৩ অক্টোবর কলকাতার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে ইতিহাসের সাক্ষী হতে চলেছে ভারতীয় ফুটবল। পাঁচ বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের বিরুদ্ধে মাঠে নামবে খালিদ জামিলের ভারতীয় দল। ব্রাজিলের দলে রয়েছেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, রাফিনহা, মারকুইনহোস, এন্ড্রিকদের মতো তারকারা।
ভারতীয় ফুটবলের জন্য অপেক্ষা শেষের পথে। পাঁচ বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের বিরুদ্ধে ঐতিহাসিক আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলতে কলকাতায় পৌঁছে গিয়েছে ভারতীয় ফুটবল দল। আগামী ৩ অক্টোবর ২০২৬ বিবেকানন্দ যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গন, অর্থাৎ সল্ট লেক স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হবে ভারত ও ব্রাজিল। আন্তর্জাতিক ফুটবলে এই ম্যাচ ঘিরে ইতিমধ্যেই উত্তেজনা তুঙ্গে।ভারতীয় ফুটবলের ইতিহাসে এই ম্যাচের গুরুত্ব আলাদা। কারণ সিনিয়র পুরুষ দলের স্তরে এই প্রথম ব্রাজিলের মাটিতে নয়, বরং ভারতের মাটিতে দুই দেশের জাতীয় দল একে অপরের মুখোমুখি হতে চলেছে। তার থেকেও বড় বিষয়, FIFA ক্রমতালিকায় বর্তমানে পঞ্চম স্থানে থাকা ব্রাজিলের বিরুদ্ধে খেলবে ভারত। AIFF-এর তথ্য অনুযায়ী, FIFA বিশ্ব ক্রমতালিকা চালু হওয়ার পর থেকে এটি ভারতের মুখোমুখি হওয়া সর্বোচ্চ র্যাঙ্কের প্রতিপক্ষ।
ভারতীয় দলের কোচ খালিদ জামিলের সামনে তাই রয়েছে বিরাট চ্যালেঞ্জ। একই সঙ্গে এই ম্যাচ ভারতীয় ফুটবলারদের জন্য নিজেদের আন্তর্জাতিক মান যাচাই করারও একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ।
ব্রাজিলের বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে ভারতীয় দল কলকাতায় চলে এসেছে। দলের প্রস্তুতি এবং ম্যাচের পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার জন্য কলকাতাতেই অনুশীলন করবে ভারতীয় দল।
এই ম্যাচকে কেন্দ্র করে কলকাতায় ফুটবলপ্রেমীদের আগ্রহ অনেক আগে থেকেই তৈরি হয়েছে। শহরের ফুটবল সংস্কৃতির সঙ্গে ব্রাজিলের সম্পর্কও দীর্ঘদিনের। বিশ্বকাপের সময় কলকাতার বিভিন্ন প্রান্তে ব্রাজিলের হলুদ-সবুজ পতাকা, জার্সি, পোস্টার এবং ফুটবলপ্রেমীদের উন্মাদনা নিয়মিত দেখা যায়।
এই আবেগের ইতিহাস আরও পুরনো। ১৯৭৭ সালে ব্রাজিলীয় কিংবদন্তি পেলে নিউ ইয়র্ক কসমসের হয়ে কলকাতায় এসেছিলেন এবং মোহনবাগানের বিরুদ্ধে ম্যাচ খেলেছিলেন। সেই সফর কলকাতার ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম স্মরণীয় অধ্যায়। এবার অবশ্য পরিস্থিতি সম্পূর্ণ আলাদা—এবার কলকাতায় আসছে ব্রাজিলের সিনিয়র জাতীয় দল।I
AIFF-এর সরকারি ঘোষণা অনুযায়ী, ভারত ও ব্রাজিলের আন্তর্জাতিক ফ্রেন্ডলি ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে ৩ অক্টোবর ২০২৬, কলকাতার বিবেকানন্দ যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে। এই ম্যাচকে ভারতীয় ফুটবলের অন্যতম বড় আন্তর্জাতিক আয়োজন হিসেবে দেখা হচ্ছে।TThe AIFF
ম্যাচটির আর একটি ঐতিহাসিক দিক হল, দুই দেশের সিনিয়র পুরুষ জাতীয় দলের এটিই প্রথম মুখোমুখি লড়াই। অর্থাৎ ম্যাচটি শুধু কলকাতার জন্য নয়, ভারতীয় ফুটবলের ইতিহাসেও একটি নতুন অধ্যায় তৈরি করবে।
বর্তমান তথ্য অনুযায়ী ম্যাচের কিক-অফ সময় বিভিন্ন প্রতিবেদনে ৭টা থেকে ৭টা ৩০ মিনিটের মধ্যে উল্লেখ করা হয়েছে। তাই ম্যাচের সময় নিয়ে শেষ মুহূর্তে আয়োজক বা সম্প্রচারকারীর সরকারি আপডেট অনুসরণ করাই সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য হবে।
ভারতীয় ফুটবলপ্রেমীদের উত্তেজনার অন্যতম কারণ ব্রাজিলের স্কোয়াড। ব্রাজিলের কোচ কার্লো আনচেলোত্তি ২৬ সদস্যের দল ঘোষণা করেছেন। সেই দলে রয়েছেন রিয়াল মাদ্রিদের ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, বার্সেলোনার রাফিনহা, প্যারিস সাঁ জার্মাঁর অধিনায়ক মারকুইনহোস, আর্সেনালের গ্যাব্রিয়েল মাগালহায়েস এবং রিয়াল মাদ্রিদের এন্ড্রিক।
ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের উপস্থিতি ভারতীয় দর্শকদের কাছে বিশেষ আকর্ষণের বিষয়। রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে তাঁর পারফরম্যান্স তাঁকে বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম পরিচিত তারকায় পরিণত করেছে। তাঁর গতি, ড্রিবলিং এবং আক্রমণাত্মক খেলার ধরন কলকাতার দর্শকদের সামনে সরাসরি দেখার সুযোগ তৈরি করবে।
অন্যদিকে রাফিনহাও ব্রাজিলের আক্রমণভাগের গুরুত্বপূর্ণ নাম। বার্সেলোনার এই তারকা ডান দিক থেকে আক্রমণ তৈরি করার পাশাপাশি গোলের সুযোগ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন।
রক্ষণে ব্রাজিলের অভিজ্ঞতার অন্যতম কেন্দ্র মারকুইনহোস। দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক ফুটবলে ব্রাজিলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হিসেবে থাকা এই ডিফেন্ডার দলের নেতৃত্বেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।
এই ম্যাচের আরও একটি বড় আকর্ষণ ব্রাজিলের কোচ কার্লো আনচেলোত্তি। ক্লাব ফুটবলে দীর্ঘ অভিজ্ঞতার অধিকারী এই কোচ এখন ব্রাজিলের জাতীয় দলের দায়িত্বে রয়েছেন।
ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচটি তাঁর দলের জন্যও একটি নতুন আন্তর্জাতিক চক্রের অংশ। ব্রাজিল ২০২৬ বিশ্বকাপের পর নতুন প্রজন্মের বেশ কয়েকজন ফুটবলারকে জাতীয় দলে জায়গা দিয়েছে। আনচেলোত্তির ঘোষিত স্কোয়াডে অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের পাশাপাশি তরুণদেরও রাখা হয়েছে।
ব্রাজিলের ঘোষিত দলে ২৬ জনের মধ্যে একাধিক তরুণ ফুটবলার রয়েছেন। এর ফলে কলকাতার ম্যাচটি শুধুমাত্র তারকা দর্শনের সুযোগ নয়, ব্রাজিলের নতুন প্রজন্মের খেলোয়াড়দেরও দেখার একটি সুযোগ হতে চলেছে।
ভারতের বিরুদ্ধে মাঠে নামার আগে ব্রাজিল অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে দুটি আন্তর্জাতিক ফ্রেন্ডলি ম্যাচ খেলছে। সূচি অনুযায়ী ২৫ সেপ্টেম্বর টাউনসভিলে এবং ২৯ সেপ্টেম্বর ব্রিসবেনে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ম্যাচ রয়েছে। এরপর ভারত সফরে আসবে ব্রাজিল।
এই সূচির কারণে কলকাতায় নামার আগে ব্রাজিলীয় দল আন্তর্জাতিক ম্যাচের ছন্দের মধ্যেই থাকবে। ভারতীয় দলের জন্য তাই প্রতিপক্ষের প্রস্তুতির বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ।
ব্রাজিলের কলকাতায় আসার আগে তাদের প্রতিনিধিদলও শহরে এসে স্টেডিয়াম ও অন্যান্য পরিকাঠামো পরিদর্শন করেছে। AIFF-এর সঙ্গে প্রস্তুতি, প্রশিক্ষণ মাঠ, থাকার ব্যবস্থা, নিরাপত্তা এবং ম্যাচ সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে পর্যালোচনা করা হয়েছে।
ব্রাজিলের বিরুদ্ধে নামার আগে ভারতীয় দল পানামার বিরুদ্ধে একটি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছে। FIFA ক্রমতালিকায় তুলনামূলকভাবে এগিয়ে থাকা পানামার বিরুদ্ধে ভারত ১-১ গোলে ড্র করেছে।
ভারত ম্যাচে প্রথমে এগিয়ে গিয়েছিল। রায়ান উইলিয়ামসের গোলে লিড নেয় দল। পরবর্তী সময়ে পানামা সমতা ফেরায়। তবে ভারতীয় দলের আক্রমণাত্মক মানসিকতা ম্যাচটির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হয়ে ওঠে।
সুযোগ তৈরি করেও কিছু ক্ষেত্রে ভারতীয় ফুটবলাররা তা কাজে লাগাতে পারেনি। ফলে ম্যাচটি জয়ের পরিবর্তে ড্র হয়। তবে ব্রাজিল ম্যাচের আগে এই ধরনের উচ্চমানের প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক ফুটবল খেলার অভিজ্ঞতা দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
ভারতের কোচ খালিদ জামিলের সামনে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হতে পারে—ব্রাজিলের মতো দলের বিরুদ্ধে ভারত কী ধরনের ফুটবল খেলবে?
পানামার বিরুদ্ধে ভারত এগিয়ে যাওয়ার পরও পুরোপুরি রক্ষণাত্মক হয়ে যায়নি। বরং আক্রমণ তৈরির চেষ্টা করেছে। ব্রাজিলের বিরুদ্ধে একই ধরনের পরিকল্পনা কতটা কার্যকর হবে, সেটিই দেখার বিষয়।
অবশ্য ব্রাজিলের আক্রমণভাগের মান এবং ব্যক্তিগত দক্ষতার কথা মাথায় রেখে ভারতকে রক্ষণেও যথেষ্ট সংগঠিত থাকতে হবে। ভিনিসিয়ুস, রাফিনহা বা এন্ড্রিকের মতো খেলোয়াড়দের জায়গা দিলে বিপদ তৈরি হতে পারে।
ভারতের জন্য ম্যাচটির মূল লক্ষ্য শুধু ফল নয়। এই ধরনের ম্যাচে নিজেদের সংগঠন, বল দখল, পাসিং, দ্রুত ট্রানজিশন এবং সুযোগ তৈরির ক্ষমতা পরীক্ষা করার সুযোগ থাকবে।
বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সফল দলের বিরুদ্ধে খেলা যে কোনও দলের জন্যই বড় অভিজ্ঞতা। ভারতের ক্ষেত্রে এই ম্যাচটি আরও গুরুত্বপূর্ণ, কারণ দেশের মাটিতে এমন উচ্চমানের প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে খেলার সুযোগ নিয়মিত আসে না।
AIFF-এর মতে, এই ম্যাচ ভারতীয় ফুটবলারদের নিজেদের পরীক্ষা করার একটি বিরল সুযোগ। এই ধরনের অভিজ্ঞতা খেলোয়াড়দের ভবিষ্যতের আন্তর্জাতিক ম্যাচের জন্য প্রস্তুত করতে পারে।
ভারতীয় দলের তরুণ ফুটবলারদের জন্যও ব্রাজিলের মতো দলের বিরুদ্ধে খেলা আলাদা অভিজ্ঞতা হবে। বিশ্বের অন্যতম পরিচিত ফুটবল সংস্কৃতির সামনে খেলার চাপ সামলে নিজেদের স্বাভাবিক খেলা ধরে রাখা একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা।
কলকাতা দীর্ঘদিন ধরে ফুটবলপ্রেমী শহর হিসেবে পরিচিত। ইস্টবেঙ্গল, মোহনবাগান এবং মহামেডান স্পোর্টিংকে ঘিরে শহরের ফুটবল সংস্কৃতি বহু দশকের।
তার সঙ্গে ব্রাজিলের জনপ্রিয়তা যুক্ত হয়েছে আরও একটি মাত্রা। বিশ্বকাপের সময় কলকাতায় ব্রাজিলের সমর্থকদের উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো হয়। এবার সেই সমর্থকদের সামনে সরাসরি ব্রাজিলের জাতীয় দল খেলতে চলেছে।
ফলে ম্যাচের দিন যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনের পরিবেশ যে বিশেষ হবে, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই। গ্যালারিতে ব্রাজিলের হলুদ-সবুজ এবং ভারতের নীল—দুই রঙের সমর্থকদের উপস্থিতি ম্যাচটিকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলতে পারে।
এই ম্যাচে একাধিক ব্যক্তিগত দ্বৈরথও নজরে থাকবে। ভারতের রক্ষণকে সামলাতে হবে ব্রাজিলের দ্রুতগতির আক্রমণ। বিশেষ করে উইং থেকে আক্রমণ সামলানো ভারতীয় ডিফেন্ডারদের জন্য বড় পরীক্ষা হতে পারে।
অন্যদিকে ভারত যদি বলের দখল পায় এবং দ্রুত আক্রমণে যেতে পারে, তাহলে ব্রাজিলের রক্ষণকেও পরীক্ষা করা সম্ভব। আন্তর্জাতিক ফুটবলে একাধিক বড় দলকে চমকে দেওয়ার ঘটনা দেখা যায়। তবে ভারত-ব্রাজিল ম্যাচে দুই দলের অভিজ্ঞতা, র্যাঙ্কিং এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ের রেকর্ডে বড় পার্থক্য রয়েছে।
এই কারণেই ভারতীয় দলের জন্য ম্যাচের প্রতিটি মিনিট গুরুত্বপূর্ণ হবে।
আনচেলোত্তির ২৬ সদস্যের স্কোয়াডে অভিজ্ঞদের সঙ্গে বেশ কয়েকজন তরুণ ফুটবলার রয়েছেন। ভিনিসিয়ুস, রাফিনহা এবং মারকুইনহোসের মতো পরিচিত নামের পাশাপাশি এন্ড্রিক, এস্তেভাও এবং জোয়াও পেদ্রোর মতো তরুণ আক্রমণাত্মক খেলোয়াড়রাও দলে রয়েছেন।
মিডফিল্ডে ব্রুনো গিমারায়েস, ডগলাস লুইজ এবং অ্যান্ড্রে সান্তোসের মতো খেলোয়াড়রা রয়েছেন। রক্ষণেও মারকুইনহোস এবং গ্যাব্রিয়েল মাগালহায়েসের মতো আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞ খেলোয়াড় রয়েছেন।
অর্থাৎ কলকাতায় আসা ব্রাজিল দলকে শুধু কয়েকজন তারকার দল হিসেবে দেখলে পুরো ছবিটি পাওয়া যাবে না। স্কোয়াডে অভিজ্ঞতা এবং ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত করা তরুণ খেলোয়াড়—দুইয়েরই উপস্থিতি রয়েছে।
ব্রাজিলের ঘোষিত দলে নেমার জুনিয়র নেই। ফলে কলকাতার দর্শকরা নেমারকে জাতীয় দলের জার্সিতে দেখার সুযোগ পাবেন না। তাঁর পরিবর্তে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, রাফিনহা, এন্ড্রিক এবং অন্যান্য আক্রমণভাগের খেলোয়াড়দের ঘিরেই ব্রাজিলের আক্রমণ সাজানোর সম্ভাবনা রয়েছে।
তবে নেমারের অনুপস্থিতি ম্যাচের ঐতিহাসিক গুরুত্ব কমাচ্ছে না। কারণ এই প্রথম ব্রাজিলের সিনিয়র পুরুষ জাতীয় দল ভারতের মাটিতে খেলতে চলেছে।
ম্যাচ ঘোষণার পর থেকেই ভারত-ব্রাজিল ম্যাচের টিকিট নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ দেখা যায়। বিভিন্ন প্রতিবেদনে অনলাইন বিক্রিতে উচ্চ চাহিদার কথা উঠে এসেছে। ফলে যারা মাঠে বসে ম্যাচ দেখতে চান, তাদের জন্য আয়োজকদের অফিসিয়াল টিকিটিং আপডেট অনুসরণ করা গুরুত্বপূর্ণ।
টিকিটের দাম, আসন এবং প্রবেশের নিয়ম সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হতে পারে। তাই অননুমোদিত সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট বা তৃতীয় পক্ষের তথ্যের পরিবর্তে AIFF এবং অনুমোদিত টিকিটিং প্ল্যাটফর্মের তথ্য অনুসরণ করাই নিরাপদ।
ব্রাজিলের বিরুদ্ধে ভারতের সামনে একাধিক চ্যালেঞ্জ থাকবে।
প্রথমত, ব্রাজিলের ব্যক্তিগত দক্ষতা। দ্বিতীয়ত, দ্রুত বল চালানোর ক্ষমতা। তৃতীয়ত, আক্রমণ থেকে রক্ষণে দ্রুত পরিবর্তন। চতুর্থত, ম্যাচের চাপ সামলে নিজেদের পরিকল্পনা বজায় রাখা।
ভারত যদি শুরুতেই বেশি পিছিয়ে যায়, তাহলে ব্রাজিলের ক্রমাগত চাপ সামলানো কঠিন হতে পারে। আবার ভারত যদি মাঝমাঠে সংগঠিত থেকে বলের দখল ধরে রাখতে পারে, তাহলে ম্যাচে নিজেদের কিছুটা সুযোগ তৈরি করার সম্ভাবনা থাকবে।
তবে এই ম্যাচে কোনও একটি কৌশলই নিশ্চিতভাবে কার্যকর হবে—এমন দাবি করার সুযোগ নেই। মাঠের পরিস্থিতি, খেলোয়াড়দের ফর্ম, লাইন-আপ এবং ম্যাচের গতিপথের উপর অনেক কিছু নির্ভর করবে।
একটি ম্যাচ দিয়েই কোনও দেশের ফুটবলের সামগ্রিক উন্নতি বিচার করা যায় না। তবে আন্তর্জাতিক মানের প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে নিয়মিত খেলার সুযোগ খেলোয়াড়দের অভিজ্ঞতা বাড়াতে পারে।
ব্রাজিল ও উরুগুয়ের মতো দলের বিরুদ্ধে আসন্ন ম্যাচগুলি নিয়ে খালিদ জামিলও ভারতীয় ফুটবলের জন্য দীর্ঘমেয়াদি গুরুত্বের কথা বলেছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এই ধরনের ম্যাচ ভবিষ্যতের প্রস্তুতিতে সাহায্য করতে পারে।
ভারতীয় ফুটবলের পরবর্তী লক্ষ্যগুলির মধ্যে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় আরও ভালো করা এবং এশিয়ার পর্যায়ে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করা গুরুত্বপূর্ণ। সেই প্রেক্ষাপটে ব্রাজিলের মতো দলের বিরুদ্ধে ম্যাচ একটি উচ্চমানের বেঞ্চমার্ক হিসেবে কাজ করতে পারে।
৩ অক্টোবর যত এগিয়ে আসছে, কলকাতার ফুটবলপ্রেমীদের আগ্রহও বাড়ছে। একদিকে ভারতের জাতীয় দল নিজেদের ঘরের মাঠে একটি বড় আন্তর্জাতিক পরীক্ষার জন্য প্রস্তুত হচ্ছে, অন্যদিকে ব্রাজিলও নতুন আন্তর্জাতিক চক্রের শুরুতে নিজেদের দলকে পরীক্ষা করছে।
একই মাঠে ভারতের নীল জার্সি এবং ব্রাজিলের বিখ্যাত হলুদ জার্সি দেখা যাবে—এই দৃশ্যই ভারতীয় ফুটবলপ্রেমীদের জন্য বিশেষ হয়ে উঠতে পারে।
যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে সেই রাতে শুধু একটি আন্তর্জাতিক ফ্রেন্ডলি ম্যাচ হবে না; ভারতীয় ফুটবলের সঙ্গে বিশ্বের অন্যতম সফল জাতীয় দলের সরাসরি সাক্ষাতের একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত তৈরি হবে।
ভারত বনাম ব্রাজিল ম্যাচটি ভারতীয় ফুটবলের জন্য একটি বিরল আন্তর্জাতিক মঞ্চ। ৩ অক্টোবর কলকাতার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে ভারতীয় দল খেলবে পাঁচ বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের বিরুদ্ধে। ব্রাজিলের স্কোয়াডে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, রাফিনহা, মারকুইনহোস, গ্যাব্রিয়েল মাগালহায়েস, এন্ড্রিকদের মতো তারকা থাকায় ম্যাচটির আকর্ষণ আরও বেড়েছে।
ভারতের জন্য এটি নিজেদের আন্তর্জাতিক মান যাচাই করার সুযোগ। খালিদ জামিলের দল কতটা সংগঠিতভাবে খেলতে পারে, আক্রমণে কতটা সুযোগ তৈরি করতে পারে এবং ব্রাজিলের তারকাদের বিরুদ্ধে কতক্ষণ প্রতিদ্বন্দ্বিতা ধরে রাখতে পারে—সেদিকেই থাকবে নজর।
ফলাফল যাই হোক, কলকাতার ফুটবলপ্রেমীদের জন্য ব্রাজিলের জাতীয় দলকে নিজেদের শহরের মাঠে দেখা নিঃসন্দেহে একটি বিশেষ ফুটবল অভিজ্ঞতা হতে চলেছে। ইতিহাসের পাতায় ৩ অক্টোবর ২০২৬-এর ভারত-ব্রাজিল ম্যাচ কীভাবে জায়গা করে নেয়, তার উত্তর মিলবে যুবভারতীর মাঠেই।