Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

রাজকোটে সিরিজ নিশ্চিত করতে চায় ভারত শুভমনদের প্রথম একাদশে বদল অভিষেকের আশায় ক্রিকেটার

বোলিং নিয়ে চিন্তা ভারতীয় শিবিরে ওয়াশিংটন সুন্দরের পরিবর্তন নিয়ে ভাবনা গৌতম গম্ভীরের নিউ জ়িল্যান্ডের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় এক দিনের ম্যাচে প্রথম একাদশে ঢোকার লড়াইয়ে দুই ক্রিকেটার

ভারতীয় ক্রিকেট দলের জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সময়। প্রথম এক দিনের ম্যাচে ৩০১ রান তাড়া করে জয় পেয়ে ভারতীয় শিবিরে নতুন আত্মবিশ্বাস তৈরি হয়েছে। এ জয় তাদের আরও এক ধাপ এগিয়ে দিয়েছে। যদিও অলরাউন্ডার ওয়াশিংটন সুন্দর চোটের কারণে ছিটকে গিয়েছেন তবে ভারতীয় দলকে নিয়ে গৌতম গম্ভীর যথেষ্ট আশাবাদী। ওয়াশিংটন সুন্দর ছিটকে যাওয়ার কারণে একাদশে পরিবর্তন হবে এবং নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড়িয়ে রয়েছে ভারতীয় শিবির। তবে চিন্তা থাকা সত্ত্বেও গম্ভীরের লক্ষ্য রাজকোটে সিরিজ জয়ের মাধ্যমে তার দলের আত্মবিশ্বাস আরও মজবুত করা।

রাজকোটের ২২ গজ ভারতীয় দলের জন্য অপরিচিত নয়। ভারতীয় দলের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে এই মাঠের সঙ্গে তাদের পরিচিতি রয়েছে। বিশেষত বিরাট কোহলির ফর্ম এবং শুভমনের রানে ফেরা ভারতীয় শিবিরে বাড়তি আত্মবিশ্বাস যোগ করেছে। চোট সারিয়ে ফিরে আসা সহ-অধিনায়ক শ্রেয়স আয়ারও ফর্মে রয়েছেন। তাই দলের মধ্যে উদ্বেগের চেয়ে আরও বেশি আত্মবিশ্বাস দেখা যাচ্ছে। ভারতীয় শিবিরে এই পরিস্থিতি বিরাট কোহলির ফর্ম এবং শুভমনের রানে ফিরার ফলে আরও দৃঢ় হয়েছে। গম্ভীর চান দ্বিতীয় ম্যাচেই সিরিজ জয় নিশ্চিত করতে যার ফলে আগামী রবিবারের তৃতীয় ম্যাচে ভারতীয় দল বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে পারবে এবং গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেটারদের বিশ্রামও দিতে পারবে।

বোলিং নিয়ে কিছুটা চিন্তা রয়েছে। প্রথম ম্যাচে ভারতীয় দলের বোলাররা যেমন হর্ষিত রানা প্রসিদ্ধ কৃষ্ণ মহম্মদ সিরাজ নিউ জ়িল্যান্ডের টপ অর্ডার ব্যাটারদের দ্রুত আউট করতে পারেননি। এর ফলে কিউয়িরা ৩০০ রান তুলে ফেলে। মাইকেল ব্রেসওয়েলের দলের ব্যাটিং শক্তি যথেষ্ট ভালো এবং নিউ জ়িল্যান্ড বিশ্বের অন্যতম সেরা ফিল্ডিং দল। সিরিজে ভারত এগিয়ে থাকলেও গম্ভীর প্রতিপক্ষ দলকে হালকা ভাবে নিচ্ছেন না।

ওয়াশিংটন সুন্দরের অভাব পূরণের জন্য গম্ভীরের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। আয়ুষ বাদোনি দলে নেওয়া হলেও তিনি ওয়াশিংটনের 'লাইক টু লাইক' (যথার্থ) পরিবর্তন নন। ওয়াশিংটনের চোটের জন্য ভারতের প্রথম একাদশে অন্তত একটি পরিবর্তন হবেই এবং এই পরিবর্তন ঘটবে অলরাউন্ডারের জায়গায়। ওপেন জুটি পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই শুভমনের সঙ্গে ইনিংস শুরু করবেন রোহিত শর্মা। তিন নম্বরে আসবেন বিরাট কোহলি এবং চার নম্বরে নামবেন শ্রেয়স আয়ার।

ব্যাটিং অর্ডারের পাঁচ নম্বরে নামবেন রবীন্দ্র জাডেজা ছয় নম্বরে লোকেশ রাহুল। প্রথম ম্যাচের মতো রাজকোটেও তিনিই থাকবেন উইকেটরক্ষক হিসাবে। ওয়াশিংটনের পরিবর্তে প্রথম একাদশে ঢোকার লড়াই এখন মূলত দুজনের মধ্যে। একদিকে ধ্রুব জুরেল এবং অন্যদিকে বাদোনি। ধ্রুব জুরেল দেশের হয়ে ন’টি টেস্ট এবং চারটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেললেও এক দিনের ম্যাচে অভিজ্ঞতা নেই। অপরদিকে বাদোনি এখনও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক ঘটাননি। যিনিই খেলুন বুধবার তাঁদের অভিষেক হবে। তবে বাদোনি এগিয়ে রয়েছেন কারণ তিনি প্রয়োজনে অফ স্পিন করতে পারেন।

রাজকোটে ভারতীয় দলের জন্য এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ কারণ এখানেই তারা সিরিজ জয়ের জন্য একটি পদক্ষেপ নেবে। ওয়াশিংটনের পরিবর্তে যিনি খেলবেন তার জন্য এটি বিশেষ সুযোগ কারণ এতে ভারতীয় দলের ব্যাটিং এবং বোলিং আক্রমণের সমন্বয়ও আরও শক্তিশালী হবে। তদুপরি ওয়াশিংটনের অভাব পূরণের জন্য গম্ভীর যে খেলোয়াড়দের সুযোগ দেবেন তারা যেন সেই জায়গায় নিজেকে প্রমাণ করতে পারে তেমনভাবে দলের মধ্যে একটি নতুন লক্ষ্য তৈরি হয়েছে।

ভারতীয় দলের প্রথম একাদশের পরিবর্তনটি শুধু খেলোয়াড়দের জন্য নয় বরং একটি বড় দায়িত্বও হয়ে দাঁড়িয়েছে। তারা যেই অভিষেক ঘটাবে সেই খেলোয়াড়ের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ কারণ এই ম্যাচে তার পারফরম্যান্সের ওপর দলের ভবিষ্যত নির্ভর করবে। তাই ভারতীয় শিবিরের মধ্যে আবেগ ও উত্তেজনা ছড়ানো অবধি তাদের প্রস্তুতি এবং মনোবল একেবারে শীর্ষে থাকবে।

ভারতীয় দলের জন্য সিরিজের বাকি ম্যাচগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং এই সিরিজ জয় তাদের আত্মবিশ্বাস আরও মজবুত করবে। ভারতের ক্রিকেট দল জানে যে, সিরিজের প্রথম জয় তাদের পথ প্রশস্ত করেছে তবে আরও অনেক কিছু অর্জন বাকি। ওয়াশিংটন সুন্দরের অভাব পূরণের পাশাপাশি ভারতীয় দলের একাদশের যথাযথ সমন্বয় নিশ্চিত করতে হবে যাতে তারা বিশ্ব ক্রিকেটের শীর্ষে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত রাখতে পারে।

news image
আরও খবর

এখন পর্যন্ত সিরিজে ভারতীয় দল ভালো পারফরম্যান্স দেখিয়েছে। প্রথম ম্যাচে ৩০১ রান তাড়া করে জয় পাওয়ার পর দলের মধ্যে দৃঢ় আত্মবিশ্বাস তৈরি হয়েছে। তবে এই জয়কে স্থায়ী করার জন্য তাদের আরও বেশি পরিশ্রম করতে হবে এবং একাধিক নতুন চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হতে হবে। ওয়াশিংটন সুন্দরের চোটের কারণে ভারতীয় দল নতুন এক পরিস্থিতির মধ্যে পড়েছে। তাকে ওয়াশিংটনের মতো একজন অলরাউন্ডারের অভাব পূরণ করার জন্য নতুন কিছু কৌশল গ্রহণ করতে হবে। এমন পরিস্থিতিতে গৌতম গম্ভীরের নেতৃত্ব এবং দলের অভিজ্ঞতা খুবই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বোলিং বিভাগের অবস্থা কিছুটা উদ্বেগজনক হলেও ভারতীয় শিবিরে পূর্ণ মনোবল রয়েছে। প্রথম ম্যাচে কিছু ভুল হয়েছিল, বিশেষত বোলিং লাইন-আপে। ভারতীয় বোলাররা নিউ জ়িল্যান্ডের টপ অর্ডার ব্যাটারদের দ্রুত আউট করতে পারেননি, ফলে কিউয়িরা বড় রান তোলার সুযোগ পায়। এই কারণে ভারতীয় দল তাদের বোলিং পরিকল্পনা আরও শক্তিশালী করতে চাইবে এবং নতুন করে কৌশল নির্ধারণ করতে হবে। এই সিরিজে ভারতীয় দলের বোলিং বিভাগ যদি উন্নতি করতে পারে তবে তাদের জয়ের সম্ভাবনা আরও বাড়বে।

একটি বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে ওয়াশিংটন সুন্দরের পরিবর্তে একজন নতুন খেলোয়াড়কে একাদশে সুযোগ দেওয়া। ভারতীয় দল এই পরিবর্তনটির জন্য প্রস্তুত, তবে এখন তারা শিগগিরই বুঝে নিতে চাইবে কে সঠিক খেলোয়াড় হবে। ভারতীয় দলের জন্য এবারের সিরিজে একাদশের সামঞ্জস্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ওয়াশিংটন সুন্দরের মতো একজন অলরাউন্ডারের অভাব পূরণ করার জন্য আয়ুষ বাদোনি এবং ধ্রুব জুরেলের মতো খেলোয়াড়রা দলে আসতে পারেন। যেহেতু ওয়াশিংটনের মতো একজন অলরাউন্ডার প্রয়োজন, তাই ভারতীয় দলের জন্য বাদোনি এগিয়ে রয়েছেন। কারণ, তিনি অফ স্পিন করতে পারেন, যা দলের জন্য অনেক সাহায্য করতে পারে।

এছাড়া, ভারতীয় দলের ব্যাটিং লাইন-আপে যথেষ্ট গভীরতা রয়েছে। রোহিত শর্মা এবং শুভমন গিল ওপেনিং জুটিতে আছেন এবং তারা বেশ ভালো খেলছেন। বিরাট কোহলি তিন নম্বরে, শ্রেয়স আয়ার চার নম্বরে, এবং রবীন্দ্র জাডেজা পাঁচ নম্বরে ব্যাটিং করবেন। এই ব্যাটিং অর্ডারে বেশ ভাল সমন্বয় রয়েছে এবং প্রত্যেক খেলোয়াড় জানেন কিভাবে চাপের মধ্যে ভালো পারফরম্যান্স করতে হয়। লোকেশ রাহুল ছয় নম্বরে এবং তিনি উইকেটরক্ষক হিসেবে থাকবেন। ভারতীয় দলের ব্যাটিং শক্তি কেবল বড় রানের জন্যই নয়, ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে চাপের মধ্যে ব্যাট করার জন্যও সক্ষম।

রাজকোটে দ্বিতীয় ম্যাচে ভারতীয় দলের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়, কারণ সিরিজ জয় নিশ্চিত করতে হলে এটি তাদের জন্য একটি বড় সুযোগ। ওয়াশিংটনের পরিবর্তে যিনিই একাদশে আসবেন, তার জন্য এটি একটি নতুন দায়িত্ব। এই ম্যাচে তার পারফরম্যান্সের ওপর দলের ভবিষ্যত অনেকটা নির্ভর করবে। তাই ভারতীয় দলের তরুণ খেলোয়াড়দের জন্য এটি একটি বড় সুযোগ নিজেদের প্রমাণ করার।

এছাড়া, ভারতের মধ্যে যেকোনো ধরনের চোট বা সমস্যা থাকা সত্ত্বেও দলের মনোবল এবং কোচিং স্টাফের পরিকল্পনা তাদেরকে জয়ের পথে নিয়ে যেতে সহায়তা করবে। গম্ভীরের নেতৃত্বে, ভারতীয় দল প্রতিপক্ষ দলের উপর চাপ তৈরি করার জন্য যথাযথ কৌশল অবলম্বন করবে। তাদের লক্ষ্য থাকবে সিরিজ জয় এবং সেই সঙ্গে বিশ্ব ক্রিকেটে নিজেদের অবস্থান আরও দৃঢ় করা।

বিশ্ব ক্রিকেটের শীর্ষে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত রাখতে হলে ভারতীয় দলের একাদশে অবশ্যই সঠিক সমন্বয় থাকতে হবে। খেলোয়াড়দের ফর্ম এবং কৌশলগত সিদ্ধান্ত অনেকটা নির্ভর করে দলের সামগ্রিক পারফরম্যান্সের ওপর। ভারতীয় দল জানে যে তাদের প্রত্যেকটি ম্যাচে পরিস্কারভাবে পরিকল্পনা করতে হবে এবং একে অপরের সাথে সমন্বয় রেখে কাজ করতে হবে। তাদের মনে রাখতে হবে যে একটি ম্যাচ জিতলেও, সিরিজের পরবর্তী ম্যাচের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া অপরিহার্য।

ভারতীয় দলের সামনে এখনও বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে এবং এই চ্যালেঞ্জগুলো তাদের আরও শক্তিশালী করে তুলবে। সিরিজের বাকি ম্যাচগুলোতে তারা যে প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখোমুখি হবে, তা তাদের দলকে আরও শক্তিশালী করে তুলবে। সিরিজ জয় তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়াবে এবং বিশ্ব ক্রিকেটে তাদের অবস্থান আরও মজবুত করবে।

Preview image