Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

জিও IPO-তে বিপুল সাড়া দ্বিতীয় দিনেই ৩.৪৭ গুণ সাবস্ক্রাইব বিনিয়োগকারীদের চাহিদা ৩.৫ লক্ষ কোটি টাকা ছাড়াল

জিওর IPO ঘিরে বিনিয়োগকারীদের ব্যাপক আগ্রহ। দ্বিতীয় দিনেই ইস্যুটি ৩.৪৭ গুণ সাবস্ক্রাইব হয়েছে এবং জমা পড়া বিডের মূল্য ৩.৫ লক্ষ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে শেয়ার কেনার এই বিপুল চাহিদায় নজর কাড়ছে জিওর IPO

জিও প্ল্যাটফর্মসের প্রাথমিক শেয়ার বিক্রি বা IPO ঘিরে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ নজর কেড়েছে। ABP Live এর প্রতিবেদন অনুযায়ী ২২ অক্টোবর ২০২৬ দুপুর ১২টা পর্যন্ত ইস্যুটি সামগ্রিকভাবে ৩.৪৭ গুণ সাবস্ক্রাইব হয়েছিল। অর্থাৎ সংশ্লিষ্ট হিসাবে আবেদনযোগ্য শেয়ারের তুলনায় ৩.৪৭ গুণ শেয়ারের জন্য বিড জমা পড়েছিল। এটি দ্বিতীয় দিনের একটি নির্দিষ্ট সময়ের হিসাব; চূড়ান্ত সাবস্ক্রিপশনের ফল নয়। প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের অংশে বেশি চাহিদা একই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে ওই সময় পর্যন্ত কোয়ালিফায়েড ইনস্টিটিউশনাল বায়ার্স বা QIB বিভাগে সাবস্ক্রিপশন ছিল ৯.৬১ গুণ। নন-ইনস্টিটিউশনাল ইনভেস্টর বা NII বিভাগে তা ছিল ৩.১৮ গুণ এবং খুচরো বিনিয়োগকারীদের অংশে ১.১৬ গুণ। প্রতিটি হার সংশ্লিষ্ট বিভাগের জন্য সংরক্ষিত শেয়ারের বিপরীতে হিসাব করা হয়। তাই এই হারগুলি সরাসরি যোগ করে সামগ্রিক সাবস্ক্রিপশন পাওয়া যায় না। বিভাগভিত্তিক এই তথ্য থেকে বোঝা যায়, দ্বিতীয় দিনের ওই সময় পর্যন্ত প্রাতিষ্ঠানিক অংশে তুলনামূলক বেশি চাহিদা ছিল। তবে একটি বিভাগের বেশি সাবস্ক্রিপশন অন্য বিভাগের প্রত্যেক আবেদনকারীর শেয়ার পাওয়ার সম্ভাবনা নির্ধারণ করে না। বরাদ্দের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বিভাগের নিয়ম ও বৈধ আবেদনের সংখ্যা গুরুত্বপূর্ণ। ৩.৫ লক্ষ কোটি টাকার দাবি কীভাবে বুঝতে হবে ABP Live-এর প্রতিবেদনে বিনিয়োগকারীদের মোট চাহিদা ৩.৫ লক্ষ কোটি টাকা ছাড়ানোর কথা বলা হয়েছে। একই প্রতিবেদনে IPO-র আকার উল্লেখ করা হয়েছে ৩০,২১৩ কোটি টাকা। কিন্তু মোট চাহিদার ওই অঙ্কের মধ্যে কোন কোন পর্যায়ের আবেদন ধরা হয়েছে, তার পরিষ্কার হিসাব দেওয়া হয়নি। এখানে সংখ্যাগুলির ভিত্তি বোঝা প্রয়োজন। শুধু ৩০,২১৩ কোটি টাকার সঙ্গে ৩.৪৭ গুণ করলে প্রায় ১.০৫ লক্ষ কোটি টাকা হয়। যদিও প্রকৃত সাবস্ক্রিপশনের হিসাবে অ্যাঙ্কর বরাদ্দ বাদ দেওয়া এবং বিভাগভিত্তিক শেয়ারের মতো বিষয় থাকে, এই সাধারণ হিসাবও দেখায় যে ৩.৫ লক্ষ কোটি টাকাকে সরাসরি দ্বিতীয় দিনের পাবলিক বিডের মূল্য বলা যথাযথ নয়। ফলে ওই অঙ্কটি ব্যবহার করলে সংবাদমাধ্যমের দাবি হিসেবে উল্লেখ করা এবং হিসাবের ভিত্তি স্পষ্ট না থাকার বিষয়টি জানানো জরুরি। একইভাবে বিডের চাহিদাকে সংস্থার হাতে ইতিমধ্যে উঠে আসা অর্থ হিসেবে দেখানো যাবে না।

বেশি সাবস্ক্রিপশনের অর্থ কী কোনও IPO অতিরিক্ত সাবস্ক্রাইব হলে বোঝা যায় নির্ধারিত শেয়ারের তুলনায় বেশি শেয়ারের আবেদন এসেছে। এটি ইস্যুটির প্রতি আগ্রহের একটি সূচক। কিন্তু শুধু এই তথ্য দিয়ে সংস্থার শেয়ারের ন্যায্য মূল্য কিংবা তালিকাভুক্তির পরে দাম কোন দিকে যাবে, তা নির্ধারণ করা যায় না। বিশ্লেষণের ক্ষেত্রে চাহিদার পাশাপাশি সংস্থার আয়, মুনাফা, ঋণ, ব্যবসার ঝুঁকি এবং প্রস্তাবিত শেয়ারমূল্য বিবেচনায় আসে। একটি জনপ্রিয় ইস্যু ও আকর্ষণীয় মূল্যায়নের ইস্যু সব সময় একই বিষয় নয়। তাই সাবস্ক্রিপশনের খবরকে বাজারের আগ্রহের তথ্য হিসেবেই দেখা প্রয়োজন। আবেদন করলেই কি শেয়ার পাওয়া যাবে অতিরিক্ত চাহিদা থাকলে প্রত্যেক আবেদনকারী তাঁর চাওয়া সমস্ত শেয়ার পাবেন, এমন নিশ্চয়তা থাকে না। খুচরো বিভাগে বৈধ আবেদনকারীর সংখ্যা উপলব্ধ ন্যূনতম লটের সংখ্যাকে ছাড়িয়ে গেলে বরাদ্দ নির্ধারণে লটারির প্রয়োজন হতে পারে। আবেদন জমা দেওয়া এবং শেয়ার বরাদ্দ পাওয়া পৃথক ধাপ। দ্বিতীয় দিনের তথ্যকে সময় উল্লেখ করে দেখা জরুরি সাবস্ক্রিপশন চলাকালীন নতুন বিড এবং সংশোধনের ফলে পরিসংখ্যান বদলাতে পারে। ফলে ২২ অক্টোবর দুপুরের ৩.৪৭ গুণ হারকে পরবর্তী দিনের সর্বশেষ বা চূড়ান্ত তথ্য হিসেবে ব্যবহার করা উচিত নয়। জিও IPO-র দ্বিতীয় দিনের প্রতিবেদনে বিনিয়োগকারীদের উল্লেখযোগ্য আগ্রহের ছবি উঠে এসেছে। তবে চাহিদার আর্থিক অঙ্ক, সাবস্ক্রিপশনের গুণিতক এবং প্রকৃত অর্থ সংগ্রহ এই তিনটি বিষয় পৃথক রাখলেই খবরটির সঠিক অর্থ বোঝা সম্ভব হবে। জিও IPO ঘিরে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহের আলোচনায় বারবার উঠে আসছে সাবস্ক্রিপশনের হার। কোনও ইস্যু কত গুণ সাবস্ক্রাইব হয়েছে, তা থেকে নির্দিষ্ট সময়ে শেয়ারের চাহিদা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। তবে এই সংখ্যার অর্থ বুঝতে হলে আবেদন, শেয়ার বরাদ্দ এবং তালিকাভুক্তির পরের লেনদেনকে আলাদা করে দেখতে হবে। প্রতিটি ধাপের ভূমিকা ও ফল পৃথক। কোনও IPO-তে নির্ধারিত শেয়ারের তুলনায় বেশি শেয়ারের জন্য আবেদন জমা পড়লে সেটিকে অতিরিক্ত সাবস্ক্রাইব বা ওভারসাবস্ক্রাইব বলা হয়। সহজ উদাহরণে, কোনও অংশে ১০০টি শেয়ার উপলব্ধ থাকলে এবং ৩০০টি শেয়ারের জন্য বৈধ বিড জমা পড়লে সেই অংশ তিন গুণ সাবস্ক্রাইব হয়েছে বলা যায়। এটি শেয়ারের চাহিদার অনুপাত; আবেদনকারীর সংখ্যা বা ভবিষ্যৎ লাভের হার নয়। বড় অঙ্কের কয়েকটি আবেদন এবং ছোট অঙ্কের বহু আবেদন দুই ক্ষেত্রেই মোট চাহিদা বাড়তে পারে। ফলে শুধু সামগ্রিক সাবস্ক্রিপশন দেখে কতজন ব্যক্তি আবেদন করেছেন বা কোন ধরনের বিনিয়োগকারী বেশি অংশ নিয়েছেন, তা সম্পূর্ণ বোঝা যায় না। সেই তথ্য জানতে বিভাগভিত্তিক পরিসংখ্যান প্রয়োজন।

news image
আরও খবর

জনপ্রিয়তা ও মূল্যায়নের মধ্যে পার্থক্য বেশি সাবস্ক্রিপশন কোনও IPO-র প্রতি আগ্রহের ইঙ্গিত দেয়। কিন্তু একটি ইস্যুর জনপ্রিয়তা এবং তার শেয়ারের মূল্যায়ন একই বিষয় নয়। সংস্থার পরিচিতি, ব্যবসা ঘিরে প্রত্যাশা কিংবা বাজারের সামগ্রিক মনোভাব আবেদন বাড়াতে পারে। সেই আগ্রহ কতটা যুক্তিসংগত মূল্যের ভিত্তিতে তৈরি হয়েছে তা বুঝতে আরও তথ্য দরকার। সংস্থার আয় ও মুনাফার গতিপ্রকৃতি, ঋণের পরিমাণ, নগদ প্রবাহ এবং ব্যবসার ঝুঁকি মূল্যায়নের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। পাশাপাশি দেখতে হয়, প্রস্তাবিত শেয়ারমূল্যের সঙ্গে সংস্থার আর্থিক অবস্থার সম্পর্ক কী। ভবিষ্যতে ব্যবসা বাড়ানোর সম্ভাবনা থাকলেও সেই বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় খরচ ও প্রতিযোগিতার বিষয়টি বাদ দেওয়া যায় না। এই কারণে বেশি সাবস্ক্রিপশনকে ইতিবাচক বাজার প্রতিক্রিয়া হিসেবে দেখা গেলেও, সেটি দিয়ে শেয়ারের ন্যায্য দাম নির্ধারণ করা সম্ভব নয়। একইভাবে তালিকাভুক্তির দিন বা পরবর্তী সময়ে শেয়ারের দাম বাড়বেই এমন সিদ্ধান্তও নেওয়া যায় না। আবেদন ও শেয়ার বরাদ্দ পৃথক ধাপ IPO-তে আবেদন করার অর্থ হল নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে শেয়ার কেনার আগ্রহ জানানো। আবেদন গ্রহণযোগ্য হওয়ার পরে বরাদ্দের প্রক্রিয়া আসে। উপলব্ধ শেয়ারের তুলনায় চাহিদা বেশি হলে প্রত্যেক আবেদনকারী তাঁর চাওয়া সমস্ত শেয়ার নাও পেতে পারেন। খুচরো বিভাগে বৈধ আবেদনকারীর সংখ্যা উপলব্ধ ন্যূনতম লটের সংখ্যার চেয়ে বেশি হলে প্রযোজ্য বরাদ্দের নিয়ম অনুযায়ী লটারির প্রয়োজন হতে পারে। তাই আবেদন জমা পড়েছে বা অর্থ ব্লক হয়েছে মানেই শেয়ার পাওয়া নিশ্চিত, এমন ধারণা সঠিক নয়। চূড়ান্ত বরাদ্দের ফলেই বোঝা যায় কে কত শেয়ার পেয়েছেন। এখানে সামগ্রিক সাবস্ক্রিপশন ও নিজের বিভাগের চাহিদার পার্থক্যও গুরুত্বপূর্ণ। প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের অংশে বিপুল আবেদন থাকলেও তা দিয়ে একজন খুচরো আবেদনকারীর বরাদ্দের সম্ভাবনা সরাসরি হিসাব করা যায় না। সংশ্লিষ্ট বিভাগের জন্য সংরক্ষিত শেয়ার এবং সেই বিভাগের বৈধ আবেদনই বিবেচ্য।

সাবস্ক্রিপশনের তথ্যের সঙ্গে সময় উল্লেখ প্রয়োজন IPO-র আবেদন চলাকালীন সাবস্ক্রিপশনের হার পরিবর্তিত হতে পারে। দিনের শুরুতে পাওয়া পরিসংখ্যান এবং আবেদন বন্ধ হওয়ার সময়ের হিসাব এক নাও হতে পারে। নতুন বিড সংশোধন এবং তথ্য হালনাগাদের ফলে চাহিদার ছবিও বদলায়। জিও IPO নিয়ে আলোচনায় ব্যবহৃত ২২ অক্টোবর দুপুরের ৩.৪৭ গুণ সাবস্ক্রিপশনের তথ্য তাই ওই নির্দিষ্ট সময়ের হিসাব হিসেবেই উল্লেখ করা প্রয়োজন। সেটিকে পরবর্তী দিনের সর্বশেষ অবস্থা কিংবা ইস্যুর চূড়ান্ত ফল হিসেবে তুলে ধরলে পাঠকের ভুল ধারণা হতে পারে। খবর প্রকাশের সময় তারিখ ও সময় উল্লেখ থাকলে পাঠক বুঝতে পারেন তথ্যটি কোন পর্যায়ের। পরবর্তী আপডেটেও আগের ও নতুন সংখ্যার সময় পরিষ্কার রাখলে পরিবর্তনটি বোঝা সহজ হয়। চাহিদার মূল্য ও সংগৃহীত অর্থ এক নয় শেয়ারের জন্য জমা পড়া বিডের আর্থিক মূল্য থেকে বিনিয়োগকারীদের চাহিদার পরিমাণ বোঝা যায়। কিন্তু সেই সম্পূর্ণ অর্থ সংস্থার হাতে চলে আসে না। অতিরিক্ত সাবস্ক্রিপশন হলে চাওয়া সমস্ত শেয়ার বরাদ্দ করা সম্ভব হয় না। প্রকৃত অর্থ সংগ্রহ নির্ভর করে ইস্যুর কাঠামো, চূড়ান্ত মূল্য ও বরাদ্দের উপর। নতুন শেয়ার ইস্যুর মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ এবং বিদ্যমান শেয়ারহোল্ডারদের শেয়ার বিক্রির ব্যবস্থাতেও অর্থের গন্তব্য আলাদা হতে পারে। তাই বড় অঙ্কের চাহিদাকে সরাসরি সংস্থার মূলধন বৃদ্ধি বা নগদ প্রাপ্তি হিসেবে লেখা যথাযথ নয়। জিও IPO-র চাহিদা সম্পর্কে কোনও আর্থিক অঙ্ক উল্লেখ করার সময় সেটি কোন হিসাবের ভিত্তিতে তৈরি, তা স্পষ্ট থাকা প্রয়োজন। অ্যাঙ্কর পর্যায়ের আগ্রহ পাবলিক বিড এবং চূড়ান্ত বরাদ্দের মূল্য একসঙ্গে মিশিয়ে দিলে একই খবরের মধ্যে বিভ্রান্তিকর তুলনা তৈরি হতে পারে। সাবস্ক্রিপশনের হার একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য, যার অর্থ বোঝা যায় যথাযথ প্রেক্ষাপটে। সেই প্রেক্ষাপটে থাকে তথ্যের সময়, বিনিয়োগকারীর বিভাগ উপলব্ধ শেয়ার এবং বরাদ্দের নিয়ম। এগুলির সঙ্গে সংস্থার আর্থিক অবস্থার মূল্যায়ন যুক্ত করলে IPO টি সম্পর্কে আরও পূর্ণাঙ্গ ধারণা পাওয়া সম্ভব।

Preview image