Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

রাহানের অবসরে নেতৃত্ব-সঙ্কটে কেকেআর! ১০ বছরে ছয় অধিনায়ক, শাহরুখের দলের নতুন নেতা কে?

গৌতম গম্ভীরের বিদায়ের পর গত ন’বছরে পাঁচ জন অধিনায়ক বদলেছে কেকেআর। অজিঙ্ক রাহানের অবসরের পর ফের নতুন নেতার খোঁজে শাহরুখ খানের দল। ফলে ১০ বছরের মধ্যে ষষ্ঠ অধিনায়ক পেতে চলেছে কলকাতা নাইট রাইডার্স।

রাহানের অবসরে নেতৃত্ব-সঙ্কটে কেকেআর! ১০ বছরে ষষ্ঠ অধিনায়ক বাছতে হবে শাহরুখের দলকে

সব ধরনের ক্রিকেট থেকে অবসর নেওয়ার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছেন অজিঙ্ক রাহানে। ভারতীয় ক্রিকেটের অভিজ্ঞ ব্যাটারের এই সিদ্ধান্ত শুধু তাঁর দীর্ঘ ক্রিকেটজীবনের সমাপ্তিই নয়, বড় সমস্যার সামনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে কলকাতা নাইট রাইডার্সকেও। গত দুই মরসুম ধরে কেকেআরের নেতৃত্বের দায়িত্ব সামলানো রাহানে সরে যাওয়ায় আবার নতুন অধিনায়ক খুঁজতে হবে শাহরুখ খানের ফ্র্যাঞ্চাইজিকে।

কেকেআরের প্রধান নির্বাহী বেঙ্কি মাইসোর এবং দলের অন্যান্য কর্তাদের সামনে এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন—পরবর্তী মরসুমে দলের নেতৃত্ব কার হাতে তুলে দেওয়া হবে? অভিজ্ঞ কোনও ভারতীয় ক্রিকেটারকে দায়িত্ব দেওয়া হবে, না কি দলের কোনও তরুণ সদস্যকে ভবিষ্যতের নেতা হিসাবে তৈরি করা হবে? বিদেশি ক্রিকেটারকে অধিনায়ক করার ঝুঁকি কি নেবে কলকাতা? নাকি নিলামে এমন কোনও ক্রিকেটারকে দলে নেওয়া হবে, যিনি ব্যাটিং বা বোলিংয়ের পাশাপাশি নেতৃত্বের দায়িত্বও সামলাতে পারবেন?

রাহানের অবসরের পর এই প্রশ্নগুলি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কারণ গত কয়েক বছরে কলকাতা নাইট রাইডার্সের অধিনায়ক নির্বাচন নিয়ে বারবার আলোচনা এবং বিতর্ক তৈরি হয়েছে। কখনও সফল অধিনায়ককে ধরে রাখতে না পারা, কখনও মাঝপথে নেতৃত্ব পরিবর্তন, আবার কখনও অভিজ্ঞতার অভাবে নতুন মুখের উপর ভরসা—কেকেআরের নেতৃত্বে স্থায়িত্ব খুব একটা দেখা যায়নি।

গৌতম গম্ভীরের বিদায়ের পর গত ন’বছরে পাঁচ জন ক্রিকেটার কেকেআরের অধিনায়ক হয়েছেন। এ বার নতুন অধিনায়ক নিয়োগ হলে ১০ বছরের মধ্যে ষষ্ঠ নেতা পাবে কলকাতা নাইট রাইডার্স। আইপিএলের মতো প্রতিযোগিতায় একটি দলের সাফল্যের ক্ষেত্রে অধিনায়কের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলে শুধু একজন নামী ক্রিকেটারকে দায়িত্ব দিলেই সমস্যার সমাধান হবে না। এমন একজনকে বেছে নিতে হবে, যিনি দলের ক্রিকেটীয় পরিকল্পনা, ড্রেসিংরুমের পরিবেশ এবং চাপের মুহূর্তে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতার মধ্যে সঠিক ভারসাম্য বজায় রাখতে পারবেন।

রাহানের অবসরে কেন বিপাকে কেকেআর?

অজিঙ্ক রাহানে ভারতীয় ক্রিকেটে দীর্ঘদিন ধরে একজন শান্ত, দায়িত্বশীল এবং অভিজ্ঞ ক্রিকেটার হিসাবে পরিচিত। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট, ঘরোয়া ক্রিকেট এবং আইপিএল—সব পর্যায়েই তাঁর দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ছিল। অধিনায়ক হিসাবে আগেও দায়িত্ব সামলেছেন তিনি। তাই কেকেআর যখন নেতৃত্ব দেওয়ার মতো একজন অভিজ্ঞ ভারতীয় ক্রিকেটারের সন্ধান করছিল, তখন রাহানেকে দলে নেওয়া হয়েছিল মূলত অধিনায়কত্বের কথা মাথায় রেখেই।

শ্রেয়স আয়ার দল ছেড়ে পঞ্জাব কিংসে চলে যাওয়ার পর কলকাতার স্কোয়াডে এমন কোনও ভারতীয় ক্রিকেটার ছিলেন না, যাঁর দীর্ঘমেয়াদি অধিনায়কত্বের অভিজ্ঞতা রয়েছে। দলের বিদেশি ক্রিকেটারদের মধ্যে নেতৃত্ব দেওয়ার মতো নাম থাকলেও আইপিএলে বিদেশি অধিনায়ক নির্বাচন সব সময় সহজ সিদ্ধান্ত নয়। কারণ প্রথম একাদশে সর্বোচ্চ চারজন বিদেশি ক্রিকেটার খেলানোর নিয়ম রয়েছে। ফলে বিদেশি অধিনায়কের ফর্ম খারাপ হলেও তাঁকে বাদ দেওয়া কঠিন হয়ে যেতে পারে।

এই পরিস্থিতিতে রাহানে ছিলেন তুলনামূলক নিরাপদ পছন্দ। তিনি ভারতীয় ক্রিকেটার, অভিজ্ঞ ব্যাটার এবং নেতৃত্বের চাপ সামলানোর অভ্যাস রয়েছে। তাঁর উপস্থিতি দলের তরুণ ক্রিকেটারদের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ ছিল। গত দুই মরসুমে মাঠে তাঁর কিছু সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও কেকেআর কর্তৃপক্ষ তাঁর অভিজ্ঞতা এবং ব্যাটিংয়ের উপর ভরসা রেখেছিল।

এখন রাহানের অবসরের ফলে শুধু একজন অধিনায়ক নয়, একজন অভিজ্ঞ ভারতীয় ব্যাটারকেও হারাল কেকেআর। নতুন অধিনায়ক নির্বাচনের পাশাপাশি তাঁর ব্যাটিংয়ের জায়গাতেও উপযুক্ত ক্রিকেটার খুঁজতে হবে। ফলে কেকেআরের সমস্যা দ্বিগুণ হয়েছে।

অধিনায়ক হিসাবে রাহানের সময় কেমন ছিল?

অজিঙ্ক রাহানের নেতৃত্বে কেকেআরের পারফরম্যান্স প্রত্যাশা অনুযায়ী হয়নি। ২০২৪ সালে আইপিএল চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর কলকাতার সমর্থকেরা আশা করেছিলেন, দল আবারও ধারাবাহিকভাবে প্লে-অফে জায়গা করে নেবে। কিন্তু রাহানের নেতৃত্বে দল সেই সাফল্যের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারেনি।

কেকেআর প্লে-অফে উঠতে ব্যর্থ হওয়ায় অধিনায়ক এবং টিম ম্যানেজমেন্টের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। বোলার পরিবর্তন, ব্যাটিং অর্ডার, নির্দিষ্ট ক্রিকেটারদের ব্যবহার এবং ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে নেওয়া সিদ্ধান্ত নিয়ে সমালোচনা হয়েছিল। কখনও মনে হয়েছে, কোনও বোলারকে প্রয়োজনের তুলনায় দেরিতে আক্রমণে আনা হয়েছে। কখনও আবার ব্যাটিং অর্ডারে পরিবর্তনের কারণ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

তবে শুধু অধিনায়ককে ব্যর্থতার জন্য দায়ী করা ঠিক হবে না। আইপিএলে একটি দলের সাফল্য নির্ভর করে ক্রিকেটারদের ফর্ম, চোট, দল নির্বাচন, কোচিং স্টাফের পরিকল্পনা এবং নিলামে তৈরি করা স্কোয়াডের ভারসাম্যের উপর। অধিনায়ক মাঠে সিদ্ধান্ত নিলেও সেই সিদ্ধান্তের পিছনে টিম ম্যানেজমেন্টের পরিকল্পনাও থাকে।

রাহানের ব্যাটিং অবশ্য মোটের উপর সন্তোষজনক ছিল। অভিজ্ঞ ব্যাটার হিসাবে তিনি দলের ইনিংসকে স্থিরতা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। পরিস্থিতি অনুযায়ী ব্যাটিং করা, কঠিন সময়ে উইকেট ধরে রাখা এবং তরুণ ক্রিকেটারদের সঙ্গে জুটি গড়ার ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ ছিল।

তাঁর ব্যাটিং হয়তো সব ম্যাচে বিস্ফোরক ছিল না, কিন্তু দলের প্রয়োজন অনুযায়ী দায়িত্ব নিয়ে খেলার চেষ্টা করেছেন। অধিনায়ক হিসাবে তাঁর বিভিন্ন কৌশল নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও ক্রিকেটার হিসাবে তাঁর পেশাদারিত্ব বা দায়বদ্ধতা নিয়ে বড় অভিযোগ ছিল না।

শ্রেয়স আয়ারকে ছেড়ে দেওয়া কি বড় ভুল ছিল?

কেকেআরের বর্তমান নেতৃত্ব-সঙ্কটের আলোচনা শুরু হলেই শ্রেয়স আয়ারের নাম সামনে আসছে। ২০২৪ সালে কলকাতা নাইট রাইডার্সকে আইপিএল চ্যাম্পিয়ন করেছিলেন শ্রেয়স। দীর্ঘ ১০ বছর পর তাঁর নেতৃত্বে ট্রফি জিতেছিল কেকেআর। মাঠে তাঁর শান্ত নেতৃত্ব, বোলারদের ব্যবহার এবং চাপের মুহূর্তে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা প্রশংসিত হয়েছিল।

শুধু অধিনায়ক হিসাবেই নয়, ভারতীয় ব্যাটার হিসাবেও তিনি দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন। মিডল অর্ডারে ব্যাটিং করার পাশাপাশি দলের নেতৃত্বের স্থায়িত্বও দিতে পারতেন শ্রেয়স। কিন্তু চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পরও তাঁকে ধরে রাখতে যথেষ্ট উদ্যোগ দেখায়নি কেকেআর কর্তৃপক্ষ—এমন অভিযোগ উঠেছে।

অবশ্য কোনও ক্রিকেটারকে ধরে রাখা বা ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তের পিছনে একাধিক বিষয় থাকে। পারিশ্রমিক, নিলামের পরিকল্পনা, ক্রিকেটারের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত, ভবিষ্যতের দল গঠন এবং রিটেনশনের নিয়ম—সব কিছু বিবেচনা করতে হয়। তাই পুরো ঘটনা না জেনে শুধু কেকেআর কর্তৃপক্ষকেই দায়ী করা কঠিন।

তার পরও বাস্তব হল, শ্রেয়স চলে যাওয়ার পর কেকেআরকে আবার অধিনায়ক খুঁজতে হয়েছে। অভিজ্ঞ ভারতীয় নেতা না থাকায় নিলাম থেকে রাহানেকে কিনে নেতৃত্বের দায়িত্ব দেওয়া হয়। এখন রাহানের অবসরের পর আরও একবার একই সমস্যার সামনে দাঁড়িয়েছে কলকাতা।

শ্রেয়স যদি কেকেআরে থাকতেন, তা হলে হয়তো আগামী কয়েক বছর অধিনায়ক নিয়ে নতুন করে ভাবতে হত না। তিনি বয়সের দিক থেকেও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হতে পারতেন। তাঁর নেতৃত্বে দল চ্যাম্পিয়ন হওয়ায় ড্রেসিংরুমেও তাঁর গ্রহণযোগ্যতা তৈরি হয়েছিল।

news image
আরও খবর

ফলে কেকেআর কর্তৃপক্ষের শ্রেয়সকে ধরে রাখতে না পারার সিদ্ধান্ত এখন নতুন করে আলোচনায় আসছে। অনেক সমর্থকের মতে, একজন সফল ভারতীয় অধিনায়ককে ছেড়ে দেওয়া ছিল বড় ঝুঁকি। সেই সিদ্ধান্তের ফলেই দলকে বারবার নতুন নেতার সন্ধান করতে হচ্ছে।

গৌতম গম্ভীরের পর স্থায়ী নেতা পায়নি কেকেআর

কলকাতা নাইট রাইডার্সের ইতিহাসে গৌতম গম্ভীরের নাম সবচেয়ে সফল অধিনায়কদের তালিকায় থাকবে। তাঁর নেতৃত্বে কেকেআর শুধু ট্রফি জেতেনি, একটি শক্তিশালী দলীয় সংস্কৃতিও তৈরি হয়েছিল। গম্ভীরের সময় কলকাতা মাঠে আগ্রাসী, আত্মবিশ্বাসী এবং পরিকল্পনাবদ্ধ ক্রিকেট খেলত।

গম্ভীর শুধু মাঠে সিদ্ধান্ত নিতেন না, দল গঠনের ক্ষেত্রেও তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। নির্দিষ্ট ক্রিকেটারদের উপর দীর্ঘ সময় ভরসা রাখা, দলের প্রত্যেক সদস্যকে দায়িত্ব দেওয়া এবং প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে স্পষ্ট পরিকল্পনা তৈরি করার জন্য তিনি পরিচিত ছিলেন।

তিনি চলে যাওয়ার পর কেকেআর একাধিক অধিনায়কের উপর ভরসা করেছে। কিন্তু কেউ দীর্ঘ সময় ধরে গম্ভীরের মতো স্থায়ী নেতৃত্ব দিতে পারেননি। কখনও অধিনায়কের ফর্ম সমস্যা তৈরি করেছে, কখনও দলের পারফরম্যান্স প্রত্যাশা পূরণ করেনি, আবার কখনও ফ্র্যাঞ্চাইজির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় পরিবর্তন এসেছে।

গত ন’বছরে পাঁচ জন অধিনায়ক হওয়ার ঘটনা থেকেই বোঝা যায়, কেকেআর নেতৃত্বে স্থায়িত্ব তৈরি করতে পারেনি। এ বার নতুন অধিনায়ক দায়িত্ব নিলে ১০ বছরের মধ্যে ষষ্ঠ নেতা পাবে কলকাতা।

বারবার অধিনায়ক পরিবর্তনের ফলে দলের ক্রিকেটীয় দর্শনেও পরিবর্তন আসে। প্রত্যেক অধিনায়কের নিজস্ব পরিকল্পনা, পছন্দের ক্রিকেটার এবং ম্যাচ পরিচালনার ধরন থাকে। নতুন অধিনায়ক এলে অনেক সময় নতুন করে ব্যাটিং অর্ডার, বোলিং পরিকল্পনা এবং দলের ভূমিকাগুলি ঠিক করতে হয়।

আইপিএলের মতো ছোট প্রতিযোগিতায় এই পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার জন্য খুব বেশি সময় পাওয়া যায় না। প্রথম কয়েকটি ম্যাচে খারাপ ফল হলে প্লে-অফের পথ কঠিন হয়ে যায়। ফলে নেতৃত্বের স্থায়িত্ব না থাকলে দলের পারফরম্যান্সেও তার প্রভাব পড়তে পারে।

নতুন অধিনায়ক নির্বাচনে কী কী বিষয় দেখতে হবে?

কেকেআর কর্তৃপক্ষকে এবার অত্যন্ত সতর্কভাবে নতুন অধিনায়ক নির্বাচন করতে হবে। শুধু নাম বা জনপ্রিয়তা দেখে সিদ্ধান্ত নিলে চলবে না। ভবিষ্যতের পরিকল্পনা মাথায় রেখে এমন একজন ক্রিকেটারকে বেছে নিতে হবে, যিনি অন্তত কয়েকটি মরসুম নেতৃত্ব দিতে পারবেন।

প্রথমত, নতুন অধিনায়কের প্রথম একাদশে জায়গা নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন। এমন কোনও ক্রিকেটারকে দায়িত্ব দেওয়া উচিত নয়, যাঁর নিজের ফর্ম বা দলে জায়গা নিয়ে নিয়মিত প্রশ্ন উঠতে পারে। অধিনায়ক যদি বারবার ব্যর্থ হন, তা হলে তাঁকে বাদ দেওয়া কঠিন হয়ে যায় এবং দলের ভারসাম্য নষ্ট হয়।

দ্বিতীয়ত, তাঁকে চাপের মধ্যে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে জানতে হবে। আইপিএলের ম্যাচে পরিস্থিতি খুব দ্রুত বদলে যায়। একটি ওভার, একটি ক্যাচ বা একটি ব্যাটিং সিদ্ধান্ত পুরো ম্যাচের ফল পাল্টে দিতে পারে। তাই অধিনায়ককে বোলারদের সঠিকভাবে ব্যবহার করা এবং মাঠের পরিস্থিতি বুঝে পরিকল্পনা পরিবর্তন করার ক্ষমতা রাখতে হবে।

তৃতীয়ত, ড্রেসিংরুমে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা থাকা জরুরি। আইপিএলের দলে বিভিন্ন দেশ এবং বিভিন্ন বয়সের ক্রিকেটার থাকেন। অধিনায়ককে সিনিয়র, তরুণ, ভারতীয় এবং বিদেশি—সব ধরনের ক্রিকেটারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে হয়। শুধু কঠোর নেতৃত্ব নয়, প্রয়োজন অনুযায়ী ক্রিকেটারদের আত্মবিশ্বাস দেওয়াও তাঁর দায়িত্ব।

চতুর্থত, নতুন অধিনায়ককে টিম ম্যানেজমেন্ট এবং কোচিং স্টাফের সঙ্গে একই পরিকল্পনায় কাজ করতে হবে। অধিনায়ক এবং কোচের মধ্যে মতবিরোধ থাকলে তার প্রভাব মাঠে পড়ে। দল নির্বাচনের সময়ও অধিনায়কের মতামত গুরুত্বপূর্ণ।

সবচেয়ে বড় বিষয় হল, কেকেআর কি স্বল্পমেয়াদি নাকি দীর্ঘমেয়াদি অধিনায়ক খুঁজছে? এক বা দুই মরসুমের জন্য অভিজ্ঞ কোনও ক্রিকেটারকে দায়িত্ব দেওয়া তুলনামূলক সহজ। কিন্তু ভবিষ্যতের জন্য নেতা তৈরি করতে চাইলে তরুণ ক্রিকেটারের উপর বিনিয়োগ করতে হবে এবং তাঁকে প্রয়োজনীয় সময় দিতে হবে।

বর্তমান দল থেকেই নেতা, না কি নিলাম থেকে?

কেকেআরের সামনে দুটি প্রধান পথ রয়েছে। প্রথম পথ হল বর্তমান স্কোয়াডের কোনও ক্রিকেটারকে অধিনায়ক করা। দ্বিতীয় পথ হল নিলাম থেকে একজন প্রতিষ্ঠিত নেতাকে দলে নেওয়া।

বর্তমান স্কোয়াড থেকে অধিনায়ক বেছে নিলে তিনি দলের পরিবেশ, ক্রিকেটার এবং কোচিং স্টাফের সঙ্গে আগে থেকেই পরিচিত থাকবেন। নতুন করে মানিয়ে নেওয়ার প্রয়োজন হবে না। দলের শক্তি এবং দুর্বলতা সম্পর্কেও তাঁর স্পষ্ট ধারণা থাকবে।

তবে বর্তমান স্কোয়াডে নেতৃত্ব দেওয়ার মতো উপযুক্ত ভারতীয় ক্রিকেটার আছেন কি না, সেটিই বড় প্রশ্ন। কোনও তরুণ ক্রিকেটারের মধ্যে নেতৃত্বের সম্ভাবনা থাকলেও সরাসরি আইপিএল দলের অধিনায়ক করা বড় সিদ্ধান্ত। বিশেষ করে কেকেআরের মতো জনপ্রিয় ফ্র্যাঞ্চাইজিতে প্রত্যাশা এবং চাপ অনেক বেশি।

 

 

Preview image