ক্লাস চলাকালীন আচমকাই শ্রেণিকক্ষের ভিতরে ঢুকে পড়ে একটি বিষধর গোখরো। মুহূর্তের মধ্যেই ফণা তুলে ঘরের এক কোণে কুণ্ডলী পাকিয়ে বসে পড়ে সাপটি। আতঙ্কে পড়ুয়াদের মধ্যে শুরু হয় ছোটাছুটি। পরিস্থিতি বুঝে পড়ুয়াদের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে দ্রুত ক্লাসঘরটি তালাবন্ধ করে দেন শিক্ষকরা। এরপর প্রায় দু’ঘণ্টার চেষ্টায় অবশেষে উদ্ধার করা হয় সেই বিষধর গোখরোকে।
ধূপগুড়ি: স্কুলে তখন চলছিল স্বাভাবিক পঠনপাঠন। শ্রেণিকক্ষে বসে পড়াশোনায় ব্যস্ত ছিল পড়ুয়ারা। আচমকাই সেই স্বাভাবিক পরিবেশে ছন্দপতন। বাইরে থেকে একটি বিষধর গোখরো ঢুকে পড়ে শ্রেণিকক্ষের ভিতরে। চোখের সামনে সাপটিকে দেখেই আতঙ্কিত হয়ে পড়ে পড়ুয়ারা। মুহূর্তের মধ্যে শ্রেণিকক্ষজুড়ে শুরু হয়ে যায় চিৎকার-চেঁচামেচি। সাপের ভয়ে একে একে ক্লাসঘর থেকে বেরিয়ে যায় পড়ুয়ারা। পরিস্থিতি বুঝে দ্রুত তাঁদের নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নিয়ে যান শিক্ষকরা।
বৃহস্পতিবার দুপুরের এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায় ধূপগুড়ি ব্লকের বোরাগাড়ি-১ নম্বর বিএফপি বিদ্যালয়ে। স্কুল চলাকালীন শ্রেণিকক্ষের ভিতরে বিষধর গোখরো ঢুকে পড়ার ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে পড়ুয়া, শিক্ষক এবং স্থানীয়দের মধ্যে। তবে সময়মতো সতর্ক হওয়া এবং দ্রুত পড়ুয়াদের নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নেওয়ার কারণে বড় কোনও দুর্ঘটনা ঘটেনি।
ঘটনার পর প্রায় দু’ঘণ্টা ধরে চলে সাপ উদ্ধারের চেষ্টা। কখনও তৃতীয় শ্রেণির ঘরে, আবার কখনও চতুর্থ শ্রেণির ঘরে সাপটির গতিবিধি লক্ষ্য করা যায় বলে স্থানীয়দের দাবি। শেষ পর্যন্ত পরিবেশপ্রেমীদের তৎপরতায় প্রায় সাড়ে চার ফুট লম্বা গোখরোটিকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়। পরে সেটিকে জঙ্গলে ছেড়ে দেওয়া হয়।
স্কুল সূত্রে জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার দুপুরে অন্যান্য দিনের মতোই বিদ্যালয়ে পঠনপাঠন চলছিল। পড়ুয়ারা নিজেদের শ্রেণিকক্ষে বসে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের কাছ থেকে পড়াশোনা করছিল। স্কুলের পরিবেশও ছিল স্বাভাবিক। এমন সময় আচমকাই বাইরে থেকে একটি সাপ শ্রেণিকক্ষের ভিতরে ঢুকে পড়ে।
প্রথম দিকে সাপটির উপস্থিতি সকলের নজরে আসেনি। কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যেই পড়ুয়াদের চোখে পড়ে যায় সেটি। শ্রেণিকক্ষের ভিতরে বিষধর সাপ দেখতে পেয়েই আতঙ্কিত হয়ে পড়ে পড়ুয়ারা। কী করা উচিত, তা বুঝে ওঠার আগেই অনেকে চিৎকার শুরু করে দেয়।
সাপটিকে দেখে আতঙ্কে শ্রেণিকক্ষ থেকে বেরিয়ে আসে পড়ুয়ারা। আচমকা এমন ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই স্কুলের পরিবেশ বদলে যায়। শিক্ষকরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন।
পড়ুয়াদের চিৎকার শুনে ছুটে আসেন স্কুলের শিক্ষকরা। তাঁরা প্রথমেই পড়ুয়াদের নিরাপত্তাকে গুরুত্ব দেন। সাপটি কোথায় রয়েছে, সেটি নিশ্চিত হওয়ার আগেই পড়ুয়াদের ওই শ্রেণিকক্ষ থেকে সরিয়ে পাশের একটি ঘরে নিয়ে যাওয়া হয়।
শিক্ষকদের তৎপরতায় পড়ুয়ারা নিরাপদ দূরত্বে চলে যায়। কাউকে শ্রেণিকক্ষের ভিতরে ফিরে যেতে দেওয়া হয়নি। কারণ, আতঙ্কের মধ্যে সাপটিকে দেখতে বা ধরতে গেলে পরিস্থিতি আরও বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারত।
এরপর ওই শ্রেণিকক্ষটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। শিক্ষকরা বাইরে থেকেই পরিস্থিতির দিকে নজর রাখতে থাকেন। সাপটি যাতে অন্য কোনও জায়গায় চলে গিয়ে পড়ুয়া বা শিক্ষকদের সামনে না আসে, সেই বিষয়েও সতর্ক ছিলেন তাঁরা।
শ্রেণিকক্ষের ভিতরে ঢোকার পর গোখরোটি একটি কোণে কুণ্ডলী পাকিয়ে বসে ছিল বলে জানা যায়। বিষধর সাপ হওয়ায় সেটিকে নিজেরা ধরার কোনও ঝুঁকি নেননি শিক্ষকরা।
সাপটি যাতে উত্তেজিত না হয় এবং হঠাৎ বেরিয়ে এসে কারও ক্ষতি না করতে পারে, সেদিকেও নজর রাখা হয়। শ্রেণিকক্ষের দরজা বন্ধ রাখার পাশাপাশি বাইরে থেকে পরিস্থিতির উপর নজরদারি চলতে থাকে।
এরই মধ্যে সাপ উদ্ধারের জন্য পরিবেশপ্রেমীদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। স্কুল কর্তৃপক্ষের তরফে ধূপগুড়ির পরিবেশপ্রেমী সংগঠন ডুয়ার্স নেচার অ্যান্ড স্নেক লাভার্স অর্গানাইজ়েশনের সদস্যদের খবর দেওয়া হয়।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছন পরিবেশপ্রেমী ভজন সাহা। এরপর শুরু হয় গোখরো উদ্ধারের চেষ্টা। সাপটি কোথায় রয়েছে, তার গতিবিধি কী, সেটি কোন দিকে যেতে পারে—সবকিছু নজরে রেখে এগোন উদ্ধারকারীরা।
স্থানীয়দের দাবি, সাপটি দীর্ঘ সময় ধরে স্কুলের বিভিন্ন অংশে ঘোরাফেরা করছিল। কখনও তৃতীয় শ্রেণির ঘরে, আবার কখনও চতুর্থ শ্রেণির ঘরে সেটিকে দেখা যায়। ফলে এক জায়গায় স্থির রেখে সাপটিকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
সাপটির গতিবিধির কারণে উদ্ধারকারীদেরও সতর্কতার সঙ্গে কাজ করতে হয়। কারণ, স্কুলে তখনও শিক্ষক, পড়ুয়া এবং অন্যান্য কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। তাই কোনও রকম ঝুঁকি না নিয়ে ধীরে ধীরে সাপটিকে উদ্ধারের চেষ্টা চলতে থাকে।
স্কুলের শ্রেণিকক্ষের ভিতরে বিষধর গোখরো ঢুকে পড়ায় স্বাভাবিকভাবেই পঠনপাঠন ব্যাহত হয়। সাপটি উদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট শ্রেণিকক্ষে পড়াশোনা চালানোর কোনও সুযোগ ছিল না।
শুধু একটি শ্রেণিকক্ষ নয়, সাপটি অন্য ঘরেও যাতায়াত করায় স্কুলের সামগ্রিক পরিবেশে আতঙ্ক তৈরি হয়। পড়ুয়াদের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে তাঁদের ওই অংশ থেকে দূরে রাখা হয়।
স্থানীয়দের দাবি, প্রায় দু’ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে সাপটিকে ঘিরে তৎপরতা চলে। দীর্ঘ সময় ধরে উদ্ধার অভিযান চলার ফলে স্কুলের স্বাভাবিক কার্যক্রমেও প্রভাব পড়ে।
তবে শিক্ষকরা পড়ুয়াদের নিরাপদে রাখার বিষয়টিকেই অগ্রাধিকার দেন। সাপটিকে ধরার আগে কোনও পড়ুয়াকে ফের ওই শ্রেণিকক্ষে পাঠানো হয়নি।
দীর্ঘ চেষ্টার পর অবশেষে সাপটিকে উদ্ধার করতে সক্ষম হন পরিবেশপ্রেমীরা। উদ্ধার হওয়া সাপটি প্রায় সাড়ে চার ফুট লম্বা গোখরো বলে জানা গিয়েছে।
সাপটি উদ্ধারের পর সেটিকে স্কুল চত্বর থেকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে সেটিকে জঙ্গলে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানা যায়।
সাপটি উদ্ধার হওয়ার পরই স্কুলের শিক্ষক, পড়ুয়া এবং স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি ফিরে আসে। দীর্ঘ সময় ধরে চলা উৎকণ্ঠারও অবসান ঘটে।
স্কুল চলাকালীন একটি বিষধর গোখরো কীভাবে শ্রেণিকক্ষের ভিতরে ঢুকে পড়ল, তা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে। যদিও সাপটি ঠিক কোন দিক দিয়ে স্কুলের ভিতরে প্রবেশ করেছিল, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনও তথ্য জানা যায়নি।
স্থানীয়দের অনুমান, আশপাশের এলাকা থেকেই সাপটি স্কুল চত্বরে ঢুকে থাকতে পারে। ধূপগুড়ি এবং ডুয়ার্স অঞ্চলে বিভিন্ন জায়গায় সাপের দেখা মেলার ঘটনা নতুন নয়। তবে স্কুল চলাকালীন শ্রেণিকক্ষের ভিতরে এমন বিষধর সাপ ঢুকে পড়ায় ঘটনাটি নিয়ে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।
সাপটি দীর্ঘ সময় স্কুলের ভিতরে থাকলেও কোনও পড়ুয়া বা শিক্ষক সাপের কামড়ের শিকার হননি। দ্রুত পরিস্থিতি বুঝে পড়ুয়াদের সরিয়ে নেওয়াই এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
স্কুলের মতো জায়গায় হঠাৎ বিষধর সাপ ঢুকে পড়লে আতঙ্ক তৈরি হওয়া স্বাভাবিক। বিশেষ করে ছোট পড়ুয়াদের মধ্যে ভয় আরও বেশি কাজ করতে পারে। এদিনও সাপ দেখার পর পড়ুয়াদের মধ্যে চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু হয়।
তবে পরিস্থিতি সামাল দিতে শিক্ষকরা দ্রুত ব্যবস্থা নেন। পড়ুয়াদের ওই শ্রেণিকক্ষ থেকে সরিয়ে অন্য ঘরে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর বন্ধ করে দেওয়া হয় সাপ থাকা ঘরটি।
এতে সাপটির সঙ্গে পড়ুয়াদের সরাসরি সংস্পর্শের সম্ভাবনা কমে যায়। পাশাপাশি উদ্ধারকারীরা এসে সাপটিকে নিরাপদে ধরার সুযোগ পান।
বিষধর সাপ দেখতে পেলে অনেক সময় আতঙ্কের পাশাপাশি সেটিকে তাড়ানোর বা ধরার চেষ্টা করতে দেখা যায়। কিন্তু এমন পরিস্থিতিতে প্রশিক্ষিত ব্যক্তি বা সাপ উদ্ধারকারীদের সাহায্য নেওয়াই নিরাপদ পদ্ধতি।
বোরাগাড়ি-১ নম্বর বিএফপি বিদ্যালয়ের ক্ষেত্রেও শিক্ষকরা নিজেরা সাপ ধরতে না গিয়ে পরিবেশপ্রেমীদের খবর দেন। এতে একদিকে যেমন পড়ুয়াদের নিরাপত্তা বজায় থাকে, অন্যদিকে সাপটিকেও অযথা আঘাত করা হয়নি।
দীর্ঘ চেষ্টার পর সাপটিকে উদ্ধার করে জঙ্গলে ছেড়ে দেওয়া হয়। ফলে ঘটনাটির শান্তিপূর্ণ সমাধান হয়।
গোখরো উদ্ধারের পর স্কুল চত্বরে আতঙ্কের পরিবেশ অনেকটাই কেটে যায়। পড়ুয়া, শিক্ষক এবং স্থানীয়দের মধ্যেও স্বস্তি ফিরে আসে।
যে শ্রেণিকক্ষকে ঘিরে এতক্ষণ ধরে উদ্বেগ ছিল, সেখান থেকে সাপটি সরিয়ে নেওয়ার পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করে। দীর্ঘ সময় ধরে চলা উদ্ধার অভিযানও শেষ হয়।
তবে ঘটনার পর স্বাভাবিকভাবেই স্কুলের নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। ভবিষ্যতে যাতে এমন ঘটনা ঘটলেও দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া যায়, সেদিকে নজর দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
ডুয়ার্স অঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা বনাঞ্চল ও সবুজে ঘেরা। ফলে বিভিন্ন সময়ে লোকালয় বা বাড়িঘরের আশপাশে সাপের দেখা মেলার ঘটনা সামনে আসে। তবে স্কুলের শ্রেণিকক্ষের ভিতরে বিষধর গোখরোর ঢুকে পড়া অবশ্যই আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
এদিনও তেমনই ঘটেছে ধূপগুড়ির বোরাগাড়ি-১ নম্বর বিএফপি বিদ্যালয়ে। পড়ুয়াদের সামনে আচমকা সাপ চলে আসায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। কিন্তু দ্রুত পড়ুয়াদের সরিয়ে নেওয়া এবং প্রশিক্ষিত উদ্ধারকারীদের সাহায্য নেওয়ার ফলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হয়।
স্কুল চলাকালীন শ্রেণিকক্ষের ভিতরে বিষধর গোখরো ঢুকে পড়লেও শেষ পর্যন্ত কোনও বড় দুর্ঘটনা ঘটেনি। কোনও পড়ুয়া বা শিক্ষক সাপের কামড়ে আহত হননি। সাপটিও শেষ পর্যন্ত নিরাপদে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
প্রায় সাড়ে চার ফুট লম্বা গোখরো উদ্ধারের পর সেটিকে জঙ্গলে ছেড়ে দেওয়া হয়। ফলে একদিকে যেমন স্কুলের পড়ুয়া ও শিক্ষকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়, তেমনই সাপটিকেও মেরে ফেলা হয়নি।
বৃহস্পতিবার দুপুরের এই ঘটনা ঘিরে ধূপগুড়ির বোরাগাড়ি-১ নম্বর বিএফপি বিদ্যালয়ে বেশ কিছু সময় ধরে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হলেও শেষ পর্যন্ত স্বস্তির মধ্যেই শেষ হয় উদ্ধার অভিযান। প্রায় দু’ঘণ্টার চেষ্টার পর বিষধর গোখরো উদ্ধার হওয়ায় ফের স্বাভাবিক ছন্দে ফেরে স্কুল।
ঘটনাটি স্কুল কর্তৃপক্ষ, পড়ুয়া এবং স্থানীয়দের কাছে সতর্ক থাকার প্রয়োজনীয়তার কথাই মনে করিয়ে দিয়েছে। বিশেষ করে বর্ষা বা সাপের চলাচল বেশি দেখা যায় এমন সময়ে স্কুল চত্বরের আশপাশ পরিষ্কার রাখা এবং কোনও সাপ দেখা গেলে তাকে নিজেরা ধরার চেষ্টা না করে প্রশিক্ষিত উদ্ধারকারীদের খবর দেওয়াই নিরাপদ বলে মনে করা হয়।