্সই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। রান তাড়া করতে নেমে ভারতের শুরুটা ছিল অবিশ্বাস্য রকমের আক্রমণাত্মক। মাত্র তিন ওভারেই স্কোরবোর্ডে ৫০ রান তুলে দিয়েছিল ভারতীয় দল। কিন্তু সেই ঝোড়ো শুরুকে বড় জয়ে পরিণত করতে পারলেন না ব্যাটাররা। মাঝের ওভারগুলিতে একের পর এক উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে গেল ভারত।

হোপের শতরানে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বড় রান

প্রথমে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই ভারতীয় বোলারদের উপর চাপ তৈরি করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ক্যারিবিয়ান ব্যাটারদের লক্ষ্য ছিল বড় স্কোর খাড়া করে ভারতকে কঠিন পরিস্থিতিতে ফেলা। সেই পরিকল্পনায় সবচেয়ে বড় ভূমিকা নেন অধিনায়ক শাই হোপ। এবারের ভারত সফরে ধারাবাহিকভাবে দুর্দান্ত ফর্মে রয়েছেন তিনি। একদিনের আন্তর্জাতিক সিরিজে পরপর দুটি শতরানের পর টি-২০ সিরিজেও নিজের ব্যাটিং দক্ষতার প্রমাণ দিলেন ক্যারিবিয়ান অধিনায়ক।

এদিন তাঁর ইনিংসের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক ছিল পরিস্থিতি অনুযায়ী ব্যাটিংয়ের গতি বাড়ানোর ক্ষমতা। শুরুতে ইনিংস গড়ে তোলার পাশাপাশি শেষের দিকে দ্রুত রান তুলে দলকে বড় স্কোরে পৌঁছে দেন হোপ। ইনিংসের শেষ বলে ছক্কা মেরে টি-২০ ক্রিকেটে নিজের তৃতীয় শতরান পূর্ণ করেন তিনি। ৫০ বলে অপরাজিত ১০২ রান করেন হোপ। তাঁর ইনিংসে ছিল ৯টি ছক্কা ও ৪টি চার।

শুধু শতরান করাই নয়, এই ইনিংসের মাধ্যমে টি-২০ ক্রিকেটে ২০০০ রানের মাইলফলকও অতিক্রম করেন তিনি। ক্যারিবিয়ান দলের হয়ে এই ফরম্যাটে তাঁর শতরানের সংখ্যা যে বিশেষ কৃতিত্বের পরিচয় দেয়, তা বলাই যায়। বিশেষ করে ভারতের মতো শক্তিশালী দলের বিরুদ্ধে চাপের ম্যাচে অধিনায়কের এমন ইনিংস দলের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দেবে।

হোপের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন শেরফানে রাদারফোর্ড। বাঁ-হাতি এই ব্যাটার ২৬ বলে অপরাজিত ৪৯ রান করেন। তাঁর ইনিংসে ছিল চারটি চার ও তিনটি ছক্কা। হোপের সঙ্গে তাঁর অবিচ্ছিন্ন জুটি ম্যাচের শেষ পর্বে ভারতের বোলারদের কার্যত দিশেহারা করে দেয়।

চতুর্থ উইকেটে মাত্র ৪৩ বলে ৯১ রান যোগ করেন হোপ ও রাদারফোর্ড। এই জুটির সৌজন্যেই ওয়েস্ট ইন্ডিজ শেষ পর্যন্ত তিন উইকেটে ২৪৭ রানে পৌঁছে যায়। ইনিংসের শেষ দিকে দ্রুত রান ওঠায় ভারতের সামনে বড় লক্ষ্য দাঁড়ায়। আর সেই লক্ষ্য তাড়া করতে গিয়ে ব্যাটিংয়ের একাধিক দুর্বলতা প্রকাশ্যে চলে আসে।

হেটমায়ার, পাওয়েল ও অ্যান্ড্রুর অবদান

শুধু হোপ ও রাদারফোর্ড নন, ওয়েস্ট ইন্ডিজের অন্য ব্যাটাররাও দলের বড় স্কোর গড়তে সাহায্য করেন। শিমরন হেটমায়ার মাত্র ১২ বলে ৩৩ রান করে ভারতীয় বোলারদের উপর চাপ তৈরি করেন। তাঁর ঝোড়ো ইনিংসে ছিল একাধিক বড় শট। দ্রুত রান তোলার ফলে ভারতীয় অধিনায়ককে বোলিং পরিবর্তন এবং ফিল্ডিং সাজানোর ক্ষেত্রে বারবার ভাবতে হয়।

রভম্যান পাওয়েল ১৭ বলে ২৪ রান করেন। জেয়েল অ্যান্ড্রুও ১৬ বলে ২১ রান যোগ করে দলের স্কোরকে এগিয়ে নিয়ে যান। এই ছোট ছোট অবদানগুলিই শেষ পর্যন্ত বড় পার্থক্য গড়ে দেয়। ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটিংয়ে একাধিক ব্যাটার দ্রুত রান তুলতে পারায় ভারতীয় বোলাররা কোনও নির্দিষ্ট ব্যাটারকে কেন্দ্র করে পরিকল্পনা কার্যকর করার সুযোগ পাননি।

ভারতের হয়ে উইকেট নেন প্রিন্স যাদব, অক্ষর প্যাটেল ও অর্শদীপ সিং। প্রিন্স যাদব ৩৬ রানে একটি উইকেট নেন। অক্ষর প্যাটেল ৪৫ রানে একটি এবং অর্শদীপ সিং ৫২ রানে একটি উইকেট পান। তবে উইকেট পেলেও ক্যারিবিয়ানদের রান তোলার গতি পুরোপুরি আটকে রাখা সম্ভব হয়নি।

মায়াঙ্ক যাদব ৫২ রান দিয়ে কোনও উইকেট পাননি। নীতীশ রেড্ডি ৩৯ রান দিয়ে উইকেটহীন থাকেন। নমন ধীরও উইকেট পাননি। ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটিংয়ের গভীরতা এবং আক্রমণাত্মক মানসিকতার সামনে ভারতীয় বোলিংয়ের সীমাবদ্ধতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

রান তাড়ায় ভারতের ঝোড়ো শুরু

২৪৮ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ভারতের শুরু দেখে মনে হয়েছিল, ম্যাচটি হয়তো সহজেই নিজেদের দিকে নিয়ে যাবে স্বাগতিক দল। ওপেনিংয়ে সঞ্জু স্যামসন শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করেন। তাঁর ব্যাট থেকে একের পর এক বাউন্ডারি ও ছক্কা আসতে থাকে। মাত্র তিন ওভারেই ভারতের স্কোর ৫০ ছুঁয়ে ফেলে। এই ঝোড়ো শুরুর মূল কারিগর ছিলেন সঞ্জু।

অন্যদিকে অভিষেক শর্মার অবদান শুরুতে ছিল মাত্র এক রান। সঞ্জুর আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ের ফলে ভারতীয় ইনিংসের গতি দ্রুত বাড়তে থাকে। মাত্র ২০ বলে অর্ধশতরান পূর্ণ করেন সঞ্জু। তাঁর ব্যাটিংয়ে ছিল আত্মবিশ্বাস এবং বড় শট খেলার স্বাভাবিক ক্ষমতার পরিচয়।

শেষ পর্যন্ত ২৩ বলে ৫৬ রান করে আউট হন সঞ্জু। তাঁর ইনিংসে ছিল ছয়টি চার ও চারটি ছক্কা। কিমো পলের বলে বড় শট খেলতে গিয়ে সীমানার কাছে রিলে ক্যাচে ধরা পড়েন তিনি। এই উইকেটটি ছিল ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলির একটি। কারণ, সঞ্জু ক্রিজে থাকলে ভারতের রান তাড়া করার গতি বজায় থাকার সম্ভাবনা ছিল।

সঞ্জুর বিদায়ের পর তিন বলের মধ্যেই আউট হন ঈষান কিষান। মাত্র ছয় রান করে তাঁকে ফিরতে হয়। ফলে দ্রুত রান তোলার আনন্দের মধ্যেই ভারতীয় শিবিরে চাপ বাড়তে শুরু করে।

পাওয়ার প্লের পরই ভারতের ব্যাটিংয়ে ধস

প্রথম ছয় ওভারের শেষে ভারতের স্কোর ছিল দুই উইকেটে ৮০ রান। এই অবস্থায় লক্ষ্য তাড়া করার আশা যথেষ্ট উজ্জ্বল ছিল। কিন্তু টি-২০ ক্রিকেটে দ্রুত রান তোলার পাশাপাশি উইকেট ধরে রাখাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। ভারতীয় ব্যাটাররা সেই ভারসাম্য বজায় রাখতে ব্যর্থ হন।

শ্রেয়স আয়ার ১৬ রান করে শামার স্প্রিঙ্গারকে আক্রমণ করতে গিয়ে উইকেট হারান। এরপর অভিষেক শর্মা ২৯ রান করে আউট হন। এদিন তাঁর ব্যাটিংয়ে প্রত্যাশিত ছন্দ দেখা যায়নি। বাঁ-হাতি স্পিনার গুডাকেশ মোতির বলে তাঁকে ফিরতে হয়।

এর পরেই ঘটে আরও বড় বিপর্যয়। মোতির পরের বলেই স্টাম্পড হন নমন ধীর। কোনও রান না করেই তাঁকে ফিরে যেতে হয়। পরপর উইকেট হারিয়ে ভারতীয় ব্যাটিংয়ের উপর চাপ আরও বেড়ে যায়। দ্রুত রান তোলার যে সুবিধা প্রথম কয়েক ওভারে তৈরি হয়েছিল, তা ক্রমশ নষ্ট হতে থাকে।

নীতীশ রেড্ডি ক্রিজে এসে মোতির হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনা আটকে দেন। তবে ভারতের সামনে তখন বড় চ্যালেঞ্জ ছিল ইনিংসকে আবার স্থিতিশীল করা এবং একই সঙ্গে প্রয়োজনীয় রানরেট বজায় রাখা।

এই পরিস্থিতিতে তিলক ভার্মা লড়াই চালিয়ে যান। তিনি কিছুটা সময় নিয়ে ব্যাটিং করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সময়ে বড় শট খেলার চেষ্টা করেন। কিন্তু তাঁর ইনিংসও শেষ পর্যন্ত ভারতকে জয়ের পথে ফিরিয়ে আনতে পারেনি।

news image
আরও খবর

তিলক ভার্মার লড়াইও যথেষ্ট হল না

মাঝের ওভারগুলিতে ভারতীয় ইনিংসের ভরসা হয়ে উঠেছিলেন তিলক ভার্মা। তিনি ২৫ বলে ৪৩ রান করেন। তাঁর ব্যাটিংয়ে আক্রমণাত্মক মনোভাব থাকলেও পরিস্থিতি অনুযায়ী উইকেট ধরে রাখার চেষ্টাও ছিল। ভারতীয় সমর্থকদের আশা ছিল, তিলক শেষ পর্যন্ত ক্রিজে থাকলে ম্যাচের ফল অন্য রকম হতে পারে।

কিন্তু তাঁর উইকেট হারানোর পর ভারতের জয়ের সম্ভাবনা ক্রমশ কমে যায়। বড় লক্ষ্য তাড়া করার ক্ষেত্রে সেট ব্যাটারের উইকেট হারানো সব সময়ই বড় ধাক্কা। বিশেষ করে যখন হাতে ওভার কমে আসছে এবং প্রয়োজনীয় রানরেট বাড়ছে, তখন নতুন ব্যাটারের পক্ষে দ্রুত ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।

শেষ দুই ওভারে ভারতের জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ৪৩ রান। পরিস্থিতি তখন প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়। নীতীশ রেড্ডি শেষ দিকে চেষ্টা করলেও দলকে জেতাতে পারেননি। তিনি ২০ বলে ৪১ রান করেন। তাঁর ব্যাটিংয়ে কিছুটা লড়াই দেখা গেলেও ওয়েস্ট ইন্ডিজের তৈরি করা বড় স্কোর টপকানোর জন্য তা যথেষ্ট ছিল না।

শেষ পর্যন্ত ভারত ২২৩ রানে থামে। ফলে ২৪ রানের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ভারতের ইনিংসে সঞ্জু ও তিলকের গুরুত্বপূর্ণ অবদান এবং নীতীশের শেষ দিকের লড়াই সত্ত্বেও মাঝের ওভারগুলিতে উইকেট হারানোর খেসারত দিতে হয় দলকে।

কিমো পলের পাঁচ উইকেটেই ম্যাচের মোড়

ওয়েস্ট ইন্ডিজের জয়ের অন্যতম নায়ক কিমো পল। ভারত যখন দ্রুত রান তুলে ম্যাচের উপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করছিল, তখন তাঁর বোলিং ভারতীয় ব্যাটিংয়ের গতি থামিয়ে দেয়। পাঁচ উইকেট নিয়ে তিনি ভারতের রান তাড়া করার পরিকল্পনায় বড় ধাক্কা দেন।

টি-২০ ক্রিকেটে ২৪৮ রানের মতো বড় লক্ষ্য তাড়া করতে গেলে শুরুতে দ্রুত রান তোলার পাশাপাশি মাঝের ওভারগুলিতে উইকেট বাঁচানো জরুরি। সঞ্জু স্যামসনের মতো আক্রমণাত্মক ব্যাটারকে ফিরিয়ে পল ভারতকে প্রথম বড় ধাক্কা দেন। এরপর গুরুত্বপূর্ণ সময়ে উইকেট তুলে নিয়ে চাপ আরও বাড়ান তিনি।

ভারতের ব্যাটাররা যখন দ্রুত রান তুলছিলেন, তখন ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রয়োজন ছিল এমন একজন বোলার, যিনি উইকেট এনে দিয়ে ম্যাচের গতিপথ বদলে দিতে পারবেন। পল সেই দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর পাঁচ উইকেটের পারফরম্যান্সই ক্যারিবিয়ানদের বড় স্কোরকে জয়ে পরিণত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়।

টস জিতে ব্যাটিং—ক্যারিবিয়ানদের পরিকল্পনা সফল

এই সিরিজে টস জিতে ব্যাটিং করার প্রবণতা বিশেষভাবে চোখে পড়েছে। তিন ম্যাচের একদিনের সিরিজের পর টি-২০ সিরিজেও প্রথমে ব্যাটিং করে বড় রান তোলার কৌশল কার্যকর হয়েছে। রাঁচিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বড় লক্ষ্য তাড়া করে জয় পাওয়া ভারতের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছিল। কিন্তু পরের ম্যাচে পরিস্থিতি উলটে যায়।

এদিন টস জেতার পর ভারতীয় অধিনায়ক শ্রেয়স আয়ার রান তাড়া করার সিদ্ধান্ত নেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম ইনিংসে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে আটকে রেখে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটারদের সাহায্যে লক্ষ্য টপকে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ক্যারিবিয়ান ব্যাটাররা ২৪৭ রান তুলে সেই পরিকল্পনাকে কঠিন করে দেন।

ভারতের শুরু ছিল অসাধারণ। কিন্তু টি-২০ ম্যাচে প্রথম কয়েক ওভারের দাপটই শেষ কথা নয়। বড় লক্ষ্য তাড়া করতে গেলে ধারাবাহিক পার্টনারশিপ, উইকেটের সঠিক ব্যবহার এবং চাপ সামলানোর ক্ষমতা প্রয়োজন। ভারত সেই জায়গাগুলিতে পিছিয়ে পড়ে।

অন্যদিকে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ব্যাটিংয়ে একাধিক অবদান পেয়েছে। হোপের শতরান, রাদারফোর্ডের অপরাজিত ৪৯ এবং অন্য ব্যাটারদের দ্রুত রান দলকে বড় স্কোরে পৌঁছে দেয়। পরে কিমো পলের বোলিং সেই স্কোরকে সুরক্ষিত করতে সাহায্য করে।

ভারতীয় বোলিং নিয়ে বাড়ছে প্রশ্ন

এই ম্যাচের ফল ভারতের বোলিং বিভাগ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। বড় স্কোর আটকাতে হলে শুধু উইকেট নেওয়াই যথেষ্ট নয়, রান তোলার গতি নিয়ন্ত্রণ করাও জরুরি। ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটাররা যখন আক্রমণ শুরু করেন, তখন ভারতীয় বোলারদের পক্ষে ধারাবাহিকভাবে চাপ তৈরি করা কঠিন হয়ে পড়ে।

অর্শদীপ সিং, অক্ষর প্যাটেল ও প্রিন্স যাদব উইকেট পেলেও সামগ্রিকভাবে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে তিন উইকেটে ২৪৭ রানে পৌঁছতে বাধা দেওয়া যায়নি। অন্যদিকে কয়েকজন বোলার উইকেট না পাওয়ায় প্রতিপক্ষের ব্যাটারদের থামানোর জন্য কার্যকর বিকল্প কমে যায়।

স্ট্রাইক বোলারের অভাবও আলোচনায় উঠে এসেছে। গুরুত্বপূর্ণ সময়ে উইকেট তুলে নেওয়ার মতো বোলার থাকলে বড় লক্ষ্য তৈরি হওয়ার আগেই প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলা সম্ভব। কিন্তু এদিন হোপ ও রাদারফোর্ডের জুটি সেই সুযোগ দেয়নি। তাঁরা শেষের দিকে দ্রুত রান তুলে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে শক্তিশালী জায়গায় নিয়ে যান।

তবে একটি ম্যাচের ফলের ভিত্তিতে পুরো বোলিং বিভাগকে বিচার করা ঠিক হবে না। সিরিজের শেষ ম্যাচে ভারতীয় দল কীভাবে বোলিং পরিকল্পনা সাজায়, কোন বোলারকে কোন পরিস্থিতিতে ব্যবহার করে এবং ডেথ ওভারে রান আটকানোর কৌশল কী হয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

শনিবার বেঙ্গালুরুতে সিরিজের নির্ণায়ক ম্যাচ

সিরিজের ফল এখন ২-২। ফলে শনিবার বেঙ্গালুরুতে শেষ ম্যাচটি কার্যত ফাইনালের মর্যাদা পেয়েছে। যে দল এই ম্যাচ জিতবে, সিরিজের ট্রফি উঠবে তাদের হাতেই। দুই দলই এখন জানে, শেষ ম্যাচে সামান্য ভুলও বড় মূল্য চোকাতে বাধ্য করতে পারে।

ভারতের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে বোলিংয়ের দুর্বলতা কাটিয়ে ওঠা এবং রান তাড়া করার সময় ব্যাটিংয়ের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা। দ্রুত রান তোলার ক্ষমতা ভারতীয় ব্যাটারদের রয়েছে, তার প্রমাণ সঞ্জু স্যামসনের ২৩ বলে ৫৬ রানের ইনিংস। কিন্তু মাঝের ওভারগুলিতে উইকেটের পতন রুখতে না পারলে বড় লক্ষ্য তাড়া করা কঠিন হয়ে উঠবে।

অন্যদিকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের আত্মবিশ্বাস এখন অনেকটাই বাড়বে। শাই হোপের দুরন্ত ফর্ম, রাদারফোর্ডের কার্যকর ব্যাটিং এবং কিমো পলের পাঁচ উইকেট দলকে সিরিজ জয়ের স্বপ্ন দেখাচ্ছে। তবে শেষ ম্যাচে নতুন করে শুরু করতে হবে দুই দলকেই।

সব মিলিয়ে এই ম্যাচ ভারতকে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা দিল। বড় লক্ষ্য তাড়া করার ক্ষেত্রে শুধু ঝোড়ো শুরু যথেষ্ট নয়, মাঝের ওভারগুলিতে উইকেট ধরে রাখা জরুরি। একই সঙ্গে বোলিং বিভাগকে প্রতিপক্ষের রান তোলার গতি নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। শনিবার বেঙ্গালুরুতে এই দুই ক্ষেত্রেই ভারত কতটা উন্নতি করতে পারে, তার উপর নির্ভর করবে সিরিজের ভাগ্য।

রাঁচিতে ভারতের দাপটের পর এবার পাল্টা জবাব দিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। হোপের শতরান এবং পলের পাঁচ উইকেটে সিরিজে সমতা ফিরেছে। এখন অপেক্ষা শনিবারের নির্ণায়ক ম্যাচের— যেখানে একটি জয়ই ঠিক করে দেবে শেষ হাসি কে হাসবে, ভারত না ক্যারিবিয়ানরা।

Preview image