ভারতের অর্থনীতি বর্তমানে এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে, এবং এর পেছনে মূল কারণ হলো নেক্সট-জেন রিফর্মস এবং ম্যাক্রো-ইকোনমিক স্ট্যাবিলিটি। Sanjeev Sanyal, ভারতের অর্থনৈতিক উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য, সম্প্রতি বলেছেন যে ভারতের শক্তিশালী GDP বৃদ্ধি আসছে সরবরাহ পক্ষের সংস্কার এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এর কারণে। ২০২৫ সালের দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকে ভারতের GDP বৃদ্ধি ছিল ৮.২%, যা বিশ্বব্যাপী সেরা অর্থনীতির মধ্যে অন্যতম।
ভারতের অর্থনীতি বর্তমানে একটি গুরুত্বপূর্ণ উন্নতি পর্যায়ে পৌঁছেছে, যা দেশের জিডিপি বৃদ্ধির উপর প্রভাব ফেলছে। Sanjeev Sanyal, ভারতের অর্থনৈতিক উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য, সম্প্রতি বলেছেন যে ভারতের শক্তিশালী GDP বৃদ্ধি আসলে নেক্সট-জেন রিফর্মস এবং ম্যাক্রো-ইকোনমিক স্ট্যাবিলিটি এর কারণে সম্ভব হয়েছে। গত ২০২৫ সালের দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকে ৮.২% রিয়েল GDP বৃদ্ধি নিশ্চিত করেছে, যা পূর্ববর্তী পূর্বাভাসকে ছাড়িয়ে গেছে এবং দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার ইঙ্গিত দেয়।
আজকের দিনে, এই শক্তিশালী GDP বৃদ্ধির পেছনে বেশ কিছু মৌলিক কারণ রয়েছে, যার মধ্যে অন্যতম সরবরাহ পক্ষের সংস্কার (supply-side reforms), নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং ব্যবসায়িক পরিবেশে সহজীকরণ। Sanjeev Sanyal এ ব্যাপারে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরেছেন, যার মাধ্যমে তিনি এটি প্রমাণ করেছেন যে ভারতের অর্থনীতি শুধুমাত্র বৃদ্ধি পাচ্ছে না, বরং এটি উচ্চতর মানের টেকসই প্রবৃদ্ধির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।
২০২৫-২৬ অর্থবছরের Q2-র GDP বৃদ্ধির হার ৮.২% ছিল, যা ভারতের অর্থনীতির শক্তিশালী অবস্থানকে প্রতিফলিত করে। সঞ্জীব সান্যাল এ সম্পর্কে মন্তব্য করেছেন যে ভারতের GDP বৃদ্ধির হার বিশ্বব্যাপী সেরা অর্থনীতিগুলোর মধ্যে অন্যতম, যা ভারতের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতির জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক।
সঞ্জীব সান্যাল এবং সরকারের উচ্চ পর্যায়ের অর্থনীতিবিদরা মনে করেন যে ভারতের অর্থনীতির এই শক্তিশালী বৃদ্ধি আসছে নতুন রিফর্মস এবং পরিকল্পিত অর্থনৈতিক উন্নয়ন এর কারণে। বিশেষত, সরবরাহ পক্ষের সংস্কার (supply-side reforms) ও কর কাঠামোর সরলীকরণ এবং ব্যবসায়িক পরিবেশে সহজীকরণ এর ফলে অর্থনীতির বিভিন্ন খাতে ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
নেক্সট-জেন রিফর্মস অর্থাৎ পরবর্তী প্রজন্মের সংস্কারগুলির মধ্যে রয়েছে GST এর কর-স্ল্যাব র্যাশনালাইজেশন, নতুন মুদ্রানীতি (monetary policy) এবং সরকারের বিনিয়োগ নীতি যা সকল ব্যবসায়িক স্তরে শক্তিশালী প্রভাব ফেলছে। এই নীতি এবং সংস্কারগুলি ব্যবসা পরিচালনা সহজ করার লক্ষ্যে গৃহীত হয়েছে, যা সরাসরি GDP বৃদ্ধির সঙ্গে সম্পর্কিত।
সঞ্জীব সান্যাল বলেছেন যে এই রিফর্মগুলির মাধ্যমে ভারতে ব্যবসা পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সরলীকৃত হয়েছে, যার ফলস্বরূপ ব্যবসার পরিবেশ আগের চেয়ে অনেক সুবিধাজনক হয়েছে এবং বিনিয়োগকারীরা সহজে ব্যবসা শুরু করতে পারছেন। এতে নতুন ব্যবসা সংস্থাগুলি সহজেই কাজ শুরু করতে পারছে এবং তাদের কার্যক্রম দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে।
ভারতের তৃতীয় খাত, যার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত সেবা, বাণিজ্য, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং অন্যান্য শিল্প, এটি সবচেয়ে বেশি প্রবৃদ্ধি দেখিয়েছে। ৯.২% বৃদ্ধির ফলে ভারতের সেবা খাত অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে। সঞ্জীব সান্যাল বলেন, "এই খাতের শক্তিশালী বৃদ্ধি পুরো দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পক্ষে একটি ইতিবাচক সংকেত।"
উল্লেখযোগ্য যে, তৃতীয় খাতের প্রবৃদ্ধি শুধুমাত্র দেশীয় বাজারে নয়, আন্তর্জাতিক পর্যায়েও ভারতের অবস্থানকে শক্তিশালী করেছে। বিশেষত, ফাইনান্সিয়াল সার্ভিসেস, আইটি সেক্টর এবং ই-কমার্স এর মাধ্যমে এই খাত আরও বেশি উদ্ভাবনী শক্তি লাভ করেছে।
ভারতের দ্বিতীয় খাত যেমন উৎপাদন এবং নির্মাণ খাতগুলি সমানভাবে শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি দেখিয়েছে। ৮.১% বৃদ্ধির ফলে এই খাতটি দেশের সারা বিশ্বে ভারতের অর্থনীতির শক্তি তৈরি করেছে। সঞ্জীব সান্যাল বলেন, "এই খাতগুলি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এগুলিই দেশের দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা এবং কর্মসংস্থান তৈরির মূল ভিত্তি।"
উৎপাদন এবং নির্মাণ খাতের এই প্রবৃদ্ধির ফলে দেশীয় উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে এবং মুল উৎপাদনের ক্ষেত্রে ভারতের বাজারে বড় পরিবর্তন এসেছে। এর ফলে দেশে বেশি পরিমাণে পণ্য উৎপাদন হয়েছে, যা বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের ক্ষেত্রেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
দেশের প্রাথমিক খাত (Primary sector) ৩.১ % বৃদ্ধিতে সহায়তা করেছে।
দ্বিতীয় (Secondary) খাত ৮.১ % এবং তৃতীয় (Tertiary / services + trade + অন্যান্য) খাত ৯.২ % প্রবৃদ্ধি দেখিয়েছে।
এই তিনটি খাতের সমন্বয়ই মোট GDP‑বৃদ্ধিকে ৮.২ %-এ নিয়ে গেছে — যা গত বছরের একই কালে ছিল প্রায় ৫.৬ %।
Sanyal এ প্রগতি “overheating” ছাড়া হয়েছে বলে উল্লেখ করেছেন — অর্থাৎ মূল্যস্ফীতি বা আর্থিক অস্থিরতা ছাড়া।
ভারতের কৃষি খাত একদিকে ৩.১% বৃদ্ধি দেখিয়েছে, যা ভারতের কৃষি-অর্থনীতির শক্তিশালী অবস্থানকে তুলে ধরে। সঞ্জীব সান্যাল বলেছেন, "কৃষির অবদান শুধুমাত্র খাদ্য উৎপাদনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, এটি দেশের বৃহৎ শ্রমবাজারের একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ।"
এই প্রবৃদ্ধি কৃষকদের জন্য উন্নত সুযোগ এবং অধিক প্রযুক্তির সুবিধা এনেছে, যার ফলে তারা তাদের উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে সক্ষম হয়েছেন। সরকারের কৃষি ভিত্তিক পরিকল্পনা এবং বেশি কৃষি প্রযুক্তি গ্রহণ এই সেক্টরের বৃদ্ধিতে সহায়তা করেছে।
Supply‑side reforms অর্থাৎ উৎপাদন‑সংক্রান্ত নিয়ম, কর‑নীতি, প্রক্রিয়া সহজীকরণ — এসব চালু করেই অর্থনীতিকে আরও কার্যকর করা হয়েছে।
সহজ ও সুসংগঠিত কর কাঠামো (like GST প্রদানের তথ্য সরলীকরণ) ব্যবসা‑উদ্যোগ ও বিনিয়োগকে উৎসাহিত করছে।
অর্থনৈতিক নীতি ও মুদ্রানীতি (monetary policy / macro stability) এমনভাবে গঠন করা হয়েছে, যা বিনিয়োগ, উৎপাদন ও ভোক্তা চাহিদা — সব কিছুতে অনুকূল পরিবেশ তৈরি করেছে।
এভাবে, “নেক্সট‑জেন রিফর্মস” এবং “স্ট্যাবল মাক্রো অর্থনীতি” একসঙ্গে কাজ করে দেশকে দ্রুত GDP‑বৃদ্ধির দিকে চালিত করছে।
সঞ্জীব সান্যাল বলেন, "ভারতের অর্থনীতি বর্তমানে অত্যন্ত স্থিতিশীল, যা বিনিয়োগকারীদের আরও আকর্ষণ করে। ভারত আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের কাছে একটি আকর্ষণীয় গন্তব্য হয়ে উঠেছে।"
আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের জন্য ভারতের শক্তিশালী অর্থনৈতিক পরিস্থিতি তাদের বিনিয়োগ নিশ্চিত করতে সহায়ক হয়েছে। ফলে, দেশের ফান্ডিং এবং প্রযুক্তিগত উন্নয়ন বৃদ্ধিতে সহায়ক হয়েছে, যা আরও স্থানীয় কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সহায়ক।
Sanyal বলছেন, এই পথেই রঙিন ভবিষ্যৎ সম্ভব — তবে সতর্ক থাকতে হবে। নতুন চ্যালেঞ্জ (global headwinds, external shocks, রফতানিতে বাধা ইত্যাদির সম্ভাবনা) আসতেই পারে।
এই কারণে, শুধু বড় রিফর্ম নয় — ছোট‑খাট প্রক্রিয়া सुधार (process reforms) চালু রাখা জরুরি। কারণ বহু “মাইক্রো‑রিফর্ম” একসঙ্গে কাজ করলে সামগ্রিক উৎপাদনশীলতা ও স্থিতিশীলতা ফিরে আসে।
যদি এই গতিতে reforms + stability বজায় থাকে, তাহলে আগামী বছরগুলোতে ৮–৯ % বা তারও বেশি GDP‑growth সম্ভব বলে Sanyal আশা করেন।
এত শক্তিশালী অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পরেও, সঞ্জীব সান্যাল সতর্ক করেছেন যে বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ আসতে পারে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, বৈদেশিক সম্পর্ক, এবং বিশ্ব অর্থনীতি ভারতের অর্থনীতির ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
তবে, সঞ্জীব সান্যাল বলেছেন, "ভারত এখনও আগের তুলনায় অনেক শক্তিশালী এবং প্রস্তুত। বর্তমান সরবরাহ পক্ষের সংস্কার এবং স্থির মুদ্রানীতি ভারতের অর্থনীতি চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করার জন্য যথেষ্ট প্রস্তুত।"
আগামী বছরগুলিতে, ভারত ৬% থেকে ৮% প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে চলেছে। সঞ্জীব সান্যাল বলেন, "যদি এই সংস্কারগুলি বাস্তবায়িত থাকে এবং বর্তমান অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা যায়, তাহলে আগামী বছরগুলোতে আরও শক্তিশালী অর্থনৈতিক বৃদ্ধি সম্ভব।"
ভারতের টেকসই উন্নয়ন এবং শক্তিশালী অবকাঠামো আগামী দশকগুলিতে ভারতের অর্থনীতির অগ্রগতির চালিকা শক্তি হয়ে উঠবে।
Sanjeev Sanyal এর মতে, ভারতের GDP বৃদ্ধি ৮.২% এক শক্তিশালী প্রমাণ, যা দেশের নেক্সট-জেন রিফর্মস এবং ম্যাক্রো-ইকোনমিক স্ট্যাবিলিটি-এর ফসল। তার ভাষায়, সরবরাহ পক্ষের সংস্কার এবং মুদ্রানীতি ভারতকে বিশ্বের শীর্ষ অর্থনীতির দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। ব্যবসার পরিবেশে উন্নতি, উৎপাদন খাতে বৃদ্ধির ফলে দেশীয় এবং আন্তর্জাতিক বাজারে ভারতের অবস্থান আরও দৃঢ় হচ্ছে।