Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

বরফজলে ডুব, নিয়মিত জিম—৬০ পেরিয়েও কীভাবে ফিট Anil Kapoor?

৬৯ বছর বয়সেও অবিশ্বাস্য ফিটনেসে সকলকে চমকে দিচ্ছেন Anil Kapoor। নিয়মিত শরীরচর্চা, নিয়ন্ত্রিত ডায়েট এবং শৃঙ্খলাবদ্ধ জীবনযাপনই তাঁর তারুণ্য ধরে রাখার মূল রহস্য।

৬৯-এও তরুণ! অনিল কপূরের ফিটনেস রহস্য—আইস বাথ থেকে স্ট্রেংথ ট্রেনিং

৬৯ বছর বয়স—এই সময়টাকে সাধারণত শরীরের অবনতি, ক্লান্তি আর ধীরগতির সঙ্গে যুক্ত করা হয়। কিন্তু এই ধারণাকে সম্পূর্ণ বদলে দিয়েছেন বলিউডের অন্যতম ফিট অভিনেতা Anil Kapoor। তাঁর সুঠাম বাহু, শক্তপোক্ত পেশি এবং অফুরন্ত এনার্জি দেখে অনেকেই অবাক হন—এ যেন বয়সকে হার মানানো এক বাস্তব উদাহরণ।

বয়স বাড়লেও শরীর নুয়ে পড়েনি, বরং দিন দিন আরও চনমনে হয়ে উঠছেন তিনি। সিনেমার অ্যাকশন দৃশ্যেও এখনও একইরকম স্বচ্ছন্দ, প্রাণবন্ত। প্রশ্ন একটাই—এই ফিটনেসের রহস্য কী?

এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই উঠে আসে তাঁর কঠোর নিয়ম, শৃঙ্খলাবদ্ধ জীবনযাপন, বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে শরীরচর্চা এবং আধুনিক থেরাপির সমন্বয়।


হাইপারবারিক অক্সিজেন থেরাপি: আধুনিক ফিটনেসের নতুন দিক

কিছুদিন আগে সমাজমাধ্যমে একটি ছবি ভাইরাল হয়েছিল, যেখানে Anil Kapoor-কে হাইপারবারিক অক্সিজেন চেম্বারের মধ্যে শুয়ে থাকতে দেখা যায়। এই ছবি পোস্ট করেছিলেন বর্ষীয়ান অভিনেতা Anupam Kher।

এই থেরাপিতে শরীরকে উচ্চচাপে বিশুদ্ধ অক্সিজেন দেওয়া হয়, যা কোষ পুনর্গঠন, এনার্জি বৃদ্ধি এবং বয়সজনিত ক্লান্তি কমাতে সাহায্য করে বলে দাবি করা হয়। অনেক সেলিব্রিটির মধ্যেই এখন এই ধরনের থেরাপি জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।

এটি মূলত শরীরের কোষে অক্সিজেনের সরবরাহ বাড়িয়ে টিস্যু রিপেয়ার দ্রুত করে এবং শরীরকে ভেতর থেকে সতেজ রাখে।


নিয়মিত শরীরচর্চা: ফিট থাকার মূল চাবিকাঠি

নিজেই বহুবার জানিয়েছেন Anil Kapoor—ফিট থাকার সবচেয়ে বড় রহস্য হল নিয়মিত শরীরচর্চা। কোনও শর্টকাট নেই, নেই অলসতার জায়গা।

তিনি নিয়মিত করেন—

  • স্ট্রেংথ ট্রেনিং

  • কার্ডিয়ো

  • আপার কোর এক্সারসাইজ

  • ওয়েট লিফটিং

এই ব্যায়ামগুলি শুধুমাত্র পেশি গঠনের জন্য নয়, বরং শরীরের সামগ্রিক ফাংশন উন্নত করার জন্যও অত্যন্ত কার্যকর।


পেশি ধরে রাখার জন্য বিশেষ ব্যায়াম

ডাম্বেল শোল্ডার প্রেস

এই ব্যায়াম কাঁধের পেশিকে শক্তিশালী করে এবং শরীরের আপার বডিকে সুগঠিত করে। নিয়মিত করলে শরীরের ভারসাম্যও ভালো থাকে।

চেস্ট প্রেস

চেস্ট প্রেস পেশিকে প্রশস্ত করে এবং বুকের গঠন উন্নত করে। এটি হার্টের স্বাস্থ্যের জন্যও উপকারী কারণ এতে রক্ত সঞ্চালন বাড়ে।

ইনক্লাইন ডাম্বেল প্রেস

৩০–৪৫ ডিগ্রি কোণে বেঞ্চে শুয়ে এই ব্যায়াম করলে বুকের উপরের অংশ এবং কাঁধ আরও শক্তিশালী হয়।

এই ধরনের ব্যায়াম দক্ষিণী সুপারস্টার Rajinikanth-ও নিয়মিত করেন বলে জানা যায়।


বাইসেপ ও ট্রাইসেপের জন্য কার্যকর ওয়ার্কআউট

বাইসেপ কার্ল

ডাম্বেল বা বারবেল দিয়ে করা এই ব্যায়াম বাহুর পেশিকে শক্তিশালী করে। সঠিক ভঙ্গি বজায় রাখা খুব গুরুত্বপূর্ণ—কনুই শরীরের সঙ্গে লাগানো থাকতে হবে।

হ্যামার কার্ল

হাতুড়ি মারার ভঙ্গিতে করা এই ব্যায়াম বাইসেপের পাশাপাশি ফোরআর্মকেও শক্তিশালী করে।

ট্রাইসেপ বেঞ্চ ডিপ

এই ব্যায়াম বাহুর পিছনের পেশিকে শক্তিশালী করে। বেঞ্চ বা চেয়ারের সাহায্যে সহজেই করা যায়।


স্ট্রেংথ ট্রেনিং কেন জরুরি?

স্ট্রেংথ ট্রেনিং শুধু পেশি বাড়ানোর জন্য নয়, বরং—

  • হাড় শক্ত করে

  • মেটাবলিজম বাড়ায়

  • শরীরের ফ্যাট কমায়

  • বয়সজনিত দুর্বলতা কমায়

৬০-এর পরেও শরীরকে সক্রিয় রাখতে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।


কার্ডিয়ো: এনার্জি ও সহনশীলতার চাবিকাঠি

স্ট্রেংথ ট্রেনিংয়ের পাশাপাশি কার্ডিয়োও সমান গুরুত্বপূর্ণ। এটি—

  • হার্টকে সুস্থ রাখে

  • ক্যালোরি বার্ন করে

  • স্ট্যামিনা বাড়ায়

হালকা দৌড়, সাইক্লিং বা দ্রুত হাঁটা—এইসবই কার্ডিয়োর অন্তর্ভুক্ত।


বরফজলে স্নান: ক্রায়োথেরাপির জাদু

ফিটনেস রুটিনে সবচেয়ে আকর্ষণীয় অংশ হল আইস বাথ বা ক্রায়োথেরাপি

এই পদ্ধতিতে ১০–১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস ঠান্ডা জলে প্রায় ১০–১৫ মিনিট ডুব দিয়ে থাকতে হয়।

এর উপকারিতা:

  • পেশির প্রদাহ কমায়

  • দ্রুত রিকভারি হয়

  • রক্ত সঞ্চালন বাড়ায়

  • ফ্যাট বার্নে সাহায্য করে

  • শরীরকে সতেজ রাখে

ওয়ার্কআউটের পরে এই থেরাপি করলে পেশির ব্যথা অনেকটাই কমে যায়।


কেন জনপ্রিয় হচ্ছে এই ট্রেন্ড?

বর্তমানে শুধু সেলিব্রিটিরাই নয়, সাধারণ মানুষও এই ফিটনেস ট্রেন্ড অনুসরণ করছেন। কারণ—

  • দ্রুত ফল পাওয়া যায়

  • বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত উপকারিতা

  • বয়স কম দেখানোর আকর্ষণ

তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের থেরাপি শুরু করার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।


ডায়েট ও লাইফস্টাইল: ফিটনেসের অদৃশ্য স্তম্ভ

শুধু ব্যায়াম নয়, ডায়েট ও জীবনযাপনও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

Anil Kapoor নিজের খাদ্যাভ্যাসে রাখেন—

তিনি ধূমপান বা অ্যালকোহল থেকেও দূরে থাকেন—যা তাঁর ফিটনেস ধরে রাখতে বড় ভূমিকা রাখে।


শৃঙ্খলাই আসল রহস্য

সবশেষে বলা যায়, ফিটনেসের আসল রহস্য কোনও ম্যাজিক নয়—বরং নিয়মিততা এবং শৃঙ্খলা।

প্রতিদিন একই রুটিন মেনে চলা, শরীরের যত্ন নেওয়া এবং নিজের সীমাবদ্ধতা বোঝা—এই তিনটি জিনিসই তাঁকে আলাদা করে তুলেছে।


সাধারণ মানুষের জন্য কী শেখার আছে?

Anil Kapoor-এর ফিটনেস রুটিন থেকে আমরা কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা নিতে পারি—

বয়স কোনও বাধা নয়
নিয়মিত ব্যায়ামই আসল
শরীরের যত্ন নিতে হবে বৈজ্ঞানিকভাবে
শর্টকাট নয়, ধারাবাহিকতা জরুরি

মানসিক ফিটনেস: শরীরের মতোই গুরুত্বপূর্ণ

শুধু শরীরচর্চা নয়, মানসিকভাবে সুস্থ থাকাও ফিটনেসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ—এ কথাও বারবার বলেছেন Anil Kapoor। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অনেকেই মানসিক চাপ, উদ্বেগ বা একাকীত্বে ভোগেন। কিন্তু অনিল কপূর নিজেকে সবসময় ইতিবাচক চিন্তাভাবনার মধ্যে রাখার চেষ্টা করেন।

তিনি নিয়মিত ধ্যান (মেডিটেশন), শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম এবং নিজের পছন্দের কাজে সময় দেন। এর ফলে মন শান্ত থাকে, স্ট্রেস কমে এবং শরীরও সুস্থ থাকে। বিশেষজ্ঞদের মতে, মানসিক চাপ কম থাকলে শরীরে কর্টিসল হরমোনের মাত্রা কমে, যা ওজন নিয়ন্ত্রণ ও পেশি গঠনে সাহায্য করে।


রুটিন মেনে চলার গুরুত্ব

অনেকেই ফিটনেস শুরু করেন, কিন্তু নিয়মিততা বজায় রাখতে পারেন না। এখানেই আলাদা হয়ে যান Anil Kapoor। তিনি প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময় মেনে শরীরচর্চা করেন।

তার দিন শুরু হয় খুব সকালে। হালকা স্ট্রেচিং বা মোবিলিটি এক্সারসাইজ দিয়ে দিন শুরু করে ধীরে ধীরে মূল ওয়ার্কআউটে যান। এই নিয়মিত অভ্যাস শরীরকে একটি নির্দিষ্ট ছন্দে অভ্যস্ত করে তোলে।


ওয়ার্ম-আপ ও কুল-ডাউন: ছোট কিন্তু জরুরি অংশ

অনেকেই সরাসরি ভারী ব্যায়াম শুরু করে দেন, যা শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। কিন্তু Anil Kapoor কখনওই ওয়ার্ম-আপ এড়ান না।

ওয়ার্ম-আপ করলে—

  • পেশি নমনীয় হয়

  • চোট লাগার সম্ভাবনা কমে

  • পারফরম্যান্স ভালো হয়

একইভাবে ওয়ার্কআউটের পরে কুল-ডাউন বা স্ট্রেচিং করাও অত্যন্ত জরুরি। এতে পেশি দ্রুত রিকভার করে এবং ব্যথা কম হয়।


বয়স অনুযায়ী ব্যায়াম বেছে নেওয়া

একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল—সব ব্যায়াম সবার জন্য নয়। বয়স, শরীরের অবস্থা এবং ফিটনেস লেভেল অনুযায়ী ব্যায়াম নির্বাচন করা উচিত।

Anil Kapoor নিজেও প্রশিক্ষকের তত্ত্বাবধানে ব্যায়াম করেন। এতে শরীরের উপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে না এবং আঘাতের ঝুঁকি কমে।

৬০-এর পর যাঁরা ব্যায়াম শুরু করতে চান, তাঁদের জন্য—

  • হালকা ওয়েট

  • কম রিপিটেশন

  • বেশি রেস্ট

এই নিয়মগুলি মেনে চলা গুরুত্বপূর্ণ।


রিকভারি: ফিটনেসের অদৃশ্য অংশ

অনেকেই মনে করেন বেশি ব্যায়াম মানেই বেশি ফিটনেস। কিন্তু আসলে রিকভারি বা বিশ্রামও সমান জরুরি।

Anil Kapoor-এর রুটিনে যেমন আইস বাথ রয়েছে, তেমনই পর্যাপ্ত বিশ্রামও রয়েছে।

রিকভারি কেন জরুরি?

  • পেশি পুনর্গঠন হয়

  • শক্তি ফিরে আসে

  • ইনজুরি কমে

তিনি নিয়মিত ৭–৮ ঘণ্টা ঘুমান, যা শরীরের পুনরুদ্ধারের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।


জলপান: সহজ কিন্তু কার্যকর অভ্যাস

ফিটনেসের ক্ষেত্রে জলপানের গুরুত্ব অনেকেই অবহেলা করেন। কিন্তু শরীরের প্রায় প্রতিটি প্রক্রিয়ার সঙ্গে জলের সম্পর্ক রয়েছে।

Anil Kapoor দিনে পর্যাপ্ত পরিমাণে জল পান করেন। এতে—

  • শরীর হাইড্রেটেড থাকে

  • টক্সিন বেরিয়ে যায়

  • স্কিন ভালো থাকে

  • এনার্জি লেভেল বজায় থাকে

বিশেষ করে ওয়ার্কআউটের আগে ও পরে জল পান করা খুবই জরুরি।


প্রেরণা: নিজেকে ধরে রাখার শক্তি

ফিট থাকা শুধু শারীরিক বিষয় নয়, এটি মানসিক দৃঢ়তারও পরীক্ষা। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অনেকেই উৎসাহ হারিয়ে ফেলেন। কিন্তু Anil Kapoor নিজের লক্ষ্য থেকে কখনও সরে যান না।

তিনি নিজেই নিজের সবচেয়ে বড় প্রেরণা। পাশাপাশি পরিবার, কাজ এবং দর্শকদের ভালোবাসাও তাঁকে এগিয়ে যেতে সাহায্য করে।


ফিটনেসে ধারাবাহিকতার গুরুত্ব

অনেকেই কয়েকদিন ব্যায়াম করে ফল না পেলে হতাশ হয়ে পড়েন। কিন্তু ফিটনেস কোনও স্বল্পমেয়াদি লক্ষ্য নয়—এটি একটি দীর্ঘমেয়াদি যাত্রা।

Anil Kapoor বছরের পর বছর ধরে একইভাবে নিজের শরীরের যত্ন নিয়েছেন। এই ধারাবাহিক প্রচেষ্টাই তাঁকে আজ এই জায়গায় পৌঁছে দিয়েছে।


সাধারণ মানুষের জন্য বাস্তব টিপস

আপনি যদি তাঁর মতো ফিট হতে চান, তাহলে শুরু করতে পারেন ছোট কিছু অভ্যাস দিয়ে—

প্রতিদিন ২০–৩০ মিনিট হাঁটা
সপ্তাহে ৩–৪ দিন হালকা স্ট্রেংথ ট্রেনিং
প্রসেসড ফুড কম খাওয়া
পর্যাপ্ত ঘুম
নিয়মিত জল পান

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল—নিজের শরীরের কথা শোনা। অতিরিক্ত চাপ দিলে লাভের বদলে ক্ষতি হতে পারে।


ফিটনেস মানে শুধুই চেহারা নয়

অনেকেই মনে করেন ফিটনেস মানেই শুধু বাহ্যিক সৌন্দর্য। কিন্তু আসলে ফিটনেস মানে—

  • সুস্থ শরীর

  • স্থির মন

  • সক্রিয় জীবন

Anil Kapoor-এর জীবনযাপন এই তিনটিরই নিখুঁত সমন্বয়।


বয়সকে হার মানানোর বাস্তব উদাহরণ

আজকের দিনে যখন অল্প বয়সেই লাইফস্টাইল ডিজিজ বাড়ছে, তখন Anil Kapoor প্রমাণ করেছেন—সঠিক জীবনযাপন করলে বয়স শুধুই একটি সংখ্যা।

তাঁর এই ফিটনেস জার্নি শুধু বলিউডের নয়, সাধারণ মানুষের কাছেও এক বড় অনুপ্রেরণা।

ফিটনেস কোনও একদিনের বিষয় নয়—এটি প্রতিদিনের সিদ্ধান্ত, প্রতিদিনের অভ্যাস। আইস বাথ, স্ট্রেংথ ট্রেনিং বা আধুনিক থেরাপি—এসব গুরুত্বপূর্ণ হলেও, আসল রহস্য লুকিয়ে রয়েছে নিয়ম, শৃঙ্খলা এবং নিজের প্রতি দায়বদ্ধতায়।

৬৯ বছর বয়সেও যিনি এভাবে নিজেকে ধরে রাখতে পারেন, তিনি নিঃসন্দেহে এক জীবন্ত উদাহরণ। Anil Kapoor আমাদের শিখিয়ে দেন—
“বয়স নয়, আপনার অভ্যাসই ঠিক করে আপনি কতটা ফিট।”

Preview image