আন্তর্জাতিক কলকাতা বইমেলার শেষ শনিবারে মেলা প্রাঙ্গণে নেমেছে লাখো মানুষের ঢল। পাবলিশার্স অ্যান্ড বুকসেলার্স গিল্ডের তথ্য অনুযায়ী, এবারের বইমেলায় বই বিক্রির পরিমাণ গত বছরের রেকর্ড ভেঙে সর্বকালের সেরা নজির গড়েছে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে এআই এবং সায়েন্স ফিকশন ভিত্তিক বইয়ের চাহিদা ছিল তুঙ্গে, যা বাংলা প্রকাশনা শিল্পে এক নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে।
কলকাতা মানেই সংস্কৃতি, কলকাতা মানেই আবেগ। আর বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণের মধ্যে অন্যতম শ্রেষ্ঠ পার্বণ হলো আন্তর্জাতিক কলকাতা বইমেলা। শীতের মিঠে রোদ, ধুলো ওড়া মেলা প্রাঙ্গণ, লিটল ম্যাগাজিনের আড্ডা আর নতুন বইয়ের গন্ধ—এই নিয়েই বাঙালির নস্টালজিয়া। কিন্তু ২০২৬ সালের এই বইমেলা যেন অতীতের সব হিসেব নিকেশ বদলে দিল। আজ মেলার শেষ শনিবার। সকাল থেকেই সল্টলেক করুণাময়ী চত্বরে মানুষের যে ঢল নেমেছে, তা এক কথায় অভাবনীয়। মেলার গেট খোলার আগে থেকেই দীর্ঘ লাইন, আর বিকেলের পর তো তিল ধারণের ঠাঁই ছিল না। পাবলিশার্স অ্যান্ড বুকসেলার্স গিল্ডের প্রাথমিক রিপোর্ট বলছে, আজ পর্যন্ত বই বিক্রির যে অঙ্ক, তা গত বছরের সব রেকর্ডকে অনেক আগেই ছাপিয়ে গেছে।
জনজোয়ারে ভাসল বইমেলা: এক নজিরবিহীন শনিবার
আজ ছিল ছুটির দিন, তার ওপর মেলার শেষ শনিবার। তাই স্বাভাবিকভাবেই ভিড় ছিল আকাশছোঁয়া। তবে এবারের ভিড় শুধু সংখ্যার বিচারে নয়, আবেগের বিচারেও ছিল অন্যরকম। আট থেকে আশি—সব বয়সের মানুষকেই দেখা গেছে বইয়ের ব্যাগ হাতে। স্টলগুলোতে ছিল উপচে পড়া ভিড়। বড় বড় প্রকাশনা সংস্থাগুলোর বাইরে তো রীতিমতো ব্যারিকেড দিয়ে লাইন সামলাতে হয়েছে পুলিশকে। গিল্ডের এক কর্তা জানালেন, "আমরা জানতাম শেষ শনিবারে ভিড় হবে, কিন্তু এতটা হবে তা আমাদের ধারণার বাইরে ছিল। মনে হচ্ছে যেন পুরো কলকাতা শহর আজ বইমেলায় চলে এসেছে।"
মেলা প্রাঙ্গণের বাইরেও এই জনজোয়ারের প্রভাব ছিল স্পষ্ট। শিয়ালদহ থেকে করুণাময়ীগামী বাসগুলোতে তিল ধারণের জায়গা ছিল না। মেট্রো স্টেশনগুলোতেও ছিল একই চিত্র। করুণাময়ী এবং সল্টলেক সেক্টর ফাইভ মেট্রো স্টেশনে ভিড় সামলাতে আরপিএফ এবং কলকাতা পুলিশকে হিমশিম খেতে হয়েছে। যাত্রীদের সুবিধার্থে মেট্রো রেল কর্তৃপক্ষকে নির্ধারিত সময়ের বাইরেও অতিরিক্ত ট্রেন চালাতে হয়েছে, যা বইমেলার ইতিহাসে খুব কমই দেখা যায়। এই জনস্রোত প্রমাণ করে যে, ডিজিটাল বিনোদনের যুগেও বাঙালির কাছে বইমেলার আকর্ষণ এক ফোঁটাও কমেনি, বরং তা সময়ের সাথে সাথে আরও গভীর হয়েছে।
বই বিক্রির নতুন রেকর্ড: অর্থনৈতিক সাফল্যের নতুন দিগন্ত
বইমেলা মানেই যে শুধু ঘোরাঘুরি আর খাওয়া দাওয়া নয়, তা এবারের বিক্রিবাট্টা দেখলেই বোঝা যায়। গিল্ডের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর যেখানে মেলায় মোট বিক্রি হয়েছিল ২৮ কোটি টাকা, সেখানে এবার মেলা শেষ হওয়ার একদিন আগেই সেই অঙ্ক ৩২ কোটি ছাড়িয়ে গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, মেলা শেষ হতে হতে এই অঙ্ক ৩৫ থেকে ৩৮ কোটি টাকার ঘরে পৌঁছাবে। এটি কেবল একটি পরিসংখ্যান নয়, এটি বাংলা প্রকাশনা শিল্পের পুনরুজ্জীবনের ইঙ্গিত।
প্রকাশকরাও দারুণ খুশি। আনন্দ পাবলিশার্স, দে'জ পাবলিশিং, পত্রভারতী এবং মিত্র ও ঘোষের মতো নামী প্রকাশনা সংস্থাগুলোর স্টলে সকাল থেকেই ছিল ক্রেতাদের দীর্ঘ লাইন। এক নামী প্রকাশনা সংস্থার কর্ণধার উচ্ছ্বসিত কণ্ঠে বলেন, "গত কয়েক বছর ধরে আমরা ভাবছিলাম ডিজিটাল যুগে, কিন্ডল আর অডিও বুকের দাপটে মানুষ হয়তো হার্ডকভার বই কেনা কমিয়ে দেবে। কিন্তু এবারের মেলা আমাদের সেই ভুল ভাঙিয়ে দিয়েছে। মানুষ এখনো বই পড়ে এবং বই কিনতেও ভালোবাসে। বিশেষ করে নতুন প্রজন্মের পাঠকরা যেভাবে পকেটের টাকা জমিয়ে বই কিনছে, তা আমাদের মুগ্ধ করেছে।"
ছোট ও মাঝারি প্রকাশকরাও এবার লাভের মুখ দেখেছেন। অনেকেরই আনা বইয়ের স্টক শেষ হয়ে গেছে মেলার মাঝপথেই। তারা তড়িঘড়ি প্রেস থেকে নতুন করে বই ছাপিয়ে আনছেন শেষ রবিবারের চাহিদার কথা মাথায় রেখে। এটি প্রমাণ করে যে, সঠিক বিষয়বস্তু এবং মানসম্মত প্রকাশনা হলে পাঠক কখনোই মুখ ফিরিয়ে নেয় না।
এআই ও সায়েন্স ফিকশনের জয়জয়কার: নতুন প্রজন্মের নতুন পছন্দ
এবারের বইমেলার সবচেয়ে বড় চমক ছিল বিষয় বৈচিত্র্য। এতদিন বইমেলায় মূলত উপন্যাস, কবিতা, ভ্রমণকাহিনী বা গোয়েন্দা গল্পের বইয়ের চাহিদা বেশি থাকত। ফেলুদা, ব্যোমকেশ বা কিরীটির কাটতি বরাবরই তুঙ্গে থাকে। কিন্তু এবার দেখা গেল এক সম্পূর্ণ ভিন্ন ও ইতিবাচক চিত্র। তরুণ প্রজন্মের পাঠকদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আগ্রহ ছিল আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা এআই এবং সায়েন্স ফিকশন বা কল্পবিজ্ঞান বিষয়ক বইয়ের প্রতি।
চ্যাটজিপিটি, জেনারেটিভ এআই, মেশিন লার্নিং এবং রোবোটিক্স নিয়ে লেখা বাংলা বইগুলো ছিল 'হট কেক'। অনেক স্টলে দুপুরের মধ্যেই এই ধরনের বই 'স্টক আউট' হয়ে গেছে। প্রযুক্তি যে এখন শুধু পাঠ্যবই বা গবেষণাগারে সীমাবদ্ধ নেই, তা সাধারণ মানুষের আগ্রহ দেখলেই বোঝা যায়। 'সহজ ভাষায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা' বা 'ভবিষ্যতের পৃথিবী ও রোবট' শিরোনামের বইগুলো দেদার বিক্রি হয়েছে।
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্সের এক ছাত্র অনিমেষ, যিনি আজ মেলায় এসেছিলেন, জানালেন, "আমি এআই নিয়ে কাজ করতে চাই। কিন্তু ইংরেজিতে অনেক বই থাকলেও, মাতৃভাষায় এই জটিল বিষয়গুলো বোঝার মজা আলাদা। তাই এ সংক্রান্ত সহজ বাংলায় লেখা বই খুঁজছিলাম। এখানে বেশ কিছু ভালো বই পেয়েছি যা আমাকে অবাক করেছে।"
কল্পবিজ্ঞানের বইয়ের চাহিদাও ছিল চোখে পড়ার মতো। সত্যজিৎ রায়ের প্রফেসর শঙ্কু বা প্রেমেন্দ্র মিত্রের ঘনাদা তো ছিলই, তার পাশাপাশি নতুন লেখকদের সায়েন্স ফিকশনগুলোও দেদার বিক্রি হয়েছে। মহাকাশ অভিযান, টাইম ট্রাভেল এবং ভিনগ্রহের প্রাণী নিয়ে লেখা থ্রিলারগুলো তরুণদের হাতে হাতে ঘুরছে। সাহিত্য সমালোচকরা বলছেন, এটি বাংলা সাহিত্যের জন্য এক শুভ লক্ষণ। এর মানে হলো বাঙালি পাঠক এখন বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে নতুন নতুন বিষয়ে আগ্রহী হচ্ছে এবং বাংলা ভাষাতেও আন্তর্জাতিক মানের বিজ্ঞানভিত্তিক সাহিত্য রচিত হচ্ছে।
লিটল ম্যাগাজিন ও মুক্তমঞ্চের আড্ডা: প্রাণের স্পন্দন
বইমেলার আসল প্রাণভোমরা হলো লিটল ম্যাগাজিন প্যাভিলিয়ন। সেখানেও ছিল চাঁদের হাট। তথাকথিত বাণিজ্যিক প্রকাশনার বাইরে, সাহিত্যের বিশুদ্ধ চর্চা যেখানে হয়, সেই লিটল ম্যাগাজিন চত্বরে পা ফেলার জায়গা ছিল না। নতুন কবি, সাহিত্যিক এবং প্রাবন্ধিকরা তাদের পত্রিকা নিয়ে হাজির ছিলেন। তাদের স্টলগুলোতেও ছিল উৎসাহী পাঠকদের ভিড়। লিটল ম্যাগাজিন কেবল পত্রিকা বিক্রি নয়, এটি হলো মতবিনিময়ের এক বিশাল ক্ষেত্র। এখানে ঘণ্টার পর ঘণ্টা চলেছে সাহিত্য নিয়ে তর্ক, বিতর্ক এবং আড্ডা।
মুক্তমঞ্চে চলেছে গান, কবিতা, আবৃত্তি আর নাটক। বিখ্যাত সাহিত্যিক ও শিল্পীরা সেখানে আড্ডায় মেতেছিলেন। বিকেলের দিকে এক অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট সাহিত্যিক শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়। তিনি বলেন, "বইমেলা হলো বাঙালির অক্সিজেন। সারা বছর আমরা ধুলো-ধোঁয়ায় শ্বাস নিই, আর এই কটা দিন আমরা প্রাণভরে অক্সিজেন নিই। এই ভিড় প্রমাণ করে যে বাঙালি এখনো সাহিত্যকে ভালোবাসে, সংস্কৃতিকে ভালোবাসে।" মুক্তমঞ্চে নবীন শিল্পীদের ব্যান্ডের গান এবং পথনাটিকাগুলোও দর্শকদের মুগ্ধ করেছে। সমসাময়িক সামাজিক সমস্যা, রাজনীতি এবং পরিবেশ সচেতনতা নিয়ে তৈরি নাটকগুলো দর্শকদের ভাবিয়ে তুলেছে।
বিদেশি প্যাভিলিয়নেও ভিড়: সংস্কৃতির আদান-প্রদান
এবারের ফোকাল থিম কান্ট্রি ছিল জার্মানি। জার্মান প্যাভিলিয়নেও ছিল প্রচুর মানুষের সমাগম। প্যাভিলিয়নটি সাজানো হয়েছিল জার্মানির বিখ্যাত স্থাপত্য এবং সাহিত্যের আদলে। সেখানে জার্মান সাহিত্যের বাংলা অনুবাদ এবং জার্মান ভাষা শিক্ষার বইয়ের চাহিদা ছিল প্রচুর। ফ্রানৎস কাফকা, টমাস মান বা গুন্টার গ্রাসের বইগুলোর অনুবাদ কপিগুলো নিমেষেই বিক্রি হয়ে গেছে। জার্মান কনস্যুলেটের প্রতিনিধিরা দর্শনার্থীদের সাথে কথা বলেছেন এবং তাদের দেশের সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্পর্কে আগ্রহ মিটিয়েছেন।
এ ছাড়া বাংলাদেশ প্যাভিলিয়নেও ছিল উপচে পড়া ভিড়। দুই বাংলার ভাষা এক, সংস্কৃতি এক—কেবল মাঝখানে কাঁটাতার। সেই কাঁটাতার যেন মুছে গিয়েছিল বইমেলার মাঠে। বাংলাদেশের বিখ্যাত লেখক হুমায়ূন আহমেদ, জাফর ইকবাল, ইমদাদুল হক মিলন এবং সমসাময়িক তরুণ লেখকদের বই কেনার জন্য পাঠকদের লাইন ছিল দীর্ঘ। বাংলাদেশের সৃজনশীল প্রকাশনা সংস্থাগুলো তাদের সেরা সম্ভার নিয়ে হাজির হয়েছিল। অনেক পাঠককে দেখা গেল ওপার বাংলার বন্ধুদের সাথে ভিডিও কলে কথা বলে পছন্দের বই কিনছেন। দুই বাংলার মৈত্রী যেন বইমেলার মাঠে এক হয়ে গিয়েছিল। এ ছাড়া ব্রিটেন, আমেরিকা, রাশিয়া, স্পেন এবং লাতিন আমেরিকার দেশগুলোর স্টলেও ছিল সাহিত্যপ্রেমীদের আনাগোনা।
খাবার ও অন্যান্য: উদরপূর্তি ও পরিবেশ সচেতনতা
বইয়ের পাশাপাশি বইমেলা মানেই পেটপুজো। বই কেনা শেষে ধুলোমাখা পায়ে ফুড কোর্টে না গেলে বইমেলা অসম্পূর্ণ থেকে যায়। ফিশ ফ্রাই, মোগলাই পরোটা, রোল আর বিরিয়ানির স্টলগুলোতেও ছিল লম্বা লাইন। পিঠেপুলি এবং মিষ্টির দোকানগুলোতেও ভিড় ছিল লক্ষণীয়। তবে এবার একটা বড় পরিবর্তন দেখা গেছে, তা হলো পরিবেশ সচেতনতা।
মেলা কর্তৃপক্ষ এবার 'জিরো প্লাস্টিক' বা প্লাস্টিক বর্জনের ডাক দিয়েছিল। সেই ডাকে ব্যাপক সাড়া মিলেছে। প্লাস্টিকের ব্যবহার ছিল প্রায় শূন্যের কোঠায়। সবজায়গাতেই পরিবেশবান্ধব প্লেট, কাগজের কাপ ও গ্লাস ব্যবহার করা হয়েছে। মেলা প্রাঙ্গণ পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য কর্তৃপক্ষের উদ্যোগও ছিল প্রশংসনীয়। নির্দিষ্ট দূরত্ব অন্তর বায়ো-ডিগ্রেডেবল ডাস্টবিন রাখা ছিল এবং স্বেচ্ছাসেবকরা ক্রমাগত মাইকিং করে মানুষকে সচেতন করছিলেন। দর্শনার্থীরাও এবার অনেক বেশি দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিয়েছেন, যা সত্যিই আশাব্যঞ্জক।
নিরাপত্তা ব্যবস্থা: নিশ্ছিদ্র নজরদারি
লাখো মানুষের এই ভিড় সামলাতে বিধাননগর পুলিশ এবং কলকাতা পুলিশ ছিল অত্যন্ত তৎপর। ওয়াচ টাওয়ার, ড্রোন ক্যামেরা, সিসিটিভি ক্যামেরা এবং সাদা পোশাকের পুলিশ—সব মিলিয়ে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার চাদরে মোড়া ছিল মেলা প্রাঙ্গণ। নারী ও শিশুদের নিরাপত্তার জন্য ছিল বিশেষ 'উইনার্স' টিম এবং হেল্প ডেস্ক। মেলার প্রতিটি গেটে ছিল মেটাল ডিটেক্টর এবং ব্যাগ স্ক্যানার। কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। পকেটমার বা ছিনতাইবাজদের দৌরাত্ম্য রুখতে পুলিশের বিশেষ দল ভিড়ের মধ্যে মিশে ছিল। পুলিশ কমিশনার নিজেই বিকেলে মেলা পরিদর্শনে এসেছিলেন এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন। অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থাও ছিল অত্যন্ত আধুনিক এবং তৎপর। প্রতিটি ব্লকে ফায়ার টেন্ডার এবং বাইক অ্যাম্বুলেন্স প্রস্তুত রাখা হয়েছিল যেকোনো জরুরি পরিস্থিতির জন্য।
উপসংহার: ভবিষ্যতের পথে বাংলা বই
২০২৬ সালের কলকাতা বইমেলা প্রমাণ করে দিল যে ডিজিটাল দুনিয়ার আগ্রাসন যতই বাড়ুক, ছাপা বইয়ের আবেদন কখনো ফুরোবে না। নতুন বইয়ের গন্ধ, পাতা উল্টানোর শব্দ এবং বই বুকে নিয়ে বাড়ি ফেরার আনন্দ—এই অনুভূতির কোনো ডিজিটাল বিকল্প নেই। স্মার্টফোনের স্ক্রিনে চোখ রাখা 'জেনারেশন জেড' বা জেন-জি প্রজন্মও যে নতুন বইয়ের গন্ধ ভালোবাসে, তা এবারের মেলায় স্পষ্ট হয়ে গেল। তরুণরা যেভাবে দল বেঁধে বই কিনেছে, সেলফি তুলেছে এবং লেখকদের অটোগ্রাফ নিয়েছে, তা বাংলা সাহিত্যের ভবিষ্যতের জন্য এক উজ্জ্বল সংকেত।
শেষ শনিবারে এই জনজোয়ার এবং রেকর্ড বিক্রি বাংলা প্রকাশনা শিল্পের পালে নতুন হাওয়া লাগাল। বইমেলা শেষ হতে আর মাত্র একদিন বাকি। আগামীকালের রবিবারও একই রকম, বা তার চেয়েও বেশি ভিড় হবে বলে আশা করা হচ্ছে। কিন্তু এই কদিনের স্মৃতি পাঠকদের মনে থেকে যাবে অনেকদিন। লেখকরা নতুন উৎসাহ পাবেন, প্রকাশকরা নতুন সাহস পাবেন। আগামী বছর আবার নতুন বই, নতুন আশা আর নতুন উদ্দীপনা নিয়ে ফিরে আসবে প্রাণের মেলা। ততক্ষণ পর্যন্ত এই বইগুলোই হয়ে থাকুক বাঙালির সঙ্গী, আর কলকাতা বইমেলা বেঁচে থাকুক বাঙালির হৃদয়ের মণিকোঠায়, সংস্কৃতির ধারক ও বাহক হয়ে।