Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

তিলকের আউটই ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট, বলছেন সঞ্জু স্যামসন

টানা দু’টি টি-২০ বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন ভারত। তবে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে চতুর্থ টি-২০ ম্যাচে হেরে চাপে টিম ইন্ডিয়া। গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে হার ঘিরে বাড়ছে উদ্বেগ, পরের ম্যাচে ঘুরে দাঁড়ানোই এখন লক্ষ্য ভারতীয় দলের।

তিলক ভার্মার আউটই টার্নিং পয়েন্ট! ভারত-ওয়েস্ট ইন্ডিজ ম্যাচ নিয়ে কী বললেন সঞ্জু স্যামসন?

টি-২০ ক্রিকেটে ভারতীয় দলের সাফল্য ঘিরে প্রত্যাশা বরাবরই বেশি। সাম্প্রতিক বিশ্বকাপের সাফল্য সেই প্রত্যাশাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। কিন্তু ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে চতুর্থ টি-২০ ম্যাচে হার নতুন করে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে ভারতীয় দলের ব্যাটিং ও বোলিংয়ের ধারাবাহিকতা নিয়ে। হায়দরাবাদে ২৪৮ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ২২৩ রানেই থেমে যায় টিম ইন্ডিয়ার ইনিংস। ফলে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ২৫ রানে হার স্বীকার করতে হয় ভারতকে। আর এই হারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে তিলক ভার্মার আউটকে চিহ্নিত করেছেন সঞ্জু স্যামসন।

সঞ্জুর মতে, এত বড় রান তাড়া করা কখনওই সহজ নয়। তা সত্ত্বেও ভারতীয় ব্যাটাররা লড়াই চালিয়ে গিয়েছিলেন এবং শেষদিকে তিলক ভার্মার ব্যাটিং জয়ের আশা বাঁচিয়ে রেখেছিল। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ সময়ে তাঁর উইকেট হারাতেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ওয়েস্ট ইন্ডিজের হাতে চলে যায়। সঞ্জুর এই বিশ্লেষণ থেকেই স্পষ্ট, টি-২০ ক্রিকেটে শুধু বড় রান তোলাই নয়, সঠিক সময়ে উইকেট ধরে রাখা এবং চাপের মধ্যে সিদ্ধান্ত নেওয়াও কতটা গুরুত্বপূর্ণ।

২৪৮ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে থামল ভারত

ওয়েস্ট ইন্ডিজের দেওয়া ২৪৮ রানের লক্ষ্য ছিল ভারতের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ। আধুনিক টি-২০ ক্রিকেটে বড় স্কোর তাড়া করার ঘটনা নতুন নয়। কিন্তু এমন লক্ষ্য সফলভাবে পেরোতে হলে শুরু থেকেই রান তোলার গতি বজায় রাখা, নিয়মিত বাউন্ডারি আদায় করা এবং উইকেটের পতন নিয়ন্ত্রণ করা প্রয়োজন।

হায়দরাবাদের ম্যাচে ভারতীয় দল রান তোলার চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত লক্ষ্য থেকে ২৫ রান দূরে থেমে যায়। ২২৩ রান পর্যন্ত পৌঁছনো সত্ত্বেও জয় অধরা থেকে যায়। এত বড় লক্ষ্য তাড়া করার ক্ষেত্রে মাঝের ওভারগুলিতে রান তোলার গতি ধরে রাখা যেমন জরুরি, তেমনই শেষের ওভারগুলিতে ক্রিজে সেট ব্যাটারের উপস্থিতিও গুরুত্বপূর্ণ।

ভারতের ইনিংসে সঞ্জু স্যামসনের অর্ধশতরান দলকে লড়াইয়ে রেখেছিল। অন্যদিকে, শেষদিকে তিলক ভার্মার ব্যাটিংও জয়ের সম্ভাবনা তৈরি করেছিল। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ সময়ে উইকেট হারানোয় ভারতের সামনে কাজ কঠিন হয়ে পড়ে। টি-২০ ম্যাচে কয়েকটি বলের ব্যবধানও ফল বদলে দিতে পারে। এই ম্যাচেও সেই বিষয়টি সামনে এসেছে।

কেন তিলক ভার্মার আউটকে টার্নিং পয়েন্ট বলছেন সঞ্জু?

ম্যাচের শেষ পর্যায়ে তিলক ভার্মার ব্যাটিং ভারতের জয়ের আশাকে জিইয়ে রেখেছিল। তাঁর হাতে উইকেট থাকায় ভারতীয় সমর্থকদের মনে আশা ছিল, শেষের ওভারগুলিতে প্রয়োজনীয় রান তুলে ম্যাচ ঘুরিয়ে দেওয়া সম্ভব হতে পারে। কিন্তু ১৭তম ওভারের শেষ বলে শেফার্ডের বলে আউট হন তিলক।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সেই সময় তিনি ২৫ বলে ৪৩ রান করেছিলেন। ওই ওভারের প্রথম বলেই ছক্কা হাঁকিয়ে ভারতের জয়ের সম্ভাবনাকে আরও উজ্জ্বল করেছিলেন তিনি। কিন্তু ওভারের শেষ বলে তাঁর উইকেট হারানো ম্যাচের ছবিটা বদলে দেয়।

সঞ্জু স্যামসনের মতে, তিলক ক্রিজে থাকাকালীন ভারতের সামনে জয়ের বাস্তব সম্ভাবনা ছিল। তাঁর আউটের পর ম্যাচের রাশ হাতছাড়া হয়ে যায়। কারণ, শেষের দিকে রান তোলার দায়িত্ব মূলত সেট ব্যাটারদের উপর নির্ভর করে। নতুন ব্যাটারকে ক্রিজে নেমেই দ্রুত রান তুলতে হলে ঝুঁকি নিতে হয়। ফলে একবার গুরুত্বপূর্ণ ব্যাটার ফিরে গেলে পরের ব্যাটারদের উপর চাপ বাড়ে।

তবে কোনও একটি উইকেটকেই পুরো হারের একমাত্র কারণ বলা যায় না। ভারতের বোলিংয়ে প্রতিপক্ষকে বড় রান করতে দেওয়ার বিষয়টি এবং ব্যাটিংয়ের বিভিন্ন পর্যায়ে প্রয়োজনীয় রান তোলার চ্যালেঞ্জও বিশ্লেষণের দাবি রাখে। সঞ্জুর বক্তব্য মূলত ম্যাচের সেই গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তটিকে তুলে ধরে, যখন তিলকের আউটের পর ভারতের পক্ষে জয় পাওয়া আরও কঠিন হয়ে পড়েছিল।

সঞ্জু স্যামসনের অর্ধশতরানে আশার আলো

বড় রান তাড়া করার ক্ষেত্রে ওপেনিং এবং প্রথম কয়েকটি ওভারের ব্যাটিং গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। শুরুতেই দ্রুত রান তুলতে পারলে পরের ব্যাটারদের উপর চাপ কিছুটা কমে। আবার প্রথম দিকেই উইকেট পড়তে থাকলে প্রয়োজনীয় রান রেট বজায় রাখা কঠিন হয়ে যায়।

হায়দরাবাদের ম্যাচে সঞ্জু স্যামসনের অর্ধশতরান ভারতের ইনিংসে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। তাঁর ব্যাটিং ভারতকে লড়াইয়ে থাকতে সাহায্য করেছিল। বড় লক্ষ্য তাড়া করার সময় একজন ব্যাটারের ধারাবাহিক রান তোলা এবং অন্য প্রান্তের ব্যাটারের সঙ্গে বোঝাপড়া বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তবে ব্যক্তিগত অর্ধশতরান সবসময় দলকে জেতানোর জন্য যথেষ্ট হয় না। দলের অন্যান্য ব্যাটারদেরও পরিস্থিতি অনুযায়ী অবদান রাখতে হয়। বিশেষ করে ২৪৮ রানের মতো বড় লক্ষ্য তাড়া করার সময় ব্যাটিংয়ের গভীরতা, স্ট্রাইক রোটেশন এবং বাউন্ডারি আদায়ের মধ্যে ভারসাম্য রাখতে হয়।

ভারত ২২৩ রান পর্যন্ত পৌঁছলেও লক্ষ্য পূরণ করতে পারেনি। এই ফল থেকে বোঝা যায়, রান তোলার চেষ্টা থাকলেও প্রয়োজনীয় সময়ে ম্যাচের গতি নিজেদের পক্ষে ধরে রাখা সম্ভব হয়নি। সঞ্জুর ইনিংস ইতিবাচক দিক হলেও দলগতভাবে আরও কার্যকর পরিকল্পনার প্রয়োজন ছিল।

হায়দরাবাদের পিচ নিয়ে কী বললেন সঞ্জু?

হায়দরাবাদের পিচে বড় রানের ম্যাচ হতে পারে, এমন প্রত্যাশা আগে থেকেই ছিল বলে জানিয়েছেন সঞ্জু স্যামসন। তাঁর মতে, এই ধরনের পিচে প্রথম বল থেকেই আক্রমণাত্মক মানসিকতা নিয়ে খেলতে হয়। তবে প্রতিটি বলেই বড় শট খেলা সম্ভব নয়। পরিস্থিতি বুঝে ব্যাটিংয়ের ধরন বদলানো জরুরি।

টি-২০ ক্রিকেটে আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ম্যাচের পরিস্থিতি পড়তে পারার দক্ষতাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পিচ ব্যাটিংয়ের অনুকূল হলে ব্যাটাররা বাউন্ডারি মারার সুযোগ খোঁজেন। কিন্তু উইকেট পড়তে থাকলে বা বোলাররা চাপ তৈরি করলে কিছু সময় ঝুঁকি কমিয়ে খেলা প্রয়োজন হতে পারে।

বড় লক্ষ্য তাড়া করার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় রান রেটের হিসাব মাথায় রাখা জরুরি। শুরুতে দ্রুত রান তুললে শেষের দিকে কিছুটা স্বস্তি পাওয়া যায়। কিন্তু মাঝের ওভারগুলিতে রান কমে গেলে শেষের দিকে ব্যাটারদের ঝুঁকি বাড়াতে হয়। ফলে সঠিক সময়ে আক্রমণ এবং সংযমের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখাই ম্যাচ জয়ের অন্যতম চাবিকাঠি।

সঞ্জুর বক্তব্যে সেই বাস্তবতার কথাই উঠে এসেছে। তাঁর মতে, বড় স্কোরের ম্যাচে আক্রমণাত্মক ক্রিকেট প্রয়োজন হলেও প্রতিটি পরিস্থিতিতে একইভাবে খেলা সম্ভব নয়। প্রতিপক্ষের বোলিং, উইকেটের অবস্থা এবং ম্যাচের সমীকরণ বুঝেই সিদ্ধান্ত নিতে হয়।

শাই হোপের প্রশংসায় সঞ্জু

ভারতের বিরুদ্ধে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটিংয়ের প্রসঙ্গে শাই হোপের প্রশংসা করেছেন সঞ্জু স্যামসন। তাঁর মতে, হোপ দুরন্ত ছন্দে রয়েছেন এবং অপ্রয়োজনীয় ঝুঁকি না নিয়েও কার্যকর ক্রিকেটীয় শট খেলছেন।

টি-২০ ক্রিকেটে বড় রান তোলার জন্য সবসময় নির্বিচারে আক্রমণ করতে হয় না। একজন ব্যাটার যদি সঠিক বল নির্বাচন করতে পারেন, ফাঁকা জায়গায় শট খেলতে পারেন এবং বোলারের পরিকল্পনা বুঝে ব্যাটিং করেন, তা হলে ঝুঁকি কমিয়েও দ্রুত রান তোলা সম্ভব।

হোপের মতো অভিজ্ঞ ব্যাটারের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি বুঝে খেলার ক্ষমতা গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিপক্ষের বোলিং আক্রমণকে সামলাতে হলে শুধু শক্তিশালী শট খেললেই চলে না, কোন বল আক্রমণ করা উচিত এবং কোন বল ছেড়ে দেওয়া বা রক্ষণাত্মকভাবে খেলা উচিত, সেই সিদ্ধান্তও নিতে হয়।

news image
আরও খবর

ভারতের বিরুদ্ধে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বড় স্কোর গড়ার ক্ষেত্রে ব্যাটারদের অবদান যেমন গুরুত্বপূর্ণ ছিল, তেমনই ভারতীয় বোলারদের পরিকল্পনা এবং বাস্তবায়নের দিকটিও আলোচনায় এসেছে। সঞ্জুর বক্তব্যে প্রতিপক্ষকে কৃতিত্ব দেওয়ার পাশাপাশি তাঁদের ব্যাটিংয়ের কার্যকারিতাও স্বীকার করা হয়েছে।

ভারতের বোলিং নিয়ে উঠছে প্রশ্ন

শুধু ব্যাটিং নয়, এই ম্যাচে ভারতের বোলিং নিয়েও আলোচনা তৈরি হয়েছে। ২৪৮ রানের কাছাকাছি স্কোর করতে পারার সুযোগ ওয়েস্ট ইন্ডিজকে দেওয়ায় ভারতীয় বোলারদের পারফরম্যান্স নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। প্রতিপক্ষকে বড় স্কোরে আটকে রাখতে না পারলে পরে ব্যাটারদের উপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়।

টি-২০ ক্রিকেটে বোলারদের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হল রান আটকানো এবং নিয়মিত উইকেট নেওয়ার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা। ব্যাটিংয়ের অনুকূল পিচে রান আটকানো কঠিন হতে পারে। তবুও সঠিক লাইন ও লেংথ, বৈচিত্র্য, ফিল্ডিংয়ের বিন্যাস এবং বোলিংয়ের পরিকল্পনা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

বিশেষ করে শেষের ওভারগুলিতে বোলারদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ব্যাটাররা যখন বড় শট খেলার চেষ্টা করেন, তখন ইয়র্কার, স্লোয়ার বল এবং অন্যান্য বৈচিত্র্য কাজে লাগানো যেতে পারে। তবে এসব পরিকল্পনা কার্যকর করতে হলে চাপের মধ্যে নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা প্রয়োজন।

ভারতের এই ম্যাচে বোলিংয়ের দুর্বলতা নিয়ে আলোচনা হওয়া স্বাভাবিক। তবে পুরো মূল্যায়নের জন্য প্রত্যেক বোলারের পরিসংখ্যান, অতিরিক্ত রান, উইকেট নেওয়ার সুযোগ এবং পিচের পরিস্থিতি বিবেচনা করা দরকার। শুধু মোট রান দেখে কোনও একজন বোলারের পারফরম্যান্স সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছনো ঠিক নয়।

বুমরাহর অভাব নিয়ে কী বললেন সঞ্জু?

ভারতের বোলিং প্রসঙ্গে যশপ্রীত বুমরাহর অনুপস্থিতির কথাও উঠে এসেছে। সঞ্জু স্যামসনের মতে, বুমরাহর মতো বোলার একটি প্রজন্মে একবারই আসেন। তাঁর সঙ্গে খেলার সুযোগ পাওয়া ভারতীয় দলের কাছে সৌভাগ্যের বিষয় বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।

বুমরাহর বোলিংয়ের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হল চাপের মুহূর্তে কার্যকর বল করা। নতুন বল, মাঝের ওভার এবং ডেথ ওভার—বিভিন্ন পর্যায়ে তাঁর অভিজ্ঞতা দলকে সাহায্য করে। বিশেষ করে শেষের ওভারগুলিতে যখন ব্যাটাররা দ্রুত রান তোলার চেষ্টা করেন, তখন নিয়ন্ত্রণ এবং বৈচিত্র্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

তবে কোনও একজন বোলারের অভাব পূরণ করা সহজ নয় বলে মনে করলেও সঞ্জু তরুণ প্রতিভাদের উপর আস্থা রাখার কথা বলেছেন। তাঁর মতে, নতুন বোলারদের সময় দিতে হবে। যত বেশি ম্যাচ খেলার সুযোগ তাঁরা পাবেন, তত অভিজ্ঞতা বাড়বে এবং চাপের মধ্যে নিজেদের দক্ষতা প্রয়োগ করার ক্ষমতাও উন্নত হবে।

ভারতের মতো আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ দলের জন্য নতুন বোলারদের তৈরি করা গুরুত্বপূর্ণ। অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের পাশাপাশি তরুণদের ধারাবাহিক সুযোগ দেওয়া হলে ভবিষ্যতের জন্য কার্যকর বোলিং আক্রমণ গড়ে তোলা সম্ভব হতে পারে। তবে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সাফল্য পেতে হলে দক্ষতার পাশাপাশি মানসিক দৃঢ়তা এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ক্ষমতাও প্রয়োজন।

সিরিজের শেষ ম্যাচে ঘুরে দাঁড়ানোর চ্যালেঞ্জ

চতুর্থ টি-২০ ম্যাচে হারের পর সিরিজের সমীকরণ আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী, সিরিজ এখন ২-২ অবস্থায় রয়েছে। ফলে শেষ ম্যাচে দুই দলের সামনেই সিরিজের ফল নিজেদের পক্ষে নেওয়ার সুযোগ থাকবে।

সঞ্জু স্যামসন জানিয়েছেন, ভারতীয় দল শেষ ম্যাচে নিজেদের সেরাটা দিতে প্রস্তুত। এই বক্তব্য থেকে বোঝা যায়, আগের ম্যাচের হারকে পিছনে ফেলে পরবর্তী লড়াইয়ে মনোযোগ দিতে চাইছে দল।

শেষ ম্যাচে ভারতের সামনে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় থাকবে। প্রথমত, বোলিংয়ে প্রতিপক্ষের বড় স্কোর আটকানো। দ্বিতীয়ত, ব্যাটিংয়ের সময় উইকেট ধরে রেখে প্রয়োজনীয় রান রেট বজায় রাখা। তৃতীয়ত, চাপের মুহূর্তে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ভুল কমানো।

অন্যদিকে, ওয়েস্ট ইন্ডিজও আগের ম্যাচের সাফল্য থেকে আত্মবিশ্বাস পেতে পারে। তবে আগের ম্যাচে জয় পাওয়া মানেই পরের ম্যাচেও একই ফল হবে, এমন নয়। পিচ, টস, দল নির্বাচন এবং ম্যাচের পরিস্থিতি ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

শেষ ম্যাচে কোন বিষয়গুলি গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে?

শেষ টি-২০ ম্যাচে ভারতের পারফরম্যান্স বিচার করার ক্ষেত্রে শুধু ব্যাটিং বা বোলিংয়ের মোট রান নয়, বরং পুরো ম্যাচের পরিকল্পনা এবং তার বাস্তবায়ন দেখতে হবে। পাওয়ারপ্লেতে রান তোলার গতি, মাঝের ওভারে উইকেট ধরে রাখা এবং শেষের দিকে বাউন্ডারি আদায়ের ক্ষমতা ব্যাটিংয়ের গুরুত্বপূর্ণ দিক।

বোলিংয়ের ক্ষেত্রে শুরুতেই উইকেট নেওয়া, ব্যাটারদের বড় শট খেলার সুযোগ সীমিত করা এবং ডেথ ওভারে নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা বিশেষ গুরুত্ব পেতে পারে। ফিল্ডিংয়েও ক্যাচ ধরা এবং দ্রুত রান আটকানো ম্যাচের ফল বদলে দিতে পারে।

চাপের মধ্যে অভিজ্ঞ ব্যাটারদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হলেও তরুণ ক্রিকেটারদের অবদানও কম নয়। দলের সবাই নিজেদের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করতে পারলে বড় লক্ষ্য তাড়া করা বা বড় স্কোর আটকানোর সম্ভাবনা বাড়ে।

উপসংহার

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে চতুর্থ টি-২০ ম্যাচে ভারতের হার আবারও দেখিয়ে দিল, টি-২০ ক্রিকেটে ছোট ছোট মুহূর্ত কতটা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। সঞ্জু স্যামসনের মতে, তিলক ভার্মার আউটই ছিল ম্যাচের অন্যতম টার্নিং পয়েন্ট। তিলক ক্রিজে থাকাকালীন ভারতের জয়ের আশা ছিল, কিন্তু তাঁর বিদায়ের পর সেই সম্ভাবনা কঠিন হয়ে পড়ে।

তবে এই হারের পিছনে শুধু একটি উইকেট নয়, বড় লক্ষ্য তাড়া করার চাপ এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজকে বড় স্কোর করতে দেওয়ার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। সঞ্জুর অর্ধশতরান, তিলকের লড়াই এবং হোপের ব্যাটিং—সব মিলিয়ে ম্যাচটি ছিল নানা গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে ভরা।

এখন নজর সিরিজের শেষ ম্যাচে। ২-২ সমতায় থাকা সিরিজে ভারত ঘুরে দাঁড়াতে পারে কি না, তা নির্ভর করবে ব্যাটিং, বোলিং এবং চাপের মুহূর্তে দল কতটা কার্যকরভাবে খেলতে পারে তার উপর।

Preview image