Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

৪০৫ রান করেও হার গিলের ২২৩-এ উড়ে গেল ওয়েস্ট ইন্ডিজ, রোহিতের শতরানে সিরিজ জয় ভারতের

ভারতীয় ক্রিকেটে আরও এক স্মরণীয় ম্যাচ। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে দুর্দান্ত ব্যাটিং পারফরম্যান্স দেখিয়ে ভারতীয় দল তুলে নেয় ৪০৫ রানের বিশাল স্কোর। ব্যাট হাতে ঝড় তোলেন শুভমন গিল। তাঁর অসাধারণ ২২৩ রানের ইনিংস ম্যাচের রং বদলে দেয় এবং ভারতকে বড় রানের জায়গায় পৌঁছে দেয়। গিলের ব্যাটিংয়ে ছিল দারুণ ধারাবাহিকতা, আত্মবিশ্বাস এবং আক্রমণাত্মক ক্রিকেটের দুর্দান্ত মিশেল। তবে ম্যাচের অন্যতম বড় আকর্ষণ ছিলেন রোহিত শর্মাও। নিজের ব্যাটিং দক্ষতার পরিচয় দিয়ে তিনি দুর্দান্ত শতরান করেন। রোহিতের অভিজ্ঞতা এবং গিলের আগ্রাসী ব্যাটিং মিলে ভারতের স্কোরবোর্ডে তৈরি হয় বিশাল রান। ভারতীয় ব্যাটারদের দাপটে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বোলারদের কার্যত কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়তে হয়। ৪০৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ওয়েস্ট ইন্ডিজ শুরু থেকেই চাপে পড়ে যায়। ভারতীয় বোলাররা নিয়মিত উইকেট তুলে নিয়ে ক্যারিবিয়ান ব্যাটিং লাইনআপকে স্বস্তি পেতে দেয়নি। বড় লক্ষ্য সামনে থাকায় প্রয়োজন ছিল দীর্ঘ সময় ধরে জুটি গড়ে রান তোলার, কিন্তু ভারতীয় বোলিং আক্রমণের সামনে সেই পরিকল্পনা সফল হয়নি। শেষ পর্যন্ত ৪০৫ রান করেও ম্যাচে পরাজয় স্বীকার করতে হয় ওয়েস্ট ইন্ডিজকে।

 

ভারতীয় ক্রিকেটে আরও এক স্মরণীয় জয়। বড় রান তাড়া করতে নেমে ৪০৫ রান পর্যন্ত পৌঁছেও শেষরক্ষা হল না ওয়েস্ট ইন্ডিজের। দুর্দান্ত ব্যাটিং, আগ্রাসী রান তাড়া এবং একের পর এক বড় শটের পরও ভারতের বোলিং আক্রমণের সামনে শেষ পর্যন্ত ম্যাচ হাতছাড়া করল ক্যারিবিয়ান দল। অন্যদিকে ভারতের জয়ে সবচেয়ে বড় ভূমিকা নিলেন শুভমন গিল। তাঁর অবিশ্বাস্য ২২৩ রানের ইনিংস ম্যাচের রং বদলে দেয়। একইসঙ্গে রোহিত শর্মার দুর্দান্ত শতরানও ভারতের জয়ের ভিত শক্ত করে দেয়। দুই ব্যাটারের ব্যাটিং দাপটে ভারত যে বিশাল স্কোরের ভিত তৈরি করেছিল, সেটাই শেষ পর্যন্ত ম্যাচের ফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। ৪০৫ রান করেও ওয়েস্ট ইন্ডিজের পরাজয় প্রমাণ করে, আধুনিক ক্রিকেটে শুধু বড় রান করলেই ম্যাচ জেতা যায় না, চাপের মুহূর্তে বোলিং এবং গুরুত্বপূর্ণ সময়ে উইকেট নেওয়াটাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

ম্যাচের শুরু থেকেই ভারতীয় শিবিরে ছিল আত্মবিশ্বাস। সিরিজের আগের ম্যাচগুলিতে দলের পারফরম্যান্স এবং ব্যাটিং লাইনআপের ধারাবাহিকতা থেকেই বোঝা যাচ্ছিল যে বড় স্কোরের লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামতে পারে ভারত। টসের পর ম্যাচের পরিস্থিতি, পিচের চরিত্র এবং আবহাওয়া বিশ্লেষণ করে ভারতীয় ব্যাটাররা শুরু থেকেই নিজেদের স্বাভাবিক আক্রমণাত্মক ক্রিকেট খেলতে থাকেন। নতুন বলে কিছুটা সতর্ক থাকার পর উইকেটের গতি বুঝে নেওয়া মাত্রই ভারতীয় ব্যাটিংয়ের আসল রূপ সামনে আসে। ক্রিজে জমে যাওয়ার পর শুভমন গিল এবং রোহিত শর্মা দুজনেই রান তোলার গতি বাড়িয়ে দেন। তাঁদের ব্যাট থেকে একের পর এক বাউন্ডারি আসতে থাকে এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজের বোলারদের ওপর চাপ ক্রমশ বাড়তে থাকে।

শুভমন গিলের ২২৩ রানের ইনিংসটি এই ম্যাচের অন্যতম বড় আকর্ষণ হয়ে ওঠে। শুরুতে গিলকে যথেষ্ট সংযত দেখালেও সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তিনি নিজের ব্যাটিংয়ের পরিধি বাড়াতে থাকেন। অফসাইডে তাঁর কভার ড্রাইভ, স্কোয়ার কাট, স্ট্রেট ড্রাইভ এবং পুল শট ছিল চোখে পড়ার মতো। বোলাররা লাইন পরিবর্তন করেও তাঁকে আটকে রাখতে পারেননি। শর্ট বল এলে পুল করে রান নিয়েছেন, ফুল লেংথ বল পেলে নিখুঁত টাইমিংয়ে বাউন্ডারি মেরেছেন। স্পিনাররা যখন তাঁকে আটকে রাখার চেষ্টা করেছেন, তখন পায়ের ব্যবহার করে গ্যাপ খুঁজে নিয়ে রান সংগ্রহ করেছেন। ফলে গিলের ইনিংসটি শুধু বড় ছিল না, ছিল পরিস্থিতি অনুযায়ী অত্যন্ত পরিণত একটি ব্যাটিং প্রদর্শন।

২২৩ রানের বিশাল ইনিংসের মধ্যে গিল যে মানসিক দৃঢ়তার পরিচয় দিয়েছেন, সেটিও বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। দীর্ঘ সময় ধরে ব্যাটিং করতে গেলে একাগ্রতা ধরে রাখা অত্যন্ত কঠিন। কিন্তু গিল ক্রিজে থেকে ধীরে ধীরে নিজের ইনিংসকে বড় করেছেন। শুরুতে সিঙ্গল ও ডাবল নিয়ে স্কোরবোর্ড সচল রাখার পর সুযোগ পেলেই বাউন্ডারি মেরেছেন। তাঁর ব্যাটিংয়ে অযথা ঝুঁকি নেওয়ার প্রবণতা দেখা যায়নি। ফলে একসময় ব্যক্তিগত স্কোর বড় হতে হতে ২০০ পেরিয়ে যায়। ডাবল সেঞ্চুরি করার পরও তিনি থামেননি। নিজের ইনিংসকে আরও বড় করে ২২৩ রানে নিয়ে যান। এই ইনিংস শুধু দলের স্কোর বাড়ায়নি, ওয়েস্ট ইন্ডিজের বোলারদের মানসিকভাবেও চাপে ফেলে দিয়েছিল।

অন্যদিকে রোহিত শর্মার শতরানও ভারতের ইনিংসকে আলাদা মাত্রা দেয়। ভারতীয় অধিনায়ক হিসেবে তাঁর অভিজ্ঞতা এবং বড় ম্যাচে বড় ইনিংস খেলার ক্ষমতা আবারও সামনে আসে। রোহিত শুরু থেকেই তাঁর পরিচিত ব্যাটিং স্টাইলে খেলতে থাকেন। নতুন বলের ঝুঁকি বুঝে নেওয়ার পর তিনি বোলারদের ওপর আক্রমণ শুরু করেন। তাঁর ব্যাট থেকে আসা পুল শট এবং বড় বড় ছক্কা দর্শকদের মধ্যে উচ্ছ্বাস তৈরি করে। গিলের সঙ্গে তাঁর জুটি ভারতকে দ্রুত বড় স্কোরের দিকে নিয়ে যায়। দুই ব্যাটারের ব্যাটিংয়ের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য ছিল তাঁদের ভূমিকা। একজন একদিকে ইনিংসকে দীর্ঘ করেছেন, অন্যদিকে রোহিত শুরু থেকেই রান তোলার গতি বাড়িয়ে প্রতিপক্ষের ওপর চাপ তৈরি করেছেন।

রোহিতের শতরান আসার পর ভারতীয় ড্রেসিংরুমে উচ্ছ্বাস দেখা যায়। দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বড় রান করার অভিজ্ঞতা থাকা এই ব্যাটারের কাছ থেকে এমন একটি ইনিংস দলের আত্মবিশ্বাস আরও বাড়িয়ে দেয়। তাঁর শতরান ছিল নিখুঁত টাইমিং এবং আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ের সংমিশ্রণ। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বোলাররা যতবারই রক্ষণাত্মক ফিল্ড সেট করার চেষ্টা করেছেন, রোহিত ততবারই গ্যাপ খুঁজে নিয়ে রান করেছেন। ফলে ভারতীয় ইনিংসের গতি কখনওই পুরোপুরি কমেনি।

গিল ও রোহিতের ব্যাটিংয়ের ফলে ভারত যে বিশাল রান সংগ্রহ করেছিল, তা ওয়েস্ট ইন্ডিজের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করে। বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে গেলে শুরু থেকেই দ্রুত রান তুলতে হয়, কিন্তু একইসঙ্গে উইকেটও ধরে রাখতে হয়। ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটাররা সেই কঠিন ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা করেছিলেন। শুরুতেই তাঁরা বুঝিয়ে দেন যে ম্যাচ সহজে ছেড়ে দেওয়ার কোনও পরিকল্পনা নেই। ভারতীয় বোলারদের বিরুদ্ধে পাল্টা আক্রমণ শুরু করে ক্যারিবিয়ান ব্যাটাররা। বাউন্ডারি এবং ছক্কার মাধ্যমে রান দ্রুত বাড়তে থাকে। একটা সময় মনে হচ্ছিল, ওয়েস্ট ইন্ডিজ হয়তো অসম্ভবকে সম্ভব করার দিকে এগোচ্ছে।

৪০৫ রান পর্যন্ত পৌঁছে যাওয়া সেই লড়াইয়েরই প্রমাণ। এত বড় লক্ষ্য তাড়া করে ৪০৫ রান করা কোনওভাবেই ছোট ব্যাপার নয়। ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটিং ইউনিট নিজেদের সামর্থ্যের পরিচয় দিয়েছে। মাঝের ওভারে তারা ভারতীয় স্পিনারদের বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করেছে। দ্রুত সিঙ্গল-ডাবল নেওয়ার পাশাপাশি খারাপ বল পেলেই বাউন্ডারিতে পাঠিয়েছে। ভারতীয় অধিনায়ককে একাধিকবার ফিল্ডিং পরিবর্তন করতে হয়েছে। বোলারদের পরিকল্পনাও বদলাতে হয়েছে। ম্যাচের বিভিন্ন পর্যায়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের রান তোলার গতি দেখে ভারতীয় সমর্থকদের মধ্যেও উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল।

কিন্তু বড় লক্ষ্য তাড়া করার ক্ষেত্রে শেষ কয়েক ওভারই অনেক সময় ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেয়। ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্ষেত্রেও সেটাই হয়েছে। ৪০৫ রান করার পরও তারা জয়ের জন্য প্রয়োজনীয় সীমা অতিক্রম করতে পারেনি। ভারতীয় বোলাররা চাপের মুহূর্তে গুরুত্বপূর্ণ উইকেট তুলে নিয়ে ম্যাচ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসে। একের পর এক ব্যাটারকে সাজঘরে ফেরানোয় ওয়েস্ট ইন্ডিজের রান তোলার গতি কমতে থাকে। শেষদিকে প্রয়োজনীয় রান এবং হাতে থাকা উইকেটের হিসাব ক্রমশ কঠিন হয়ে ওঠে। ফলে দুর্দান্ত লড়াইয়ের পরও ম্যাচ জয়ের স্বপ্ন পূরণ হয়নি ক্যারিবিয়ান দলের।

এই ম্যাচের সবচেয়ে বড় শিক্ষা হল ক্রিকেটে ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স এবং দলগত পরিকল্পনার মধ্যে ভারসাম্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ। গিলের ২২৩ এবং রোহিতের শতরান ভারতের ব্যাটিংকে যে উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিল, তার জবাবে ওয়েস্ট ইন্ডিজও ৪০৫ রান করে দুর্দান্ত লড়াই দিয়েছে। কিন্তু ভারতের বোলিং আক্রমণ গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে ফিরিয়ে নেয়। বড় স্কোরের ম্যাচে প্রতিটি ওভার গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। একটি ভালো ওভার যেমন ব্যাটিং দলের গতি বাড়িয়ে দিতে পারে, তেমনই একটি উইকেট পুরো ম্যাচের গতিপথ বদলে দিতে পারে। এই ম্যাচেও সেই চিত্র স্পষ্ট হয়েছে।

গিলের ২২৩ রান নিয়ে ক্রিকেট মহলে স্বাভাবিকভাবেই আলোচনা শুরু হয়েছে। এত দীর্ঘ সময় ধরে ক্রিজে থেকে এমন বড় ইনিংস খেলা তাঁর ব্যাটিং দক্ষতার পাশাপাশি শারীরিক সক্ষমতারও পরিচয় দেয়। ইনিংসের বিভিন্ন পর্যায়ে তাঁর ব্যাটিংয়ের ধরন বদলেছে। প্রথম দিকে তিনি ঝুঁকি কম নিয়ে খেলেছেন। এরপর বোলারদের ওপর চাপ বাড়াতে শুরু করেছেন। শতরানের পর আরও আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠেছেন এবং ডাবল সেঞ্চুরির পরও রান তোলার গতি ধরে রেখেছেন। তাঁর এই ইনিংস দলের স্কোরকে এমন জায়গায় নিয়ে যায়, যেখান থেকে প্রতিপক্ষের ওপর মানসিক চাপ তৈরি হওয়া স্বাভাবিক।

রোহিতের শতরানও একইভাবে গুরুত্বপূর্ণ। দলের অন্যতম অভিজ্ঞ ব্যাটার হিসেবে তিনি জানেন কীভাবে বড় রান তাড়া করার সময় অথবা বড় স্কোর গড়ার সময় ইনিংসকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হয়। তাঁর আক্রমণাত্মক ব্যাটিং ওয়েস্ট ইন্ডিজের বোলারদের পরিকল্পনা নষ্ট করে দেয়। বিশেষ করে পাওয়ারপ্লে এবং মাঝের ওভারগুলিতে দ্রুত রান তোলার ফলে ভারতের ওপর চাপ কমে যায়। গিল যখন নিজের ইনিংসকে বড় করছিলেন, তখন রোহিতের আক্রমণাত্মক ব্যাটিং ভারতকে স্কোরবোর্ডে দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছিল।

news image
আরও খবর

ভারতের জয় তাই শুধু একজন ব্যাটারের কৃতিত্ব নয়। গিলের দ্বিশতরান, রোহিতের শতরান, পরবর্তী ব্যাটারদের অবদান এবং বোলারদের চাপের মুহূর্তে উইকেট নেওয়ার ক্ষমতা সব মিলিয়েই ম্যাচটি ভারতের পক্ষে যায়। ক্রিকেটে একটি দলকে জিততে হলে সব বিভাগেই নির্দিষ্ট সময়ে অবদান রাখতে হয়। এই ম্যাচে ভারতের ব্যাটিং প্রথমে বড় মঞ্চ তৈরি করে দেয় এবং পরে বোলিং সেই মঞ্চকে জয়ে পরিণত করে।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের জন্য অবশ্য এই ম্যাচে ৪০৫ রান করার বিষয়টি ইতিবাচক দিক হিসেবে দেখা যেতে পারে। এত বড় লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শেষ পর্যন্ত ৪০৫ রান পর্যন্ত পৌঁছে যাওয়া তাঁদের ব্যাটিংয়ের শক্তি প্রকাশ করে। অনেক দল এমন লক্ষ্য তাড়া করতে গিয়ে মাঝপথেই ম্যাচ থেকে ছিটকে যায়। কিন্তু ওয়েস্ট ইন্ডিজ শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে গেছে। তাদের ব্যাটাররা ভারতীয় বোলিংয়ের বিরুদ্ধে পাল্টা আক্রমণ করেছে এবং ম্যাচকে দীর্ঘ সময় ধরে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ রেখেছে। তবে শেষপর্যন্ত প্রয়োজনীয় রান তুলতে না পারায় জয় অধরাই থেকে যায়।

সিরিজের দিক থেকেও ভারতের এই জয় অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। একটি ম্যাচ জেতা এবং সিরিজ জেতার মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। সিরিজে ধারাবাহিকভাবে ভালো ক্রিকেট খেলতে হয়। ব্যাটিংয়ে বড় রান করার পাশাপাশি বোলিং, ফিল্ডিং এবং চাপ সামলানোর দক্ষতাও দেখাতে হয়। ভারত এই ম্যাচে সেই দলগত ক্রিকেটের পরিচয় দিয়েছে। বিশেষ করে যখন প্রতিপক্ষ ৪০৫ রান পর্যন্ত পৌঁছে যায়, তখন শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত পরিকল্পনা ধরে রেখে ম্যাচ শেষ করা সহজ নয়। ভারতীয় দল সেই কাজটি করতে পেরেছে।

গিলের পারফরম্যান্স ভারতীয় ক্রিকেটের ভবিষ্যতের জন্যও আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। তরুণ ব্যাটার হিসেবে তাঁর ওপর যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে, এমন একটি ইনিংস সেই প্রত্যাশাকে আরও বাড়িয়ে দেয়। বড় ইনিংস খেলার পাশাপাশি পরিস্থিতি অনুযায়ী ব্যাটিং করার ক্ষমতা একজন আন্তর্জাতিক মানের ব্যাটারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ গুণ। এই ম্যাচে গিল সেই ক্ষমতার পরিচয় দিয়েছেন। তাঁর ২২৩ রান নিছক একটি বড় সংখ্যা নয়, বরং দীর্ঘ সময় ধরে প্রতিপক্ষের বোলিং আক্রমণকে সামলে রেখে ইনিংস গড়ে তোলার উদাহরণ।

অন্যদিকে রোহিত শর্মার শতরান অভিজ্ঞতার গুরুত্ব আবারও সামনে নিয়ে এসেছে। বড় ম্যাচে অভিজ্ঞ ক্রিকেটারের একটি বড় ইনিংস দলের তরুণদেরও আত্মবিশ্বাস দেয়। গিলের মতো ব্যাটার যখন অন্য প্রান্তে নিজের ইনিংস তৈরি করছিলেন, তখন রোহিতের আক্রমণাত্মক ক্রিকেট ভারতের রান রেট বাড়িয়ে দিয়েছিল। দুই প্রজন্মের ব্যাটিংয়ের এই সমন্বয় ভারতীয় ইনিংসকে শক্তিশালী করে তোলে।

ম্যাচের শেষ দিকে যখন ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৪০৫ রান করে ফেলেছিল, তখনও লড়াই যথেষ্ট উত্তেজনাপূর্ণ ছিল। ভারতীয় বোলারদের সামনে তখন প্রধান চ্যালেঞ্জ ছিল শেষ পর্যন্ত প্রতিপক্ষকে আটকে রাখা। বড় রান করার পরও যদি বোলিংয়ে নিয়ন্ত্রণ না থাকে, তাহলে এমন ম্যাচ হাতছাড়া হতে পারে। ভারতীয় বোলাররা সেই ভুল করেননি। গুরুত্বপূর্ণ সময়ে উইকেট নিয়ে তাঁরা ওয়েস্ট ইন্ডিজের রান তোলার গতি থামিয়ে দেন। ফলে ৪০৫ রান করেও ক্যারিবিয়ান দল জয়ের কাছাকাছি গিয়েও শেষ হাসি হাসতে পারেনি।

এই ম্যাচের পর ভারতীয় সমর্থকদের মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই উচ্ছ্বাস। একদিকে গিলের ২২৩, অন্যদিকে রোহিতের শতরান এবং শেষপর্যন্ত সিরিজ জয় সব মিলিয়ে এটি ভারতীয় ক্রিকেটের জন্য একটি বড় দিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও দুই ব্যাটারের ইনিংস নিয়ে আলোচনা হওয়া স্বাভাবিক। বিশেষ করে গিলের দ্বিশতরানকে কেন্দ্র করে প্রশংসার ঝড় উঠেছে। তাঁর ব্যাটিংয়ের বিভিন্ন শট এবং দীর্ঘ সময় ধরে ক্রিজে থাকার ক্ষমতা ক্রিকেটপ্রেমীদের নজর কেড়েছে।

তবে এই ম্যাচ শুধু ভারতের জয় উদযাপনের গল্প নয়। এটি ওয়েস্ট ইন্ডিজের সাহসী রান তাড়ার গল্পও। ৪০৫ রান পর্যন্ত পৌঁছে তারা দেখিয়ে দিয়েছে যে বিশাল লক্ষ্যও একেবারে অসম্ভব নয়। ম্যাচের বড় সময় তারা ভারতের ওপর চাপ তৈরি করতে সক্ষম হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত ফলাফল তাদের পক্ষে না গেলেও লড়াইয়ের মান ছিল উল্লেখযোগ্য। ভারতের মতো শক্তিশালী দলের বিরুদ্ধে এমন রান তাড়া করার ক্ষমতা তাদের ব্যাটিং ইউনিটের সম্ভাবনাকে তুলে ধরে।

ক্রিকেটের সৌন্দর্য এখানেই। একটি দল ৪০৫ রান করেও হেরে যেতে পারে, আবার অন্য দল বিশাল স্কোর করার পরও শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত ম্যাচ নিয়ে নিশ্চিত হতে পারে না। সংখ্যার বাইরে ম্যাচের পরিস্থিতি, উইকেটের গুরুত্ব, বোলারদের পরিকল্পনা এবং চাপ সামলানোর ক্ষমতা ফল নির্ধারণ করে। এই ম্যাচে গিলের ২২৩ এবং রোহিতের শতরান ভারতের জন্য বড় ভিত্তি তৈরি করেছিল। ওয়েস্ট ইন্ডিজ সেই ভিত্তির ওপর আক্রমণ করলেও শেষ পর্যন্ত ভারতের বোলিং প্রতিরোধ ভাঙতে পারেনি।

সব মিলিয়ে, ৪০৫ রান করেও ওয়েস্ট ইন্ডিজের হার এবং ভারতের সিরিজ জয় ম্যাচটিকে স্মরণীয় করে রাখল। শুভমন গিলের ২২৩ রানের অসাধারণ ইনিংস এই ম্যাচের মূল আকর্ষণ হয়ে থাকল, আর রোহিত শর্মার শতরান ভারতীয় ইনিংসকে আরও শক্তিশালী করে তুলল। ব্যাটিংয়ে ভারত যে আধিপত্য দেখিয়েছে, তার জবাবে ওয়েস্ট ইন্ডিজও ৪০৫ রান করে দুর্দান্ত লড়াই করেছে। কিন্তু শেষপর্যন্ত চাপের মুহূর্তে ভারতের বোলিং ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। ফলে বিশাল রান করেও পরাজয় মেনে নিতে হয় ক্যারিবিয়ান দলকে। আর ভারত পেয়ে যায় গুরুত্বপূর্ণ সিরিজ জয়।

গিলের ২২৩ রানের ইনিংস, রোহিতের শতরান এবং ভারতের দলগত পারফরম্যান্স এই ম্যাচের গল্পকে দীর্ঘদিন মনে রাখার মতো করে তুলেছে। একদিকে ব্যক্তিগত রেকর্ড ও বড় ইনিংস, অন্যদিকে প্রতিপক্ষের অবিশ্বাস্য রান তাড়া সব মিলিয়ে ম্যাচটি ছিল উত্তেজনা, নাটকীয়তা এবং ক্রিকেটীয় দক্ষতায় ভরা। ভারত শেষ পর্যন্ত জয় পেয়েছে, সিরিজও নিজেদের করে নিয়েছে। আর ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৪০৫ রান করেও জয় থেকে বঞ্চিত হয়ে প্রমাণ করেছে, ক্রিকেটে শেষ বল পর্যন্ত লড়াই থাকলেও ফল নির্ধারণ করে সঠিক সময়ে নেওয়া সিদ্ধান্ত এবং গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তের পারফরম্যান্স।

 

Preview image