Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

টলিউডে ফের ঝড় তুললেন পায়েল ইন্দ্রাশিস-ঋষভের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ দৃশ্যে নতুন চমক

ভ্যালেন্টাইনস মাসে জন্ম  তবু প্রেম যেন অধরাই রিল লাইফ আর রিয়েল লাইফের ফারাক কতটা?

টলিউডে ফের ঝড় তুললেন পায়েল  ইন্দ্রাশিস-ঋষভের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ দৃশ্যে নতুন চমক
Tollywood News

নিচে আপনার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বিস্তৃত, বিশ্লেষণধর্মী প্রায় ৪০০০ শব্দের দীর্ঘ বর্ণনা, সঙ্গে SEO উপযোগী Google Tag, Modified Meta Title এবং Meta Description সাজিয়ে দেওয়া হল। লেখাটি নিউজ পোর্টাল ফিচার স্টাইল বজায় রেখে তৈরি।


২২ বছর পরেও কি টলিউডের ‘পাটরানি’ পায়েল সরকার? সাহসী দৃশ্য, সংযত বাস্তব আর এক দীর্ঘ লড়াইয়ের গল্প

টলিউডে নায়িকাদের রাজত্ব কখনও স্থায়ী নয়—সময় বদলায়, দর্শকের পছন্দ বদলায়, ছবির ভাষা বদলায়। কিন্তু কিছু নাম সময়ের স্রোত পেরিয়েও থেকে যায় আলোচনায়। পায়েল সরকার সেই তালিকার অন্যতম। শ্রাবন্তী চট্টোপাধ্যায়, শুভশ্রী গঙ্গোপাধ্যায়, মিমি চক্রবর্তীর সঙ্গে এক নিঃশ্বাসে উচ্চারিত হয় তাঁর নাম। দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করছেন তিনি।

১০ ফেব্রুয়ারি, ‘টেডি ডে’-তে জন্মদিন পায়েলের। ক্যালেন্ডারের এই মিল যেন তাঁর পর্দার ইমেজের সঙ্গেও মানানসই—কখনও ভোলেভালা পাশের বাড়ির মেয়ে, কখনও নাক-উঁচু, উচ্চশিক্ষিত বিত্তবান পরিবারের আদুরে কন্যা, কখনও আবার বিস্ফোরক, দুঃসাহসী নারীচরিত্র।

কিন্তু প্রশ্ন থেকেই যায়—২২ বছর পরেও কি তিনি টলিউডের ‘পাটরানি’? নাকি সময়ের স্রোতে খানিকটা সরে গিয়েছেন কেন্দ্রবিন্দু থেকে?


ছোটপর্দা থেকে বড়পর্দা: শুরুটা যেভাবে

পায়েলের অভিনয়জীবনের শুরু ছোটপর্দায়। ‘একদিন প্রতিদিন’ তাঁকে পৌঁছে দিয়েছিল বাঙালির অন্দরমহলে। প্রতিদিনের ধারাবাহিকের মাধ্যমে দর্শকের সঙ্গে যে ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়, তা অনেক সময় বড়পর্দার তারকাদের ক্ষেত্রেও হয় না।

বড়পর্দায় তাঁর আত্মপ্রকাশ সুদেষ্ণা রায়-অভিজিৎ গুহ পরিচালিত ‘শুধু তুমি’ ছবিতে। সেখানে তিনি প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের বোনের চরিত্রে। নায়িকা হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেতে সময় লাগেনি। দেবের সঙ্গে ‘আই লাভ ইউ’, ‘লে ছক্কা’, আবীরের সঙ্গে ‘বোঝে না সে বোঝে না’, সোহমের সঙ্গে ‘প্রেম আমার’, শাকিব খানের সঙ্গে ‘ভাইজান এলো রে’—একটির পর একটি বাণিজ্যিক সাফল্য তাঁকে পৌঁছে দেয় প্রথম সারিতে।


নায়ক বদলেছে, অবস্থানও

দেব, আবীর, পরমব্রত, সোহম, শাকিব, হিরণ, অঙ্কুশ—টলিউডের প্রায় সব প্রথম সারির নায়কের সঙ্গে কাজ করেছেন পায়েল। যে সময় বাংলা বাণিজ্যিক ছবির বাজারে নায়িকাদের গুরুত্ব ছিল চিত্রনাট্যের কেন্দ্রবিন্দুতে, সেই সময়ের অন্যতম মুখ ছিলেন তিনি।

তবে সময় বদলেছে। নতুন প্রজন্মের নায়ক-নায়িকা, নতুন ধাঁচের গল্প, ওটিটি প্ল্যাটফর্মের আগমন—সব মিলিয়ে ইন্ডাস্ট্রির ভাষা পাল্টেছে। পায়েলও নিজেকে বদলেছেন। শুধু মশালা ছবিতে সীমাবদ্ধ না থেকে সমান্তরাল ধারার ছবিতেও কাজ করেছেন।


সাহসী দৃশ্য ও পেশাদারিত্ব

সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের ‘চতুষ্কোণ’ ছবিতে ইন্দ্রাশিস রায়ের সঙ্গে তাঁর গাঢ় চুম্বন দৃশ্য নিয়ে আলোচনা কম হয়নি। আবার জয়ব্রত দাস পরিচালিত ‘দি অ্যাকাডেমি অফ ফাইন আর্টস’-এ ঋষভ বসুর সঙ্গে শয্যাদৃশ্যেও অভিনয় করে তিনি প্রমাণ করেছেন, চরিত্রের প্রয়োজনে নিজেকে উজাড় করতে তাঁর আপত্তি নেই।

পরিচালক জয়ব্রতের কথায়, পায়েল চিত্রনাট্য মন দিয়ে শোনেন, চরিত্র বুঝে নেন, প্রস্তুতি নিয়ে শুটিংয়ে আসেন। সাহসী দৃশ্য নিয়ে তাঁর মধ্যে কোনও অস্বস্তি নেই—বরং পেশাদারিত্বই তাঁর প্রধান শক্তি।

ঋষভের অভিজ্ঞতা বলছে, ঘনিষ্ঠ দৃশ্যের আগে তিনিই বরং একটু অস্বস্তিতে ছিলেন। কিন্তু পায়েল পরিস্থিতি সহজ করে দেন। নাম ধরে ডাকতে বলেন, যাতে পর্দার রসায়ন স্বাভাবিক হয়। এই আত্মবিশ্বাসই হয়তো তাঁকে আলাদা করে দেয়।


বাস্তবের পায়েল: বিপরীত মেরু?

পর্দায় যিনি বিস্ফোরক, বাস্তবে নাকি তিনি একেবারেই মাটির কাছাকাছি মানুষ। অভিনেতা রুদ্রনীল ঘোষ বন্ধুকে বর্ণনা করেছেন সাদামাঠা, আন্তরিক ও সবার সঙ্গে সমান ব্যবহারকারী হিসেবে।

ঋষভের কথায়, পায়েলের মধ্যে এখনও ছেলেমানুষি রয়েছে। শুটিংয়ের ফাঁকে প্রশ্ন শুনে সবার মুখের দিকে তাকানো, তারপর মিষ্টি হেসে বুদ্ধিদীপ্ত উত্তর দেওয়া—এই সহজাত স্বভাব আজকের ইন্ডাস্ট্রিতে বিরল।


‘পাটরানি’ তকমা—আছে, না কি ফিকে?

রুদ্রনীলের মতে, এক সময় চার অভিনেত্রী বাংলা ইন্ডাস্ট্রি শাসন করতেন। সময়ের সঙ্গে তাঁদের অনেকেই নিজেদের নতুনভাবে প্রতিষ্ঠা করেছেন। কেউ ফিরেছেন শক্তিশালী সাহিত্যনির্ভর ছবিতে, কেউ ওটিটিতে।

পায়েলের ক্ষেত্রেও প্রয়োজন একটি বড়, প্রভাবশালী ছবি—যা তাঁকে নতুন করে কেন্দ্রস্থলে ফিরিয়ে আনবে। তাঁর মতে, আজকের ইন্ডাস্ট্রিতে শুধু অভিনয় নয়, ‘পিআর’-এরও গুরুত্ব রয়েছে। পছন্দের মানুষ হওয়া কখনও কখনও কাজের থেকেও এগিয়ে থাকে।

পায়েল কখনও সেই পথে হাঁটেননি বলেই হয়তো তাঁর প্রাপ্য ছবির সংখ্যা কমে গেছে—এমন মতও রয়েছে।


পরিচালকদের চোখে পায়েল

পরিচালক রবি কিনাগি তাঁর পাঁচটি ছবিতে পায়েলকে নায়িকা করেছেন। তাঁর মতে, পায়েলের মধ্যে কোনও খামতি নেই। বাণিজ্যিক ও সমান্তরাল—দুই ধারার ছবিতেই তিনি অনায়াস।

‘এবার শবর’, ‘ঈগলের চোখ’, ‘একটু সরে বসুন’, ‘হেমন্ত’—এই সব ছবিতে তাঁর অভিনয় আলাদা মাত্রা যোগ করেছে। কিনাগির বক্তব্য, ধারার ফারাক দর্শক টানেন; অভিনেতার কাজ দুই ক্ষেত্রেই সমান গুরুত্বপূর্ণ।

news image
আরও খবর

নিশ্চয়ই। আপনার দেওয়া অংশগুলিকে বিস্তৃত করে প্রায় ১০০০ শব্দের একটি বিশ্লেষণধর্মী দীর্ঘ বর্ণনা নিচে সাজিয়ে দিলাম—


বদলে যাওয়া ইন্ডাস্ট্রি ও পায়েলের অবস্থান

টলিউড আজ আর আগের জায়গায় নেই। এক সময় যেখানে বড় ব্যানার, পরিচিত নায়ক-নায়িকা আর সিঙ্গল-স্ক্রিন দর্শকের ভরসাতেই ছবির সাফল্য নির্ধারিত হত, এখন সেখানে জায়গা করে নিয়েছে ওটিটি প্ল্যাটফর্ম, কনটেন্ট-চালিত গল্প, এবং সোশ্যাল মিডিয়া-নির্ভর জনপ্রিয়তা। আজকের দিনে কোনও অভিনেত্রীকে শুধু অভিনয় জানলেই হয় না—তাঁকে হতে হয় দৃশ্যমান, প্রচারমুখী, আলোচনায় থাকা এক ‘পাবলিক ফিগার’। বয়স, ব্যক্তিগত সম্পর্ক, পোশাক, সামাজিক মাধ্যমে সক্রিয়তা—সব কিছু নিয়েই তৈরি হয় খবর।

এই পরিবর্তিত বাস্তবতায় পায়েল সরকারকে খানিক আলাদা বলেই মনে হয়। তিনি কখনও সোশ্যাল মিডিয়ার বিতর্কে নিজেকে জড়াননি। ব্যক্তিগত জীবনকে সামনে এনে প্রচারের আলো কুড়োনোর চেষ্টাও করেননি। ইন্ডাস্ট্রির অনেকেই যখন সচেতনভাবে নিজেদের ‘ব্র্যান্ড’ তৈরি করেছেন, পায়েল বরং নিজেকে রেখেছেন কাজের মধ্যেই সীমাবদ্ধ।

ফলে কি তিনি আলোচনার কেন্দ্র থেকে খানিক সরে গিয়েছেন? হতে পারে। কারণ আজকের দিনে প্রচারই অনেক সময় সাফল্যের মাপকাঠি। তবু এটাও সত্য, অভিনয়ের ধার বা দক্ষতায় কোনও ভাটা পড়েনি। সহকর্মীদের কথায় বারবার উঠে এসেছে তাঁর প্রস্তুতি, চরিত্রের প্রতি দায়বদ্ধতা, এবং সেটে পেশাদার আচরণ।

সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে তিনি ছবির ধারা বদলেছেন। বাণিজ্যিক ছবির পাশাপাশি সমান্তরাল ধারায় কাজ করেছেন। সাহসী দৃশ্যেও নিজেকে পিছিয়ে রাখেননি। অর্থাৎ তিনি স্থির নন—বরং অভিযোজিত। শুধু প্রচারের ভাষা তাঁর আলাদা।


প্রেম, ব্যক্তিজীবন ও গোপনীয়তা

পর্দায় প্রেম যেন পায়েলের সহজাত অঞ্চল। কখনও টিনএজ রোম্যান্স, কখনও বিবাহিত সম্পর্কের জটিলতা, কখনও আবার শারীরিক-মানসিক আকর্ষণের তীব্র প্রকাশ—সব ক্ষেত্রেই তিনি সাবলীল। দর্শক তাঁকে বারবার দেখেছেন প্রেমে পড়তে, ভাঙতে, জিততে, হারতে।

কিন্তু বাস্তবের পায়েল একেবারেই অন্যরকম। ব্যক্তিজীবন নিয়ে বরাবরই সংযত। সম্পর্ক, প্রেম, বিয়ে—এই সব প্রশ্নে তিনি সচরাচর সরাসরি মন্তব্য করেন না। গসিপ কলামে তাঁর নাম খুব বেশি দেখা যায় না।

এই নীরবতা অনেক সময় রহস্য তৈরি করে। কারণ দর্শক স্বভাবতই জানতে চান পর্দার নায়িকার বাস্তব জীবনের গল্প। কিন্তু পায়েল সেই কৌতূহলকে ইন্ধন না দিয়ে বরং সংযমের পথ বেছে নিয়েছেন।

সমালোচকেরা বলেন, এই গোপনীয়তাই তাঁর শক্তি। আজকের সময়ে যেখানে ব্যক্তিগত জীবন প্রায় ‘পাবলিক প্রপার্টি’ হয়ে যায়, সেখানে নিজেকে আড়ালে রাখার সিদ্ধান্ত সহজ নয়। এতে হয়তো প্রচারের সুযোগ কমে, কিন্তু মর্যাদা অটুট থাকে।

তাঁর ঘনিষ্ঠ মহলের বক্তব্য, তিনি খুবই মাটির কাছাকাছি মানুষ। আলোচনার কেন্দ্রে থাকতে চান না, বরং কাজের মাধ্যমে নিজের জায়গা তৈরি করতে চান। হয়তো সেই কারণেই তাঁকে নিয়ে কৌতূহল কখনও পুরোপুরি শেষ হয় না।


ফেরা কি সম্ভব?

২২ বছরের কেরিয়ার—এই সময়ের মধ্যে বহু নায়িকা এসেছেন, ঝলক দেখিয়েছেন, আবার হারিয়েও গিয়েছেন। পায়েল সরকারের যাত্রাপথের বিশেষত্ব এখানেই যে তিনি টিকে আছেন। হয়তো সব সময় প্রথম সারির আলোয় নন, কিন্তু সম্পূর্ণ প্রান্তিকও নন।

টলিউডে প্রত্যাবর্তনের উদাহরণ নতুন নয়। শক্তিশালী চিত্রনাট্য, একটি স্মরণীয় চরিত্র—এই দু’টি জিনিসই অনেক সময় বদলে দেয় সমীকরণ। পায়েলের ক্ষেত্রেও তেমন একটি সুযোগই হয়তো অপেক্ষা করছে। তাঁর অভিজ্ঞতা রয়েছে, ক্যামেরার সামনে স্বচ্ছন্দ উপস্থিতি রয়েছে, সাহসী দৃশ্যে সাবলীলতা রয়েছে। সবচেয়ে বড় কথা, রয়েছে অভিনয়ের প্রতি দায়বদ্ধতা।

ইন্ডাস্ট্রি বদলেছে, দর্শকের চাহিদা বদলেছে। এখন কনটেন্টই রাজা। আর কনটেন্ট-চালিত ছবিতে অভিনয়ের সুযোগ পেলে পায়েল যে নিজের দক্ষতা প্রমাণ করতে পারবেন, সে বিষয়ে সহকর্মীদের আস্থা স্পষ্ট।

‘পাটরানি’ তকমা আসলে সময়ের তৈরি। এক সময় তিনি সেই আসনে ছিলেন—এ কথা অস্বীকার করার উপায় নেই। এখন প্রশ্ন, তিনি কি আবার সেই জায়গায় ফিরবেন?

সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। কারণ প্রাসঙ্গিকতা শুধু বক্স অফিসে মাপা যায় না। প্রাসঙ্গিকতা মাপা যায় আলোচনায়, স্মৃতিতে, দর্শকের আবেগে। পায়েল এখনও আলোচ্য। তাঁর কাজ নিয়ে কথা হয়, তাঁর সাহসী সিদ্ধান্ত নিয়ে মতবিনিময় হয়, তাঁর সংযত ব্যক্তিত্ব নিয়ে কৌতূহল তৈরি হয়।

তাই বলা যায়, তিনি এখনও সম্ভাবনাময়। হয়তো এক নতুন অধ্যায়ের অপেক্ষায়।

টলিউডের ইতিহাসে অনেক নায়িকার নাম সময়ের সঙ্গে ঝাপসা হয়ে গেছে। কিন্তু পায়েল সরকারের নাম এখনও স্পষ্ট উচ্চারিত হয়। সেটাই তাঁর সবচেয়ে বড় সাফল্য। সামনে যদি আসে একটি শক্তিশালী চরিত্র, একটি যুগান্তকারী ছবি—তবে হয়তো আবারও তাঁকে ঘিরেই তৈরি হবে আলোচনার কেন্দ্র।

সময়ের স্রোত কারও জন্য থেমে থাকে না। কিন্তু কেউ কেউ সেই স্রোতের মধ্যেই নিজের উপস্থিতি ধরে রাখতে পারেন। পায়েল সরকার তাঁদের মধ্যেই একজন—শান্ত, সংযত, তবু দৃঢ়। তাঁর যাত্রা এখনও শেষ হয়নি; বরং হয়তো নতুন মোড়ের অপেক্ষায়।

Preview image