Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

টলিউডে পুরুষতন্ত্রের ছায়া ক্ষমতার লড়াইয়ে নারীরা এখনও কি পিছিয়ে মুখ খুললেন তিন অভিনেত্রী

সমাজে মেয়েদের যে অবস্থান  টলিউডেও তার প্রতিফলন দেখা যায় এমনটাই মনে করেন অনেক অভিনেত্রী  ইন্ডাস্ট্রির ভেতরে এখনও পারিশ্রমিক বৈষম্য সিদ্ধান্ত গ্রহণে নারীদের কম প্রতিনিধিত্ব  বয়সভিত্তিক পক্ষপাত এবং কাজের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন রয়ে গেছে  কোথায় কেন এবং কীভাবে এই বৈষম্য ঘটে  তা নিয়ে তিন অভিনেত্রী খোলামেলা অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিয়েছেন আনন্দবাজার ডট কম এর সঙ্গে।

সংসদ এবং দেশের বিভিন্ন বিধানসভায় মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত আসন কবে কার্যকর হবে, তা এখনও রাজনৈতিক আলোচনার বড় বিষয়। কিন্তু এর মাঝেই আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে আসে— যে সময়ে মহিলারা মহাকাশ গবেষণা থেকে পর্বতারোহণ, প্রশাসন থেকে কর্পোরেট নেতৃত্ব— সব ক্ষেত্রেই নিজেদের দক্ষতার পরিচয় দিচ্ছেন, সেই সময়েও রাজনীতিতে এবং কর্মক্ষেত্রে তাঁদের জন্য আলাদা সংরক্ষণ নিয়ে এত বিতর্ক কেন? এখনও কি পুরুষকেন্দ্রিক মানসিকতা নারীদের সমান ক্ষমতা দিতে ভয় পায়?

এই প্রশ্নের প্রেক্ষিতে উঠে আসে বাংলার অন্যতম বিনোদন জগৎ টলিউডের নাম। আকারে ছোট হলেও নানা বিতর্ক, ক্ষমতার সমীকরণ, কাজের সুযোগ বণ্টন, পারিশ্রমিক বৈষম্য এবং নারী-পুরুষের সমানাধিকার নিয়ে বহু প্রশ্ন ঘোরাফেরা করে এই ইন্ডাস্ট্রিকে ঘিরে। সমাজে মেয়েদের অবস্থান যেমন, টলিউডেও কি তারই প্রতিফলন? নাকি এখানে নারীরা এখনও পুরুষতান্ত্রিক ক্ষমতার কাঠামোর মধ্যেই কাজ করতে বাধ্য?

এই বিষয়ে মুখ খুলেছেন টলিউডের তিন পরিচিত অভিনেত্রী— অপরাজিতা আঢ্য, রূপাঞ্জনা মিত্র এবং ঊষসী চক্রবর্তী।

দীর্ঘ তিন দশকের অভিজ্ঞতা নিয়ে অপরাজিতা আঢ্য জানিয়েছেন, টেলিভিশনের স্বর্ণযুগে মহিলাদের জন্য আলাদা করে শক্তিশালী চরিত্র লেখা হত। এখনও বহু ক্ষেত্রে সেই ধারা রয়েছে বলেই তাঁর মত। তবে তিনি এ-ও স্বীকার করেন, বহুবার এমন হয়েছে যেখানে কোনও পুরুষ অভিনেতা বা ক্ষমতাবান ব্যক্তির কারণে তাঁকে কাজ থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। নির্মাতারা কথা বলেও পরে যোগাযোগ বন্ধ করে দিয়েছেন— এমন অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেন তিনি। তাঁর মতে, বৈষম্য শুধু মেয়েদের ক্ষেত্রেই নয়, ছেলেদের ক্ষেত্রেও ঘটে, তবে তার ধরন আলাদা।

রূপাঞ্জনা মিত্রের বক্তব্য আরও সরাসরি। তাঁর মতে, শুধু টলিউড নয়, গোটা সমাজই নারীদের ক্ষমতা দিতে ভয় পায়। তাই ইন্ডাস্ট্রিতেও সেই মানসিকতার প্রতিফলন দেখা যায়। নারী-পুরুষ সমানাধিকার নিয়ে এখনও অনেক দূর যাওয়ার বাকি আছে বলেই মনে করেন তিনি। তাঁর মতে, এই লড়াই অনেকটাই ব্যক্তিগত— নিজের জায়গা নিজেকেই তৈরি করে নিতে হয়।

অভিনেত্রী ঊষসী চক্রবর্তী মনে করেন, টলিউডকে আলাদা করে দোষারোপ করলে চলবে না, কারণ সমাজটাই এখনও যথেষ্ট পিতৃতান্ত্রিক। পরিবার, কর্পোরেট, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান— সর্বত্রই সেই মানসিকতা রয়েছে। ফলে ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিও তার বাইরে নয়। তবে ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতায় তিনি বলেন, সবসময় পুরুষদের আধিপত্য বা দমনমূলক আচরণের মুখোমুখি হননি। বরং টেলিভিশন মাধ্যমকে তিনি তুলনামূলক বেশি গণতান্ত্রিক বলেই মনে করেন।

ধারাবাহিক এবং বিনোদন মাধ্যমের ক্ষেত্রে এখনও একটি গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবতা সামনে আসে— নির্যাতিতা, সংগ্রামী বা অবহেলিত নারী চরিত্রের প্রতি দর্শকের আগ্রহ তুলনামূলক বেশি। বহু জনপ্রিয় সিরিয়ালে দেখা যায়, নারী চরিত্রকে পারিবারিক অত্যাচার, সম্পর্কের জটিলতা, সামাজিক অবমূল্যায়ন কিংবা মানসিক নিপীড়নের মধ্যে দিয়ে এগোতে হয়। এই ধরনের গল্প বহু সময় দর্শকের সহানুভূতি টানে এবং উচ্চ টিআরপি এনে দেয়। ফলে নির্মাতারাও বারবার সেই ফর্মুলায় ফিরতে চান। এর অর্থ, শুধু ইন্ডাস্ট্রির সিদ্ধান্ত নয়, দর্শকের রুচি এবং বৃহত্তর সামাজিক মানসিকতাও অনেক সময় এই ধারা বজায় রাখতে ভূমিকা রাখে। সমাজে নারীর সংগ্রামকে যেভাবে দেখা হয়, তারই প্রতিফলন পর্দার গল্পে উঠে আসে।

তবে ছবিটা একেবারে একপাক্ষিক নয়। একই সঙ্গে টেলিভিশন এবং বাংলা বিনোদন জগতে নারী-কেন্দ্রিক চরিত্রের সংখ্যাও যথেষ্ট বেশি। বহু ধারাবাহিকের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকেন একজন নারী, যাঁর জীবনসংগ্রাম, সিদ্ধান্ত, সম্পর্ক, সাফল্য বা প্রতিবাদকে ঘিরেই এগোয় গল্প। অর্থাৎ একদিকে নারীর ভুক্তভোগী চিত্র জনপ্রিয়, অন্যদিকে নারীকেই কেন্দ্র করে গল্প নির্মাণের প্রবণতাও স্পষ্ট। এই দ্বৈত বাস্তবতাই দেখায়, সমাজ এখনও পরিবর্তনের পথে রয়েছে— পুরনো মানসিকতা পুরোপুরি যায়নি, আবার নতুন দৃষ্টিভঙ্গিও জায়গা করে নিচ্ছে।

সব মিলিয়ে টলিউডে নারীদের অবস্থানকে একরৈখিকভাবে বিচার করা যায় না। একদিকে রয়েছেন সফল অভিনেত্রী, শক্তিশালী নারী চরিত্র, জনপ্রিয় মুখ এবং রাজনৈতিক ক্ষেত্রেও বাড়তে থাকা প্রতিনিধিত্ব। অন্যদিকে এখনও বহু ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত গ্রহণের স্তরে নারীদের উপস্থিতি কম, বড় বাজেটের প্রজেক্টে সুযোগের বৈষম্য নিয়ে প্রশ্ন ওঠে, কাজের নিশ্চয়তা অনিশ্চিত থাকে এবং ক্ষমতার কাঠামোতে পুরুষদের প্রভাব বেশি দেখা যায়।

টলিউডে নারীদের অবস্থান নিয়ে যে আলোচনা বারবার সামনে আসে, তার শিকড় আসলে আরও গভীরে প্রোথিত। এই ইন্ডাস্ট্রির বাস্তব ছবি আলাদা কোনও দ্বীপ নয়, বরং বৃহত্তর সমাজব্যবস্থারই প্রতিফলন। সমাজে নারীরা যে সুযোগ, মর্যাদা, নিরাপত্তা এবং নেতৃত্বের জায়গা পান, বিনোদন জগতেও অনেকাংশে তারই প্রতিচ্ছবি দেখা যায়। ফলে টলিউডে নারীদের ক্ষমতায়ন, বৈষম্য বা সাফল্য নিয়ে আলোচনা করতে গেলে শুধু সিনেমা বা ধারাবাহিকের জগৎকে আলাদা করে দেখলে পূর্ণ ছবি ধরা পড়ে না। এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে সামাজিক মানসিকতা, পারিবারিক শিক্ষা, অর্থনৈতিক কাঠামো, দর্শকের পছন্দ এবং দীর্ঘদিনের পুরুষতান্ত্রিক ক্ষমতার ধারা।

সমাজে যদি এখনও মেয়েদের সাফল্যকে ব্যতিক্রম হিসেবে দেখা হয়, নেতৃত্বের জায়গায় তাঁদের নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়, কিংবা পরিবার ও কর্মজীবনের দ্বৈত দায়িত্ব কেবল তাঁদের কাঁধেই চাপানো হয়, তবে তার প্রভাব বিনোদন জগতেও পড়বে— এটাই স্বাভাবিক। কারণ টলিউডে কাজ করেন সমাজ থেকেই উঠে আসা মানুষজন। নির্মাতা, প্রযোজক, অভিনেতা, অভিনেত্রী, কলাকুশলী কিংবা দর্শক— সবাই একই সামাজিক কাঠামোর অংশ। তাই সমাজে যে দৃষ্টিভঙ্গি প্রচলিত, ইন্ডাস্ট্রিতেও তার প্রতিফলন দেখা যায়।

news image
আরও খবর

যেখানে নারীদের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা কম, সেখানে ইন্ডাস্ট্রির গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক স্তরেও মহিলাদের সংখ্যা কম দেখা যায়। প্রযোজনা সংস্থা, বড় বাজেটের সিদ্ধান্ত, গল্প নির্বাচন, অর্থনৈতিক পরিকল্পনা কিংবা নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে এখনও বহু ক্ষেত্রে পুরুষদের আধিপত্য বেশি। এর ফলে নারীদের অভিজ্ঞতা, দৃষ্টিভঙ্গি বা সমস্যাগুলি সবসময় সমান গুরুত্ব পায় না। অনেক সময় নারী চরিত্র নিয়েও পুরুষ দৃষ্টিভঙ্গি থেকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, যা গল্পের উপস্থাপনাতেও প্রভাব ফেলে।

আবার সমাজে যদি নারীর সংগ্রাম, সহ্যশক্তি বা আত্মত্যাগকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়, তবে বিনোদন জগতেও সেই ধরণের চরিত্র জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। বাংলা ধারাবাহিকে বহু বছর ধরে নির্যাতিতা, অবহেলিত, সংসার টিকিয়ে রাখা বা সবকিছু সহ্য করা নারী চরিত্রের জনপ্রিয়তা তারই উদাহরণ। দর্শক অনেক সময় এই চরিত্রের সঙ্গে নিজেদের বাস্তবতা মেলাতে পারেন বলেই তা জনপ্রিয় হয়। ফলে টিআরপি এবং বাজারের চাহিদাও একই ধারা বজায় রাখতে সাহায্য করে।

তবে পরিবর্তনের ছবিও সমানভাবে রয়েছে। সমাজে নারীরা আজ শিক্ষা, কর্মক্ষেত্র, প্রশাসন, বিজ্ঞান, খেলাধুলা, ব্যবসা থেকে রাজনীতি— সব জায়গায় নেতৃত্ব দিচ্ছেন। সেই পরিবর্তনের প্রভাব টলিউডেও পড়ছে। এখন বাংলা সিনেমা ও ধারাবাহিকে নারী-কেন্দ্রিক গল্পের সংখ্যা বেড়েছে। একজন নারী চরিত্রকে কেন্দ্র করে গল্প এগোনো, তাঁর ব্যক্তিগত স্বপ্ন, সংগ্রাম, পেশাগত সাফল্য, আত্মমর্যাদা এবং প্রতিবাদকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে আগের তুলনায় অনেক বেশি। দর্শকরাও ধীরে ধীরে সেই পরিবর্তন গ্রহণ করছেন।

এখনকার প্রজন্মের অভিনেত্রীরা শুধু অভিনয়ে সীমাবদ্ধ নন। অনেকে প্রযোজনা করছেন, নিজস্ব ব্র্যান্ড তৈরি করছেন, সামাজিক বিষয়ে মত দিচ্ছেন, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে স্বাধীন পরিচিতি গড়ে তুলছেন। এর ফলে ক্ষমতার সমীকরণও বদলাচ্ছে। আগে যেখানে কেবল কয়েকজন সিদ্ধান্ত নিতেন, এখন অভিনেত্রীরাও নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে তুলে ধরতে পারছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমও এই বদলের বড় হাতিয়ার হয়েছে। অন্যায়, বৈষম্য বা কাজের অসুবিধা নিয়ে এখন অনেকেই সরাসরি কথা বলতে পারছেন।

তবুও চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে। পারিশ্রমিক বৈষম্য, বয়স বাড়ার সঙ্গে সুযোগ কমে যাওয়া, বিবাহিত বা মা হওয়ার পরে কাজের ক্ষেত্রে বাধা, নিরাপত্তাহীনতা, প্রভাবশালী গোষ্ঠীর রাজনীতি— এই অভিযোগগুলি এখনও পুরোপুরি মুছে যায়নি। অনেক সময় নারীদের কাজকে ‘গ্ল্যামার’-এর নিরিখে বিচার করা হয়, দক্ষতার নিরিখে নয়। আবার ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও তাঁদের বেশি সমালোচনার মুখে পড়তে হয়, যা পুরুষদের ক্ষেত্রে তুলনামূলক কম দেখা যায়।

তাই টলিউডে নারীদের বর্তমান অবস্থানকে একরৈখিকভাবে ‘ভালো’ বা ‘খারাপ’ বলে বিচার করা যায় না। এখানে একই সঙ্গে অগ্রগতি এবং বৈষম্য— দুটোই রয়েছে। একদিকে জনপ্রিয় অভিনেত্রীদের সাফল্য, নারী-কেন্দ্রিক গল্প, রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব এবং সামাজিক প্রভাব বাড়ছে। অন্যদিকে ক্ষমতার কেন্দ্রে নারীদের সংখ্যা এখনও কম, সুযোগের ক্ষেত্রে অসাম্য রয়ে গেছে এবং পুরনো মানসিকতা অনেক জায়গায় টিকে আছে।

এই বাস্তবতায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল সমাজের পরিবর্তন। পরিবারে মেয়েদের সিদ্ধান্তকে গুরুত্ব দেওয়া, কর্মক্ষেত্রে সমান সুযোগ নিশ্চিত করা, নেতৃত্বের জায়গায় নারীদের স্বাভাবিক উপস্থিতি মেনে নেওয়া, নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করা এবং মেয়েদের সাফল্যকে ব্যতিক্রম নয়— স্বাভাবিক বলে গ্রহণ করা— এসব যত বাড়বে, টলিউডেও তার প্রভাব তত দ্রুত পড়বে। কারণ বিনোদন জগৎ কখনও সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন নয়; বরং সমাজের মনস্তত্ত্বই সেখানে নানা রূপে ফিরে আসে।

দর্শকের ভূমিকাও এখানে বড়। দর্শক যদি শুধু নির্যাতনের গল্প নয়, স্বাধীনচেতা, জটিল, বাস্তব এবং বহুমাত্রিক নারী চরিত্রকে গ্রহণ করেন, তবে নির্মাতারাও সেই দিকেই এগোবেন। বাজার সবসময় চাহিদার দিকে তাকায়। ফলে সামাজিক মানসিকতার পরিবর্তন সরাসরি কনটেন্টের পরিবর্তন ঘটাতে পারে।

সবশেষে বলা যায়, টলিউডে নারীদের অবস্থান বোঝার জন্য শুধু ইন্ডাস্ট্রির অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নয়, বৃহত্তর সামাজিক বাস্তবতাকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে। নারীরা সমাজে যত বেশি মর্যাদা, নেতৃত্ব, আর্থিক স্বাধীনতা ও সমান সুযোগ পাবেন, টলিউডেও সেই প্রতিফলন তত স্পষ্ট হবে। তিন অভিনেত্রীর বক্তব্যে এই জটিল কিন্তু বাস্তব ছবিটাই পরিষ্কার হয়ে ওঠে— লড়াই এখনও চলছে, পরিবর্তনও হচ্ছে, আর সেই পরিবর্তনের গতি নির্ভর করছে গোটা সমাজ কত দ্রুত বদলাতে পারে তার উপর।

 

Preview image