Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

কালবৈশাখী আসছে! ৫০-৬০ কিমি বেগে ঝড়ের পূর্বাভাস দক্ষিণের ১২টি জেলায়, কবে থেকে স্বস্তির বৃষ্টি?

উত্তর-পূর্ব বাংলাদেশ এবং পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের উপর একটি ঘূর্ণাবর্ত রয়েছে। সমুদ্রতল থেকে তার উচ্চতা ০.৯ কিলোমিটার। একটি অক্ষরেখা গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গের উপর দিয়ে ওড়িশা পর্যন্ত বিস্তৃত।তীব্র গরমে হাঁসফাঁস দশা দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে। পশ্চিমাঞ্চলে তাপপ্রবাহ শুরু হয়ে গিয়েছে। তাপমাত্রা ছুঁয়ে ফেলেছে ৪০ ডিগ্রির গণ্ডি। তার মধ্যেই স্বস্তির বৃষ্টির পূর্বাভাস দিল আলিপুর আবহাওয়া দফতর। কালবৈশাখী ঝড়ও হতে পারে দক্ষিণবঙ্গ জুড়ে। তবে গরমের অস্বস্তি জারি থাকবে।

কালবৈশাখী আসছে! ৫০-৬০ কিমি বেগে ঝড়ের পূর্বাভাস দক্ষিণের ১২টি জেলায়, কবে থেকে স্বস্তির বৃষ্টি?
Weather Update

হাওয়া অফিস জানিয়েছে, উত্তর-পূর্ব বাংলাদেশ এবং পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের উপর একটি ঘূর্ণাবর্ত রয়েছে। সমুদ্রতল থেকে তার উচ্চতা ০.৯ কিলোমিটার। এ ছাড়া, এই ঘূর্ণাবর্ত থেকে একটি অক্ষরেখা গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গের উপর দিয়ে উত্তর ওড়িশা পর্যন্ত বিস্তৃত। এর ফলে পশ্চিম এবং উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে শুকনো বাতাস রাজ্যে প্রবেশ করছে। তাপপ্রবাহের সম্ভাবনা রয়েছে দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায়। তবে এর পাশাপাশি স্থানীয় বজ্রগর্ভ মেঘ থেকে ঝড়বৃষ্টি হতে পারে।বৃহস্পতিবার তাপপ্রবাহের পরিস্থিতি রয়েছে পশ্চিম বর্ধমানে। ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, বীরভূম, পশ্চিম মেদিনীপুরে গরমের অস্বস্তির সতর্কতা জারি করা হয়েছে। একই সতর্কতা রয়েছে শুক্রবারও। তবে তার পর থেকে বৃষ্টির সম্ভাবনা। শুক্রবার বিক্ষিপ্ত বৃষ্টিতে ভিজতে পারে ঝাড়গ্রাম, বীরভূম, মুর্শিদাবাদ, পশ্চিম মেদিনীপুর। ঝোড়ো হাওয়া থাকতে পারে ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে। দক্ষিণবঙ্গের অন্তত ১২টি জেলায় শনিবার থেকে কালবৈশাখীর পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

শনিবার: বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি এবং ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়ার সতর্কতা জারি করা হয়েছে বীরভূম, মুর্শিদাবাদ, নদিয়া, পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান, পুরুলিয়া, বাঁকুড়ায়। পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলিতে গরমের অস্বস্তিও থাকবে।

রবিবার: ঘণ্টায় ৫০ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝড় হতে পারে দুই বর্ধমান, বীরভূম, মুর্শিদাবাদ, নদিয়া এবং বাঁকুড়ায়। দক্ষিণবঙ্গের বাকি জেলায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি এবং ঝোড়ো হাওয়া থাকবে।

সোমবার: দুই বর্ধমান, পুরুলিয়া, ঝাড়গ্রাম, বীরভূম, পশ্চিম মেদিনীপুর, মুর্শিদাবাদ, নদিয়া, বাঁকুড়়া, উত্তর ২৪ পরগনায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে ঘণ্টায় ৫০ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে। দক্ষিণের বাকি জেলায় হাওয়ার বেগ থাকবে ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার।

মঙ্গলবার: হাওড়া, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, দুই মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, বাঁকুড়ায় ৫০ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝড়়ের সম্ভাবনা। বৃষ্টি হতে পারে বাকি জেলাতেও।

বুধবার: উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, নদিয়া, মুর্শিদাবাদ, পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান এবং বীরভূমে ঝড়বৃষ্টি হবে। ঝোড়ো হাওয়ার বেগ থাকবে ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার। বাকি জেলাগুলিতেও বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি হতে পারে।

কলকাতায় ঝড়বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে রবিবার থেকে। রবিবার এবং সোমবার শহরে ঝোড়ো হাওয়ার বেগ থাকবে ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার। বুধবার পর্যন্ত তা চলবে। বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি এবং বজ্রপাত হতে পারে শহরে। তার ফলে তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে। কিন্তু গরমের অস্বস্তি থাকবে।

উত্তরবঙ্গের ক্ষেত্রে ভারী বর্ষণের সতর্কতা রয়েছে শনিবার থেকে। ৭ থেকে ১১ সেন্টিমিটার বৃষ্টি হতে পারে দার্জিলিং, জলপাইগুড়িতে। সঙ্গে উত্তরের অন্যান্য জেলাতেও বৃষ্টি হবে। ঝোড়ো হাওয়ার বেগ থাকবে ঘণ্টায় ৫০ থেকে ৬০ কিলোমিটার। সোমবার পর্যন্ত ভারী বর্ষণ চলতে পারে উত্তরের একাধিক জেলায়।

পশ্চিমবঙ্গে ঝড়-বৃষ্টির পূর্বাভাস: আবহাওয়ার পরিবর্তন, সতর্কতা এবং সম্ভাব্য প্রভাব

পশ্চিমবঙ্গে আবারও আবহাওয়ার বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে আলিপুর আবহাওয়া দফতর। গ্রীষ্মের দাবদাহের মাঝেই স্বস্তির বার্তা নিয়ে আসছে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি, তবে তার সঙ্গে থাকছে ঝোড়ো হাওয়া এবং ঝড়ের আশঙ্কা। আগামী কয়েকদিন দক্ষিণবঙ্গ ও উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় আবহাওয়ার এই পরিবর্তন স্পষ্টভাবে অনুভূত হবে। কোথাও হালকা বৃষ্টি, কোথাও ভারী বর্ষণ, আবার কোথাও ঘণ্টায় ৫০-৬০ কিলোমিটার বেগে ঝড়—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি বেশ চঞ্চল হতে চলেছে।


শনিবার: ঝড়-বৃষ্টির সূচনা

শনিবার থেকেই দক্ষিণবঙ্গের বেশ কিছু জেলায় ঝড়-বৃষ্টির সূচনা হতে পারে। বীরভূম, মুর্শিদাবাদ, নদিয়া, পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান, পুরুলিয়া এবং বাঁকুড়ায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। সেই সঙ্গে ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে।

এই দিন পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলিতে গরমের অস্বস্তি বজায় থাকবে। অর্থাৎ, বৃষ্টি হলেও পুরোপুরি স্বস্তি মিলবে না। বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকার কারণে গরম এবং ঘাম—দুটোই থাকবে।


রবিবার: ঝড়ের তীব্রতা বাড়বে

রবিবার থেকে পরিস্থিতি আরও জোরালো হতে পারে। দুই বর্ধমান, বীরভূম, মুর্শিদাবাদ, নদিয়া এবং বাঁকুড়ায় ঘণ্টায় ৫০ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝড়ের সম্ভাবনা রয়েছে।

দক্ষিণবঙ্গের অন্যান্য জেলাতেও বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি এবং ঝোড়ো হাওয়া দেখা যাবে। এই দিন থেকে কলকাতাতেও আবহাওয়ার পরিবর্তন শুরু হবে।


সোমবার: বিস্তৃত এলাকায় প্রভাব

সোমবার ঝড়-বৃষ্টির প্রভাব আরও ছড়িয়ে পড়বে। দুই বর্ধমান, পুরুলিয়া, ঝাড়গ্রাম, বীরভূম, পশ্চিম মেদিনীপুর, মুর্শিদাবাদ, নদিয়া, বাঁকুড়া এবং উত্তর ২৪ পরগনায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

হাওয়ার গতি থাকতে পারে ঘণ্টায় ৫০ থেকে ৬০ কিলোমিটার। দক্ষিণবঙ্গের অন্যান্য জেলাতেও হাওয়ার বেগ ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে। ফলে এই দিন ঝড়ের প্রভাব সবচেয়ে বেশি অনুভূত হতে পারে।


মঙ্গলবার: দক্ষিণবঙ্গের উপকূলীয় এলাকায় সতর্কতা

মঙ্গলবার হাওড়া, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, দুই মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম এবং বাঁকুড়ায় ঝড়ের সম্ভাবনা রয়েছে। এই সব এলাকায় ৫০ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে হাওয়া বইতে পারে।

news image
আরও খবর

অন্য জেলাগুলিতেও বৃষ্টি হতে পারে, যদিও তার তীব্রতা তুলনামূলকভাবে কম হতে পারে।


বুধবার: পরিস্থিতি কিছুটা স্থিতিশীল হলেও ঝড় অব্যাহত

বুধবার উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, নদিয়া, মুর্শিদাবাদ, পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান এবং বীরভূমে ঝড়-বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

এই দিন ঝোড়ো হাওয়ার বেগ কিছুটা কমে ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটারের মধ্যে থাকবে। তবে বাকি জেলাগুলিতেও বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি হতে পারে।


কলকাতার আবহাওয়া: কখন কী হবে?

কলকাতায় রবিবার থেকেই ঝড়-বৃষ্টির প্রভাব পড়তে শুরু করবে। রবিবার এবং সোমবার শহরে ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে।

বুধবার পর্যন্ত এই পরিস্থিতি চলতে পারে। বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি এবং বজ্রপাত শহরের আবহাওয়াকে কিছুটা ঠান্ডা করবে, তবে গরমের অস্বস্তি পুরোপুরি কাটবে না।


উত্তরবঙ্গ: ভারী বৃষ্টির সতর্কতা

উত্তরবঙ্গের পরিস্থিতি দক্ষিণবঙ্গের তুলনায় আরও গুরুতর হতে পারে। শনিবার থেকেই দার্জিলিং এবং জলপাইগুড়িতে ৭ থেকে ১১ সেন্টিমিটার পর্যন্ত ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

সঙ্গে উত্তরবঙ্গের অন্যান্য জেলাগুলিতেও বৃষ্টি হবে এবং ঘণ্টায় ৫০ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে।

এই ভারী বর্ষণ সোমবার পর্যন্ত চলতে পারে, ফলে পাহাড়ি এলাকায় ধস বা জল জমার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।


কেন এই আবহাওয়ার পরিবর্তন?

এই ধরনের ঝড়-বৃষ্টি সাধারণত কালবৈশাখী নামে পরিচিত। গরমের সময় বঙ্গোপসাগর থেকে আসা আর্দ্র হাওয়া এবং স্থলভাগের উত্তপ্ত বাতাসের সংঘর্ষে এই ঝড় তৈরি হয়।

এর ফলে হঠাৎ করে কালো মেঘ জমে, বজ্রপাত হয়, ঝোড়ো হাওয়া শুরু হয় এবং বৃষ্টি নামে। অনেক সময় এই ঝড় খুব অল্প সময়ের জন্য হলেও তীব্র ক্ষতি করতে পারে।


সম্ভাব্য প্রভাব

এই কয়েকদিনের ঝড়-বৃষ্টির ফলে বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রভাব পড়তে পারে:

১. কৃষিক্ষেত্রে প্রভাব

  • ফসলের ক্ষতি হতে পারে
  • বিশেষ করে আম, লিচু এবং ধানের চারা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে

২. পরিবহণে সমস্যা

  • ঝড়ের কারণে ট্রেন এবং বাস পরিষেবা ব্যাহত হতে পারে
  • রাস্তা জলে ভেসে যেতে পারে বা গাছ পড়ে বাধা সৃষ্টি করতে পারে

৩. বিদ্যুৎ পরিষেবা

  • বজ্রপাত এবং ঝোড়ো হাওয়ার কারণে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হতে পারে

৪. শহুরে সমস্যা

  • জল জমা
  • যানজট
  • ড্রেনেজ সমস্যা

সতর্কতা কী কী নেওয়া উচিত?

এই পরিস্থিতিতে কিছু সতর্কতা নেওয়া খুবই জরুরি:

  • বজ্রপাতের সময় খোলা জায়গায় না থাকা
  • গাছের নিচে আশ্রয় না নেওয়া
  • অপ্রয়োজনীয় বাইরে বের না হওয়া
  • বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি সাবধানে ব্যবহার করা
  • ছাতা বা রেইনকোট সঙ্গে রাখা

গরম থেকে কতটা স্বস্তি?

যদিও বৃষ্টি তাপমাত্রা কিছুটা কমাবে, তবে আর্দ্রতার কারণে গরমের অস্বস্তি পুরোপুরি যাবে না। বিশেষ করে কলকাতা ও আশপাশের এলাকায় ঘাম ও অস্বস্তি বজায় থাকবে।


উপসংহার

সব মিলিয়ে বলা যায়, পশ্চিমবঙ্গে আগামী কয়েকদিন আবহাওয়ার নাটকীয় পরিবর্তন হতে চলেছে। একদিকে ঝড়-বৃষ্টি গরম থেকে কিছুটা স্বস্তি দেবে, অন্যদিকে ঝোড়ো হাওয়া এবং বজ্রপাত মানুষের দৈনন্দিন জীবনে সমস্যা তৈরি করতে পারে।

দক্ষিণবঙ্গের পাশাপাশি উত্তরবঙ্গেও ভারী বৃষ্টির কারণে সতর্ক থাকা প্রয়োজন। বিশেষ করে যাঁরা ভ্রমণে যাচ্ছেন বা বাইরে কাজ করেন, তাঁদের আরও সাবধান হতে হবে।

প্রকৃতির এই পরিবর্তন আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে আবহাওয়া সবসময় অনিশ্চিত। তাই আগাম সতর্কতা এবং সচেতনতা থাকলে অনেক ক্ষতি এড়ানো সম্ভব।

Preview image