বর্ধমান, পশ্চিমবঙ্গ | LensPedia Bangla কেরলের এক হাসপাতালে মৃত্যু হলো বর্ধমানের এক যুবকের। প্রথমে সবাই ভেবেছিলো সাধারণ অসুস্থতা… কিন্তু পরে তাঁর শেষ ফোনকলেই ফাঁস হলো অন্য কাহিনি! — তিনি আতঙ্কে ছিলেন ভোটার তালিকার SIR (Special Intensive Revision) নিয়ে! স্থানীয় মহলে এখন প্রশ্ন উঠেছে — ? এটা কি কেবল কাকতালীয় মৃত্যু, না কি প্রশাসনিক চাপে এক সাধারণ মানুষের মানসিক ভরাডুবি?
৩১ বছরের বিমলান্ত সেনত্রা, বর্ধমান জেলার বাসিন্দা, কেরলে শ্রমিকের কাজ করছিলেন। পরিবারের সদস্যদের দাবি — মৃত্যুর আগের দিনই তিনি ফোনে বলেছিলেন, “আমার নাম যদি ভোটার তালিকা থেকে কেটে দেয়? আমি কীভাবে প্রমাণ দেব?”
পরের দিনই তাঁর মৃত্যুর খবর আসে।
ছেলে বাপি সেনত্রা জানিয়েছেন —
“বাবা খুবই চিন্তায় ছিলেন। তিনি ভোটার লিস্টের জন্য বাড়ি ফিরতে চেয়েছিলেন, কিন্তু হঠাৎই সব শেষ।”
SIR আতঙ্কে রাজ্যজুড়ে চাপা ক্ষোভ
রাজ্যে চলছে ভোটার তালিকা সংশোধন অভিযান — SIR (Special Intensive Revision)। কিন্তু সাধারণ মানুষ জানেন না কী কাগজ চাই, কাকে দেখাতে হবে, কীভাবে নাম ঠিক রাখতে হবে। এই অনিশ্চয়তা ও বিভ্রান্তির মধ্যেই দেখা দিচ্ছে মানসিক চাপ।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন —
“প্রশাসনের বাড়তি নজরদারি, লোকের উপর চাপ, আর ভোটার তালিকা থেকে নাম কেটে যাওয়ার ভয় — এই সবই মানুষকে আতঙ্কিত করছে।”
গত কয়েকদিনে নাকি আরও কয়েকটি আত্মহত্যা বা আত্মহত্যার চেষ্টা ঘটেছে SIR-নিয়ে আতঙ্কের জেরে।
![]()
আরও খবররাজনৈতিক মহলের প্রতিক্রিয়া
বিরোধীরা বলছে —
“এটা শুধুই ভোটার লিস্ট নয়, এটা মানুষের অস্তিত্বের প্রশ্ন! প্রশাসনের এই চাপ নৃশংস।”
অন্যদিকে শাসক শিবিরের দাবি —
“SIR নিয়মিত প্রক্রিয়া, আতঙ্কের কোনো কারণ নেই। বিরোধীরা রাজনীতি করছে।”
কিন্তু প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে — যদি কোনো প্রক্রিয়া মানুষকে ভয় পাইয়ে দেয়, তবে সেটি কতটা ন্যায়সঙ্গত?
একটি মৃত্যুর ছায়া এখন রাজ্যজুড়ে বিতর্কে!
বিমলান্তের দেহ ফিরছে বর্ধমানে। তাঁর মৃত্যু এখন শুধু এক পরিবারের শোক নয়, বরং প্রশাসনিক ব্যবস্থার এক ভয়াবহ বাস্তবতার প্রতীক হয়ে উঠছে।
ভোটার তালিকার একটা “সংশোধন” কত মানুষের রাতের ঘুম কেড়ে নিতে পারে, সেই প্রশ্নই এখন রাজ্য জুড়ে ঘুরছে।