Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

কাটোয়ায় রেলের কড়া পদক্ষেপ: বিকেলে বাধা, রাতেই বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো অবৈধ নির্মাণ

পূর্ব বর্ধমানের কাটোয়া রেল স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় রেলের জমিতে গড়ে ওঠা অবৈধ দখলদার উচ্ছেদে কড়া পদক্ষেপ নিল পূর্ব রেল কর্তৃপক্ষ। বিকেলে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দাদের তীব্র প্রতিরোধের মুখে পড়ে আরপিএফ (RPF) এবং রেল পুলিশকে সাময়িকভাবে পিছু হটতে হলেও, রাতের অন্ধকারের সুযোগে বিশাল পুলিশ বাহিনী নিয়ে পুনরায় অভিযান চালানো হয়। রাতেই গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় বেশ কিছু অবৈধ নির্মাণ। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে কাটোয়া স্টেশন চত্বরে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়েছে।

বিকেলে বাধা, রাতেই অ্যাকশন! কাটোয়ায় আরপিএফ ও রেল পুলিশের মেগা অভিযানে গুঁড়ল অবৈধ নির্মাণ, উত্তপ্ত স্টেশন চত্বর

কাটোয়া: রেলের জমিতে গড়ে ওঠা অবৈধ দখলদার এবং লিজের মেয়াদ ফুরিয়ে যাওয়া দোকানপাট উচ্ছেদে এবার বেনজির কড়া অবস্থান নিল রেল প্রশাসন। পূর্ব বর্ধমান জেলার কাটোয়া (Katwa) রেল স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় শনিবার দিনভর চলল তীব্র উত্তেজনা ও নাটকীয় পরিস্থিতি। বিকেলে স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীদের ব্যাপক বিক্ষোভের মুখে পড়ে রেলের আধিকারিক এবং আরপিএফ (RPF)-কে সাময়িকভাবে পিছু হটতে হলেও, রাতের মধ্যেই পাশা উল্টে দিল রেল কর্তৃপক্ষ। বিশাল পুলিশ বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে রাতের অন্ধকারেই কাটোয়া স্টেশন রোডের অবৈধ নির্মাণগুলি বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো।

বিকেলের ধুন্ধুমার ও রেলের পিছু হটা

রেল সূত্রের খবর, কাটোয়া স্টেশনের এক নম্বর প্ল্যাটফর্ম সংলগ্ন এবং স্টেশন রোড এলাকায় রেলের জায়গায় দীর্ঘদিন ধরে বেশ কিছু দোকান ও অস্থায়ী কাঠামো তৈরি হয়েছিল। রেলের দাবি, এই সমস্ত দোকানদারদের লিজের মেয়াদ অনেক আগেই শেষ হয়ে গেছে এবং বারবার নোটিশ দেওয়া সত্ত্বেও তারা জায়গা খালি করেননি।

শনিবার বিকেল চারটে নাগাদ রেলের একটি বিশেষ উচ্ছেদকারী দল আরপিএফ এবং রেল পুলিশকে (GRP) সঙ্গে নিয়ে কাটোয়া স্টেশনে পৌঁছায়। জেসিবি (JCB) বা বুলডোজার নিয়ে উচ্ছেদ শুরু করতেই গর্জে ওঠেন স্থানীয় ব্যবসায়ী এবং বাসিন্দারা। জীবিকার সংকটের দোহাই দিয়ে মহিলারা রেল লাইনের সামনে এবং বুলডোজারের সামনে বসে পড়ে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে, আরপিএফ-এর সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের ধস্তাধস্তি শুরু হয়। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে এবং বড়সড় আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কায় বিকেলে উচ্ছেদ প্রক্রিয়া স্থগিত রেখে সাময়িকভাবে পিছু হটে রেল প্রশাসন।

রাতের অন্ধকারে অতর্কিত অপারেশন

বিকেলে ব্যবসায়ীরা ভেবেছিলেন আন্দোলন সফল হয়েছে এবং রেল হয়তো পিছু হটেছে। কিন্তু রেল কর্তৃপক্ষ যে ভেতরে ভেতরে বড়সড় কোনো পরিকল্পনার ছক কষছিল, তা টের পাননি কেউ। রাত সাড়ে ন’টা বাজতেই কাটোয়া স্টেশন চত্বরের চিত্রটা সম্পূর্ণ বদলে যায়।

হাওড়া ও আসানসোল ডিভিশনের উচ্চপদস্থ রেল আধিকারিকদের নির্দেশে জেলা পুলিশের এক বিশাল বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে পুনরায় কাটোয়া স্টেশনে প্রবেশ করে আরপিএফ-এর কমব্যাট ফোর্স। গোটা স্টেশন চত্বরকে নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলে চারদিক কর্ডন বা অবরুদ্ধ করে দেওয়া হয়। স্থানীয়দের কিছু বুঝে ওঠার আগেই রাতেই নিয়ে আসা হয় একাধিক বুলডোজার।

গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো দোকান ও অবৈধ কাঠামো

রাতের অন্ধকারে আলোর ব্যবস্থা করে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় শুরু হয় উচ্ছেদ অভিযান। একে একে ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় স্টেশন সংলগ্ন অবৈধ দোকানপাট, চায়ের গুমটি ও অস্থায়ী কাউন্টারগুলো। বিকেলের মতো রাতে যাতে কোনো প্রতিরোধ তৈরি হতে না পারে, তার জন্য স্টেশনের প্রবেশ পথগুলো পুরোপুরি সিল করে দিয়েছিল রেল পুলিশ। উচ্ছেদের খবর পেয়ে কিছু ব্যবসায়ী রাতে দপ্তরের সামনে পৌঁছালেও কড়া পুলিশি পাহাড়ার মুখে তারা আর এগোতে সাহস পাননি। চোখের সামনে নিজেদের রুটিরুজি ধ্বংস হতে দেখে ক্ষোভে ফেটে পড়েন ব্যবসায়ীরা।

রেল কর্তৃপক্ষের সাফাই

এই কড়া পদক্ষেপ প্রসঙ্গে পূর্ব রেলের এক পদস্থ আধিকারিক জানান, "কাটোয়া স্টেশনের আধুনিকীকরণ এবং অমৃত ভারত স্টেশন (Amrit Bharat Station) প্রকল্পের অধীনে স্টেশন চত্বরের সৌন্দর্যায়নের কাজ চলছে। যাত্রী সুরক্ষার স্বার্থে এবং স্টেশনের সম্প্রসারণের জন্য এই জমি খালি করা অত্যন্ত জরুরি ছিল। উচ্ছেদ হওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট সবাইকে আইনি নোটিশ মারফত পর্যাপ্ত সময় দেওয়া হয়েছিল। আইন শৃঙ্খলার পরিস্থিতি বজায় রাখতেই রাতের এই পদক্ষেপ।"

ক্ষোভে ফুঁসছেন উচ্ছেদ হওয়া ব্যবসায়ীরা

অন্যদিকে, উচ্ছেদ হওয়া ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের বক্তব্য, "আমরা কোনো পুনর্বাসন ছাড়াই এভাবে রাতের অন্ধকারে উচ্ছেদের তীব্র বিরোধিতা করছি। বিকেলে পুলিশ কথা দিয়ে গিয়েছিল যে আলোচনা হবে, কিন্তু রাতের অন্ধকারে চোরের মতো এসে আমাদের দোকানগুলো ভেঙে দেওয়া হলো। এখন আমাদের পরিবার নিয়ে না খেয়ে মরতে হবে।" এই ঘটনার পর উচ্ছেদ হওয়া ব্যবসায়ীরা বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

উপসংহার ও বর্তমান পরিস্থিতি

শনিবার রাতের এই মেগা অপারেশনের পর রবিবার সকালেও কাটোয়া স্টেশন চত্বরে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। নতুন করে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা যাতে না ঘটে, তার জন্য স্টেশন চত্বরে ও সংলগ্ন এলাকায় আরপিএফ এবং রাজ্য পুলিশের যৌথ টহলদারি চলছে। রেলের এই "বিকেলে পিছু হটে রাতে অ্যাকশন" নেওয়ার কৌশল বর্তমানে জেলার রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে এক বড় আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। 

news image
আরও খবর

বিকেলে বাধা, রাতেই অ্যাকশন! কাটোয়ায় আরপিএফ ও রেল পুলিশের মেগা অভিযানে গুঁড়ল অবৈধ নির্মাণ, উত্তপ্ত স্টেশন চত্বর

কাটোয়া: রেলের জমিতে গড়ে ওঠা অবৈধ দখলদার এবং লিজের মেয়াদ ফুরিয়ে যাওয়া দোকানপাট উচ্ছেদে এবার বেনজির কড়া অবস্থান নিল রেল প্রশাসন। পূর্ব বর্ধমান জেলার কাটোয়া (Katwa) রেল স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় শনিবার দিনভর চলল তীব্র উত্তেজনা ও নাটকীয় পরিস্থিতি। বিকেলে স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীদের ব্যাপক বিক্ষোভের মুখে পড়ে রেলের আধিকারিক এবং আরপিএফ (RPF)-কে সাময়িকভাবে পিছু হটতে হলেও, রাতের মধ্যেই পাশা উল্টে দিল রেল কর্তৃপক্ষ। বিশাল পুলিশ বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে রাতের অন্ধকারেই কাটোয়া স্টেশন রোডের অবৈধ নির্মাণগুলি বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো।

বিকেলের ধুন্ধুমার ও রেলের পিছু হটা

রেল সূত্রের খবর, কাটোয়া স্টেশনের এক নম্বর প্ল্যাটফর্ম সংলগ্ন এবং স্টেশন রোড এলাকায় রেলের জায়গায় দীর্ঘদিন ধরে বেশ কিছু দোকান ও অস্থায়ী কাঠামো তৈরি হয়েছিল। রেলের দাবি, এই সমস্ত দোকানদারদের লিজের মেয়াদ অনেক আগেই শেষ হয়ে গেছে এবং বারবার নোটিশ দেওয়া সত্ত্বেও তারা জায়গা খালি করেননি।

শনিবার বিকেল চারটে নাগাদ রেলের একটি বিশেষ উচ্ছেদকারী দল আরপিএফ এবং রেল পুলিশকে (GRP) সঙ্গে নিয়ে কাটোয়া স্টেশনে পৌঁছায়। জেসিবি (JCB) বা বুলডোজার নিয়ে উচ্ছেদ শুরু করতেই গর্জে ওঠেন স্থানীয় ব্যবসায়ী এবং বাসিন্দারা। জীবিকার সংকটের দোহাই দিয়ে মহিলারা রেল লাইনের সামনে এবং বুলডোজারের সামনে বসে পড়ে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে, আরপিএফ-এর সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের ধস্তাধস্তি শুরু হয়। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে এবং বড়সড় আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কায় বিকেলে উচ্ছেদ প্রক্রিয়া স্থগিত রেখে সাময়িকভাবে পিছু হটে রেল প্রশাসন।

রাতের অন্ধকারে অতর্কিত অপারেশন

বিকেলে ব্যবসায়ীরা ভেবেছিলেন আন্দোলন সফল হয়েছে এবং রেল হয়তো পিছু হটেছে। কিন্তু রেল কর্তৃপক্ষ যে ভেতরে ভেতরে বড়সড় কোনো পরিকল্পনার ছক কষছিল, তা টের পাননি কেউ। রাত সাড়ে ন’টা বাজতেই কাটোয়া স্টেশন চত্বরের চিত্রটা সম্পূর্ণ বদলে যায়।

হাওড়া ও আসানসোল ডিভিশনের উচ্চপদস্থ রেল আধিকারিকদের নির্দেশে জেলা পুলিশের এক বিশাল বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে পুনরায় কাটোয়া স্টেশনে প্রবেশ করে আরপিএফ-এর কমব্যাট ফোর্স। গোটা স্টেশন চত্বরকে নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলে চারদিক কর্ডন বা অবরুদ্ধ করে দেওয়া হয়। স্থানীয়দের কিছু বুঝে ওঠার আগেই রাতেই নিয়ে আসা হয় একাধিক বুলডোজার।

গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো দোকান ও অবৈধ কাঠামো

রাতের অন্ধকারে আলোর ব্যবস্থা করে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় শুরু হয় উচ্ছেদ অভিযান। একে একে ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় স্টেশন সংলগ্ন অবৈধ দোকানপাট, চায়ের গুমটি ও অস্থায়ী কাউন্টারগুলো। বিকেলের মতো রাতে যাতে কোনো প্রতিরোধ তৈরি হতে না পারে, তার জন্য স্টেশনের প্রবেশ পথগুলো পুরোপুরি সিল করে দিয়েছিল রেল পুলিশ। উচ্ছেদের খবর পেয়ে কিছু ব্যবসায়ী রাতে দপ্তরের সামনে পৌঁছালেও কড়া পুলিশি পাহাড়ার মুখে তারা আর এগোতে সাহস পাননি। চোখের সামনে নিজেদের রুটিরুজি ধ্বংস হতে দেখে ক্ষোভে ফেটে পড়েন ব্যবসায়ীরা।

রেল কর্তৃপক্ষের সাফাই

এই কড়া পদক্ষেপ প্রসঙ্গে পূর্ব রেলের এক পদস্থ আধিকারিক জানান, "কাটোয়া স্টেশনের আধুনিকীকরণ এবং অমৃত ভারত স্টেশন (Amrit Bharat Station) প্রকল্পের অধীনে স্টেশন চত্বরের সৌন্দর্যায়নের কাজ চলছে। যাত্রী সুরক্ষার স্বার্থে এবং স্টেশনের সম্প্রসারণের জন্য এই জমি খালি করা অত্যন্ত জরুরি ছিল। উচ্ছেদ হওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট সবাইকে আইনি নোটিশ মারফত পর্যাপ্ত সময় দেওয়া হয়েছিল। আইন শৃঙ্খলার পরিস্থিতি বজায় রাখতেই রাতের এই পদক্ষেপ।"

ক্ষোভে ফুঁসছেন উচ্ছেদ হওয়া ব্যবসায়ীরা

অন্যদিকে, উচ্ছেদ হওয়া ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের বক্তব্য, "আমরা কোনো পুনর্বাসন ছাড়াই এভাবে রাতের অন্ধকারে উচ্ছেদের তীব্র বিরোধিতা করছি। বিকেলে পুলিশ কথা দিয়ে গিয়েছিল যে আলোচনা হবে, কিন্তু রাতের অন্ধকারে চোরের মতো এসে আমাদের দোকানগুলো ভেঙে দেওয়া হলো। এখন আমাদের পরিবার নিয়ে না খেয়ে মরতে হবে।" এই ঘটনার পর উচ্ছেদ হওয়া ব্যবসায়ীরা বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

উপসংহার ও বর্তমান পরিস্থিতি

শনিবার রাতের এই মেগা অপারেশনের পর রবিবার সকালেও কাটোয়া স্টেশন চত্বরে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। নতুন করে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা যাতে না ঘটে, তার জন্য স্টেশন চত্বরে ও সংলগ্ন এলাকায় আরপিএফ এবং রাজ্য পুলিশের যৌথ টহলদারি চলছে। রেলের এই "বিকেলে পিছু হটে রাতে অ্যাকশন" নেওয়ার কৌশল বর্তমানে জেলার রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে এক বড় আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

Preview image