Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

গর্ভে সন্তান ধারণ অবস্থায় মস্তিষ্কে রক্ত জমাট— মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরলেন গ্যাল গ্যাডট

গর্ভাবস্থায় প্রাণঘাতী অসুখে আক্রান্ত হয়ে জীবন মৃত্যুর লড়াই লড়েছিলেন গ্যাল গ্যাডট জরুরি অস্ত্রোপচারে রক্ষা পান মা ও নবজাতক।আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় মস্তিষ্কে রক্ত জমাট বাঁধায় চরম বিপদের মুখে পড়েছিলেন গ্যাল গ্যাডট চিকিৎসকদের তৎপরতায় ফিরে পান জীবন।প্রবল মাথা যন্ত্রণার সূত্র ধরে ধরা পড়ে মস্তিষ্কে রক্ত জমাট দুটি বড় অস্ত্রোপচারের পর সুস্থ হয়ে ওঠেন গ্যাল গ্যাডট ও তাঁর কন্যা।গর্ভাবস্থায় জটিল অসুখে আক্রান্ত হয়ে জরুরি অপারেশনে সন্তানের জন্ম ও নিজের জীবন দুটোই রক্ষা করেন অভিনেত্রী গ্যাল গ্যাডট।

মৃত্যুমুখ থেকে ফিরে আসা: গর্ভাবস্থায় মস্তিষ্কে রক্ত জমাট— গ্যাল গ্যাডটের অজানা লড়াই

হলিউডের দুনিয়ায় তিনি শক্তি, সাহস আর ন্যায়ের প্রতীক ‘ওয়ান্ডার ওম্যান’। কিন্তু রুপালি পর্দার লড়াইয়ের তুলনায় বাস্তবের লড়াই কখনও কখনও অনেক বেশি কঠিন। সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে উপস্থিত দর্শকদের সামনে গ্যাল গ্যাডট স্বীকার করে নিলেন জীবনের সবচেয়ে ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা— গর্ভাবস্থায় একটি প্রাণঘাতী অসুখে আক্রান্ত হওয়া, যা মুহূর্তে তাঁর এবং তাঁর অনাগত সন্তানের জীবনকে বিপন্ন করে তুলেছিল।

অপ্রত্যাশিত যন্ত্রণা, যার কোনো সতর্কবার্তা ছিল না

গ্যাল গ্যাডট তখন চতুর্থ সন্তানের অপেক্ষায়। পরিবার, কাজ, সন্তানদের সামলানো— সবকিছু একসঙ্গে নিয়েই ব্যস্ত ছিলেন তিনি। জীবন যেন এক নিখুঁত ছন্দে চলছিল। কিন্তু সেই ছন্দ ভেঙে গেল হঠাৎই। শুরু হলো প্রবল মাথা যন্ত্রণা, এমন তীব্র যন্ত্রণা যা তাঁর পক্ষে সহ্য করা প্রায় অসম্ভব হয়ে উঠছিল।

প্রথমে তিনি ভেবেছিলেন, হয়ত ব্যস্ততা, অতিরিক্ত চাপ, কিংবা গর্ভাবস্থাজনিত সাধারণ অসুবিধা। কিন্তু যন্ত্রণা থামছিল না। দিন গড়াতে গড়াতে তিন সপ্তাহ পার হয়ে গেল। নিত্যদিনের কাজ তো দূরের কথা, বিছানা থেকে উঠে দাঁড়ানোও তাঁর জন্য কষ্টসাধ্য হয়ে উঠেছিল। ক্রমে ভয়, আতঙ্ক, আর অনিশ্চয়তা ঘিরে ধরল তাঁকে।

মায়ের পরামর্শে শুরু হয় তদন্ত

এমন অবস্থায় তাঁর মা উদ্বিগ্ন হয়ে ডাক্তার দেখানোর পরামর্শ দেন। নিজের উপসর্গকে এত দিন অবহেলা করলেও এবার আর দেরি করেননি গ্যাল। করা হলো এমআরআই। পরের যা ঘটল, তা ভাবনারও অতীত।

রিপোর্টে দেখা গেল— তাঁর মস্তিষ্কে বিপজ্জনকভাবে রক্ত জমাট বেঁধেছে। মেডিকেলের ভাষায়, এটি এমন একটি অবস্থা যা হঠাৎই প্রাণঘাতী হতে পারে। গর্ভাবস্থার মতো সংবেদনশীল অবস্থায় তো আরও বেশি।

ডাক্তাররা জানালেন, অবস্থা অত্যন্ত জটিল। জরুরি অস্ত্রোপচার ছাড়া উপায় নেই। আর অপেক্ষা করলে বিপদ আরও বাড়বে। মুহূর্তেই বদলে গেল সব কিছু। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এক সুস্থ, স্বাভাবিক জীবনের উপর নেমে এল এক ভয়ঙ্কর অনিশ্চয়তার মেঘ।

“আমি কি সত্যিই বেঁচে থাকব?”— গ্যালের মনের ভিতরের ভয়

সেই সময়কার কথা মনে করে গ্যাল গ্যাডট বলেন,
“আমি সত্যিই ভাবছিলাম— আমি কি বেঁচে থাকব? আমার সন্তান কি বাঁচবে? পরিবারকে দেখতে পারব তো আর?”

একজন মা, একজন স্ত্রী, একজন মেয়ের স্বাভাবিক মানবিক প্রশ্নগুলোই তাঁকে তাড়া করে ফিরছিল। গর্ভের ভেতরে তখন আট মাসের কন্যাসন্তান। এমন অবস্থায় চিকিৎসকেরা সিদ্ধান্ত নিলেন— প্রথমে সন্তানের জন্ম দিতে হবে। গ্যালের শরীরে হয়ত তখন আর দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করার ক্ষমতা ছিল না।

প্রথম লড়াই: শিশুর জন্ম

জরুরি প্রস্তুতি নেওয়া হল। পরিকল্পিত সময়ের আগেই অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সন্তানের জন্ম দিলেন গ্যাল গ্যাডট। পৃথিবীর আলো দেখল ছোট্ট ওরি— তাঁর চতুর্থ কন্যাসন্তান। চিকিৎসকেরা জানালেন, প্রথম ধাপ সফল হয়েছে। কিন্তু দ্বিতীয় ধাপটি আরও কঠিন।

কারণ মাত্র এক দিন পরেই তাঁর মস্তিষ্কের অস্ত্রোপচার করতে হবে।

সদ্য সন্তান জন্ম দেওয়া একজন মায়ের জন্য এই খবর যে কত বড় মানসিক ধাক্কা, তা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। নিজের শরীর, সন্তান, দুধপান, বিশ্রাম— সাধারণত এই সময়ই একজন মায়ের সবচেয়ে বেশি যত্ন প্রয়োজন হয়। অথচ গ্যালকে তখন প্রস্তুত হতে হলো আরেকটি গুরুতর অস্ত্রোপচারের জন্য।

দ্বিতীয় লড়াই: মস্তিষ্কের অস্ত্রোপচার

অস্ত্রোপচারের দিনটি ছিল গ্যালের জীবনের সবচেয়ে দীর্ঘ, সবচেয়ে কঠিন দিন। তাঁর পরিবার— স্বামী, মা এবং ঘনিষ্ঠজনেরা উদ্বিগ্ন হয়ে অপেক্ষা করছিলেন। চিকিৎসকেরা জানতেন, সামান্য ভুলও ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে।

ঘণ্টার পর ঘণ্টা চলল অস্ত্রোপচার। আর শেষে সেই প্রতীক্ষিত সংবাদ— সফলভাবে অপারেশন সম্পন্ন হয়েছে। গ্যাল গ্যাডট বেঁচে গেছেন। শুধু তিনিই নন, তাঁর কন্যাও সুস্থ।

“দুটি উপহার পেয়েছিলাম”— গ্যালের কৃতজ্ঞতা

সেরে ওঠার পর গ্যাল গ্যাডট বলেন,
“সেই দিন আমি দুটি উপহার পেয়েছিলাম— এক কন্যাসন্তান, আর নিজের জীবন।”

চোখে জল নিয়ে তিনি আরও বলেন,
“ডাক্তার এবং হাসপাতালের স্বাস্থ্যকর্মীরা আমাকে বাঁচাতে যা করেছেন, তার জন্য আমি সারাজীবন তাঁদের কাছে কৃতজ্ঞ থাকব।”

মেডিক্যাল টিমকে ধন্যবাদ জানাতে গিয়ে তাঁর কণ্ঠে ছিল সত্যিকারের মানুষের আবেগ, যা সুপারহিরোর বাহাদুরি থেকে অনেক আলাদা, অনেক বেশি বাস্তব।

পর্দার আড়ালে এক যোদ্ধা

পর্দায় তিনি সুপারহিরো। কিন্তু বাস্তবের লড়াইয়ের সামনে পর্দার যুদ্ধ কিছুই নয়। এই অভিজ্ঞতা গ্যালকে আরও দৃঢ় করেছে, আরও সংবেদনশীল করেছে।

কাজে ফেরার আগে দীর্ঘ রিহ্যাবিলিটেশন প্রয়োজন হয়েছিল। শারীরিক দুর্বলতা কাটাতে ধীরে ধীরে ট্রেনিং শুরু করেন তিনি— সন্তানদের সামলাতে, কাজের সেটে ফিরতে, আবারও জীবনকে পুরোপুরি বুকে টেনে নিতে।

অনেকে তাঁকে প্রশ্ন করেছিলেন— এত বিপদের পর আবার কীভাবে ফিরে এলেন এত শক্তি নিয়ে? গ্যালের উত্তর ছিল সরল ও মানবিক—
“আমি জানি জীবন কতটা নাজুক। তাই প্রতিটি দিনকে নতুন করে ধরা, প্রতিটি মুহূর্তকে উপভোগ করা— এটাই এখন আমার লক্ষ্য।”

নারীশক্তির অনন্য উদাহরণ

গ্যাল গ্যাডটের এই অভিজ্ঞতা শুধু একটি সেলিব্রিটি গল্প নয়; এটি বাস্তব জীবনে নারীর অসীম সহ্যশক্তি, সংগ্রাম এবং মায়ার প্রতিচ্ছবি। গর্ভাবস্থার মতো স্পর্শকাতর সময়ে জীবন-মৃত্যুর লড়াই লড়া যে কতটা কঠিন, তা শুধুমাত্র একজন মা-ই জানেন।

তাঁর গল্প স্মরণ করিয়ে দেয়—

  • মাথা ব্যথা বা অস্বাভাবিক উপসর্গ কখনও অবহেলা করা উচিত নয়।

  • গর্ভাবস্থায় মায়েদের বিশেষ মনোযোগ প্রয়োজন।

  • পরিবার ও চিকিৎসকের সঠিক সিদ্ধান্ত কখনও কখনও জীবন বাঁচাতে পারে।

অভিনেত্রী থেকে অনুপ্রেরণা

আজ গ্যাল গ্যাডট আগের মতোই কাজ করছেন। তাকে আবার দেখা যাবে বড় বাজেটের প্রোজেক্টে। কিন্তু তাঁর জীবনের এই অধ্যায় তাঁকে অন্যরকম মর্যাদা দিয়েছে মানবিক দিক থেকে।

অনুরাগীরা তাঁকে ভালোবাসেন শুধু ‘ওয়ান্ডার ওম্যান’ হিসেবে নয়, বরং একজন লড়াকু মানুষ, একজন মা, একজন স্ত্রী এবং একজন যোদ্ধা হিসেবে।

তাঁর গল্প তরুণী মায়েদেরও অনুপ্রেরণা দেয়— সাহস রাখলে, সঠিক চিকিৎসা পেলে, পরিবার পাশে থাকলে, প্রতিকূল পরিস্থিতিকেও জয় করা সম্ভব।

হলিউডের ঝলমলে দুনিয়ায় গ্যাল গ্যাডটকে আমরা দেখি শক্তির প্রতীক হিসেবে— ‘ওয়ান্ডার ওম্যান’। পর্দায় তাঁর ক্ষমতা, সাহস আর দৃঢ়তা বিমোহিত করে কোটি ভক্তকে। কিন্তু বাস্তব জীবনে যে লড়াই তাঁকে লড়তে হয়েছিল, তা কোনো সুপারহিরোর স্ক্রিপ্টের চেয়ে কম নাটকীয় নয়। সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে তিনি প্রকাশ করলেন নিজের জীবনের সবচেয়ে ভয়ঙ্কর ও ভীতিকর অধ্যায়ের কথা— চতুর্থ সন্তানের গর্ভধারণের সময় প্রাণঘাতী অসুখে আক্রান্ত হওয়া এবং মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে আসা।

গর্ভাবস্থা এমন একটি সময় যখন প্রতিটি মা শারীরিক ও মানসিকভাবে অত্যন্ত নाजুক অবস্থার মধ্যে থাকেন। সেই সময় হঠাৎ মস্তিষ্কে রক্ত জমাট বাঁধা— অর্থাৎ এক ধরনের স্ট্রোক— যে কতটা ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে, তা চিকিৎসকেরা ভালোভাবেই জানেন। গ্যাল গ্যাডটের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি এতটাই জটিল ছিল যে একে একে দুটি গুরুতর অস্ত্রোপচারের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছিল তাকে— একটি তাঁর শিশুর জীবন রক্ষার জন্য, আরেকটি তাঁর নিজের।

এই নিবন্ধে আমরা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরছি সেই লড়াই, সেই ভয়, সেই অনিশ্চয়তা, এবং শেষ পর্যন্ত আশার আলো হয়ে বেঁচে ফেরার গল্প।


অপ্রত্যাশিত যন্ত্রণায় শুরু বিপর্যয়

গ্যাল গ্যাডট তখন গর্ভাবস্থার শেষ পর্যায়ে। পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো, নিজের কাজের ব্যস্ততা পরিচালনা করা— সবকিছুই চলছিল স্বাভাবিকগতিতে। তিনটি সন্তানের মা হয়ে তিনি অভিজ্ঞও ছিলেন। তাই হঠাৎ মাথা ব্যথার মতো উপসর্গ প্রথমে তাঁকে খুব বেশি আতঙ্কিত করেনি।

কিন্তু কয়েক দিনের মধ্যে সেই মাথাব্যথা অসহনীয় হয়ে ওঠে। ব্যথা এমন পর্যায়ে পৌঁছে যায় যে আর আলো সহ্য করতে পারতেন না, শুয়ে থাকতেও কষ্ট হতো। যেকোনো শব্দ তাঁর ব্যথা বাড়িয়ে দিত। ধীরে ধীরে তিন সপ্তাহ ধরে এই যন্ত্রণা অব্যাহত থাকায় তাঁর দৈনন্দিন জীবন পুরোপুরি থমকে যায়।

news image
আরও খবর

অনেক সময় গর্ভধারণের সময় হরমোনের পরিবর্তনে মাথা ব্যথা হতে পারে। তাতে সাধারণত বিশ্রামে উপশম হয়। কিন্তু গ্যালের ক্ষেত্রে ব্যাপারটা ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। ব্যথা বাড়ছিল, শরীর দুর্বল হচ্ছিল, ক্লান্তি তীব্র হচ্ছিল। তবুও তিনি ভাবছিলেন, হয়তো গর্ভাবস্থার স্বাভাবিক পরিবর্তনই চলছে।

তাঁর মা পরিস্থিতি দেখে আর অপেক্ষা না করে ডাক্তার দেখানোর পরামর্শ দেন। গ্যালও অবশেষে রাজি হন।


এমআরআই রিপোর্ট— এক ভয়াবহ সত্য

চিকিৎসকেরা তাঁর MRI করান। রিপোর্ট হাতে পাওয়া মাত্রই বোঝা যায়, পরিস্থিতি সাধারণ নয়। তাঁর মস্তিষ্কে রক্ত জমাট বেঁধেছে— যা মৃত্যু ডেকে আনতে পারে যে কোনো সময়। গর্ভাবস্থায় এমন অবস্থা অত্যন্ত দুর্লভ এবং আরও বেশি ঝুঁকিপূর্ণ।

রক্ত জমাট বাঁধা থাকার কারণে মস্তিষ্কের স্নায়ু স্বাভাবিকভাবে কাজ করা বন্ধ করে দিতে পারে। এর ফলে শরীর কোনো সময়ে পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে যেতে পারে, হতে পারে অজ্ঞান হয়ে পড়া, খিঁচুনি, এমনকি আকস্মিক মৃত্যু।

চিকিৎসকেরা বিষয়টি ব্যাখ্যা করে বলেন, দেরি হলে বিপদ বাড়বে। জরুরি অস্ত্রোপচার ছাড়া কোনো উপায় নেই। আর যেহেতু গ্যাল গ্যাডট তখন আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা, তাই প্রথমেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় শিশুটিকে নিরাপদে বের করে আনতে হবে।

এত বড় সিদ্ধান্তের ভারসাম্য বজায় রাখা কঠিন কাজ— একদিকে মা, অন্যদিকে শিশুর জীবন।


ভয় আর অনিশ্চয়তার মুহূর্ত

চিকিৎসকের কথায় গ্যাল গ্যাডট নিজের ভেতর যেন ভেঙে পড়ছিলেন।
তিনি বলেন,
“এক মুহূর্তে সবকিছু পাল্টে গেল। আমি সত্যিই ভাবছিলাম— আমি কি বাঁচব? আমার সন্তান কি এই পৃথিবী দেখতে পারবে?”

এই ভয় স্বাভাবিক। একজন মা এতদিন ধরে যে সন্তানকে গর্ভে লালন করছেন, তাকে দেখতে না পাওয়ার ভয় যে কতটা নির্মম হতে পারে, তা শুধু একজন মা-ই জানেন।

এ অবস্থায় গ্যাল তাঁর স্বামী ইয়্যারন ভার্সানো এবং পরিবারের সদস্যদের শক্তিই ছিলেন তাঁর প্রধান ভরসা। তাঁর স্বামী তাঁকে আশ্বস্ত করেন, চিকিৎসকেরা আছেন, সব কিছু ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু গ্যাল জানতেন, তাঁর শরীর ধীরে ধীরে ভেঙে পড়ছে।


প্রথম ধাপ— সন্তানের জন্ম

পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখার জন্য দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো। পরিকল্পনার সময়ের আগেই অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সন্তানের জন্ম দেওয়া হবে।

অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে চিকিৎসকেরা পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন। অবশেষে পৃথিবীর আলো দেখে ছোট্ট কন্যা— ওরি। পরিবারে আসে সুখবর।

কিন্তু আনন্দের মধ্যেও একটা বড় ভয় তাড়া করে ফিরছিল— এখনো গ্যালের জীবন পুরোপুরি ঝুঁকিমুক্ত নয়। মাত্র এক দিনের মধ্যেই তাঁকে দ্বিতীয় একটি বড় অস্ত্রোপচারের শয্যায় যেতে হবে।


দ্বিতীয় ধাপ— মস্তিষ্কের অস্ত্রোপচার

সদ্য সন্তান জন্ম দেওয়া একজন নারীর শরীর তখন খুবই দুর্বল থাকে। নতুন মা-কে সাধারণত বিশ্রাম, পুষ্টি, চিকিৎসা— সবকিছুর সর্বোচ্চ যত্ন নিতে হয়। কিন্তু গ্যাল গ্যাডটের সামনে ছিল আরও কঠিন লড়াই।

অপারেশনের জন্য তাঁর মাথার ওই অংশে সুনির্দিষ্ট চিড় কেটে রক্ত জমাট অংশ সরাতে হয়। কয়েক ঘণ্টা ধরে চলে সেই জটিল অস্ত্রোপচার। পরিবার অপেক্ষা করছিল উদ্বেগে, উদ্বেগের মাত্রা এতটাই ছিল যে মিনিটগুলো যেন ঘণ্টা হয়ে দাঁড়ায়।

অবশেষে চিকিৎসকেরা অপারেশন থিয়েটার থেকে বেরিয়ে জানান— অস্ত্রোপচার সফল হয়েছে। গ্যাল বিপদের মধ্য দিয়ে বেরিয়ে এসেছেন।

পরিবার যেন দীর্ঘ শ্বাস ফেলল। শিশুটি এবং মা— দুজনেই নিরাপদ।


সেরে ওঠার পথ— ধীরে ধীরে ফিরে পাওয়া জীবন

অস্ত্রোপচারের পর সুস্থ হতে সময় লাগে। গ্যাল গ্যাডটকে কয়েক সপ্তাহ হাসপাতালে থাকতে হয়। মাথার অপারেশনের কারণে স্বাভাবিক কাজকর্ম করাও তখন কঠিন ছিল।

একজন নবমা হিসেবে তিনি চেয়েছিলেন শিশুটিকে নিজের কাছে রাখতে, স্তন্যপান করাতে, কোলে নিতে— কিন্তু তাঁর শরীর তখন অনেক দুর্বল, অনেক ক্লান্ত। তবুও ধীরে ধীরে সব ফিরে আসে।

সময়, বিশ্রাম, চিকিৎসা এবং পরিবারের সহায়তায় গ্যাল শারীরিকভাবে সুস্থ হয়ে ওঠেন।
তিনি বলেন,
“যখন বুঝলাম আমি বেঁচে আছি, আমার শিশু সুস্থ, পরিবার পাশে আছে— তখন বুঝলাম জীবনের সত্যিকার মানে কী।”


মাতৃত্ব, সংগ্রাম ও আশা— গ্যালের অভিজ্ঞতার শিক্ষা

গ্যাল গ্যাডটের এই গল্প শুধু একটি সেলিব্রিটি ঘটনা নয়; এটি প্রতিটি নারী এবং প্রতিটি পরিবারের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা।

এই অভিজ্ঞতা থেকে শেখার অনেক কিছু আছে—

১. শরীরের সংকেত কখনো অবহেলা করা উচিত নয়।

মাথাব্যথার মতো সাধারণ উপসর্গও বড় বিপদের লক্ষণ হতে পারে।

২. গর্ভাবস্থায় অতিরিক্ত সতর্ক থাকা প্রয়োজন।

সাধারণ অসুস্থতাকেও গুরুত্ব দিয়ে দেখা জরুরি।

৩. পরিবার ও চিকিৎসকের সিদ্ধান্ত প্রাণ বাঁচাতে পারে।

গ্যালের মা যদি তাঁকে চিকিৎসা করতে না বলতেন, পরিস্থিতি হয়তো ভিন্ন হতে পারত।

৪. মানসিক শক্তি শারীরিক সুস্থতার অন্যতম চাবিকাঠি।

গ্যাল নিজেও স্বীকার করেন— মানসিক শক্তি তাঁকে ভাঙতে দেয়নি।


‘ওয়ান্ডার ওম্যান’ থেকে বাস্তব জীবনের নায়িকা

গ্যাল গ্যাডটের জীবনের এই অধ্যায় তাঁকে আরও মানবিক, আরও শক্তিশালী করে তুলেছে। এ কারণেই তাঁকে শুধু সিনেমার সুপারহিরো নয়, বাস্তব জীবনের এক যোদ্ধা হিসেবেও গণ্য করা হয়।

তিনি বলেন,
“সেই দিন আমি দু’টি উপহার পেয়েছিলাম— একটি কন্যাসন্তান, এবং নিজের জীবন।”

এই লড়াই তাঁকে জীবনের প্রতি নতুন দৃষ্টিভঙ্গি দিয়েছে, নতুনভাবে বেঁচে থাকার মানে শিখিয়েছে।

কাজে ফিরে যাওয়ার পরও গ্যাল অনেক সময় সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করেছেন— তিনি এখন প্রতিটি মুহূর্তকে আরও বেশি উপভোগ করেন, সন্তানদের সময় দেন, পরিবারকে অগ্রাধিকার দেন।

শেষবাক্য

একটি ছোট্ট শিশুর হাত ধরে আজ গ্যাল গ্যাডট হাসছেন, পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাচ্ছেন, ক্যামেরার সামনে ফিরছেন। কতটা পথ পেরিয়ে সেখানে পৌঁছতে হয়েছে তাঁকে— তা জানলে বিস্ময় জাগে, গর্বও হয়।

হলিউডের ‘ওয়ান্ডার ওম্যান’-এর বাস্তব জীবনের এই অধ্যায় প্রমাণ করে—
সুপারহিরোরা কেবল সিনেমায় নয়, বাস্তবেও জন্ম নেয়। আর গ্যাল গ্যাডট তাঁদেরই একজন।

Preview image