৮৫ হাজার দর্শকের সামনে শেষ বার মেসি, বেনিন ম্যাচেই দেশের জার্সিতে শেষ নাচ!
একটি যুগের শেষ হতে চলেছে। যে নামটি গত দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে বিশ্ব ফুটবলের সঙ্গে সমার্থক হয়ে উঠেছে, সেই লিয়োনেল মেসি এ বার শেষ বার আর্জেন্টিনার জার্সি গায়ে মাঠে নামতে চলেছেন। ভারতীয় সময় বুধবার ভোর সাড়ে ৪টেয় বুয়েনস আইরেসের ঐতিহাসিক এস্তাদিয়ো মনুমেন্তালে ৮৫,০০০ দর্শকের সামনে বেনিনের বিরুদ্ধে প্রীতি ম্যাচ খেলবে আর্জেন্টিনা। আর সেই ম্যাচই হতে চলেছে মেসির জাতীয় দলের হয়ে শেষ উপস্থিতি।
দীর্ঘ ২১ বছরের আন্তর্জাতিক কেরিয়ারে মেসি আর্জেন্টিনাকে যে উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছেন, তা শুধু পরিসংখ্যান দিয়ে ব্যাখ্যা করা কঠিন। ব্যর্থতা, হতাশা, সমালোচনা পেরিয়ে শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপ জয় থেকে কোপা আমেরিকা—সব মিলিয়ে আর্জেন্টিনার ফুটবল ইতিহাসে মেসির অধ্যায়টি হয়ে উঠেছে একেবারেই আলাদা। এ বার সেই অধ্যায়ের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটতে চলেছে নিজের দেশের মাটিতে, নিজের সমর্থকদের সামনে।
বুয়েনস আইরেসের এস্তাদিয়ো মনুমেন্তালে মেসির বিদায়ী ম্যাচকে ঘিরে ইতিমধ্যেই তৈরি হয়েছে প্রবল উন্মাদনা। প্রায় ৮৫ হাজার দর্শক এই ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী থাকতে স্টেডিয়ামে উপস্থিত থাকবেন। আর্জেন্টিনা ফুটবল সংস্থা মেসির জন্য বিশেষ বিদায়ী ম্যাচের আয়োজন করেছে। প্রতিপক্ষ বেনিন।
জাতীয় দলের জার্সিতে শেষ বার মাঠে নামার আগে মেসি নিজেও এই ম্যাচের জন্য প্রস্তুত। ২১ বছরের আন্তর্জাতিক কেরিয়ারের শেষ ম্যাচটি যে আবেগঘন হতে চলেছে, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই। কারণ মেসির বিদায় শুধু একজন ফুটবলারের বিদায় নয়, বরং আর্জেন্টিনা ফুটবলের একটি দীর্ঘ ও গৌরবময় যুগের সমাপ্তি।
চলতি বছর বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের কাছে হারের কয়েক দিন পরই জাতীয় দল থেকে অবসরের ঘোষণা করেছিলেন মেসি। তার পরেই তাঁকে সম্মান জানাতে এই বিশেষ ম্যাচের আয়োজন করা হয়। আর্জেন্টিনার ফুটবলপ্রেমীদের কাছে তাই বেনিনের বিরুদ্ধে এই ম্যাচের গুরুত্ব নিছক একটি প্রীতি ম্যাচের চেয়ে অনেক বেশি।
আর্জেন্টিনার সিনিয়র দলে মেসির অভিষেক হয়েছিল ২০০৫ সালে। তখন তিনি ছিলেন এক তরুণ প্রতিভা। বিশ্বের অন্যতম সেরা ফুটবলার হয়ে উঠবেন, একের পর এক রেকর্ড ভাঙবেন এবং আর্জেন্টিনার হয়ে বিশ্বকাপ জিতবেন—সেই সময় হয়তো এতটা কল্পনাও করা যায়নি।
কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মেসি হয়ে ওঠেন আর্জেন্টিনার দলের প্রধান ভরসা। তাঁর পায়ে বল মানেই তৈরি হত নতুন কোনও সম্ভাবনা। ড্রিবলিং, গোল করা, গোলের সুযোগ তৈরি করা, সতীর্থদের দিয়ে গোল করানো—সব ক্ষেত্রেই নিজেকে আলাদা করে প্রতিষ্ঠিত করেছেন তিনি।
২১ বছরের আন্তর্জাতিক কেরিয়ারে আর্জেন্টিনার হয়ে ২০৭টি ম্যাচ খেলেছেন মেসি। দেশের হয়ে তাঁর গোলসংখ্যা ১২৫। পাশাপাশি রয়েছে ৬৮টি অ্যাসিস্ট। এই পরিসংখ্যানই বলে দেয় জাতীয় দলের হয়ে তাঁর অবদান কতটা বিশাল।
মেসির আন্তর্জাতিক কেরিয়ারের সবচেয়ে বড় সাফল্য অবশ্যই ২০২২ সালের বিশ্বকাপ জয়। কাতারে সেই বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনাকে নেতৃত্ব দিয়ে বহু বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়েছিলেন তিনি। ফাইনালে ফ্রান্সের বিরুদ্ধে সেই নাটকীয় ম্যাচে শেষ পর্যন্ত ট্রফি হাতে তুলেছিলেন মেসি।
এর আগে ২০২১ সালে কোপা আমেরিকা জয় ছিল মেসির আন্তর্জাতিক কেরিয়ারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। ব্রাজিলের বিরুদ্ধে ফাইনালে জিতে প্রথম বড় আন্তর্জাতিক ট্রফি পেয়েছিলেন তিনি। পরবর্তীতে আরও একটি কোপা আমেরিকা জিতে সাফল্যের তালিকাকে আরও সমৃদ্ধ করেন।
এর পাশাপাশি ফাইনালিসিমাও জিতেছেন মেসি। ফলে আর্জেন্টিনার হয়ে তাঁর ট্রফি ক্যাবিনেট এখন পরিপূর্ণ। বিশ্বকাপ, কোপা আমেরিকা এবং ফাইনালিসিমা—সব বড় আন্তর্জাতিক মঞ্চেই নিজের ছাপ রেখেছেন তিনি।
মেসির আন্তর্জাতিক কেরিয়ার অবশ্য শুরু থেকেই এতটা সাফল্যে ভরা ছিল না। বরং একটা সময় জাতীয় দলের হয়ে বড় ম্যাচে সাফল্য না পাওয়ার জন্য তাঁকে প্রবল সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছিল।
কোপা আমেরিকা ও বিশ্বকাপের একাধিক ফাইনালে পরাজয় মেসির কেরিয়ারে গভীর হতাশা তৈরি করেছিল। এক সময় জাতীয় দল থেকে অবসর নেওয়ার সিদ্ধান্তও নিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু পরে ফিরে এসে নতুন করে শুরু করেন। সেই প্রত্যাবর্তনের পরই যেন বদলে যায় গল্প।
২০২১ সালের কোপা আমেরিকা জয় মেসির আন্তর্জাতিক কেরিয়ারে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে। তার পর ২০২২ সালের বিশ্বকাপ জয় তাঁকে এনে দেয় কাঙ্ক্ষিত সাফল্য। আর্জেন্টিনার হয়ে তাঁর দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটে।
বিশ্বকাপ জয়ের পরও মেসির যাত্রা থামেনি। এ বারও আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপের ফাইনালে নিয়ে গিয়েছিলেন তিনি। তবে চলতি বছরের ফাইনালে স্পেনের কাছে হারতে হয় আর্জেন্টিনাকে।
ফাইনালের কয়েক দিন পরই জাতীয় দল থেকে অবসরের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন মেসি। ফলে স্পেনের বিরুদ্ধে ম্যাচটিই তাঁর আন্তর্জাতিক কেরিয়ারের শেষ ম্যাচ হয়ে থাকতে পারত। কিন্তু আর্জেন্টিনা ফুটবল সংস্থা তাঁকে নিজের দেশের মাটিতে বিদায় জানানোর সিদ্ধান্ত নেয়।
সেই সিদ্ধান্তের ফলেই বেনিনের বিরুদ্ধে এই বিশেষ ম্যাচ।
মেসির বিদায়ের ম্যাচের সবচেয়ে প্রতীকী দিক সম্ভবত নতুন প্রজন্মের ফুটবলারদের উপস্থিতি। এক দিকে থাকবেন মেসি, দি মারিয়া-সহ অভিজ্ঞরা; অন্য দিকে মাঠে দেখা যাবে তরুণ ফুটবলারদের।
ফ্রাঙ্কো মাসটানটুয়োনো, লিয়োনেল ফ্লোরেসের মতো তরুণ ফুটবলারদের এই ম্যাচে সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। মেসির জাতীয় দলে অভিষেকের সময় তাঁদের জন্মই হয়নি। আর আজ তাঁরা দাঁড়িয়ে আছেন সেই একই জাতীয় দলের জার্সিতে, যেখানে মেসি দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে নেতৃত্ব দিয়েছেন।
এ যেন সত্যিই এক প্রজন্মের হাত থেকে আর এক প্রজন্মের হাতে ব্যাটন তুলে দেওয়ার মুহূর্ত।
মেসি যখন আর্জেন্টিনার সিনিয়র দলে অভিষেক করেছিলেন, তখনকার ফুটবল আর আজকের ফুটবল এক নয়। তাঁর সঙ্গে বেড়ে উঠেছে একটি প্রজন্ম। সেই প্রজন্মই মেসির সাফল্যের সাক্ষী থেকেছে। এ বার সেই প্রজন্মের পরবর্তী ফুটবলারদের সামনে দায়িত্ব আর্জেন্টিনার ফুটবলকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া।
বিদায়ী ম্যাচে মেসির সঙ্গে খেলতে দেখা যাবে অ্যাঙ্খেল দি মারিয়াকেও। মেসি ও দি মারিয়ার যুগলবন্দি আর্জেন্টিনার সাম্প্রতিক ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম স্মরণীয় অধ্যায়।
২০২২ সালের বিশ্বকাপ ফাইনালেও দু’জন একসঙ্গে খেলেছিলেন। আর্জেন্টিনার সেই বিশ্বকাপ জয়ে দি মারিয়ার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। তাই মেসির শেষ জাতীয় ম্যাচে তাঁর উপস্থিতি এই বিদায়কে আরও আবেগঘন করে তুলবে।
শুধু দি মারিয়া নন, ২০২২ সালের বিশ্বকাপজয়ী দলের আরও কয়েক জন ফুটবলারকে এই ম্যাচে দেখা যেতে পারে। তাঁদের পরিবারের সদস্যরাও স্টেডিয়ামে উপস্থিত থাকবেন বলে জানা গিয়েছে। ফলে ম্যাচটি কার্যত আর্জেন্টিনার একটি প্রজন্মকে সম্মান জানানোর মঞ্চে পরিণত হতে চলেছে।
বেনিনের বিরুদ্ধে ম্যাচটি শুধু মেসির বিদায়ী ম্যাচ নয়। আর্জেন্টিনার আরও কয়েক জন অভিজ্ঞ ফুটবলারের ক্ষেত্রেও এটি জাতীয় দলের শেষ ম্যাচ হতে পারে।
রদ্রিগো ডি পল, নিকোলাস ওটামেন্ডি এবং জিয়োভানি লো সেলসোকে এই ম্যাচের জন্য দলে ডাকা হয়েছে। তাঁদেরও জাতীয় দলের জার্সিতে শেষ বার দেখা যেতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
অর্থাৎ একই ম্যাচে আর্জেন্টিনা ফুটবলের একটি গোটা প্রজন্মকে বিদায় জানানো হতে পারে। যে ফুটবলাররা দীর্ঘ সময় ধরে জাতীয় দলের হয়ে খেলেছেন, জিতেছেন বড় বড় ট্রফি, ব্যর্থতার সময় সমালোচনা সহ্য করেছেন এবং শেষ পর্যন্ত নিজেদের নাম ইতিহাসে লিখিয়েছেন—তাঁদের বিদায় একসঙ্গে দেখা নিঃসন্দেহে বিরল ঘটনা।
মেসির বিদায়ের পর সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—তাঁর জায়গা কে নেবেন?
আর্জেন্টিনার কোচ লিয়োনেল স্কালোনি অবশ্য মনে করেন, মেসির অভাব কোনও এক জন ফুটবলার পূরণ করতে পারবেন না। তাঁর কথায়, সকলকে একসঙ্গে মিলে সেই অভাব পূরণের চেষ্টা করতে হবে।
এটাই হয়তো বাস্তবতা। মেসির মতো একজন ফুটবলারকে সরাসরি প্রতিস্থাপন করা সম্ভব নয়। তাঁর জায়গায় একজন নতুন মেসি খোঁজার পরিবর্তে আর্জেন্টিনাকে নতুন একটি দল তৈরি করতে হবে। তরুণ ফুটবলারদের নিয়ে নতুন পরিকল্পনা, নতুন কৌশল এবং নতুন নেতৃত্বের মধ্য দিয়েই এগোতে হবে বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের।
মেসির উত্তরসূরি হয়তো একজন হবেন না। বরং একাধিক তরুণ ফুটবলারের সম্মিলিত প্রচেষ্টাতেই তৈরি হবে নতুন আর্জেন্টিনা।
জাতীয় দলের পাশাপাশি মেসির ক্লাব কেরিয়ার নিয়েও এখন প্রশ্ন উঠছে। বর্তমানে ইন্টার মায়ামির হয়ে ক্লাব ফুটবল খেলছেন তিনি। তাঁর সঙ্গে ক্লাবের ২০২৮ সাল পর্যন্ত চুক্তি রয়েছে।
তবে বাবার মৃত্যুর পর মেসির বিভিন্ন কথাবার্তা থেকে ইঙ্গিত মিলেছে যে ক্লাব ফুটবলেও তাঁর কেরিয়ার হয়তো শেষের দিকে। চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর তিনি আর মাঠে থাকবেন কি না, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই জল্পনা শুরু হয়েছে।
যদি ভবিষ্যতে মেসি ক্লাব ফুটবল থেকেও অবসর নেন, তা হলে বেনিনের বিরুদ্ধে এই ম্যাচটি তাঁর ফুটবলজীবনের শেষ অধ্যায়ের সূচনা হিসেবেও দেখা যেতে পারে।
আর্জেন্টিনার কোচ লিয়োনেল স্কালোনির কাছেও মেসির বিদায়ী ম্যাচ অত্যন্ত আবেগের। তাঁর মতে, এই দিনটি সকলের কাছে অবিস্মরণীয় হয়ে থাকবে।
স্কালোনির নেতৃত্বেই আর্জেন্টিনা কোপা আমেরিকা এবং বিশ্বকাপের মতো বড় সাফল্য পেয়েছে। মেসির সঙ্গে তাঁর সম্পর্কও তাই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মেসিকে ছাড়া নতুন দল তৈরি করা তাঁর সামনে বড় চ্যালেঞ্জ।
তবে স্কালোনি জানেন, ফুটবলে কোনও একজন খেলোয়াড়কে কেন্দ্র করে চিরকাল দল তৈরি করা যায় না। মেসির পরবর্তী যুগে নতুন নেতৃত্ব এবং নতুন প্রতিভার উপর ভরসা করতেই হবে।
বুয়েনস আইরেসের এস্তাদিয়ো মনুমেন্তালে বুধবার ভোরে শুধু একটি ফুটবল ম্যাচ হবে না। হবে একটি যুগের বিদায়।
৮৫ হাজার দর্শক একসঙ্গে দাঁড়িয়ে দেখতে চাইবেন তাঁদের প্রিয় ফুটবলারকে শেষ বার আর্জেন্টিনার জার্সিতে। গ্যালারিতে থাকবে আবেগ, স্মৃতি এবং ভালোবাসা। মাঠে থাকবে মেসি এবং তাঁর সতীর্থরা।
একুশ বছরের আন্তর্জাতিক কেরিয়ারে মেসি আর্জেন্টিনার ফুটবলকে যে সাফল্য দিয়েছেন, তার মূল্যায়ন হয়তো আগামী বহু বছর ধরেও চলবে। কিন্তু তাঁর বিদায়ের মুহূর্তটি থাকবে সম্পূর্ণ আলাদা।
বেনিনের বিরুদ্ধে বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গে শুরু হবে মেসির শেষ আন্তর্জাতিক অধ্যায়ের শেষ পৃষ্ঠা। ম্যাচ শেষ হলে হয়তো তিনি আর আর্জেন্টিনার জার্সি পরে মাঠে নামবেন না। জাতীয় দলের হয়ে আর কোনও গোল, আর কোনও অ্যাসিস্ট, আর কোনও ড্রিবলিং, আর কোনও ট্রফির লড়াই নয়।
শুধু থেকে যাবে অসংখ্য স্মৃতি।
২০০৫ সালে যে তরুণ ফুটবলার আর্জেন্টিনার জার্সি পরে প্রথম মাঠে নেমেছিলেন, ২১ বছর পর তিনিই সেই জার্সি তুলে দেবেন পরবর্তী প্রজন্মের হাতে। মেসির বিদায় তাই শুধুমাত্র একটি ফুটবলারের অবসর নয়। এটি আর্জেন্টিনা ফুটবলের এক সোনালি প্রজন্মের বিদায়।
আর সেই ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী থাকতে প্রস্তুত ৮৫ হাজার দর্শক। প্রস্তুত আর্জেন্টিনা। প্রস্তুত গোটা ফুটবল বিশ্ব।
শেষ বার—লিয়োনেল মেসি।