Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

ডব্লিউপিএল ২০২৬ নিলাম সব রেকর্ড ভাঙলেন ১৮ বছরের বাঙালি অলরাউন্ডার

৫ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬ এর নিলামে টাকার বৃষ্টি দেখল ক্রিকেট বিশ্ব। ১৮ বছর বয়সী এক বাঙালি অলরাউন্ডারকে রেকর্ড ৩ কোটি ৫০ লক্ষ টাকায় দলে নিল মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স। স্মৃতি মান্ধানা এবং হরমনপ্রীত কৌরের উপস্থিতিতে এই নিলাম ছিল উত্তেজনায় পূর্ণ। বাংলার ক্রিকেট ইতিহাসে এটি এক নতুন অধ্যায়।

ভারতের মহিলা ক্রিকেটের ইতিহাসে আজকের দিনটি অর্থাৎ ৫ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬ কেবল একটি তারিখ হিসেবে ক্যালেন্ডারে থাকবে না বরং এটি স্বর্ণাক্ষরে খোদাই করা থাকবে। আরব সাগরের তীরে মুম্বাইয়ের এক অভিজাত পাঁচতারা হোটেলে উইমেনস প্রিমিয়ার লিগ বা ডব্লিউপিএল এর চতুর্থ সংস্করণের নিলাম আজ অনুষ্ঠিত হলো। সকাল থেকেই ক্রিকেট প্রেমীদের নজর ছিল এই নিলামের দিকে। টেলিভিশন এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে চোখ রেখেছিলেন কোটি কোটি দর্শক। দেশি বিদেশি তারকা ক্রিকেটারদের ভিড়ে, অস্ট্রেলিয়া এবং ইংল্যান্ডের বিশ্বসেরা খেলোয়াড়দের উপস্থিতিতে সবার অলক্ষ্যেই লাইমলাইট ছিনিয়ে নিলেন বাংলার এক ১৮ বছর বয়সী তরুণী। মাত্র ১০ লক্ষ টাকার বেস প্রাইস বা ন্যূনতম মূল্য থেকে শুরু করে তার দাম গিয়ে পৌঁছাল ৩ কোটি ৫০ লক্ষ টাকায়। মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স এবং রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোরের মধ্যে দীর্ঘ এবং শ্বাসরুদ্ধকর লড়াই শেষে বাজিমাত করল নীতা আম্বানির দল। এই বিপুল অর্থের বিনিময়ে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সে যোগ দিয়ে তিনি ভেঙে দিলেন অতীতের সব রেকর্ড এবং রচনা করলেন এক নতুন রূপকথা।

নিলাম কক্ষের নাটকীয় মুহূর্ত এবং স্নায়ুর লড়াই

দুপুর ৩টে নাগাদ যখন নিলাম শুরু হয় তখন পরিবেশ ছিল বেশ শান্ত। নিলামকারী বা অকশনিয়ার মল্লিকা সাগর তার পরিচিত ভঙ্গিমায় একের পর এক নাম ঘোষণা করছিলেন। মার্কি প্লেয়ার বা তারকা খেলোয়াড়দের সেট শেষ হওয়ার পর শুরু হয় আনকোরা বা আনক্যাপড প্লেয়ারদের নিলাম। সাধারণত এই বিভাগে খুব বেশি দরদাম হয় না। দলগুলো তাদের স্কোয়াড পূর্ণ করার জন্য অল্প দামে প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের খোঁজে। কিন্তু আজকের দিনটা ছিল অন্যরকম।

হঠাৎ নিলামকারীর স্ক্রিনে ভেসে ওঠে এক আনকোরা বাঙালি অলরাউন্ডারের নাম। ১৮ বছর বয়স, ডানহাতি ফাস্ট বোলার এবং লোয়ার অর্ডার ব্যাটার। বেস প্রাইস মাত্র ১০ লক্ষ টাকা। নাম ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই প্যাডল তোলেন দিল্লি ক্যাপিটালস এর প্রতিনিধিরা। সঙ্গে সঙ্গে সাড়া দেয় ইউপি ওয়ারিয়র্স। প্রথমে মনে হয়েছিল এটি একটি সাধারণ বিডিং যুদ্ধ হবে যা ৫০-৬০ লক্ষ টাকায় শেষ হবে। কিন্তু আসল নাটক শুরু হয় যখন দর ৫০ লক্ষ টাকা ছাড়িয়ে যায়।

হঠাৎ করেই আসরে নামে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোর। আরসিবি টেবিলে বসে থাকা অধিনায়িকা স্মৃতি মান্ধানা ইশারা করেন বিড বাড়ানোর জন্য। আর ঠিক তার উল্টো দিকে বসে থাকা মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের অধিনায়িকা হরমনপ্রীত কৌর এবং মেন্টর ঝুলন গোস্বামী নিজেদের মধ্যে গভীর পরামর্শ শুরু করেন। ঝুলন গোস্বামীর চোখে ছিল এক দৃঢ় প্রত্যয়। তিনি মাথা নেড়ে সম্মতি জানাতেই মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের প্যাডল ওপরে ওঠে।

নিলাম কক্ষের পরিবেশ তখন থমথমে। ১ কোটি, ১.৫ কোটি, ২ কোটি—দাম বাড়ছিল রকেটের গতিতে। প্রতিটি বিডের সাথে সাথে দর্শকদের হৃদস্পন্দন বাড়ছিল। নিলামকারীও অবাক হয়ে যাচ্ছিলেন এই তরুণীর চাহিদা দেখে। যখন দর ২ কোটি ৫০ লক্ষ টাকা ছাড়াল, তখন দিল্লি এবং ইউপি রণে ভঙ্গ দেয়। কিন্তু আরসিবি এবং মুম্বাই কেউ পিছু হটতে রাজি নয়।

স্মৃতি মান্ধানা ফোনে তার টিম ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে কথা বলছিলেন, অন্যদিকে নীতা আম্বানি ফোনে নির্দেশ দিচ্ছিলেন। ৩ কোটি টাকায় পৌঁছানোর পর পুরো ঘর নিস্তব্ধ হয়ে যায়। একটি আনকোরা মেয়ে, যার আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হয়নি, তার জন্য এত কাড়াকাড়ি কেন? এই প্রশ্ন তখন সবার মনে। অবশেষে ৩ কোটি ৪০ লক্ষ টাকায় আরসিবি থামতে বাধ্য হয় কারণ তাদের পার্সে আর বেশি টাকা অবশিষ্ট ছিল না। ৩ কোটি ৫০ লক্ষ টাকায় হাতুড়ির বাড়ি মেরে নিলামকারী ঘোষণা করেন যে বাংলার এই বিস্ময় বালিকা এখন মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স পরিবারের সদস্য। সঙ্গে সঙ্গে মুম্বাইয়ের টেবিলে উল্লাস ফেটে পড়ে। ঝুলন গোস্বামীর মুখে দেখা যায় চওড়া হাসি। তিনি জানতেন তিনি হিরের টুকরো খুঁজে পেয়েছেন।

কে এই ১৮ বছরের বিস্ময় এবং তার সংগ্রামের কাহিনী

এই ৩.৫ কোটি টাকার মালিক কোনো শহরের মেয়ে নন। তিনি উঠে এসেছেন নদীয়া জেলার এক প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে। যেখানে ক্রিকেট খেলা তো দূরের কথা, মেয়েদের বাড়ির বাইরে বেরোনোই অনেক সময় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে। ছোটবেলা থেকেই তার ক্রিকেটের প্রতি ছিল অদম্য নেশা। টেনিস বলে গ্রামের ছেলেদের সঙ্গে ক্রিকেট খেলতেন। তার বাবা একজন সাধারণ কৃষক এবং মা গৃহবধূ। নুন আনতে পান্তা ফুরোনোর সংসারে ক্রিকেট সরঞ্জাম কেনা ছিল বিলাসিতা।

কিন্তু তার প্রতিভা চাপা থাকেনি। গ্রামের এবড়োখেবড়ো মাঠে বল হাতে তার গতি দেখে স্থানীয়রা অবাক হতো। তার বাবা তার মেয়ের স্বপ্ন পূরণের জন্য নিজের সামান্য জমি বন্ধক রেখে প্রথম ক্রিকেট কিট কিনে দিয়েছিলেন। সেই ত্যাগের কথা মনে করে আজ অনেকের চোখ ভিজে গেছে। স্থানীয় এক কোচের নজরে পড়ে তিনি কলকাতায় আসেন। প্রতিদিন ভোর ৪টেয় উঠে লোকাল ট্রেনে করে নদীয়া থেকে শিয়ালদহ, তারপর সেখান থেকে ময়দান—এই ছিল তার নিত্যদিনের রুটিন। ট্রেনের ভিড়, ক্লান্তি, এবং সমাজের বাঁকা কথা—কোনো কিছুই তাকে আটকাতে পারেনি।

কলকাতায় আসার পর তিনি সিএবি বা ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অফ বেঙ্গলের বয়সভিত্তিক টুর্নামেন্টগুলোতে অংশ নেন। সেখানে তার পারফরম্যান্স নির্বাচকদের নজর কাড়ে। গত বছর অনূর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপে ভারতের জয়ের পেছনে তার বড় অবদান ছিল। তিনি একাধারে যেমন ১৪০ কিলোমিটার গতিতে বল করতে পারেন, তেমনই লোয়ার অর্ডারে নেমে বিশাল সব ছক্কা হাঁকাতে পারেন। তার এই হার্ড হিটিং ক্ষমতা এবং পেস বোলিং তাকে আধুনিক টি-২০ ক্রিকেটের জন্য এক পারফেক্ট প্যাকেজ বানিয়ে তুলেছে।

ঝুলন গোস্বামীর ভূমিকা এবং জহুরির চোখ

বাংলার মেয়ে হয়েও মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সে এত বড় সুযোগ পাওয়ার পেছনে 'চাকদহ এক্সপ্রেস' খ্যাত ঝুলন গোস্বামীর বড় ভূমিকা রয়েছে। ঝুলন গোস্বামী নিজেও নদীয়া জেলার মেয়ে এবং তিনি জানেন সেখান থেকে উঠে আসতে কতটা লড়াই করতে হয়। মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের বোলিং কোচ এবং মেন্টর হিসেবে ঝুলন গোস্বামী গত দুই বছর ধরে এই মেয়েটির ওপর গোপনে নজর রাখছিলেন।

ঘরোয়া ক্রিকেটে, বিশেষ করে সিনিয়র ওমেন্স টি-২০ ট্রফিতে এই তরুণীর পারফরম্যান্স দেখে ঝুলন নিশ্চিত ছিলেন যে এই মেয়ে আন্তর্জাতিক মঞ্চে রাজত্ব করবে। তিনি জানতেন, এমন একজন পেস বোলিং অলরাউন্ডার ভারতীয় ক্রিকেটে বিরল। নিলামের পর ঝুলন সংবাদমাধ্যমকে বলেন, আমরা জানতাম ওকে পেতে হলে আমাদের বড় অঙ্ক খরচ করতে হবে। স্কাউটিং রিপোর্ট অনুযায়ী ও ছিল আমাদের তালিকার শীর্ষে। ও আমাদের দলের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করবে এবং আগামী ১০ বছর ভারতীয় ক্রিকেটকে সার্ভিস দেবে।

news image
আরও খবর

পারিবারিক প্রতিক্রিয়া এবং গ্রামের উৎসব

মেয়ের এই অবিশ্বাস্য সাফল্যের খবর যখন টিভি চ্যানেলের মাধ্যমে নদীয়া জেলার সেই ছোট্ট গ্রামে পৌঁছায়, তখন সেখানে উৎসবের মেজাজ। বাড়ির সামনে গ্রামবাসীরা ভিড় জমিয়েছে, যেন কোনো মেলা বসেছে। আবির খেলা হচ্ছে, মিষ্টি বিতরণ করা হচ্ছে। মেয়েটির বাবা, যার হাত-পায়ে মাটির গন্ধ লেগে আছে, তিনি আনন্দ অশ্রু মুছতে মুছতে বলেন, আমি বিশ্বাসই করতে পারছি না। আমরা খুব সাধারণ মানুষ। এত টাকা আমরা স্বপ্নেও দেখিনি। আমার মেয়ে তার পরিশ্রমের ফল পেয়েছে। ও দেশের নাম উজ্জ্বল করুক, এটাই আমি চাই।

মা বলেন, ও ছোটবেলা থেকে খুব জেদি ছিল। সবাই বলত মেয়ে হয়ে ক্রিকেট খেলে কী হবে? কিন্তু ও শুনত না। বলত, মা দেখবে একদিন টিভিতে আমার খেলা দেখাবে। আজ ওর স্বপ্ন পূরণ হলো। তবে টাকাটা বড় কথা নয়, ও যে বড় বড় খেলোয়াড়দের সাথে খেলবে, সেটাই আমাদের কাছে গর্বের।

বাংলার ক্রিকেটে নতুন জোয়ার এবং অনুপ্রেরণা

বাংলার মহিলা ক্রিকেট রিচা ঘোষ এবং তিতাস সাধুর হাত ধরে আগেই বিশ্বমঞ্চে পরিচিতি পেয়েছে। কিন্তু ৩.৫ কোটি টাকার এই চুক্তি বাংলার হাজার হাজার উঠতি ক্রিকেটারকে নতুন স্বপ্ন দেখাবে। সিএবি সভাপতি স্নেহাশিস গাঙ্গুলি এই ঘটনাকে বাংলার ক্রিকেটের জন্য এক ঐতিহাসিক দিন বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, এটি প্রমাণ করে যে প্রতিভা থাকলে টাকা বা সুযোগ কোনোটা আটকাতে পারে না। আমরা আশা করি এই সাফল্য দেখে আরও অনেক মেয়ে ক্রিকেটে আসতে উৎসাহিত হবে। গ্রাম বাংলার মেয়েরা এখন বিশ্বাস করবে যে ক্রিকেটকে পেশা হিসেবে নেওয়া সম্ভব এবং সেখানেও সাফল্যের আকাশ ছোঁয়া যায়।

মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের রণকৌশল এবং দলে তার ভূমিকা

মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স বরাবরই তরুণ প্রতিভাদের ওপর বিনিয়োগ করতে পছন্দ করে। ছেলেদের আইপিএলে জসপ্রীত বুমরাহ বা হার্দিক পান্ডিয়াকে তারা যেভাবে তৈরি করেছে, মেয়েদের ডব্লিউপিএলেও তারা একই পথে হাঁটছে। হরমনপ্রীত কৌর, ন্যাট সাইভার ব্রান্ট, হেইলি ম্যাথিউজ এবং অ্যামেলিয়া কেরের মতো বিশ্বসেরা তারকাদের সঙ্গে ড্রেসিংরুম শেয়ার করার সুযোগ এই ১৮ বছরের তরুণীর কাছে এক বিশাল শিক্ষার আসর হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স এই তরুণীকে 'ফিনিশার' এবং 'ডেথ বোলার' হিসেবে ব্যবহার করতে পারে। শেষের দিকে তার বড় শট খেলার ক্ষমতা ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে। এছাড়া নতুন বলে তার সুইং করানোর ক্ষমতা এবং পুরনো বলে রিভার্স সুইং করার দক্ষতা ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামের পিচে অত্যন্ত কার্যকর হতে পারে। আধুনিক ক্রিকেটে একজন পেস বোলিং অলরাউন্ডারের গুরুত্ব অপরিসীম, আর ঠিক সেই অভাবটাই পূরণ করবেন তিনি।

তুলনামূলক বিশ্লেষণ এবং অর্থের মূল্য

প্রথম ডব্লিউপিএল নিলামে স্মৃতি মান্ধানা ৩ কোটি ৪০ লক্ষ টাকায় বিক্রি হয়ে রেকর্ড গড়েছিলেন। পরবর্তীকালে কাশভি গৌতম বা অ্যানাবেল সাদারল্যান্ডের মতো খেলোয়াড়রা ভালো দাম পেলেও, মান্ধনার রেকর্ড ভাঙা কঠিন ছিল। কিন্তু ২০২৬ সালে এসে এক আনকোরা ১৮ বছরের কিশোরী সেই রেকর্ড ভেঙে চুরমার করে দিল। এটি প্রমাণ করে যে মহিলাদের ক্রিকেটের বাজার কতটা বৃদ্ধি পেয়েছে। স্পনসররা এখন মেয়েদের ক্রিকেটে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী এবং ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা করছে। তারা এখন কেবল বর্তমান পারফরম্যান্স দেখছে না, তারা ভবিষ্যতের সম্ভাবনার ওপর বাজি ধরছে।

ভবিষ্যতের হাতছানি এবং প্রত্যাশার চাপ

এই বিপুল অর্থ প্রাপ্তি যেমন আনন্দের, তেমনই এটি এক বিশাল দায়িত্বও বটে। ৩.৫ কোটি টাকার প্রাইস ট্যাগ মাথায় নিয়ে মাঠে নামা সহজ নয়। প্রতিটা বল এবং প্রতিটা শটের ওপর মিডিয়া এবং দর্শকদের নজর থাকবে। সামান্য ব্যর্থতাতেই সমালোচনার ঝড় উঠতে পারে। তবে তার ছোটবেলার কোচ মনে করেন, এই মেয়েটি চাপের মুখে আরও ভালো খেলে। তিনি বলেন, ও ভয়ডরহীন ক্রিকেট খেলে। ও যখন ব্যাট ধরে, তখন ও ভুলে যায় ওর দাম কত। ও শুধু বলটাকে বাউন্ডারির বাইরে পাঠাতে জানে।

আগামী মার্চ মাস থেকে শুরু হতে চলা ডব্লিউপিএল ২০২৬-এ সবার চোখ থাকবে এই বাঙালি কন্যার দিকে। তিনি কি পারবেন তার দামের প্রতি সুবিচার করতে? তিনি কি পারবেন মুম্বাইকে ট্রফি এনে দিতে? সময়ই তার উত্তর দেবে। তবে আজ ৫ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ভারতের ক্রিকেট ইতিহাসে এক নতুন নক্ষত্রের জন্ম হলো, তা বলাই বাহুল্য। এই নিলাম শুধু টাকার খেলা ছিল না, এটি ছিল স্বপ্নের উড়ান। নদীয়া থেকে মুম্বাই—এই যাত্রা হাজারো বাধার এবং হাজারো ত্যাগের গল্প।

এই ঘটনা আবারও প্রমাণ করল যে ভারতের কোনায় কোনায় প্রতিভা ছড়িয়ে আছে। প্রয়োজন শুধু সঠিক মঞ্চ এবং সঠিক সুযোগের। ডব্লিউপিএল সেই মঞ্চ তৈরি করে দিয়েছে। আজ এক বাঙালি মেয়ে সেই মঞ্চে দাঁড়িয়ে বিশ্বকে জানান দিল যে সে এসেছে জয় করতে। তার এই যাত্রা কেবল তার একার নয়, এটি ভারতের প্রতিটি গ্রামের সেই মেয়েটির যাত্রা, যে স্বপ্ন দেখে আকাশের দিকে তাকিয়ে। ৩.৫ কোটি টাকা কেবল একটি সংখ্যা, কিন্তু এর পেছনের বার্তাটি অমূল্য—স্বপ্ন দেখো, পরিশ্রম করো, একদিন পৃথিবী তোমাকে কুর্নিশ জানাবে।

Preview image