Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

রাহুলের তাণ্ডব! শতরানে দিল্লির ওপেনার বোঝালেন, ফুরিয়ে যাননি, সঙ্গত কেকেআর থেকে ছাঁটাই রানার, পঞ্জাবের বিরুদ্ধে ২৫০ তুলল দিল্লি

কেএল রাহুলকে সেরা ফর্মে দেখা গেল শনিবার কোটলায়। পঞ্জাব কিংসের বোলিংয়ে ছিন্নভিন্ন করে শতরান করলেন দিল্লির ওপেনার। পাল্লা দিয়ে খেললেন নীতীশ রানাও। প্রথমে ব্যাট করে – তুলল দিল্লি।দল জিতুক বা হারুক, আইপিএলে কখনও থামে না কেএল রাহুলের ব্যাট। তবে এ বার কয়েকটি ম্যাচে বড় রান পাননি। সেই রাহুলকে সেরা ফর্মে দেখা গেল শনিবার কোটলায়। পঞ্জাব কিংসের বোলিং ছিন্নভিন্ন করে শতরান করলেন দিল্লির ওপেনার। বুঝিয়ে দিলেন, তিনি ফুরিয়ে যাননি। মরসুমে প্রথম বার এতটা খারাপ দেখাল পঞ্জাবের বোলিং। পাল্লা দিয়ে খেললেন নীতীশ রানাও। প্রথমে ব্যাট করে ২৬৪/২ তুলল দিল্লি। চলতি আইপিএলে এটাই সর্বোচ্চ রান।

গুজরাতের বিরুদ্ধে অল্পের জন্য শতরান (৯২) পাননি রাহুল। তার পর বেঙ্গালুরুর বিরুদ্ধে অর্ধশতরান করেছিলেন। নিজের পুরনো দল পঞ্জাবের বিরুদ্ধে আরও আগ্রাসী দেখা গেল তাঁকে। রাহুলের সামনে দাঁড়াতে পারেননি পঞ্জাবের কোনও বোলার। রাহুলের দু’টি ক্যাচ ফেলার খেসারত দিতে হয়েছে পঞ্জাবকে। রাহুল শেষপর্যন্ত অপরাজিত থাকলেন ৬৭ বলে ১৫২ রানে। মেরেছেন ১৬টি চার এবং ৯টি ছয়। আইপিএলের ইতিহাসে এটি ব্যক্তিগত রানের নিরিখে তৃতীয় সর্বোচ্চ।

দিল্লিতে ৪১ ডিগ্রি গরমের মধ্যে দুপুরবেলায় ম্যাচ দেওয়া হয়েছে। ক্যামেরায় দেখা গেল, বেশির ভাগ দর্শকই কান, মাথা ঢেকে রোদ থেকে বাঁচার চেষ্টা করছেন। দর্শকদের আরাম দিতে ব্যবস্থা করা হয়েছিল ‘স্প্রিঙ্কলার’-এর। তাতে যদি শারীরিক আরাম পাওয়া যায়, তা হলে চোখের আরাম উপহার দিল রাহুলের ব্যাটিং। পঞ্জাবের বোলারদের আগে এতটা অসহায় লাগেনি। অর্শদীপ সিংহের মতো বোলারও দিশা খুঁজে পেলেন না।

দিল্লির হয়ে ওপেন করতে নেমে আবার ব্যর্থ পাথুম নিসঙ্ক (১১)। কিন্তু রাহুলের সঙ্গে নীতীশ যোগ দিতে খেলার গতি বদলে যায়। দু’জনে মিলে দ্বিতীয় উইকেটে ২২০ রানের জুটি গড়েছেন। প্রথম ওভারে আট রান ওঠে। এর পর প্রতি ওভারে নিয়ম করে ১০-এর বেশি রান উঠতে থাকে। এই জুটি সবচেয়ে বেশি নির্দয় ছিল বিজয়কুমার বিশাখের উপরে। তাঁর প্রথম ওভারে দু’টি চার এবং একটি ছয় মেরে ১৬ রান নেন এই জুটি।

বেশি আগ্রাসী ছিলেন রাহুলই। তিনি প্রায় ২০০ স্ট্রাইক রেটে ব্যাট করছিলেন। একটি ওভারে রাহুলের সমান রান হয়ে যায় নীতীশের। জ়েভিয়ার বার্টলেটের সেই ওভারে দু’টি ছয় এবং চারটি চার মারেন নীতীশ। ওঠে ২৮ রান। চাপের মুখে রান দিয়ে ফেলেন অর্শদীপও। তাঁর তৃতীয় ওভারে আসে ২০ রান। ১৫তম ওভারে মার্কো জানসেনকে চার মেরে শতরান পূরণ করেন রাহুল। আইপিএলে এটি তাঁর ষষ্ঠ শতরান। ১৬তম ওভারে বিশাখ দেন ২৪ রান।

আইপিএলে দ্রুততম শতরান করেছেন রাহুল। এ দিন ৪৭ বলে শতরান করেন। এর আগে মুম্বইয়ের বিরুদ্ধে ৫৬ বলে শতরানটিই দ্রুততম ছিল। পাশাপাশি, দিল্লির ব্যাটারদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি রানও হল তাঁর। আগের নজির ছিল ঋষভ পন্থের ১২৮।

নীতীশের সামনেও সুযোগ ছিল শতরান করার। তবে ১৯তম ওভারে বার্টলেটের বলে তুলে মারতে গিয়ে আউট হন তিনি। ১১টি চার এবং ৪টি ছয়ের সাহায্যে ৪৪ বলে ৯১ রান করেছেন তিনি।

আইপিএলের মঞ্চে এমন দিন বারবার আসে না—যেদিন একজন ব্যাটারের পারফরম্যান্স শুধু ম্যাচ জেতায় না, বরং ইতিহাসের পাতায় নিজের নাম গেঁথে দেয়। সেই রকমই এক স্মরণীয় দিনে বিস্ফোরক ব্যাটিং করে দ্রুততম শতরানের নজির গড়লেন KL Rahul। তাঁর ব্যাট থেকে ঝরে পড়া রান যেন শুধু সংখ্যার খেলা নয়, ছিল নিখুঁত টাইমিং, বুদ্ধিমত্তা, ধৈর্য এবং আক্রমণাত্মক মনোভাবের এক অনন্য সংমিশ্রণ। Indian Premier League-এর ইতিহাসে বহু দুর্দান্ত ইনিংস দেখা গেছে, কিন্তু রাহুলের এই ইনিংস নিঃসন্দেহে সেরাদের তালিকায় জায়গা করে নেবে।

রাহুলের শতরান: রেকর্ড ভাঙার গল্প

এই ম্যাচে রাহুল মাত্র ৪৭ বলে শতরান পূর্ণ করেন, যা আইপিএলে তাঁর দ্রুততম শতরান। এর আগে মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের বিরুদ্ধে ৫৬ বলে করা শতরানই ছিল তাঁর ব্যক্তিগত দ্রুততম রেকর্ড। সেই রেকর্ডকেও ভেঙে নতুন উচ্চতায় পৌঁছলেন তিনি। তাঁর ইনিংসের বিশেষত্ব ছিল ধারাবাহিকতা—প্রথম বল থেকেই তিনি যে ছন্দে খেলতে শুরু করেছিলেন, সেটি শেষ পর্যন্ত বজায় রেখেছিলেন।

রাহুলের ব্যাটিংয়ে ছিল নিখুঁত ব্যালান্স—একদিকে ক্লাসিক কভার ড্রাইভ, অন্যদিকে নির্ভীক পুল শট। বোলারদের ওপর চাপ তৈরি করতে তিনি একের পর এক বাউন্ডারি মারতে থাকেন। পাওয়ারপ্লে-র সুযোগ কাজে লাগিয়ে তিনি দ্রুত রান তোলেন, আবার মিডল ওভারে স্ট্রাইক রোটেশন করেও স্কোরবোর্ড সচল রাখেন। ডেথ ওভারে এসে তাঁর ব্যাট যেন আগুন হয়ে ওঠে।

এই ইনিংস শুধু দ্রুততম শতরান নয়, দিল্লি দলের ব্যাটারদের মধ্যে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ডও গড়ে দেয়। এর আগে এই নজির ছিল Rishabh Pant-এর, যিনি ১২৮ রান করেছিলেন। রাহুল সেই রেকর্ড ভেঙে নতুন ইতিহাস রচনা করেন।

টেকনিক ও মানসিকতার নিখুঁত মিশেল

রাহুলের ব্যাটিং বিশ্লেষণ করলে বোঝা যায়, তিনি শুধু পাওয়ার হিটার নন, বরং একজন সম্পূর্ণ ব্যাটার। তাঁর ফুটওয়ার্ক অত্যন্ত মসৃণ, যা তাঁকে দ্রুত বলের লাইনে যেতে সাহায্য করে। শর্ট বলের বিরুদ্ধে তাঁর পুল এবং হুক শট ছিল অসাধারণ, আবার ফুল লেংথ বলকে তিনি অনায়াসে বাউন্ডারির বাইরে পাঠিয়েছেন।

এছাড়া, ম্যাচের পরিস্থিতি বোঝার ক্ষমতাও ছিল তাঁর বড় শক্তি। কখন আক্রমণ করতে হবে, কখন শান্ত থাকতে হবে—এই ভারসাম্য বজায় রাখাই তাঁকে অন্যদের থেকে আলাদা করে। তাঁর ইনিংসে একটুও তাড়াহুড়োর ছাপ ছিল না, বরং প্রতিটি শট ছিল পরিকল্পিত।

নীতীশের দুর্ভাগ্যজনক বিদায়

অন্যদিকে, এই ম্যাচে আরেকটি উল্লেখযোগ্য পারফরম্যান্স ছিল নীতীশের। তিনিও শতরানের দোরগোড়ায় পৌঁছে গিয়েছিলেন। মাত্র ৪৪ বলে ৯১ রান—সংখ্যাটা নিজেই তাঁর ইনিংসের গুরুত্ব বোঝায়। ১১টি চার এবং ৪টি ছয় মেরে তিনি প্রতিপক্ষ বোলারদের চাপে ফেলেছিলেন।

নীতীশের ব্যাটিং ছিল আগ্রাসী, কিন্তু নিয়ন্ত্রিত। তিনি শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মনোভাব নিয়ে খেলেন এবং দ্রুত রান তুলতে থাকেন। তাঁর শট সিলেকশন ছিল নিখুঁত—খারাপ বলগুলোকে বাউন্ডারিতে পাঠানো, আর ভালো বলগুলোকে সম্মান করা।

তবে দুর্ভাগ্যজনকভাবে, ১৯তম ওভারে বার্টলেটের বলে বড় শট খেলতে গিয়ে তিনি আউট হন। সেই মুহূর্তটি ম্যাচের অন্যতম টার্নিং পয়েন্ট হয়ে দাঁড়ায়। যদি তিনি আর কয়েক বল টিকে থাকতে পারতেন, তাহলে হয়তো তাঁর নামের পাশে শতরান যোগ হতো।

news image
আরও খবর

দলগত পারফরম্যান্সের গুরুত্ব

ক্রিকেট কখনও একার খেলা নয়। রাহুল এবং নীতীশের এই দুর্দান্ত ইনিংস দলকে শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে যায়। তাঁদের পার্টনারশিপই ম্যাচের ভিত গড়ে দেয়। একদিকে রাহুল যখন ইনিংসকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন, অন্যদিকে নীতীশ তাঁকে সমর্থন করে যাচ্ছিলেন।

এই ধরনের পার্টনারশিপই বড় ম্যাচ জেতার চাবিকাঠি। দুই ব্যাটার যদি একসঙ্গে ভালো খেলেন, তাহলে প্রতিপক্ষের পক্ষে ম্যাচে ফেরা কঠিন হয়ে পড়ে। এই ম্যাচেও সেটাই হয়েছে।

বোলারদের চ্যালেঞ্জ

রাহুল এবং নীতীশের এই আক্রমণাত্মক ব্যাটিং বোলারদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। লাইন-লেন্থ ঠিক রাখা, ভ্যারিয়েশন ব্যবহার করা—সবকিছুই চেষ্টা করেও বোলাররা তাঁদের আটকাতে পারেননি। বিশেষ করে ডেথ ওভারে বোলারদের ওপর চাপ অনেক বেড়ে যায়।

এই ম্যাচ প্রমাণ করে, টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ব্যাটাররা যদি সেট হয়ে যান, তাহলে তাঁদের থামানো কতটা কঠিন।

আইপিএলের আকর্ষণ

এই ধরনের ম্যাচই আইপিএলকে বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় টি-টোয়েন্টি লিগ করে তুলেছে। এখানে প্রতিটি ম্যাচেই নতুন কিছু দেখার সুযোগ থাকে—নতুন রেকর্ড, নতুন তারকা, নতুন গল্প।

রাহুলের এই ইনিংসও সেই ধারাবাহিকতার অংশ। এটি শুধু একটি শতরান নয়, বরং একটি বার্তা—যে তিনি এখনও বিশ্বের সেরা টি-টোয়েন্টি ব্যাটারদের মধ্যে অন্যতম।

ভবিষ্যতের ইঙ্গিত

এই পারফরম্যান্স রাহুলের আত্মবিশ্বাস অনেক বাড়িয়ে দেবে। ভবিষ্যতের ম্যাচগুলোতে তিনি আরও ভালো খেলবেন বলে আশা করা যায়। একইভাবে, নীতীশের এই ইনিংসও তাঁকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।

দলের জন্যও এটি একটি ইতিবাচক দিক। দুই ব্যাটার যদি এইভাবে ধারাবাহিকভাবে ভালো খেলেন, তাহলে দল অনেক ম্যাচ জিততে পারবে।

উপসংহার

সব মিলিয়ে, এই ম্যাচটি ছিল ব্যাটিংয়ের এক অসাধারণ প্রদর্শনী। KL Rahul-এর দ্রুততম শতরান এবং নীতীশের দুর্দান্ত ৯১ রান—এই দুই ইনিংস ম্যাচটিকে স্মরণীয় করে রেখেছে। ক্রিকেটপ্রেমীদের কাছে এটি দীর্ঘদিন মনে থাকার মতো একটি ম্যাচ হয়ে থাকবে।

এই ধরনের পারফরম্যান্সই ক্রিকেটকে এতটা আকর্ষণীয় করে তোলে—যেখানে প্রতিটি বলেই কিছু না কিছু ঘটতে পারে, আর প্রতিটি ম্যাচেই লেখা হতে পারে নতুন ইতিহাস।

এই ম্যাচের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল রাহুলের ইনিংসের গতি নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে অনেক সময় ব্যাটাররা শুরুতেই ঝড় তুলতে গিয়ে দ্রুত আউট হয়ে যান, কিন্তু KL Rahul সেই ভুলটি করেননি। তিনি প্রথমে পিচ এবং বোলারদের বুঝে নেন, তারপর ধীরে ধীরে নিজের আক্রমণ বাড়ান। এই ধরনের পরিপক্ব ব্যাটিংই তাঁকে আলাদা করে তোলে।

রাহুলের ইনিংসে একটি বিষয় বিশেষভাবে নজর কেড়েছে—তিনি মাঠের চারদিকে সমানভাবে শট খেলেছেন। অফ সাইড, লেগ সাইড, গ্রাউন্ড শট বা এয়ারিয়াল শট—সব ক্ষেত্রেই তিনি ছিলেন স্বচ্ছন্দ। এর ফলে বোলারদের পক্ষে ফিল্ড সেট করা কঠিন হয়ে পড়ে। যখনই বোলাররা কোনও একটি এলাকায় রান আটকানোর চেষ্টা করেছেন, রাহুল অন্য দিক দিয়ে রান বের করে নিয়েছেন।

নীতীশের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। তাঁর ব্যাটিংয়ে আত্মবিশ্বাস ছিল স্পষ্ট। বিশেষ করে স্পিনারদের বিরুদ্ধে তিনি যেভাবে এগিয়ে এসে বড় শট খেলেছেন, তা তাঁর সাহসিকতার প্রমাণ দেয়। যদিও তিনি শতরান করতে পারেননি, তবুও তাঁর ৯১ রানের ইনিংস দলকে শক্ত ভিত গড়ে দেয়।

এই ম্যাচ তরুণ ক্রিকেটারদের জন্য একটি বড় শিক্ষা হিসেবেও দেখা যেতে পারে। এখানে বোঝা যায়, শুধুমাত্র শক্তি নয়, বরং ধৈর্য, পরিকল্পনা এবং ম্যাচ পরিস্থিতি বোঝার ক্ষমতা কতটা গুরুত্বপূর্ণ। Indian Premier League-এর মতো বড় মঞ্চে সফল হতে গেলে এই গুণগুলো অপরিহার্য।

সবশেষে বলা যায়, এই ইনিংস শুধু রেকর্ড ভাঙার জন্য নয়, বরং ক্রিকেটের সৌন্দর্যকে নতুন করে তুলে ধরার জন্যও স্মরণীয় হয়ে থাকবে। রাহুল এবং নীতীশ—দুজনেই প্রমাণ করেছেন, সঠিক মানসিকতা এবং দক্ষতা থাকলে যেকোনও ম্যাচেই ইতিহাস তৈরি করা সম্ভব।

Preview image