Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

অভিনয় ছেড়ে ব্যবসায় উঠলেন নম্রতা শিরোদকর সম্পত্তির পরিমাণ কত?

অভিনয়জগৎ থেকে সরে এলেও লাইমলাইট থেকে কখনও দূরে নন তিনি। দক্ষিণী সুপারস্টার মহেশবাবুর স্ত্রী হওয়ার সুবাদে ব্যক্তিগত জীবন, স্টাইল ও সামাজিক কর্মকাণ্ড সব কারণেই বারবার শিরোনামে উঠে আসেন নম্রতা শিরোদকর।

নম্রতা শিরোদকর নব্বইয়ের দশকের সেই পরিচিত মুখ, যিনি এক সময় রূপালি পর্দায় নিজের উপস্থিতি দিয়ে দর্শকদের নজর কাড়তেন। মডেলিং দিয়ে তাঁর কর্মজীবনের শুরু হলেও খুব অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি অভিনয়জগতে নিজের জায়গা তৈরি করেছিলেন। গ্ল্যামার, ব্যক্তিত্ব ও আত্মবিশ্বাস এই তিনের মিশেলে নম্রতা হয়ে উঠেছিলেন সেই সময়ের পরিচিত অভিনেত্রীদের একজন। যদিও তাঁর অভিনয়জীবন খুব দীর্ঘ ছিল না, তবুও যে কটি ছবিতে তিনি অভিনয় করেছেন, সেগুলি তাঁকে আলাদা পরিচিতি এনে দিয়েছিল। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তিনি অভিনয়জগৎ থেকে সরে এলেও আজও তিনি সংবাদ শিরোনামে বারবার উঠে আসেন। তার অন্যতম প্রধান কারণ দক্ষিণী সুপারস্টার মহেশবাবু, যাঁর সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবন ঘিরে সাধারণ মানুষের আগ্রহ কখনও কমেনি।

নম্রতা শিরোদকরের জন্ম ২২ জানুয়ারি। ২০২৬ সালে তিনি ৫৪ বছরে পা দিলেন। বয়স তাঁর জীবনে শুধুই একটি সংখ্যা। কারণ আজও তিনি আত্মবিশ্বাসী, স্মার্ট এবং ব্যক্তিত্বে ভরপুর এক নারী। অভিনয়জগৎ ছাড়ার পরেও তাঁর জীবন যে ভাবে এগিয়েছে, তা অনেকের কাছেই অনুপ্রেরণার। একজন অভিনেত্রী থেকে একজন সফল ব্যবসায়ী, একজন দায়িত্বশীল জীবনসঙ্গী এবং দুই সন্তানের মা হিসেবে তাঁর যাত্রাপথ সত্যিই উল্লেখযোগ্য।

কর্মজীবনের শুরুর দিকে নম্রতা মডেলিংয়ের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। র‍্যাম্পে হাঁটা, বিজ্ঞাপনে কাজ করা এবং বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার মধ্য দিয়ে তিনি নিজের পরিচিতি তৈরি করেন। সেই সময় তাঁর সৌন্দর্য এবং ব্যক্তিত্ব নজর কাড়ে পরিচালক ও প্রযোজকদের। এর ফলেই খুব দ্রুতই তিনি সিনেমার জগতে প্রবেশের সুযোগ পান। ১৯৯৮ সালে তাঁর প্রথম তিনটি ছবি মুক্তি পায়। এই ছবিগুলি হল জব পেয়ার কিসিসে হোতা হ্যায়, মেরে দো অনমোল রতন এবং হিরো হিন্দুস্থানি। একই বছরে তিনটি ছবি মুক্তি পাওয়া একজন নতুন অভিনেত্রীর জন্য কম বড় বিষয় ছিল না। যদিও এই ছবিগুলি বক্স অফিসে ঐতিহাসিক সাফল্য পায়নি, তবুও নম্রতা তাঁর অভিনয় দক্ষতা এবং পর্দায় উপস্থিতি দিয়ে আলাদা করে নজর কেড়েছিলেন।

এর পরে তিনি ধীরে ধীরে দক্ষিণী ছবির দিকে ঝুঁকে পড়েন। তেলুগু এবং অন্যান্য দক্ষিণী ভাষার ছবিতে অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি নতুন এক দর্শকশ্রেণির কাছে নিজেকে তুলে ধরেন। সেই সময় দক্ষিণী ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করা মানেই ছিল নিয়মিত পরিশ্রম, ভাষাগত চ্যালেঞ্জ এবং ভিন্ন সংস্কৃতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া। নম্রতা এই সব কিছুর সঙ্গে ধীরে ধীরে নিজেকে মানিয়ে নেন। তাঁর অভিনীত উল্লেখযোগ্য ছবির মধ্যে রয়েছে হেরা ফেরি, দিল বিল পেয়ার বেয়ার এবং এলওসি কার্গিল। এলওসি কার্গিল ছবিতে তাঁর অভিনয় বিশেষভাবে প্রশংসিত হয়েছিল, কারণ এই ছবিটি দেশপ্রেম এবং যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে তৈরি হয়েছিল। সেখানে তাঁর চরিত্রটি ছিল সংবেদনশীল এবং আবেগপ্রবণ, যা দর্শকদের মনে দাগ কেটে যায়।

এ ছাড়াও তিনি একটি ইংরেজি ছবিতে অভিনয় করেন, যার নাম ব্রাইড অ্যান্ড প্রেজুডিস। এই ছবিটি আন্তর্জাতিক স্তরে পরিচিতি পেয়েছিল এবং নম্রতার জন্য এটি ছিল একটি ভিন্ন অভিজ্ঞতা। বলিউড, দক্ষিণী ছবি এবং ইংরেজি ছবি এই তিন ধরনের কাজের অভিজ্ঞতা খুব কম অভিনেত্রীর ঝুলিতে ছিল, আর নম্রতা সেই তালিকায় নিজের নাম তুলতে পেরেছিলেন।

তবে তাঁর অভিনয়জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মোড় আসে ব্যক্তিগত জীবনের একটি সিদ্ধান্তের মাধ্যমে। ২০০৫ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি তিনি দক্ষিণী সুপারস্টার মহেশবাবুর সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। এই বিয়ে শুধুমাত্র দুইজন মানুষের সম্পর্কের শুরু ছিল না, বরং তা হয়ে উঠেছিল দক্ষিণী চলচ্চিত্র জগতের সবচেয়ে আলোচিত সম্পর্কগুলির একটি। মহেশবাবু তখনই ছিলেন তেলুগু চলচ্চিত্র জগতের অন্যতম বড় তারকা। তাঁদের বিয়ে ঘিরে ভক্তদের উচ্ছ্বাস, সংবাদমাধ্যমের কৌতূহল এবং আলোচনার শেষ ছিল না।

বিয়ের পর নম্রতা ধীরে ধীরে অভিনয়জগৎ থেকে সরে আসেন। তিনি নিজের সিদ্ধান্তে পরিবারকে অগ্রাধিকার দেন। এই সিদ্ধান্ত অনেকের কাছেই সাহসী বলে মনে হয়েছিল, কারণ সেই সময় তিনি এখনও নিয়মিত কাজ পেতে পারতেন। কিন্তু নম্রতা বিশ্বাস করতেন জীবনের প্রতিটি অধ্যায়ের নিজস্ব গুরুত্ব আছে। অভিনয়ের অধ্যায় শেষ করে তিনি পরিবার এবং ব্যক্তিগত জীবনের অধ্যায়ে মন দেন।

অভিনয় থেকে সরে এলেও তিনি কখনও নিজেকে সীমাবদ্ধ করে রাখেননি। বরং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তিনি নিজেকে অন্যভাবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। নম্রতা এবং মহেশবাবু দুজনেই ব্যবসার দিকে মন দেন। রিয়েল এস্টেট, বহুতল নির্মাণ এবং হোটেল রেস্তরাঁ সংক্রান্ত ব্যবসায় তাঁদের সক্রিয় ভূমিকা রয়েছে। এই সব ব্যবসায়িক উদ্যোগের মাধ্যমে তাঁরা নিজেদের আর্থিক অবস্থান আরও শক্তিশালী করেছেন। নম্রতা এখানে শুধুমাত্র একজন তারকার স্ত্রী হিসেবে নন, বরং একজন সক্রিয় অংশীদার হিসেবেই যুক্ত।

বর্তমানে নম্রতা বারবার খবরে উঠে আসেন মহেশবাবুকে ঘিরে। দক্ষিণী তারকা এসএস রাজামৌলীর নতুন ছবি বারাণসী নিয়ে ব্যস্ত মহেশবাবু। এই ছবি নিয়ে দর্শকদের প্রত্যাশা তুঙ্গে। জানা যায়, এই ছবি তিন বছর ধরে তৈরি হচ্ছে এবং মহেশবাবু প্রতি বছরের জন্য প্রায় ৫০ কোটি টাকা পারিশ্রমিক নিচ্ছেন। অর্থাৎ তিন বছরে তাঁর পারিশ্রমিকের অঙ্ক দাঁড়াচ্ছে বিপুল পরিমাণে। স্বাভাবিক ভাবেই এর প্রভাব পড়েছে তাঁদের পারিবারিক সম্পত্তির উপরও। একজন সফল তারকার স্ত্রী হিসেবে নম্রতাও সম্পত্তির দিক থেকে যথেষ্ট সমৃদ্ধ।

সূত্র অনুযায়ী, নম্রতা শিরোদকরের একার সম্পত্তির পরিমাণ প্রায় ৫০ কোটি টাকা। এই সম্পত্তির মধ্যে রয়েছে অভিনয়জীবনে সঞ্চয় করা অর্থ, বিভিন্ন ব্যবসা থেকে পাওয়া লাভ এবং বিনিয়োগ। অভিনয় ছাড়ার পরে তিনি যে ভাবে নিজের আর্থিক ভবিষ্যৎকে সুরক্ষিত করেছেন, তা অনেকের কাছেই শিক্ষণীয়। অন্য দিকে, মহেশবাবুর মোট সম্পত্তির পরিমাণ প্রায় ৩৫০ কোটি টাকা বলে জানা যায়। অর্থাৎ দুজনের মিলিত সম্পত্তির অঙ্ক প্রায় ৪০০ কোটি টাকার কাছাকাছি। এই বিপুল সম্পত্তি তাঁদের পরিশ্রম, পরিকল্পনা এবং সঠিক সিদ্ধান্তের ফল।

news image
আরও খবর

তবে সম্পত্তি বা আর্থিক সাফল্যই তাঁদের জীবনের একমাত্র পরিচয় নয়। নম্রতা এবং মহেশবাবুর সম্পর্ক বরাবরই অনুরাগীদের অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে। বিনোদন জগতে তাঁদেরকে প্রায়ই পাওয়ার কাপল বলা হয়। কারণ তাঁরা একে অপরের পাশে দাঁড়িয়ে ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনে এগিয়ে চলেছেন। মহেশবাবুর ক্যারিয়ারের নানা উত্থানপতনে নম্রতা ছিলেন তাঁর সবচেয়ে বড় শক্তি। আবার নম্রতার ব্যক্তিগত উদ্যোগ এবং সিদ্ধান্তে মহেশবাবুর সমর্থনও ছিল স্পষ্ট।

নম্রতা একজন দায়িত্বশীল মা হিসেবেও নিজেকে প্রমাণ করেছেন। তাঁর সন্তানদের বড় করার ক্ষেত্রে তিনি সচেতন ও যত্নশীল। গ্ল্যামার জগতের ঝলমলে আলো থেকে দূরে রেখে তিনি তাঁদের স্বাভাবিক এবং শৃঙ্খলাবদ্ধ পরিবেশে বড় করার চেষ্টা করেছেন। একই সঙ্গে তিনি সামাজিক বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সঙ্গেও যুক্ত। দাতব্য কাজ, সমাজসেবা এবং নানা সচেতনতামূলক উদ্যোগে তাঁকে মাঝেমধ্যেই দেখা যায়।

২০২২ সালে তেলুগু ছবি মেজর এ তাঁর অভিনয় বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। দীর্ঘ সময় অভিনয় থেকে দূরে থাকার পর এই ছবিতে তাঁর উপস্থিতি দর্শকদের চমকে দিয়েছিল। এটি প্রমাণ করে যে অভিনয় থেকে সরে এলেও তাঁর অভিনয় দক্ষতা কখনও ম্লান হয়নি। প্রয়োজন হলে তিনি আজও পর্দায় নিজের উপস্থিতি জানান দিতে পারেন।

সব মিলিয়ে নম্রতা শিরোদকরের জীবন এক বহুমাত্রিক গল্প। মডেলিং থেকে অভিনয়, অভিনয় থেকে পরিবার এবং ব্যবসা, প্রতিটি অধ্যায়ে তিনি নিজেকে নতুনভাবে গড়ে তুলেছেন। তিনি প্রমাণ করেছেন যে একজন নারীর পরিচয় শুধুমাত্র একটি পেশায় সীমাবদ্ধ থাকে না। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নিজেকে নতুনভাবে আবিষ্কার করাই হল জীবনের আসল সাফল্য। অভিনয়জগৎ ছেড়ে দিলেও নম্রতা শিরোদকর আজও খবরে থাকেন, কখনও তাঁর ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে, কখনও ব্যবসায়িক সাফল্য নিয়ে, আবার কখনও মহেশবাবুর নতুন ছবি বা সাফল্য ঘিরে। আর এই সব কিছুর মধ্যেই তিনি নিজের স্বকীয়তা বজায় রেখে চলেছেন, যা তাঁকে সত্যিই আলাদা করে তোলে।

নম্রতা শিরোদকরের জীবনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল তাঁর ব্যক্তিত্ব এবং জীবনদর্শন। তিনি সব সময়ই প্রচারের আলো থেকে একটু দূরে থাকতে পছন্দ করেন। খুব কম সাক্ষাৎকার দেন, ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলতেও তিনি সাবধানী। এই সংযত স্বভাবই তাঁকে অনেকের কাছে আরও মর্যাদাসম্পন্ন করে তুলেছে। গ্ল্যামার দুনিয়ায় থেকেও কীভাবে ব্যক্তিগত জীবনকে ব্যক্তিগত রাখা যায়, নম্রতা তার এক উজ্জ্বল উদাহরণ।

অভিনয় ছাড়ার পর অনেকেই ভেবেছিলেন তিনি হয়তো সম্পূর্ণভাবে পর্দার আড়ালেই চলে যাবেন। কিন্তু বাস্তবে তা হয়নি। তিনি ধীরে ধীরে নিজেকে এক নতুন ভূমিকায় প্রতিষ্ঠিত করেন। ব্যবসার সিদ্ধান্ত থেকে শুরু করে পারিবারিক নানা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তাঁর মতামত যথেষ্ট গুরুত্ব পায়। রিয়েল এস্টেট ও হসপিটালিটি সেক্টরে তিনি শুধু নামমাত্র অংশীদার নন, বরং পরিকল্পনা ও ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রেও সক্রিয়ভাবে যুক্ত থাকেন। এই কারণেই তাঁর ব্যক্তিগত সম্পত্তির পরিমাণ সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বৃদ্ধি পেয়েছে।

নম্রতার স্টাইল সেন্স নিয়েও অনুরাগীদের আগ্রহের শেষ নেই। খুব সাধারণ পোশাকেও কীভাবে মার্জিত এবং রুচিশীল দেখাতে হয়, তিনি তা বারবার প্রমাণ করেছেন। লাল গালিচার অনুষ্ঠান হোক বা পারিবারিক কোনও আয়োজন, তাঁর উপস্থিতি সব সময়েই নজর কাড়ে। বয়স বাড়লেও তাঁর সৌন্দর্য এবং আত্মবিশ্বাসে কোনও ভাটা পড়েনি। বরং অভিজ্ঞতা ও পরিণত মানসিকতা তাঁকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে।

মহেশবাবুর সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের ভিত্তি শুধুমাত্র ভালবাসা নয়, বরং পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও বোঝাপড়া। দুজনেই নিজেদের কাজের ব্যস্ততার মাঝেও পরিবারকে সময় দেওয়ার চেষ্টা করেন। এই ভারসাম্য বজায় রাখার দক্ষতাই তাঁদের সম্পর্ককে দীর্ঘস্থায়ী করেছে। বিনোদন জগতে যেখানে সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার খবর প্রায়ই শোনা যায়, সেখানে নম্রতা এবং মহেশবাবুর দাম্পত্য জীবন অনেকের কাছেই আদর্শ।

নম্রতা শিরোদকর তাই শুধুমাত্র একজন প্রাক্তন অভিনেত্রী নন। তিনি একজন সফল উদ্যোক্তা, একজন শক্তিশালী জীবনসঙ্গী এবং একজন আত্মবিশ্বাসী নারী। তাঁর জীবন প্রমাণ করে যে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নিজের পরিচয় বদলানো কোনও দুর্বলতা নয়, বরং তা পরিণত মানসিকতার পরিচায়ক। অভিনয়জগৎ থেকে দূরে সরে গিয়েও কীভাবে সম্মান, সাফল্য এবং স্বাচ্ছন্দ্যের সঙ্গে জীবন কাটানো যায়, নম্রতা শিরোদকর তারই এক উজ্জ্বল উদাহরণ।

Preview image