আইএসএলের শুরুতেই দুরন্ত ইস্ট বেঙ্গল। চার্চিল ব্রাদার্সকে চার গোলের মালা পরিয়ে জয় দিয়ে অভিযান শুরু করেছে রশিদদের দল। প্রথম ম্যাচেই আক্রমণাত্মক ফুটবলে নজর কেড়েছে লাল-হলুদ ব্রিগেড। এবার পরের ম্যাচেও এই ছন্দ ধরে রাখাই লক্ষ্য ইস্ট বেঙ্গলের।
আইএসএলের শুরুতেই দুরন্ত ছন্দে ইস্ট বেঙ্গল। মরশুমের প্রথম ম্যাচে চার্চিল ব্রাদার্সকে চার গোলে হারিয়ে অভিযান শুরু করেছিল লাল-হলুদ ব্রিগেড। এবার দ্বিতীয় ম্যাচেও সেই দাপট বজায় রাখল আন্তোনিও হাবাসের দল। শুক্রবার ইন্টার কাশীর বিরুদ্ধে পাঁচ গোল করে বড় ব্যবধানে জয় তুলে নিল ইস্ট বেঙ্গল। ম্যাচের স্কোরলাইন ৫-১। লাল-হলুদের হয়ে জোড়া গোল করলেন লোবা। এ ছাড়া গোলের খাতায় নাম লেখালেন রামিরেজ, বিষ্ণু ও লুকাস। প্রথম দুই ম্যাচে মোট ন’টি গোল করে সমর্থকদের মধ্যে নতুন করে আশার সঞ্চার করেছে কলকাতার এই প্রধান।
শুধু গোলের সংখ্যা নয়, ম্যাচের শুরু থেকেই ইস্ট বেঙ্গলের আক্রমণাত্মক ফুটবল নজর কেড়েছে। দ্রুত গোল করে প্রতিপক্ষের উপর চাপ তৈরি করা, মাঝমাঠ থেকে আক্রমণ সাজানো এবং সুযোগ কাজে লাগানোর ক্ষেত্রে যথেষ্ট কার্যকর ছিল হাবাসের পরিকল্পনা। যদিও রক্ষণভাগে কিছু ভুল চোখে পড়েছে, তবু সামগ্রিক পারফরম্যান্সে ইন্টার কাশীর থেকে অনেকটাই এগিয়ে ছিল লাল-হলুদ।
বিদেশি ফুটবলারবিহীন ইন্টার কাশীর বিরুদ্ধে ম্যাচের শুরুতেই গোল চেয়েছিলেন ইস্ট বেঙ্গলের কোচ আন্তোনিও হাবাস। প্রতিপক্ষকে প্রথম থেকেই চাপে রেখে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেওয়াই ছিল তাঁর পরিকল্পনা। পাশাপাশি ফুটবলারদের শারীরিক সক্ষমতা ও সতেজতা বজায় রাখতে প্রথম একাদশে কিছু পরিবর্তনের ইঙ্গিতও দিয়েছিলেন স্প্যানিশ কোচ।
পুনের বালেওয়াড়ি স্পোর্টস কমপ্লেক্সে সেই পরিকল্পনা কার্যত নিখুঁতভাবে বাস্তবায়িত হয়। ম্যাচের শুরু থেকেই বলের দখল এবং আক্রমণ তৈরির ক্ষেত্রে এগিয়ে ছিল ইস্ট বেঙ্গল। মাঝমাঠে রশিদ ও লোবার সঙ্গে সমন্বয় তৈরি করে বারবার বিপক্ষের রক্ষণে ফাঁক খুঁজে নেওয়ার চেষ্টা করেন লাল-হলুদের ফুটবলাররা।
ম্যাচের অষ্টম মিনিটেই আসে প্রথম সাফল্য। থার্ডম্যান মুভমেন্টের সাহায্যে আক্রমণ সাজিয়ে ইন্টার কাশীর রক্ষণ ভেঙে দেন ইস্ট বেঙ্গলের ফুটবলাররা। মাঝমাঠে রশিদ ও লোবার সঙ্গে পাস খেলে সামনে এগিয়ে যান স্প্যানিশ মিডিও রামিরেজ। এরপর বিপক্ষ গোলরক্ষককে কার্যত কোনও সুযোগ না দিয়ে তাঁর মাথার উপর দিয়ে বল জালে পাঠান তিনি। ম্যাচের শুরুতেই ১-০ গোলে এগিয়ে যায় ইস্ট বেঙ্গল।
দ্রুত গোল পাওয়ায় আত্মবিশ্বাস আরও বেড়ে যায় হাবাস ব্রিগেডের। বিপক্ষের রক্ষণকে চাপে রেখে আক্রমণের গতি বজায় রাখে লাল-হলুদ। ইন্টার কাশীকে ম্যাচে ফেরার সুযোগ না দিয়ে ব্যবধান বাড়ানোর লক্ষ্যেই খেলতে থাকে তারা।
প্রথম গোলের আনন্দ মিটতে না মিটতেই দ্বিতীয়বার ইন্টার কাশীর জালে বল জড়িয়ে দেয় ইস্ট বেঙ্গল। ম্যাচের ১৬ মিনিটে গোল করেন বিষ্ণু। এই গোলের নেপথ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল লোবার। দুর্দান্তভাবে বল সাজিয়ে বিষ্ণুর সামনে সুযোগ তৈরি করে দেন আইভরি কোস্টের এই ফুটবলার।
বিষ্ণুর জোরালো শট আটকানোর চেষ্টা করেছিলেন ইন্টার কাশীর গোলরক্ষক আলবিনো। কিন্তু তাঁর হাতের তলা দিয়ে বল জালে ঢুকে যায়। ফলে ব্যবধান বেড়ে দাঁড়ায় ২-০।
ম্যাচের প্রথম ১৬ মিনিটের মধ্যেই দুই গোল করে ইস্ট বেঙ্গল বুঝিয়ে দেয়, তারা শুধু জয়ের জন্য মাঠে নামেনি; প্রতিপক্ষের উপর শুরু থেকেই আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করাও তাদের লক্ষ্য। দ্রুত আক্রমণ, মাঝমাঠে সমন্বয় এবং সামনে থাকা ফুটবলারদের কার্যকর ব্যবহার—এই তিন ক্ষেত্রেই তখন এগিয়ে ছিল লাল-হলুদ।
দুই গোলের ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে ইন্টার কাশী পাল্টা আক্রমণের চেষ্টা করে। সেই সময় ইস্ট বেঙ্গলের রক্ষণে সামান্য অসতর্কতা দেখা যায়। লালচুংনুঙ্গার ভুলের সুযোগ কাজে লাগিয়ে বল পেয়ে যান গাব্রিয়েল। তাঁর শট গোলরক্ষক গিলকে পরাস্ত করলেও শেষ পর্যন্ত পোস্টে লেগে ফিরে আসে। অল্পের জন্য গোল হজম করা থেকে রক্ষা পায় ইস্ট বেঙ্গল।
এই ঘটনা অবশ্য হাবাসের দলের জন্য সতর্কবার্তা হিসেবেও কাজ করেছে। আক্রমণে যতই দাপট থাকুক, রক্ষণে সামান্য ভুলও যে বিপদ ডেকে আনতে পারে, তা এই মুহূর্তে স্পষ্ট হয়ে যায়।
ম্যাচের ২১ মিনিটে আবারও ইন্টার কাশীর রক্ষণে চাপ তৈরি করে ইস্ট বেঙ্গল। বিপক্ষের বক্সের মধ্যে রামিরেজকে ফাউল করা হলে পেনাল্টি পায় লাল-হলুদ। গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে স্পটকিক নিতে এগিয়ে আসেন লোবা।
চাপের মুখেও কোনও ভুল করেননি তিনি। পেনাল্টি থেকে গোল করে ব্যবধান ৩-০ করে দেন আইভরি কোস্টের ফুটবলার। ম্যাচের মাত্র ২১ মিনিটের মধ্যেই তিন গোল করে কার্যত প্রতিপক্ষকে কোণঠাসা করে ফেলে ইস্ট বেঙ্গল।
লোবার পারফরম্যান্স ম্যাচে বিশেষভাবে নজর কাড়ে। শুধু নিজে গোল করাই নয়, সতীর্থদের জন্য সুযোগ তৈরি করা এবং আক্রমণের গতি বজায় রাখার ক্ষেত্রেও তাঁর ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। বিষ্ণুর গোলের পিছনে তাঁর অবদান যেমন ছিল, তেমনই পেনাল্টি থেকে নিজেও গোল করেন তিনি।
তবে তিন গোলের ব্যবধানে এগিয়ে যাওয়ার পরেও ইস্ট বেঙ্গলের রক্ষণ পুরোপুরি নিশ্চিন্ত থাকতে পারেনি। ম্যাচের পরবর্তী পর্যায়ে সেই দুর্বলতারই একটি উদাহরণ সামনে আসে।
ম্যাচের গতির বিরুদ্ধে গিয়ে প্রথমার্ধে একটি গোল পেয়ে যায় ইন্টার কাশী। লালচুংনুঙ্গার আত্মঘাতী গোলে স্কোরলাইন দাঁড়ায় ৩-১। এই গোলের ফলে ম্যাচে ব্যবধান কমলেও ইস্ট বেঙ্গলের আক্রমণাত্মক ছন্দে বড় কোনও প্রভাব পড়েনি।
তবে আত্মঘাতী গোলটি হাবাসের দলের রক্ষণ নিয়ে কিছু প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। বিশেষ করে উইং থেকে ভেসে আসা বল সামলানোর ক্ষেত্রে লাল-হলুদের আরও সতর্ক হওয়া প্রয়োজন বলে মনে হয়েছে। প্রতিপক্ষের আক্রমণকে সঠিক সময়ে আটকানো এবং নিজেদের বক্সের মধ্যে সমন্বয় বজায় রাখা আগামী ম্যাচগুলিতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
বড় ব্যবধানে এগিয়ে থাকার কারণে ইস্ট বেঙ্গল অবশ্য অযথা ঝুঁকি নেয়নি। প্রথমার্ধের বাকি সময়ে পজেশন ধরে রেখে খেলার গতি নিয়ন্ত্রণ করে রশিদরা। বল নিজেদের দখলে রেখে আক্রমণ সাজানোর পাশাপাশি বিপক্ষকে দ্রুত গোল করার সুযোগ না দেওয়ার চেষ্টা চালায় দল।
প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার আগেই আরও একবার ইন্টার কাশীর রক্ষণ ভেঙে দেয় ইস্ট বেঙ্গল। ম্যাচের ৩৫ মিনিটে বিপিনের বাড়ানো বলে মাথা ছুঁইয়ে গোল করেন লোবা। দুর্দান্ত ফিনিশিংয়ে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করে ব্যবধান ৪-১ করে দেন তিনি।
এই গোলের পর লোবার আত্মবিশ্বাস এবং শারীরিক সক্ষমতা বিশেষভাবে চোখে পড়ে। আগের তুলনায় অনেক বেশি চনমনে দেখিয়েছে তাঁকে। বল ধরে রাখা, জায়গা তৈরি করা এবং প্রতিপক্ষের রক্ষণকে ব্যস্ত রাখার ক্ষেত্রে কার্যকর ছিলেন এই ফুটবলার।
লোবার জোড়া গোল ইস্ট বেঙ্গলের আক্রমণভাগকে আরও শক্তিশালী করে তোলে। প্রথমার্ধেই চার গোল করে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ কার্যত নিজেদের হাতে নিয়ে নেয় হাবাসের দল।
বিরতির আগে ব্যবধান আরও বাড়তে পারত। রামিরেজের বাঁ পায়ের একটি শট ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে। সেই শট গোল হলে প্রথমার্ধেই ইস্ট বেঙ্গলের গোলসংখ্যা আরও বাড়তে পারত। তবু চার গোলের লিড নিয়ে বিরতিতে যাওয়ায় দল যথেষ্ট স্বস্তিতে ছিল।
দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে নেমেও আক্রমণের গতি কমায়নি ইস্ট বেঙ্গল। চার গোল করে এগিয়ে থাকলেও ম্যাচকে হালকাভাবে নেওয়ার কোনও লক্ষণ দেখা যায়নি। বরং আক্রমণের ধার বজায় রেখে আরও গোল করার চেষ্টা চালিয়ে যায় লাল-হলুদ।
এদিকে, দলের ফুটবলারদের সতেজ রাখা এবং ম্যাচের পরিস্থিতি অনুযায়ী বিকল্পদের সুযোগ দেওয়ার দিকেও নজর দেন হাবাস। একে একে ইকনমিডিস, লুকাস-সহ কয়েকজন ফুটবলারকে মাঠে নামান তিনি। এর ফলে দলের আক্রমণে নতুন গতি আসে। একই সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ পরবর্তী ম্যাচের আগে ফুটবলারদের পরীক্ষা করে নেওয়ার সুযোগও পান কোচ।
দ্বিতীয়ার্ধে ইন্টার কাশী ব্যবধান কমানোর চেষ্টা করলেও ইস্ট বেঙ্গলের আক্রমণ সামলাতে হিমশিম খেতে হয় তাদের। মাঝমাঠ থেকে আক্রমণ তৈরি করে বিপক্ষের বক্সে বল পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে কার্যকর ছিল লাল-হলুদ।
ম্যাচের ৮১ মিনিটে ইস্ট বেঙ্গলের পঞ্চম গোলটি আসে। ইকনমিডিসের বাড়ানো বল পায়ে ছুঁইয়ে জালে পাঠান লুকাস। তাঁর গোলে স্কোরলাইন দাঁড়ায় ৫-১। এর ফলে ইন্টার কাশীর বিরুদ্ধে বড় ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে হাবাস ব্রিগেড।
শেষদিকে পরিবর্ত হিসেবে মাঠে নামা ফুটবলারদের কার্যকর ভূমিকা ইস্ট বেঙ্গলের শক্তির গভীরতার দিকটিও সামনে এনেছে। শুধু প্রথম একাদশের ফুটবলারদের উপর নির্ভর না করে প্রয়োজন অনুযায়ী বিকল্পদের ব্যবহার করতে পেরেছেন হাবাস। গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে এই বিষয়টি দলের পক্ষে ইতিবাচক।
শেষ পর্যন্ত ৫-১ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে ইস্ট বেঙ্গল। লোবার জোড়া গোল, রামিরেজ ও বিষ্ণুর প্রথমার্ধের গোল এবং লুকাসের দ্বিতীয়ার্ধের গোল—সব মিলিয়ে আক্রমণভাগের দুরন্ত পারফরম্যান্সেই আসে এই জয়।
আইএসএলের প্রথম ম্যাচে চার্চিল ব্রাদার্সের বিরুদ্ধে চার গোল করেছিল ইস্ট বেঙ্গল। দ্বিতীয় ম্যাচে ইন্টার কাশীর বিরুদ্ধে পাঁচ গোল। ফলে প্রথম দুই ম্যাচ মিলিয়ে লাল-হলুদের গোলসংখ্যা দাঁড়াল ন’টি। টানা দুই ম্যাচে জয় পাওয়ায় দলের আত্মবিশ্বাসও এখন যথেষ্ট উঁচুতে।
মরশুমের শুরুতেই আক্রমণভাগের এমন পারফরম্যান্স সমর্থকদের প্রত্যাশা বাড়িয়ে দিয়েছে। বিশেষ করে রামিরেজ, লোবা, বিষ্ণু এবং লুকাসদের গোল পাওয়ার বিষয়টি দলের আক্রমণাত্মক বৈচিত্র্যকে তুলে ধরেছে। একাধিক ফুটবলার গোল করতে পারায় প্রতিপক্ষের পক্ষে শুধু একজনকে আটকানোর পরিকল্পনা করলেই চলবে না।
তবে প্রতিপক্ষের শক্তি এবং ম্যাচের পরিস্থিতি অনুযায়ী এই ছন্দ ধরে রাখাই হবে আসল পরীক্ষা। বড় ব্যবধানে জয় অবশ্যই ইতিবাচক, কিন্তু দীর্ঘ মরশুমে ধারাবাহিকতা বজায় রাখার জন্য রক্ষণভাগের ভুল কমানোও জরুরি।
আইএসএলে টানা দুই জয়ের পর এবার এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ টু-এর গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের দিকে নজর ইস্ট বেঙ্গলের। আল সিবের বিরুদ্ধে খেলতে শনিবার ওমানের উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রশিদদের। পরবর্তী রাউন্ডে যাওয়ার লক্ষ্য পূরণ করতে হলে এই ম্যাচে জয়ের গুরুত্ব অনেক।
এমন গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে ইন্টার কাশীর বিরুদ্ধে বড় ব্যবধানে জয় দলকে বাড়তি আত্মবিশ্বাস জোগাবে। আক্রমণভাগের ফুটবলাররা গোল পেয়েছেন, পরিবর্ত হিসেবে নামা খেলোয়াড়রাও নিজেদের কার্যকারিতা দেখিয়েছেন। ফলে পরবর্তী ম্যাচের আগে দলের হাতে বেশ কিছু ইতিবাচক দিক রয়েছে।
তবে আল সিবের বিরুদ্ধে প্রতিপক্ষের মান, খেলার ধরন এবং ম্যাচের চাপ আলাদা হতে পারে। তাই আইএসএলে পাওয়া সাফল্যকে কাজে লাগানোর পাশাপাশি রক্ষণে আরও সতর্ক থাকতে হবে ইস্ট বেঙ্গলকে। বিশেষ করে উইং থেকে আসা বল সামলানো এবং নিজেদের বক্সে ভুল কমানো গুরুত্বপূর্ণ হবে।
ম্যাচের পর ইন্টার কাশীকে নিয়ে নিজের অসন্তোষ প্রকাশ করেন ইস্ট বেঙ্গলের কোচ আন্তোনিও হাবাস। গত মরশুমে ইন্টার কাশীর দায়িত্বে ছিলেন তিনি। কিন্তু বেতন বকেয়া থাকার কারণে বিরক্ত হয়ে দায়িত্ব ছেড়ে দেন বলে তাঁর বক্তব্য।
ম্যাচের পর হাবাস জানান, ফুটবলার ও কোচদের বেতন বকেয়া ছিল। সেই পরিস্থিতির পরও ইন্টার কাশীকে আইএসএলে দেখে তিনি অবাক হয়েছেন বলে মন্তব্য করেন স্প্যানিশ কোচ।
এই মন্তব্যের মাধ্যমে শুধু ম্যাচের ফল নয়, ক্লাব পরিচালনা ও পেশাদার ফুটবলের আর্থিক ব্যবস্থাপনা নিয়েও প্রশ্ন সামনে এসেছে। তবে মাঠের খেলায় ইন্টার কাশীকে স্পষ্ট ব্যবধানে হারিয়ে নিজের দলকে নিয়েই আপাতত সন্তুষ্ট থাকার যথেষ্ট কারণ রয়েছে হাবাসের।
ইস্ট বেঙ্গলের প্রথম দুই ম্যাচের ফল নিঃসন্দেহে আশাব্যঞ্জক। ন’টি গোল করে ছয় পয়েন্ট অর্জন করা দলের আক্রমণাত্মক শক্তির প্রমাণ। দ্রুত গোল করার ক্ষমতা, মাঝমাঠের সমন্বয় এবং সুযোগ কাজে লাগানোর দক্ষতা—সব ক্ষেত্রেই উন্নতির ইঙ্গিত মিলেছে।
তবে ইন্টার কাশীর বিরুদ্ধে আত্মঘাতী গোল এবং প্রথমার্ধে বিপক্ষের পোস্টে লেগে ফিরে আসা শট মনে করিয়ে দিয়েছে, রক্ষণে এখনও কাজ বাকি। বড় ম্যাচে এই ধরনের ভুলের মূল্য অনেক বেশি হতে পারে। তাই পরবর্তী ম্যাচের আগে আক্রমণভাগের ছন্দ বজায় রাখার পাশাপাশি রক্ষণকেও আরও সংগঠিত করতে হবে।
সব মিলিয়ে আইএসএলের শুরুতেই ইস্ট বেঙ্গলের পারফরম্যান্স সমর্থকদের মনে নতুন আশার আলো জ্বালিয়েছে। চার্চিল ব্রাদার্সের বিরুদ্ধে চার গোলের পর ইন্টার কাশীর বিরুদ্ধে পাঁচ গোল—হাবাস ব্রিগেডের আক্রমণ এখন দুরন্ত ছন্দে। সামনে এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ টু-এর গুরুত্বপূর্ণ লড়াই। সেই ম্যাচে এই গোলের ছন্দ কতটা কাজে লাগে, এখন সেটাই দেখার। আপাতত লাল-হলুদ শিবিরে স্বস্তি, আত্মবিশ্বাস এবং গোলের উৎসব।